somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গতকালের জিয়া ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে কিছুক্ষণ

০২ রা জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল গিয়েছিলাম জিয়া ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে। গিয়েছিলাম, কারণ আমার আম্মা গতকাল সৌদি আরব গেলেন। আমার বাবা চাকুরীর সূত্রে ওখানে উনারা থাকেন। তাই আম্মাও ওখানে থাকেন। ফ্লাইট ছিল দুপুর একটায়। আবহাওয়া খারাপের জন্য মনে হয় আধাঘন্টা লেট ছিল। রিপোর্টিং আওয়ার ছিল ১০.৩০ মিনিট। আমরা গিয়েছিলাম সময় মতই। প্রচন্ড বৃষ্টি ছিল এয়ারপোর্ট এলাকায় সেইসময়ে।

আম্মাকে গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকিয়ে দিলাম সময় মত। খুব খারাপ লাগছিল। উনি প্রচন্ড অসুস্থ্য। তারপরেও তাকে যেতে হচ্ছিল কিছু কারণ ছিল। আম্মা যাওয়ার কারণে মনটা খুব খারাপ। উনি গিয়ে ভাল ভাবেই পৌঁছেছেন। তবে বেশ অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন শুনলাম।

আমি এয়ারপোর্টের বাহিরে একা দাঁড়িয়ে ছিলাম অনেকক্ষণ। দেখছিলাম সবাই অশ্রুসজল চোখে বিদায় জানাচ্ছে তাদের স্বজনকে। এক নববিবাহিত দম্পতিকে দেখলাম। তার স্বামী চলে যাচ্ছে। কণের হাতে মেহেদীর দাগ তখন মোছেনি। মেয়েটি তার স্বামীর জন্য খুব কাঁদছিল। স্বামী বেচারা পারছিলনা তাকে একটু আদর করে দিতে পাছে মনে হয় লজ্জা তাকে গ্রাস করেছিল কারণ তার সাথে গার্জিয়ান ছিল।

বাহিরের প্রচন্ড বৃষ্টির ছাঁট এসে মোটামোটি ভিজিয়ে দিচ্ছিল। আর গ্রীলের বাহিরে যারা দাঁড়িয়ে আছে তারা তো ভিজে একাকার। তবুও ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল যদি তাদের স্বজনকে একটু যদি দেখা যায় কাঁচের ভিতর থেকে। প্রতিবার বাবা মাকে এয়ারপোর্টে এগিয়ে দিতে আসলেই আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না।

গেটের বাহিরে একজন বয়স্কা মহিলা (আনুমানিক ৫০ বছর) বসে বসে কাঁদছেন আর দুই হাত তুলে মোনাজাত করছেন। আমি অনেকক্ষণ তাকে দেখলাম দুর থেকে দাঁড়িয়ে। পরে আস্তে আস্তে তার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। বললাম, "চাচী কাঁদছেন কেন?" উনি বললেন, তার ছেলে বিদেশ যাচ্ছে প্রথমবারের মত। উনার খুব কষ্ট হচ্ছে। সে যেন ভাল ভাবে গিয়ে পৌঁছায় সেই জন্য তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন। বুঝলাম, একজন ছেলের জন্য তার মায়ের দোয়াই সবচেয়ে বড়।

বিক্ষিপ্ত ভাবে কিছু লোকজন দাঁড়িয়ে ছিল। একজায়গায় দেখলাম কিছু ছেলে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বয়স আনুমানিক ২৫-৩০ হবে। মনে হচ্ছে তারাও কোথাও যাবে। সবার সাথে একটা করে লাগেজ। একজন তাদের ব্রিফ করেছে। তাদের লাগেজে দেখলাম লেখা আছে "ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ডে ২০০৮"। সম্ভবতঃ তারা কোন অনুষ্ঠানে যোগদিতে যাচ্ছে।

