আমার প্রিয় পোস্ট

সুখের দিনে তোমার কথা ভাবি....দুখের সাথে একলা রয়ে যাই....

ইলিশে জমিল খানা, চিংড়ি হইল শেষ। মাছ ভাত পাতে আজি, মনেতে বাংলাদেশ।

১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১১:৪৬

শেয়ারঃ
0 0 0

"মৎস্য মারিব, খাইব সুখে" প্রবচনখানি আলস্যতার পরিচায়ক হইলেও ইহাকে কার্যে পরিনত করিতে পারিলে বাঙ্গালী কি পরিমান সুখী হইত তাহা বর্ননা করা কঠিন। বাঙ্গালীর মৎস্য প্রীতি তাহাকে ঋণের দায়েও ফেলিতে পারে। তাহা সত্তেও মৎস্য বিনা বাঙ্গালী রসনা পরিতৃপ্ত হয়না। এইপার বাংলায় বাংলাদেশ মানেই প্রথম যেই শব্দ জিভের জল ট্রাফিক সিগনালে আটকাইয়া মুখবিবর হইতে বাহিরে নির্গত হয় তাহা "ইলিশ"।

বাংলাদেশ যাইব শুনিতেই দাদার প্রথম কথা ছিল গিয়া গোটা মাছ ভাজিয়া খাইব। আমিও মনে মনে পুলকিত ছিলাম। মাছ খাইবার জন্য নহে নৌকায় করিয়া তাহার শিকার করিবার জন্য। মাছের প্রতুলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হইবার জন্য পথিমধ্যেই মাকে বারে বারে নানান জিজ্ঞাসায় অতিষ্ঠ করিয়া তুলিলাম। মা বলিলেন আর কিছু বলিব না। পৌঁছিয়া নিজেরাই দেখিবি।

মামার বাড়ি প্রবেশের পূর্বেই বিশালাকায় দিঘী। এইখানে কাহারও নিকট গল্প করিলে তাহাদের আন্দাজ সেই দিঘীর অর্ধেকেও পৌঁছায় না। বলি দিঘী, তাহারা বলে পুকুর। প্রথম দর্শনেই যাহা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করিল তাহা হইল সেই দিঘীর একপাড়ে বাঁধা নৌকাখানি।

পরদিনই দাদার অর্ডার গোটা মাছ রাধিঁতে হইবে। সৈন্য সামন্ত মৎস মারিতে নামিয়া গেল, সাথে আমি। রুইকাৎলা যাহা ধরা পড়িল তাহা দাদার উদরে ঠাসিয়াও ভরা যাইবে না। হয়তো দাদার খাইবার সখের কারনেই আরেক জীবের প্রতিনিধি জালে উঠিল (তাহারা সাধারনত সাধারন জালে ওঠেন না)। তাহা গলদা চিংড়ি। আমাদের এই জীবন কালে ঐ সাইজের চিংড়ির দর্শন আর মেলে নাই। এক হাত লম্বা তাহার দাঁড়া। দাদার রুচি পরিবর্তন হইয়া গেল নিমেষেই। ঐ চিংড়ি চাই। ততক্ষনে চিংড়ি ছাড়িয়া দেওয়া হইয়াছে। দাদা গেল ক্ষেপিয়া। কিছুতেই আর চিংড়ি জালে আসিলেন না। সেইদিন রুই কাৎলার দলই দাদার উদরে খাবি খাইলেন। তবে মা'র কারনে দাদাভাই আমার ৩কেজি সাইজের কাৎলা একা খাইবার জেদে অনড় থাকিতে পারিলেন না।

