somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৃথিবীতে সবচেয়ে ভারী বোঝা

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(যে যখনই আমাকে বলেছে আপনি কেমন আছেন, আমি বলেছি আলহামদুলিল্লাহ আমি ভাল আছি। বাস্তবিকই আমি কখনই খারাপ থাকি না। পৃথিবীর কোন কষ্টই কখনও আমার ভাল থাকার অন্তরায় হয়ে দাড়ায়নি। শুধু একবার...)

বছর দেড়েক আগের কথা, আমার এক ডাক্তার বন্ধু (ডা: মহসিন) একদিন ফোনে বলে - ‘দাদা বাবা হবার অনুভুতি কেমন জানিস? আমি বাবা হয়েছি।’। বুঝলাম তার সন্তান হয়েছে। তাকে অভিনন্দন জানালাম।

আমার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা ছিলো এবং তার তারিখ ছিলো ১৭ই এপ্রিল (২০০৯)। সে জানুয়ারী থেকেই তার মায়ের বাড়ী রাজশাহীতে অবস্থান করছিলো। ১৫ই এপ্রিল আমি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে রাজশাহী যাই এবং হাসপাতালের সাথে কথা হয় ১৬ই এপিল দুপুরে ভর্তির। ১৬ই এপ্রিল দুপুরে রাজশাহী জমজম হসপিটালে ভর্তি করাই। ভর্তির পর থেকেই সে বলছিল যে তার একটু একটু ব্যথা হচ্ছে। কর্তব্যরত মহিলা ডাক্তার স্ত্রীকে পরীক্ষা করে আমাকে জানান তার এখুনি সিজার করতে হবে। সাথে সাথে যে ডা: ডটি ম্যাডাম এবং আমার স্ত্রীর ডাক্তার বান্ধবীদের খবর দেয়া হলো। আমার স্ত্রীকে যখন অপারেশন থিয়েটার এ নেয়া হলো তখন হাসপাতালে শুধু আমি একা। বাসা থেকে তখনও কেউ এসে পৌছাতে পারে নাই। অপারেশন শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে থেকে আমার বাবা, শশুর সহ অনেকেই এসে পড়লেন। বিকেল ৫টায় আমি জানতে পেলাম আমি বাবা হয়েছি। মা এবং সন্তান সুস্থ্য আছে। কিছুক্ষন পরেই মা ও ছেলেকে কেবিনে দেয়া হলো। কেবিন ভর্তি লোকজন। সবাইকে মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হলো। রাতে আমার স্ত্রীর-সন্তানের সাথে কেবিনে থেকে গেলাম। তখন রাজশাহীতে প্রচন্ড গরম। সারারাত জেগে দুজনকে পাহারা দিলাম। পরেরদিন দুপুরে একটা সমস্যা দেখা দিলো- ছেলে পায়খানা করছে না। আমরা যে হাসপাতালে ছিলাম সেখানে শিশু বিভাগ না থাকায় ছেলেকে সেদিন রাতে রাজশাহী মেডকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করতে হলো এবং সে রাতেই সে পায়খানা করে। পরেরদিন তাকে বাড়ীতে(ছেলের নানুর বাসায়) নিয়ে আসা হলো। তার দুইদিন পরে আমি ঢাকায় চলি আসি।

