মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা,
আমি মানুষ অতি ক্ষুদ্র, ক্ষমতাও তাই। আমরা লেখনীতে ক্ষুরধার নেই। আমার লেখায় ইতিহাস বদলে যায় না। কারো মুখোশ উন্মোচিত হয় না। পত্রিকায় শুধু মাত্র একবার আমার লেখা ছাপা হয়েছে। আমার যুক্তি বড় দুর্বল। ভাষার মাধুর্য্য অনুপস্থিত। সাহস বড়ই কম। আর তাই পত্রিকাতে লেখা না পাঠিয়ে ব্লগের মাধ্যমে একটি আবেদন জানাচ্ছি।
বড় কষ্টের, অনেক ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত আমাদের মহান স্বাধিনতা। লক্ষ প্রানের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের লাল-সবুজের পতাকা। বড় আপন এ দেশ।
প্রতিটি ভালোর বিপরিতে খারাপ থাকে। আমাদের স্বাধিনতা যুদ্ধের বিপক্ষেও কিছু মানুষ নামক নরপশু ছিল যারা শুধু স্বাধিনতার বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হয়নি, নিজ দেশে বসে নিজ ভাইয়ের বুকে ছুরি চালিয়েছে। নিজের মা বোনের ইজ্জত লুটেছে।
আমরা এমনই এক হতভাগা জাতি যারা নিজেদের স্বাধিনতার স্বপ্নদ্রষ্টাকে হত্যা করেছি, ঘোষককে হত্যা করেছি।
আমরা নিজেদের দলকে বড় করতে গিয়ে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে কুন্ঠাবোধ করি না। আমরা মুজিবকে বড় করতে গিয়ে জিয়াকে অপমান করি আবার জিয়াকে বড় করতে গিয়ে মুজিবকে অপমান করি। আমরা ভুলে যাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়কের কথা।
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা,
স্বাধিনতা পরবর্তি রাজনৈতিক অধ:পতনের কথা আজ আমরা সবাই জানি। বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের দুর্নীতি বিরোধী অভিযান কিছুটা হলেও আমাদের আশার আলো দেখিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে অপরাধী যেই হোক সাজা তাকে পেতে হবে। এখানে দল বা ব্যক্তি মুখ্য নয়।
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা,
রাজকার ইস্যূটি আমাদের জন্য এক কলংকজনক অধ্যায়। কিন্তু বিগত ৩ যুগ ধরে তা ঝুলে আছে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে। আমাদের রাজনৈতিক দৈন্যতার কারনে স্বাধিনতার পরবর্তী কোন সরকার তাদের বিচারে সামান্যতম ভুমিকাও রাখেনি। এমনকি ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে ক্ষমতার মসনদে বসার জন্য তারা এইসব নরপশুদের সাথে হাত মিলাতে কুন্ঠাবোধ করেনি। এবং আমরাও দলীয় লেজুড়বৃত্তিতে এতই মগ্ন যে তাদের এই কাজে প্রতিবাদ পর্যন্ত করি না।
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা,
স্বাধিনতার পরে এই প্রথম রাজনৈতিক দুর্বিত্তরা বিচারের সম্মুখিন হয়েছে। যা দেখে আমার মনে হয়েছে রাজাকারদের বিচারের এটাই উপযুক্ত সময়। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারনে এবং ক্ষমতায় যাবার ঘুটি হিসেবে যে ইস্যুটি এতদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল তার পরিসমাপ্তি ঘটার সময় এসে গেছে। আমি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে রাজাকারদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে "মুক্তিযুদ্ধ এবং রাজাকার" এই দুই ইস্যু নিয়ে রাজনীতিবিদদের ব্যবসা বন্ধের দাবী জানাচ্ছি। আমি চাই রাজাকারদের বিচারের মাধ্যমে স্বাধিনতা যুদ্ধের আত্নত্যাগিদের ত্যাগ সফল হোক এবং রাজনীতিবিদদের ব্যবসা বন্ধ হোক।
বিনীত
মদন
বাঁধ ভাঙার আওয়াজ
সামহোয়্যারইনব্লগ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


