ঘটনাটা দুই মাস আগের, লেখা হয়ে উঠেনি বা সময় হয়নি।
বাসার সক্কলে মিলে বেড়াইতে গেছে রংপুর ফুফু বাড়ি। পরথমবার যাওয়া সেইদিকে। আমারে যাইতে কইছিলো। কিন্তু আমার কেনে যানি ভালা লাগলো না যাইতে। তাই আমি একলা একলা থাকবার সিদ্ধান্ত নিলাম। একলা থাকবার লাগবো কয়েকদিন।
রান্না-বান্নার ব্যাপারটায় আমি হইল ঋণাত্মক বিশেষজ্ঞ (বিশেষ অজ্ঞ)। ডিম ভাজতে পারি, আলু ভাজি করতে পারি, আর কিছু করতে পারি কিনা সেইটা জানা নাই। ও নুডুলস রানতে পারি। তো আমার শুরু হল রান্নার প্রশিক্ষন ও ব্যবহারিক প্রয়োগ, নাইলে যে না খাইয়া থাকতে হইবেক।
প্রথম দিন বেশি কিছু না, দোকান থেকে রুটি এনে ডিমের বার্গার বানাইলাম, সঙ্গে শসা, আস্ত কয়েকটা কাঞ্চামরিচ, ধইন্যা পাতা।

সঙ্গে রইলো চিপস, সস আর সেভেন আপ। ফাটাফাটি একখান খাওয়া হইলো।
দ্বিতীয় দিন, বানানো হল নুডুলস। তয় একটু (না, বেশিই) তেল বেশি হলো, লবন দেওয়া হলো কম। বহুত কষ্টে খাইতে হইছে, তবু মজা লাগলো একা একা থাকা, আর নিজের হাতে বানানো খাবার। খারাপ সময় কাটছিলো না।
এইভাবে নিজের হাতে বানানো ফাস্টফুড খেয়ে চলো সেই একা একা দিনগুলো। সামনে কম্পিউটার আর হাতে টিভির রিমোট থাকায় সমস্যা হলো না। দিনগুলো ভালোই গেছে। তবুও সবকিছুর মাঝে কি একটা জানি প্রচন্ড রকমের মিস করছিলাম।
পরের শনিবারে তারা ফেরত আসলো বেড়ানো শেষ করে। আম্মা এসে রান্না করলো ভাত, তরকারী। যখন সবার সাথে খেতে বসলাম তখন বুঝলাম, কি মিস করছিলাম। আসলে মিস করছিলাম দুইটা জিনিস:
১. সবার সাথে বসে খাওয়া।
২. এবং সর্বোপরি, সর্বাধিক মিস করছিলাম ভাত।
এই জিনিসটা খাইতে আমি পছন্দ করি না এবং ওইদিন তাড়াতাড়ি রাধতে গিয়ে ভাতটা হয়েছিল শক্ত, যা আমার বহুত অপছন্দ। তবুও আমার যেন মনে হয়েছিল, আমি খাচ্ছি অমৃত। আমার ভাত খাওয়া দেখে সবাই চেয়েছিল আমার দিকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


