আশির দশকে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলেন ইমরান খান। বিরাট ব্যক্তিত্বের অধিকারী ইমরান যা বলতেন, তখন সেটাই মেনে নিত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। জাভেদ মিয়াঁদাদ, জহির আব্বাস, মুদাসসর নজর, মহসিন খানরা থাকার পরও পাকিস্তান দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান হয়ে উঠেছিলেন কেনিয়ান বংশোদ্ভূত কাশিম ওমর। হঠাৎ করেই ইমরানের বিরুদ্ধে ড্রাগের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছিলেন কাশিম ওমর। পরিণাম ছিল ভয়াবহ। সারাজীবনের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন কাশিম ওমর। বাংলাদেশ ক্রিকেটে ইমরান খান হয়ে উঠছেন সাকিব আল হাসান। মানছেন না কাউকে। অবজ্ঞা করছেন সবাইকে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচের একাদশ সাজানো ছাড়াও টিম ম্যানেজমেন্টের বিপক্ষে যেভাবে অবস্থান নিয়েছেন, তাতে সংশয়ের বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ।
ড্রেসিং রুমে নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন ও টিম লিডার শফিকুল রহমান মুন্নার উপস্থিতি মেনে নিতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। অথচ এই দুইজনকে দেখভালের জন্যই দলের সঙ্গে পাঠিয়েছে বিসিবি। দুইজনকে মেনে না নেওয়ার বিষয়টি সাকিবের বিসিবির বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ারই নামান্তর। টিম ম্যানেজমেন্টের উপস্থিতি মেনে না নেওয়ার প্রসঙ্গে বিসিবি পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। কেননা আমরা এখনো রিপোর্ট পাইনি। রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।'
শুধু টিম ম্যানেজমেন্টকে নিয়েই নয়। সাকিবের নেতৃত্বে ক্রিকেটাররা ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছেন। জিম্বাবুয়ে সফরের আগে দল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অধিনায়ক সাকিব। সে সময় এ নিয়ে গরম হয়ে উঠেছিল মাঠ এবং সরব হয়ে উঠেছিল মিডিয়া। মিডিয়ার সরব উপস্থিতিতে জিম্বাবুয়ে সফরের শুরুতে ঠাণ্ডা হয়েই ছিলেন। আসলে ঠাণ্ডা না হয়ে থাকার কোনো কারণও ছিল না সাকিবের। টানা চার ম্যাচ হেরে একেবারে খাঁদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে দল। টিম ম্যানেজমেন্টের উপর যে ক্ষিপ্ত, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন তাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে এবং মনমতো একাদশ সাজিয়ে।
একাদশ সাজানো টিম ম্যানেজমন্টের সঙ্গে সাকিবের দ্বন্দ্ব শুরু হয় টেস্টের সময়। সাকিব চেয়েছিলেন নাসির হোসেনের অভিষেক হউক। আর নির্বাচক বাশার চেয়েছিলেন আশরাফুলকে। কোচ স্টুয়ার্ট ল নির্বাচকের কথাই মেনে নেন। আশরাফুলকে একাদশে জায়গা দেন এবং তার ফলও পায় দল। দুই ইনিংসেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রান করেন সাবেক অধিনায়ক। অবশ্য সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। ফলে বাদ পরেন তৃতীয় ওয়ানডেতে। কিন্তু অবাক করেছে তামিম ইকবালের একাদশে থাকার বিষয়টি। টেস্ট এবং ওয়ানডে কোনো ম্যাচেই নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি তামিম ইকবাল। পারেননি ইমরুল কায়েশও। অথচ টেস্টে হাফ সেঞ্চুরি এবং দুই ওয়ানডেতে ডাবল ফিগারের রান করার পরও বাদ পরেছেন শাহরিয়ার নাফিস। তার জায়গায় এসেছেন জুনায়েদ সিদ্দিকী। আবার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ দুই ন্যাচে রান ৩ ও ৫ করার পরও সুযোগ পেয়েছেন। কাল বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে ১০০ নম্বর ক্রিকেটার হিসাবে অভিষেক হয়েছে শুভাগত হোম চৌধুরীর। টানা দুই ওয়ানডে হেরে পাঁচ বছর পর সিরিজ হারের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে একক ক্ষমতায় বাংলাদেশ অধিনায়ক একাদশ সাজিয়েছেন। যেখানে এবারই প্রথম আধিপত্য দেখা যায়নি স্পিনারদের। একাদশ সাজানো হয়েছে মাত্র এক বাঁ হাতি স্পিনার নিয়ে। গত ৩০ ওয়ানডেতেও যা ছিল বিরল। একাদশ সাজানো হয়েছে তিন পেসার নিয়ে। চতুর্থ বোলার হিসাবে বোলিং করেছেন অকেশনাল দুই অফ স্পিনার নাসির হোসেন ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। সাকিবের এমন ঔদ্ধ্যত আচরণে শুধু বিসিবি নয়, অবাক ক্রিকেটপাগল জাতিও।
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৪:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



