আমার প্রিয় পোস্ট

যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরানী প্রকাশ্য পথে হত্যার প্রতিশোধ চায়না আমি তাদের ঘৃণা করি

হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে !

১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৪০

শেয়ারঃ
0 31 0

অনেক দিন ধরে বেশ কিছু মানুষ এই আশঙ্কাটার কথা লিখে আসছিলাম।পক্ষান্তরে এই আশঙ্কাটাকে কেউ কেউ আশীর্বাদ ভেবে বিস্তর লেখা লেখিও করেছেন। কথা হচ্ছে হাইব্রীড ধান নিয়ে।বাংলাদেশে যখন থেকে এই হাইব্রীড বীজের আগমন ঘটেছে,তখন থেকেই কেউ কেউ এই বীজের ব্যবহার বাংলাদেশের কৃষকের কি কি ক্ষতি করতে পারে তা উল্লেখ করে সরকারকে,দেশবাসীকে সাবধান করতে চেয়েছেন।এই বিষয়ের ওপর যখনই কোন তথ্যমূলক লেখা ছাপা হয়েছে,সাথে সাথে হাইব্রীড বীজের কর্ণধাররা তাদের নিযুক্ত ভাড়াটে লেখকদের দিয়ে কাউন্টার বক্তব্য সম্বলিত লেখা প্রচার করেছে।প্রায় প্রতিটি সংবাদ পত্রেই এই ঘটনাটা ঘটেছে।বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, এত লেখা-লেখির পরও সরকার এই বিষয়টাকে বিন্দু পরিমানে আমলে আনেননি।কার্যত একে কিছু বামপন্থী লেখকের ‘আজাইরা প্যাচাল’ ভেবে বসেছেন,এবং অন্যান্য অনেক কিছুর মত এই বিষয়টাও হিমঘরে ঠাঁই পেয়েছে।

ফরহাদ মজহার কে অনেকেই পছন্দ করেন না। আবার অনেকেই পছন্দ করেন। তিনি তার ‘নয়া কৃষি আন্দোলনের’ অভিজ্ঞতা বা নিজস্ব গবেষণা থেকে এই হাইব্রীড বীজ কি ভাবে বাংলার কৃষদের সর্বনাশ করছে,এবং ভবিষ্যতেও করবে,তা নিয়ে অনেক লেখা-লেখি করেছেন। এই নিবন্ধকারও বহুবার এই সর্বনাশা বীজ নিয়ে লিখেছে। আমাদের ভবিতব্য হচ্ছে,আমরা খাল শুধু জলের জন্য কাটি না।খালে কুমির আনারও ব্যবস্থা করি। এমনিতে কুমির না এলে আদর করে ডেকে আনি। ফরহাদ মজহার কে দেখতে পারা না-পারা নিয়ে যদি তার গুরুত্বপূর্ণ মত যা দেশের কৃষকের অস্তিত্বের সাথে জড়িত, তাও আমরা অচ্ছ্যুৎ করে রাখি তাহলে আমাদের বুদ্ধি-বিবেক গুলোও যে বিভিন্ন ইজম দ্বারা আক্রান্ত হয়ে বেনিয়া তোশামুদকারী হয়ে গেছে এতে আর এখন কোন সন্দেহ নাই।

আমরা বহুবার বলে এসেছি,হাইব্রীড হচ্ছে বন্ধ্যাবীজ। এর কোন ‘সন্তান’ উৎপাদনের ক্ষমতা নেই।বাংলার আবহমান কৃষক তার প্রচলিত বীজধান থেকেই বীজ তৈরি করে। আগামী চাষের সময় তাকে দোকানে দোকানে,দুয়ারে দুয়ারে বীজের জন্য ধর্ণা ধরতে হয় না। এভাবেই হাজার হাজার বছর ধরে এই অঞ্চলের কৃষক চাষবাস করে আসছে।এখন খাদ্য চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এক বিঘা জমিতে আগের তুলনায় দ্বিগুণ ফসল ফলাতে হচ্ছে।এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু সেই কৃষক যে বেশি ফসল ফলাচ্ছে তাতে তার লাভ কি হচ্ছে? সে যদি নিজের ঘরের বীজ দিয়ে এক বিঘায় ১৬ থেকে ১৮ মণ ধান ফলায় তার যা বাজার মূল্য,তার চেয়ে কি সে মূল্য পায়,যদি সে হাইব্রীড বীজ ব্যবহার করে ? মোটেই না,কারণ তাকে ওই হাইব্রীড বীজ যে দামে কিনতে হয় তার সাথে বীজ কেনার খরচ(কেজি প্রতি ২শ৩০'থেকে ২শ৫০'টাকা !),সেচ,কীটনাশক,বালাইনাশক,প্ল্যান্ট গ্রোথ রেগুলেটর,প্ল্যান্ট গ্রোথ কন্ট্রোলার ইত্যাদি কিনে মোট যে পরিমান টাকা খরচ করতে হয় সেটা করার পর কৃষকের হাতে যে কয় টাকা থাকে,ঠিক সেই পরিমান টাকাই তার হাতে থাকত যদি সে প্রচলিত বীজ ব্যবহার করত।ফলাফল যদি সমান সমানই হয় তাহলে কৃষক কেন হাইব্রীড ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছে? কে তাকে বাধ্য করাচ্ছে? আমরা জানি সংশ্লিষ্ট কৃষি দপ্তর বা কৃষি উন্নয়ন পরিষদ বা কৃষি সংক্রান্ত আমলারা এবং সরকার তাদের হাইব্রীড ব্যবহারে বাধ্য করাচ্ছে।

হাইব্রীড বীজের আড়ৎদার হচ্ছে বেনিয়া বহুজাতিক কোম্পানী। এদের সাথে অসম ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে আছে কিছু দেশী কোম্পানীও।কর্পোরেট পুঁজির বেনিয়া বহুজাতিক কোম্পানী গুলো কোটি কোটি টাকা এই সেক্টরে ইনভেস্ট করে রেখেছে। তার সাথে প্রতিযোগীতায় কুলিয়ে উঠতে পারছে না দেশী কোম্পানী গুলো। যখন এরা ব্যবসায় টিকে থাকতে পারছে না, তখন এদের টিকে থাকার জন্য এক মাত্র উপায় মনে হয়েছে ভেজাল। অর্থাৎ নিম্নমানের বীজ বিক্রি করা। ভাল বীজের দামে নিম্নমানের বীজের লাভ বহুগুণ।বাঙালিরা আগে ‘মুনাফাখোর’ বলে মেড়োদের (মাড়োয়ারি) তিরষ্কার করত।এখন নিজেরা অনৈতিক মুনাফা,চুরি-চামারি,জোচ্চুরি,ধাপ্পাবাজীতে মেড়ো তো কোন ছার বিশ্বকেই হটিয়ে দিয়েছে।আর এটা প্রায় সকল ক্ষেত্রেই।নকল ওষুধ,নকল কীটনাশক,নকল গুড়োদুধ,নকল ভোজ্যতেল,নকল কী না? সারা দেশটা যেন নকলের ওপর ভাসছে! সকাল থেকে রাত অব্দি মানুষ ভেজাল আর নকল ব্যবহার করে করে যাপিত জীবনের অর্ধেকটাই শেষ করে ফেলছে! শুধু আমাদের কৃষকের ওপর, সাধারণ মানুষের ওপর যে অত্যাচার নিপীড়ন,জেল-জুলুম,হত্যা-নির্যাতন গুলো যে যে জিনিষপত্তর দিয়ে করা হয় সেগুলো সবই খাঁটি! ওখানে কোন ভেজাল নেই!

যে হাইব্রীড নিয়ে আমাদের আশঙ্কা,সেই হাইব্রীড দিন কে দিন তার ব্যবহার বাড়িয়েই চলেছে।গত বছর যেখানে ৯লাখ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড চাষ করা হয়েছিল, এবার সেখানে ৪৫ লাখ হেক্টর জমিতে হাই ব্রীড চাষের আওতায় আনার ল্ক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।অর্থাৎ গত বারের তুলনায় পাঁচগুণ! কিন্তু সেই পাঁচগুণ হাই ব্রীড ব্যবহারের ফলাফল কী হয়েছে ? কৃষকের হাহাকার আর বুক চাপড়ানো! গত ২৫ অক্টোবর ভোরের কাগজে নিম্নমানের বীজ ব্যবহার করে চাষীর কি ক্ষতি হয়েছে সেই সংবাদ দিয়ে একটি লিডনিউজ হয়েছে
‘নিম্নমানের হাইব্রীড ধানবীজ ব্যবহারে হাজার হাজার প্রান্তিক চাষি ক্ষতিগ্রস্থ’ এই শিরোনামে।

“ বিদেশ থেকে হাইব্রিড ধানের বীজ আমদানির ব্যাপারে সরকারের প্রয়োজনীয় মনিটরিং ব্যবস্থা ও কার্যকর নীতিমালা না থাকায় দেশের কৃষকরা বিপাকে পড়ছেন। নিম্নমানের বীজ ব্যবহার করায় প্রতি বছরই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তারা। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী প্রতি বছরই নিম্নমানের বীজ আমদানি করায় সেই বীজ খোলাবাজার থেকে কিনে হাজার হাজার প্রান্তিক কৃষক প্রতারিত হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। উলেখ্য, এ বছর হাইব্রিড ধানের বীজ কিনতে কৃষকের ব্যয় হবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। প্রতি হেক্টর জমিতে ১৫ কেজি হিসেবে মোট বীজের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১৫ হাজার টন। বর্তমানে প্রতি কেজির মূল্য ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা হিসেবে খরচ হবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। গত মৌসুমে ৯ লাখ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড বীজের ব্যবহার হয়েছে প্রায় ৯ হাজার টন। ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি হিসেবে সেই বীজ কিনতে কৃষকের প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। এ বছর ৪০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ৬০ জাতের ১১ হাজার ২৬৫ টন হাইব্রিড বীজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সুপ্রিম সিড ৩ হাজার টন, ব্র্যাক ২০০ টন, আফতাব এগ্রিকালচার ৯৫০ টন, এসিআই ২ হাজার ২০০ টন, মলিকা ১ হাজার ৮০০ টন, সিনজেন্টা ৪৫০ টন, ন্যাশনাল সিডস ২০০ টন এবং লালতী ১৫০ টন বীজ আমদানির অনুমতি পেয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশিরভাগ বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানেরই মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই। দেশীয় এসব প্রতিষ্ঠানকে সরকার ৬০ জাতের বীজ উৎপাদনের অনুমোদন দিলেও কেবলমাত্র দুটি জাতের বীজই ধান উৎপাদনে সক্ষম। সরকারের সংশিষ্ট সংস্থার প্রয়োজনীয় মনিটরিঙের অভাবে আমদানিকারকরা স্থানীয়ভাবে উৎপাদন না বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে বিদেশ থেকে নিম্নমানের বীজ আমদানি করছেন। এদিকে গত অর্থবছর থেকে স্থানীয় বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসিআই ভারত থেকে ‘অলোক’ নামে নিম্নমানের একটি উচ্চ ফলনশীল ধানবীজ আমদানি করতে শুরু করেছে। দেশের প্রান্তিক চাষীরা এই জাতের ধান চাষ করে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন(ভোরের কাগজ,২৫,অক্টোবর,২০০৮)”