পুর্বেই বলেছি তখন রাজশাহীতে প্রচন্ড গরম এবং প্রচন্ড মশা। একেকটি মশা মাছির সমান এবং যেখানে হুল ফোটায় সেখানে জ্বলতে থাকে। রাতে কয়েকবার বিদ্যুত চলে যায়। দুর্বিসহ জীবন। ঢাকায় তখন বিদ্যুত গেলেও রাজশাহীর মতো নয় এবং ঢাকায় আমি যে বাসায় থাকি সেটা বেশ ঠান্ডা। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম তাদেরকে ঢাকায় নিয়ে চলে আসবো। সেই মোতাবেক ৩০শে এপ্রিল রাজশাহী যাই। গিয়ে দেখি ছেলেকে যেখানে যেখানে মশা কামড়েছে সেখানে সেখানে বড় ফোড়ার মতো হয়ে গিয়েছে। যদিও মশারী ছিলো কিন্তু তাতেও রেহাই হয় নাই। ১লা মে ছেলেকে আমাদের বাড়ীতে(ছেলের দাদা বাড়ী) নিয়ে যাই সেখানে তার আকিকা দেয়া হয় এবং নাম রাখা হয় “লাবিব হাসান”। ২রা মে আমরা আবার রাজশাহীতে চলে আসি। ৪ঠা মে সিল্কসিটিতে করে ঢাকা আসি। ছেলের যেন কষ্ট না হয় এই জন্য ট্রেনে ৪ সিটের একটি কামরা ভাড়া করে নিয়েছিলাম।

৬ই মে আমার স্ত্রী জানালো ছেলে একটু একটু পাতলা পায়খানা করছে। আমি শেওড়া পাড়ায় থাকতাম। সেখানে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: ইমনুল ইসলাম ইমন স্যার বসতেন। আমার স্ত্রী মিরপুর-১০ এ গ্যালাক্সী হসপিটালে কর্মসুত্রে ইমন স্যারের সাথা পরিচিত। তাই তাকে দেখানো হলো। তিনি জানালেন ভয়ের কিছু নাই ছোট বাচ্চারা অনেক সময়ই এমন পায়খানা করে। ১১ তারিখে পায়খানার পরিমান অনেক বেড়ে গেল। আমরা আবার স্যারের কাছে গেলাম। স্যার বললেন বাচ্চার অনেক পানি লস হয়েছে, কাজেই একটি স্যালাইন দিলেই আসা করা যায় সব ঠিক হবে। সেইদিনই আমরা মিরপুর-১০ এ গ্যালাক্সি হসপিটাল এ ভর্তি হলাম। সেখানে ৪দিন থাকতে হলো। পায়খানা কমে আসায় স্যার বললেন ইনশাআল্লাহ ভালো হয়ে যাবে। এখন বাসায় যেতে পারেন। আমরা ১৫ই মে বাসাতে চলে আসলাম। ১৬ই মে বিকেলে তার অবস্থা আবার খারাপ হতে লাগলো এবং বিকেলের মধ্যে শুধু পানি বের হতে শুরু করলো, এবং সন্তান নিস্তেজ হয়ে গেল। আমরা ইমন স্যারের কাছে গেলে তিনি ডা: এম আর খান এর কাছে যেতে বললেন। আমরা জানতে পেলাম উনি নাকি মিরপুর-২ এর শিশু হসপিটাল এবং ধানমন্ডিতে বসেন। মিরপুর-২ বাড়ীর কাছে হওয়াতে আমরা সেখানেই ভর্তি হলাম। সেখানে ডা: ফজলুল হক নাজির এর তত্বাবধানে ছিলাম। সেখানে তিনি প্রতিদিন দুপুরে আসতেন একটি করে টেষ্ট ধরিয়ে দিয়ে চলে যেতেন। প্রতিটি টেষ্ট করাতে হতো আইসিডিডিআর,বি থেকে। এভাবে ৪ দিন নষ্ট হলো কোনো চিকিতসা ছাড়া। আর এই চারদিন ননস্টপ স্যালাইন চলেছে। আমরা হতাশ হয়ে ২০ই মে ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভর্তি হলাম। চারতলার কেবিনে ছিলাম। ভর্তি ছিলাম ডা: ফরিদ স্যারের আন্ডারে। কিন্তু তিনি ঐ মুহুর্তে দেশে না থাকায় ডা: জাহাঙ্গীর আমার বাচ্চাকে দেখতেন। এখানে এসেও প্রতিদিন অসংখ্য টেস্ট এর সম্মুখিন হলাম। আমার স্ত্রীর পরিচিত এক ভাবী ডা: তামান্না সেখানে কর্মরত থাকায় এবং তার আপ্রান সহযোগিতা আমাদের অনেক কষ্টই কমে গিয়েছিল। বাচ্চার “বেড ডক্টর” ডা: শারমিন এবং রেজিষ্টার ডা: সাগরের সহযোগিতা আমাদের সারা জীবন মনে থাকবে।

