"কেউ যদি লাল কাঁচের ভিতর দিয়ে সাদা পদ্ম ফুলের দিকে তাকায় তবে সে একটি লাল পদ্ম ছাড়া আর কিছু দেখবে না। কিন' সেখানে আদৌ কোনো লাল পদ্ম নেই। সুতরাং সমস্যাটা মানুুষের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে। তারা ভুল দৃষ্টিভঙ্গি গঠন করে।” - এম, ডি, গারব্রিক।
বর্তমান সমস্যাটা কি আদৌ কোনো সমস্যা না-কি তা আমার ভুল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার ফল? এটা অধিকতর ভাল কিছু নয় তো?
আপনি জানেন সবকিছু নির্ভর করে আপনি কিভাবে কোনোকিছুকে গ্রহণ করছেন তার উপর। ... ... আপনি যা কিছু সমস্যার মুখোমুখি হন তার মূলে রয়েছে আপনি কিভাবে সবকিছুকে গ্রহণ করেন তার উপর। এটাই (দৃষ্টিভঙ্গি) আপনি যাকিছু করেন তাতে ইতি-নেতি পার্থক্য তৈরী করে। সবকিছুতে। শুনুন, যখন আমি বড় হয়ে উঠছিলাম এবং এমনকি আমার পরিণত বয়সেও আমি যেকোনো কিছু নিয়ে 'চিরসুখী’ হয়ে উঠতাম। অবশ্য সেগুলি কখনই বেশীদিন টিকত না। আমি সবসময় ভাবতাম যদি আমি ভিন্নধরনের সঙ্গ পেতাম .. মনে হত আমি কখনই সঠিক কথা উপস'াপন করতে পারছি না। আমি সবসময় চাইতাম পথের ধারের সবকিছুই। আমি অন্য কেউ হতে চাইতাম। আমি কখনই স্বসি- বোধ করতাম না। আপনি লক্ষ্য করেছেন কি এইমাত্র আমি যাকিছু উল্লেখ করলাম তা কোনোকিছুই বাস-ব কোনো বিষয় নয়। সেগুলি ছিল সবই আমার মাথার মধ্যে। কেবলই আবেগ। .. নিরেট আবেগ। চিন-ামাত্র। চিন-া কি কখনও বাস-ব হতে পারে? হ্যাঁ, তা আপনি এখন যে চেয়ারে বসে আছেন সেই চেয়ারের মতই বাস-ব। আমি নিজেও বিষয়টি বহুদিন যাবৎ বুঝতে পারি নি। এবং বেশীরভাগ মানুষই কবর পর্যন- চলে যায় কি চিন-া কিভাবে করে তা না জেনে বুঝেই। কিন' যখন আমি চিন-ার শক্তি সম্পর্কে শিক্ষা নিলাম আমার জীবনের সবকিছুই আমুল বদলে গেল। আমার সমস্যা আর সমস্যা থাকল না। তা হয়ে উঠল চ্যালেঞ্জ। আমি এসব সম্পর্কে আগেই জানতাম যেমনটি, আমি নিশ্চিত, আপনিও জানেন। কিন' অবশেষে যখন তা আমার মধ্যে স'ায়ী হয়ে গেল এবং আমি নিজেই আবিস্কার করলাম যে আমাদের চিন-া কিভাবে আমাদেরকে গড়ে তুলতে পারে আবার ভেঙ্গেও ফেলতে পারে, আমি তখন আর আগের মত থাকলাম না। তখন আমি যা-ই করতেছিলাম তাতেই উন্নতি করতে লাগলাম। আমি আশা করি এ শিক্ষা পেতে আমাকে যেসব কিছুর মধ্য দিয়ে আসতে হয়েছে চুড়ান- শিক্ষা পেতে আপনাকে তা করতে হবে না। আজকের কর্মময় দিন; এবং আমি আশা করি আজকের দিনটিই আপনার জন্য দিনবদলের দিন হোক.. আজকের এ কর্মময় দিন; আপনার পিঠের উপরের বিরাট বোঝাটি ক্ষুদ্র একটি বাদামের দানার মত হালকা হয়ে যাবে। যথাযথ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের ব্যাপারটিকে অত্যন- কমই গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। আপনি এখনই করতে পারেন এমন কিছু কাজের কথা বলা গেল, বাঁকীটা আজ কি আগামী কাল কি আপনার পরবর্তী সমস- দিনগুলির জন্য। যখনই মনে হবে আপনি কোনো সমস্যায় পড়েছেন আপনি সে সমস্যার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করুন। এটা কি আসলে কোনো সমস্যা না-কি তা একটি চ্যালেঞ্জ। সেরকম সময়ে (এবং সেরকম সময় প্রতিদিন হাজারবার আসবে) আপনার লক্ষ্য থাকবে এই প্রশ্নটি করা: এটা কি সেরকমই আর একটা চ্যালেঞ্জ নয় যা আমি প্রায়ই সম্মুখীন হতে থাকব? নিজেকে বিরতিহীনভাবে এ প্রশ্নটি করতেই থাকুন। 