ক্ষতি তো কেবল শুরু হয়েছে। এর পর হতেই থাকবে। একটা সময় এমন আসবে যখন প্রান্তিক কৃষক চাষ করার জন্য তার নিজের ঘরে এক ছটাক বীজও খুঁজে পাবে না। তাকে সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হবে দেশী মুনাফালোভী ব্যবসায়ী এবং কর্পোরেট বেনিয়াদের উপর। তাকে ওই বীজ কিনতে গেলে গাদা গাদা কাগজপত্তর আর বান্ডিল বান্ডিল টাকা নিয়ে ওই বেনিয়াদের দপ্তরে দপ্তরে ধর্ণা দিতে হবে। অনেক কসরৎ করে তাকে নিজে বাঁচার জন্য এবং শহুরে সায়েবদের বাঁচানোর জন্য অধিক ফসল ফলাতে হবে।নিম্নমানের বীজের জন্য তার ফসল মার গেলে সে না খেয়ে থাকবে, আর সায়েবরা, বাবুরা আমদানি করা চালে চাহিদা মেটাবেন।বন্ধ্যাবীজের সয়লাব ঘটিয়ে বাংলাদেশের সম্পূর্ণ উৎপাদন ব্যবস্থা কর্পোরেট ধান্ধাবাজরা নিয়ন্ত্রণে নেবে এটা অনেক আগে থেকেই তাদের মাষ্টার প্ল্যান। সেই প্ল্যান তারা সরকারের সহায়তায় নিরাপদ আর নিখুঁত ভাবেই বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এখনো আমাদের অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত কৃষকরা বুঝতে পারছে না,তাদের কোন রাহুর নাগপাশে বেঁধে ফেলা হচ্ছে।এখনো আমাদের ‘কৃষকদরদি’ কৃষিবিজ্ঞানীরা বুঝতে পারছেন না তারা সচেতন ভাবে কিসের ওকালতি করে যাচ্ছেন,কার সেবা করে যাচ্ছেন! সোনর ডিম পাড়া হাঁসের সেই গল্পটা সম্ভব সবাই ভুলে গেছেন।একের পর এক ডিম আদায় করে যেমন শেষে হাঁসটাই মারা গেছিল,ঠিক তেমনি ভাবে বেশি,আরো বেশি ধান আদায় করে আমাদের উর্বর জমিগুলোর সকল দেবার ক্ষমতা লুটে নেওয়া হচ্ছে।আমাদের এই জমিগুলো আর খুব বেশি দিন বোধহয় সোনার ডিম দিতে পারবে না।

সংযোজনঃ
এই লেখাটি ব্লগে প্রকাশ হওয়ার পর 'জাতেমাতাল'নিক থেকে চমৎকার একটা মন্তব্য এসেছিল।তার উত্তরে লিখেছিলাম...
"এই সকল রিপোর্টারদের দৌড় আর কত দূর হতে পারে ? দিন কয়েক পরেই দেখবেন (সম্ভবত এই বিষ্যুদ্বারে অথবা আগামী বিষ্যুদ্বারে) মিঃ এস আর চৌধুরী নামে একজন ঠিকই হাইব্রীডের পক্ষে ওকালতি করতে হাজির হবেন।এবং বিশাল এক ফর্দ হাজির করে বসবেন।"আমার সন্দেহ সত্যি প্রমান করে তিনি ৪ দিন পরই তার কিস্তি হাজির করলেন.....।সেই লেখার চুম্বক অংশঃ

"ভোরের কাগজের নিয়মিত কলাম লেখক, আমি যার গুণমুগ্ধ পাঠক, ‘সমান্তরাল প্রতিচ্ছবি’তে মনজুরুল হক পূর্বোল্লিখিত খবরটির ভিত্তিতেই ‘হাইব্রিড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো’ শিরোনামে নিবন্ধ (২৭-১০-০৮) লিখেছেন। তার বিশ্বাস একান্তই তার নিজস্ব, এ বিষয়ে বিতর্কে জড়ানোর ইচ্ছা এবং যোগ্যতা নেই আমার। সবিনয়ে শুধু দুয়েকটি বিষয়ে তার এবং পাঠকবর্গের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই। ‘হাইব্রিড বীজ’ আর ‘নিম্নমানের হাইব্রিড বীজ’ সমার্থবোধক নয় কিছুতেই। অথচ অনেকেই আলোচনায় দুটোকে একাকার করে ফেলেন। মনজুরুল হক লিখেছেন, ‘নকল ওষুধ, নকল কীটনাশক, নকল গুঁড়োদুধঃ’ ইত্যাদির কথা। প্রশ্ন হচ্ছে, ক্ষোভ-অভিযোগ কি ওষুধ-কীটনাশক-গুঁড়োদুধ- ভোজ্যতেলের বিরুদ্ধে নাকি এসবের নকল ভেজাল প্রসঙ্গে? যদি বলা হয় অভিযোগ বস্তুগুলোর বিরুদ্ধে, তাহলে তার বিশ্বাস তারই থাকুক। আর যদি নকল ভেজাল এবং ভেজালকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়, অবশ্যই সাধ্যমতো সমর্থন জানাবো। প্রসঙ্গত তাকে ভেবে দেখতে অনুরোধ করবো, সকল হাইব্রিড বীজকেই ‘নিম্নমানের হাইব্রিড বীজ’ হিসেবে এক কাতারভুক্ত করা কি উচিত? ‘হাইব্রিড বীজ’ একটি প্রায়োগিক প্রযুক্তি, যা ফসলের উচ্চ ফলন নিশ্চিত করে। "
এটাই হচ্ছে মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন?আমি শুধু নকল বীজ নিয়ে শঙ্কিত নই,শঙ্কিত হাইব্রীড বীজ নিয়ে।তা নকল কি আসল সেটার চে'জরুরী প্রশ্ন হচ্ছে অধিক ফলনের তথাকথিত মূলো ঝুলিয়ে আমাদের কৃষককে হাইব্রীড গেলানো কতটা যুক্তিসঙ্গত এবং আর্থসামাজিক কাঠামো অনুযায়ী কতটা ফলপ্রসূ? এই হাইব্রীড বীজ কালচার নিয়ে যে বহুজাতিক কর্পোরেট হাউসগুলো এদেশের সমগ্র চাষাবাদে সর্বগ্রাসী থাবা বসাচ্ছে সেই ব্যাপারে আমরা কতটা সচেতন? আমাদের ব্যাকাপ কি কি আছে? সীড ডিজাস্টার মোকাবেলায় আমাদের শক্তি আর সামর্থ কতটা আছে?

আরো তথ্য জানার জন্য এই লিঙ্কগুলো দেখতে পারেন।


এই লিঙ্কে দেখুন
ইথিওপিয়ার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা
এই লিঙ্কে দেখুন



 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): কৃষকের হাহাকার ;
প্রকাশ করা হয়েছে: প্রবন্ধসমসাময়ীক রাজনীতি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০১০ রাত ৩:৫২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৪৬
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: তথ্যসমৃদ্ধ লেখা । +++++

আমাদের এই বিশাল জনগোষ্ঠির খাদ্যচাহিদা মেটানোর অল্টারনেটিভ আর কি উপায় আছে ?
১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১২

লেখক বলেছেন: নিজস্ব বীজ ব্যবস্থা,প্রচলিত জৈব সার এবং প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রকৃতি নির্ভরতা কমিয়ে অধিকাংশ জমিকে তিন ফসলি করতে হবে। চাষ-বাসের নিয়ন্ত্রণও যদি বহুজাতিকের হাতে চলে যায় তাহলে এমনই হবে ! তারা যা যা সরবরাহ করবে তা ভাল হলে ভাল, মন্দ হলে মরতে মরণ ঐ কৃষকেরই,তথা সাধারণের।

২. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৪৮
মনজুরুল হক বলেছেন: এই পোস্টটি গত ২৬ অক্টোবর প্রকাশ হয়েছিল।গুরুত্ব বিবেচনায় লেখাটি স্টিকি করার অনুরোধও এসেছিল। আজ সামহোয়ার ইন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে এবং কৃষি বিষয়ক আলোচনাকে সাধারণ্যে আলোচিত হওয়ার জন্য রি-পোস্ট করা হলো।

যে সুহৃদ ব্লগাররা আগে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন তাদের মন্তব্য সমূহ এই পোস্টে সন্নিবেশিত করা হবে।

সকলকে ধন্যবাদ।
৩. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৫৭
জটিল বলেছেন: কঠিন লিখসেন ভাই , জোস :)
১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২২

লেখক বলেছেন: ইথিওপিয়ার বায়ো টেক পড়ে আমার মাথা ঘুরে উঠেছে ! আরো অনেক লিঙ্ক আছে...পড়লে বিস্মিত হতে হয়!

