
রোমান সম্রাজ্যটা খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহন করার পর ৫২৯ সালে এসে সম্রাট জাস্টেনিয়ান গ্রীকদের পরিচালিত সকল গ্রীক স্কুল অফ থট বন্ধ করে দেয়। ইউরোপ পতিত হয় এক অন্ধকার যুগে(মুসলিম শাসিত আনদালুসিয়া ছাড়া)। ইউরোপিয়ানদের ক্রুসেড যুদ্বের পরে নাকি ধীরে ধীরে ড়েনাসা আকা রেঁনেসা শুরু হয় ইউরোপে। ইউরোপিয়ান ক্রুসেডারেরা প্রাচ্যে এসে প্রাচ্যের বিভিন্ন শিল্প দেখে অবাক বনে যায়, যেমনি অনেকেই এখন পশ্চিমে গিয়ে অনেক কিছুই দেখে অবাক হন। তাছাড়া পশ্চিম থেকে প্রাচ্য ছিলো অনেক সমৃদ্বশালী, পাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। লোভ লাগে পশ্চিমের শাসকদের। ক্রুসেডার শাসকরা এবার ধাবিত হয় ডাকাতিবাদ বা উপনিবেশিকবাদে। ইউরোপের প্রায় তৎকালীন শক্তি নেমে পড়ে এই ডাকাতিবাদে। এই ইউরোপিয়ান শক্তিগুলো এবার ধীরে ধীরে পুরো পৃথিবীটাকেই ওদের উপনিবেশিকবাদে পরিনত করে। উত্তর ও দক্ষিন আমেরিকার নেটিভ লোকদের হত্যা করে, ওদের দেশে ওদেরকেই সংখ্যালগু করে এবং যাদুগরের বস্তু বানায় এই ইউরোপিয়ানরা। অস্ট্রেলিয়ান সহ দক্ষিন ও উত্তর আমেরিকার আসল লোকেরাই এখন সংখ্যালঘু। প্রচার করা হয় যে , কলোম্বাস ইস ডিস্কোবারড আমেরিকা। অথচ কলম্বাস যাওয়ার বহু আগে ওখানে ইন্ডিয়ানদের সভ্যতা ছিলো, ছিলো ওদের নিজস্ব সংস্কৃতি, কিন্তু নিজ ঘরেই ওরা আজ পরাধীন। কলম্বাসের মত ডাকাত বনে যায় হিরো।
আমাদের এই সোনার বাংলাকে শশ্মান করলো কারা? ১৭৫৭ তে স্বাধীনতার সূর্য ব্রিটিসরা চিনিয়ে নিলে তার ২০ বছরের মধ্যেই ৭৬ এর মনন্তরের মত মেইড বাই ব্রিটিস দূর্ভিক্ষের মুখে পড়ে এই বাংলা। ব্রিটিস রাজ এই ভারত উপমহাদেশে ১.৮ বিলিয়ন মানুষকে হত্যা করে বিভিন্ন ভাবে। এই ভারত উপমহাদেশকে ব্রিটিসরা শুষে খেয়ে শুধু খোসাটা রেখে গিয়েছিলো। এই উপমহাদেশের মানুষদের মন মস্তিস্ককে ও গোলামীতে পরিনত করে দিয়েছে ব্রিটিসরা। বাংলাদেশ,পাকিস্তান ও ভারতের লোকদের মনন মানসিকতা ও দাসদের মত হয়েছে। ক্যামব্রীজ ভার্সিটিতে গিয়ে মনমোহন সিং যখন বলেন ব্রিটিসদের কাছে আমরা অনেক কৃতজ্ঞ, ওরা আমাদের ট্রেন গাড়ি, রেলগাড়ি দিয়েছে।
আমেরিকানরা এই পৃথিবীর ১০০% লোকেরা মাত্র ৫ ভাগ, অথচ এরাই এই পৃথিবীর ২৫% রিসোর্স ব্যবহার করতেছে, দূষন করতেছে ৩০% এই পৃথিবীটার। প্রায় ১৬০০ শতাব্দীতে পৃথিবীর সকল মহাদেশ ইউরোপিয়ানদের ব্রুটাল উপনিবেশিকবাদের খপ্পরে চলে এসেছে। প্রায় ৫০০ বছর ধরে চলেছিলো এদের ডাকাতি,লুন্ঠন। লাতিন/দক্ষিন আমেরিকাতে প্রথমে গিয়েছে স্পেনিশ ও পর্তুগীজ, ক্যাথিলিক চার্চ ওদের ডিভাইড করে দিয়েছে এটা তোদের সীমানা ঐটা তোদের, অথচ মহাদেশটা নেটিভ ইন্ডিয়ানদের। তারপর যায় ব্রিটিস ও হল্যান্ড।
