শিশুর ভুমিষ্টর সময় মায়েদের যে প্রসব বেদনা উঠে সেটা যে কতটা ভয়ংকর তা শুধু মায়েরাই বলতে পারে। তবে আমি আমার মা'কে আমার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেছি ঐ ব্যাথা সম্মন্ধে। তারা কেউ-ই সঠিক ভাবে অনুভুতিটা আমাকে বোঝাতে পারেন নি। যতটা বুঝেছি সেটা হলো, উনারাও ঠিক সেই সময়ের যন্ত্রনার তীব্রতা বর্তমান সময়ে মনে করতে শিউরে উঠেন।
একটা মা, নয় মাস দশদিন একটা শিশুকে তার গর্ভে রাখেন শুধু একটি আনন্দকর মূহুর্ত উপভোগ করার জন্য। সেটার ক্লাইমেক্স হলো প্রথম সন্তানের মুখ দেখা।
কিন্তু এমন যদি হয় সন্তান ভুমিষ্টের সময় তার মা মারা গেলেন। এটা কিন্তু অনেক কষ্টের। কারণ এই ভুমিষ্ট শিশুটির তো আর মা নেই। সে সারাজীবন মানুষ হবে অন্যের ছায়ায়, অযন্ত আর অবহেলায়। যতই হোক, মায়ের স্নেহ আর পাবে না। আর সে যখন বড়ো হবে, তখন একটা যন্ত্রনা তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাবে। সেটা হলো, তার জন্যই তার মায়ের প্রস্থান।
আজ আমি আমার এক প্রিয়জনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালাম সকাল বেলা বেশ খুশিমনে। কিন্তু আমার আনন্দটা পুরো ম্লান হয়ে গিয়েছে তার কথা শুনে। উনি আমাকে বললেন, "আমি জন্ম না নিলে তো আমার মা বেঁচে থাকতেন। তাকে তো পৃথিবী থেকে চলে যেতে হতো না।"
আমার আর কিছুই বলার ছিল না তখন। আমি আস্তে করে কথার ইতি টানলাম। কারণ উনার মনে যে আজ কত কষ্ট। তা হয়ত অন্যকেউ বুঝবে না। শুধু দোয়া করি, সব এতিমরা ভালো থাক। কেউ যেন তাদের দুঃখ না দেয়।
বন্ধু, তুমি ভালো থাকো।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০০৯ দুপুর ২:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


