somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কান আছে চোখের পিছে, তা না দেখে ছুটছি বৃথাই, চিলের পিছে। ঘরে আমার চোর ঢুকেছে, লুটছে সবই আরাম করে।

১০ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৩:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

থামুন সবাই, নিজের অস্তিত্বের দিকে তাকান, পায়ের নীচে মাটির দিকে তাকান।
---------

আপনারা পন্ডিত ব্যক্তিবর্গ, এখানে বাংলা টাইপ করে লেখালেখি করেন, এর মানে প্রাতিস্ঠানিক শিক্ষার সাথে কম্পিউটারের সমক্য জ্ঞান আছে আপনাদের, এটা ধর্তব্য। (গুটি কয়েক ব্লগার বাদে যাদের কমপিউটার চালোনা পেশা, আমি সহ।)

আমি আমার এক মন্তব্যে বলেছিলাম, আমরা বাংলাদেশীরা ১০০% বুদ্ধিমান, আঁতেল গোছের। নিজের স্বার্থটা বুঝি ঠিকই কিন্তু রক্ষা করতে জানি না।

হাবিল আর কাবিলের মতো অবস্থা আমাদের। কামড়া-কামড়ি করতে করতে নি:শেষ হয়ে যাচ্ছি, কিন্তু চৈতন্য হচ্ছে না । নিজেরাই নিজেদের ধংস করছি, পাপের জন্ম দিচ্ছি। আর হইচই করছি "গেল-গেল-সব গেল" বলে ।

বিডিআর বিদ্রোহের পরে আমি অনেকের মতো চুপ ছিলাম, এই ভেবে যে এটি একটি অতিগুরুত্বপুর্ন ঘটনা যেটাতে সরাসরি অংশ নেয়ার সময় আসেনি, অথবা উচিত নয়। কারন এটি দেশের স্বার্থে আঘাত হানতে পারে। সকল কিছুরই একটা প্রেক্ষাপট থাকে, থাকে এর প্রবাহ এবং পরিনতি। আর যেহেতু এটি একটি রাষ্ট্রীয় বিষয়, তাতে আমাদের নজরদারী রাখাই উত্তম, সরাসরি অংশগ্রহন নয়।

আমাদের সেনাবাহীনি আমাদের গর্ব, আমাদের স্বার্বভৌমত্বের প্রতীক। এবং এটি একটি সংরক্ষিত প্রতিস্ঠান, এর আভ্যন্তরীন বিষয়ে আমাদের খেলো আচরন ও মন্তব্য আমাদের ক্ষতিসাধনই করছে, আমাদের অস্তিত্বে হুমকি সৃষ্টি করে চলছে।

আপনি ব্লগে লেখার তুবড়ি ছোটাতে পারবেন, কাজের কাজ কিছুই করতে পারবেন না, তাই বলি সরকারকে সাহায্য করুন গঠনমুলক লেখা দিয়ে, বিরোধীদলের জন্য লিখুন পরামর্শ দিয়ে, আর শোকসম্তপ্ত (আর্মি-বিডিআর-সাধারন) পরিবারগুলোকে আবেগের-ভালবাসা-সান্তনা - পাশে থাকার কথা লিখুন। কারন আমরা সবাই বাংলাদেশী, আমাদের দেশকে সবাই ভালবাসি। দেশ আজকে কাদছে আমাদের দৈন্যদশা আর সারজ্ঞানহীন আচরন দেখে ।

আমরা ১০০% বুদ্ধিমান, তাই সমষ্টিগতভাবে বোকা। আমাদেরকে আমাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে, দেখি-শুনি কিন্তু বুঝি না। আজব আমাদের চরিত্র। জাতীয় স্বার্থেও আমরা এক হতে জানিনা, জাতি হিসেবে বড়ই ঘৃনার, লজ্জার। আমি আমার সময় থেকে ভাষা-আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের দিকে তাকালে বিশ্বাস হতে চায় না, এগুলো আমাদের পুর্বপুরুষদের চেতনা ছিল।

লজ্জা, বড়ই লজ্জা!!!!!

