somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আর দেখা হবে না দীনেশ দা'র সঙ্গে

১০ ই জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরিচয় কত দিনের তা মনে নেই। তবে বছর তিনেকের কম হবে না। সাংবাদিক দীনেশ দা। চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে। আর কোনো দিনই তার সঙ্গে দেখা হবে না। কিন্তু তার নামটি মনে থাকবে যতদিন বেঁচে থাকবো।

সাংবাদিকতার সুবাদেই তার সঙ্গে পরিচয়। দীনেশ দা ইসলামী দল ও বামপন্থী দলগুলোর নিউজ কভার করতেন আমাদের সময় পত্রিকায়। আমি তখন আজকালের খবর পত্রিকায় জামায়াত ও বিএনপি বিট করতাম।
একই সঙ্গে জামায়াতের অনেক প্রোগ্রাম কভার করেছি। শান্ত সভাবের এই মানুষটি এত তারাতারি চলে যাবেন ভাবতেও পারিনি।

সব সময় ঠান্ডা মেজাজে কথা বলেতন। শুদ্ধ বাংলায় কথা বলা ছিলো তার স্বভাব। কারো সঙ্গে কখনো রাগ করতে দেখিনি।

তার বাসায় কখনো যাইনি। শুনেছি বাসায় তার সংগ্রহশালা বেশ ভারী।

তবে তার সঙ্গে সব সময় যে ব্যাগটি থাকতো তার মধ্যে টেলিফোন নম্বরের ফাইলটিতে অনেকের নম্বর ছিলো। দেশের ৫৩টি ইসলামী দলের সকল নেতারাই দীনেশ দাকে চিনতেন ভালো করে। আর দীনেশ দা'র সংগ্রহেও তাদের নাম ঠিকানা ফোন নম্বর থাকতো।

তার সাংবাদিকতার বয়স কম করে হলেও ২০/২৫ বছরের কম হবে না।

বছর দুয়েক আগের ঘটনা। দুর্গা পুজার নিউজ করতে বলা হলো অফিস থেকে।

পূজার নিউজ করার অভিজ্ঞতা আগে ছিলো না। সমস্যায় পড়ে গেলাম। দীনেশ দা'কে কল দিলাম। দাদা মেইলে নিউজ পাঠিয়ে কনফার্ম করলেন মোবাইলে।

আমাদের সময়ের জন্ম থেকেই দীনেশ দা সেখানে কাজ করতেন।
সম্ভবত গত ডিসেম্বর অথবা নভেম্বর মাসের কোনো একদিন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে দেখা দীনেশ দা'র সঙ্গে। দূর থেকে আমাকে দেখে স্বভাব সুলভভঙ্গীতে মহসিন বলে ডাক দিলেন। কাছে গেলাম। বসতে বললেন। বললাম দাদা কেমন আছেন? উত্তরে বললেন ভালো নেই। কেনো? বললেন চাকরী নেই। একই সঙ্গে বললেন আমাদের সময় থেকে চাকুরিও গেছে পাওনাও দেয়া হয়নি।

শুনে মনটা খারাপ হলো। ঢাকা শহরে আমরা যারা চাকুরির টাকায় সংসার চালাই তাদের চাকুরি না থাকা কতটা বেদনার তা আমি নিজেও বুঝি। কারণ এরকম বেকারত্বে কয়েকবার আমাকেও পরতে হয়েছিলো।

যাই হোক দাদা বললেন, আপনাদের বার্তা২৪ এ মিডিয়া পাতায় একটা নিউজ করে দিবেন। আমি দাদাকে বললাম কি লিখতে হবে, আপনার নিজের মতো করে লিখে আমার মেইলে পাঠিয়ে দিয়েন। আমি আপ করার ব্যবস্থা করবো।

পরে অবশ্য দাদা আর মেইল দেননি।

এর পর মাঝে মাঝেই রিপোর্টার্স ইউনিটিতে দেখা হতো। দেখা হলেই কুশল বিনিময় হতো। মাস খানেক আগে একবার সন্ধ্যায় রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বসে প্রায় দু'ঘন্টা গল্প করলেন তার সাংবাদিকতা জীবনের। সম্ভবত ওই দিনই ছিলো সর্বশেষ তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় গল্প।

এসবই এখন স্মৃতি।

তার মেয়েটাকে কয়েকদিন দেখেছি। বাবার মতো শান্ত। স্কুলে দিয়ে আসা আবার নিয়ে আসার কাজটা দাদাই করতেন।

৮ তারিখ সকালে রোড মার্চ বহরে চট্টগ্রাম রওয়ানা করার কিছুক্ষণ পরই খবর পেলাম মটর সাইকেল দুর্ঘটনায় দাদা চলে গেছেন।

শুনেই মনটা খারাপ হয়ে গেলো। আমিও প্রতিদিন এই ঢাকা শহরে চাকুরির তাগিদে মটর সাইকেল নিয়ে এদিক সেদিক যাই। জানি না কখন কি হবে।

তবে এসব দুর্ঘটনার জন্য গাড়ী চালকরা অনেক অংশেই দায়ী তার বলার অপেক্ষা রাখে না। চালকরা সাবধান হলে দুর্ঘটনা অনেক কম হবে। তবে
দীনেশ দা আমাদের মাঝে আর কখনোই ফিরে আসবেন না। আর কখনোই বলবেন না মহসিন কেমন আছেন?





















১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×