আমাদের অফিসের পিয়ন, আমি তাকে সিরাজ ভাই বলেই ডাকি। হয়ত বয়সে আমার চেয়ে দুই এক বছরের বড় হবে। যাই হোক আমি তাকে কখনই নাম ধরে বা তুমি সম্মোধন করে বলি না। তবে অফিসে অনেকেই তাকে নাম ধরে ডাকে অথবা তুমি করে বলে। তা বলতেই পারে। তবে আমি মনে করি, পিয়ন বা নিজের চেয়ে নিচের পোষ্টে সে চাকুরী করলেই তাকে যে তুমি বা নাম ধরে ডাকতে হবে তার কোন মানে নেই। তবে হ্যাঁ সে যদি একেবারেই বয়সে অনেক জুনিয়র হয় তবে বলা যায়।
তো যাই হোক, আমি এটা খুবই অপছন্দ করি। এছাড়াও আমাদের অফিসের এমনও অনেক পিয়ন আছে যে, তারা আজ প্রায় ৩০-৪০ বছর ধরে আছে। এরা তেমন কোন কাজ করে না। জাষ্ট দেখাশুনা করাই এদের কাজ। কে কোথায় কি করছে, মূলত: এরা অনেক বিশ্বাসী। এছাড়াও বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে অনেক মুরুব্বী টাইপের লোকজন আছেন, (যাঁরা বয়সের ভারে এখন নূহ্য, ঠিকমত হাঁটতেও পারেন না)।
একবার একটা ঘটনা শুনেছিলাম, আমাদেরই কোন এক উচ্চপদস্থ অফিসার আমাদের চেয়ারম্যান স্যারকে বলেছিলেন, "এদের তো কাজই নেই ইনাদের শুধু শুধু রেখে কি লাভ?" জবাবে আমাদের চেয়ারম্যান স্যার তাকে নাকি বলেছিলেন, "তুমি আজকেই আমার সামনে এই ধরনের কথা বললে, আর ভবিষ্যতে কোনদিন বলতে আসবে না, আজ তুমি যে এই সুন্দর ইনভায়রমেন্ট দেখছো, এত শান-সৌকত দেখছো এগুলো তাঁদেরই অবদান, তারা তাদের যৌবনের মূল্যবান সময়টাকে আমার এই ব্যাবসায় দিয়ে গেছে। আমি কি করে তাদের এই দানকে অগ্রাহ্য করি?"
যাই হোক, আমাদের সিরাজ ভাইয়ের কথা বলছিলাম, অনেক কথাই বলে ফেললাম। সে আমাকে মনে হয় একটু বেশী স্নেহ করে বা সন্মান করে। আমার কাজগুলো দেখি সে মোটামুটি গুছিয়ে রাখে। বৃষ্টিতে ভিজে বাহির থেকে অফিসে ঢুকলে হাত থেকে ছাতাটা নিয়ে মেলে দেয় শুকানোর জন্য। খাবার সময় প্লেট, গ্লাস এগিয়ে দেয়। সেগুলো আবার ধুয়ে রাখে। যদিও এগুলো তারই কাজ তবে দেখি একটু যন্তসহকারে করতে।
আবার একটা জিনিস খেয়াল করি, আমাকে চা বেশ কয়েকবার দেয়, অন্যকারো জন্য চা বানালে আমাকে সেখান থেকে দিয়ে যায়। আবার হয়ত দেখা গেলো কেউ (অন্য কোন ডিপার্টমেন্টে) তাকে কোল্ড ড্রিংসের বোতল এনে ভাগ করে দিতে বলল সবাইকে, সেই ভাগ থেকে একটু বাঁচিয়ে আমার জন্য রেখে দেয়। ওটা গ্লাসে করে একসময়ে আমাকে দিয়ে যায়। যদিও ব্যাপারটা ঠিক না। আমি তাকেই বলি খেয়ে ফেলতে। তারপরেও সে এই কাজগুলো করে। ছুটির প্রয়োজন হলে আমাকে আগে বলে, যদিও আমি তার ছুটি মঞ্জুর করার কেউ নই। কারণ আমার বস আছেন।
আসলে আমার মনে হয়, এই ব্যাপারগুলো আসে শ্রদ্ধাবোধ থেকে। আমাদের সবারই মনে রাখা উচিত, সবার প্রতি সবার শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত। পজিশনের দিক দিয়ে ছোট হলেই যে তাকে হুকুমের উপরে রাখতে হবে এমন কোন মানে নেই। এই ধরনের আচরন দেখা যায়, যারা নতুন চাকুরীতে ঢোকে, কিছু ডিজুস মার্কা ছেলেমেয়েদের মধ্যে। ব্যাপারগুলো সত্যিই খুব দৃষ্টিকটু।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


