somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা শুনুন, কাঁন্না শুনুন!!!

০৪ ঠা জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের কথা কেহ শুনিবার নাই। আমাদের কাঁন্না শুনিবারও কেহ নাই। তবু আমরা বলিতে চাই, কাঁদিতে চাই আপনার নিকট। যে জন্যে আজকে এই কথা, এই কাঁন্না। জাতির জনকের কন্যা হওয়ায় আপনি আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হইয়াছেন ইহা সত্য। আপনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হইয়া আপনার পিতৃভূমির আবর্জনা পরিষ্কার করিয়া গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়াকে প্রায় শহরের রুপ দিয়াছেন। ঐ ধানক্ষেত বেষ্টিত জায়গাকে এখন আর চেনাই যায় না। উত্তম।
আপনি রাজনীতি করিতেছেন বলিয়াই আপনার পিতৃভুমি রক্ষা পাইয়াছে। আপনি যদি রাজনীতিতে নাও আসিতেন তবুও ইহা রক্ষা করা আমাদের কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে।
কথা হলো আপনি যাহা বানাইবেন তাহাই আপনার পিতার নামে করিবেন, আপনার শিক্ষা কি ইহাই বলে! আপনার অন্য সখির কথা না হয় বাদই দিলাম। তিনি না হয় অল্প শিক্ষিত। যাহা বানায় তাহাই তাহার মৃত স্বামীর নামে করিতে চায়। পারলে বাথরুমকেও তাহার স্বামীর নামে নামকরণ করে। যাইহোক আপনারা রাজনীতি করেন বলিয়াই আপনাদের পূর্বসুরিদের নাম অতিমাত্রায় রক্ষা করিতেছেন। কিন্তু একবার ভাবিয়া দেখুন তো যে সকলগুণীজনের উত্তরসুরিরা রাজনীতি করেন না। তাহাদের নাম বা বসতবাড়ি কি রক্ষা পাইবে না! তবে কি একটি দেশ কেবল রাজনীতিবিদদের লইয়াই পূর্ণতা পায়! বাকী সবার কোন ভুমিকা নেই দেশ গঠনে বা জাতি গঠনে! অথবা আমাদের সংস্কৃতিতে!
আপনারা কিন্তু সব রাজনীতিবিদদের নাম এবং স্মৃতি রক্ষা করেন না। কেবল যাহারা আপনাদের পরিবারের অথবা আপনাদের দল করিয়া থাকেন তাহাদের স্মৃতি-ই আপনারা অতিমাত্রায় রক্ষা করিতে চেষ্টা করেন। আপনি কি অশ্বিনী দত্তের নাম শুনিয়াছেন? তিনি রাজনীতি করিতেন। বরিশালের। তাহার বাড়ি বরিশাল কলেজ কতৃপক্ষ অনেক আগেই দখল করিয়াছে। সেখানে একপাশে বিল্ডিং তোলা হইয়াছে। অন্যপশে মসজিদ। অশ্বিনী দত্তের স্মৃতিবিজড়িত পুকুরটি এখনও রিহয়াছে। সিটি করপোরেশন ময়লা-আবর্জনা ফেলিয়া পুকুরটি পূর্ণ করিতেছে। কলেজ কতৃপক্ষও ওখানে ভবন নির্মাণের জন্য পায়তারা করিতেছে। হয়তো ভবন নির্মাণ হইবেও। তাহা হইলেই অশ্বিনী দত্ত নামটি একেবারে মুছিয়া যাইবে। কেন? তাঁর কোন উত্তরসুরি বর্তমানে আপনাদের রাজনীতি করিতেছেন না বলে?
বরিশালেরই আরেক কৃতি সন্তান জীবনানন্দ দাশ। তাহার বড়িতেও দোকানপাট তুলিয়া অনেকেই দিব্যি সংসার চালাইতেছে। কেন জীবনানন্দের কোন উত্তরসুরি রাজনীতি করিতেছেন না বলে?
আরেকজন অকালপ্রয়াত প্রতিভাবান কবির কথা বলিব। সুকান্ত ভট্টাচার্য। আপনার এলাকায়ই তাঁহার পিতৃভূমি। তাহার ভিটে-বাড়িও এতকাল দখলে ছিল। এখন নাকি তাহা উদ্ধার করা হইয়াছে। স্মৃতি রক্ষা করা হইবে। শুনিয়া শুধু ভাল লাগিল না, কাঁন্নাও পাইল। এতদিন কেন রক্ষা পায়নি? আগেও তো একবার ক্ষমতায় আসিয়াছিলেন! আপনারা তো নিজেদেরকে সংস্কৃতির কাছের মানুষ বলে নিজেদেরকে পরিচয় দেন। যদিও সংস্কৃতিতে বাজেট এবারও কম। যাহাহোক এবার আরেকজনের কথা বলি। তিনি কিংবদন্তী নায়িকা সুচিত্রাসেন। তাহার বাড়ি ছিল পাবনা। তিনি এখানে শৈশব-কৈশোর কাঁটিয়েছেন। অনেক স্মৃতি এখানে তাহার, এখনও তিনি বলিয়া থাকেন। তাঁহার বাড়িটি এখন কি অবস্থায় আছে জানেন? জামায়াতের গবেষনা ইনস্টিটিউট এবং একটি জামাতী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভাবা যায়! কিংবদন্তী নায়িকার বাড়িতে জামাতের আখড়া! যেখানে রহিয়াছে সুচিত্রা সেনের শৈশব-কৈশোরের পায়ের ছাপ। সেখানে এখন জামায়াত-শিবির, রাজাকার-জঙ্গীরা ঘুরিয়া বেড়াইতেছে! ভারতের আজকাল পিত্রকায় দেখিলাম এ জায়গাটিও রক্ষা করা হইবে। আমাদেরকে কি আশাবাদী হইতে বলিতেছেন আপনি? আরো কত কি দেখিবো এদেশে। এরকম আরো কত খবর আমরা শুনিবো। আর আমরা নীরবে চোখের জল ফেলিবো। মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী আপনার কাঁন্না পায় না এসব খবর পড়িয়া? নাকি রাজনীতি করিতেছেন বলিয়া বুকে পাথর চাপিয়া বিবেকের চোখ বন্ধ করিয়া রাখিয়াছেন! এই সব ব্যক্তিদের স্মৃতি রক্ষা না করিলে তাহাদের কিছু আসিবে যাইবে না। ক্ষতি আমাদের। এই লজ্জা আমাদের! মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী এখনো সময় আছে গুনীজনদের স্মৃতিবিজরিত স্থান দখলমুক্ত করিয়া তাঁহাদের স্মৃতি সংরক্ষণ করুন। তাহাতে আমাদের সংস্কৃতিই সমৃদ্ধ হইবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১:৩৩
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×