ডা: শারমিন একদিন একদিন ডা: আজাদ স্যারকে ধরে নিয়ে আসলেন। এরপর থেকে মুলতই ডা: আজাদ স্যারই বাচ্চাকে দেখতেন। চতুর্থতলার সংস্কার কাজের জন্য কেবিন ছেড়ে আমাদের ছয়তলার ৯নং কেবিনে চলে যেতে হয়। ডা: আজাদ আমাদেরকে একটি দুধ সংগ্রহ করতে বলেন। প্রেজিষ্টিমিল অথবা প্রসবি। ঢাকার কোথাও এ দুধ পেলাম না। এরই মধ্যে হঠাত একদিন ডায়রিয়ার পাশপাশি বাচ্চা কালো পায়খানা করলো। এটা দেখে আমার স্ত্রী কেদে বললো বাচ্চা বাচবে না। যে পায়খানা হলো এটাকে নাকি মেলিনা বলে এবং মেলিনার রোগী নাকি সাধারনতই বাচে না। আমি ভয় পাই, কিন্তু আশা ছাড়িনা। আল্লাহ চাইলে সবই সম্ভব। মেলিনা শুরু হবার সাথে সাথে আজাদ স্যার বাচ্চার এনপিও(নাথিং পার ওরাল) অর্থাত মুখে খাবার বন্ধ করে দিলেন। শুধু স্যালাইন এবং এর মাধ্যমে ভিটামিন এবং অন্যান্য দরকারী ভিটামিন দেয়া হতে লাগলো। ডা: আজাদ স্যার আরকেটি দুধ সংগ্রহের জন্য বললেন। দুধটির নাম - নিউট্রামিজেন। এটিও ঢাকার কোথাও পেলাম না। মনের দু:খে আমেরিকাতে বসবাসরত কবির ভাইকে অনুরোধ করলাম দুধগুলোর যেকোন একটি সংগ্রহ করে দিতে। দিতে তার শত ব্যস্তার মাঝেও ৩টিন দুধ কুরিয়ার করে দিলেন।

এর মধ্যে প্রতি মুহুতেই স্যালাইন চলছে। অতটুকু মাসুম বাচ্চার শরীরে সমানে সুই ফুটিয়ে চলেছি চিকিতসার নামে। প্রতিনিয়তই টেষ্ট চলছে। পায়খানা, পেশাব, রক্ত। কেন টেষ্টই কোন অসুখ খুজে পাওয়া যায় না।

দুধ আসার পরে, বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো শুরু করা হলো। এর মধ্যে সে মোট ৫ দিন খাবার ছাড়া ছিলো। এই পাচদিনে তার কালো পায়খানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। কি যে বিভতস সময় গেছে। বাচ্চা সারা রাত খাবার জন্য কাদে। আমরা খাবার দিতে পারিনা। বাবা-মা বসে বসে কাদি আর সন্তানের কান্না দেখি। দুধ খাওয়ানের ২ দিন পর থেকে আল্লাহর রহমতে তার আবার পায়খানা স্বাভাবিক হতে শুরু করলো। এভাবে ৫দিন পর সব স্বাভাবিক হলে ২০ই জুন আমরা হাসপাতাল থেকে বাসায় যাই।

