somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

(কিছু প্রশ্নের উত্তর চাই)যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া // শিবিরের সবাই কি জামায়াতের চেলা?

৩১ শে জুলাই, ২০১০ বিকাল ৩:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে, এই কারনে দলের ভিতর অবশ্যই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শিবিরের লোকজন তাদের নেতাদের নিয়ে শঙ্কিত, তারা হয়তো অপেক্ষায় আছে উপর থেকে হুকুম আসার জন্য। তারপর হয়তো দেশে আরেকটি অধ্যায়ের সূচনা হবে, হয়তো অনেক রক্ত ঝরবে এই বাংলা বুকে। তাই আমাদের খুবই সাবধান থাকতে হবে।
যারা আজ শিবির ক্যাডার, তারা কি এমনি এমনি এই রাজাকারদের চেলা হওয়ার জন্য নিজেদের সমর্পন করেছে। কখনই না, তাহলে?
যারা আজ ছাত্রলীগ, ছাত্রদল বা ছাত্র শিবির করে তাদের জন্মই হয়েছে যুদ্ধের পরে, অথচ তারা আজ ভিন্ন ভিন্ন আদর্শে বিশ্বাসী। প্রথম দুটি দল আদর্শের ধার ধারে না বললেই চলে। বর্তমান প্রধান মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বার বার হুশিয়ার উচ্চারণ করলেও কোন কাজ হচ্ছেনা, ছাত্রলীগ তাদের অপকর্ম করেই ‍যাচ্ছে, ছাত্রদলও তাই করতো। এখন আসি ছাত্রশিবিরের কথায়, আপনারা কি বলতে পারবেন তাদের আসল আদর্শের জায়গাটা কোথায়? আমি যেটা বুঝতে পারি, জামায়াতের আদর্শই তাদের আদর্শ। ইসলামকে পুজি করে রাষ্ট্রযন্ত্র কব্জা করা। তাদের প্রস্তুতিটা দেখুন,

ব্যপকহারে মান সম্পন্ন কোচিং সেন্টার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরী করা। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে তাদের মেধাবী অনুসারী সৃষ্টি করতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। পাশাপাশি তাদের গোত্রের লোকদের কর্সংস্থান সৃষ্টি করছে এবং অর্নৈতিক মুক্তি লাভ করছে।

রাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ সেক্টর যেমন-সেনাবাহিনী, প্রশাসন, স্বাস্থ্য সেবা, ব্যংকিং খাত, শিক্ষা খাত প্রভৃতিতে তাদের অনুসারীদের প্রবেশ ঘটানো হয়েছে এবং হচ্ছে, যাতে কোন এক ভবিষ্যতে রাষ্ট্র যন্ত্র কব্জা করতে অসুবিধা না হয়। জামায়াত ভালো করেই জানে, জনগনের ভোটে তার কোন দিনই ক্ষমতায় যেতে পারবেন।

শিবিরের পুরাতন ছাত্ররা কিভাবে নতুন সদস্য সংগ্রহ করে সেটা নিশ্চয় অনেকেই জানেন। আজকে আমার মেধাবী প্রতিবেশী যে ভাইটি (যে হয়তো কিছুটা অস্বচ্ছলও বটে )কোন মেডিকেলে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্র জন্য গেল তাকে হয়তো তাদের মুরগী বানিয়ে ফেলল। মুরগী ধরার কৌশলটাও চমৎকার, প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে খোজ খবর নেওয়া, থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া, লেখাপড়ায় সাহায্য করা ইত্যাদি। তাই ছেলেটির ভিতর স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা কৃতজ্ঞতা বোধ জাগে। ব্যাস্ মিশনের প্রথম ধাপ সাকসেসফুল। তারপর হয় মস্তিস্ক ধোলাই পর্ব। যে মেধাবী ভাইটিকে নিয়ে গর্ব করা যেতো, সে হয়ে উঠে তখন শিবির ক্যাডার, রাজাকারদের কান্ডারী, নেতাদের একটি হুকুম তালিম করার জন্য ব্যকুল হয়ে উঠে।
একটু সতর্ক হলেই কিন্তু আমরা আমাদের ভাই, আপনজন বা প্রতিবেশীকে শিয়ালের ক্ষপ্পর থেকে কিছু মানুষকে রক্ষা করতে পারি, যাদেরকে তারা মুরগী ভাবে। এইতো সামনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভতি প্রক্রিয়া শুরু হবে, দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে আপনার ভূমিকা কতটুকু হওয়া উচিৎ ভেবে দেখবেন।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে কি পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে, সেটা আমি জানিনা। তবে সতর্ক থাকতে হবে দেশের প্রতিটি মানুষকে। যাদের হাতে মানুষের রক্ত লেগে আছে, তাদের ষরযন্ত্র থেমে নেই।
আরেকটি কথা, এদেশে জন্মে ছাত্রশিবির কেন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির হাতিয়ারে পরিনত হয়ে মানুষের ভালবাসা স্নেহ, শ্রদ্ধা হারিয়ে অপমানিত হয়। তাদের নিশ্চয় এগুলো ভাল লাগার কথা নয়। ভুল করলেই যে তার প্রায়শ্চিত্য করে দেশপ্রেমিক মানুষ হওয়া যায় না সেটা আমি বিশ্বাস করিনা। জন্মই হয়েছে যেখানে যুদ্ধের পর, সেখানে কিভাবে তারা এদেশের হাজারো মা বোনের সম্ভ্রম বিনাশকারী, লাখো মানুষের হত্যাকারীদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয়।
আমি জানি, এসব কথা অনেকেরই ভালো লাগবেনা। তবে এটাও আমি বিশ্বাস করিনা যে ঐসকল মেধাবীদের সবাই জামায়াতের চেলা, তাই বেরিয়ে এসে মুক্ত হাওয়ায় নিঃশ্বাস নিলে অনেক মানুষ হয়তো আপন করে নিবে।
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×