৪. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০০
রিজভী বলেছেন: তথ্যসমৃদ্ধ লেখা । +++++
১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫৭

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫৮

লেখক বলেছেন: হ

৬. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০২
এস্কিমো বলেছেন: বিষয়টা খুবই জটিল। একদিকে জনসংখ্যার চাপ - আরো খাদ্য চাই। অন্যদিকে প্রযুক্তির কর্পোরেট দখলদারিত্ব আর সরকারের নিয়ন্ত্রন কমে যাওয়ায় এখন বাজারের সকল খাবারই খেতে হয় আল্লাহর নামে।

ইউরোপে মনে হয় কিছু কিছু নিয়ন্ত্রন বসছে। কিন্তু উত্তর আমেরিকাতে জিএম এর অবাধ বানিজ্য চলছে।

কি যে হবে - ভাবতে কষ্ট হয়।
১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০৮

লেখক বলেছেন:

সবচে' বড় ভয় হচ্ছে ইতিমধ্যেই বহু কিছু কর্পোরেট দখলদারিত্বে চলে গেছে। কিছু সিলেক্টিভ মানুষ বা কর্পোরেশন ছাড়া অনেক কিছু সাধারণের নাগালে নেই। এখন নিজেদের ঘরের বীজ বাদ দিয়ে যদি বহুজাতিক কোম্পানীর কাছ থেকে 'অশিক্ষিত' চাষীকে বীজ কিনতে হয় তাহলে তাদের বেঁধে দেয়া ব্যবস্থা বা আইটেম ছাড়া চাষী নিজের মত করে কিছু করতে পারবে না।

৭. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০৩
নুশেরা বলেছেন: পোস্টের জন্য মনজুরুলভাইকে এবং স্টিকি করার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।
১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫৯

লেখক বলেছেন: নুশেরাকেও ধন্যবাদ।

৮. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১২
বিডি আইডল বলেছেন: পরিবেশ বিজ্ঞানের এক সেমিনারে একবার একজন এটা নিয়ে প্রেজেন্টেশন দিল। প্রশ্নত্তোর পর্বে যখন কিছু প্রশ্ন করলাম, মহিলার সেকি তেজ...রেগেই গেল এক পর্যায়ে!!

একটি বিদেশী এনজিওর প্রতিনিধি ছিল।
১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫৫

লেখক বলেছেন: কর্পোরেট টাইকুনদের অঢেল পয়সার আধিকারিকরা এমনই।তাদের কথাঃ তারা বলবে...আমরা শুধু শুনব !

৯. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১৫
কিস্তোয়ার বলেছেন: বহুজাতিক কোম্পানীর আমদানীকৃত হাইব্রীড ধান বীজের বিস্তার রোধে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জরুরী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২২

লেখক বলেছেন: তারাই এদের দালাল !

১০. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১৯
হামীম বলেছেন: খাদ্য চাই আরো খাদ্য চাই ।এতো খাই তবু পেট ভরে না।খাদ্য চাই আরো খাদ্য, খেতে খেতে মরতে চাই আরো খাদ্য চাই ।খাদ্য খাদ্য আহরে খাদ্য, কাচ্চি বিরানী খুরমা পোলাও বিরইন চালের ভাত অনেক দিন খাইনাই।খালি মোটা চাল ! লম্বা লম্বা সুগন্ধি চাল অনেক দিন চোখে দেখি নাই।পেট ভরে না ।মাগো না খাইয়া মইরা গেলাম ।মা আমার দেশের সোনার চাল সুগন্ধি পোলাও আইনাদেরে মা।
১১. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১৯
মনজুরুল হক বলেছেন:

আ্যামাটার/শিবলী/গাইতে ভাল লাগে/মনুমনু/বিবিধ/কুয়াশা/কিরিটি রায়/জাতেমাতাল/সমীরণ/রাতমজুর...........আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের মতামতে প্রথমবার পোস্টটি সমৃদ্ধ হয়েছিল।
১২. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২৫
মুকুল বলেছেন: ধন্যবাদ। +

এই বিষয়ে আমার সহকর্মীর একটি লেখা অনেক আগে ব্লগে দিয়েছিলাম। পড়লে ভালো লাগবে আশা করি।

হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের বীজ সম্পদ
১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:০৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনার দেওয়া লিঙ্কটি পাঠকের অনেক উপকারে আসবে।একে একে তো অনেক কিছুই হারিয়ে যাচ্ছে.....নষ্টদের দখলে চলে যাচ্ছে......

১৩. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২৯
লুকার বলেছেন:

কৃষি বিষয়ে তেমন কিছু জানি না।
তবে এই লেখা পড়ে কয়েকটা প্রশ্ন মনে এল।

১) দু'ধরনের বীজের সুবিধে-অসুবিধে নিয়ে একটা তুলনামূলক চিত্র কি দেয়া যায়?

২) এটা কি শুধু ধানের বীজ?

৩) অন্যান্য দেশে কি এই বীজ ব্যবহৃত হচ্ছে?

৪) হাইব্রীড বীজ কিভাবে উৎপাদিত হয়?
কৃষকেরা উৎপাদন করতে পারে কিনা?

৫) আরেকটু গবেষণা করে হাইব্রীড বীজ এর প্রজনন ক্ষমতা দেয়া যায় কিনা?

৬) সরকার কি বাধ্য করে কৃষকদের এই বীজ কিনতে?
কৃষক যদি তার পছন্দমত স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই চাষাবাদ করে এবং নিজের চাষের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ নিজেই উৎপাদন করে, তবে কি কেউ বাধা দেয়?
১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৪৩

লেখক বলেছেন: ভাল প্রশ্নঃ
১।দেশী বীজ কৃষকরা নিজেরাই উৎপাদন করে।এতে ফলন হাব্রীড বীজের তুলনায় কম। হাইব্রীড বীজ গবেষণাগারে তৈরি।ফলন বেশি।দামও বেশি। এই বীজের থেকে নতুন বীজ তৈরি হয় না।যেমন ফার্মের মুরগীর ডিমে বাচ্চা হয় না ! ওই ডিম একটার দাম...৭ টাকা। বাচ্চা হওয়া 'প্যারেন্ট স্টক' ডিমের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

২।না। শুধু ধান নয় প্রায় অধিকাংশ ফসলেই আছে।

৩।যে সব দেশে কৃষি বড় পুঁজির আওতায় চলে গেছে সেখানে ব্যবহার হচ্ছে।

৪। হাইব্রীড প্রজনন এর ক্ষমতা পেটেন্ট করা। আমাদের ব্যবসায়ীরা পারে শুধু আমদানি করতে।

৫।বাধ্য তো করেই। গত মৌসুমে সরকার নির্ধারণ করেছিল ৯ লাখ হেক্টর জমি। এবার করেছিল ৪৫ লাখ হক্টের। ব্লকের ভেতর পড়লে এটা চাষ না করে উপায় নেই।

১৪. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩২
একরামুল হক শামীম বলেছেন: বেশ তথ্য সমৃদ্ধ একটা লেখা। ধন্যবাদ পোস্টটার জন্য।
১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শামীম।

১৫. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩৬
পারভেজ বলেছেন: চীনের প্রেক্ষাপট টা কি কোন ভাবে এই বিশ্লেষনে আনা যায়? ওরাও কিন্তু হাইব্রীড ব্যবহার করছে। আমাদের কি ওদের পটভূমি থেকে কিছু শিক্ষা নেবার আছে?
১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩০

লেখক বলেছেন: আপনার এই তথ্যটা নিয়ে অল্প কথায় আলোচনা শেষ হবে না। চীন হাইব্রীড ব্যবহার করছে ঠিকই,তবে তাদের নিজস্ব শত-সহস্র বছরের ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে নয়।

বছর চারেক আগে এক আমেরিকান ভদ্রমহিলা চীন ঘুরে এসে তাদের চাষাবাদ,সেচ,নিষ্কাষণ ইত্যাদি নিয়ে একটা ভিডিও কনফারেন্স করেছিল ঢাবি'র নাট মন্দীরে। সেটা বাংলায় পড়ে শোনাচ্ছিল রিয়াজুর রহমান। চিন্তা করে দেখুন....অত্যাধুনিক আমেরিকানরা চীনের প্রাচীন পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছে এবং দেশ-বিদেশে প্রচার করছে ! আমি সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলাম।

এই বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে লেখার ইচ্ছে আছে। ধন্যবাদ আপনাকে।

১৬. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৪০
আমিই রূপক বলেছেন: আমাদের দেশের কৃষির সর্বনাশ হবার প্রক্রিয়া অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিলো। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও কৃষির দিকে সরকার সহ সবার নজর একটু কম। যার ফলে কৃষি পিছিয়ে পড়ছে দিনদিন। বাংলাদেশে অবশ্য হাইব্রীড ধানের চাষ কম হয়। কারণ এর দাম অত্যধিক। তবে ফলন বেশি এটা সত্য। কিন্তু হাইব্রীড ছড়াও আরও অনেক উচ্চফলনশীল জাত এদেশে রয়েছে। বাংলাদেশে আবিষ্কৃত অনেক উচ্চফলনশীল জাত রয়েছে যা চাষ করলে কৃষকের ভালো হবার কথা। লোকাল জাতগুলোর ফলন কম এগুলোর তুলোনায়। বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা শুধুমাত্র লোকাল জাত দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১৯

লেখক বলেছেন: "লোকাল জাতগুলোর ফলন কম এগুলোর তুলোনায়। বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা শুধুমাত্র লোকাল জাত দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়। "

তার পরও তো ১৫ থেকে ২০ লাখ মে.টন খাদ্যশস্য আমদানি করতে হচ্ছে।


১৭. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৪৪
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: জানার আছে অনেক কিছু...হাইব্রীড নাম শুনেই মনে হতো অধিক ফলন...তাতে কোনো অসুবিধার কথা মাথায় আসেনি। যদি বন্ধ্যা হয়ে থাকে, তাহলে বলতেই হবে এটা মুনাফালোভীদের পাতা ফাঁদে আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়া...বন্ধ্যা বীজের কারণে একসময় হয়তো আমাদের কৃষক সমাজ সম্পূর্ণরূপে মুনাফালোভীদের হাতে বন্দী হয়ে পড়বে। তখন হা-হুতাশ করেও লাভ হবে না।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১৪

লেখক বলেছেন: এটা মুনাফালোভীদের পাতা ফাঁদে আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়া...বন্ধ্যা বীজের কারণে একসময় হয়তো আমাদের কৃষক সমাজ সম্পূর্ণরূপে মুনাফালোভীদের হাতে বন্দী হয়ে পড়বে। তখন হা-হুতাশ করেও লাভ হবে না। .............হ্যাঁ এটাই আসল কথা। এই বোধটা জাগরুক রাখা দরকার। ধন্যবাদ আপনাকে।