'বিরতিহীনভাবে’ বলেছি এজন্য যে, চ্যালেঞ্জ মাঝে মাঝে বিরতিহীন দ্রুততার সাথেই হাজির হয়ে থাকে। তাই নয় কি? বজ্র-ঝড়ের মত। আপনি বলবেন, 'তা তো বুঝলাম। কিন' ঐ লোকটি- আমার সমস্যা, আমার ছেলেপিলে- আমার সমস্যা, আমার বাড়ীওলা- আমার সমস্যা, চাকুরীতে আমার ওপরওলা- আমার সমস্যা। আমি এসব ব্যাপারে কিছুই করতে পারছি না! আমি আর পারছি না!’’ ঘুরে দাঁড়াও! আপনি কেবল তখনই পারবেন সবচে খারাপ অবস'াকে বদলে দিতে যদি শুধু নিজেকে বলেন, “ঘুরে দাঁড়াও”! সেগুলি হচ্ছে চ্যালেঞ্জ। সেগুলি আসলেই তাই। যদিও আপনি সেইভাবে চিন্তা করছেন না তাই বলে সেগুলি যে চ্যালেঞ্জ এই সত্যটি বদলে যায় না। সেগুলি হচ্ছে পরীক্ষা .. আপনার জন্য পাশ ফেলের পরীক্ষা। যদি আপনি পাশ করেন তবে আপনার উন্নতি হবে। যদি আপনি ফেল করেন তবে আপনি হতাশ হবেন এবং ঐ একই ঘটনা ঘটতে থাকবে। এ-ই হচ্ছে জীবন। এই সত্য, এই তথ্য, অস্বীকার করার উপায় নাই। এইভাবে দেখাটি যেন একটি পরিচ্ছন্ন ঘের কাঁচের ভিতর দিয়ে সবদিক থেকে দেখার মত। এভাবে আপনি সত্যটি দেখতে পারবেন। আপনার প্রতি এমন কিছু ঘটবে না যা আপনার বহন ক্ষমতার চেয়ে বেশী। আপনি যে কোনো কিছুই লাভ করতে পারবেন। যদি আপনি সত্যিকারের অনর্-দৃষ্টির উদাহরণ চান তবে ক্রিস্টোফার রিভ্ কে দেখুন। ইনি সুপারম্যানের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। এখন তিনি শরীরের একটি পেশীও নড়াতে পারেন না। তিনি দুইটি বই লিখেছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি মানুষকে এমন সব চ্যালেঞ্জ জয় করার ব্যাপারে আশাবাদী করেছেন যা তার নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া চ্যালেঞ্জের চেয়ে অনেকাংশেই সহজ। যদি আপনি একটি উদ্দেশ্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে চান, যদি সত্যিকারের বিপুল কোনো লক্ষ্যে পৌঁছতে চান তবে অবশ্যই আপনাকে আপনার পথের বাধাগুলিকে সঠিক নিরিখে দেখে নিতে হবে। সেগুলিকে দেখতে হবে উন্নতির সোপান হিসেবে। এবং আপনার সচেতনতা থাকতে হবে যে, যখনই আপনি কোনো কিছু নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে শুরু করবেন তখনই আপনাকে লক্ষ্যভেদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে- দু্রত। বাধাকে আপনি লাফ দিয়ে ডিঙ্গাতে পারবেন না। বাধা যদি ডিঙ্গাতেই হয় তবে গুঁড়ি মেরে এগিয়ে যান কিন' কব্জা করে ছাড়-ন.. এবং চালিয়ে যান। এইভাবে এগুনো ছাড়া সমস্যামুক্ত সুখাচ্ছন্ন জীবন লাভ করার চিন-া করা বাতুলতা মাত্র। আমাকে বিশ্বাস করুন। আমি জানি। আজকের জন্য সুখী হতে পছন্দ করুন। আগামীকালের জন্য ভাবনা ছেড়ে দিন। আগামীর জন্য প্রস'ত হোন কিন' ও নিয়ে মগ্ন হবেন না। কেবলমাত্র আজকের চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবেলা করুন এবং হাসুন। সবকিছু সবসময় আপনি যেভাবে চান সেভাবে ঘটবে না। প্রায়ই এমন সময় আসবে যখন মনে হবে কোনো কিছুই ঠিকমত চলছে না। সেগুলিকে স্বাভাবিক ভাবেই গ্রহণ করুন। তাহলেই যখন পরিসি'তি যখন বাগ মানতে চায় না তখন আপনি স্বচ্ছভাবে চিন-া করতে পারবেন এবং একমুহুর্ত সময়ও আকুল কান্নায় নষ্ট না করে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান- নিতে পারবেন। কারণ আপনার পরবতী সিদ্ধান-টিই হয়তবা চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করে তাকে বিজয়ে পরিণত করে দিতে পারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



