somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই সাঈদীরা এখনো এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করে চলেছে যা নানা কারণেই অালোর মুখ দেখে না।

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :






ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০১২, ২০ মাঘ ১৪১৮, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩


শিরোনাম:
হোম সারা দেশ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন স্ত্রী তাঁকে করা হয় ধর্মান্তরিত


ট্রাইব্যুনালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাক্ষী
ধর্ষণের শিকার হয়েছেন স্ত্রী তাঁকে করা হয় ধর্মান্তরিত

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ০২-০২-২০১২



মুক্তিযুদ্ধের সময়ে রাজাকারদের ধর্ষণের শিকার হয়েছেন স্ত্রী। তাঁকে জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। গঞ্জনার মুখে মুক্তিযুদ্ধ শেষে স্ত্রী ভারতে চলে গেছেন একমাত্র মেয়েকে নিয়ে। এরপর তাঁদের সঙ্গে আর দেখা হয়নি। আর বিয়েও করেননি।
এসব ঘটনা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ২৩তম সাক্ষী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গতকাল বুধবার তিনি জবানবন্দি দেন। অসুস্থ থাকায় তিনি এজলাসে রোগশয্যায় (সিকবেড) সাক্ষ্য দেন। এ সময় একজন চিকিৎসকও এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। গত মঙ্গলবার তিনি সাক্ষ্য শুরুর পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। তাঁর বাড়ি পিরোজপুরের হোগলাবুনিয়া গ্রামে।
বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। সাঈদী এ সময় আসামির কাঠগড়ায় বসা ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি রানা দাশগুপ্ত সাক্ষীর জবানবন্দি নেন।
জবানবন্দিতে ৮১ বছর বয়সী সাক্ষী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কিছুদিন পর দানেশ মোল্লা, সেকান্দার শিকদার, মোসলেম মাওলানা, আতাহার আলী, দেলোয়ার শিকদার পারেরহাটে শান্তি কমিটি গঠন করেন। তাঁরা রাজাকার বাহিনীও গঠন করেছিলেন। দেলোয়ার টুকটাক দোকানদারি করতেন, দোকানটি কোথায় ছিল, তা তাঁর (সাক্ষী) মনে নেই। আগে তিনি কখনো দেলোয়ারের সাঈদী নাম শোনেননি, এখন শুনছেন।
সাক্ষী বলেন, রাজাকাররা এক রাতে হোগলাবুনিয়া গ্রাম থেকে নয়জনকে ধরে নিয়ে যায়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তরণী শিকদার, বাণীকান্ত শিকদার, নির্মল শিকদার, হরলাল মালাকার, লালু হালদারের ছেলে, প্রকাশ শিকদার, তাঁর ছেলে নির্মল শিকদার ও শ্যালক। ওই নয়জনকে আর পাওয়া যায়নি। এ সময় সাক্ষী কাঁদতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন, ওই ঘটনার তিন-চার দিন পর বিকেল চারটার দিকে কয়েকজন লোক ও রাজাকাররা তাঁর বাড়িতে যায়। সে সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। বাড়ি ফিরলে স্ত্রী তাঁকে ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা জানান। স্ত্রী বলেন, ‘কারা এসেছিল জানি না, তবে যে তোমাকে মুসলমান বানিয়েছিল, সে এসেছিল।’ স্ত্রী তাঁকে পালাতে বলেন।
আবারও কান্নায় ভেঙে পড়েন সাক্ষী। পরে তিনি বলেন, ওই ঘটনার কয়েক দিন আগে দেলোয়ার শিকদার তাঁকে বলেছিলেন, ‘তোমরা মুসলমান হলে বাঁচবে।’ এরপর কৃষ্ণ সাহা, গণেশ ডাক্তার ও তাঁকে একদিন বাজারের মসজিদে নিয়ে মুসলমান করা হয়। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তাঁর নাম হয় আলী আশরাফ, কৃষ্ণ সাহার নাম হয় আলী আকবর। দুই-তিন দিন পর কৃষ্ণকে মেরে ফেলা হয়। ধর্মান্তরিত হওয়ার ঘটনা তিনি কাউকে বলেননি। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি নিজ ধর্মে ফিরে আসেন। গণেশ ভারতে চলে যান।
সাক্ষী আরও বলেন, তাঁর বাড়ির ওই ঘটনার চার-পাঁচ মাস পর অগ্রহায়ণ মাসে তাঁর স্ত্রীর একটি মেয়ে হয়। গ্রামের লোকজন স্ত্রীকে গঞ্জনা করত। তিনি শ্যালকের কাছে করণীয় জানতে চান। পরে শ্যালক তাঁর স্ত্রীকে মেয়েসহ ভারতে নিয়ে যান। এরপর গত ৪০ বছর তাঁদের সঙ্গে দেখা হয়নি। তিনি আর বিয়েও করেননি। এসব বলেও কাঁদতে থাকেন তিনি।
জবানবন্দি শেষ হলে সাক্ষীকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম ও মনজুর আহমেদ আনসারী। রাষ্ট্রপক্ষের আর কোনো সাক্ষী উপস্থিত না থাকায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম মুলতবি করা হয়।
(স্ত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ায় প্রথম আলোর নীতি অনুযায়ী সাক্ষীর নাম প্রকাশ করা হলো না)।


Nanak Kanti Sen
২০১২.০২.০২ ০৮:৫০ [ আপনার মন্তব্য বিবেচনার জন্য অপেক্ষমান এবং সকলের নিকট প্রদর্শিত নয় ]
সাঈদীর মত হাজারো সাঈদী অাজো এ ধরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে যা নানা কারণেই লোকচক্ষুর অাড়ালে থেকে যাচ্ছে।





















৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×