১৮. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৪৬
মামু বলেছেন: বিলাইয়ের গলায় গন্টা বাদবে কেডা?
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৪২

লেখক বলেছেন: জনসচেতনতা।

১৯. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০০
...অসমাপ্ত বলেছেন: কথাগুলো করুণ সত্য।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৫৯

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ করুন সত্যই বটে।

২০. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:২২
ত্রিভুজ বলেছেন: সমস্যা হচ্ছে জনসংখ্যা নিয়ে। বাড়তি জনসংখ্যার প্রয়োজন মেটাতে হাইব্রিড ধান একটা উপায় হতে পারে.. আবার কৃষকদের পঙ্গু হয়ে যাওয়ার বিষয়টাও দেখতে হবে। এরকমটা কি সম্ভব নয় যে কিছু জমিতে হাইব্রিড এবং কিছু জমিতে সাধারণ ধান চাষ হলো। তাহলে বীজ সংক্রান্ত বিষয়টার সমাধান হয়।

যাই হোক, এই বিষয়টা নিয়ে তেমন কিছুই জানা নেই। শুধু পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যগুলো দেখি। আপনার তথ্যবহুল পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৩২

লেখক বলেছেন: মাঝামাঝি একটা উপায় হতে পারত যদি সরকার নিজে ব্যাপারটা হ্যান্ডল করত! সরকার তো এজেন্সি দিয়ে খালাশ ! কর্পোরেট পুঁজি একচেটিয়া মুনাফা ছাড়া আর কিছু তো বোঝে না !

২১. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:২৫
তপন বাগচী বলেছেন: লেখাটি গুরুত্বপূর্ণ। হাইব্রীড ধান বলতে তো আমরা আলোকধান ইত্যাদিকে বুঝি। এদের ক্ষেত্রে আপনার বক্তব্য মান্য।
তবে অনভিজ্ঞ আমাদের কিছু জানার ইচ্ছা পূরণ করলে কৃতজ্ঞ হই_

১. কিন্তু বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনিস্টিটিউট (ব্রি) উৎপাদিত হাইব্রীড ধান প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও কি একই বক্তব্য?
২. ব্রি'র হাইব্রীড বীজ থেকে উৎপাদিত ধান থেকেও কি বীজ রাখার সুযোগ নেই?
৩. ব্রি'র হাইইয়েল্ডিং ভ্যারাইটি (এইচওয়াইভি) কি একই দোষে দুষ্ট?
৪. ফরহাদ মজহারের নয়াকৃষি আন্দোলনের বীজ যদি সারাদেশে চাষ করা হয় তাতে কি খাদ্যসমস্যা মিটবে?
১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫৩

লেখক বলেছেন: ১।'ব্রি' উৎপাদিত হাইব্রীড বিষয়ে জানা নেই।তুলে আনতে চেয়েছি বহুজাতিক কোম্পানী এবং দেশী বড় কোম্পানী গুলোর আমদানি নির্ভর বীজের কথা।
২।কোন হাইব্রীড থেকেই বীজ উৎপাদিত হয় না।কৃষক পারে না।
৩।এইচ ওয়াই ভি ও হাইব্রীড।
৪।নয়াকৃষির বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি প্রাচীন বাংলার চিরায়ত পদ্ধতি। তার ফলন অবশ্যই হাইব্রীড থেকে কম।

খাদ্য সমস্যা মেটার প্রসঙ্গটা ভিন্ন।এর সাথে প্রতি বছর চাষযোগ্য জমির পরিমান কমে যাওয়া সহ অনেক বিষয় জড়িত।স্বল্প পরিসরে সেই আলোচনা অসম্পূর্ণ থাকবে।

২২. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:২৮
মুসতাইন জহির বলেছেন: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এরকম একটি জুরুরি বিষয়কে ব্লগের আলোচনায় উঠিয়ে আনার জন্য।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১১

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

২৩. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩১
রাস্তার ছেলে বলেছেন: একটা সময়োচিত পোস্ট! আরেকটু তথ্য বহুল হলে ভাল হত। বিশেষ করে ধানের জাতের যে উন্নয়নটা হয় বছর বছর চাষের ভেতর দিয়ে, সেটা যে হাইব্রীড চাষের কারণে থেমে যায় সেটাও কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার!
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৩৬

লেখক বলেছেন: এমনিতেই বিশাল আকার হয়ে গেছে ! ওটা অন্য একটা পোস্টে দিতে হবে।

২৪. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩১
শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন: হাইব্রিড ধান এর ফলন ইনব্রিড ধানের তুলনায় বেশী, যদিও এটিকে পুনরায় বীজ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

আমাদের দেশে উদ্ভাবিত হাইব্রিড ধান গুলো দেশে উদ্ভাবিত সর্বোচ্চ উৎপাদনক্ষম উচ্চফলনশীল ধান(যেটি ব্রিধান২৯ নামে পরিচিত) এর চাইতে বেশী ফলন দিতে পারেনি আজ অবধি, যদিও কিছু কিছু এন জি ও এর ব্যতিক্রম দাবী করে, তবে মূল কথা হল ব্রি ধান ২৯ এ যাবৎ উদ্ভাবিত সর্বোচ্চফলনশীল ধান। তাছাড়া দেশে উদ্ভাবিত হাইব্রিড ধান গুলো বিশেষ বিশেষ ইকো সিষ্টেম এর জন্য উপযোগী, এর ব্যতিক্রম হলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে না।

এখন আশা যাক আমদানীকৃত হাইব্রিড প্রসঙ্গে। চীনের সব হাইব্রিড জাত অনেক অনেক বেশী উৎপাদনক্ষম, আমাদের ইনব্রিড এবং হাইব্রিড এর তুলনায়। কাজেই যদি ভালো মানের বীজ আমদানীর বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে কৃষক বেশী ফলন পাবে। এখানে রেগুলেশন এবং নীতিমালার ব্যপার গুলো ঠিক করা দরকার, যাতে নিম্নমানের বীজ কিনে কৃষক প্রতারিত না হয়। যেটি করা আসলেই দুরূহ ব্যপার, কেননা আমরা নিজের লাভ ছাড়া আর কিছুই বুঝি না।

শেষ কথা হল সব প্রযুক্তির টিকে থাকা নির্ভর করবে কৃষকের গ্রহন করার উপর, কৃষক যেদিন লাভবান হবে না, কৃষক সে প্রযুক্তি গ্রহন বা বয়ে নিয়ে বেড়ানো কোনটাই করবে না।

১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪৮

লেখক বলেছেন: ভাল মানের বীজ,হাইব্রীডের নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি বিষয় গুলি আমাদের সরকারের হাতে নেই। তারা রাখেনি। কন্ট্রাক্ট দিয়ে দিয়েছে দেশী এবং বহুজাতিক কোম্পানীদের কে। সমস্যা এটাই। বীজ,পরিবহন,সরবরাহ,মূল্যনির্ধারণ নবই কর্পোরেট দের হাতে। তারা যে ভাবে সরবরাহ দেবে,যা দেবেতা-ই আমাদের অসহায় কৃষককে মেনে নিতে হবে।

জমিতে 'জো' বলে একটা শব্দ আছে।বীজ বোনার আগে বৃষ্টি হলে সেই 'জো' প্রস্তুত হয়। রাতে বৃষ্টি হলে কৃষক ভোরে উঠেই ক্ষেতে চলে যায়। যখন তাকে কোম্পানীর দোকান বা গোডাউন থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে তখন তো সে আর প্রাকৃতিক 'জো' টা পাচ্ছে না।আবার অনেক আগেও এনে রাখতে পারছে না,গুণাগুণ নষ্ট হবার ভয়ে ! এই উভয় সংকটের কারণেই কৃষক পরমূখাপেক্ষি হতে চায় না।

২৫. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৪৯
আবুল বাহার বলেছেন: আমাদের অশিক্ষিত/ স্বল্পশিক্ষিত কৃষকদের পক্ষে ভালো মন্ধ বিচার করা অসম্ভব ব্যাপার ।

আমার বাবাকে দেখেছি ধান কাটার সময় জমিতে যে অংশের ধানটা খুব ভালো ফলেছে সেটা আলাদা ভাবে কেটে আলাদা ভাবে শুকিয়ে অতি যত্নে সংরক্ষন করতেন । এবং সেই ধানটাই বীজ হিসেবে ব্যাবহার কারা হতো এবং সময় মত। তাই বীজ নিয়ে সমস্যার কথা কখনো শুনতে পাইনি বাবার কাছে । বরং উদৃত্ব ধান অনেক দামে বিক্রি করতেন ।

আমার সেই বাবাকে এখন হাইব্রিড বীজের জন্য ডিলারদের কাছে ঘুরতে হয় । প্রায়ই বাবাকে বলতে শুনি সময় মত বীজ পান না তাই ফলন ও ভালো হয়না ।

জনগুরুত্ব পুর্ন পোষ্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ লেখক আপনাকে ।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৪০

লেখক বলেছেন: আপনার চিন্তাশীল মন্তব্য এই পোস্টকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।

ধন্যবাদ।

২৬. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:০১
মুনশিয়ানা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ মনজুরুল হক, সময়োপযোগী পোষ্ট, হাইব্রীড বীজ নিয়ে যাবতীয় মোহ ভঙ্গের সময় মনে হয় এসে গেছে, হাইব্রীড বীজ মানেই বন্ধ্যা, তা BRI হোক বা বহুজাতিকের।

মুকুলের দেওয়া একটা পুরানো পোষ্টও এ প্রশঙ্গে পড়লাম। মুকুলের জন্য অভিন্দন আর প্রশংসা।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৪৬

লেখক বলেছেন: 'ব্রী' হাইব্রীডের এই ধারণাটি এক ধরণের আইওয়াশ।হাইব্রীড বীজ থেকে যদি বীজই হতো তাহলে বহুজাতিক কোম্পানীঅলারা এটাকে ব্যবসা বানাতে পারত না।

২৭. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১৮
নুরুন্নবী হাছিব বলেছেন: তথ্য সমৃদ্ধ লেখা...ধন্যবাদ...
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৪৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২৮. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২১
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: ্রিয় পোষ্টে গেল। আরো বিস্তারিত আলাপ হবে সুযোগ মত।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৫১

