হররোজ ভাবি আমাকে পোক্ত মুসলমান হতে হবে কিন্তু হয়ে আর উঠেনা হয়তো কেউ বলবেন দুনিয়া তার ব্যাস্ততার ল্যাসো দিয়ে আমার ঘার ও গলাকে কসে ধরেছে কেউবা বলবেন আমি আবৃতি শুরু করেছি "মরিতে চাহিনা এই সুন্দর ভুবনে"।
কিন্তু বাস্তবতা হল আরও কঠিন, কথায় বলে 'ঘরের শত্রু বিভীষণ' বা 'বেরায় ক্ষেত খেয়েছে' যাই হোক আর ভনিতা নয় মূল বিষয়ে বিসমিল্লা বলি। আমি একবার তাবলীগে যাওয়ার জন্যে এক পা আগিয়ে দিয়েছিলাম কিন্তু একটি কথা শুনে আমার দু পা পিছিয়ে আসতে হল এক মাদ্রাসার ছত্রাক আমাকে বললো তাবলীগে না গিয়া আপনি সরাসরি আওয়ামী লীগে নাম লেখান। আমি বললাম কেলা? সে বললো আরে ওগো দীনের ব্যাপারে কোন এলেম কালাম আছে নাকি সব তো দীনের ব্যাপারে বকলম (ব্লগার বকলম ভাই না)।
আলেমদের সহবতে জান মারেফত পেয়ে যাবেন সাথে বাতেনি খারেজি এলেম কালাম ফ্রি। আমি এই বয়সে মাদ্রাসায়!? তালেবে এলেমের সোজা উত্তর 'খানকা'।
কি আশ্চর্য তাবলীগ আর আওয়ামী লীগ এক হয়ে গেলো! এই সব ভাবতে ভাবতে আমি আর বেশ কিছু দিনের জন্যে ধর্ম ভাবনা চাঙ্গায় তুললাম। এর মাঝে এক পারাতুতো ভাই আমাকে নামাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বয়ান শুরু করলো সে বেশ আধুনিক তার মুখের দাড়ি সব সময় খোঁচা খোঁচা কখনই তা বড় হয়না (গেলমানের ভাই বেরাদার। গেলমানদের দাড়ি হয়না) আমি তার সঙ্গ দেয়া শুরু করলাম, নামাজে আবার জট পাকানো জটিল মনোযোগ। আছতে আছতে সে আমাকে বিভিন্ন কিতাব তাফসির এর জ্ঞান দেয়া শুরু করলো বললো তুমি তাফসির হাদিস ঘরে বসে পরতে পারো। আমি বললাম মহল্লায় ইমাম সাহেব কে বলতে শুনছিলাম ঘরে বসে মেডিক্যালের বই পড়ে যেমন ডাক্তার হওয়া যায়না তেমন নাকি ঘরে বসে হাদিস করান পড়ে মৌলভি হওয়া যায়না। ভাই বললো ধুর মিয়া খোদা তার কোরআন কে পানির মত সহজ করেছেন। আমি বললাম যেমন জাকের নায়েক? তাহলে ভাই মানুষ মাদ্রাসায় ১৫ বছর পড়ে কেন? ভাই বললো শুনো মিয়া ১৫ বছর মাদ্রাসায় পড়া ফরজ না, ইসলাম বুজে দীন প্রতিষ্ঠার জিহাদ শুরু করা বড় কথা। ভাইয়ের জিহাদ শেষ পর্যন্ত আবুল আলা মৌদুদির জামাত শিবির পর্যন্ত ঠেকলো। আমিও মুক্তিযোদ্ধা বাবার মান বাচাতে বিরত্তের সাথে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলাম। এক বন্ধুর সাথে হাঁটছি তো এক মসজিদের সামনে এসে আজান শুনলাম তো বন্ধু কে বললাম নামাজ পড়বিরে? বন্ধু বললো তুই হালায় এই মসজিদে নামাজ পড়বি? আমি বললাম হু তো কি হইছে? বন্ধুঃ এইডা তো গাধা আহলে হাদিস গো মসজিদ।
সিয়া মসজিদ, মাজার সংশ্লিষ্ট মাইজভাণ্ডারী মসজিদ এই গুলতেও নামাজ পরতে মানা।পরবর্তীতে আরও জানলাম এই গুলো হল ফেরকা, ফেরকা মোট ৭৩ টা এর মধ্যে একটা মাত্র সহি পথ আছে বাকি ৭২ টা পথভ্রষ্ট। জাহান্নামের আগুনে তাদের ফ্রাই করা হবে।এই পর্যন্ত দীনের যত দাওয়াত (মৌখীক লিফলেট পুস্তিকা) পেয়েছি সবায় দাবি করেছে তারাই হকের পথে বাকি সব বাতিল।
ভাইরে আমারে কেউ এই ৭৩ রাস্তার মোড় থেকে বাঁচান, এই গোলক ধাঁধাঁ আমার ধর্মপ্রেম কে কখনো মরীচিকা কখনো বা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়তাছে। ভাবি আমরা মুসলিম ভাইয়েরা আজ জালেম ইউরোপ ও কাফের খৃস্টানদের দ্বারা নিস্পিসিত কিন্তু মাঝে মাঝে মড়া গাঙ্গে যেমন মাছ ধরা পড়ে তেমন একটা বাতেল প্রশ্ন মনে জাগে 'যেই মুসলমান ভাইদের মাঝে এমন ৭৩ ফেরকার গভীর মিল(!) আছে তাদের এই ঐক্যের(!) সুযোগ ইউরোপীয় খৃস্টান কেন আফ্রিকার পিগমিরা নিলেও অবাক হওয়ার কি আছে?
কওমি মাদ্রাসার হরকাতুল জিহাদ এই দেশে বোমা মেরে ইসলাম কায়েম করবে এই পবিত্র জিহাদে কোন বেধর্মীর বাধা লাগবেনা ৭৩ ফেরকার চক্রই এই দেশ কে মৌলবাদী রাষ্ট্র হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে। এখন তো মনে হচ্ছে এই ৭৩ ফেরকা মুজাহিদ ভাইদের জন্যে গলার কাঁটা হলেও গণতন্ত্রের জন্যে সাপে বর।
আরও কত কি যে শুনতে হয় যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার মরহুম সালাউদ্দিন সাহেব হুজুর দীনের কুতুব ছিলেন আর যিনি কুতুব হন তার সাথে নাকি খোদার তেলিপেথিক আলাপ হয় কিন্তু এও শুনতে পাই তিনি নাকি রাজাকার ছিলেন! হা খোদা তুমি তারে বলো নাই যে ৭১ দেশ স্বাধীন হয়ে যাবে। নেটওয়ার্কে কি প্রবলেম ছিল! হাফেজ্জী হুজুরও কুতুব ছিলেন শে নাকি বলেছিল ৭১ এর যুদ্ধ জালেম ও মজলুমের লড়াই ছিল । কুতুবে কুতুবে বিভাজন বড়ই বিচিত্র। তারপরেও হররোজ ভাবি আমাকে পোক্ত মুসলমান হতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



