আজকাল জনকল্যনের নতুন নতুন নমুনা দেখা যাচ্ছে।দাতব্য প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো জনসেবায় যেন উঠে পড়ে লেগেছে।দুর্যোগের ত্রান থেকে শুরু করে "হোম সার্ভিস"এর মাধ্যমে কুশনের কভারটি পর্যন্ত পৌছে দিচ্ছে জণগনের দ্বারে দ্বারে।শিক্ষা,চিকিৎসা,আবাসন,সমাকল্যাণ সহ বিভিন্ন জনহিতকর অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে তাদের উপস্হিতি হয়ে ওঠে "জনকল্যানকর"(!)
কিন্তু আসল ব্যাপারটি কি?
আসলে জনকল্যানের Rapping Paper-এ মোড়ানো থাকে তাদের আসল উদ্দেশ্য... প্রচার ও মুনাফা।আমাদের দাঁত শক্ত হবে কোন মাজনে,কোন সাবানে আমাদের শতভাগ হালাল গোসল হবে,কোন দুধে বাচ্চার হাড় ও বুদ্ধির বিকাশ হবে তা আমাদের বিনা পয়সায় সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে তারা জানিয়ে দিচ্ছে।এটাও তাদের জনকল্যান বৈকি!
সম্প্রতি কর্পোরেট গোষ্ঠীগুলো স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মেধার পৃষ্ঠপোষকতার নামে ছাত্র বৃত্তির প্রদান করছে।কিন্তু প্রকৃতপক্ষেই কি তারা মেধার পৃষ্ঠপোষকতা করছে?
আসুন এবার আমরা একটি অংক মিলাই।
ধরুন একটি বহুজাতিক কোম্পানি ঠিক করল এক বছরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০ জন ছাত্রকে মাথাপিছু ৫০০০ টাকা বৃত্তি প্রদান করবে।এক্ষেত্রে ছাত্রদের তারা দিচ্ছে ২৫০০০০টাকা ।অথচ এ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস ও নগরজুড়ে কোম্পানির নাম ও লোগো সর্বস্ব পোষ্টারিং -এ,পাঁচতারা হোটেলের বলরুম ভাড়া করতে,বিদেশি ভিআইপিদের নিমন্ত্রন ও আপ্যায়নে সাকুল্যে তারা ব্যয করছে প্রায় ২৫,০০০০০টাকা !
অংকটার ফলাফল কি দাড়ালো... কোম্পানির প্রচার ও অত:পর মুনাফা।
আসলে এটাই কর্পোরেট গোষ্ঠিগুলোর জনকল্যান!
তথাকথিত এই জনকল্যানের বেদীতে বলি হচ্ছি আমরা তৃতীয় বিশ্বের তৃতীয শ্রেণীর জনগণ।আমাদের ক্ষুধা ও হতাশাকে পুঁজি করে জনকল্যানের নামে ওদের ব্যবসাকে ফুলিয়ে ফাপিয়ে তুলছে।
এমনতর জনকল্যান কি আমাদের কাম্য?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


