এমন সময় "ব্াবুয়া" ভায়ের ফোন। বললেন, "আজ সিঙ্গাপুর যাচ্ছি।" শরীর হঠাৎ বেশী খারাপ হয়ে যাওয়ার জন্য স্ত্রীর সাথে ছেলেকেও নিয়ে যাচ্ছেন। আমি অবশ্য আগেই তার কাছ থেকে ফোনে জেনেছিলাম তার আবারো ওখানে যাওয়ার প্রসঙ্গ।
আগে থেকেই বুকিং দেয়া ছিল, আজকের এই দিনটির জন্য এবং সিঙ্গাপুর থেকে ফিরবেন, আগামী মাসের ৮ তারিখে। যদি সবকিছু ঠিক থাকে। আজ ২৭শে জুলাই, ওনার বোনম্যারো বায়োপসি করা হবে। সেটার রেজাল্ট দিতে দিতে ২ দিন সময় লাগবে। সঙ্গে চলবে আনুসঙ্গিক চিকিৎসা গুলো।
ব্াবুয়া ভাই আমাদের কাছে দোয়া চাইলেন, আমি উনাকে বললাম, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার অসীম রহমতে আপনি আবারও সুস্থ্য হয়ে ফিরে আসবেন আমাদের মাঝে।
এপর্যায়ে খেয়াল করলাম উনি শিশুর মত কাঁদছেন। আমার ভিতরটাও হু হু করে উঠলো। ফোনের ঐ পাশে আমার না দেখা ব্াবুয়া ভায়ের চোখে পানি কেন যেন, বাহিরে বর্ষণরত বৃষ্টির ফোঁটা চেয়ে ভারি মনে হলো। উনি বললেন, "তোমাদের কোন কোন সময়ে হয়ত কষ্ট দিয়েছি, তোমারা আমার জন্য দোয়া করো।"
কিছুতেই মিলাতে পারছিলাম না আবেগাপ্লুত ব্াবুয়া ভাইকে। কারণ আমরা দেখেছি বয়স আর পাহাড়ের মত অভিজ্ঞতার ভারে নূহ্য লোকটা তার অসুস্থ শরীরটাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে উপস্থিত করেছিলেন বসুন্ধরাতে যখন আমরা দাঁড়িয়েছিলাম শাশ্বতর জন্য। সেই লোকটার চোখে তো পানি আসার কথা না, গলাতো কাঁপার কথা না। এই পানি হয়ত ভালবাসার। এই পানি হয়ত ভালবাসার দেনায় পরিপূর্ণ।
তারপর থেকেই মনটা একটু খারাপ। আমরা সবাই "ব্াবুয়া" ভায়ের জন্য দোয়া করি, যেন উনি তাড়াতাড়ি সুস্থ্য হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন। আমরা যেন আবার সেই চির চেনা হাসিটি দেখতে পাই।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ১০:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