তালুকদারের নাতি আসিয়াছে শুনিয়া এলাকাময় নিমন্ত্রণ করিয়া খাওয়াইবার ধুম পড়িল। পরদিন প্রত্যুষে জানিতে পারিলাম আজিকে আরেক মামা আমাদের আপ্যায়ন করিবার সুযোগ পাইয়াছেন। তিনি দাদার জন্য গোটা মাছ এবং আমার নিমিত্ত নৌকাবিহার করিয়া মৎস্য শিকারের ব্যবস্থা করিয়াছেন। সকালেই চলিয়া গেলাম। আমি যৎপরোনাস্তি মৎস্য শিকার আর দাদা গোটা মাছ খাইয়া বাড়িতে ফিরিয়া জানিতে পারিলাম দূপুরে চিংড়ির ব্যপারী আসিয়া চিংড়ি ধরিয়া লইয়া গিয়াছে। মামা আমার কড়কড়া নোট দেখিয়া সবই বিক্রি করিয়া দিয়াছেন। নোটের নেশায় ভাগীনা মনে আসে নাই। ভাগীনার অবস্থা দেখি মামী মাঠে নামিলেন। জানা গেল ব্যপারী চিংড়ির ধর লইয়া গেলেও তাহার মস্তক লন নাই। চিংড়ির মস্তক নামক জটিল বস্তুখানি বিদেশীদের মুখে রুচে না। আর ঐ মাথার ঘিলু খাইয়াই বাঙ্গালী দুধের স্বাদ ঘোলে মিটায়। অগত্যা চিংড়ির মাথা হইতে ঘিলু চাঁচিয়া বাহির করা হইল। সেই ঘিলু দিয়া যাহা তৈয়ারী করা হইয়াছিল তাহার স্বাদ অদ্যাবধি আমার জিহ্বায় লাগিয়া রহিয়াছে। ভাগ্যে কেহ বিদেশীদের এই ব্যাঞ্জন পাক করিতে শিখায় নাই। তাহা হইলে ইহাও জুটিত না। দাদাভাই চক্ষু হইতে অগ্নি বর্ষণ করিয়া খাইতে খাইতে বলিলেন, ইহাই যদি এত স্বাদ যাহা পাই নাই তাহা না জানি কিরুপ হইবে!!!

বাংলাদেশ পৌঁছিয়া প্রথম বাসনা প্রকাশ করিয়াছিলাম ইলিশ খাইব বলিয়া। ইহাতে সকলেরই সায় ছিল মানে আমারও। কারন এইপারে শিশু মুখেভাতেই জানিতে পারিয়া যায় এইখানের ইলিশের কৌলিন্য নাই। ইলিশ মানেই বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ মানেই ইলিশ। মায়ের গ্রামের বাড়িতে জানিতে পারিয়াছিলাম ঢাকায় গেলে তাহা জুটিবে। অতএব ছিলাম চুপচাপ। ভ্রাতাও আমার এই বিষয়ে অধিক জেদ না করিয়া চুপেচাপে জিভে শান দিয়া যাইতেছিলেন। ঢাকায় পৌঁছিয়াই ভ্রাতা জিহ্বার ধার পরীক্ষা করিতে ব্যাস্ত হইয়া পড়িল। "কপালে নাই ঘি, ঠকঠকাইলে হইবে কি?"। যেই সময়ে আমরা বাংলাদেশে গিয়াছিলাম সেইসময় ইলিশের দল সাগর বক্ষে প্রেম পত্র লিখিতে ব্যাস্ত।

কবে হইবে প্রেম আর মিলিবে কবে?
পাড়িতে আসিয়া ডিম,
কড়াইতে যাবে।

অতএব আবারও দুধের স্বাদ ঘোলে। টিনবন্দি ইলিশ শুঁটকি খাইয়া দেশে ফিরিতে হইল। ভ্রাতা কহিলেন, খালি ডায়লগ, কিছুই নাই। টাঁটকা চিতলের পেটি আর রুই-কাতলা, ফলির ঢেঁকুর তাহার স্মরনে আসিল না।

