আমার প্রিয় পোস্ট

যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরানী প্রকাশ্য পথে হত্যার প্রতিশোধ চায়না আমি তাদের ঘৃণা করি

অরুন্ধতী রায়ের স্বাক্ষাৎকার,ভাষ্কর্য বিবাদ,লালন উৎখাতের মচ্ছব,হাওয়ার ওপর তাওয়া গরম করে পিঠা ভাজা,এবং রাজনীতির মারেফত দর্শনের টেলিস্কোপে প্রকৃত শত্রু খোঁজার ব্যর্থ চেষ্টা

২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১০:৪৭

শেয়ারঃ
0 0 0

"অরুন্ধতী রায়ের স্বাক্ষাৎকার: শাবাশ নতুন ভারত ! ,ভাষ্কর্য বিবাদ: লালন উৎখাতের মচ্ছব বসিয়ে হাওয়ার ওপর তাওয়া গরম করে কার জন্য পিঠা ভাজা হচ্ছ? রিফাত হাসানরে 'ফাজলামীর সীমা' এবং ফুটনোটের গবাক্ষপথে রাজনীতির মারফেত র্দশন।"
এই তিনটি বিষয় নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে সত্যি সত্যি ব্লগের ’তাওয়া’ গরম হয়ে আছে।এর বাইরেও আরো কয়েক জনের লেখা আছে এই বিষয়ে।সব গুলো বিষয় টেনে আনলে পাঠকের ধর্যচ্যুতি ঘটতে পারে, তাই শুধু এই বিষয়েই আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখতে হচ্ছে।

”অরুন্ধতী রায়ের স্বাক্ষাৎকার:শাবাশ নতুন ভারত” লেখাটা আসার পর আমি বন্ধুবর ফারুকের পোস্টে মন্তব্য করেছিলাম।
"আর সবাই যাকে খলনায়ক মনে করে অথাৎ সেই মাওবাদী এবং আসাম-কাশ্মীররে বিছিন্নতাবাদী ও ইসলামী সন্ত্রাসীদরে ভূমিকারও নতুন মূল্যায়ন করনে তিনি। আসলে এরা যে ভারতীয় রাষ্ট্ররে উচ্চর্বণবাসীদরেই প্রতক্রিয়া, সেটা না বুঝলে সহজেই আমরা বুশের ওয়ার অন টরেররে খপ্পরে পড়ে পঞ্চম বাহিনীর ভূমিকায় অবর্তীণ হয়ে যাব। আমি লক্ষ্য করেছি বরাবরই কেউ কেউ মাওবাদীদের আসাম-কাশ্মীররে পৃথক রাষ্ট্রকামীদরে সাথে এক করে উপস্থাপন করনে।এটা যে অরিচ্ছাকৃত তেমন নয়। খুব সচতেন ভাবেই করা হয়। আলোচ্য অরুন্ধতীও এর ব্যতক্রিম নন।এবং অনুবাদক/উপস্থাপক ফারুখ ওয়াসফি ও তা-ই করনে। এটা করে মাওবাদীদের যা কিছু এ্যাচভিমন্টে তার শেয়ার জঙ্গি মৌলবাদীদের দেওয়া হয়, তেমনি র্ধমশ্রয়ী জঙ্গিদের শ্বেত সন্ত্রাসের দায়ভার মাওবাদীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়। এই ন্যাক্কারজনক কাজটি তথাকথতি লোরয়িটেরা যমেন করেন,তেমনি মুক্তচিন্তা আর মুক্তবুদ্ধির প্রতিভূরাও অবলীলায় করে চলছেনে। এই সকল সরলিকরণ গুলোকে ইনক্যাশ করে র্বণ ক্রিমিনাল ধর্মিয় মৌলবাদীরা।যেমন এই পোস্ট তাদের জন্য আর্শীবাদ' হয়ে আর্বিভূত হয়ছে।"

এর উত্তরে ফারুক ওয়াসিফ জানালেন----

” র্জার্মানিতে যেমন ভাবে ইহুদিদের নিশানায় রেখে ফ্যাসিবাদ দাঁড়িয়েছিল, ভারতে তেমনি মুসলমানদের নিশানায় রেখে গৈরিক ফ্যাসিবাদ দাঁড়িয়েছেছে। আবার ইসরায়েলে যেমন ইহুদি র্ধমতাত্বিক(অর্থাৎ আপনারা যাকে বলনে মৌলবাদী) রাষ্ট্র, ভারতকেও বিজেপি ও অন্যরা এবং বৃহৎ ভারতীয় পুঁজি হিন্দু র্ধমতাত্ত্বিক রাষ্ট্র বানাতে চায়। এর সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করলে দেখব, বাংলাদেশের হিন্দুরা এখানকার কাঁচা র্ধমীয় ফ্যাসিবাদের লক্ষ্যবস্তু। তবে র্দুবল অর্থনৈতিক ভিত্তি এবং অদক্ষ-অযোগ্যনেতৃত্বের কারণে ইসলামী আধপিত্যবাদ এখানে ডমিন্যান্ট হয়ে উঠতে পারবে না। তারা হবে মার্কিন-পাকিস্তান-ভারত-ইসরায়েলের পঞ্চম বাহিনী। এদের বাইরে যদি কোনো ধারা থাকে যারা নিজ জনগণকে পীড়ন করে না এবং যারা পুঁজিবাদ বিরোধী, আমি তাদের গণশত্রু বলব না। যদিও তেমন কেউ বাংলাদেশে নাই। এটা বললাম, আমার অবস্থান বোঝাবার জন্য। সে কারণে গৈরিক পুজিবাদী ফ্যাসিবাদের ডাইনে ইসলামী জঙ্গি বাঁয়ে মাওবাদী বপ্লিবী, এভাবে বলার মধ্যে সর্তকতা থাকা দরকার সত্য। কিন্তু আমি আমাদের অনেক সহযোদ্ধার ভাষা ও বুলরি মধ্যে ফারাকে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভাষা ও রাজনীতির প্রচ্ছন্ন ছাপ দখছি, তাতে আরো ভয় পাই। ওরা চায় আমাদের একাংশকে জঙ্গি এবং আরএক অংশকে আলোকিত পশ্চিমের অনুসারী করে সভিল ওয়ার বাঁধাতে।শেষে তারা আসবে আমার গরিব জনগণকে মেরে আমাদের আলোকে রক্ষা করতে। এই বিভাজনের ফল কী তা ইরাকের দিকে তাকিয়ে বোঝা যায়। ইসলাম আজ সাম্রাজ্যের সহজ শিকার, সেকারণে ইসলামকে প্রতিরোধের কেন্দ্র ভাবার প্রতারণামূলক চিন্তার খাতক আমি নই। আবার ইসলামই এক নম্বর শত্রু এমন র্বণবাদী এবং পশ্চিমা আধিপত্যবাদের অচতেন অনুসরণে আমি ভীত হই। আমাদের মগজকে এই দুই বিপদ থেকে রক্ষা করা জরুরি।”এ বিষয়ে আরো জানতে এখানে দেখুন এখানে মুশকিল হলো ফারুক অরুন্ধতী পোস্টে যে বিষয়টিকে মাথায় রাখতে বলছেন,সেই বিষয়টিই তার মাথা থেকে সরে যাচ্ছে তিনি যখন রিফাত হাসানের পোস্টের প্রতিউত্তর করছেন।আর এই দৈতস্বত্তার উপস্থিতি আমাকে এই পোস্ট লিখতে নিরুপায় করল।

