ছোট একটা চাকরী করি। যা বেতন পাই তা দিয়ে দুটি সন্তান নিয়ে কোনো রকম জীবন চলে যায়। সেই চাকুরির তাগিদেই গতকাল ঢাকা থেকে বিএনপি মহাসচিবের নিউজ কাভার করতে গিয়েছিলাম লক্ষ্মীপুর। লক্ষ্মীপুরে এর আগে আমি আর কখনো যাইনি। তবে পত্র-পত্রিকার সুবাদে ৯৬ থেকে আবু তাহেরের নামটি বেশ পরিচিত। শুনেছি আবু তাহের ভয়ংকর মানুষ। তার ছেলেরা সন্ত্রাসী লালন করে। ৯৬ থেকে ২০১১ সবই ছিলো শোনা কথা। নুরুল ইসলাম হত্যাকান্ড। সেই মামলার আসামী তাহের পুত্র বিপ্লবকে ক্ষমা করে দেয়া নিয়ে বিতর্ক সবই জানা ছিলো। কিন্তু জানা ছিলো না গতকাল আমার উপর নির্মম নির্যাতন নেমে আসবে সেই তাহের বাহিনীর তরফ থেকে।
মূল কথাটা হলো আমি আমার ৪০ বছরের জীবনে কাউকে কখনো মারিনি। আমাকেও কেই মেরেছে বলে মনে পড়ে না। কিন্তু গতকাল তাহের বাহিনীর হাতে যে মার খেলাম তার পিছনে কোনো কারণ খুঁজে পাই না।
সোমবার ভোর ৫টায় ফজরের নামাজ পড়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে সাড়ে ৬টায় লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশে রওয়ানা করি। আমাদের সামনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ী।
আরো ছিলেন কয়েকজন এমপি, বিএনপি যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারা।
তারা যাচ্ছে তাদের রাজনৈতিক কাজে। আমরা যাচ্ছি আমাদের পেটের দায়ে করা চাকুরি বাঁচাতে। গন্তব্য একই হওয়ায় একই সঙ্গে চলা। এটাই হলো বড় অন্যায়।
লক্ষ্মীপুরে যা ঘটেছে তা ইতোমধ্যই গতকালের টিভি আর আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের গাড়িতে ৩জন সাংবাদিক আর ১০ নেতাকর্মীর সকলেই কিছু না কিছু মার খেয়েছে। তার মধ্যে আমিই মনে হয় বেশি মার খেয়েছি। কিন্তু কেনো। কি অপরাধে আমি মার খেলাম। আমিতো বিএনপির কর্মী না। আমি আওয়ামী লীগের কেউ না। কাল আমার অফিস থেকে বিএনপির নিউজ কাভারের জন্য পাঠিয়েছে। আজ আওয়ামী লীগের নিউজ কাভার করতে পাঠাতে পারে। তাই বলে বিএনপি নেতারা আমাদের পেটাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



