মানিক সাহার ঘাতকরা শাস্তি পায়নি এখনো
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাধ্যমে সাংবাদিক হত্যাকান্ডের বিচার ও হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত হবে আশা করা হলেও তেমনটি হয়নি।
বরং হত্যাকারীরা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। তেমনি নির্ভীক সাংবাদিক মানিক সাহা হত্যাকাে র বিচার হয়নি। জোট সরকারের
আমলে একটি প্রভাবশালী মহলের পৃষ্টপোষকতায় সংঘটিত এই বর্বর হত্যাকাে র সঙ্গে জড়িতরা শাস্তি পায়নি। বিচারের নামে কালক্ষেপণের
মধ্য দিয়ে কেটে গেছে চারটি বছর। তারপরও ১৫ জানুয়ারি এই শহীদ সাংবাদিকের হত্যাবার্ষিকীতে আমরা নির্ভীক সাংবাদিকতাকে বাঁচিয়ে
রাখার শপথ নিতে চাই।
মফস্বল শহরে থেকে মানিক সাহা পেশার প্রতি আন্তরিকতা, সততা ও সাহসিকতার দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তাঁর এই অবদানের স্বীকৃতি
মিলেছে, তাঁকে হত্যার পর বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক একাধিক ‘পুরস্কার’ তাঁর অবদানের অনেকটা স্বীকৃতি
দিয়েছে। প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতি শেষে জীবনের শুরুতেই গরিব মেহনতি মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক আদর্শে দীক্ষিত হয়ে
বাংলাদেশের প্রত্যাশায় তিনি কাজ শুরু করেন। সাধারণ মানুষের হাসি-কান্নার সাথী হয়ে ওঠেন খুব সহজেই। তাঁর মৃত্যুর পর শহরের ফুল
দোকানিরা বলেছিল, জাতীয় বিশেষ দিনগুলোতেও এত ফুল তারা বিক্রি করেনি রাস্তার পাশের পান দোকানি সাউথ হেরাল্ড স্কুলের আয়া-
পিয়নরা ‘মানিক দা’। ‘মানিকা দা’ পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের কথা মানিক সাহা ছাড়া কেউ লিখতো না, আর কেউ বলবে না
তাদের কথা। তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে হাজারো কন্ঠ থামিয়ে দেয়া হয়েছে।
নির্ভীক সাংবাদিক মানিক সাহা হত্যার কারণ খুঁজতে গিয়ে অনেক বিষয় সামনে চলে এসেছে। তাঁর শত্র“ হিসেবে যাদের মনে করা হয়েছে
তাদের মধ্যে রয়েছে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারী সা¤প্রদায়িক গোষ্ঠী, উগ্র মৌলবাদী চক্র, প্রেসক্লাবের আধিপত্য বিস্ত
ারে অপচেষ্টায় লিপ্ত প্রতিক্রিয়াশীল কয়েক সাংবাদিক, পরিবেশ ধ্বংস করে চিংড়ি চাষে লিপ্ত প্রভাবশালী চক্র, চোরাচালানি-অস্ত্র ব্যবসায়ী,
সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ, সুন্দরবন ধ্বংসকারী এবং মংলা বন্দর লুটপাটকারীরা। রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণে এদের বিরুদ্ধে মানিক
সাহা সব সময়ই ছিলেন সক্রিয়। তিনি আজীবন লড়াই করেছেন অসহায় দুর্বলের পক্ষে, স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতক মৌলবাদী চক্রের বিরুদ্ধে।
এই চিত্র স্পষ্ট ফুটে উঠেছে তাঁর সাংবাদিকতা, রাজনীতি ও অন্যান্য সামাজিক কর্মকাে । তাই সর্বশেষ ২০০১ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের
পর যখন দেশব্যাপী হিন্দু স¤প্রদায় ও বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর বর্বর নির্যাতন শুরু হয়, তখন তিনি দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সাথে
দাঁড়িয়েছেন নির্যাতিতদের পাশে। বিবিসি, ইটিভি ও দৈনিক সংবাদে বস্তুনিষ্ঠভাবে নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেছেন। শুধুমাত্র এটুকু করে থেমে
থাকেননি তিনি। সহকর্মীদেরকেও উদ্বুদ্ধ করেছেন সত্য প্রকাশে ভূমিকা রাখতে। মানিক সাহা কখনো কখনো প্রশাসনকেও এসব অন্যায়ের
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য করতেন।
সরকার ও প্রশাসন অনেক ঘটনায় ক্ষুব্ধ ছিলেন তাঁর উপর। এরকম একটি ঘটনা ঘটে ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর
উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ‘খুলনা জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি’র সভায় খুলনা প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি হিসেবে মানিক সাহা অংশ নেন। তিনি তার