তিনি এই যে অরুন্ধতীর লেখা জেড নেট থেকে নামিয়ে আমাদের পরিবেশন করছেন,সেটা কিন্তু কোন হঠাৎ লেখা নয়। তিনি লাগাতার একাজটি করে যাচ্ছেন।বিভিন্ন ব্লগে, সংবাদপত্রে লেখা গুলো ছাপা হচ্ছে।আমার বিনীত প্রশ্ন এবং আপত্তিটা এখানেই।অরুন্ধতী এবং তার অনুবাদকের লেখা দেখে সাধারণের মনে হতেই পারে যে, পরমানু চুক্তির পর ভারতই এই অঞ্চলে মার্কিনের ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে।যদিও আমরা জানি,ভারত এ কাজটা অনেক আগে থেকেই করছে।আমার আপত্তির জায়গাটা তার পোস্টে সবিস্তারে দেওয়া যায়নি। এখন এই দুজনের কাছেই প্রশ্নঃ ভারতীয় জুজু ছাড়া কি বিশ্বে আর কোন জুজুর উপস্থিতি নেই এখন?অরুন্ধতী যে দেশে বাস করেন তিনি সেখানকার সমাজচিত্র নির্মাণ করবেন,সেটা খুবই সঙ্গত,কিন্তু ফারুক যখন আমাদের সাবধান বা সচেতন করবার জন্য এই সতর্কবাণী গুলো প্রচার করবেন তার কি তলিয়ে দেখা কর্তব্য নয় যে, নিপীড়িত মানুষের সংগ্রামকে আর কোথায় কি ভাবে দমন করা হচ্ছে?

সমসাময়ীক কিছু ঘটনার উল্লেখ এখানে প্রাসঙ্গিকঃ
১। পিনোশে’র চিলিতে মাওবাদী নেতা গঞ্জালোকে মাটির নিচে অন্ধকার কুঠরিতে বছরের পর বছর বন্দি করে রাখা হয়েছে।আরআইএম বা(রেভ্যূলুশনারী ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট) গঞ্জালোর মুক্তির জন্য সারা বিশ্বের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা-কর্মিদের ,বিপ্লবীদের আহ্বান জানিয়েছিল। অরুন্ধতী বা তার ’দর্শন’ প্রচারকেরা কি এক বারের জন্যেও গঞ্জালোর মুক্তি বিষয়ে কিছু বলেছেন? না।
২।ইরান দখলের পর খোমেনী প্রথম চোটেই ২০/২২ হাজার কমিউনিস্ট হত্যা করেছিল। এখনো ইরানে প্রায় প্রতি দিনই কমিউনিস্ট নিধন কাজটা ঈমান-আক্বিদার সাথেই করা হচ্ছে!
সেখানে কেন এই বিশ্ব মানবতাবাদীর তিক্ষ্ণ নজর পড়ছে না?
৩।'পিকেকে' কে নির্মূল করার জন্য তুরষ্ক,ইরান,ইরাক এক হয়ে আক্রমন করছে। তুরষ্ক গত এক বছর ধরে ইরাকী ভূখন্ডে ঢুকে কুর্দিদের নির্বিচারে হত্যা করে আসছে।এমন একটা বর্বর আক্রমন সারা বিশ্ব তাকিয়ে দেখছে। আমাদের অরুন্ধতীও দেখছেন।
৪।আফগানিস্তানে তালিবানরা যখন নজিবুল্লাকে হত্যা করে তিন দিন লাইটপোস্টে ঝুলিয়ে রাখছে বর্বর যুগের সিস্টেম মত,তখনো এই মানবতাবাদীদের নজর অতদূর অব্দি পৌঁছাচ্ছে না!
৫।এক সময়কার কমিউনিস্ট চীন প্রচন্দর মাওবাদী বিপ্লবের একেবারে শেষের দিকে এসে আড়াইশ’বছরের রাজকীয় শাসনকে বরং সমর্থন করে যাচ্ছে।মাওবাদীরা যখন সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে প্রায় ক্ষমতা দখলের কাছাকাছি,তখনো চীন ’চির শত্র“’ভারতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কৈরালা গং আর রাজা কে সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছে।সে সময়ও এই আধুনিক মানবতাবাদীদের কলম তব্দা খেয়ে থাকছে।

এত সব উদ্ধৃতি এজন্য টানা হলো,কারণ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিপদ ভারতকে অবলম্বন করে বা পঞ্চম বাহিনী তৈরি যে নয় সেটা বোঝাতে।সারা বিশ্বজুড়ে যে নিপীড়ন গণহত্যা চলছে সেগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে কেবল মাত্র ভারতীয় জুজু দেখাটা মনে করিয়ে দেয় ইউরোপের সেই কমিউনিস্ট জুজু দেখার কথা।ফারুকের এই তিনটি প্রবন্ধই প্রকারন্তরে একটা দিক নির্দেশ করছে। আর তা হলো ইসলামী মৌলবাদী আগ্রাসনের বিপদের চেয়ে ভারতীয় গৈরিক হিন্দুত্ববাদী বিপদের ভয় বেশি।যেমনটি অরুন্ধতী বলে চলেছেন।

এবার প্রিতীভাজনেষু ফারুক কে কিছু দর্শনের আদি কথা মনে করিয়ে দেওয়া আবশ্যক. যা তিনি হয় ভুলে বসেছেন, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে চলেছে।আর এতে করে তার লেখা হয়ত সার্বিকভাবে মহৎ উদ্দেশ্যেই লিখিত হয়েছে বা হচ্ছে,কিন্তু তার তির্যক আকোচ্ছটা গিয়ে পড়ছে র‌্যাডিক্যাল ধর্মিয় ফ্যাসিবাদীদের ওপর। ফারুক নিজেই বলছেন----

