আজ আর কোনরকম উচ্ছাসিত হয়ে নয়,
নয় কোন চমকপ্রদ অভিনব কায়দা করে,
বাসার সবাইকে লুকিয়ে,রাত্রি দ্বি-প্রহরে
বারান্দার দোলনা অথবা ছাদের এক কোণে,
ভালবাসার গোপণ শিহরণে চোখ বন্ধ করে-
লজ্জায় আর খানিকটা কাঁপা কাঁপা গলায়
আজ বহু বছর পরে,তোমার জন্য গাওয়া হলো না
কোন মঙ্গল শুভ বারতা।
অথচ: আজ জন্মদিন তোমার।
এবার আর এই দিনটি দিনটিকে কেন্দ্র করে
তোমাকে বিস্ময়কর কোন উপহার দিয়ে চমকে দেব বলে,
নাওয়া-খাওয়া ভুলে,রাত্রি-দিন পার করে,
আমাকে আর ক্লান্ত হতে হয়নি
নগরীর ঝলমলে বিপনি বিতান গুলোয়।
অথবা,প্রসিদ্ধ বেকারীতে গিয়ে
চিরায়িত কেকগুলোর আকৃতি দেখে
বিষন্ন হতে হয়নি বরাবরের মত।
ছোট্ট চিরকুটে লেখার জন্য রাতের পর রাত জেগে
গাঁথতে হয়নি ভালবাসার গভীরতাপূর্ণ কোন কথামালা।
এমনকি ফুলের দোকান ঘুরে ঘুরেও
উজ্জল ফুলগুলোর ত্বকের সামান্য একটু আাঁচড়ের জন্য
আজ একটুও অভিমানী হতে হয়নি আমায়।
এরপর থেকে,আর কখনোই এই দিনে শীতলক্ষার বুকে
তোমাকে নিয়ে ভাসবে না আমার ভালবাসার ছোট তরী।
উৎসবের এমন সন্ধ্যাটায় নানা বর্ণের মোম জ্বেলে
আর কখনোই পালন করা হবেনা আমার।
রাতের বেলায় জোনাকীর কানে আর কোনদিনও
গুণগুণিয়ে পাঠানো হবেনা তোমার জন্য শুভেচ্ছা সঙ্গীত।
পূর্ণ চাঁদের দিকে তাকিয়ে লাজুক হাসিতে
ভাবতে খুব কষ্ট হবে যে-
"আজকের এই চাঁদটা শুধুই তোমার জন্যই পরিপূর্ণ"।
অনুভবের দূরত্বে আর দিন বদলের পালায়,
দুটি মনের দূরত্ব আজ পৌঁছে গেছে
এক নক্ষত্র থেকে আরেক নক্ষত্র পর্যন্ত।
তাই,সারাক্ষণ অস্তিত্বে মিশে থাকা সেই তুমিহীন অভ্যস্ত
এই মন আর তোমায় ভেবে আলোড়ন তোলে না বহুদিন।
তারপরেও....
হয়ত: দশটি বছরের পুরাতন অভ্যাসে
অথবা অভিমানের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা
প্রথম প্রেমের স্মৃতিকাতরতায়
আজকের ঘড়িতে বারটা বাজার সাথে সাথে
বিক্ষিপ্ত পেন্ডুলামের মতই দুলতে দুলতে
অবুঝ হৃদয়টা অবিরাম মনে করিয়ে দিচ্ছে-
আজ জন্মদিন তোমার....
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