তাহার পর বহুদিন ইলিশ খাইয়াছি। যেহেতু কিনিতে হইয়াছে এইপারে তাই মৎস ব্যপারী হাজার কসম খাওয়া সত্তেও তাহা বাংলাদেশের ইলিশ সমতুল্য বলিয়া কখনও পরিগনিত হয় নাই। সকলকেই বলা ছিল সম্ভব হইলে বাংলাদেশ হইতে সোজাসুজি আনা ইলিশ হাতে উপস্থিত করিবি। দীর্ঘ ১৫ বৎসর পর এক বন্ধু সেই কর্ম সফল করিল। বাংলাদেশে কেনা ইলিশ "হিলি" বর্ডার দিয়া আমাদের নিকট পৌঁছাইল। মৎসখানি হাতে পাইয়াই বুঝিলাম ইহা রান্নার মাসীর নিকট হস্তান্তরীত করিলে ইলিশভাঁপা না রকেট মাছের ঝোল বুঝা যাইবে না। অতএব "অনুমান" শরনাপন্ন। তাহাদের রন্ধনরুচি সম্পর্কে আমার বিন্দুমাত্র সংশয় ছিল না। মৎস কাটিলেন অনুমান, রাঁধিলেন কাকীমা আর খাইলাম আমরা। ইলিশ লইয়া মেসে যেই কাড়াকাড়ি পড়িল তাহা বর্নিতে আরেক মহাকাব্য হইয়া যাইবে। দুঃখ থাকিয়া গেল, আমি বাংলাদেশী ইলিশ খাইতে পারিলেও ভ্রাতার শানিত জিহ্বায় তাহা দিতে পারিলাম না।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১১:৪৮
মিমিমিশি বলেছেন: শড়্সা ইলিস কাওয়ানোর কতা মনে করায়া দিবার জণ্য ১ দাগাণো হইল।
২. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১১:৫১
কম্পিউটার গুরু বলেছেন: সত্যি বলছি, আপনাদের ইলিশ মাছের তুলনাই হয় না!
৩. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১১:৫১
অনুমান বলেছেন: খাওয়ার ঘটনা নিয়ে
আরেকটা পোস্ট হয়ে যাক। ৫
৪. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১১:৫৪
শামনগড় বলেছেন: ওহ! ফ্রিজে একটা ইলিস মাছ আছে। মনে পৈরা গেলো। কাল রান্না করবো। কি মজা!!!
৫. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১২:০৪
অচেনা বাঙালি বলেছেন: এইবার পোর্চুর ইলিশ আসতেছে। ফিরিজে এখনো দুই তিনটা আছে।
কলাপাতা দিয়ে মুড়াইয়া ইলিশের একটা রান্না আচে। আমি নিজে কয়েকবার রানছিলাম। ঈমানে কৈ, এরম মজার খাওন খুবই কম খাইছি।