” ইসলাম আজ সাম্রাজ্যের সহজ শিকার, সেকারণে ইসলামকে প্রতিরোধের কেন্দ্র ভাবার প্রতারণামূলক চিন্তার খাতক আমি নই। আবার ইসলামই এক নম্বর শত্রু এমন র্বণবাদী এবং পশ্চিমি আধিপত্যবাদী অচতেন অনুসরণে আমি ভীত হই। আমাদের মগজকে এই দুই বিপদ থেকে রক্ষা করা জরুর।”আমাদের মগজকে এই দুই বিপদ থেকে রা করা জরুরি।” বলার অর্থ হচ্ছে,তিনি এই দুই বিপদ বিষয়েই ওয়াকিবহাল।অথচ তার এই কথাটাতে কি মনে হয় ----” ভারতকে বিজেপি ও অন্যরা এবং বৃহৎ ভারতীয় পুঁজি হিন্দু র্ধমতাত্ত্বিক রাষ্ট্র বানাতে চায়। এর সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করলে দখব, বাংলাদেশের হিন্দুরা এখানকার কাঁচা র্ধমীয় ফ্যাসিবাদের লক্ষ্যবস্তু। তবে র্দুবল অর্থনৈতিক ভিত্তি এবং অদক্ষ-অযোগ্য নেতৃত্বের কারণে ইসলামী আধপিত্যবাদ এখানে ডমিন্যান্ট হয়ে উঠতে পারবে না। তারা হবেমার্কিন-পাকিস্তান-ভারত-ইসরায়েলের পঞ্চম বাহিনী।”
অর্থাৎ তিনি এখানকার ধর্মিয় ফ্যাসিবাদকে খাট করে দেখছেন,কার্যত আমলেই আনছেন না! এই তিনিই আবার রিফাত হাসানের পোস্টে যেয়ে ঠিক এর বিপরীতটা বলছেন। দেখুন--- "এই জরুরি অবস্থাতে আমরা দেখছি আমিনী গং দের বলপ্রয়োগের ক্ষমতা আর রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের শক্তি দুজনে দুজনার হয়ে কাজ করছে কোনো এক মায়াবী যাদুবলে। গত এক দশকে এই ঐক্যের ভুরি ভুরি নজির হাজির হয়েছে। এসব প্রশ্নের জবাব তাই আমাদের খুঁজতেই হয়। যতই খেলাফতের মোরতবা কানে বাজুক, যতই একদিকে ওয়ার অন টেরর অলা শিল্পবাদী-জাতীয়তাবাদী কলোনিয়াল এলিট আর এক দিকে র্মূর্তিবিদ্বেষী জেহাদীদের মাতম। আর রাষ্ট্র আধা সামন্তীয় ইসলাম আর আধা পুঁজিবাদের এক খচ্চর রাষ্ট্রর্ধম জন্ম দিক। সেইটারে প্রতিরোধধ করা র্কতব্য কি র্কতব্য না সেটা জানতে সাধ হয়।”
আমারও এখন জানতে সাধ হচ্ছে ,আমরা কোনটাকে ধর্তব্য মনে করব? সবই কি গুলিয়ে যাচ্ছে না?
ফারুক আমাদের ইসলামী মৌলবাদী(তার মতে ’আমাদের ভাষায়')দের বলছেন-- র্দুবল অর্থনৈতৈকি ভিত্তি এবং অদক্ষ-অযোগ্য নেতৃত্ত্বের কারণে ইসলামী আধপিত্যবাদ এখানে ডমিন্যান্ট হয়ে উঠতে পারবে না।”
একজন পোস্ট মডার্ণ মাকর্সবাদী,একজন উদীয়মান সংবাদ কর্মি,একজন আন্দোলনের পুরোধা---তাকে কি মনে করিয়ে দিতে হবে এদেশের মৌলবাদীদের গত এক দশকের কালপঞ্জি?এক এক করে কি তাকে দেখিয়ে দিতে হবে এই এক দশকে তাদের হাতে কতজন দরিদ্র কৃষক ’সর্বহারা’ ট্যাগ প্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে? রাষ্ট্রের ক্ষমতাগুলো রাষ্ট্রের মত করেই কতবার তারা ব্যবহার করেছে? ফারুক কি ভুলে গেছেন নওগাঁর সেই হত্যা করে নজিবুল্লার মত গাছে ঝুলিয়ে রাখার দৃশ্য?

এই সঙ্গে তাকে একটু ইতিহাস স্মরণ করানো আবশ্যক।”পাকিস্তান দাবি আদায়ের জন্য জিন্না ১৬ আগষ্ট ১৯৪৬ প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস আহ্বান করলে ওই দিন কোলকাতা এবং পরে বিহার ও পাঞ্জাবে বিভৎস সা¤প্রদায়ীক দাঙ্গা,হত্যা,লুট ও নারী নির্যাতন শুরু হয় এই দাঙ্গায় প্রত্যক্ষ ভাবে ইন্ধন যুগিয়েছিলেন বাংলার মূখ্যমন্ত্রী লীগ নেতা সোহরাওয়ার্দী(স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত।তারিখ,অভিধান,১৭৫৭-১৯৪৭।অসিতাভ দাশ।পত্রলেখা পাবলিশার্স)
ফারুক এই অবসরে আমাকে মাকর্সবাদ থেকে বিচ্যুতও ধরে নিয়েছেন।আমি খুব বিনীত ভাবেই তার কাছে মাকর্সবাদের দীক্ষা নিতে রাজি। কিন্তু সেই মাকর্সবাদ হতে হবে মাকর্সবাদই। কার্ল পপার,সাঈদ বা চমোস্কির মডার্ণ মাকর্সবাদ নয়। ফারুক ওয়াসিফদের সমস্যা হলো তারা মাকর্সবাদী ভাববেন নিজেদের,আবার শ্রেণী সংগ্রামের প্রশ্ন সামনে এলেই শ্রেণী সমন্বয়ের চলনসই যুক্তি তক্কো হাজির করে কখনো 'উগ্রবাদ' কখনো 'হঠকারী' আখ্যা দিয়ে শ্রেণী সংগ্রামের বিকোশিত রূপ বা চূড়ান্ত রূপকেই অস্বীকার করবেন।শ্রমিক শ্রেণীর শাসন প্রসঙ্গে লেনিনের উক্তিঃ যারা কেবল শ্রেনী সংগ্রামকে স্বীকার করে তারা তথাপি মাকর্সবাদী নয়-----একমাত্র সে-ই মাকর্সবাদী যে শ্রেণি সংগ্রামের স্বীকৃতিকে সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্ব’এর স্বীকৃতি পর্যন্ত বিস্তৃত করে। মাকর্সবাদী এবং সাধারণ পেটি বুর্জোয়ার মধ্যে এটাই হচ্ছে সবচেয়ে গভীর পার্থক্য(লেনিন সংকলিত রচনাবলী.খন্ড২৫,পৃষ্ঠা ৪১১)।

এখন মাকর্সবাদীর এই অবস্থানে নিশ্চই আমরা ফারুক কে, অরুন্ধুতীকে পাব না। তার দরকারও নেই। কিন্তু ইনিই আবার কি করে বলে বসেন-----” এই ব্লগে এমন কিছু প্রাইভটে বিপ্লবী দেখা যায়, যারা ঘররে মধ্যে ধানচাষ করবনে বলে স্থরি করছেনে। তাদের থেকে সাবধান।”! এখন পাঠক কি ভাবে বিবেচনা করবেন যে কে ঘরের মধ্যে ধান চাষ করতে চাইছে?

