ভূপেন, কালের বিবর্তনে সময়ের গায়ে রঙ
লেগেছে অনেক, কাল কে সাক্ষী রেখে তুমি হয়েছ বুড়ো খোকা।
শরীরের চামড়া গেছে ঝুলে, চুলে পাক- চোখ চালসের;
সাম্যবাদের গান এখন পুরোন, তবু গুটি কয়েক কন্ঠে
বেজে উঠে চকিতে।
শরৎবাবু কে দেয়া তোমার খোলা চিঠি এখনো আমার
পুরোন দেরাজে, ধুলিতে মাখামাখি। আমার দেরাজটিও
তোমার মত বুড়ো হয়ে গেছে, কালের অনেক সাক্ষী যক্ষের
ধনের মত আঁকড়ে আছে। আমার শৈশবকালের ছবি, কিশোরকালের
উদ্ভ্রান্ত প্রেম আর উম্মাদনা-সব আছে ঐ বুড়ো দেরাজে; তোমার চিঠিকে
সাথী করে ধুলোয় ষোল গুটির ছক এঁকে খেলা করে।
ভূপেন, তোমার সেই খোলা চিঠির প্রাপক এখন নেই; কিন্তু চিঠির
প্রতিটি শব্দ এখনো সত্যের প্রহরী, শহীদের রক্ত কে আমরা নীল
বলতে পারি-কিংবা ভুলে যেতে পারি, ইতিহাস কে উলটো করে
পড়ে নিজ দেশকেই কুফরী বান মারতে পারি, রক্তাক্ত রাজাকারের হাতে চুম্বন দিতে দ্বিধা করিনা; কিন্তু সেই চিঠি কে অস্বীকার করার কোন ছক আমাদের জানা নেই।
কেননা! এখন গফুর, মহেশের দৃষ্টি থাকে আকাশপানে, নক্ষত্র গুনেনা
কিংবা আকাশের মেঘের রংতুলি তে ক্যানভাস ভরেনা। চোখ তাদের স্থবির-
নিঃস্পলক, চোখ উত্তর খোঁজে- কখন আসবে ত্রানের যান্ত্রিক পাখী?
ভূপেন, কালের বিবর্তনে সময়ের গায়ে রঙ লেগেছে অনেক,
কাল কে সাক্ষী রেখে তুমি হয়েছ বুড়ো খোকা।
আরেকটি খোলা চিঠির রচয়িতা হবার সময় তোমার নেই
কেননা! গেলবার থেকে দেখছি তুমি হয়ে গেছ পন্য।
আপোষের সাথে উঠানামা করে তোমার মূল্যসূচক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

