somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বার বার ঘুঘু তুমি খাইয়া যাও ধান...........

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল অফিস থেকে বেরিয়েছি সন্ধ্যা ছয়টা দশের দিকে। কিছুদুর হেঁটে রিক্সায় উঠতে হবে। ভাবলাম আজ একটু তাড়াতাড়ি যেতে হবে কারণ বাসায় একটা জরুরী কাজ আছে। দাঁড়িয়েছি রোড ডিভাইডারের উপর। ট্রাফিক সিগন্যালের অপেক্ষায়। ট্রাফিকের বাঁশির সাথে থেমে গেল গাড়ীগুলো। আমার সামনেই মটরসাইকেল দুজন আরোহী এসে থামলো। তার ডান পাশে আরেকটি মোটরসাইকেল থামলো। বাম দিকে তাকিয়ে দেখলাম, মোটা সাইলেন্সার পাইপের গর্জন তুলে একটা গাড়ী আসছে দ্রুত গতিতে। এসেই গাড়ীর সামনের ডানপাশের বাম্পার দিয়ে সজোরে ধাক্কা দিলো প্রথম মোটরসাইকেলকে। ফলাফল, সেটির মাটিতে পতন দুজন আরোহীসহ, তার ধাক্কায় পড়লো পাশের একটি মোটরসাইকেল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটনা। বড়জোড় ৭/৮ সেকেন্ডের মধ্যের পুরো ব্যাপারটি।

পড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল আরোহীরা রাস্তা থেকে উঠে বাইকটি স্ট্যাড করে গাড়ীর ড্রাইভিং সিটে বাসা লোকটির কাছে কারণ জানতে চাইলো। কালো পাওয়ারউইন্ডো গ্লাসটি খুলে একটি ২২/২৩ বছরের ছেলে চিৎকার করে উঠলো "মেরেছি তো কি হয়েছে? রাস্তার সাইডে খাড়াইতে পার না?" সাথে সাথে বাইক আরোহী তিন যুবক এর প্রতিবাদ করে উঠলো। কিছুক্ষণ তর্কাতর্কির পর যে যার স্থানে গিয়ে মোটরসাইকেলটির কি হয়েছে তা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলো। প্রথম বাইকটির বামপাশের চেইনের জায়গাটি বাঁকা হয়ে গেছে। আর ঐ গাড়ীর ছেলেটি তখনও গালাগালি করে যাচ্ছে। বাইক আরোহীরা ঘুরে দাঁড়াতেই ড্রাইভিং সিটের ডিজুস মার্কা ছেলেটা ওদের একজনকে ধরে ঘাড়ের উপর কয়েকটা চড় দিলো এবং বিশ্রি ভাষায় গালাগালি করতে লাগলো। এর ঘটনার আকষ্মিকতায় পুরো রাস্তার লোকজন স্তম্ভিত হয়ে গেল। আমরা সবাই থেমে গেলাম যে যার স্থানে। কারণ এত ছোট বয়সের ছেলে তার চেয়ে বড় বয়সের মানুষের গায়ে হাত তুলেছে। আর ঐ বাইক ওয়ালাদের আচরন যথেষ্ট মার্জিত ছিল।

এইবার আর যায় কোথায়? "পড়েছো মোঘলের হাতে খানা খেতে হবে সাথে।" সাবার মনের মাঝে কয়েক সেকেন্ডের পুঞ্জিভুত রাগ গুলো একহয়ে রূপ নিলো একবিশাল ক্রোধে। ফলশ্রুতিতে বিশাল মার খেল গাড়ীর ভিতর বসে থাকা চার ধনীর দুলাল। দুর থেকে পুলিশও তাদের সমর্থন দিচ্ছে অঙ্গভঙ্গি করে। ট্রাফিক সার্জেন্ট এলো। সবাইকে নেয়া হলো রাস্তার পাশে খোলা জায়গায়। তারপর হয়ত যা হবার তাই হবে।

কিন্তু একটা জিনিস খুবই দুঃখজনক ভাবে লক্ষ্য করা গেল, ঐ গাড়ীওয়ালা চারটি ছেলের আচরন এত খারাপ কেন? দোষ কিন্তু তারাই করেছে। এবং দোষটিও অনেক বড়। এক. বাজে ড্রাইভিং, দুই. মোটরসাইকেল ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া এবং তার ক্ষতিসাধন করা, তিন. গালিগালাজ করা বাজে ভাষায়, চার. বয়সে বড় লোকদের গায়ে হাত তোলা কোন কারণ ছাড়াই।

এই চারটি অপরাধ কোন ভাবেই মেনে নিতে পারেনি নিশ্চই ওখানকার লোকজন। মুহুর্তে জবাব দিয়েছে। প্রতিবাদ করেছে। অভিজাত এলাকার বাবা মায়ের বখে যাওয়া এইসব সন্তানরা ধরাকে সরা জ্ঞান করে সবসময়। এরা কখনই শাস্তি পায়না। রাস্তায় এবং সব জায়গায় এরা ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চায়।

মূলত: এসব দেখছিলাম আমি রিক্সা ভাড়া ঠিক করতে করতে। রিক্সায় চড়ে বসলেও রিক্সাওয়ালা কিছুতেই রিক্সা ছাড়ছে না। ঐসব দেখছে। আমি তাকে বললাম, "আরে যান, এইসব দেখে টাইম নষ্ট করবেন নাকি? যা সাইজ করার দরকার পাবলিকই করেছে।"

রিক্সাওয়ালা ভাই আমার দিকে পিছনে ফিরে তাদের দিকে ভেংচি কেটে বলল, "বার বার ঘুঘু তুমি খাইয়া যাও ধান..............."
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:০৭
২০টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×