লুন্ঠন করে ওদের প্রাকৃতিক সম্পদ হীরা,স্বর্ণ,রোপ্য সহ মূল্যবান পাথরের, দখল করে নিতো ওদের জায়গা জমি। নিজ দেশেই ওরা হয়ে যায় দাস।
উপনিবেশিকবাদের সময় ওরা যেইসব জায়গা জমি দখল করে ফার্ম করেছে, উৎপাদন করেছে কাঁচামাল ওদের কারখানার জন্যে, ওরা চলে যাওয়ার পরও ঐসব জায়গা জমি থেকে যায় ওদের ঐ সময়কার অনুগত ল্যান্ড লর্ড/জমিদারদের কাছে। বেশীরভাগ গরীবলোকদের যাদের কাছ হতে জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে, ওরা জমিদারদের জমিতেই কাজ করতো, এটা এখনো অব্যাহত আছে।
কেনিয়ার লোকেরা হেসে হেসে বলতো ওরা অস্র ও বন্দুক নিয়ে এসেছে আমাদের লুন্ঠন করতে, ওদের পিছু পিছু আরেক দল হাতে বাইবলে নিয়ে এসেছে আমাদের সাথে প্রতারনা করতে।
কেনিয়ায় উপনিবাশবেদিকদেরচলে যাওয়ার সময় ১% সাদা ইউরোপিয়ানদের হাতে ছিলো চাষযোগ্য ৫০% জমি।
এই ইউরোপিয়ানরা যেখানেই গিয়েছে, ঐদেশের জনগন ও ভূমি দুটোই ওদের সম্পত্তি হয়ে গেছে, যেমন এইখানের নীল চাষ করানো।
ধনী এবং গরীব দেশগুলোর ব্যবধান দেখেন,
১৮২০= ৩ ভাগের এক ভাগ।
১৯৫০= ৩৫ ভাগের এক ভাগ।
১৯৯৭= ৭৪ ভাগের এক ভাগ।
নেদারল্যান্ড ছিলো ঐ সময় ১০ লক্ষ লোকেরা বাস, কোন পাকৃতিক সম্পদ ছাড়াই। অথচ কিছুদিন পরই আমস্টারডম হয়ে যায় ফাইনান্সিয়াল হাব। এই বর্বর ডাচেরা মূলত এশিয়ানদের সম্পদ লুন্ঠন করে ধনী হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার টেক্সটাইল ও সিরামিক শিল্প ছিলো ঐ সময় অনেক উন্নত, ওরা দেশটার সব টেক্সটাইল ও সিরামিক কারখানা হল্যান্ডএ স্হানান্তর করে উপনিবেশিকবাদের সময়।
আমাদের মসলিন শিল্প ও তা তৈরীকারকদের কারা শেষ করে দিয়েছে? এই ব্রিটিসরা। ১৮০০ শতাব্দিতেও এই উপমহাদেশের টেক্সটাইল শিল্প ব্রিটিসদের চেয়ে অনেক উন্নত,ওরা আমাদের কৌশল ও যন্ত্রপাতি দিয়ে তা লন্ডনে উৎপাধন করতো। ঐ করুন ইতিহাসটা অনেকেই জানি।
ব্রাজিলের ওয়োরো প্রেতোর স্বর্নখনি বলিভিয়ার পোটিসি রোপ্য মাইন সব লুন্ঠন করেছে। ঐসব খনিতে কাজ করাতো স্হানীয়দের দ্বারা এবং La mita নামক একটা আইন করে, এতে শ্রমিকদের ৬ মাস একটানা খনির ভিতেরেই কাজ করতে হতো, বাইরে আসা নিষেধ ছিলো।
ইদোয়ার্দো গ্যালানিও লিখেছেন, পোটেসি খনি হতে যে রোপ্য উত্তলন করা হয় তা দিয়ে বোলিভিয়া হতে স্পেন পর্যন্ত একটা ব্রীজ করা যেতো। আরেকটা ব্রীজ করা যেতো হাড্ডি দিয়ে ঐসব লোকদের যারা রোপ্যখনিতে কাজ করতে গিয়ে মারা গিয়েছে।
জার্মান, যেই দেশটাতে একটা কফি গাছ নাই, ঐ দেশটা সবচেয়ে বেশী কপি এক্সপোর্ট করে, কাঁচামালটা আসে কেনিয়া হতে। সুদানিরা যে চা খায় তা তারা উৎপাধন করে তবে ওটা রিপ্রডিয়ুস হয়ে ইউরোপ হতে লিপটন নামে আসে।