লেখক বলেছেন: নিশ্চই। ধন্যবাদ আপনাকে।

২৯. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২৬
বিবর্তনবাদী বলেছেন: হু...... ব্যাপারটা নিয়ে ঘাটতে হবে।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৫২

লেখক বলেছেন: প্রয়োজন

৩০. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩১
তপন বাগচী বলেছেন: লেখক বলেছেন: ১।'ব্রি' উৎপাদিত হাইব্রীড বিষয়ে জানা নেই।তুলে আনতে চেয়েছি বহুজাতিক কোম্পানী এবং দেশী বড় কোম্পানী গুলোর আমদানি নির্ভর বীজের কথা।
২।কোন হাইব্রীড থেকেই বীজ উৎপাদিত হয় না।কৃষক পারে না।
৩।এইচ ওয়াই ভি ও হাইব্রীড।
৪।নয়াকৃষির বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি প্রাচীন বাংলার চিরায়ত পদ্ধতি। তার ফলন অবশ্যই হাইব্রীড থেকে কম।

বাগচী বলেছেন:
ব্রি-ও দুটি হাইব্রীড ধান প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। হাইব্রীড বীজ আমদানির চেষ্টা যখন করা হয়, তখন ব্রি'র ব্রিডিং বিভাগের বিজ্ঞানী ড. তুলসী দাস এর প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, আমদানি করা বীজ থেকে ফলন বাড়বে কিন্তু পরবর্তী বছরে বীজ রাখা যাবে না। তাই কুষক বিপাকে পড়বে। কয়েকবছর অপেক্ষা করলে ব্রি-ই হাইব্রিড দেবে। কিন্তু এই বিজ্ঞানীকে ওএসডি করে রাখা হয়।
ওদিকে বহুজাতিক কোম্পানি এবং দেশি কিছু প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক স্বার্থে হাইব্রিড বীজ আমদানির অনুমতি দেয়া হয়। কৃষির ক্ষতি যা হওয়ার , তা হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে
ব্রি' হাইব্রিড রিসার্স ফিল্ড থেকে ফার্মার্স ফিল্ডে পরীক্ষা করা হয়েছে। বীজ প্রত্যয়নী এজন্সির প্রত্যয়ন নিয়ে ব্রিহাইব্রিড কৃষকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। দেখুন-
Click This Link
অথবা
Click This Link
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো কৃষকের মনে ঢুকে যাওয়া বীতির কারণে ব্রিহাইব্রিড চাষ করতেও আগ্রহী হচ্ছে না।
ব্রি হাইব্রিড থেকে বীজ রাখা যায়। এই বীজ বুনলে ফলন প্রথমবারের মতেই হয়। হাইব্রিড মানেই বীজ রাখা যায় না, এই কথাটি ব্রির হাইব্রিডের ক্ষেত্রে সত্যি নয়। কৃষকই এই হাইব্রিড থেকে বীজ রাখতে পারে।
এইচওয়াইভি আর হাইব্রিডকে এক ভাবছেন কেন, ভাই? এই দুইয়ের মধ্যে যথেষ্ট ফারাক রয়েছে। আমি বিজ্ঞানী নই, তাই ফারকটা দেখিয়ে দিতে পারছি না। কিন্তু ফারাক আছে। সকল হাইব্রিডই এইচওয়াইভি, কিন্তু এইচওয়াইভি-ই হাইব্রিড নয়।
যে হাইব্রিড তেকে আমার কৃষক বীজ রাখতে পারে না, আমরা সেই হাইব্রেডের বিপক্ষে। কিন্তু যদি বীজ রাখা যায়, তখন ভাবনাটা নিয়ে নতুন ভাবনা খেলা করতে পারে।
ধন্যবাদ মনজুরুল ভাই, আপনার শ্রমসাধ্য মন্তব্য পড়ে ভালো লাগল।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৫১

লেখক বলেছেন: দেখুন,আপনি নিজেই বলছেন.."ওদিকে বহুজাতিক কোম্পানি এবং দেশি কিছু প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক স্বার্থে হাইব্রিড বীজ আমদানির অনুমতি দেয়া হয়। কৃষির ক্ষতি যা হওয়ার , তা হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে"

হ্যাঁ মূল সমস্যাটা এখানে।যে কোন দেশ তার প্রযয়াজনে প্রজুক্তিকে অস্বীকার করতে পারে না।কিন্তু সেই প্রযুক্তি যদি তাকে কিছু মুনাফালোভী চন্ডালের হাতে জিম্মি করে তোলে, কিছু বিশেষ ব্যবস্থার অধীনে সীমিত করে তোলে তাহলে সেই নাগপাশে তাকে পড়তেই হয়।এটা বুঝতে আরো সুবিধা হবে বিশেষায়িত প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যাপারটা খেয়াল করলে

মিগ ২৯ আমদানি করার পর তার পার্টসও তাদের কাছ থেকে তাদের ধরে দেয়া দামে নিতে হবে।সেটা কমন মার্কেটে পাওয়া যাবে না! এটা ঐ রকমই।মাত্র কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানী যদি গোটা দেশের বীজ নির্বাচন এবং বিতরণের দায়িত্ব পায় তাহলে একচেটিয়া মার্কেট অধিকার এবং মুনাফাতো সে তুলবেই।আমাদের মূল কথা এটাই যে আমাদের ছোট পুঁজির ক্ষুদ্র কৃষক কোম্পানী নির্ভর হলে তার পক্ষে বড় পুঁজির সঙ্গে পাল্লা দেয়া সম্ভব না। তাকে হারতেই হবে।

৩১. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩১
মহাকালর্ষি বলেছেন: এমন পোস্টের জন্য কৃতজ্ঞতা।
ফরহাদ মাজহারের কোন লিংক কি জানা আছে?
অনেকদিন ওনার কোন লেখা পড়ি না।
ধন্যবাদ।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৫৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ৪৫ নম্বরে জাতেমাতাল এর মন্তব্যে ফরহাদ মজহারের লিঙ্ক আছে।

৩২. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩৭
মনির হাসান বলেছেন: ...
.... মনজুরুল ভাই আজকেই এ বিষয়ে এক বন্ধুর সাথে অনেক আলাপ হল, G.M. (Genetically Modified বা এই ধরনের কোনো নাম, আমি ঠিক শিওর না ) বীজ বলে নতুন আরেক রকমের হাইব্রীড নাকি এসেছে যার খারাপ দিকটা নাকি আর ভয়ংকর ...

.... আমি এসব বিষয়েএক্সপার্ট না ... তারপর'ও এটুকু বুঝি প্রকৃতির উপর মাতব্বরি করতে গ্যালে মানুষকে সবসময় চরম মুল্য দিতে হয় ... আমরা এভাবে যে প্রকৃতির সাথে নিজেদের পাল্লা দিচ্ছি তার জন্য ভাল একটা খেশারত দিতে হবে ।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:০৩

লেখক বলেছেন: জিএম সবচে বেশি ব্যবহার হচ্ছে ল্যাটিন আমেরিকায়।আর দক্ষিণ কোরিয়ায়। খেয়াল করবেন কোরিয়ায় প্রতি বছর কৃষকদের আত্মহত্যার যে খবর ছাপা হয় তা রিতিমত আতঙ্কজনক।তারা এক একজন বড় কৃষক হয়ত কয়েক শ'হেক্টর জমিতে হাইব্রীড আবাদ করল,কোন কারণে ফলন মার খেলে তার ভিটে-মাটি নিয়ে টান দেয়। তখন সে আত্মহত্যা করে। আবার বিশ্বের যেখানেই 'জি-৮' সম্মেলন হয় সেখানেই কৃষকরা ব্যারিকেড দেয়। পুরো ল্যাটিন জুড়ে জিএম নতুন এক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

৩৩. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪০
মুসতাইন জহির বলেছেন: পোস্টটির গুরুত্ব অনুধাবন করে একে স্টিকি করার জন্য কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জনানাই।

কৃষি বা খাদ্য উৎপাদন নিয়ে প্রচলিত কিছু অনুমান/ধারণা দাঁড়িয়ে গেছে যা থেকে বেরিয়ে অসা দরকার। প্রথমত হোল জনসংখার ভয়। দ্বিতীয়ত ধরেই নেয়া হয়( প্রপাগান্ডার ফল) দেশি জাততের ফলন কম বা অনুন্নত।

জনসংখ্যার রাজনীতি বা বর্ণবাদী ভীতি সঞ্চারের যে রাজনীতি তা নিয়ে এই পোস্টে আলোচনা হয়তো প্রাসঙ্গীক হবে না। কিনতু মনে রাখা দরকার ভালোমন্দ বিচারের চাইতেও আনেক সময় এটাই প্রধান যুক্তি হয়ে পড়ে নির্বিচারে হাইব্রিড় আমদানির পক্ষে।

তপন বাগচীর প্রশ্ন ধরে এটুকু বলা যায় যে আমাদের যে কয়েক হাজার জাতের ধান ছিলো তার কয়টা নিয়ে আমরা যথাযথ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি, গবেষণা চালিয়েছি? এটা খুব কঠিন কাজও ছিলো না, কৃষকদের পর্যায়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানটাও না করে বাংলাদেশ বা পূর্বে পাকিস্তান আমলে সরকারিভাবে এটা প্রমোট করা হয়েছিল।

অবশ্যই বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জাতের ধান যে কোন বিচারে বেশি ফলন দিতে সক্ষম। কিন্তু কথা হলো খাদ্য উৎপাদন বলতে আমরা শুধু ধান উৎপাদন বুঝব কি? আমাদের শস্য চক্র, খাদ্যের ধরণ ও পুষ্টির উপাদান -- এইসবকটি বিষয়কে সামগ্রিকভাবে আমলে এনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বর্তমান পরাশক্তির মদদ পুষ্ট এই উপদেষ্টা পরিষদ তো এক লাফে গত মৌসুমে হাইব্রিড় দ্বিগুন করে ফেলতে সক্ষম হয়েছে সিড়র আর বন্যার অজুহাতে। উপদেষ্টা সি এস করিম প্রায় আদাজল খেয়ে নেমে ছিলেন হাইব্রিড় চাষের প্রসার ঘটাতে। বুঝুন, এদের এজেন্ডা কি। কিন্তু এখন সর্বনাশ তো চোখের সামনে। এর জন্য কোনোভাবেই বর্তমান সরকার দায় এড়াতে পারে না। বিদেশি কম্পানি আর এদেশি দালাল--এই উভয় শক্তির বিরুদ্ধে সচেতন হলেই আমরা বাংলাদেশের খাদ্য, প্রাণসম্পদ, পরিবেশ ও প্রকৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবো।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:১৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মুসতাইন জহির।আপনি শেষ প্যারায় ঠিক জায়গাতেই হিট করেছেন। পরাশক্তি এখন আর শুধু অস্ত্র বিক্রি করে মুনাফা করে না..তাদের নজর এখন সব দিকে। এমনকি কাপড়কাঁচা সাবানেও তাদের একচেটিয়াত্ব কায়েম করতে চায়।দেখুন আমাদের অবস্থা.........