সবাই গাড়ী নিয়ে আসছে। নামছে লাগেজ সহ। ট্রলিতে করে লাগেজ নিয়ে ভিতরে ঢুকে যাচ্ছে। আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম দরজার দিকে মুখ করে। এমন সময় এক বিদেশীনি নামলেন গাড়ী থেকে। দেখলাম গাড়ীটি সোনারগাঁ হোটেলের। তার পরনে স্যান্ডো গেঞ্জির মত একটি গেঞ্জি এবং হাফ প্যান্ট। তার লাগেজটি ট্রলিতে নিয়ে উনি সেটা ঠেলে ঠেলে ভিতরে ঢুকছিলেন। এমন সময় আমার পিছন থেকে একটা মন্তব্য শুনলাম। কেউ একজন বলছে, "এদের দ্যাখলে কোন সেক্সই আসে না, অথচ আমগো দেশের মাইয়ারা কত সেক্সি। জামাডা খুইল্লা হাডতাছে তাও ভালা লাগতাছে না দ্যাখতে।" আমি একটু পিছনে ঘোরার ভান করে তাদের দেখলাম। তিনজন ছেলে দাঁড়িয়ে আছে, তারাই এ কথাটা বলছিল।

দেখলাম, কিছু লোক ট্রলি এগিয়ে নিয়ে গিয়ে খুব বিরক্ত করছে আগত যাত্রীদের। দেখলাম এরা একটা সংগবদ্ধ দল। এরা খালি ট্রলি গুলোকে অনেক দুরে ঠেলে রেখে আসছে। আর দুই একটি নিয়ে এরা ঘুরছে। গাড়ী থেকে নামতেই তারা দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আর যাত্রীদের বাধ্য করছে তার ট্রলিতে মালপত্র রাখার। যারা জানেনা তাদের কাছ থেকে মালপত্র পৌঁছে দেবার পর মোটা টাকা আদায় করছে। এটা এক ধরনের প্রতারণা। পুরোপুরি পরের ধনে পোদ্দারী। সেখানে আনসার ও পুলিশকে দেখলাম। তাদের সামনেই তারা এমন কাজ করছে। অথচ বিমান বন্দরে এমন ট্রলি নিয়ে ব্যাবসা করার কোন নিয়ম নাই।

একজন শিল্পীকে (নাম প্রকাশ করলাম না) দেখলাম তার ট্রলি ঠেলে নিয়ে ওনার লোকজন নিয়ে ভিতরে ঢুকতে গেলেন। সেখানে বেঁধে গেল গন্ডোগোল। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক যাত্রীকে পাসপোর্ট ও টিকেট দেখিয়ে গেট দিয়ে ঢুকতে হচ্ছে। গেটম্যান তার কাছে সেগুলো চাইলে সে তার সাথে র্দুব্যাবহার করলেন এবং বললেন, তোমাকে দেখাতে হবে কেন? তুমি কে এসেছো? সে বলল, "সরি ম্যাডাম, আমি আপনাকে ঢুকতে দিতে পারছিনা। আপনাকে অবশ্যই পাসপোর্ট টিকেট দেখাতে হবে।" উনি আরো রেগে গেলেন তার এই কথা শুনে। গেটম্যানও নাছোড় বান্দা, সে জোরে করে বলল, "সরি, আমি পারছিনা আপনাকে ঢুকতে দিতে, আপনি কি করবেন করেন।" শেষে অবশ্য সেই শিল্পীকে কাগজপত্র দেখিয়েই ঢুকতে হলো। গেটম্যান শুধু তাকে ঢুকতে এলাউ করেলেন কিন্তু শিল্পীর সাথে আসা লোকজনকে ঢুকতে দিলেন না। আরো লাগলো গন্ডোগোল। শেষে পুলিশ এসে তাদের অন্যদিকে নিয়ে গেল।

সৌদি ফ্লাইট ছেড়ে দিলে আমি চলে আসলাম। কিছুক্ষণের জন্য বেশ কিছু মিশ্র অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলাম। পিছনে রেখে আসলাম আম্মার বিদেশে চলে যাওয়ার জন্য চোখের জল।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:০১
২৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×