দ্যা বারডেন অফ হোয়াইট ম্যান লিখেছেন এক ব্রিটিস কবি। সাবটাইল ছিলো ঐ সময়ের (১৮৯৯) আমেরিকা দ্বারা ফিলিপিনসকে দখল করার সময়। হোয়াইট ম্যানদের বারডেন অনেক, ওদের অনেক বোঝা। ওদের ইউরোপ পাড়ি দিয়ে এশিয়া,আফ্রিকা, লাতিনদের মানুষ করতে হয়, ওদের সভ্যতা শিখাতে হয়। ব্রিটিসদের ভারত রুলসের সময় সব ব্রিটিস পত্র পত্রিকায় এটা বলতো, ভারতের জন্মই হয়েছে ব্রিটিসদের দ্বারা রুল করার জন্যে। রোমান সম্রাজ্য যখন গলস আক্রমন করে ধ্বংস করে দেয় তখন বলে ওটা করা হয়েছে সভ্যতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যে। যা অনুসরন করেছে ইউরোপের প্রত্যেকটা কলোনিয়াল পাওয়ার। ভিয়েতনামবাসীদের যখন নাপাম বোমা দিয়ে আমেরিকা ধ্বংস করে শহর,গ্রাম,ক্ষেত,বাঁধ তখন সভ্যতার সংঘাতের লেখক প্রফেসর হান্টিংটন লিখে ওটা উরবানাইজেশান বা শহরায়ন।
এই ব্রিটিশরাই আফ্রিকার কালোদের আমেরিকায় এনে পশুর মতো বিক্রি করেছে। ওদের অত্যাচার আর নিপিড়নে মজলুম মানুষের ক্রন্দন ধ্বনি আজো শোনা যায় আফ্রিকাতে।
এই ব্রিটিসরা কখনোই সভ্য ছিলোনা, এরা উপনিবেশিকবাদ ছেড়ে যাওয়ার সময় এমন ভাবে গিয়েছে যে পরে একটা দেশও যেন শান্তিতে না থাকে। এই ভারত উপমহাদেশ দেখুন। আমাদের বাংলাকে দুইভাগ করে একটা দিয়েছে পাকিদের একটা ভারতীদের। পান্জাবীদের এক অংশ দিয়েছে পাকিস্তানকে আরেক অংশ ভারতীদের। বেলুসিস্তানের একটা অংশ দিয়েছে ইরানকে আরেকটা পাকিস্তানকে। পশতুন/পাঠানদের একটা অংশ পাকিস্তানে রেখেছে ডুরান্ড লাইনের মাধ্যমে, তাই আফগানিস্তানে কোন যুদ্ব এসে পড়লে তার ঢেউ এসে পাকিস্তানে পৌছে। তুর্কি সম্রাজ্য পতনের পর তার সম্রাজ্যকে Sykes–Picot Agreement এর মাধ্যমে ফ্রেন্স ও ব্রিটশরা ভাগ করে নেয়।
এবার দেখুন মধ্যপ্রাচ্য, ফিলিস্তিন আর ইসরাইল সমস্যাটা ওদের সৃষ্টি। কুর্দিদের এক অংশকে ইরাকে, একটা তুরস্কে,একটা সিরিয়ায় এইভাবে ভাগ করেছে। ইরাকের সিপোর্ট সিটি ছিলো আগে কুয়েত। ইরাকিদের পানি নেওয়ার রাস্তা শুধু এটিই ছিলো, কিন্তু কুয়েতকে দিলো সাবাহ ফেমিলিকে। সাদ্দামের ৯১ এর যুদ্বের আগেও তাকে তুরস্কের ভিতর দিয়ে পাইপ নিয়ে মেডিটেরিয়ান সি হতে পানি আনতে হতো। সেই কুয়েতকে নিয়ে যুদ্ব প্রথম গাল্প ওয়ার হলো।
ইউরোপিয়ানরা আগে দাস বানাতো, এখন দাস নাই আছে মানসিক দাস, এবং সুখী দাস। মানসিক দাস যেমন মনমোহন সিং। আর সুখী দাস হলো ওরা হয়তো তার ফ্যামিলি নিয়ে পশ্চিমে থাকে সুখে শান্তিতে আর তার গুন গায়, তার বিরুদ্বে কোন অভিযোগ সে মানতে চায় না। যদিও সে সুখী অথচ তারই দেশের লক্ষ লক্ষ না খেয়ে আছে ওদের করা সেই কলোনিয়ালিজমের কারনে, বা বর্তমান নিউ কলোনাইজেশান কর্পোরেশান, আইএমএফ বা ওয়ার্ল্ড ব্যাংক দ্বারা।
আগামী পোষ্টে সমাপ্ত।
ভাবছিলাম এক পোষ্টে হইয়া যাইবো, এখন দেখছি দশটা পোষ্ট লাগবে তবুও দুইটা পোষ্টেই রাখমু কাটিং সেটিং কইরা।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