আমার শেষ কথা। ফারুক বরাবরই দুই দিক মাথায় রাখার কথা বলেন।দুই বিপদের কথাই মনে করিয়ে দেন। কিন্তু যে রকম দৃঢ়তায় তিনি ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীদের আগ্রাসনের বিপদ অংকন করেন ঠিক সেই পরিমান গুরুত্ব দিয়ে ইসলামী ধর্মিয় ফ্যাসিবাদীদের চিত্রায়ন করতে পারেন না। এটাকে এখন আর ’পারেন না’ বলা অনুচিৎ। বলা যেতে পারে বলেন না।এই না-বলা,এই ধর্মিয় ফ্যাসিবাদকে খাট করে দেখা এগুলোই একসময় চিন্তা জরায়ুতে বড় হয়। ডালপালা গজায়। এবং সেই ডালপালার সাথে শ্রেণী অবস্থানের আপোষ যোগ হয়ে ওয়েলফেয়ার স্টেট বা কল্যানকামী রাষ্ট্র অথবা মৃদু গণতান্ত্রিক অভিঘাতে রূপ নেয়। যার চূড়ান্ত অবস্থান এ্যাবস্ট্রাক্টলি ধর্মিয় ফ্যাসিবাদকে সুড়সুড়ি দেওয়া। এরই চুড়ান্ত প্রকাশ হচ্ছে মোজাফ্ফর আহম্মদের ’ধর্ম কর্ম সমাজতন্ত্র’,এবং ফরহাদ মজহারের ’জিহাদ ই শ্রেণী সংগ্রাম’ ত্বত্ত্ব। আমার ভীতিটা এখানেই।আমার খুব জানতে সাধ হয় ,সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পর মাও চিন্তা বা মাওবাদ কে অস্বীকার করে কি এ যুগে মাকর্সবাদী থাকা যায়? নাকি মাকর্স-লেনিনের বিপ্লবী ত্বত্ত্বকে বাস্তবায়ন করা যায়? ভারতে এম এন রায়, মুজাফ্ফর আহম্মদ,নাম্বুদ্রিপাদ,নাগা রেড্ডি প্রমূখেরা তো চীনা কমিউনিস্টর ও আগে পার্টি গঠন করেছিলেন। তাহলে একটা সর্বভারতব্যাপী কৃষক আন্দোলন গড়ে তুলতে 'সিএম' পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো কেন? ফারুক হয়ত জানেন না।এই মাপের অনেক বিলাসী মাকর্সবাদীরাই জানেন না, কেন 'সিএম' গাদা গাদা বই পড়তে নিষেধ করতেন? গাদা গাদা বই মাকর্সবাদকে একাডেমিক সুররিয়ালিজমের তুলিতে সেমিনার-সেম্পোজিয়ামের বৃহৎ ক্যানভাসে কেবলই বিমূর্ত ছবি আঁকা শেখায়। খোকন মজুমদাররা যখন পার্টি লাইনে আট দলিলের ব্যাখ্যা দাবি করলেন তার উত্তরে সিএম বলেছিলেন সেই কথাটা---প্রশ্নঃ হোয়াট ইজ টু বি ডান? উত্তরঃ রিড রেড বুক এন্ড দ্যাট ইজ টু বি ডান।

সাম্রাজ্যবাদ আর ধর্মিয় ফ্যাসিবাদ যে একই ভাবে গণতন্ত্র আর শ্রেণী-পেশার লড়াইকে প্রতিহত করে,নির্মূল করে সেটা বায়বীয় ভাবে আপনারা স্বীকার করেন বটে,কিন্তু তুল্য বিচারে এসেই ধুর্ময়,বিশেষ করে ইসলামী ফ্যাসিবাদকে লঘু করে দেখতে ভাল বাসেন।এই মাপের নাদানির খেসারত সারা বিশ্ব এখন দিচ্ছে,আমরাও দেব।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মৌলবাদমাকর্সবাদমৌলবাদমাকর্সবাদ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: সমসাময়ীক রাজনীতি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০১০ রাত ৩:৪৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১০:৫৬
নুশেরা বলেছেন: "যে রকম দৃঢ়তায় তিনি ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীদের আগ্রাসনের বিপদ অংকন করেন ঠিক সেই পরিমান গুরুত্ব দিয়ে ইসলামী ধর্মিয় ফ্যাসিবাদীদের চিত্রায়ন করতে পারেন না। এটাকে এখন আর ’পারেন না’ বলা অনুচিৎ। বলা যেতে পারে বলেন না।এই না-বলা,এই ধর্মিয় ফ্যাসিবাদকে খাট করে দেখা এগুলোই একসময় চিন্তা জরায়ুতে বড় হয়। ডালপালা গজায়।"
একদম মনের কথাটা বলে দিয়েছেন, মনজুরুল ভাই। আর কিছু বলার নেই।
২. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:০৫
মাহিরাহি বলেছেন: মোহাম্মদ দাউদকে হত্যা করে যখন সেখানে কমিউন্যিজম প্রতিষ্ঠার আয়োজন চলে তখন প্রথম ধাক্কাতেই মেরে ফেলা হয় ১১ হাজার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে।
একলক্ষ রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক নেতৃত্ব কাবুল ছেড়ে পালিয়ে যায়, যার ফলে সবক্ষেত্রেই শূন্যতার সৃষ্টি হয়। ধর্মকে মুছে ফেলার আয়োজন চলে। দাড়ি রাখা নিষিদ্ধ করা হয়, বোরখা পড়া নিষিদ্ধ করা হয়, মসজিদের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। সর্বত্র সৃষ্টি করা হয় অরাজক পরিস্থিতির।
১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সালে আরো মারা হয় ২৭ হাজার মানুষকে, যার অধিকাংশ ছিলেন মোল্লা কিংবা গোত্র প্রধান। আমিরিকান রাষ্ট্রদুতকেও মারতে দ্বিধা করেনি এরা।
৩. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:০৫
বাবু>বাবুয়া>বাবুই বলেছেন: ইরান দখলের পর খোমেনী প্রথম চোটেই ২০/২২ হাজার কমিউনিস্ট হত্যা করেছিল।
তথ্য সুত্র কি?
ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের মাধ্যমে খোমেনী ইরানের ক্ষমতা লাভ করে। যেখানে ইরানের সর্বস্তরের জনগনের স্বতষ্ফুর্ত অংশগ্রহন ছিল। এটাকে কোন ভাবেই দখল বলা যায় কি?
খোমিনী কিছু জেনারেলকে হত্যা করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল " যে সব কুকুর প্রতিদিন ১০-১২ কেজি গেশত খায় তাদেরকে হঠাৎ ২-১ কেজি দিলে তারা মানবে না বিদ্রহ করবে, এসব কুকুর না রাখায় ভাল যেহেতু আমি ১০-১২ কেজি দিতে পারব না।"
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:১৩

লেখক বলেছেন: ইরানের বিপ্লব রক্তপাতহীন ছিল না।মস্কোপন্থি কমিউনিস্টরা সেই রক্তপাতময় 'বিপ্লব' থেকে রক্ষা পেলেও চীনপন্থিরা পায়নি ।রেজা শাহ এর অনুগামীরাও রক্ষা পায়নি।। তথ্য সূত্র: সেই সময়কার একাধিক সংবাদ পত্র।

মন্তব্য দেয়ায় ধন্যবাদ।

৪. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:১৪
মাহিরাহি বলেছেন: মনজুরুল ভাই আপনার সাথে বাহাস করার মত মেধা আমার নেই।

শুধু কয়টা বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করা মাত্র।

নজিবুল্লারা আফগানিস্থানে কি করেছিল, উপরের কয়টা লাইন পড়ে দেখবেন দয়া করে সবটাই গুগুল থেকে নেয়া।
এসবকিছুর পর অশিক্ষিত মোল্লাদের নজিবুল্লার সাথে কিরূপ আচরন করা উচিত ছিল বলে মনে করেন।

