গতকাল অফিস থেকে বের হতে একটু দেরী হয়ে গিয়েছিল। আমাদের অফিসটা একটু ব্যাকোয়ার্ড জায়গায় বলে গাড়ী পেতে দেরী হয়। দাঁড়িয়ে ছিলাম কিছুক্ষণ অফিসের সামনে। সরাসরি বাসায় না গিয়ে একটু অন্য জায়গায় যাবো বলে একটা সিএনজি বেবীটেক্সির জন্য ওয়েট করছিলাম। কিন্তু কোন সিএনজিই যেতে চাইছিল না।
এ পর্যায়ে একটা সিএনজিকে দুর থেকে আসতে দেখে আমি হাত বাড়ালাম। আরে এতো আমার পরিচিত একজন সিএনজি ড্রাইভার। মানে উনি আমাদের এলাকাতে থাকেন। এর আগেও কয়েকবার ওনার গাড়ীতে যাওয়া আসা করেছি। আমি ওনার গাড়ীতে উঠে বসলাম এবং উনি চলতে শুরু করলেন।
পথের মাঝে আমি ওনাকে বললাম, একটা সিগারেটের দোকান দেখে একটু থামাবেন, সিগারেট নিবো। দোকান থেকে সিগারেট নিয়ে আবার বসলাম সিএনজি বেবীটেক্সিতে। আবারো চলতে শুরু করলো। তখন উনি আমাকে বললেন কিছু কথা যার সারমর্ম হলো:
ইদানিং ঢাকাতে নতুন একধরনের ছিনতাই শুরু হয়েছে সিএনজি বেবীটেক্সিতে আর টেক্সিক্যাবে। একটা সঙ্গবদ্ধ চক্র এ কাজের সাথে জড়িত। টেকনিকটা নতুন। একটা বেনসন সিগারেটের প্যাকেটে কয়েকটি সিগারেট রেখে একটি ম্যাচ সহ ফেলে রাখা হয় প্যাসেঞ্জার কেবিনের সিটে অথবা সিটের নীচে পাদানীতে।
যখন কোন প্যাসেঞ্জার উঠে ঐ সিগারেটের প্যাকেট পায়। তখন কোন প্যাসেঞ্জার পেয়ে ওটা খেলে তো কেল্লা ফতে। আর যদি ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করে সিগারেটের ব্যাপারে। তখন ড্রাইভার বলে, "মনে হয় আগের প্যাসেঞ্জার ফেলে গেছে। আপনি খাইলে খান। আমি আবার সিগারেট খাই না।"
এই সব প্যাসেঞ্জারের মধ্যে কেউ কেউ বেনসন সিগারেট পেয়ে ধরায় আর কিছুক্ষণের মধ্যে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর সুযোগ বুঝে সেই ড্রাইভার তার কাছ থেকে টাকা পয়সা, মোবাইল, সোনার চেইন ইত্যাদি মূল্যবান জিনিস নিয়ে নিয়ে যাত্রীকে রাস্তায় নির্জন স্থানে ফেলে রেখে চম্পট দেয়।
এই যানবাহন গুলো সাধারনত ঘোরাঘোরি করে ভার্সিটি এলাকা অথবা গুলিস্থানে। কারণ এইসব এলাকায় নাকি ছাত্র আর সাধারন লোকজন বেশী থাকে।
আসলেই বর্তমানে ঢাকায় যানবাহনে ছিনতাই একটি মারাত্বক বিষষ। আমাদের সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


