somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ম্যাচের বিবর্তন

২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একসময়ে মানুষ পাথরে পাথর ঘষে আগুন জ্বালাতো। সে আদিম যুগের কথা অবশ্য। তখন থেকে মানুষ আগুনে ঝলসিয়ে খাবার খেতে শুরু করলো। তার আগেও মানুষ তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতো কিভাবে বনের পর বন পুড়ে ছাই হয়ে যায় শুকনো ডালে ডালে ঘর্ষন লেগে। তাকিয়ে দেখা ছাড়া কোন উপায়ই ছিল না। তখন হয়ত আগুনটা একটা অভিশাপই ছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে এই শক্তিটি মানুষের নিয়ন্ত্রনে আসলো। সঠিক নিয়ন্ত্রন ও ব্যাবহারের ফলে এই আগুন এখন সভ্যতার একটা বিশেষ অংশ বিশেষ।

হয়ত অনেক পরে বারুদে বারুদে ঘষা দিয়ে আগুন জ্বালানোর পদ্ধতি আসলো। তারপর সেটা সংরক্ষিত হলো একটা ছোট বাক্সে। নাম তার ম্যাচ। বাংলায় আমরা বলি দিয়াশলাই। প্রয়োজনে কাঠির আগায় থাকা বারুদের সাথে প্যাকেটের গায়ের বারুদে ঘষা দিলেই জ্বলে উঠে আগুন।

কালে কালে এই ম্যাচ বাক্স রূপ নিয়েছে বিভিন্ন আকৃতিতে। কখনও ছোট কখনও বড়। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন দেখেছি কাঠের চিলতা দিয়ে বানানো বাক্সের ম্যাচ। দাম ছিল পঞ্চাশ পয়সা। হয়ত মটর মার্কা ম্যাচের প্রচলন ছিল বেশী। আরো অনেক মার্কার ম্যাচ পাওয়া যেত।

সেই ম্যাচেও আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হলো বাজার থেকে। এলো কাগজের তৈরী বাক্স। তাতে ভর্তি কাঠের কাঠি। আগের চেয়ে দেখতে সুন্দর। দাম ছিল একটাকা মাত্র। প্যাকেটের গায়ে লিখা থাকতো (৪০±২) টি কাঠি। এরপর ভারতের অনুকরনে বাজারে এলো কাগজ আর মোম দিয়ে বানানো কাঠি আর কাগজের বাক্স। কিন্তু কাঠির দূর্বলতার কারনে সেটা বেশীদিন চললো না বাজারে।

একসময় ধুমপায়ীদের পকেটে উঠে আসলো গ্যাস লাইটার। পাথরে পাথরে ঘর্ষন দিয়ে আগুন জ্বালাবার সেই আগের রীতিই। পাছে জ্বালানী হলো গ্যাস। ম্যাচের জায়গা হয়ে গেলো হেশেলে।

কিছুদিন আগে আমাদের বাজারের হঠাৎ ছন্দপতনে বেড়ে গেলো সব কিছুর দাম। কিন্তু ম্যাচের দাম অনেকদিন এক টাকাই রইল। কিন্তু বিক্রেতারা ওটা আর একটাকায় বিক্রি না করে দুই টাকায় বিক্রি করা শুরু করলো। কিন্তু সেখানে একটা অতৃপ্তি মনে রয়ে গেলো। সেটা ক্রেতা আর বিক্রেতার মাঝে। শুরু হলো দুই টাকায় ম্যাচ বিক্রি। কিন্তু দুই টাকায় এক টাকার ম্যাচ কেনাটা কেমন যেন দেখায়। সেখানেও সেই অতৃপ্তি।

যার ফলে বাজারজাতকরন করা হলো নতুন আকারে বড় ও বেশী কাঠি সম্বলিত ম্যাচের বাক্স। এবার দাম দুই টাকা। সেখানে লেখা এখন (৬০±২) টি কাঠির কথা। কেউ কি গুনে দেখেছে (!)

এভাবে হয়ত কোন একসময়ে সময়ের দাবীতে আবারো এর আকার পরিবর্তন হবে। কিন্তু এই আগুনের ব্যাবহার কিন্তু থেকেই যাবে নিশ্চিত ভাবে।

এভাবে কালে কালে কোন জিনিস তার ভোল পাল্টায় প্রয়োজন অনুসারে কিন্তু তার মূল নেচার একই থেকে যায়। যা কখনও পরিবর্তন হয় না। এভাবেই বিবর্তিত হয় সব জিনিস।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:২৭
৮টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×