একটা কৌতুক দিয়েই শুরু করি। যদিও অনেকেরই জানা। তবুও বলি।
এক লোকের একবার বাবা বিদেশ গেলো, তখন মহল্লার সব লোকজন এসে বলল, "আরে এত দুঃখ করিস কেন, আমরা তো তোর বাবার মতই।"
তার কিছুদিন পরে তার মা রাগ করে তার বাপের বাড়ী চলে গেলো, তখন মহল্লার সব মহিলারা এসে বলল, "আরে এত দুঃখ করিস কেন, আমরা তো তোর মায়ের মতই।" তার কিছুদিন পরে তার বউ রাগ করে বাপের বাড়ী চলে গেলো, কিন্তু মহল্লার কোন মহিলাও এসে বলল না, "দুঃখ করো কেন, আমরা তো তোমার বউ এর মত গো।"
দুর.... কিচ্ছু ভালো লাগে না। প্রায় এক সপ্তাহ যাবত আমার স্ত্রী গেছেন বাবার বাড়ী। মানে আমার শ্বশুড়বাড়ী। এটা তার কোন রাগ করে বাপের বাড়ী যাওয়া নয়। বরং এনোয়ালী সাংসারিক ভ্যাকেশান চলছে উনার। বেশ কিছু স্টেট ঘুরে তিনি এখন তার খালা শ্বাশুড়ীর বাড়ী অবস্থান করছেন। বেশ আমুদেই দিন কাটাচ্ছেন বোঝা যাচ্ছে।
আর আমি....? আমার নির্ধারিত রুটিন মেনে চলছি। ঠিক মত অফিস করছি। আর ঠিকমত বাড়ী ফিরে আসছি। কিন্তু অফিস থেকে ফিরে আসা আর আবার অফিসে যাওয়ার মাঝখানের সময়টা কাটছে বোরিং। শুধু কাজ আর কাজ। এই ভাত রান্না করো, পিয়াঁজ কাটো, ভর্তা করো, ডিম ভাজো, মাংশ রান্ন করো ইত্যাদি ইত্যাদি।
প্রি-কুকড ফ্রিজাপ করা সব তরকারীই শেষ। এখন আমার রান্না করার পালা। কোন ফাঁকে আমি যেন আমার স্ত্রীকে বলে ফেলেছি, "আমি সবই রান্না করতে পারি।" (আসলেও এটা সত্য) তাই উনি দুর থেকে মজা দেখছে আমি রান্না করতে পারি কিনা।
কিন্তু পুরো ঘর খুব এলোমেলো। সব উল্টোপাল্টা। সারা ঘর জুড়ে ময়লা। তেলেপোকার হাঁটাহাটি। হাটতে গেলে পায়ের নীচে দুই একটা তাদের জান দিচ্ছে। অফিস থেকে এসে জুতা সহই ঘরের মধ্যে ঘুকতে পারছি। গতকাল পা ঝাড়া দিয়ে জুতা খুলে রেখে আজ সকালে একপাটি জুতা পেয়েছি কিন্তু আরেক পাটি খুজতে খুজতে অফিসের লেইট হয়েছে। অবশেষে পাওয়া গেলো খাটের চিপা থেকে।
অথচ বউ বাসায় থাকলে বাসাটা কত টিপটপ থাকে। কোন চিন্তাই থাকে না। আর এখন........ ? এত কষ্ট দেখেও কৌতুকের মত কোন মহিলা এগিয়ে এসে কিছু বলছে না।
আঁর আর কিসু বালা লাগে ন, আঁরে তোরা মারি হালা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


