গ্রাফিক্স ডিজাইনিং- আগামী দিনের ক্যারিয়ার
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
কিছু কোর্স আছে যেটা সম্পন্ন করে নিশ্চিন্তে চাকরি পেতে পারেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনিং। কেননা এখন কম্পিউটারের যুগ। প্রতিটা অফিস আদালত এমন কি গ্রাহক সেবার প্রতিটা পর্যায়েই কম্পিউটার এবং ডিজাইনিং একটি জরুরি অনুসঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে মেধাবীসহ সাধরণ শিার্থীর কাছে এসব কোর্সের গুরুত্ব বেড়েই চলেছে ।
একটা সময় ছিল যখন শিার্থীরা একাডেমিক কিছু বড় ডিগ্রির প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলো। কিন্তু এখন সে ধারা পরিবর্তন হয়েছে। এখন প্রথম পছন্দের বিষয় নির্বাচন করে চাকরির নিশ্চয়তা দেখে। কারণ শিা শেষে যেনো কোনো ক্রমেই বেকার থাকতে না হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চাকরির বাজারে চাহিদার তালিকায় এসেছে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং। এই পেশায় যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা বাংলাদেশে অনেক কম। চাহিদার তুলনায় দেশে কম্পিউটার বিষয়ে শিার্থীদের অপ্রতুলতার কারণে শিার্থী শিা জীবন সমাপ্ত করার পূর্বেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক চাকরিতে প্রবেশের আমন্ত্রণ পায়। ফলে পছন্দমত বেতন এবং সুযোগ-সুবিধা দিতে সম প্রতিষ্ঠানকে নিজেই মনোনিত করে। সাধারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও প্রায় প্রতিটা শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাহিদার তুলনায় দ গ্রাফিক্স ডিজাইন শিাথীর অপ্রতুলতার কারণে শিারত অবস্থায়ই চাকরিতে নিয়োগের সুযোগ আসে যেটা শিতি জনগোষ্ঠির জন্যে একটি বিরাট ইতিবাচক অধ্যায়।
কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনিং বিষয়ে শিার্থীদের বাংলাদেশে রয়েছে চাকরির বিশাল বাজার। সরকারি-বেসরকারি দুটি েেত্রই এই পেশার রয়েছে প্রচুর চাহিদা। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগের পাশাপশ বেসরকারি পর্যায়ে স্থাপিত দেশী-বিদেশি ডিজাইনিং, শিল্প কারখানা, বিজ্ঞাপনি প্রতিষ্ঠান মিল, ব্যাংক, ফ্যাশন হাউস, রিয়েল এস্টেট, গার্মেন্টস শিল্প, টেক্সটাইল প্রভৃতি ইন্ডাস্ট্রিতে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করে যেতে হয় তাদের। মূলত গ্রাফিক্স ডিজাইনিং ছোট-বড় সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের পণ্য উৎপাদন কার্যক্রমের অন্যতম প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত করা হয়। কারণ উৎপাদন শুরুর আগে পণ্যের এবং প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা পর্বে ডিজাইন করে এর পর মুল উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর বেশির ভাগ েেত্রই পর্যাপ্ত দ গ্রাফিক্স ডিজাইনার না পেয়ে এধরনের প্রফেশনাল ফার্ম থেকে ঘোরাঘুরি ও সময় নষ্ট করে কাজ করে আনতে হয়।
অধ্যায়নকালে ছাত্র-ছাত্রী চাকরি জীবন শুরু করে সেেেত্র বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আকার এবং ব্যবসায়িক কর্মপরিধির উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ছাত্র-ছাত্রী যে কোন প্রতিষ্ঠানেই ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনে নিজেদেরকে নিয়োজিত করতে পারে। প্রতিষ্ঠানে কাজ করার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং শিাজীবন সমাপ্ত করার পর তাদের বেতন কাঠামো ১৫-২৫ হাজার টাকা হয়ে থাকে। তবে কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনিংয়ে শিার পাশাপাশি অভিজ্ঞতার যথেষ্ট মূল্যায়ন করা হয়। শিার্থীর বেতন তাদের কর্মের দতা এবং অভিজ্ঞতার উপর নির্ধারিত হবার মাধ্যমে অতি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা ৫ থেকে ৬ বছরের মধ্যে ৩০-৪০ হাজার টাকায় উন্নীত হয়।
কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনিংয়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই গ্রাফিক্স ডিজাইনিংয়ের উপর ৪ মাস মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স করতে হয়।
এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন মেয়াদী শিা কার্যক্রম। দেশের শিতি বেকার জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা করে এনআইএফটি সময়োপযোগী এবং উন্নত গ্রাফিক্স ডিজাইনার তৈরি করার ল্েয উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আধুনিক ক্যাম্পাস, দ ফ্যাকাল্টি উন্নত পরিচালনা পর্ষদ সহ সব সুবিধা রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানে। এজন্যে এনআইএফটি হতে পাশকৃত ছাত্র-ছাত্রীদের চাকরির বাজারে চাহিদা রয়েছে সর্বাধিক। কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনিংয়ের শিাথীদের চাকরির নিশ্চয়তা রয়েছে। যারা কোর্স শেষ হবার আগে চাকরি না পাবেন এনআইএফটি নিজ উদ্যোগে তাদের চাকরির ব্যবস্থা করবে। এখানে প্রত্যেকে কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনিংয়ের শিকই অত্যন্ত দও অভিজ্ঞ। তাদের প্রথম ব্যাচের ভর্তির শেষ তারিখ ১৫ এপ্রিল।
প্রতি ব্যাচের শিার্থীর সংখ্যা হবে ১৫ জন করে। চার মাসের এই ডিপ্লোমা কোর্সে কাসের সংখ্যা হবে ৪০ টি। এতে কোর্স ফি পড়বে ১০ হাজার টাকা। সপ্তাহে কাস থাকবে তিনটি করে এবং সময় থাকবে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৯টা। এখানে শেখানো হবে বেসিক এপ্লিকেশন কোর্স, প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইন, ফান্ডামেন্টালস অব গ্রাফিক্স ডিজাইন, এডোবি, পটোশপ, ইলাস্ট্রেটর, কোরালরো প্রভৃতি। এখানে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও আধুনিক সুযোগ সুবিধা ছাড়াও প্রত্যেক শিার্থীর সিরিয়াসনেস, তাদের আগ্রহ, পারফরমেন্স ইত্যাদি মনিটরিং করা হবে ।
এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও মালয়েশিয়ার লিমকক উইং ইউনিভার্সিটির আওতায়ও ফ্যাশন ডিজাইন ও মার্চেন্ডাইজিংয়ে স্নাতক, অনার্স, এমবিএ, ডিপ্লোমা প্রভৃতি ডিগ্রি প্রদান করছে।
মাসিক ‘দশদিক পত্রিকা’ মে-২০১০ ইস্যুতে প্রকাশিত
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
ডানপন্থীদের তোয়াজ বা মক্কা প্যাক্টে ঢোকার আগ্রহ দ্রুতই বুমেরাং হতে পারে বিএনপি সরকারের জন্য

