বহু বহু বছর আগের কথা । আমি নটরডেম কলেজে পড়ি । আমি তখন নেচার ষ্টাডি ক্লাবের সদস্য। মিজান স্যার ছিল ওইটার প্রধান। আমাগো নিয়া প্রায় সময় বোটানিক্যাল, চিড়িয়াখানা, বলধা গার্ডেন, রমনা, সোরোযার্দী সহ সব জায়গায় নিয়া যাইতো আর বিভিন্ন গাছের নাম ধাম বৈজ্ঞানিক নাম এইসব পরিচয় করাইয়া দিত।
তার কাছ থাইক্যাই অনেক গাছ চিনছি, অনেক প্রাণী চিনছি, শুনছি এই বিশাল বিশাল উদ্দ্যানের ইতিহাস। উনি কইতো আর আমি মুগ্ধ চোখে তার দিকে চাইয়া থাকতাম। আমার কলেজ জীবনে স্যার যতদিন বাইরে গেছে আমি মিস করি নাই।
যাই হোক একদিনের কথা। আগের দিন স্যারে কইয়া দিছে কালকে বোটানিক্যাল গার্ডেনে যামু তোমরা সকলে রেডি হইয়া আইসো। সকাল বেলায় রেডি হইয়া হাজির। সবাই মিল্ল্যা গেলাম বোটানিক্যাল গার্ডেনে। হঠাৎ স্যারে কয় ওই যে দেখ কাঠবিড়ালী স্যারের কথা মতো আমি চাই আর তো কিছু দেখতে পাই না। স্যারেরে জিগাই স্যার কই? সে যখন দেখাইলো আমি অবাক কারণ ছবি দেইখ্যা দেইখ্যা আমি মনে করছিলাম কাঠবিড়ালি মোটামুটি একটু বড় হইবো কিন্তু বাস্তবে যে অনেক ছোট তা জানতাম না।
একটুপর একটা গাছ দেইখ্যা স্যারের গিয়া কইলাম স্যার এই গাছটার নাম কি? স্যার কয় গিয়া দেখ গাছের গায়ে বৈজ্ঞানিক নাম সহ লেখা আছে। গেলাম গাছের কাছে গিয়া দেখি লেখা "নাছিমা + নঈম" ফিরা আইসা স্যারেরে কই স্যার লেখা তো দেখলাম "নাছিমা + নঈম" এখন গাছের নাম কি? স্যার কয় তোমাগো নিয়া হইছে এই সমস্যা যারেই গাছের ধারে পাঠাই সেই ফিরা আইসা কয় অমুক + অমুক।
হায় খোদা!! প্রেমিকদের হাত থেকে বৃক্ষ কে রক্ষা করো।
এখন দেখি এই কর্ম কেবল বাঙ্গালীরাই করে না বিশ্বের সব জায়গাতেই হয়।
কিছু ছবি দিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