মকু, তোমারে পূজার অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
৬. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১২:২৪
শিলা বলেছেন: জিভে জল আসছে!! মনে পড়ছে সেই ছড়া : 'ইলশে গুঁড়ি ইলশে গুঁড়ি!
৭. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১২:২৭
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: দীর্ঘ ১ মাস রোজার রাখনের পর এরম একখান স্বাদু পোস্টরে ৫ দাগাইলাম। তা আপনের দাদার টেস্ট আমার সাথে ভালোই মেলে, চিংড়ি আর ইলিশ, কি বলিবো সেইটা না কইরা আগে খাইয়া নেই!
৮. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:১০
কম্পিউটার গুরু বলেছেন: মইক্রওয়েভ আভন এ ইলিশ রাধার রেসিপি জানা থাকলে সেয়ার করুন। আমি রাধব। জটিল রেসিপি বল্লেকন্তু কীলখাবেন বলেদিলাম।
৯. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:২১
মনের কথা বলেছেন: মাছের সাথে আন্দাজ মতন সর্ষে বাটুন সঙ্গে অল্প পোস্ত। (আপনে আর বাটবেন কেম্বে! গ্রাইন্ড করেন) একটা টিফিন বাটির মধ্যে সর্ষের তেল, কাঁচালঙ্কা, নুন, হলুদ আর সর্ষেবাটা দিয়ে মাছটা মেখে ওভেনের ভিতরে হান্দায় দ্যান। গ্যাসে রান্না করলে ১৫-২০ মিনিট লাগে। আপনের যন্ত্রে কতক্ষন লাগবো জানা নাই। (রেসিপির কপিরাইট কাকীমা মানে "অনুমান" এর ওয়াইফের)
১০. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:৩৪
কম্পিউটার গুরু বলেছেন: এত "ভাপেসেদ্ধ ইলিশ" আমার মা করে। তবে এর থেকেও সহজ বলুন।
১১. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:৩৫
কম্পিউটার গুরু বলেছেন: সর্ষের পেষ্ট ইউজ করা জাবেত ?
১২. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:৪০
মনের কথা বলেছেন: এর চাইতে সহজ রেসিপি হল মাছটা নিয়ে চায়ের ক্যানে জল দিয়ে ওভেনে বসিয়ে দিন। ১০ মিনিট পর বের করে ভাত দিয়ে মেখে খান। (কপিরাইট আপনার)
১৩. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:৪৪
কম্পিউটার গুরু বলেছেন: এ আবার কী ? খাওয়া য়াবে ? বাড়ীতে মা, বাবা নেই - তাই ভাবলাম সহজে নতুন কিছু রাধী।
১৪. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:৪৮
বান্দর মিঞা বলেছেন: ইচা মাচ বর্তা বান্দুর মিঞার প্রিয় খাইদ্য।
১৫. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:৫০
মনের কথা বলেছেন: তাইতো সবচেয়ে সহজ রেসিপিটা দিলাম। সেদ্ধ মাছটাকে সর্ষের তেল, কাঁচালঙ্কা দিয়ে মাখুন। গরম ভাতের সাথে খান। খাওয়ার পরে কেমন লাগলো জানাবেন।
১৬. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:৫৩
ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন: লোভ সামলাতে পারছিনা...! (৫)

খাওয়াবেন না কি?

১৭. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:৫৬
কম্পিউটার গুরু বলেছেন: ঠিক আছে । না খেতে পারলে বুঝবেন !
১৮. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:৫৮
কম্পিউটার গুরু বলেছেন: মাছভাজার রেসিপি টা কী ??
১৯. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ২:০২
মনের কথা বলেছেন: এই জন্যইতো বললাম কেমন লাগলো জানাবেন...আমি নিজেও জানতে চাই এভাবে খেতে কেমন লাগে।

মাছভাজা একি রকম। জল না দিয়ে তেল দিন। মাছভাজা হয়ে যাবে।
২০. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৭
আমি কে বলেছেন: ইলিশ ইলিশ খামু কবে!
২১. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:৪৯
মৈথুনানন্দ বলেছেন: তনুকে খুব ভালোবাসেন বলে মনে হল।
২৩. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৫:০৩
মনের কথা বলেছেন: @কম্পিউটার গুরু, মাছ কেমন খাইলেন বললেন না এখনো।
@মৈথুনানন্দ, আমি অরে দুই চক্ষে দেখতে পারি না।
@রাশু, তুমার ঐখানে মাছের সাপ্লাই নাই!!
২৪. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৫:০৪
মনের কথা বলেছেন: @অচু তুমারেও অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
২৫. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:২১
অনুমান বলেছেন: @মনের কথা
তুই তো পূজোয় বাড়ী গেলি, আমাদের বাড়ীতে যে কোনো পূজোয় জোড়া ইলিশ হবেই । এবারও দুদিন জোড়া জোড়া ইলিশ হয়েছে, তোকে মিস করলাম।
২৬. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ২:৪১
মনের কথা বলেছেন: ইসসসসসস........আমাদের নিয়ম আছে বিজয়াদশমী তে কাউকে প্রনাম করতে গেলে ইলিশ না খেয়ে ফিরতে নেই।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০০০৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
অনেক কথা 'মনের কথা' হলেও সবসময় তা প্রকাশ করা সম্ভব হয়না। কেননা তাতে তর্ক-বিতর্কের অবকাশ থাকে। তার মানে এই নয়...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই