somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলামে ব্যাভিচার বন্ধ করার জন্য শর্তসাপেক্ষে পুরুষের একাধিক বিয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে

১৬ ই মে, ২০১১ দুপুর ১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পবিত্র কোরআনে পুরুষদেরকে কেন একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক। অনেকে এ বিষয়ে তথ্যবহুল পোস্টও দিয়েছেন। তারপরও আমার মনে হয়েছে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। পুরুষদেরকে শর্তসাপেক্ষে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে এভাবে,
"তোমরা বিয়ে কর নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে; দু’টি, তিনটি অথবা চারটি। আর যদি ভয় কর যে, তোমরা সমান আচরণ করতে পারবে না, তবে একটি।" (সূরা নিসা, আয়াত ৩)।

এই পোস্টের আলোচনার বিষয় হল, কেন ইসলামে পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ের শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন দেওয়া হল? অনুমতি দেওয়ার কারণগুলো নিচে আলোচনা করছি।

(১) পৃথিবীতে পুরুষের চেয়ে নারীদের সংখ্যা বেশি: সিআইএ'র ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক ২০১১ 'তে দেখানো হয়েছে পৃথিবীতে নারীদের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি। সিআইএ মোট ২৩১টি দেশের জনমিতিক তথ্য দিয়েছে। এর মধ্যে ১৩৪টি দেশে নারীদের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি; ২৩টি দেশে নারী পুরুষের সংখ্যা সমান, ৭৪টি দেশে পুরুষের সংখ্যা নারীদের চেয়ে বেশি।
লিংক: Click This Link
আমেরিকায় নারী ও পুরুষের অনুপাত ১০০:৯৭। এভাবে বেশিরভাগ দেশেই নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি। ইসলামের বিধান সব দেশের, সব যুগের মানুষের জন্য নাজিল হয়েছে সুতরাং সব ধরনের বাস্তবতাকে মনে রাখতে হবে।

তাহলে কী দাঁড়াল? একজন পুরুষ একজন নারীকে বিয়ে করার পর যে সকল নারীরা পুরুষ পাবে না, তাদের বিয়ের কী হবে? এরই সম্মানজনক সমাধান হিসেবে পুরুষের একাধিক বিয়েকে শর্তসাপেক্ষে অনুমোদনযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। মনে রাখতে হবে, ইসলামে বিয়ে-বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক কঠোরভাবে নিষেধ এবং এর শাস্তি মৃত্যুদন্ড। অন্য কোন ধর্মে ব্যাভিচারের জন্য এমন কঠিন শাস্তির বিধান নেই।

(২) শুধুমাত্র পবিত্র কোরআনেই একটি মাত্র বিয়ে করতে বলা হয়েছে এবং একাধিক বিয়ে করাকে উৎসাহিত করা হয়নি: পবিত্র কোরআনই একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যেখানে একটি বিয়ে করতে বলা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের যে আয়াতটি উপরে দেওয়া হয়েছে, সে আয়াতে একটি বিয়েকে "ফরজ" করা হয়েছে, একাধিক বিয়েকে শুধুমাত্র "শর্তসাপেক্ষে অনুমোদনযোগ্য" বলা হয়েছে। একাধিক বিয়েতে উৎসাহ না দিয়ে বরং আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে। যে ব্যক্তি শর্ত পালন করতে পারবে না, তার জন্য একাধিক বিয়ের কোন সুযোগ নেই। এটি মোটেও ইসলামের কোন সাধারণ নিয়ম নয়। সুরা আন-নিসায় বলা হয়েছে "..আর তোমরা কখনো স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায়বিচার করতে পারবে না.." (সুরা আন-নিসা, আয়াত ১২৯)। সুতরাং এটা ভাবার কোন সুযোগ নেই যে কোরআনে সাধারণভাবে একাধিক বিয়ে করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। কেউ একাধিক বিয়ে করার পর যদি স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায়বিচার করতে সমর্থ না হয় তবে তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।

(৩) নারীদের চে্য়ে পুরুষদের মৃত্যুহার বেশি: যুদ্ধ, দুর্ঘটনা, সন্ত্রাস ইত্যাদি কারণে নারীদের চেয়ে পুরুষদের মৃত্যুহার অনেক বেশি। যে কোন যুদ্ধে নিহতদের পরিসংখ্যান থেকেই এর সত্যতা পাওয়া সম্ভব। পুরুষদের চেয়ে নারীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রকৃতিগতভাবেই বেশি সে কারণে কোন এলাকায় সমান সংখ্যক ছেলে ও মেয়ে শিশু জন্ম নিলেও পরবর্তীতে অধিকহারে ছেলে শিশুর মৃত্যুর কারণে মেয়েদের সংখ্যা বেড়ে যায়। এসব কারণে যে কোন দেশে যে কোন সময়ে সাধারণত বিপত্নীক পুরুষের চেয়ে বিধবা মহিলার সংখ্যা বেশি হয়ে থাকে।