জামাত-এনসিপিকে 'বিরোধী দল হিসেবে' হাতে রাখতে বা আওয়ামী লীগের ফিরে আসাকে ঠেকাতে জামাত-এনসিপি বা এদের মতো ডা*নপন্থীদের দাবি-দাওয়াকে খুব বেশি প্রাধান্য দিলে সেটা বুমেরাং হয়ে দেখা দেবে বিএনপি সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মক্কাহ চুক্তি কি ?

মক্কাহ চুক্তি লেখা হয়েছে আরবি ভাষায়। বাংলাদেশের পত্র পত্রিকা - পূর্ণাঙ্গ “মক্কাহ চুক্তি” বাংলা অনুবাদ করে প্রকাশ করছে না কেনো ? দেশের মানুষ কিভাবে জানবে এই চুক্তিতে কি লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন
Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!

Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!
ইংরেজি প্রবাদ “Out of the frying pan into the fire”- অর্থাৎ এক বিপদ থেকে বাঁচতে গিয়ে আরও বড় বিপদের... ...বাকিটুকু পড়ুন
চিঠির সঙ্গে আমার এক অন্যরকম সম্পর্ক

চিঠির সঙ্গে আমার এক অন্যরকম সম্পর্ক
উনি আমাদের ভবেরচর পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার। অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ। তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়টা শুধু পোস্ট অফিসের প্রয়োজনের কারণে নয়; বরং দীর্ঘদিনের এক আন্তরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন
নীরব আত্মপক্ষ।
নীরব আত্মপক্ষ।
স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র আন্দোলনের মাসুল বাঙালি হিন্দুকে গুণে গুণে দিতে হয়েছিল ব্রিটিশকে । বাকিটা মুসলিম লীগ ও নেহেরুইয়ান কংগ্রেস মিলে যা করার করে গেছে। এবং পরবর্তীকাল থেকে মুসলিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।