আরেকটা বিষয় প্রায়শ:ই আমার কাস্মিরী জংগীদের কথা শুনে থাকি। মৌলবাদিত্বের দোষে দোষী সাব্যস্ত করা তাদেরকে।

কিন্তু বিবিসির বাংলা অনুষ্ঠানে অশান্ত কাশ্মিরী উপত্যাকা নামক একটি ধারাবাহিক অনুষ্ঠান শুনে আমি হা হয়ে গেছিলাম। প্রকাশিত সত্যগুলো ছিল অবাক করার মত।

এদেরকে ইসলামী জংগী বলে এদের স্বাধিকার আন্দোলনকে কিভাবে বছরের পর বছর দমিয়ে রাখা হয়েছিল, তা অনুষ্ঠানটি শুনলেই বুঝা যায়।

অবাক হলাম জেনে ভারত সৃষ্টির পর ভারত সরকার উগ্র হিন্দু আর শিখদের অস্র সরবরাহ করেছিল নিরাপরাধ কাস্মিরিদের নিধন করার জন্য।

২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:৩৬

লেখক বলেছেন: নজিবুল্লার অত্যাচারকে আমি খাটও করছি না,সমর্থনও করছি না। আমার বক্তব্য: অরুন্ধতীর দুষ্টিভঙ্গি নিয়ে। তিনি যখন দেখবেন তখন দেখাটা নির্মোহ হওয়া উচিৎ। অর্থাৎ যেখানেই যে ধরণের অত্যাচার সেটা গণমানুষের পক্ষে তুলে আনা বা প্রতিবাদ হওয়া দরকার।আমি যে যে অত্যাচার নিপীড়নের চিত্র দিলাম তার চেয়ে আরো ভয়াবহ ঘটনা ঘটে চলেছে আমাদের চোখের সামনে।আমরা জানি ইন্দোনেশিয়ায় সুহার্তো ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষ খুনকরেছে।সেটা কি আমাদের কোন 'বিবেকের' কলমে এসছে ?

৬. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:১৬
রাজর্ষী বলেছেন: এখানে ট্রান্সফরমেশন চলছে এখন
৭. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:১৮
বাবু>বাবুয়া>বাবুই বলেছেন: @নুশেরা, ইসলামী ধর্মিয় ফ্যাসিবাদীদের চিত্রায়ন করতে আপনারা আছেন না? হিন্দুত্ববাদীদের আগ্রাসনের বিপদ অংকন করতেও তো কেউ থাকা দরকার। আপনাদের চোখে কেবল দাড়ি-টুপিই ধরা পড়ে।
কারন এরা দলে ভারী।
একটা নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে নেওয়া একটা সাক্ষাৎকার দিয়ে অরুন্ধতীকে বিচার করা ঠিক হচ্ছে কি?
৮. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:২২
নুশেরা বলেছেন: @বাবু>বাবুয়া>বাবুই-
আমাকে টানছেন কেন! লেখা নিয়ে আপনার দ্বিমত থাকতেই পারে, লেখকের সঙ্গে আলাপচারিতাতেই সেটা বিশ্লেষিত হোক।
৯. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:৩৪
বাবু>বাবুয়া>বাবুই বলেছেন: @ নুশেরা, আমি টানি নাই। মন্তব্য করার মাধ্যমে আপনি জড়িয়ে গেছেন। আপনি লেখকের যে অংশ আপনার মনের কথা আমি সেই অংশ নিয়েই আপনাকে বলেছি। ইসলামী বিপ্লব, ইসলামী ফ্যসিবাদ, ইসলামী আন্দোলন এসব নিয়ে অনেক বির্তক আছে। এগুলি বিষয়ে সাবধানে চলায় উত্তম।
খৃষ্টানরাই ফ্যসিবাদের উৎপাদক, স্বার্থ সিদ্ধির জন্য এখন এটা ইসলামের সাথে জুড়ে দিয়েছে তারাই।
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:৫১

লেখক বলেছেন: নুশেরাকে করা প্রশ্নটার জবাব আমিই দিচ্ছি।

"ইসলামী বিপ্লব, ইসলামী ফ্যসিবাদ, ইসলামী আন্দোলন এসব নিয়ে অনেক বির্তক আছে। এগুলি বিষয়ে সাবধানে চলায় উত্তম।"

এটা যদি আপনি হুমকি হিসেবে বলে থাকেন তাহলে আপনাকে অনুরোধ করব এভাবে মন্তব্য না করার জন্য।

" খৃষ্টানরাই ফ্যসিবাদের উৎপাদক, স্বার্থ সিদ্ধির জন্য এখন এটা ইসলামের সাথে জুড়ে দিয়েছে তারাই।"
আপনার এই কথার সাথে আমরও কোন দ্বিমত নাই।তবে আমি খ্রীষ্টান না বলে বলেছি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। তারা এক সময় মুসলমানদের কে ব্যবহার করেছে কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে।আর এখন মুসলমানদেরকেই নিধন করছে জঙ্গি নাম দিয়ে। বরাবারই মুসলমানরা সাম্রাজ্যবাদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছে।

১০. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:৩৮
নুশেরা বলেছেন: মনজুরুল ভাই, আমার এইটাসহ তিনটা মন্তব্যই মুছে দেয়ার অনুরোধ করছি। মুছে দিন প্লীজ। (আজাইরা যন্ত্রণা ভাল লাগেনা।)
১১. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:৫৩
বাবু>বাবুয়া>বাবুই বলেছেন: @নুশেরা, মন্তব্য করার সময় বুঝে শুনে মন্তব্য করবেন আশা করি, যাতে মুছে ফেলার জন্য অনুরোধ করতে না হয়।
না বুঝেই ঠিক বলেছেন ঠিক বলেছেন, কোন দরকার আছে কি?
১২. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:৩৪
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: আপনার বক্তব্যটা অযৌক্তিক মনে হলো ... ফ্যাসিবাদ কোথায় হচ্ছেনা? ... ভারত করছে, আমেরিকা করছে, সৌদিরা করছে, তুরষ;ক করছে, ইরান করছে, জাপান করছে, চীন করছে ... যেখানেই যে শক্তিশালী হয়ে উঠছে সে দূর্বলদের উপর অত্যাচার করছে

এখন প্রশ্ন হলো, একই ব্যক্তিকে সব ফ্যাসিবাদের প্রতিবাদ একই সময়ে করতে হবে কেনো? তার নির্দিষ্ট একটা ফোকাস যেকোন একটা ফ্যাসিবাদের উপর থাকতেই পারে

আপনার যদি মনে হয় ইন্দোনেশিয়ার সুহার্তোর গনহত্যার কথাও আসা উচিত, আমি বলবো, "আপনি লিখলেই তো হয়!" এতেই তো মামলা ডিসমিস!! এর জন্য ফারুক ওয়াসিফের ওপর ক্ষ্যাপার প্রয়োজনটা কোথায়?
যেমন ধরুন, আমি প্রশংসা করলাম শচীন টেন্ডুলকরের। আপনার যদি মনে হয় পন্টিংয়েরও প্রশংসা প্রাপ্য, আপনার তো শচীনকে আমি কেন প্রশংসা করলাম তা নিয়ে খেপে ওঠার দরকার নেই, পন্টিংয়ের প্রশংসাটুকু লিখলেই হয়। ;)

বুঝলামনা, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে কিভাবে আপনি "একজনের ভারতীয় ফ্যাসিবাদ তুলে ধরা"র ব্যাপারে বিরক্তি প্রকাশ করেন? কন্ট্রাডিকটরী হয়ে গেলনা? ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বলা পোস্ট নিয়ে বিরক্তিপ্রকাশ কি উল্টে ফ্যাসিবাদী হয়ে যায়না?