সেনাবাহীনির সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রির সভার রেকর্ড যেমন বাইরে আসা উচিত নয়, তেমনি সরকারের বাক-স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ চরম ঘৃনিত একটি বিষয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রি আপনার ঘর সামলান, এতো বড় একটি জাতীয় বিপর্যয়ের পর আপনার সাথে সেনাবাহীনির সংলাপ বাইরে আসবে কেন? আপনি তো দিব্যি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন, আর নয়তো কল্পনাতে দেশ চালাচ্ছেন। আপনি একটি উচ্চ-গোপনীয় সভার গোপনীয়তা রক্ষা করতে জানেন না তো দেশ-দশকে বাচাবেন কিভাবে।

দেশের জন্য রাজনীতি, রাজনীতির জন্য দেশ নয়। আর তা হলেও আপনাদের রাজনীতির জন্য দেশ বাচাতে হবে, নয়তো রাজনীতি করার ক্ষেত্র পাবেন না, বেকার হয়ে যাবেন। ব্যংকের টাকাতে জীবন পার হবে না। কৃতদাস হয়ে যেতে হবে বেচে থাকার তাগিদে। আর এদেশের মানুষ কৃতদাস হতে জানে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রি, নোংরা মন্তব্য থেকে দুরে থাকুন, বিরোধীদলকে নিয়েই দেশ নয়, দেশটা জনগনের। তাদের স্বার্থে কাজ করুন, সুস্ঠু তদন্ত করার জন্য প্ল্যাটফরম নিশ্চত করুন, দোষীদের বের করুন এবং প্রকাশ্যে শাস্তি দিন। দ্বায়ীত্বজ্ঞানহীন আচরন আর সস্তা নেতিবাচক বক্তব্য দেয় থেকে বিরত থাকুন। আপনার ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন হবে না, বরং বেড়ে যাবে।

আমরা স্বাধীন জাতি, কিন্তু ষড়ঋতুর প্রভাব আমাদের চরিত্রে। আমরা আমাদের কথাকে ধরে রাখতে পারি না। আমাদের আচরন বদলে যায়। ডিজিটাল বাংলাদেশকে ডি-জিটাল ভাংগাদেশ এ রুপান্তরের অশুভ প্রকিয়ার হাত থেকে দেশকে মুক্ত করুন।

প্রিয় ব্লগার ভাই ও বোনেরা, ব্লগে আমি বিভিন্ন চিন্তা-চেতনার ব্যক্তিদের দেখেছি। কিন্তু আমাদের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতার প্রশ্নে সবাই একমত ও অনড়। তারপরও মতভেদ-কোন্দল শুরু হলো কেন??? আমি কয়েকটি লেখা খুজে পেয়েছি যেগুলো উত্তেজনা সৃষ্টিকারী। কয়েকজনকে দেখেছি ইন্ধন দিতে। তারা কিন্তু বিডিআরের ঘটনার মতো কালো ছায়া বলেই মনে হচ্ছে। তাই সবাই সাবধান, বাংগালীর অতি আবেগের বানিজ্য কিন্তু এখানেও চলছে।

আমরা এখানেই সর্তক না হলে কিন্তু সব জায়গাতেই বিডিআর ঘটনার মতো অনাকাংক্ষিত ঘটনা চলতে থাকবে। চলুন জাতীয় স্বার্থে, দেশের স্বার্থে এক হই, ঐক্যবদ্ধ হই। সকল অপতত্পরতার বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই। বৃত্তের স্থানাংক আমাদের ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু কেন্দ্রবিন্দু কিন্তু একটা।

(অহরহ মাইনাস পরতে পারে, মাইনাস দিলে ব্যখ্যা দেবেন। আপনাদের মুল্যবান মন্তব্য আমার ভ্রান্তি দুর করতে সাহায্য করবে। ধন্যবাদ ।)






সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ৯:৪৯
১৯টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×