গত ২২শে ডিসেম্বর রাত ১০:৪৫ মিনিটে ডলফিন বাসে করে আমরা ৮ জন রওনা হলাম বান্দরবান জেলার উদ্দেশ্যে। সাপ্তাহিক শুক্র-শনির ছুটির সাথে যোগ হয়েছে বড় দিনের ছুটি। তবে এই ভ্রমনের মুল উদ্দ্যক্তা নিরু ভাই ও আমার শ্যালক নাহিন। তারা ৩ তারিখে যাওয়া-আসার রিটার্ন টিকেট করা থেকে শুরু করে হোটেলের রুম বুকিং সবই করেছিল।
শীতের রাতের কুয়াশা ভেদ করে বাস চলতে থাকে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌছানর পর রাত ৪ টায় বাস কঠিন জ্যামর মধ্যে পরে। যা হোক জ্যাম খোলার পর ২৩ তারিখ বেলা ১২ টায় আমরা বান্দবান বাস টার্মিনালে পৌছাই। এর পর ইজি বাইকে করে হোটেলে। ছোটখাট হোটেল হলেও বেশ পরিচ্ছন্ন 'রয়েল হোটেল'। দুপুরের খাবার খেয়েছি পাশের 'মিমা' রেষ্টুরেন্ট এ।
খাওয়ার পর আগে থেকে ঠিক করে রাখা জিপ এসে হাজির হয়। জিপের চালক ছোটখাট গড়নের রবিন। আমাদের প্রথম দিনের লক্ষ্য শহরের কাছেই মেঘলা, নীলাচল ও স্বর্ণমন্দির পরিদর্শন।
২য় দিন আমাদের মূল লক্ষ্য নীলগিরি। নাস্তা করে সকাল ৭ টায় খোলা জিপে উঠে বসলাম। সবার মনে অজানা কিছু দেখার এর এডভেন্চারের এক রকম উত্তেজনা।
সদস্যদের সাথে একটু পরিচয় করিয়ে দিই। নিরুভাই ইউনিসেফের ওয়াটার এন্ড স্যনিটেশন প্রজেক্টের একজন কর্তাব্যক্তি ও আমাদের ট্যুর প্রধান, মৌসুমী ভাবী, নিরু ভাই এর তিন সন্তান প্রিয়ম-ইন্টার ২য় বর্ষ, পৃথ্থি- ২য় শ্রেনী, স্নেহা -বয়স ৩ বছর, আমি, আমার স্ত্রী নাজলী, ছেলে নিহান এবছর প্রথম শ্রেনীতে ভর্তি হয়েছে, নাহিন আমার শ্যালক এবং ট্যুর ম্যনেজার। ব্র্যাক ইউনি তো এবছর ভর্তি হয়েছে। হৃদয় নাহিনের মামাতো ভাই রংপুর ক্যান্ট পাবলিক কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র।
পাহাড়ী আকা বাঁকা উচু-নিচু রাস্তা দিয়ে জিপ চলছে। বাকা রাস্তায় গতি টানে পাশাপাশি বসে থাকায় একজন আর এক জনের গায়ে যত টুকু ঢলে পরছে খুশির আনন্দে ইচ্ছা করে তার চেয়ে বেশি ঢলে পরছে। বিশেষ করে নিহান আর পৃথ্থী। ওরা গোটা রাস্তা টা পুরো জমিয়ে রেখেছিল। কখনো কখনো রাস্তা ছিল অনেক খাড়া, চোখের সামনে সোজা উঠে গেছে পাহাড়ের গা বেয়ে। পথের বাম দিকে খাদ আর ডান দিকে পাহাড়। পাহাড়ের গায়ে কলা কমলালেবুর বাগান। লাল মাটি, বনফুলের ঝাড়। পথে যেতে চোখে পড়ছে উপ জাতিদের দৈনন্দিন জীবন ধারা। ছোট ছোট বাচ্চারা রাস্তার ধারে খেলছে। এতো দূর্গম এলাকা, কিনবা আধুনিকতার ছোয়া থেকে তারা অনেক দুরে এ ব্যাপারে তাদের কোন অভিযোগ নেই যেন।
এক সময় দেখা গেল পাহাড়ের চুড়ায় কিছু স্থাপনা। ওটাই নীলগিরি পাহাড়। জিপ থেকে নেমে প্রকৃতির সৌন্দর্যে চোখ জুড়িয়ে গেল। মনে হল আরো আগে কেন আসি নাই এখানে। চোখের সামনে সাদা-শুভ্র মেঘের সমুদ্র। দুরে মেঘ ও কুয়াশার চাদর ছিড়ে উকি দিচ্ছে অন্য পাহারের চুড়া।
সামগ্রীক এলাকাটি সেনা বাহিনীর তত্তাবধানে রয়েছে। এখানে ৪টি কটেজ রয়েছে। যারা রাত্তি যাপন ও পাহাড়ে সুর্ষদোয়ের শোভা দেখতে চান তারা কটেজ গুলো বুকিং দিতে পারেন। এখানে একটি হ্যলিপ্যাড রয়েছে। বৃষ্টির পানিকে ধরে রাখার জন্য আছে জলাধার।
এতো দিন শুধু শুনে এসেছি ভূ-স্বর্গ কাশ্মির। যদিও কাশ্মির আমি দেখিনাই তার পরেও মনে হয়েছে এর চাইতে সুন্দর কি হতে পারে?
এখানকার সৌন্দর্য বর্ননার ভাষা আমার নাই। কিছু ছবি দিলাম আপনাদের জন্য।
যদি সময় ও সুযোগ করতে পারেন তবে ঘুরে আসতে পারেন নীলগিরি। এই অপার সৌন্দর্য্য কাজে লাগিয়ে শুধু দেশীয় টুরিস্ট খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় সম্ভব।
ওখান থেকে ফেরার মুহূর্তে নীলগিরিকে কথাদিয়ে এসেছি আবার আমি তোমার কাছে ফিরে আসবো।
পরিশেষে বান্দরবান জেলার ভাই-বোন ব্লগারদের ধন্যবাদ, আপনাদের এলাকার মানুষ অনেক সহজ-সরল। দারিদ্র ও কিছুটা আধুনিক সুবিধা বঞ্চিত হয়েও তাদের মুখে হাসি ও সুখ দেখে এসেছি।
স্বর্ণ মন্দিরের গেটের একাংশ

স্বর্ন মন্দির

পাহাড়ি বাঁকা রাস্তা।

আমি বন ফুল গো।


সামনে মেঘের সমুদ্র




দুরের পাহাড় ঢেকে আছে মেঘের আলিঙ্গনে


নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। প্রকৃতি যেন সেই ভেলায় চড়ার আহবান জানাচ্ছে।


দুরে হ্যলিপ্যাড দেখা যাচ্ছে।






বাংলাদেশের সর্বচ্চো রাস্তা।

একটি বিলবোর্ড

সেই জিপটি

মিলন ছড়িতে পাহারের গায়ে অবস্থিত একটি রেস্টুরেন্ট এ যাওয়ার পথ।

আড্ডার একটি মুহুর্ত

নিহান ও স্নেহা

আসলে এটাই আমার বাংলাদেশ। ধন্যবাদ

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১৩ দুপুর ১:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