আলোচনায় পত্র-পত্রিকার রেফারেন্সে ওই এলাকায় সংখ্যালঘু ও বিরোধী নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। এক পর্যায়ে মন্ত্রী পত্র-
পত্রিকার খবরকে অতিরঞ্জিত আখ্যায়িত করে বলেন, নির্যাতনের সকল অভিযোগ সঠিক নয়। এসময় সাংবাদিক মানিক সাহা মন্ত্রীর বক্তব্যের
প্রতিবাদ করে বলেন, ‘নির্যাতনের খুব কম চিত্রই পত্রিকায় এসেছে।’ তিনি মন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি এই নির্যাতনের প্রমাণ
হাজির করতে না পারলে সাংবাদিকতা ছেড়ে দেবো। তবে, আপনাকেও ওয়াদা করতে হবে ঘটনার প্রমাণ পেলে আপনি মন্ত্রিত্ব ত্যাগ
করবেন।’ এতে ক্ষুব্ধ মন্ত্রী সভা শেষ না করেই দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করেন। অবশ্য জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে একাধিক
গোয়েন্দা সংস্থা মানিক সাহার ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখতো। দেশের বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ওই বছরের শেষে দিকে
যখন দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনে গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছিলো তখন একইভাবে হয়রানির চেষ্টা করা হয় সাংবাদিক মানিক
সাহাকেও। স্বার্থান্বেষীরা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে মানিক সাহাকে প্রধান বাধা মনে করে তাঁর বিরুদ্ধে এসকল যড়যন্ত্র শুরু করে।
দক্ষিণাঞ্চলের নিচু ফসলী জমিতে লোনা পানি ঢুকিয়ে অপরিকল্পিতভাবে পরিবেশ বিধ্বংসী চিংড়ি চাষ হয়ে আসছে গত প্রায় দুই যুগ ধরে।
শহরের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে ঘের দখল, জমি দখল করে অবৈধভাবে চিংড়ি চাষ, গরিব মানুষ সম্পদহীন আর
প্রভাবশালীদের অধিক ধনী হওয়ার কথা অনেকেরই জানা। অনেকেই মনে করেন চিংড়ি চাষকে কেন্দ্র করেই এঅঞ্চলে সন্ত্রাসের সৃষ্টি হয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে খুন, ধর্ষণ, হাঙ্গামা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এই সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহস ও দৃঢ়তার সাথে সর্বাগ্রে যিনি কলম
ধরেছেন তিনি সাংবাদিক মানিক সাহা। যেখানে পরিবেশ বিধ্বংসী চিংড়ি চাষ ও প্রভাবশালীদের অত্যাচার নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে
৭
তিনি ছুটে গেছেন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামকে জোরদার ও ফলপ্রসূ করতে, তাদেরকে সাহস-শক্তি যোগাতে সংবাদ
পরিবেশনের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে মঞ্চে বক্তৃতা করেছেন, আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন তাদের সাথে।
১৯৯০ সালের ৭ নভেম্বর প্রভাবশালী এক ঘের মালিকের সন্ত্রাসী বাহিনীর গুলিতে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার হরিণখোলা গ্রামের
প্রতিবাদী ভূমিহীন আন্দোলনের নেতা করুণাময়ী সর্দারের মৃত্যুর পর সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে শুরু হয় গণআন্দোলন। এই আন্দোলন যারা
সংগঠিত করেছিলেন তাদের অন্যতম একজন মানিক সাহা। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যেখানেই পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন হয়েছে
সেখানেই তিনি অংশ নিয়েছেন। আর এ সকল কারণে স্বার্থান্বেষী মহলরা তাকে শত্র“ হিসেবে চিহ্নিত করে।
অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী, চোরাচালানী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও তাদের গডফাদারদের সাথে মানিক সাহা কখনো আপোষ করেননি। খুলনার খুনী
আসামী এরশাদ শিকদার মন্ত্রী-এমপিদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে যখন একটি বড় রাজনৈতিক দলে যোগ দেয়, তখন তিনি সরাসরি
প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি সহকর্মীদের নিয়ে এক সাথে বৈঠক করে অধিকাংশ পত্রিকায় এরশাদ শিকদারের অপকর্মের চিত্র ধারাবাহিকভাবে
তুলে ধরেছিলেন। বলা যায়, সাংবাদিকদের লেখনীর কারণে ১৯৯৯ সালে তৎকালীন সরকার এরশাদ শিকদারকে প্রথমে দল থেকে বহিষ্কার