যদি ভারতীয় ফ্যাসিবাদের কথা শুনতে আপনার বিরক্তিবোধ হয় তবে আলাদা কথা, তবে তাতে তো আর সেটা "নাই" হয়ে যাচ্ছেনা!
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৮:১৬

লেখক বলেছেন: ১।একই ব্যক্তিকে সব ফ্যাসিবাদের প্রতিবাদ একই সময়ে করতে হবে
সেটা মোটেই আশা করা হচ্ছে না। বলা হচ্ছে-অরুন্ধতী যে ভাবে "শুধুমাত্র"গৈরিকহিন্দুত্ববাদী আশংকা দেখছেন(অন্তত ফারুক ওয়াসিফ কর্তৃক তার অনুবাদ মতে) বিশ্বে তার চেয়েও আরো বেশি ফ্যাসিবাদ,এ্যাথেনিক ক্লিজিং চলছে। এ যাবত দেখা গেছে ফারুক ওয়াসিফ কেবল অরুন্ধতীকেই কোট করছেন।

২।"আপনি লিখলেই তো হয়!" এতেই তো মামলা ডিসমিস!! এর জন্য ফারুক ওয়াসিফের ওপর ক্ষ্যাপার প্রয়োজনটা কোথায়? "

ভাল বলেছেন।কেউ না কেউ লিখলেই তো হয়।সমস্যা হচ্ছে:ফারুক ওয়াসিফ অরুন্ধতীকে হাইলাইট করে বাকি সমস্যাগুলোকে হালকা করে দেখছেন।তাকে সেটা মনে করিয়ে দেওয়ায় স্বীকার করছেন বটে,তবে 'নসিয়ত' করতে ছাড়েন নি।ফারুক আমার বন্ধু।এখানে ক্ষেপা-ক্ষেপি র কিছু নেই।

৩।ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বলা পোস্ট নিয়ে বিরক্তিপ্রকাশ নয়।ফ্যাসিবাদ দেখার একদেশদর্শীতা নিয়ে বলা হয়েছে।

৪।"যদি ভারতীয় ফ্যাসিবাদের কথা শুনতে আপনার বিরক্তিবোধ হয় তবে আলাদা কথা, তবে তাতে তো আর সেটা "নাই" হয়ে যাচ্ছেনা!"

না ভাই।কোন বিশেষ দেশের প্রতি কোর বিশেষ 'প্যাশন' নেই।ফ্যাসিবাদের চিত্রন বা বিরোধীতায় ভৌগলিক সীমারেখা থাকা উচিৎ না।

আপনার সুচিন্তিত মতামতের জন্য ধন্যবাদ।

১৩. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৫৭
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: আপনার অবস্থানটা আমার কাছে পিউটারিয়ানীয় মনে হচ্ছে।

ফারুক ওয়াসিফের দুইটা পোষ্ট আমি পড়েছি কিন্তু কনট্রাডিকটরি মনে হয়নি।

সব সংগ্রামই শ্রেণি সংগ্রাম হইতে হবে, কোন সংগ্রামে জাতীয়তাবাদ কিংবা ধর্মের লেবাস থাকলেই তাহা নীচুতর...এইটা মনে হয় অতি কঠোর অবস্থান।আপনি এই তরিকা মানলে দক্ষিণ আফ্রিকার এন্টি-অ্যাপারথেইড মুভমেন্ট, আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রাম, কিংবা সিমন বলিভারের নেত্বত্বে লাতিন আমেরিকার মুক্তিসংগ্রাম সবগুলোকেই অনুন্নত সংগ্রামের ট্যাগিং লাগাতে হবে।কারণ এইগুলোর কোনটিই শ্রেণী সংগ্রাম ছিলোনা

আইডিওলজি ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।কিন্তু কোন সংগ্রামই মতাদর্শের কাট-কপি-পেষ্ট তরিকায় সম্পাদিত হয় না।মার্কসের অনুমানকে ভুল প্রমাণিত করে প্রথম সোশালিষ্ট বিপ্পব কিন্তু রাশিয়ায় হয়েছিলো।

ধর্মীয় লেবাস থাকলেই সংগ্রামে জংগী আখ্যা দেয়া কি ঠিক?

অরুন্ধতি রায় কেন লাতিন আমেরিকা নিয়ে লেখেন না কারণ তিনি লিখতে চাননা..আমি এমন রায়েরও বিপক্ষে।প্রত্যেক মানুষ তার ভাবনায় ,দৃষ্টিতে যা ধরা পড়েন তাই লিখেন।লাতিন আমেরিকার সাথে
এই অন্চলের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ খুব কম।যেমন কম, আফ্রিকার সাথে।কেউ নিজে উৎসাহী হয়েও তাদের ইতিহাসের খোজ রাখতে পারে, সেটা প্রশংসনীয় কিন্তু কেউ না রাখলে তাকে দোষারোপ করাটা
সমর্থনযোগ্য নয়।

২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৮:৪০

লেখক বলেছেন: আপনাকে ফারুক ওয়াসিফ এর পোস্ট দুটি আবারো পড়ে দেখার অনুরোধ করব। তিনি বাংলাদেশের ধর্মিয় মৌলবাদকে অরুন্ধতী পোস্টের মূল বক্তব্যে এবং মন্তব্যের উত্তরে যে ভাবে দেখিয়েছেন।ঠিক তার বিপরীতটা দেখিয়েছেন রাতিফ হাসানের কাউন্টার পোস্টে।

শ্রেনী সংগ্রাম বলতেই শুধু মাত্র সর্বহারা শ্রেণীর সংগ্রাম বোঝায়,এটা তো বলিনি।আর দক্ষিণ আফ্রিকা,ল্যাতিন আমেরিকা,আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধ কিংবা জাতীয়তাবাদী অথবা ধর্মিয় লেবাসের সংগ্রাম যা-ই বলি না কেন সব সংগ্রামই কার্যত শ্রেণী সংগ্রাম।অবস্থান,কাল ভেদে কিছুটা ভিন্নরূপ পরিগ্রহ করলেও সেগুলোও শ্রেণী সংগ্রাম।

"কেউ নিজে উৎসাহী হয়েও তাদের ইতিহাসের খোজ রাখতে পারে, সেটা প্রশংসনীয় কিন্তু কেউ না রাখলে তাকে দোষারোপ করাটা
সমর্থনযোগ্য নয়।"