বাসাতে প্রথম কয়দিন ভালোই ছিলাম। ২৬শে জুন থেকে আবার একটু একটু করে পায়খানা শুরু হলো। ২৭শে জুন অবস্থা খুবই খারাপের দিকে যেতে লাগলো। ২৭শে জুন সন্ধ্যায় আবার শিশু হাসপাতালে ভর্তি হলাম। ২ দিন পরে আবার মেলিনা শুরু হলো। ২রা জুলাই অবস্থা খুবই অবনতি হলো, তার নিশ্বাস এবং হার্ট প্রায় বন্ধ হয়ে গেল। তাকে আইসিইউ তে নেয়া হলো। সম্ভবত ৪ই জুন তাকে কৃত্রিম শ্বাস দিয়ে রাখা হয় এবং পরবর্তি ৩০ ঘন্টা এভাবে থাকে। এরপর আস্তে আস্তে সে রিকোভার করতে থাকে। ১১ই জুলাই তাকে আইসিইউ থেকে আবার কেবিনে নেয়া হয় এবং ১৮ই জুলাই তাকে বাসায় নেয়া হয়। এরই মধ্যে আমার সন্তানের শরীর বলতে কিছু নেই। প্রতিটি শিরাতে স্যালাইনের সুই এর দাগ। শুধু কংকালের উপর চামড়ার প্রলেপ। সেই কংকাল বুকে নিয়েই আল্লাহর কাছে দোয়া করি আল্লাহ এর জীবনটুকু ভিক্ষা দাও।

২৪শে জুলাই আবার ডায়রিয়া শুরু হয় এবং ২৫শে জুলাই সে বমি শুরু করে। রাত দুইটার সময় তাকে কলেরা হাসপাতালে (আইসিডিডিআর, বি) ভর্তি করি। সেখানের কর্তবত্যরত ডাক্তার তাকে জরুরী ভিত্তিতে আইসিইউতে ভর্তি করান। সেখানে তাকে রাখা হয় এবং নাকে নলের সাহায্যে কাবার দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এখানে একটি টেষ্টে প্রথমবারের মতো ধরা পড়ে যে তার হাইপো-থাইরয়েড হয়েছে। সেই অনুযায়ী চিকিতসাও চলে ডায়রিয়ার পাশাপাশি। ১লা আগষ্ট মাঝরাতে আমার স্ত্রী কাদতে কাদতে ফোন দিলো বাচ্চার নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে, কয়েকদিন থাকা নাকের নলের কারনে তার নাকের ভেতরে হয়তো কেটে দিয়েছে। আমি বললাম তার না খুলে ফেলো যদি তাকে মুখে খাওয়ানো যায়। তার নাকের নল খুলে মুখে খাওয়ানো শুরু হলো। ডায়রিয়া কমে এলো কিন্তু নাক আস্তে আস্তে লাল হতে লাগলো।

সম্ভবত ৪ই জুলাই আমরা কলেরা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাই। আইসিইউ এর কয়েকজন নার্স যারা এক সময় স্কয়ার হসপিটালে ছিলেন তারা বললেন যদি সম্ভব হয় তবে বাচ্চাকে যেন ডা: জাবরুল স্যারকে একটু দেখাই। আমরা সোজা স্কয়ারে চলে গেলাম। সেখানে জাবরুল স্যার বাচ্চাকে দেখে খুবই ভয় পেলেন বললেন বাচ্চার যে এরিয়াতে ইনফেকশ এখান থেকে ব্রেইনএ ইনফেকশন হতে সময় লাগবে না। তিনি বললেন যদি আমরা তাকে অন্তত ৫ দিন সময় দেই তাহলে তিনি এই ইনফেকশনটি থামানোর চেষ্টা করবেন। পকেটে তখন মাত্র ২০০০ টাকা। বাসায় কোনো টাকা নেই। ইতমধ্যেই কয়েক লক্ষ টাকা শেষ হয়েছে। আমি তিন তলার সিড়ির কাছে এসে কাদছি। কি করবো কেথায় যাবো কার কাছে টাকা চাইবো কিছুই বুঝতে পারছি না। বাচ্চার বড় খালা আমাদের সাথেই ছিলেন। তিনি এসে বললেন ভাইয়া একটু ধৈর্য্য ধরেন ইনশাআল্লাহ সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এর পরে সবাই সবার ব্যাগ খুজে পেতে যা পেলাম সব জমা করলাম। হঠাত মনে হলো আমার ডাচ-বাংলা ব্যাংকে কিছু টাকা থাকতে পারে। দৌড়ে বুথে গিয়ে পেলাম ৭০০০ টাকার মতো। সব মিলিয়ে ১০০০০ টাকা নিয়ে ভর্তি হলাম স্কয়ারে। এরই মধ্যে বাচ্চার নাকের চারপাশ ফুলে লাল হয়ে গেছে, কিছু কিছু জায়গায় পুজ জমে গেছে কিছু জায়গা কালচে রং হয়ে গেছে। সেখানে ব্লাড কালচার করতে দেয়া হলো। এবং ৬ তারিখে রিপোর্টে তার রক্তে ইনফেকশ পাওয়া গেল। ডাক্তার জানালেন তাদের কাছে এই ইনফেকশনের ঔষধ আছে এবং দিলে ইনশাআল্লাহ ভালো হয়ে যাবে।