(৪) পাশ্চাত্যের সমকামী সংষ্কৃতির কারণে সমলিঙ্গের পুরুষ ও নারী পরষ্পরের সাথে থাকে এবং বিয়ে করে। এই চর্চ্চা নারীদের চেয়ে পুরুষদের মধ্যে অনেক বেশি। সে কারণেও নারীরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং নারীদেরকে বিয়ে করার জন্য পুরুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আমেরিকায় সমকামী পুরুষের হার ২.৮% এবং নারীদের মধ্যে এই হার ১.৪%। অর্থাৎ সমকামী পুরুষের সংখ্যা সমকামী নারীদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি।

(৫) ভারতের মত অনেক দেশেই এখনও কন্যা শিশু হত্যা করার নীতি চালু রয়েছে। আবার বিশ্বব্যাপী ভ্রুণ হত্যার পরিসংখ্যান থেকেও দেখা যায় যে, কন্যা শিশুর ভ্রুণ হত্যার সংখ্যা ছেলে শিশুর তুলনায় অনেক বেশি।

উপরের তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে যে কেউই একথা বুঝতে সক্ষম হবেন যে, একজন পুরুষ একজন নারীকে বিয়ে করলে বহু মেয়ে বিয়ে করার জন্য পুরুষ পাবেন না। তাদের কী হবে? ইসলাম এজন্য সীমিত পরিসরে, শর্তপূরণ সাপেক্ষে একাধিক বিয়ের অনুমোদন দিয়েছে। অনেকেই একাধিক বিয়ের অনুমোদনকে বহু-গামিতাকে অনুমোদন দেওয়ার সাথে তুলনা করে থাকেন। এটি অজ্ঞতা ছাড়া আর কিছু নয়। কারণ, যৌন ক্ষুধা মেটানোর জন্য বিয়ে করার প্রয়োজন হয় না এবং এর নজির যে কেউই দেখতে পাবেন। কিন্তু ইসলামে বিয়ে-বহির্ভূত যৌন সম্পর্কের কোন সুযোগ রাখা হয়নি। ইসলামে বিয়ের পর থেকে আমৃত্যু স্ত্রীর ভরন-পোষন, মান-ইজ্জতসহ যাবতীয় দায়িত্ব পালন স্বামীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সব ধর্মেই বহু বিয়ের উদাহরণ দেখা যায়। ইসলামই বিয়ের সর্ব্বোচ্চ সংখ্যাকে সীমিত করে দিয়েছে, অন্য কোন ধর্ম তা করেনি।
পুরো বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করার জন্য নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গী ঠিক করা জরুরি। আমেরিকা এবং ইউরোপের যে সব দেশে লিভ টুগেদার বা বয়ফেন্ড্র/গালফ্রেন্ডের সংষ্কৃতি প্রচলিত আছে, সে সব দেশে বিয়ের আগে একটি ছেলে বা মেয়ে গড়ে ৮ জনের সাথে যৌন সম্পর্কে মিলিত হয়। এটাকে আপনি কী বলবেন? সেখানকার সমাজ এটা মেনে নিয়েছে; কিন্তু ইসলামে এটা ব্যাভিচার এবং এর শাস্তি মৃত্যুদন্ড। কেউ যদি এই কালচারকে সমর্থন করেন এবং পবিত্র কোরআনের একাধিক বিয়ের অনুমোদনকে অপছন্দ করেন তার সাথে সম্ভবত আলোচনা করে লাভ নেই। কারণ তিনি ভিন্ন মানসিকতাকে ধারণ করছেন। ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা নারীকে শিক্ষা, আয়, নেতৃত্ব ইত্যাদি সকল সামাজিক অধিকার দিয়েছে এবং নারীর সম্মানকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখন ইসলামে নারীর সম্মান বলতে যা বোঝানো হয়েছে, কেউ যদি সেটাকে সমর্থন না করেন, তাহলে তিনি নারীর সম্মান রক্ষায় ইসলামী নিয়ম-কানুন সমর্থন করবেন না, এটাই স্বাভাবিক। ? যারা বিয়ে-বহির্ভূত যৌন সম্পর্ককে পছন্দ করেন, নগ্নতাকে খারাপ মনে করেন না, নারীদেরকে ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে গণ্য করতে দ্বিধা করেন না বরং যারা এসব নিয়মের সুবিধা ভোগ করতে আগ্রহী তাদের জন্য নারীর সম্মান রক্ষায় ইসলামী নিয়ম-কানুন সমর্থন করা কঠিন হয়ে পড়বে এবং তা নিয়ে মুসলমানদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। মহান আল্লাহতায়ালা সবাইকে ভাল রাখুন।
১২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×