somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বনসাই - প্রকৃতির বিরুদ্ধে শিল্প

১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি অবাক হইয়া দেখি । চোখ জুরাইয়া যায়।

বনসাই এর পারিভাষিক অর্থ জীবন্ত ভাস্কর্য৷

বনসাই এর ইতিহাস বহু পুরানো ।ধারণা করা হয় প্রায় ২০০০ বৎসর পূর্বে চীনে এর শুরু হয় এবং পরবর্তীতে চীনের অন্যান্য অঞ্চল, জাপান, কোরিয়া ও ভিয়েতনামে বিস্তৃতি লাভ করে । বাংলাদেশেও এখন উন্নত মানের বনসাই কালচার চালু রয়েছে এখন এসব বিদেশেও যায় ৷

বনসাই বলতে বুঝায় বৃক্ষ জাতীয় গাছকে (ফলজ ও বনজ) তার আকৃতি ঠিক রেখে সেগুলোর নিজ নিজ বৈশিষ্ট্যসহ বিভিন্ন প্রকার টবে ধারণ করা৷ বনসাই চাষের মাধ্যমে অল্প পরিসরে প্রকৃতিকে উপলব্ধি করা যায়৷ এর মাধ্যমে আনন্দ খোজাই বনসাই কালচারের উদ্দেশ্য।

বিভিন্ন ধরনের বনসাই রয়েছে৷ ব্রুম, রুটওভার রক, ফরমাল, ইনফরমাল, রুট অ্যাক্সপোজ, ইনফরমাল আব্রাইট, টুইনট্রাংক, টৃপলট্রাংক, মাল্টিট্রাংক, ফরেস্ট, ডেপ্টউড, ল্যান্ডস্ক্যাপ, প্লানটিং, লিটারেটি ইত্যাদি৷

এসবের মধ্যে ব্রুম জাতীয় বনসাইগুলো অনেকটা ছাতার মতো দেখতে৷ রুটওভার রকগুলো সাধারণত টবে রাখা পাথরের ওপর বৃক্ষমূলের সুন্দর প্রকাশ৷ আর রুটগুলো (বৃক্ষমূল) যখন পাথরে আবৃত না হয়ে টবে রাখা মাটির ওপর ছড়িয়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে তখন সেটা হবে রুট অ্যাক্সপোজ জাতীয় বনসাই৷ফরমাল বনসাইয়ের ক্ষেত্রে ডালপালাগুলোর নিয়মিত শয্যাবিন্যাস দেখা যায়৷ যেটা ইনফরমাল বনসাইয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায় না৷ ডালপালাগুলো এলোমেলো হয়৷ ইনফরমাল আব্রাইট জাতীয় ইনফরমাল বনসাইয়ের মতো৷ তবে তা হেলানো ঝুলানো অবস্থায় থাকে৷
বৃক্ষের দুটি কাণ্ড বনসাইয়ের সৃষ্টি করলে টুইনট্রাংক, তিনটি কাণ্ড মিলে করলে টৃপলট্রাংক ও তিনের অধিক কাণ্ড হলে মাল্টিট্রাংক জাতীয় বনসাই হবে৷ বিভিন্ন প্রজাতির বনসাইকে মূলত তিনটি শেপ দেয়া হয়৷ এগুলো স্মল শেপ যা ১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়, মিডিয়াম শেপ যা ১০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার এবং লার্জ শেপ ২৫ থেকে ৪৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে৷

এটা একটি জটিল ও দীর্ঘ মেয়াদি প্রক্রিয়া আসুন দেখি কিভাবে বনসাই তৈরী করতে হয়।

প্রথমে গাছ নির্বাচন করুন এবং সেই সঙ্গে ঐ গাছের বৈশিষ্ট ও অন্যান্য বিষয় সমন্ধে পড়ে নিতে ভুলবেন না। কারণ এই জ্ঞান পরবর্তীতে আপনার বনসাই তৈরী তে রাখবে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা।

বনসাই তৈরী করতে লাগবে মাটি বা চীনা মাটির বিশেষ ধরনের পাত্র। এটার নীচের দিকে পানি নিস্কাশনের জন্য ছিদ্র থাকবে এবং কিনারা বরাবর ছিদ্র থাকবে গাছকে তার দিয়ে বেধে রাখার জন্য।

প্রথমে বিভিন্ন জাতের বনসাইয়ের জন্য আলাদাভাবে মাটি তৈরি করতে হয় ৷ মাটি তৈরির ক্ষেত্রে জৈব সারের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে৷ সব ক্ষেত্রেই দোআশ বা পলি মাটি ব্যবহার করা হয়৷

বর্ষা ঋতুর সময়েই বনসাই এর গাছ লাগানো উচিত৷ আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই গাছেরও পরিবর্তন দেখা যায়৷ ফুল-ফলের উত্পন্ন হয়৷ শীত ঋতুতে গাছের পাতা ঝরে যায়৷

যদি আপনি বীজ থেকে চারা উৎপন্ন করতে চান তাহলে মাটি প্রস্তুত করে তাতে বীজ বপন করে দিন। এবং কিছুদিন অপেক্ষা করুন । চারাটি একটু বড় না হওয়া পর্যন্ত।

যদি বীজ থেকে চারা না বানান তাহলে পছন্দের গাছের ছোট চারা জোগার করুন। এরপর মাটি তৈরী করে মাটির পাত্র পূর্ন করে তাতে চারা রোপন করুন।

এর পর চারাটিকে তামার তার দিয়ে পাত্রের কিনারার ছিদ্রের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে দিন। যাতে উপর দিকে চারার বৃদ্ধি না ঘটে । ঘরের আলো বাতাস যুক্ত যায়গায় রেখে দিন। এতে গাছের বৃদ্ধি রহিত হবে । ধীরে ধীরে তৈরী হবে আপনার বনসাই।

এর পর নিয়মিত চারাটিকে কাটিং, ছাটিং, পিঞ্চিং ও অন্যান্য পরিচর্যা করতে থাকুন।


মনে রাখবেন

বন সাই পরিচর্যার জন্য স্পেশাল যন্ত্রপাতি পাওয়া যায শুধুমাত্র সেই গুলিই ব্যবহার করুন।

বনসাই এর উচ্চতা হয় 3-৫ ফুট পর্যন্ত৷ গাছের উচ্চতা অনুযায়ী পটের ব্যবস্থা করতে হয়৷ ছোটো গাছের জন্য ছোটো টব আর বড় গাছের জন্য বড় টব নির্বাচন করা উচিত৷

গাছের খাদ্য হল কালো মাটি, বালি, ইটের চুর্ণ, সরষে বা নীমের খোল৷ প্রয়োজন মতো গাছকে খাদ্য দেওয়া হয়৷

গাছকে এমন এক শান্ত পরিবেশে রাখা উঅচিত যেখানে সচরাচর যাওয়া আসা করে না৷ অনাবশ্যক গাছকে ছোঁয়ার কোনও প্রয়োজন নেই এতে গাছের বৃদ্ধি করে যায়৷

পানি নিষ্কশনের জন্য সঠিক ব্যবস্থা রাখুন৷ শীতের সময়ে এক দিন অন্তর গাছে জল দিন৷


সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০১২ বিকাল ৫:৩৩
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×