৭ই আগষ্ট শুক্রবার সকালে আমার স্ত্রী হঠাত দেখতে পেল বাচচার ডান পাশের বুক অনেক বসে গেছে। এক্সরে করে পাওয়া গেল তার ডান ফুসফুস অকেজো হয়ে গেছে।

এই প্রথম আমি বিশ্বাস করতে বাধ্য হলাম আমার সন্তান আর বাচবে না। এতোদিন এক মুহুর্তের জন্যও আমি আশা ছাড়িনি। কিন্তু তার শ্বাস নেবার কষ্ট দেখে আমি নিজেই আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম আল্লাহ তার মৃত্যু আমি মেনে নিবো কিন্তু তুমি আমাকে আমার বাচ্চার এই কষ্ট আর দেখিও না।

আমার স্ত্রীর কপালে ঘুম নেই সন্তান হবার পর থেকেই। স্কয়ারে আসার পরেতো আরও নেই। সেদিন সে কেবিনে সোফাতে ঘুমিয়েছে। আমি ছেলের পাশে শুয়ে আছি। একটু পর পর উঠে দেখি পায়খানা পেশাব করছে কিনা। এমনিতেই নাকের ইনফেকশনের কারনে তার নাকের ফুটো এতো সরু হয়ে গিয়েছিলো যে তার নিশ্বাষ নিতে খুবই কষ্ট হচ্ছিলো। মাঝরাতে একবার গায়ে হাত দিয়ে দেখি ছেলে গা ঠান্ডা হয়ে আছে। যদিও সে কম্বলের মধ্যেই থাকতো। রুম হিটার দিয়ে তা গা গরম করে, কম্বলগুলো গরম করে আবার তাকে ঢেকে দিলাম। ভোর ছয়টার দিকে ঘুম ভেঙ্গে গেলে দেখি আমার বেডের চারিদেক ডাক্তার এবং নার্সে ভরা। তাড়াতাড়ি উঠে দেখি ছেলে শ্বাস নিচ্ছে অনিয়মিত। একদম নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে। স্ত্রী ডেকে তুলে আমি ফজরের নামাজ পড়লাম। স্ত্রী বাচ্চার চোখে দেখে জানালো সেই নির্মম সত্যের কথা। বাচ্চা মারা গেছে।

এই প্রথম বুঝলাম আমি কি হারালাম। এই প্রথম বুঝলাম কষ্ট কাকে বলে।

সকাল নয়টায় একটা ভাড়া করা মাইক্রোতে করে দেশের বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ২ টার দিকে আমাদের বাড়ী পৌছলাম। যে বাড়িতে ৪ মাস আগে ছেলেকএ বুকে নিয়ে ঢুকেছিলাম হাসি মুখে। বাবা-মায়ের হাতে তুলি দিয়েছলাম তাদের বংশের প্রদীপকে। সেই বাড়িতেই মৃত সন্তানের লাশ কোলে করে ঢুকলাম। তুলে দিলাম আমার মায়ের হাতে।

কতজনের মুখেই শুনেছি পৃথিবীতে সবচেয়ে ভারী বোঝা হলো পিতার কাধে সন্তানের লাশ। এখন বুঝি সেটা কতটাই ভারী।
১৫টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×