খুব মনে পড়ে, মন্দিরের বাহিরে ঠাঁয় দাড়িয়ে থাকা, কখন পুরোহিত সেখান থেকে যাবে আর কখন সিঁদুর দেয়া কলা, নারকেল, আর কাঁচাগোল্লা খাবো। মানে প্রসাদ চুরি করে খাওয়া। আমাদের একটা গ্রুপই ছিল। পুরোহিত মশাইকে খুব বিরক্ত করতাম। তখন বুঝতাম না যে, ওগুলো করা ঠিক না। কিন্তু ওসব করেই যেন মজা পেতাম। কি একটা বাজে দুষ্টুমীর ঝোঁক ছিল: পুরোহিতের ধুতির নীচ দিয়ে তাকানো। মানে মশাইকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা আরকি! কাজটা মোটেই ভালো করতাম না এখন বুঝি। তিনি একজন শ্রদ্ধেয় ব্যাক্তি ছিলেন। যাই হোক আমি এখন অনুতপ্ত!
আহা কতদিন! আর সেই পূজা এলে বন্ধু-বান্ধব সহ আর ঘোরা হয় না। বেশ কয়েকবার গিয়েছি দূর্গদেবীর প্রতিমা ডুবাতে। দৃশ্যটা দেখে খুবই খারাপই লাগতো। এত কষ্ট, এত যত্ন, এত শ্রম দিয়ে তৈরী করা জিনিসটাকে বিষর্যন দেয়া।
বিদ্যার দেবী সরস্বতী। ওদিন স্কুল বন্ধ থাকতো। আমার সব হিন্দু বন্ধুরা ওদের বই নিয়ে গিয়ে রাখতো সরস্বতী প্রতিমার সামনে। ওতেই বিদ্যাদেবীর শুভকামনা পাওয়া যেত।
আরেকটা জিনিস খুব মনে পড়ে, সন্ধ্যায় সব ঘর থেকে উলুধ্বনি আসতো। বাড়ীর মা বোন বউরা উলুধ্বনি দিতো, আর সেই সাথে ছিল শাঁখ বাজানো। আর ধুপের গন্ধ। এই ধুপের গন্ধটা আমার খুব ভালো লাগে আজো। কিন্তু এখন আর সেই গন্ধ পাই না কোথাও।
আর ঢাকের বাড়ি তো আছেই। এখনও কানে বাজে। ঢন, ঢন, ঢন, ঢন, ঢন, ঢন, নট টনা টন, নট টনা টন, ঢন, ঢন, ঢন, ঢন, ঢন, ঢন।
হারিয়ে যাই সেই সব দিনগুলোর কাছে। মনে হয় আবারো ছোট হয়ে যাই। আর হয়ত কোনদিনও ফিরে আসবে না সেই সব দিনগুলো। আর কোন দিন হয়ত, শাঁখও শুনবো না আর ধুপের গন্ধও পাবো না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