ভাল বলেছেন।আমি বোধহয় পরিষ্কার করতে পারিনি। অরুন্ধতীর 'খোজ' না রাখাকে আমি পাপ বলছি না। বলছি ট্যাগ লাগালে গণবিরোধী সকল অত্যাচার-ফ্যাসিবাদকেই লাগানো উচিৎ।তা ছাড়া অরুন্ধতী এখানে 'বুলসআই' নন। তাকে যিনি কোট করছেন, তাকে বলতে চেয়েছি-বাংলাদেশে জামাত-শিবির সহ উগ্র ধর্মিয় ফ্যাসিবাদ অরুন্ধতীর এই বিষয় গুলিকে মওকা বুঝে গ্রহণ করে,এবং তারা 'ওয়াকওভার' পেয়ে যায়।খেয়াল করবেন সংগ্রাম,নয়া দিগন্ত,ইনকিলাব ও ঠিক খুঁজে খুঁজে এই ধরণের তথ্য গুলিকে সেক্যুলারিজমের বিরুদ্ধে কাজে লাগায়।সেটা আমি ফারুকের পোস্টেই কমেন্ট আকারে বলে এসেছিলাম।নিচে দেখুন।
------------------------------------------------------------------------------

"এই সকল সরলিকরণ গুলোকে ইনক্যাশ করে র্বণ ক্রিমিনাল ধর্মিয় মৌলবাদীরা।যেমন এই পোস্ট তাদের জন্য আর্শীবাদ' হয়ে আর্বিভূত হয়ছে।"


১৪. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪২
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

পোস্টে এবং মন্তব্যে আপনি নির্মোহ দর্শন বা নির্মোহ বক্তব্যকে উৎসাহীত করেছেন । অন্তত সেরকমটাই চান বলে আশা প্রকাশ করেছেন । কিন্তু আপনার এই পোস্টটিও নির্মোহ নয় বলেই মত দিলাম ।

ইসলামের ব্যাপারে আপনার এলার্জি আছে । সে দোষে দুষ্ট এই পোস্ট ।
স্বভাবতই পোস্টটি একপেশে হয়ে গেছে ।

বিস্তারীত আমার আগে জ্বিনের বাদশা বলে দিয়েছেন ।
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৮:৪৩

লেখক বলেছেন: ভাই আরাশি।কোন বিশেষ ধর্মের ব্যাপারে আমার এলার্জিও নেই,আগ্রহও নেই।আমি ধর্ম আর মাকর্সবাদকে এক করে দেখার পক্ষপাতি নই।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

১৫. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:১৭
সোমেশ্বর অলি বলেছেন: গো টু শোকেস। মন্তব্য দিচ্ছি,,,
১৬. ২৮ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:০২
পি মুন্সী বলেছেন: লেখক মনজুরুল হক; আপনি বলছেন, "যার চূড়ান্ত অবস্থান এ্যাবস্ট্রাক্টলি ধর্মিয় ফ্যাসিবাদকে সুড়সুড়ি দেওয়া। এরই চুড়ান্ত প্রকাশ হচ্ছে মোজাফ্ফর আহম্মদের ’ধর্ম কর্ম সমাজতন্ত্র’,এবং ফরহাদ মজহারের ’জিহাদ ই শ্রেণী সংগ্রাম’ ত্বত্ত্ব। আমার ভীতিটা এখানেই"। তার মানে আপনি আল কায়েদা বা এই ধারার সংগ্রাম যেটাকে ওরা সাধারণভাবে "জিহাদ" বলে এটাকে আপনি শ্রেণী সংগ্রাম বলে মানতে নারাজ। তাই কী? ভাবছিলাম আপনার নারাজির যুক্তিটা বুঝা দরকার।

আবার এরই মধ্যে আহসান হাবিব শিমুলের সুনির্দিষ্ট মন্তব্যের জবাবে বলছেন, "শ্রেনী সংগ্রাম বলতেই শুধু মাত্র সর্বহারা শ্রেণীর সংগ্রাম বোঝায়,এটা বলিনি।আর দক্ষিণ আফ্রিকা,ল্যাতিন আমেরিকা,আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধ কিংবা জাতীয়তাবাদী অথবা ধর্মিয় লেবাসের সংগ্রাম যা-ই বলি না কেন সব সংগ্রামই কার্যত শ্রেণী সংগ্রাম।অবস্থান,কাল ভেদে কিছুটা ভিন্নরূপ পরিগ্রহ করলেও সেগুলোও শ্রেণী সংগ্রাম"।

এবার আমি আপনার অবস্হান নিয়ে আরও বিভ্রান্তিতে পড়লাম। এখন কী স্পষ্ট করে আপনি জিহাদকেও শ্রেণী সংগ্রাম বলে মানলেন? আপনি "ধর্মিয় লেবাসের সংগ্রাম" বা এভাবে লিখলেও এখনও আমি পরিস্কার না জিহাদকেও শ্রেণী সংগ্রাম বলে গণ্য করলেন কী না! আপনাকে আপনি বুঝতে চাই। দয়া করে আপনি আমাকে পরিস্কার করবেন।
আবার "সব সংগ্রামই কার্যত শ্রেণী সংগ্রাম" যদি মানেন তাহলে ফরহাদ মজহারের অবস্থান সাথে আপনার তফাৎটা কী? আপনার ভিন্নতাটা সুনির্দিষ্ট করবেন।
২৮ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৩:৪০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।বিশেষত্বের বিশেষ বা বিশেষের বিশেষত্ব,কোনটিকে তুলে আনলেন বোঝা গেল না।যাই হোক আলোচনার স্বার্থে পৃথক ভাবে আলোচনা করা যাকঃ-

১। না। 'জিহাদ'কে শ্রেণী সংগ্রাম মানতে পারছি না।প্রচলিত অর্থে 'জিহাদ' বলতে 'ধর্মযুদ্ধ' বোঝায়।ভিন্ন ধর্ম দ্বারা নিজ ধর্ম আক্রান্ত হলে ধর্ম রক্ষার্থে যে যুদ্ধ সেটিই 'জিহাদ'।বিশ্বে কোথাও ইসলাম বিপন্ন হচ্ছে না যে তাকে রক্ষার জন্য আল কায়দা ইত্যাদি রা যা করছেন তাকে জিহাদ বলতে হবে।এরা কোন নিপীড়িত শ্রেণী সমূহেরও প্রতিনিধিত্ব করছে না।

২।"স্বাধীনতা যুদ্ধ কিংবা জাতীয়তাবাদী অথবা ধর্মিয় লেবাসের সংগ্রাম যা-ই বলি না কেন সব সংগ্রামই কার্যত শ্রেণী সংগ্রাম।"

এখানে কিন্তু 'শ্রেণী সংগ্রাম' বলা হয়নি। বলা হয়েছে-'কার্যত শ্রেণী সংগ্রাম'।স্বাধীনতা যুদ্ধ কিছু সময় পর্যন্ত শ্রেণী সংগ্রামের রূপ পরিগ্রহ করে,কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে তা শ্রেণী সংগ্রাম নয়।এখানে "কার্যত" শব্দটিকে আমলে নিতে অনুরোধ করব।

আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ।

১৭. ২৮ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:৩৫
পি মুন্সী বলেছেন: জলদি জবাব পেয়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।

এবার "কার্যত" শব্দটিকে আমলে নিয়ে কথা তুলছি।

কমিউনিষ্ট মেনিফেষ্টো তে মার্কস লিখছেন, আজ পর্যন্ত দেখা লিখিত সব ইতিহাস মানে 'শ্রেণী সংগ্রাম' এর ইতিহাস।

The history of all hitherto existing society(2) is the history of class struggles.

