হাজার হাজার সালাম ও কদমবুচি গ্রহন করিবেন। আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালোই আছেন। আপনার নাতি সহ আমরা সকলেই ভালো আছি।
পর সমাচার এই যে, এবার ঢাকায় বেশ গরম পড়িয়াছে। আপনার পাঠানো আমগুলো এই অতিরিক্ত গরম পাইয়া খুব তাড়াতাড়ি পাকিয়া গিয়াছে। সেগুলো আমরা খুবই তাড়াতাড়ি খাইয়া শেষ করিয়া ফেলিয়াছি। আপনার নাতি তো তিন বেলাই আম দিয়ে ভাত খাইতো। ও সারাদিন বলে, "নানা আমাদের জন্য আরো আম পাঠাইবে"। দুষ্ট ছেলে, কিচ্ছু বোঝেনা!!!
আমার কলিগরা তো আপনার পাঠানো আম খাইয়া আপনার প্রসংশায় পঞ্চমুখ। প্রতিদিন অফিসে আপনার পাঠানো আমের প্রশংসা শুনতে শুনতে আমার কান ঝালাপালা। তারা বলে, আমার শ্বশুড়বাড়ী রাজশাহী হওয়াতে তাদের নাকি প্রতি বছর লিচু, আম, কাঁঠাল খাওয়ার আর চিন্তাই রহিল না। আমার বসকেও আপনার পাঠানো আম দিয়াছি। তিনি বেশ খুশি হইয়াছেন বোঝা যাইতেছে। এবার আশা করছি স্যালারি ইনক্রিমেন্টটা ভালই হইবে। এই আশাতে আপনার মেয়ে মানে, বাবুর আম্মু খুব খুশি। সে আগে থেকেই ফর্দ করিয়া রাখিয়াছে কার জন্য কি কি কিনিবে। সে ফর্দে আপনাদেরও নাম রহিয়াছে দেখিলাম। দেখেন তো কান্ড!!! আমি তো হাসতে হাসতে শেষ।
এতো গেলো আমার অফিসের কথা। বাবুর আম্মু বলল, গতকাল নাকি পাশের ফয়সাল সাহেবের বাসায় আরো চার ঝুড়ি আম পাঠাইয়াছে তাহার শ্বশুড়বাড়ী হইতে। তাহারও নাকি শ্বশুড়বাড়ী রাজশাহীতে। এইজন্য বাবুর আম্মুর মেজাজ একটু খাপ্পা হয়ে হইয়াছে। আমাদের সব আম শেষ হইয়া গিয়াছে কিন্তু ফয়সাল সাহেবের বাসায় নতুন আমের আগমনে আপনার কণ্যার মাথা খারাপের জোগাড় হইয়াছে। আমি তাহাকে বুঝাইয়া বলি, "আব্বা তো অনেক আম পাঠাইয়াছেন, আর কত পাঠাইবেন"? সে কিচ্ছু বোঝে না। বোঝেনই তো, পাশাপাশি দুই ফ্ল্যাটের প্রেষ্টিজ ইস্যু, আরকি!!!
এইতো কয়েকদিন পরে আবার কাঁঠালের সময় আসিতেছে। যদিও আমের সময় আরো প্রায় একমাস থাকিবে। গতবারের মত আপনার আর এত কষ্ট করিয়া ফলমূল সহকারে আসার প্রয়োজন নাই। এতে আপনি অসুস্থ হইয়া পড়িবেন। এখনতো কুরিয়ারে মালামাল পরিবহনের ভালো ব্যাবস্থা রহিয়াছে।
আজ আর বিশেষ কি লিখিব। আপনি এই চিঠি পাইয়া আবার যেন ব্যস্ত হইয়া পড়িবেন না। আমাদের জন্য দোয়া রাখিবেন। ইতি
আপনার স্নেহধন্য জামাই

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