১।বীজ প্রস্তুত,বিতরণ,দাম নির্ধারণ জাত নির্ধারণ সবই কয়েকটি বহুজাতিকের হাতে।
২।সার উৎপাদন সরকারের হাতে থাকলেও অব্যবস্থায় ফুল রেঞ্জে উৎপাদন না হওয়ায় আমদানি, এবং সেখানেই আবার বহুজাতিক ফান্ড এন্ড ফান্ড ম্যানেজমেন্ট এর জাল।
৩।কীট নাশক,বালাই নাশক কেমিক্যালস সবটাই আমদানি নির্ভর এবং ঐ কোম্পানী নির্ভর।

এখানে আর একটা বিষয় মাথায় আনা দরকার 'সহযোগী পণ্য'। আমাদের প্রচলিত আমন,আউস,বোরো ধান থেকে যে খড় বা নাড়া পাওয়া যেত তা শেষ।নাড়া বা খড় কিনতে হচ্ছে(বিকল্প পণ্য)হাইব্রীডে বেশি পাওয়া উৎপাদনের লাভ থেকে ! কি দাড়াল ?থোড় বড়ি খাড়া-খাড়া বড়ি থোড় !

গোটা 'উন্নত বিশ্ব' সিনথেটিক,আর্টিফিশিয়াল ছেড়ে প্রকৃতি নির্ভর বা অর্গানিক কমোডিটিজে ঢুকছে...অথচ এই তৃতীয় বিশ্বে তারা কেমিক্যালস প্রভোক করছে শুধু মাত্র মনাফার জন্য নয়..একচেটিয়া মুনাফার জন্য।

৩৪. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫১
তপন বাগচী বলেছেন: @মুনশিয়ানা
আপনি বলেছেন, 'হাইব্রীড বীজ মানেই বন্ধ্যা, তা BRI হোক বা বহুজাতিকের।'
না, ভাই এই কথাটি ঠিক নয়। ব্রির হাইব্রিড বন্ধ্যা নয়। এটি ফলদায়ক।
বিদেশিরা বীজ কিনতে বাধ্য করার জন্য বন্ধ্যা বীজের প্রযুক্তি নিয়েছিল। কিন্তু ব্রি যেহেতু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, তারা গবেষণা করে বন্ধ্যাত্ব মোচন করেছে। গত ২২ অক্টোবর আমি ব্রিতে গিয়ে এবিষয়ে জেনে এসেছি। ব্রিহাইব্রিডধান-২ এর ফলন হেক্টরপ্রতি ৮.৫ টন। পরের বছরও একই ফলন হবে। কৃষকের ক্ষেতে পরীক্ষা চালিয়েই এই তথ্য প্রস্তুত করা হয়েছে। দেখুন
Click This Link
৩৫. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৬
কেমিকেল আলী বলেছেন:
আমাদের বিশাল এই জনগোষ্ঠির খাদ্য চাহিদা মিটাতে হাইব্রিড বীজের বিকল্প চিন্তা করা নিজের পায়ে কুড়াল মারারই শামিল। হাইব্রিড বীজে অল্প সময়ে অধিক ফসল দেয়, পরিবর্তে আপনাকে সার, কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। আপনাকে কেউ নিদিষ্ট করে দেয়নি আপনি কি ধরনের সার ব্যবহার করবেন। নিম্নমানের বীজের জন্য হাইব্রিড বীজকে দায়ী করা শুধুমাত্র ফরহাদ মাজাহারের মত চন্ডিদাসেরই সাজে। হাইব্রিড বীজের মান রক্ষা করা আর কারা এই নিয়ে ব্যবসা করবে তার দায়িত্ব সরকারের, সরকারের দায় বীজের উপরে চাপিয়ে দিয়েছেন খুব দক্ষতার সাথে জনাব মনজুরুল হক সেজন্য আপনি অবশ্যই ধন্যবাদ পাবার দাবিদার।
৩৬. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৯
তারার হাসি বলেছেন: পড়ে যা বুঝলাম তা খুবই ভয়ঙ্কর। কিন্তু আসলে মানুষ কতটুকু সচেতন এ ব্যাপারে।
বিশেষ করে শিক্ষিত সমাজ, আমি তাদের কথা বলছি কারণ মাত্র কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের একটা নামকরা স্কুলে বিজ্ঞান মেলা হয়ে গেল। এখানে হাই ব্রীড চাষের সুফল দেখানোর উপর প্রকল্প ছিল। খুব সুন্দর করে ছাত্র ছাত্রীরা বর্ণণা দিচ্ছিল। আমি নিজেও দাঁড়িয়ে শুনেছি।

আমার প্রশ্ন হল শিক্ষকরা কি এ বিষয়ে অজ্ঞ ?

প্রকল্পটির ছবি, আমি কি মনে করে ছবিটা তুলেছিলাম জানি না।

১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৫২

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্য চিন্তার খোরাক যোগাল।ছবির জন্য আলাদা কৃতজ্ঞতা।

সচেতনতার কথা বলছেন? এই জিনিসটা বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না। আর্থসামাজিক কাঠামোর ভেতর সংবেদনশীল দৃষ্টি রেখে ধীরে ধীরে
অর্জন করতে হয়।

ওই শিক্ষকরা শুধু অজ্ঞ নন, বেকুব এবং পার্টসলেস।চাকরির জন্য সিলেক্টিভ কিছু সাবজেক্ট ছাড়া বাকি দুনিয়ার কিছুই জানতে চান না।অথচ কর্পোরেট মহাজনদের কাছে বিক্রি হওয়ার জন্য নিজেদের সেলেবল কমোডিটিজ হিসেবে তুলে ধরেন!

দুটো রেফারেন্স দেখুনঃ বছর পাঁচেক আগে ঢাকার এক নামকরা ইস্কুলে একটি গুড়ো দুধের কোম্পানী সুভ্যেনির বিলি করছে,১শ গ্রাম দুধ বাচ্চাদের ধরিয়ে দিয়ে সাথে একটা ছবিঅলা চমৎকার বইও দিচ্ছে।ওই বইতে লেখা...... A for Ancor, B for bestmilk, C for creamy, N for Newzeland....! এবং ওই শিক্ষকরা যেনে শুনে বাচ্চাদের এই বিজ্ঞাপন শেখাচ্ছে !

মাস খানেক আগে এক বিশাল স্কুলে শিক্ষকরা স্বউদ্যোগে ছাত্র-ছাত্রীদের লাল রঙের লাইফবয় গেঞ্জি পরিয়ে ওই ব্রান্ডের সাবান দিয়ে 'বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস' পালন করাল ! টিভি চ্যানেল,সংবাদ পত্রে বিনা মূল্যে বিজ্ঞাপন হলো ! ওদের গিফট এবং আনুসাঙ্গিক মিলিয়ে মোট খরচের দশগুণ টাকার বিজ্ঞাপন হয়ে গেল, আর সবই হলো শিক্ষকদের মগজ ভাড়া দেওয়ার কারণে ।

এর পর 'হাইব্রীড শিক্ষা' তো আছেই...

৩৭. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪৮
ফেরদাউস আল আমিন বলেছেন: হাইবৃড বীজ না বলে একে Genetically Modified Food বা GMFood বলা উচিত। শিকাগোতে পশ্চিম বাংলার দেবাশীষ মান্নার (বায়োকেমিস্টৃতে পি এইচ ডি ধারী) দু মাস থাকাকলীন তার সংগে এ বিযয়ে কিছুটা আলাপ হয়েছিল। তার মতে বহুজাতীক প্রতিষ্ঠান এই Genetically Modified Food বা GMFood তৈরী করে বিশ্বের কৃষি উৎপাদন তাদের নিয়ন্ত্রনে নেবার প্রচেষ্টায় লিপ্ত।

GMFood একটি নির্বীজ শষ্য বীজ, এর নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমাতা সাধারন শষ্যের তুলনায় বেশী হলেও, অন্যান্য শষ্যকে এবং প্রকৃতিকে এরা ধংস করে দেয় বলে ভারত সহ অন্যান্য দেশের উপলব্ধি। বহুজাতিক কোম্পানী তাদের পণ্যের ভাল দিকটা(মুনাফার জন্য) প্রচার করে শুধু।

বাংলাদেশের উর্বর মাটিতে GMFood প্রতিরোধ করা বাঞ্চনীয়।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:০৫

লেখক বলেছেন: জিএম ফুড প্রজেক্ট ল্যাটিন আমেরিকা আবং তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।এই প্রজেক্ট 'সাকসেসফুল' হওয়ার পর তারা হাত বাড়াবে মিঠা পানি,প্রাকৃতিক রিসোর্স,জৈব সোর্স ইত্যাদি।রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করেন আগামী এক দশকের মধ্যে পানীয় জল নিয়ে বিশ্বে একটা যুদ্ধ বেধে যেতে পারে।

জিএম প্রজুক্তি শুধু বীজে নয়, প্লান্টে বাডিং হিসেবেও আগ্রাসন চালাচ্ছে। এটা প্রতিরোধ করতে না পারলে কী হতে পারে ? ছোট ছোট জমির মালিকরা এসময় বাধ্য হয়ে তার জমিজমা গ্রুপের হাতে তুলে দিয়ে নিস্ব হয়ে পড়বে।

৩৮. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৫৭
মনিরুজ্জামান কবির বলেছেন: ১৯৭১ সালে এদেশের জনসংখ্যা ছিল৭কোটি। বর্তমানে ১৫ কোটি। জমি কিন্তু ক্রমান্বয়ে বাড়ছে না।
বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটানোর একটাই উপায় আমাদের চোখের সামনে ভাসছে।তা হল হাইব্রিড।
আমার মতে হাইব্রিড চাষ করতেই হবে।তবে,আমদানি করে নয়।আমি বিষয়টি নিয়ে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ধানবিজ্ঞানীর সাথে আলাপ করি।
তার ভাষ্য,হাউব্রিড চাষ করতে হলে কৃষকদের দ্বারাই হাইব্রিড বীজ উৎপাদন করাতে হবে।হাইব্রিড বীজ আমাদের দেশের কৃষকরা উৎপাদন করতে পারবে।পক্রিয়াটা কৃষকদের শিখাটে হবে।
এব্যপারে কর্পোরেট কোম্পানি এগিযে আসবে না, সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১৫

লেখক বলেছেন: কিন্তু এভাবে হলো না ভাই ! সরকার বহুজাতিক কোম্পানী কে ইজারা দিয়ে দিল যে ?

