somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুঁজিবাদের ভবিষ্যত দেখছেন ইউনূস!

২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জাতি ইউনূস সাহেবকে চিনলো না! কিন্তু রতনে যেমন রতন চিনে, তেমনি আসল সাহেবরা ঠিকই ইউনূস সাহেবকে চিনে ফেলেছেন! (দুষ্ট লোকরা বলেন, শুধু চিনেই ফেলেননি, কিনেও ফেলেছেন! এরচে’ আরো এককাঠি দুষ্টু লোকরা বলেন, এখনো ফেলেননি, একদিন ফেলবেন!)
‘আসল সাহেবরা’ যে ইউনূস সাহেবকে চিনে ফেলেছেন এ নিয়ে পাঠকদের জন্য একটি খবর ও দু’টি গল্প পরিবেশন করা হলো।

খবরটি হচ্ছে ইউনূস সাহেবের একটি নতুন বই বাজারে এসেছে। বইটির নাম ‘ক্রিয়েটিং অ্যা ওয়ার্ল্ড উইদাউট পোভার্টি : সোশ্যাল
বিজনেস অ্যান্ড ফিউচার অব ক্যাপিটালিজম’। বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব তৈরি : সামাজিক বাণিজ্য ও পুঁজিবাদের ভবিষ্যত’।
গত ৮ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অটোগ্রাফের মাধ্যমে বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে ছেড়েছেন তিনি। এ উপলক্ষে
ওয়াশিংটনের ওয়েসলির একটি গির্জায়(!) বই স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান-এর আয়োজন করা হয়। সেখানে বইটি কেনার জন্য আগে থেকেই শত শত
মানুষ সারিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকে! বইটি আনুষ্ঠানিক প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে রক্ষিত সব কপি বিক্রি
হয়ে যায়! (চিনে ফেলা আর কাকে বলে!)

ইউনূস সাহেব র্ঠিক একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বই স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান করার মাধ্যমে তাঁর নতুন বইটি বিক্রি করবেন! ১৩ জানুয়ারি
টেক্সাসের অস্টিন, ১৪ জানুয়ারি হিউস্টন, ১৫ জানুয়ারি লস অ্যাঞ্জেলেস, ১৬ জানুয়ারি সান্টা বারবারা, ১৭ জানুয়ারি সানফ্রান্সিসকো, ১৮
জানুয়ারি সিয়াটল, ২০ জানুয়ারি পোর্টল্যান্ড, ২২ জানুয়ারি শিকাগো, ২৩ জানুয়ারি নিউইয়র্ক ও ২৪ জানুয়ারি ফিলাডেলফিয়া ঠিক
এরকমভাবে বই বিক্রির দিন-তারিখও ঠিক করা আছে। এসব স্থানেও ইতোমধ্যে অনলাইনে বই বিক্রির হিড়িক পড়ে গেছে!

খবরে প্রকাশ, বই স্বাক্ষর ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় সুধী সমাবেশে ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে তার। তবে এ বক্তৃতা শুনতে আগ্রহীদেরও ফি
দিয়ে ঢুকতে হবে! আয়োজকরা জানিয়েছেন, ফি নেওয়ার পরও অনেক জায়গায় আগতদের জায়গার সংকুলানে সমস্যা হচ্ছে!

২৬ মার্কিন ডলারের বইটি পারসিয়াস পাবলিকেশন্স নামের একটি প্রকাশনা সংস্থা প্রকাশ করেছে। বইটি নিয়ে গত ৭ জানুয়ারি মার্কিন
টেলিভিশন চ্যানেল পিবিএস ও ৮ জানুয়ারি বিবিসি টেলিভিশন ওয়ার্ল্ড ইউনূস সাহেবের সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে।

বইয়ের চেহারা ও পেটের সন্দেশ
বইয়ের চেহারাটাও উল্লেখ করার মতো। গ্রামে-গঞ্জে আহ্লাদি মা তাঁর সন্তানকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে গদগদ হয়ে বলতে শোনা যায়,
‘বাপের লাহান চেহারা পাইছে’। ওই বইয়ের দশাও তাই। কামের চেয়ে নাম বড়Ñগোটা বইয়ের অর্ধেকজুড়ে ইউনূস সাহেবের নামের
টাইপোগ্রাফি। তারপর অপেক্ষাকৃত ছোটো হরফে বইয়ের মূল শিরোনাম‘ক্রিয়েটিং অ্যা ওয়ার্ল্ড উইদাউট পোভার্টি। এবং এর নিচে আরো
অনেক ছোট এবং বাঁকা হরফে লেখা (যেটা একপ্রকার ধূর্ততার পরিচয়ও বহন করে) : সোশ্যাল বিজনেস অ্যান্ড ফিউচার অব ক্যাপিটালিজম।
এছাড়া আরো আছে নোবেল পুরস্কার এবং বিজয়ী ইউনূস সাহেবের চিত্র। ধাতব পুরস্কারের চিত্র বা আলোকচিত্রটির চেয়ে বিজয়ী ইউনূস
সাহেবের দাঁতের এবং মুখের হাসির চাকচিক্য তুলনামূলক বেশি।
কী আছে এ বইয়ে? এক কথায় বললে কীভাবে ভালো ব্যবসায়ী হওয়া যায় এর মন্ত্র। ‘দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব তৈরি’ বইটির মূল বিষয় নয়, মূল
বিষয় অন্যান্য ব্যবসায় ক্ষুদ্রঋণ স¤প্রসারণের মাধ্যমে কীভাবে আরও লাভবান হওয়া যাবে। আর সাহেবদের দেশ মার্কিন মুল্লুকের ‘ব্যবসায়ী
শ্রেণী’ যাতে বই নামের এই টোপ গলাধঃকরণ করে, এ জন্যে এ বইকে বলা হয়েছে, ‘গুরুত্বপূর্ণ, বাস্তবসম্মত, উৎসাহমূলক, গল্পভিত্তিক
দিকনির্দেশনা সংবলিত, প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণমূলক প্রকল্প, অনুপ্রেরণামূলক এবং একটি প্রতিবাদমূলক ঘোষণা!’ আর তার ওই ঘোষণাটি হচ্ছে পুঁজিবাদের ভবিষ্যত!
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×