আকাশের আজকাল মন মনে হয় খুব একটা ভালো নেই। আজকাল তো রোদের হাসি নেই তেমন একটা। প্রায়ই কাঁদো কাঁদো মুখ করে থাকে। আমার অবশ্য খারাপ লাগেনা। নতুন বাসাটা তের তলার উপরে। বিশাল খোলা জানালায় বসে আকাশের কান্না দেখতে খারাপ লাগেনা।
বৃষ্টির কথা বলতেই মনে পরে গেলো আগের বাসার কথা, যেখানে বিশাল বারান্দা ছিল। বৃষ্টি হলেই ভেজা যেতো। এখন অনেক উঁচুতে আকাশের কাছে থাকলেও বৃষ্টি তে ভেজার স্বাদ নেয়া যায় না। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে রাতের বেলা ঝুম বরষায় প্রিয় মানুষকে সাথে নিয়ে ভিজতে। বলতে ইচ্ছে হয় “কদম গুচ্ছ খোঁপায় জড়ায়ে নিয়ে...জল ভরা মাঠে নাচিবো তোমায় নিয়ে।।“
কদম ফুল আমার খুব পছন্দের ফুল। আগে বরষা এলেই আম্মু কোন না কোন জায়গা থেকে ঠিক আমার জন্য কদম ফুল জোগাড় করে আনতো। গুলশান লেকের পারে বেশ কিছু কদম গাছ আছে যেগুলোতে ফুল ফুটলে খুব সুন্দর লাগে। একসময় ইচ্ছে ছিল, এখনো আছে কোন একদিন খোলা মাঠে ঝুম বৃষ্টিতে ভিজবো অথবা রিকশায় বসে বৃষ্টির স্বাদ নিবো প্রিয় মানুষকে সাথে নিয়ে।
আকাশ কালো করে যখন মেঘ থেকে বৃষ্টি নামে কেন যেন কাজে কর্মে মন লাগে না। আলসেমি ভর করে। আয়েশ করে রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনে জানালায় বসে বৃষ্টি দেখতে ইচ্ছে করে। কখনোবা কাঁথা মুড়ি দিয়ে একটা আরামের ঘুম দিতে মন চায়।
কাল রাতে ঘুম ভেঙ্গে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতে মনে হল, অনেকদিন মন ভরে জোছনা দেখিনা। মাঝরাতে বারান্দায় বসে চাঁদ দেখিনা। কত রাত ছিল মাঝরাতে একলা বসে মন ভরে জোছনা দেখেছি। চাঁদের আলোতে গোসল করেছি। আকাশে যখন ভরা পূর্ণিমা থাকে তখন এক অদ্ভুত মায়া তৈরি হয়। চারপাশে মনে হয় মায়ার খেলা। এ বছর জানুয়ারি তে যখন সুন্দরবন গিয়েছিলাম বনের ভেতর অদ্ভুত জোছনা দেখেছিলাম। জোছনার আলোয় যেন ভেসে যাচ্ছিলো চারপাশ। কি যে সুন্দর ছিল। আবার যাবো কোন একসময়। যেতে তো হবেই। জোছনা যে হাতছানি দিয়ে ডাকে আমাকে।
জোছনা আর বৃষ্টি দুটোই উপভোগ করার জন্য, দেখার জন্য নয়। শুধু দেখার জন্য হলে কেউ আনন্দ নিতে পারবে না। উপভোগ করলেই বুঝতে পারবে এমন সুন্দর জিনিস আর হয় না। এখন আমার ঘরে বিশাল জানালা আছে, খোলা আকাশ ও আছে। কিন্তু আমার খোলা আকাশে চাঁদ দেখা যায় না।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০১৩ বিকাল ৩:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