৩৯. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:০৩
মনির হাসান বলেছেন: @ কেমিকেল আলী ... ভাই আপনি খালি আপনার পেটের চিন্তা করতেসেন ... আপনার পোলাপান ... নাতি নাত্নির চিন্তা কে করবে ?

হাইব্রিডের বিপক্ষে এখন সারাপৃথিবী সচেতন হচ্ছে । সাময়িক সমাধান হিসেবে এর বিকল্প এখন'ও তৈরী হইনি এটা সত্য ... এতটাই সত্য যে লেখক বা অন্যকেউ বা আমি'ও এই ব্যাপারে লেখার প্রয়োজন অনুভব করছিনা ... কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারে এর ক্ষতির ব্যাপকতাটা কতটা হতে পারে এটা নিয়ে একটু ভাববেন প্লিজ ।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মনির হাসান। অভিনন্দন আপনাকে।

৪০. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:০৬
প্প্বপ্প্বেষপ্প্ব্ত্রপ্প্বুপ্প্ম্লপ্প্ম্ম....... বলেছেন: ভাই কি করন লাগবো হেইডা কন... ধান বেশি নাহইলে আবার ধরা....প্রতি বছর বন্যা সব খাইয়া ফেলে...
..........সবাই তো লাইন ধোইরা সমষার কথাই কইতে আছেন...সমাধান তো কেও দেয়না....।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২২

লেখক বলেছেন: বহু কসরৎ করেও প্রিয় কমরেডের ছবির পাশে নামটা উচ্চারণ করতে পারলাম না !

সমাধান আছে। এই পোস্টের শেষে সেটা দেওয়ার চেষ্টা করব। তবে আমরা বিশেষজ্ঞ নই,সরকারী নীতিনির্ধারকও নই। আমরা কেবল পথটাতে দিকনির্দেশ করতে পারি মাত্র।

৪১. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১২
অ্যামাটার বলেছেন: এ'বছর রোজার ঈদে দেশের বাড়ি গিয়ে একসময় মামার সাথে ক্ষেতে গিয়েছিলাম, একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের একজন চাষীভাইয়ের সাথে কিছু কথা হয়েছে। অনেক তথ্যও জেনেছিলাম। এই জি.এম কর্পের সম্বন্ধে আগে কিছু জানলেও সে'বার নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেই চাষী ভাইয়ের থেকে জানলাম, মাত্র গত মৌসুমেই নাকি আমাদের দেশীয় বিরল প্রজাতীর দুটি ধানের জাত বিলুপ্ত হল। এক বৃদ্ধা জমিদার স্ত্রী'র নাকি প্রিয় চাল ছিল ঐটা, তাই তিনি নিজ উদ্যগেই নিজের জমিতে সেটা ফলাতেন। তার মৃত্যুর পর আর এটা রক্ষা করতে কেউ এগিয়ে আসে নি। অপরাধ, তারা জি.এম কর্পের মত উচ্চফলনশীল না!!

অফটপিক: ফরহাদ মাঝার সম্বন্ধে আপনার অভিমত কি? উনার চিন্তাধারার সাথে আমার ৯০%-ই মিলে যায়...স্রোতের বিপরীতে একজন সত্যিকারের প্রথাবিরোধী।
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৪১

লেখক বলেছেন: ফরহাদ মজহার এর বেশ কিছু বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও তাকে শ্রদ্ধা করি।শুধু মাত্র মাকর্সবাদের কারণে।

৪২. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১৫
পথিক!!!!!!! বলেছেন: উপযুক্ত একিট বিষয় খুব ভালভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৪৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই।

১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৪৪. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৫৩
মুনশিয়ানা বলেছেন:
ব্রির হাইব্রিড বন্ধ্যা নয়-- এ ধরনের প্রমান আমি এখনও পাইনি, আপনার দেওয়া লিংকেও নয়...... @ তপন বাগচী
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১৬

লেখক বলেছেন: হাইব্রিড যে বন্ধ্যা এটা প্রমানের অপেক্ষা রাখে না। ধন্যবাদ আপনাকে।

৪৫. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:২৯
জাতেমাতাল বলেছেন: সামহোয়ারকে অসংখ্য ধন্যবাদ এই পোষ্টকে ষ্টিকি করার জন্য। হাইব্রিড বীজ নিয়ে আমাদের কার্যকর একটা লড়াই শুরু করাটা অত্যান্ত জরুরী... অনেক অভিনন্দন পাওয়ার কাজ করেছেন মনজুরুল হক।

এ প্রশঙ্গে ব্রাকের কিছু কার্যকরী সমালোচনা এখানে তুলে ধরতে চাই ...। গত সিডর এর পরবর্তী সময়ে ব্রাক মাইক্রোক্রেডিট প্রাপ্ত তার সব সদস্যদের হাইব্রীড বীজ কেনার (এবং তা অবশ্যই ব্রাকের বীজ) বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছিলো। যদিও ব্রাক এ অভিযোগ কখনই স্বীকার করে নি।

যারা হাইব্রীড বীজের বিরুদ্ধে দুনিয়া জোড়া সংগ্রামের খোঁজখবর পেতে চান তারা http://www.grain.org/front/ এর ওয়েব সাইটে যেতে পারেন। ফরহাদ মজহারের বক্তব্যের জন্য ক্লিক করেন- http://www.grain.org/seedling/?id=503
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২৯

লেখক বলেছেন: "এ প্রশঙ্গে ব্রাকের কিছু কার্যকরী সমালোচনা এখানে তুলে ধরতে চাই ...। গত সিডর এর পরবর্তী সময়ে ব্রাক মাইক্রোক্রেডিট প্রাপ্ত তার সব সদস্যদের হাইব্রীড বীজ কেনার (এবং তা অবশ্যই ব্রাকের বীজ) বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছিলো। যদিও ব্রাক এ অভিযোগ কখনই স্বীকার করে নি।"

আপনার এই কথা প্রসঙ্গে একটা তুলনা তুলে ধরিঃ

আমাদের প্রিন্ট মিডিয়া এখন ধরতে গেলে মোবাইল কোম্পানীর বিজ্ঞাপনের পয়সায়ই চলে। এটা কেউ অস্বীকারও করবে না। মজার ব্যাপার হচ্ছে যখন এই সব কোম্পানীতে বিটিআরসি মোটা অংকের(৪/৫কোটি টাকা !) জরিমানা করে তখন এই মিডিয়া খবরটাকে কাটছাঁট করে ৫ লাইনেই সেরে দেয় । জনগণ জানতেও পারে না,কেন কি অপরাধে এদের এত টাকা জরিমানা করা হলো? তারা জনগণের বা সরকারের কি কি ক্ষতি করেছিল?এই "গো টু ও.পে.বা নিউজ" ধরে জনগণ কিছুই জানতে পারল না! এটা তো একটা, এমন অনেক রেফারেন্স আছে ..........

ব্র্যাক তেমনই একটি এনজিও,যাদের অঢেল টাকা আছে,এবং যারা প্রায় নিয়মিত মিডিয়াকে মোটা টাকার বিজ্ঞাপন দেয়। মিডিয়া বা সরকার কখনোই ব্র্যাককে চেপে ধরেনি। ধরার কথাও না। এনজিও আগে শুধু দারিদ্র বিমোচনের কথা বলে বিদেশী সাহায্য ভিক্ষা করত, এখন তারা রিফর্ম হয়ে পুরো দস্তুর বিজনেস টাইকুন হয়ে উঠেছে।সেই বিজনেস টাইকুনকে ঘাটানোর ক্ষমতা সরকার,মিডিয়া কেউ-ই রাখে না। এই বাস্তবতায় হাইব্রিড কেলেঙ্কারীর কথা কি ভাবে ব্র্যাক কে দিয়ে স্বীকার করাবেন?

