বিড়ালের অবসন্ন শেষ বিচরণটুকুও
কানে এসে ধরা দেয় পেরেকের মত।
এই জাতিকে একটি কবিতা উপহার দিতে যাচ্ছি।;
আমি জানি, কোনোভাবেই এই কবিতা জাতিকে
আলোড়িত করবে না, এই জাতির নিষ্ঠুর আজন্মের
ইতিহাসকে কোনোভাবেই নাড়িয়ে দেবে না
-এই কবিতা।
তবুও
এই কবিতাটি আমি লিখে রেখে যাচ্ছি
আগামীর নিষ্পাপ শিশুরা, যাদের কণ্ঠে
ভোর না হতেই বেজে উঠবে ভোর হবার গান,
যেই শিশুরা শিশির সিক্ত ঘাসের উপর মমতাময়
পিতার হাত ধরে হেঁটে যাবে মৃদু পায়ে,
যাদেরকে ঘিরে চিরায়ত পৃথিবী সাজাবার স্বপ্ন
রচিত হবে নতুন করে, তাদেরকে উদ্দেশ্য করেই
লিখে রেখে যাচ্ছি নতুন এক গল্প।
দু'শ বছর যখন সূর্য অস্তমিত হয়নি
এ জাতি তখন স্বাধীনতার জন্য চিৎকার করেছে,
প্রাণের ভাষা যখন বলি দিতে বলেছিল
দানবের মত বজ্রকণ্ঠে বাংলায় তখন
জন্মেছিল- একুশের গল্প।
নয় মাস যখন নিষ্ঠুর খেলায় মেতে উঠেছিল
এক দল জানোয়ার; রক্ত, জীবন আর সম্ভ্রম ছিল
যাদের খেলার উপকরণ মাত্র, বজ্রকণ্ঠে নয়,
অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মত এই জাতি তখন রক্ত দিয়েই
রক্ত কেনার নতুন গল্প রচনা করেছিল।
এই গল্পের পাওয়া ছিল একটাই,
কিন্তু চাওয়া ছিল অনেক।
ধর্ষিতা বোনের শাড়ি দিয়ে পেয়েছিলাম
রক্তাক্ত জাতির পতাকা। অজস্র মাকে বলি
দিয়ে পেয়েছিলাম একটি মাত্র মা।
আমাদের মা টা না বড় অবুঝ!
এতটুকু শিশুকে লালন করতে করতে একজন
মা যেমন করে শিশু হয়ে যান, আমাদের
মা টাও তাই।
আমাদের মা শুধু হাসবে,
বসন্তে কোকিল হয়ে গাইবে আর
বর্ষায় খুশির জোয়ারে বইবে;
এমনটাই কথা ছিল, এমনটাই চাওয়া ছিল।
৩৭টি বছর-
গোধূলীর ধূপছায়ায় মুক্ত বিহঙ্গটি ঠিক
আগের মতই উড়ে যায়, পিঁপিলিকার দল
খাদ্য সংগ্রহ করে রেখেছে বরাবরের মতই,
আমি স্বাধীন, আমি মুক্ত বলে চিৎকার
করতে করতে আজও পূর্ব দিকে সূর্য মামা
খিলখিল করে হেসে উঠেছে, কিন্তু আমরা.....
আমাদের জন্য একটা নতুন ভোরের স্বপ্ন ছিল।
হ্যালো মাইক্রোফোন টেস্টিং ওয়ান, টু, থ্রি করে করে
লক্ষ লক্ষ উন্মক্ত অধীর জনতার মাঝে যেই
ব্যক্তিটি নতুন ভোরের স্বপ্ন প্রতিনিয়ত দেখিয়ে চলেছে,
স্বাধীনতা অর্জন অপেক্ষা রক্ষা করা কঠিন বলে
প্রতিনিয়ত যারা আশার জাল বুনে যাচ্ছে
তারা আমাদের নেতা, আমাদের দিকপাল।
"কথা দিচ্ছি, তোমাদের শিক্ষিত করবো,
কথা দিলাম মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করবো,
তোমাদের নিয়ে বিশ্ব ভ্রমণে যাবো আর মাথা
উঁচু করে বলবো- আমরা বাঙ্গালী।"
মুখস্ত করে অথবা স্ক্রিপ্ট দেখে প্রতিনিয়ত
যারা এই কথাগুলো বলে চলেছে দ্বিধাহীন চিত্তে,
তারা আমাদের পাঞ্জেরী!
অনেক স্বপ্ন বুনেছি,
আজ ৩৭টি বছর-
স্বপ্নের জাল বুনতে বুনতে জাতি আজ ক্লান্ত, অবিশ্রান্ত;
অপেক্ষার প্রহর পুনঃ পুনঃবার নিঃশেষ হয়ে যায়,
হতাশার বুকে যেই আশা ফিরে ফিরে আলো
দেখিয়ে যাচ্ছিল, তাও ফুরিয়ে যায়, কিন্তু স্বপ্ন
দেখানোর এই গল্প আর শেষ হয় না!
আজন্ম আমরা যেই স্বপ্ন দেখেছি,
আমৃত্যু আমরা সেই স্বপ্নই লালন করবো,
স্বপ্নের ঘরে আশা নামক নিছক মরীচিকাটি
বন্দি থাকতে থাকতে একসময় দুমড়ে-মুচড়ে
যাবে, তবুও ফুরোবে না আশার বাণী।
সব শেষ হয়ে যাবে,
দূর থেকে তবুও শোনা যাবে বজ্রকণ্ঠ বাণী,
কথা দিচ্ছি...
আর একটু...
জয়, আমাদেরই হবে।
প্রথম প্রকাশঃ বিবর্তন বাংলা
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



