আমাদের মুখ্য কার্যালয়ের পাশে ব্রীজের কোনায় গনেশদার চায়ের দোকান। নদীর দিকের দুইধার ঝাঁপ বাধা, হাওয়া খাইতে খুলিয়া দেওয়া থাকে। গনেশ দা বড়ই রসিক মানুষ। সদা হাস্যময়। কথা মাটিতে পড়িতে দেন না। আমরা দ্বিপ্রহরে ইঞ্জিনে কয়লা ঢালিতে গনেশ দার দোকানে যাইয়া থাকি। সাথে ফাও হিসাবে দাদার কথা শুনিতে পাই।
গনেশদার দোকানের পেছনের নদীর পাড় হইতে মুন্সিপ্যালিটির ওয়ার্ড ২০ বছর হইতে সি.পি. আই. এম. এর দখলে। সন্মুখেরটাও তাই। কোনক্রমে সেইবার সন্মুখের ওয়ার্ড কংগ্রেসের দখলে চলিয়া গিয়াছে। একদিন দোকানের পেছনদিককার ঝাপ নামানো রহিয়াছে। কাউন্সিলার আসিয়া বলিলেন, কিরে গনেশ প্রতিদিন ঝাঁপ খোলা থাকে আজিকে বন্ধ কেন? নতুন কাউন্সিলার গনেশদার পছন্দের ব্যক্তি ছিলেন না। ঝট করিয়া গনেশদার উত্তর, ২০ বছর পর এই ওয়ার্ডে কংগ্রেস জিতিয়াছে। ঝাঁপ খুলিলে যদি সি.পি. আই. এম. এর ওয়ার্ডের হাওয়া আসিয়া পুনরায় হারাইয়া দেয়! তাই বন্ধ রাখিয়াছি।
গনেশ দা সারাদিন খাটেন। শখ আহ্লাদ তেমন পূর্ণ করা হয় না। বড়ই সাধ হইয়াছে সিনেমা দেখিতে যাইবেন। দোকানের খদ্দের দিগের মিনতি উপেক্ষা করিয়া বন্ধ করিলেন। ১২.৩০ শে সাজিয়া গুজিয়া সাইকেল খানি লইয়া সিনেমা হলে পৌঁছিয়াছেন। গিয়া দেখেন হাউসফুল। মনখারাপ, সাথে ক্রোধের সহাবস্থান। ফিরিতেছেন, ট্রাফিক সিগনালে হাত না দেখাইয়া মোড় ঘুরিলেন সঙ্গে সঙ্গে পিছন হইতে বৃদ্ধ ব্যাক্তির চিৎকার, এই ছেলে,হাত দেখাইতে পারোনা!!! ঘুরিয়া গনেশ দার জবাব, আপনি কি জ্যোতিষী যে হাত দেখাইব। মনে পড়িয়া গেল বৌদি তাহাকে ঔষধ আনিতে বলিয়াছেন। দোকানে গিয়া দাড়াইয়া রহিয়াছেন। দোকানী তাহার গুরুদেবের সহিত গল্পে মত্ত। গনেশ দার পারদ চড়িতেছে। গুরুদেব কহিলেন, বৎস, ভগবানের অনেক নাম কিন্তু রূপ এক। গনেশ দা বলিলেন, হ্যা লোমের মতন। মাথায় এক নাম, নাকের নিচে আরেক, তারও নিচে আরেক নাম। দোকানী যাচ্ছেতাই বলিয়া গনেশ দাকে বিতারিত করিল। ফিরিয়া গনেশ দা দোকান খুলিয়াছেন। সকলে আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল কইগো সিনেমা দেখিলে না। উত্তর আসিল, নাগো সিনেমা হলে গিয়া শুনিলাম "হল" নাকি এখনি ভাঙ্গিবে। ভাবিলাম একখানি ইঁট যদি মাথায় পড়ে তাহা হইলে আর দেখিতে হইবেনা। তাই পলাইয়া আসিয়াছি।
গনেশ লেডিস হস্টেলে ক্যান্টিন চালান। আমরা জিজ্ঞাসা করিলাম, তোমাকে যে হোস্টেলের মেয়েরা কাকু বলিয়া ডাকে, তোমার দুঃখ হয়না। গনেশ দা বলিলেন, তবে কি বাবা বলিবে। এক মেয়ে বাবা বলিয়া ডাকিত। এক দিন বলিয়াছি তুই যে আমাকে বাবা ডাকিস তাহা কি তোর মা জানে। পরদিন সে তাহার মাকে লইয়া হাজির। রূপ দেখিয়া ভীরমি খাইবার যোগার। আড়ালে ডাকিয়া বলিয়া দিলাম কাল হইতে আমাকে কাকুই ডাকিস।
অনেকদিন গনেশদার সাথে দেখা হয়নাই তাই বাড়ি ফিরিয়া দোকানে গিয়াছিলাম। গিয়া দেখি গনেশ দা দোকানখানি ভাঙ্গিতেছেন। মুখে হাসি নাই। জানা গেল কেহ শয়তানি করিয়া রাতে দোকান ঘরটি পোড়াইয়া দিয়াছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

