somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলামের দৃষ্টিতে ধর্মনিরপেক্ষতা

০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসলামের মাহাত্ব্য হলো, এটা প্রত্যেক মানুষকে ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করে। এই স্বাধীনতা কেবল ধর্ম বিশ্বাস লালন-পালন করার স্বাধীনতা নয় বরং ধর্ম না করার বা ধর্ম বর্জন করার স্বাধীনতাও এই ধর্মীয়
স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতা'লা বলেছেন, "কুলিল হাক্কু মির রাব্বিকুম ফামান শা' ফালইউমিন ওয়ামান শা' ফাল ইয়াক্ ফুর" অর্থাৎ "তুমি বল, তোমার প্রতিপালক-প্রভূর পক্ষ থেকে পূর্ণ সত্য সমাগত, অতএব যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক আর যার ইচ্ছা সে অস্বীকার করুক"(সুরা কাফাহ্ : আয়াত ২৯)।তাই আল্লাহকে কে মানলো বা মানলো না, কে ধর্ম করল বা করল না এটা নিয়ে জগতে বিচার বসানোর কুন শিক্ষা ইসলামে নাই, বরং এর বিচার আল্লাহ্ পাক নিজে করবেন বলে শেষ শরীয়ত গ্রন্থ আল কুরআনে বার বার জানিয়েছেন।এ স্বাধীনতা কাজে লাগিয়ে সমাজে আস্তিক থাকবে, নাস্তিকও থাকবে। মুসলমানও থাকবে হিন্দুসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও থাকবে।

ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্র পরিচালনার একটি নীতি। এর অর্থ ধর্মহীনতা বা ধর্ম বিমুখতা নয়। এর অর্থ হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রনায়কেরা নাগরিকদের ধর্ম বা বিশ্বাসের ক্ষেট্রে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবেন।কে কোন ধর্মে বিশ্বাসী বা কে অবিশ্বাসী এ নিয়ে রাষ্ট্র-যন্ত্র কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করবেনা। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকই রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে সমান- এটাই হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা।

প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মদিনায় হিজরতের পর মদীনার ইহুদী ও অন্যান্য ধর্ম গোষ্ঠি ও গোত্রের সাথে তিনি একটি সন্ধি করেন যা বিখ্যাত 'মদিনা সনদ' নামে পরিচিত।এই মদিনা সনদের প্রতিটি ছত্রে ছত্রে সকল ধর্মের ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চত করা হয়েছে। মদিনা সনদের ২৫ নম্বর ধারায় ধর্ম নিরপেক্ষতার একটি বিরল উদাহরণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এতে বলা হয় :
২৫. বনু আওফ গোত্রের ইহুদীরা মু'মিনদের সাথে একই উম্মতভুক্ত বলে গন্য হবে। ইহুদীদের জন্য ইহুদী ধর্ম, মুসলমানদের জন্য ইসলাম ধর্ম।" একই কথা এদের মিত্রদের এবং নিজেদের জন্য প্রযোজ্য। তবে যে অত্যাচার করবে এবং অপরাধ করবে সে কেবল নিজেকে এবং পরিবারকেই বিপদগ্রস্থ করবে।
বিশ্বনবী মহানবী (সাঃ) প্রতিষ্ঠিত নীতি হল, যে ব্যক্তি যে ধর্মেরই হোক না কেন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তার তাদের জাগতিক অবস্থান সমান। এ কারনেই সম্ভবত মহানবী (সাঃ) মদিনাকে 'ইসলামী রাষ্ট্র' বা 'ইসলামী প্রজাতন্ত্র' ঘোষনা করেন নি। যে কাজ মহানবী (সাঃ) করেন নি সে কাজ সম্পাদন করে কেউ কি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে পারব??

রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী দ্ব্যর্থহীনভাবে সাব্যস্ত।কুরআন শরীফে মহান আল্লাহ্ পাক বলেছেন, "ওয়ালাও শা' রাব্বুকা লা'আমানা মান ফিল আরযি কুল্লুহুম জামিয়া আফা আনতা তুকরিহুন নাসা হাত্তা ইয়াকুনু মুমিনিন" - অর্থাৎ , তোমর প্রতিপালক- প্রভূ চাইলে জগতের সবাই ঈমান আনত। তুমি কি তবে মানুষকে মুমিন- বিশ্বাসী হওয়ার জন্য বল প্রয়োগ করতে পার ? (সুরা : ইউনুস ; আয়াত : ৯৯) । আল্লাহ্ তায়ালা ঘোষনা দিয়ে বলছেন, তিনি চাইলে সবাই ঈমান আনতে পারত কিন্তু এমনটি তিনি করেন নি বরং সত্য গ্রহন বা বর্জনের ক্ষেত্রে সবাইকে স্বাধীনতা প্রদান করেছেন। এই হচ্ছে ধর্ম বিষয়ে ইসলাম প্রদত্ত স্বাধীনতা।

পরিশেষে বলব, ধর্মনিরপেক্ষতা এমনই একটি চশমা যা পরিধান করলে শাষকদের চোখে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ একজন মানুষ হিসেবেই ধরা দেয়। এই শিক্ষা আমরা মহান আল্লাহ'র ব্যাবহার থেকেও গ্রহণ করতে পারি। তিনি যেমন মুসলমান-অমুসলমান, আস্তিক-নাস্তিক, পূর্ণবান-পাপী সবার প্রতি অনুগ্রহ করেন, তাদের সৎ কর্মের প্রতিদান দেন, সবাইকে সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত করেন, সবাইকে তার করুণার বৃষ্টি বর্ষণ করেন, সকলকে যেমন সমান ইন্দ্রিয় এবং দৈহিক ও মানসিক শক্তি প্রদান করেন, ঠিক তেমনি জাগতিক সরকার বা বাষ্ট্রনায়কদেরও এই গুনটি অবলম্বন করা উচিৎ। তবেই রাষ্ট্র ও দেশ হবে সুখী ও সমৃদ্ধ। মহান আল্লাহ আমাদের শাষকদেরকে নিরপেক্ষ ভাবে দেশ ও দশের সেবা করার তাওফিক দান করুন। (আমিন)





(মওলানা আবদুল আউয়াল খান- এর লেখা অবলম্বনে)




০২/১০/০৯
বাকলেইট
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:০৯
১৭টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×