Click This Link

এখানে মার্কসের 'শ্রেণী সংগ্রাম' এ কোন "কার্যত" ধরণের বা কোন বিশেষণ দেখতে পাচ্ছি না। এর কারণ কী বলে আপনার মনে হয়? একটু ব্যাখ্যা করবেন?
১৮. ২৮ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৯
তরিকুল হুদা বলেছেন: হুম ঠিকই জিগাইছেন মুন্সীজি।সম্পুরকে আমিও ভাই মনজুকে
জিগাই- মার্কসের 'শ্রেণী সংগ্রাম' আর আপনের 'কার্যত শ্রেণী সংগ্রাম' এর ধারনার মধ্যে সম্পর্ক বা পার্থক্য কি?

এই সুতা টানলে যেই প্রশ্ন না আইসা পারে না সে টা হইলো, আপনের 'কার্যত শ্রেণী সংগ্রাম' তত্ত্বের ভিতরে 'শ্রেণী' চিজটা কিরকম?

ভালই করছেন এই আলাপ উঠায়ে,তাই আলাপের সার্থেই এই প্রশ্গুলার মীমাংসা দরকার।
১৯. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:২৫
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন: ''মাকর্সবাদ হতে হবে মাকর্সবাদই। কার্ল পপার,সাঈদ বা চমোস্কির মডার্ণ মাকর্সবাদ নয়। ''-- আপনার এই বাক্যে আইসা ব্যাপক আমুদ পাইসি। কার্লপপার রেও আপনে মার্কসবাদী ভাবেন, তাও আবার মর্ডান?
১৭ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৫০

লেখক বলেছেন:

কিন্তু আপনার 'ব্যাপক আমুদ' পাওয়া দেখে আমি কোন আমুদ পাইর্তালাম না !

কার্ল পপার,সাঈদ বা চমোস্কিরা যে নিজেদের উত্তরাধুনিক মাকর্সবাদী দাবী কইরা থিসিস লেখে,এবং সেইটাকেই 'মডার্ণ মাকর্সবাদ নয়' বলা হইসে, সেইটা বুইঝ্যা আমুদ পাইলে আপনার সাথে আমিও পাইর্তাতাম

২০. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৪২
বন্ধনহীন বলেছেন: সময় নিয়ে ফারুক ভাই ও মনজুরুল হক দুজনেরই বক্তব্য পড়েছি। কিন্তু লেখক মনজুরুল হকের মুল পোস্ট ও মন্তব্যগুলো বেশি কন্ট্রাডিকটরী। বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যে এসব অল্প-সল্প উল্লেখ করেছেন।

যাই হোক, একটা ভিডিও লিংক দিচ্ছি, সময় থাকলে দেখে নিতে পারেন।

Click This Link

একজন মানুষ সবকিছুতে ফোকাস করতে পারে না। তাকে বিচার করা উচিত, সে যা ফোকাস করছে চেয়েছে, তাতে সে কতটুকু যত্নবান।
২১. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৪৩
বন্ধনহীন বলেছেন: ""ফোকাস করতে চেয়েছে"""
২২. ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৫৬
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন: কার্ল পপার নিজেরে কোন জায়গায় উত্তরাধুনিক মাকর্সবাদী দাবী কইরা থিসিস লেখসে তা যদি এট্টু দয়া কইরা জানাইতেন...
২৩. ০৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৫
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন: মনজুরুল হক ভাই, আপনার এই গুরুত্বপূর্ণ ও পলেমিকাল আলোচনাটি আমি খেয়াল করি নাই সময়াভাবে। করলে কতটা সাড়া দিতে পারতাম তাও বলা মুশকিল। তবে, আপনার এই চিন্তার জোর তাতে কমে না, কারণ আপনি এখানে আমাদের দেশের একাত্তরে খেই হারানো স্বঘোষিত মার্কসবাদী চিন্তার এক উজ্জ্বল ও প্রতিভাবান নমুনা। প্রেক্ষিত হারিয়ে ফেলায় এই চিন্তা বাস্তবতার ওপর আঁচড় কাটতে পারছে না বলে এখন বাস্তবতাকেই নিজের আদলে নির্মাণ করে দুষতে চাইছে।

একদল তরুণদের মধ্যে এ নিয়ে নতুন পর্যালোচনা শুরু হয়েছে, তাঁরা মার্কসবাদের সম্ভাবনাকে বঙ্গীয় বিপ্লবের সম্ভাবনার মধ্যে পরখ করে দেখতে আগ্রহী। সেই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই এর উত্তর করা দরকার মনে করছি। কিন্তু সেটা আমার এখনকার ইচ্ছা নয়। প্রত্যেককেই তো একটা পরিকল্পনা ধরে অগ্রসর হতে হয় তাই না?


এখানে একটা নোট দিয়ে রাখি, আপনার চিন্তা অগ্রসর হয় কিছু প্রেজুডিস এবং জনদরদী অহংবোধ থেকে। মার্কসবাদ এ দুয়ের সঙ্গে হাঁটে না। সেকারণে আপনি ইসলামপন্থি উত্থান আর মার্কিন-ভারত-ইসরায়েল অক্ষের বিপদকে সমান পাল্লায় ফেলেছেন। তার মানে কি আপনি উভয়কেই বুঝতে ভুল করেছেন? আমার আশঙ্কা সেটিই। এটা বুঝলেই আপনি আমার মধ্যে দ্বৈতস্বত্তা না পেয়ে ভুল হোক ঠিক হোক অখণ্ড সত্তা পেতেন। সেকারণে আমাকে একেবারে খারিজ করতেও আপনার দ্বিধা হচ্ছে। এই দ্বিধার মধ্যেই আপনার সঙ্গে একমত হবার জমিন উপ্ত হচ্ছে। কিন্তু আপনি সেটা লক্ষ্যই করছেন না। করলে তার মধ্যেই উত্তরটা পেয়ে যেতেন। অথচ দ্বান্দ্বিকতার কথা বলে দ্বন্দ্ব সনাক্ত করাকে এখনও পেটিবুর্জোয়া মূল্যবোধ দিয়েই সাব্যস্ত করা হচ্ছে।

''কার্ল পপার,সাঈদ বা চমোস্কির মডার্ণ মাকর্সবাদ নয়''। ??? মঞ্জু ভাই, আপনি চাল-ডাল এক করে ফেলেছেন, এবং দুঃখের কথা যে, সেখানে আমাকে গরম মশলা বানিয়ে পরিবেশনও করেছেন। এই দুঃখ এখন কোথায় রাখি?

 

মোট সময় লেগেছে ১.৬৫৬৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারিদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয়,যারা মানুষ ।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