যৌথ ভ্রমণ
ক.
তুষার পর্ব :
মধ্যরাত্রি মৌমাছি মোহ নিদ্রায় রত যেন
মিঠেকড়া মধু অন্বেষণের শেষে
দিগন্তে তবু তুমি আমি একসাথে
যুদ্ধজয়ের বার্তা ছড়াই বায়ুতে-বায়ুতে এই
তেপান্তরের তুষার শীতল তীর্থের ভূমি থেকে
হঠাৎ করেই বাজাই হাতের শঙ্খ তীব্রতায়
শ্বেতভল্লুকদের দেহ হতে ঝরে পড়ে ফলে হিম
আর বিরক্তি মৌমাছিদের তাই।
খ.
জল পর্ব:
দু'জনে অফারেশন থিয়েটারে যাই
ভালো ডাক্তার সালভাদোরের কাছে
আমাদের দেহে করি সংযোগ কানকো হাঙ্গরের
উভচর রূপে নামি সুগভির আটলান্টিক জলে
অতঃপর দেখি কাঁকড়ার সংসার,
নীল তিমি নীল জলে।
তারা মাছ যেন জলের জোনাকি মিটিমিটি জ্বলে শুধু
ফসফরাসেরা খ'সে পড়ে যেন তারা
জলাগ্নি বিস্ময়।
দূরে জেলিফিস-জাহাজের শেকলের ঝন-ঝন ধ্বনি
শুনি আর দেখি সূর্য অস্ত যাবে
জলের উপরে অর্থেক আর অর্ধ জলের নিচে
এই নিসর্গ-বিশুদ্ধতায় সব কিছু মিলেমিশে
আমরা জলের অশেষ তলের কাছে চলে যেতে চাই।
শৈশব
প্রাথমিক ঋতু কালের কথাটি জানি
প্রতিটি নারীরই মনে পড়ে বার বার
সে উঞ্চতায় যেন তুমি আমাকেও
অনুভব কর উদ্বেগ সহযোগে
হে পাঠিকা নীহারিকা
আহত পাখিকে বস্ত্রে জড়িয়ে তুমি
চিন্তিত হয়ে ছুটে যাও পশু চিকিৎসকের কাছে।
একটি পাখির দেহ অপেক্ষা অথিক দীর্ঘ লেজ
দেখে তার পিছু পিছু বহুদূর অবধি গিয়েছিলাম
দর্পের সাথে দোলা দিতে দিতে আড়াল হয়েছে সেওÑ
এমন করুণ আমাদের শৈশব।
পাখির মৃত্যু চিরপ্রার্থিত নির্জনে ঘটে থাকে
আমি ইহা জানি পাখি বিষয়ক স্থায়ী ভাবনার ফলে।
কূটাভাস
দিগন্ত ব্যাপী একটি বৃহৎ স্তম্ভিত ট্রেন
থমকে দাঁড়িয়ে আছে।
যাত্রীরা সব যার যার দায়ভার
পাথেয় স্বরূপ বহন করেছে বলে
পারেনি বুঝতে নিশ্চলাবেগ দৈব দূর্বিপাক
শম্পনদের ধারে
মৃতবৎস্যা ও বন্ধ্যা রমনী মুখোমুখি দাঁড়ালেন
ফিসফাস ধ্বনি ফাস হলো কানে-কানে
আর ওই তীরে শল্যবিদ্যা পারদর্শিনী নপুংসকের সাথে
পরিকল্পিত বেঁধেছেন ঘর তবু
সেখানে স্নেহের কালে ছুটে যায় মাঝারি ইঁদুর দল।
অনেক রাতের পর
প্রয়োগ হচ্ছে ব্যবচ্ছেদের অধীত বিদ্যা কৃৎকৌশলগুলি।
ডানা কেটে ফেলে মানবীর রূপে গর্বিত যে পরীটি
পুনরায় তার উড্ডয়নের বাসনা জাগছে খুব।
নিগ্রো রমনী উজ্জ্বল-কালো দেহ নিয়ে শিহরিত
ততোধিক কালো উজ্জ্বল চোখে ফুটেছিলো বিস্ময়।
চার-পাঁচজন দুর্বৃত্তের ত্রাসে
বাদ্য বাজাতে বাধ্য হয়েছে ঢুলি
হরিকীর্তন লগ্ন পেরিয়ে যায়।
বপ্রক্রীড়ায় নিয়োজিত কিছু পশু
টিলার উপর থেকে পড়ে গেল উপত্যকায়, খাদে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


