ভাইসব, বোনসব, দেশবাসী, আসুন, উল্লাস করি! আনন্দ করি!! গলা ফাটিয়ে চিতকার করি!!! কারণ? কারণ, আমরা সভ্য জাতিতে পরিণত হয়েছি। ভারতকে ফ্রি ট্র্যানজিট দেওয়ার মাধ্যমে আমরা সভ্য জাতিতে পরিণত হতে পেরেছি। আর এই অর্জনটি সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মহামাননীয় উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান এর কল্যাণে। তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ তিনবার ফেরত পাঠিয়ে মন্ত্রণালয়কে বাধ্য করেছেন বিনা ফি'তে ভারতকে ট্র্যানজিট সুবিধা দেওয়ার জন্য এবং তা ইতোমধ্যে কার্যকরও হয়েছে। এর পক্ষে বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ডব্লিউটিও নীতিমালা অনুযায়ী কোন ধরনের ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু ৫ এপ্রিলের প্রথম আলোয় প্রকাশিত সাংবাদিক আসজাদুল কিবরিয়া'র লেখা থেকে আমরা জেনেছি, ড. মশিউর রহমান ডব্লিউটিএ নীতিমালার অপব্যাখ্যা করেছেন। জনাব কিবরিয়ার লেখা থেকে আমরা জানতে পারি, ডব্লিউটিও'র নীতিমালা অনুযায়ী, "কোন দেশের ভূ-খন্ড ব্যবহার করে আরেক দেশ ট্র্যানজিট সুবিধা নিয়ে পণ্য পরিবহন করলে এ কাজে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোন বাঁধা সৃষ্টি বা বিলম্ব করা যাবে না এবং ঐ পণ্য আনা-নেওয়ার শুল্ক বা ট্র্যানজিট শুল্ক বা ট্র্যানজিট-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মাশুলের আওতামুক্ত থাকবে, তবে পরিবহন সংশ্লিষ্ট মাশুল বা ট্র্যানজিটের জন্য প্রশাসনিক ব্যয় বা প্রদেয় সেবার জন্য মাশুল ব্যতিক্রম বলে বিবেচিত হবে।"
এই দলিলের চতুর্থ আর্টিকেলে বলা হয়েছে, "আরোপিত যাবতীয় মাশুল ও নিয়ন্ত্রণ বিদ্যমান যাতায়াত অবস্খা সাপেক্ষে যৌক্তিক হতে হবে।"(জেনারেল এগ্রিমেন্ট অন ট্যারিফস এন্ড ট্রেড - গ্যাট, আর্টিকেল ৩ ও ৪. জনাব কিবিরিয়ার নিবন্ধ থেকে, প্রথম আলো, ৫এপ্রিল, ২০১১)। জনাব আসজাদুল কিবরিয়া রেফারেন্সসহ দেখিয়েছেন যে, ড. মশিউর কদর্যভাবে ডব্লিউটিও নীতিমালার অপব্যাখ্যা করেছেন। যেন এমন, তিনি ছাড়া আর কেউ ডব্লিউটিও নীতিমালা চোখেও দেখেননি। আর বিষয়টির সাথে তিনি বাংলাদেশের সভ্য বা অসভ্য হওয়ার বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিকভাবে টেনে এনেছেন।
প্রশ্ন হল, ডব্লিউটিও নীতিমালার ভুল ব্যাখ্যা করে বিনা ফি'তে ভারতকে ট্র্যানজিট দিতে ওনার এত আগ্রহ কেন? আর বর্তমান সরকারের সময়ে নীতিমালা মেনে বা না মেনে ভারতকে অনেক সুবিধা যে দেওয়া হচ্ছে এবং হবে, খারাপ লাগলেও তা মেনে নেওয়া ছাড়া আমাদের কোন গতি নেই। ড. মশিউর যেভাবে আইন মন্ত্রণালয়কে বাধ্য করেছেন বিষয়টি মেনে নেওয়ার জন্য তাতেই বোঝা যায়, ওনার খুঁটির জোর কোথায়।
তবে, বিনা ফি'তে ভারতকে ট্র্যানজিট দিতে পেরে আমরা যে নিজেদেরকে সভ্য হিসেবে প্রমাণ করতে পেরেছি, তা রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপনের জন্য আমি সরকারের কাছে বিনীত প্রার্থনা জানাচ্ছি। ভাগ্যিস, জাতি ড. মশিউরের মত সুযোগ্য সন্তান উপহার পেয়েছিল, তা না হলে আমরা তো কবেই অসভ্যদের কাতারে পৌঁছে যেতাম!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

