
১৯৮১ সালের একদিন, ফাওয়াজ যাকরিকে তার বাবা ব্যাগ গুছিয়ে ঠিক করে দিচ্ছে, একটু পরেই সে সিরিয়া ছেড়ে তুরস্কে চলে যাবে। সিরিয়ায় তখন চলছে মুসলিম ব্রাদারহুড বিরোধী দমন নিপীড়ন। আলেপ্পো শহরের একাংশ মর্টার দিয়ে ধংস করে দিয়েছে তৎকালিন সিরিয়ার হাফেজ আসাদ, বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদের বাবা। সেক্যুলার বার্থ পার্টির নেতা এবং সিরিয়ার সংখ্যালগু নুসাইরী শিয়া সম্প্রদায়ের লোক এই আসাদ পরিবার। ফাওয়াজ যাকরি সিরিয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছে, কারন সে মুসলিম ব্রাদারহুড করে, তার জেলে বন্দী, গুম, বা হত্যা করার জন্যে আর কোন পরিচয়ের দরকার নাই। তারপর এলো ১৯৮২ সাল সিরিয়ার হামা শহরের জেগে উঠা আসাদ বিরুধী আন্দোলন মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতৃত্বে। হাফেজ আসাদ এবার পুরো শহরটাকে ঘেরাও করে "জেগে উঠার" প্রতিশোধ নিবেন। হামা শহরটাকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া পুরো দেশ হতে, শুরু হয় ভয়ংকর গনহত্যা নিষ্ঠুর ও অমানবিকভাবে যা হামা ম্যাসেকার নামে পরিচিত। ঐ সময় ১৭ হাজার হতে ৪০ হাজারের মতো হামা অধিবাসীদের হত্যা করা হয়। মুসলিম ব্রাদারহুড সেদিন সারা সিরিয়ানদের জাগতে বলেছিলেন, কেউই সেদিন জাগেনি হাফেজ আসাদের বিরুদ্বে। মুসলিম ব্রাদারহুদ একাই লড়ে গিয়েছেন আসাদের বিরুদ্বে, ওদের লড়াইটা ছিলো অসম, ত্যাগটা ছিলো তুলনাহীন। সারা সিরিয়া ব্যাপী মুসলিম ব্রাদাহুড বিরুধী দমন নিপিড়নে অনেকেই পালিয়ে তুরস্কে চলে যান। ফাওয়াজ যাকরি যখন তুরস্ক ছাড়ে তখন তার বয়স ১৭ বছর। পরে সে তুরস্কের একটা নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় হতে গ্রেজুয়েট হয়ে বের হয়। ফাওয়াজ যাকরির মতই সব ব্রাদারহুড তুরস্কে থেকে একেপি পার্টির সংস্পর্শে থেকে গনতন্ত্রের পথ ধরে। ২০০২ সালে তারা তুরস্ক হতে মুক্ত নির্বাচনের ডাক দেয় সিরিয়ায়।
২০১১ শুরু হয় মুহাম্মদ বুয়াজিজির হাত ধরে তিউনিশিয়ায়। শুরু হয় গন জাগরন মিডলইস্ট ও উত্তর আফ্রিকায়। পালায় বেন আলি, বন্দী হোসনী মোবারক, হত্যা করা হয় গাদ্দাফীকে। আহত ইয়েমেনের সালেহ, এবং কম্পিত বাশার আসাদ। এবার সিরিয়াও জেগে উঠেছে, ১৯৮২ তে মুসলিম ব্রাদারহুড সিরিয়ানদের জাগতে বললেও ওরা জাগেনি, তবে এবার জেগেছে, পুরো সিরিয়া জেগেছে। ডেরা হতে হামা, হোমস হতে ইলবিব সর্বত্রই জাগ্রত সিরিয়া। এক্সাইলে থাকা সিরিয়ানরা মিলে গঠন করে সিরিয়ান ন্যাশানাল কাউন্সিল। এখানে উল্লেখ্য যে সিরিয়ার কুর্দীরাও আছে এই বিপ্লবে। পুরা আরব বিশ্বে সেক্যুলার বার্থ পার্টির শাসন গুলোই কুর্দীদের অধিকার ভুলন্ঠিত করেছে, কেড়ে নিয়েছে ওদের অধিকার।
সিরিয়ান ন্যাশানাল কাউন্সিলে থাকা ব্রাদারহুড নেতাদের একজন খালিদ খোজা। তিনিও ভবিষৎতে সিরিয়ার শাসন ব্যবস্হা তুরস্কের একেপি পার্টির আদলেই করতে চান।
ফুটনোটঃ ১৯৮২ সালের হামা ম্যাসেকারে ইরান সরকারে সহযোগিতা ছিলো, এবারের সিরিয়া বিপ্লবে ইরান সরকার ও লেবাননের হিজবুল্লাহর যৌথ সহযোগিতায় এবং নির্মমভাবে সিরিয়ার জনগনের উপর নির্যাতন চালায়। ইউটিউবে এ নিয়ে প্রচুর ভিডিও পাবেন। বেন আলি, হোসনী, গাদ্দাফি যাওয়াতে ইরান খুশি, কিন্তু যখনই সিরিয়ানরা আসাদকেও যাইতে বললো, তখন ইড়ান অখুশী। এটা আমেরিকার মতো ইড়ানেরও ক্লাসিক হিপোক্রেসী।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




