বাজেটের কি সুখ তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। এই সরকারের সুড়সুড়িতে আমরা হাসতে হাসতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। দূর্নীতি দমন। দূর্নীতি দমন। দূর্নীতি দমন। কান ঝালাপালা হয়ে গেল। কি পেলাম? কি দিলো আমাকে এই দূর্নীতি দমন? আমি একজন সাধারন গরীব মানুষ। আমি বেশী বুঝি না। কে দুর্নীতি করে কত টাকা বানালো, আমি সেটা বুঝি না। আদার ব্যাপারীর জাহাজের খবর নিয়ে কি লাভ? আমি বুঝি আমার তিনবেলা পেট ভরে ভাত, সুখে দুঃখে সন্তানদের মানুষ করা, নির্ঝন্ঝাট ভাবে জীবনের বাকীটা সময় পার করা। তার জন্য আমার বেশী টাকা বা বেশী জানারও প্রয়োজন নেই। আমি মনে বাংলাদেশের ম্যাক্সিমাম মানুষ তাই।
আজ ২৬ টাকার চাল ৪৩ টাকা। মনে হয় আর কিছুর উদাহরন দেবার প্রয়োজন নেই। বাড়লো প্রত্যেকটা জিনিসের দাম কোন লাগাম ছাড়াই। মারা গেল মানুষ। লাগলো দুর্ভিক্ষ।
গোলটেবিল বৈঠক হলো, সবাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে স্ন্যাকসে একটা দুইটা কামড় দিয়ে মামের বোতল থেকে এক চুমুক পানি খেয়ে চোখ মুখ কুঁচকে চশমাটা নাকের ডগায় চড়িয়ে চশমার উপর দিয়ে বড় বড় চোখে তাকিয়ে বিজ্ঞের মত বলে উঠলো "কোথায় দেশে দুর্ভিক্ষ? আমরা তো দুর্নীতি দমন করছি"। আবার কেউ একজন হো হো করে বলে উঠলেন, "আরে না না, নিরব দুর্ভিক্ষ হচ্ছে।" এই নিয়েই মারামারি। এই নিয়েই কোলাহল। কিছু পা চাটা অমানুষরূপী সম্পাদকরা উঠে পড়ে লাগলেন, সরকারের ভালো কাজ গুলো লাল লাল বড় বড় অক্ষরে লিখে লিখে। আহা!!! দেশ উদ্বার হলো ষোলআনা!!!!
সর্বশেষ জনগনকে তেলের বন্যায় ভাসিয়ে দিয়ে উদ্ধার করা হলো। আহা বেশী দাম দিয়ে তেল কিনতেও মানুষের যেন বিন্দুমাত্র রা নেই। আবার ঘোষনা আসলো চালের দাম বাড়ছে। তাহলে আর বিদ্যুত আর গ্যাস বাবাজী বসে থাকবে কেন? তারাও হাত তুলে সম্মতি জানিয়ে দিলো কয়েকদিনের মধ্যে তেনারাও কিছু বলবেন। উদ্ধার করবেন গুষ্ঠি।
তাহলে অবস্থাদৃষ্টে কি দাঁড়ালো? যে যাই কিছু করুক না কেন, তাতে আমাদের কোন রা নেই। ওরা আমাদের যাই বলবে আমরা তাই মেনে নিবো। আমার ভাবতে খুব কষ্ট হয়, বাংলাদেশে মানুষ নাকি, স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছে। কোথায় গেল সেই চেতনা?
আমি এত কিছু বুঝি না, আমি বাঁচতে চাই। আমার কাছে এখন দুর্নীতি মুক্ত ৪৩ টাকার চালের চেয়ে দুর্নীতি যুক্ত ২৬ টাকার চালই ভালো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