এবং পরে গ্রেফতার করে। শুধু তাই নয়, তৎকালীন এক মন্ত্রীকে খুলনার প্রকাশ্য জনসভায় একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী সোনার নৌকা উপহার
দিয়েছিলো। সে ঘটনারও প্রতিবাদ করেন সাংবাদিক মানিক সাহা। এই ঘটনা নিয়ে একজন এমপি’র সাথে তাঁর উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়।
পরে অবশ্য ওই এমপি দুঃখ প্রকাশ করেন বলে আমরা শুনেছি। একই ঘটনা ঘটে খুলনার অপর এক শীর্ষ সন্ত্রাসী, ওয়ার্ড কমিশনার
আসাদুজ্জামান লিটুর দল পরিবর্তনের সময়। সন্ত্রাসী, অপরাধীরা যাতে কোনো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আশ্রয় না পায়, সে ব্যাপারে তিনি সব
সময়ই রাজনৈতিক নেতাদের পরামর্শ দিতেন।
মানবাধিকার রক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন নিরলস কর্মী। একাধিক আন্তর্জাতিক সেমিনারে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব
করেছেন। আর দক্ষিণাঞ্চলের যেখানেই নির্যাতন, মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে তিনি ছুটে গেছেন। পত্র-পত্রিকায় লেখালেখির
পাশাপাশি নির্যাতনের উৎস খুঁজে সংশিষ্ট ক্ষমতাসীন নেতাদের জানাতেন। যাতে পুনরায় একই ঘটনা আর না ঘটে। নেতৃস্থানীয়দের পরামর্শ
দিতেন দলীয়স্বার্থেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।
মানিক সাহা কখনোই চরমপন্থীদের চাঁদাবাজি, খুন-ধর্ষণের ঘটনাকে মেনে নেননি। তিনি কথিত চরমপন্থী ভাড়াটিয়া অস্ত্রবাজদের বিরুদ্ধেও
সংবাদ পরিবেশন করেছেন। অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী, চোরাচালানি ও সন্ত্রাসীদের রিরুদ্ধে তাঁর কলম ছিলো সব সময়ই সক্রিয়। অনেক সময়
তিনি পত্রিকায় লেখার পাশাপাশি সরাসরি প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিতেন। ফলে সকল অপশক্তির সাথেই
মানিক সাহা’র ছিল আদর্শিক শত্র“তা।
বিরোধিতা ছিলো মংলা বন্দর ও ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ সুন্দরবন লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের সাথে। তাদের সাথে তাঁর কখনো ব্যক্তিগত বিরোধ ও
দ্বন্দ্ব হয়নি। তবে অর্š—দ্বন্দ্ব ছিলো সব সময়ই। তিনি বিশ্বাস করতেন আমাদের পরিবেশ ও আমাদের অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে সুন্দরবনের
পাশাপাশি মংলা বন্দরকেও রক্ষা করতে হবে। তাই তিনি তাঁর পেশাগত জীবনে এ ব্যাপারে আপোস করেননি। ফলে যারা এখানে লুটপাট,
দুর্নীতির সাথে জড়িত তারা কখনও মানিক সাহাকে বন্ধু ভাবতে পারেনি।
গত ৪ বছরে মানিক সাহার হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা যায়নি। প্রশাসন বা সাংবাদিকরা তার হত্যাকাে র সঠিক কারণ চিহ্নিত করতে
পারেননি। অনেকেই মনে করেন, মানিক সাহা হত্যাকা কোনো একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে হয়নি। সাংবাদিকদের তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, স্বার্থ
সংশিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই হত্যা পরিকল্পনার সাথে জড়িত থাকতে পারে। অসৎ পথে কালো টাকা উপার্জনকারী অনেকেই এক্ষেত্রে
অর্থের যোগান দিয়ে থাকতে পারে। আর ক্ষমতাসীন দলের কোনো কোনো এজেন্সি অথবা প্রভাবশালীদের কারো কারো এই হত্যাকাে র
সাথে সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ হত্যাকাে র পর পরই উঠেছিলো সেগুলোও উড়িয়ে দেয়া যায় না।
অন্যান্য ঘটনার মতো মানিক সাহা হত্যাকাে র পর কথিত চরমপন্থী দল জনযুদ্ধ তাৎক্ষণিকভাবে এ হত্যার দায়-দায়িত্ব স্বীকার না করে, চার
দিন পর এই হত্যাকাে র দায়িত্ব স্বীকার করে ফটোকপি করা লিফলেটের মাধ্যমে। এর আগে এক মন্ত্রী ও কয়েক এমপি খুলনায় গিয়ে
গণরোষের মুখে পড়েন। যা নিয়ে সে সময় জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দেয়। সে প্রশ্ন আজও রয়ে গেছে। কোনো একটি পক্ষ, না একাধিক
পক্ষ একসাথে হয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে সেটা খুঁজে বের করার দায়িত্ব ছিলো প্রশাসনের। কিন্তু পুলিশ তদন্তের পর এই মামলার যে
চার্জশিট দিয়েছে, তা তাঁর সহকর্মী সাংবাদিকরা, পরিবারের সদস্যরা এবং রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সহযোদ্ধারা কোনভাবেই মেনে
নিতে পারিনি। আর আমরা যারা সার্বক্ষণিক তাঁর কাছে ছিলাম তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছি।
রাষ্ট্রযন্ত্রের এই ব্যর্থতা শুধু সাংবাদিকদের ক্ষুব্ধ করেনি। সাংবাদিকতার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে সাংবাদিক হত্যা ও
নির্যাতনের ঘটনা। গত এক যুগে দেশে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১৪ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। মানিক সাহা ছাড়াও এদের মধ্যে রয়েছেন
খুলনার দৈনিক জন্মভূমি সম্পাদক হুমায়ুন কবির বালু (২৭ জুন ২০০৪), দৈনিক পূর্বাঞ্চলের স্টাফ রিপোর্টার হারুনার রশীদ খোকন (২ মার্চ
২০০২), দৈনিক অনির্বাণের খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি সরদার শুকুর হোসেন (৯ জুলাই ২০০২), দৈনিক অনির্বাণের খুলনার
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি এস এম নহোরালী (১৮ এপ্রিল ২০০১), দৈনিক জনকন্ঠের প্রতিনিধি শামসুর রহমান কেবল (১৬ জুন ২০০০),
কুষ্টিয়ার বীর দর্পণ পত্রিকার সম্পাদক মীর ইলিয়াস হোসেন দিলীপ (১৫ জানুয়ারি ২০০০), দৈনিক লোক সমাজ পত্রিকার খুলনার বিএল
কলেজ প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম রফিক (১৩ মার্চ ১৯৯৯), যশোরের দৈনিক রানার সম্পাদক সাইফুল আলম মুকুল (৩০ আগস্ট ১৯৯৮),
চুয়াডাঙ্গার দৈনিক দিনবদল এর স্টাফ রিপোর্টার বজলুর রহমান (১২ জুন ১৯৯৮), ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক
খন্দকার রেজাউল করিম (১৬ জুলাই ১৯৯৮), সাতক্ষীরার পত্রদূত সম্পাদক স ম আলাউদ্দিন (জুন ১৯৯৬), যশোরের দৈনিক স্ফুলিঙ্গ
৮
পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মো. আব্দুল গফ্ফার (৪ ফেব্র“য়ারি ১৯৯৬)। এছাড়া ১৯৯২ সালের ১০ জুন দৈনিক রানারের যশোরের অভয়নগর
প্রতিনিধি ফারুক হোসেন সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। সর্বশেষ ২০০৬ সালের অক্টোবরে সাতক্ষীরা কলারোয়ায় নিহত হন দৈনিক জনবাণী
পত্রিকার প্রতিনিধি বেলাল হোসেন।
সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি পাতি নেতা, সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ, চরমপন্থী,
চোরাচালানকারী ও প্রশাসনের হুমকি তো আছেই। অব্যাহত হুমকির কারণে অনেকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু অব্যাহত হত্যা,
হামলা, মামলার মুখে কতদিন তারা টিকে থাকতে পারবেন সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। কারণ এ নিয়ে প্রশাসনের রয়েছে রহস্যময় নীরবতা।
খুলনায় প্রবীণ জননেতা অ্যাড. মঞ্জুরুল ইমাম হত্যাকাে র পর টিভি সাক্ষাৎকারে মানিক সাহা বলেছিলেন, ‘পূর্ববর্তী হত্যাগুলোর কোন বিচার
না হওয়ায় ঘাতকরা উৎসাহিত হচ্ছে, সংঘটিত হচ্ছে নতুন নতুন হত্যাকা ।’ মানিক দা’র মৃত্যুর পর তার কথাগুলোই বার বার ধ্বনিত হয়েছে
আমাদের মনে।
সরকার, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজ যদি এ অঞ্চলের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, ঘাতক সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজরা যদি পার পেয়ে
যেতে থাকে, তবে যে বর্বর রাজত্বের সূচনা হবে- তা নড়িয়ে দিতে পারে গোটা রাষ্ট্রেরই ন্যায় বিচারের খুঁটি। বিষয়টি রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারক
মহলের বিবেচনা করা জরুরি। এই জরুরি কাজটি এখনই শুরু হবে বলে আমরা আশা করি। আর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের প্রিয়
মানিক দা’র প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।
------------------------------------------------
সুত্রঃ সাপ্তাহিক একতা (২০ জানুয়ারী, ২০০৮ সংখ্যা)
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল
দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল
আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]
আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।