৪৬. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:১০
কঁাকন বলেছেন: লেখককে এবং সামহয়ারকে ধন্যবাদ
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩৭

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।

৪৭. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:০৩
মনজুরুল হক বলেছেন: তপন বাকচী, মনির হাসান, মুসতাইন জহির, মুনশিয়ানা, ফেরদাউস আল আমিন, জাতেমাতাল...আপনাদের মন্তব্য একটা নতুন মাত্রা তৈরি করেছে।যেটা এই পোস্টকে আরো আলো দেখাতে পারে। আজ সময় হলো না। কাল এ বিষয়ে আরো আলোচনা হতে পারে । ভাল থাকবেন সবাই।শুভরাত্রি।
৪৮. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:২৬
জেনারেলিসিমো বলেছেন:
প্রচন্ড রকম করাপ্টেড পুঁজিবাদি মানসিকতার কিছু মানুষদের কাছে পুরোটা দেশ জিম্মি। নিজের পকেট ভরার খুশিতে ভবিষ্যতটা দেখতে পায়না ওরা।

আর ওদের পাপের বোঝা টানছি আমরা সাধারনেরা।
আসলে ওদের একটাই নীতি, "দূর্নীতি"।
(রাতমজুর)
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪১

লেখক বলেছেন: তা না হয় হলো,কিন্তু আপনি গতকাল দুই দুইটা মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছিলেন কেন? আপনাকে গরু খোঁজা খুঁজেছিলাম কাল।শুভেচ্ছা।

৪৯. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ ভোর ৬:০৯
মুকুট বলেছেন: আসলে আমাদের দেশে যেকোন নতুন জিনিসের হোক সে ভালো বা মন্দ, কিন্তু তা কার্যকর করার এক শস্যক্ষেত্র হল বাংলাদেশ! আমরা কোনকিছুরই দীর্ঘমেয়াদী পরিনাম নিয়ে ভাবি না! যেন ওনেকটা মানুষ না মরে চোখতো ঠিক আছে! এভাবে চললে একসময় হয়ত আমরা ভাত না, অন্যকিছু প্রধান খাদ্য হিসাবে প্রচলিত হবে! ধন্যবাদ তথ্যবহুল পোষ্টের জন্য!
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪৫

লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: যথার্থ বলেছেন। আমাদের এখন এই পর্যায়ের সচেতনতা টুকুই দরকার। ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।

৫০. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ ভোর ৬:২৩
ফারজানা মাহবুবা বলেছেন:
ভয়ানক অবস্থা!! এতো দেশের পুরো কৃষিকে স্যাবোটাজ!
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪৮

লেখক বলেছেন: নাহ, এখনো পুরোটা পারেনি। ভবিষ্যতে পারবে বলে আকাঙ্খা রাখেন তারা।
"স্যাবোটাজ" কেন হবে? ওটা তো নিজেরা করে। তারা যেটা করতে চাচ্ছে ডিজাস্টার এবং পরবর্তিতে একচেটিয়া বাণিয্য ।

ধন্যবাদ এই পোস্টে মন্তব্য করার জন্য।

৫১. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:২৩
সততার আলো বলেছেন: যেখানে নয়া বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি তার হাত প্রসারিত করে সেখানে প্রকৃতি ক্ষতি সাধিত হয়। প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। যদি এত কলকারখানা তৈরি না হতো তবে কখনোই হয়তো আমাদেরকে বিশ্ব তাপমাত্রা নিয়ে চিন্তা করতে হতো না। এখানে এবং সবক্ষেত্রেই ব্যাপারটা একই।

এখানে আমরা বেশি উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করছি হাইব্রিড ধান। আর এর উৎপাদনের সুবিধার্থে ব্যবহার করছি কীটনাশক। আর এতে ক্ষতিসাধিত হচ্ছে আমাদের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্রের।

ধন্যবাদ এত সুন্দর পোস্টের জন্য। সংস্লিষ্ট মহলের উচিত এ ব্যপারে জাতীয় দীঘমেয়াদী লাভের কথা চিন্তা করে কোন বহি: মহলের কুউদ্দেশ্যকে সফল হতে না দেয়া।
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৪৫

লেখক বলেছেন: সমাধান আছে। এই পোস্টের শেষে সেটা দেওয়ার চেষ্টা করব। তবে আমরা বিশেষজ্ঞ নই,সরকারী নীতিনির্ধারকও নই। আমরা কেবল পথটাতে দিকনির্দেশ করতে পারি মাত্র।

ধন্যবাদ আপনাকে।

৫২. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:২৫
কানা বাবা বলেছেন:
পোস্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
ব্লগার দিনমজুরের একটি প্রাসঙ্গিক পোস্টের লিঙ্ক নিচে দিলাম...

Click This Link
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:০৮

লেখক বলেছেন: লিঙ্কটা দিয়ে খুব ভাল করেছেন। কথাটা দিমজুরের মন্তব্যেও করেছি।
ধন্যবাদ আপনাকে।

৫৩. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:৩০
সততার আলো বলেছেন: আমাদের যে সম্পদ আছে তার একটা সঠিক হিসেব তৈরি করে, সবকিছুর সফল ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে শুধু মাত্র ধান উৎপাদনের উপর থেকে চাপ অনেকাংশে কমে যাবে। তখন হাইব্রিডের ব্যবহার না করেও খাদ্য সমস্যা মেটানো কষ্টকর হবে না। তখন আমাদের উদ্ধৃত্ত অনেক কিছু আমরা রপ্তানী করতে পারব, এবং প্রয়োজন হলে তা থেকে আয়কৃত টাকা খরচ করে কিছু চাল প্রয়োজনে আমদানিও করতে পারব। সর্বোপরি আমাদের বিপুল জনশক্তিকে যেভাবে হোক উৎপাদনী শক্তিতে পরিণত করতে হবে।
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৪৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।

৫৪. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:৫৪
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন: ভালো কিছু হোক..........
যারা ভাবছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা।
শুভকামনা।
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৫০

লেখক বলেছেন: আপনাদের সবার সহযোগীতা দরকার নিজ নিজ ক্ষেত্রে। ভাল থাকবেন।

৫৫. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:৫৪
বিবিধ বলেছেন: সময় কম। আপাতত প্রিয়তে রাখলাম। পড়ে সময় করে পড়বো।
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৫২

লেখক বলেছেন: আপনার কাছ থেকে দীর্ঘ আলোচনা আশা করেছিলাম।ধন্যবাদ।

৫৬. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:১২
আমি হনুমান বলেছেন: দেশের মানুষ অর্ধেক না হওয়া পর্যন্ত এগুলো চলবে, সব বড় কোমপানি গুলা জোর করে এ জিনিষ করাচ্ছে, সাই খ সিরাজ ও হাইব্রিড এর দালালি করছে।

১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৩৮

লেখক বলেছেন: এইটারে ধরা দরকার। পুরা কর্পোরেট ব্লকের দালালী কবছে।

৫৭. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:২৭
পল্লী বাউল বলেছেন: যারা দেশ নিয়ে, দেশের কৃষি ব্যবস্থা নিয়ে ভাবেন তারা শুরু থেকেই হাইব্রিড এর বিরোধীতা করে আসছেন কিন্তু কিছু মুনাফালোভী ব্যবসায়ী, নীতিহীন বুদ্ধিজীবী, বিবেকহীন মিডিয়া এবং বুদ্ধিহীন আমলার নির্বোধ প্রচারণায় হাইব্রিড রাতারাতি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এর ভয়ংকর ভবিষ্যতের কথা না ভেবেই। শুধু ধান নয় বিভিন্ন সবজি এমনকি মাছও এখন হাইব্রিড উৎপন্ন হচ্ছে কিছু মুনাফালোভী কোম্পানীর পৃষ্ঠপোষকতায়। তথ্যবহুল ও প্রয়োজনীয় পোষ্টের জন্য লেখককে এবং পোষ্টটা স্টিকি করার জন্য সামহোয়ারকে ধন্যবাদ।
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৪২

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।এদের বিরুদ্ধে এখনই জনমত গড়ে তুলতে হবে, সময় শেষ হবার আগেই।

৫৮. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:২৮
কিংশুক০০৭ বলেছেন:
এখনই পদক্ষেপ নেয়া জরুরী নয়তো ভয়াবহ পরিনতি অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য ।
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:০৭

লেখক বলেছেন: ঠিক তাই।

৫৯. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৪৯
আকাশনীল বলেছেন: বেশ কাজের পোস্ট
+++
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৬০. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:১২
বাইত যামু বলেছেন: এই লেখায় মাইনাচ দিচ্ছে কোন হা........... য়। হা...লা বীজ রাজাকার।

১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২৪

লেখক বলেছেন:

সব দিকে তাকালে কি চলে ?
ধন্যবাদ আপনাকে।

৬১. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:১৯
সিটিজি৪বিডি বলেছেন: আকাশনীল বলেছেন: বেশ কাজের পোস্ট
১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২৯

লেখক বলেছেন: হুমম

৬২. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:২৫
সৌরভ তৌহিদ বলেছেন: আমি আপনার সাথে সম্পূর্ন একমত। হাইব্রীড বীজের বিপদ লুকিয়ে আছে এর জেনেটিক্স ও এর চাষ পদ্ধতিতে।বইয়ে যদিও লেখা আছে এর ফলন ৬ টন/হেক্টর,কিন্তু তার জন্য চাই প্রচুর কিটনাশক,রাসায়নিক সার,সেচ আর সময়ানুগ ব্যপস্থাপনা যা ব্যায়বহুল।আমাদের দেশের গরীব কৃষকের পক্ষে যা করা সম্ভব না।মাঠ পর্যায়ের যেকোন কৃষকই তাই বল্বে।আর আমাদের সরকার তো সারের দাম বাড়িয়ে ২/৩গুন করেছে।যদিও বা সেই বিপুল পরিমাণ সার,কীটনাশক দেয়া যায় তবে ১৫ বছর পর মাটি হবে হাইব্রীড বীজের মতই বন্ধ্যা।হাইব্রীড বীজের ফলন বেশী সত্যি,কিন্তু উচ্চমূল্যে বীজ,সার,কীটনাশক কেনার পর ফসল বিক্রী করে লাভও থাকে না।হাইব্রীড ধানের স্টোরেজ তূলনামূলক কঠিন।দেশের অনেক জায়গায় হাইব্রীড ধান রোগাক্রান্ত হচ্ছে।এটা আমাদের ইকসিসটেমের সাথে একেবারেই খাপ খায়না।এর ডিজিজ ও ইন্সেক্ট রেজিস্ট্যান্স কম।ব্রী উদ্ভাবিত উচ্চফ্লনশীল জাত গুলো সর্বোচ্চ ১০ বছর পর উচ্চফলনের ক্ষমতা হারায়,যা বর্তমানে হচ্ছে।এগুলোর জন্যও ইন্টেন্সিভ কেয়ারের দরকার হয়।দেশী জাতগুলোর ডিজিজ ও ইন্সেক্ট রেজিস্ট্যান্স বেশী,সামান্য বেশী যত্ন নিলে ফলনও অনেক বেশী হয়।
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৬

লেখক বলেছেন: হাইব্রিড হোক আর ব্রি হোক আর্টিফিশিয়াল পদ্ধতি বড়জোর ১০ বছর ফলদেয়। এর পর পরই মাটি তার স্বাভাবিক উর্বরতা হারায়। হয়ত আরো বছর পাঁচেক হাই পাওয়ার রাসায়নিক দিয়ে প্রডাক্ট পাওয়া সম্ভব,কিন্তু তার পর? আমার যে জমিতে হাজার বছর ধরে ফসল ফলে আসছে সেখানে ১৫/২০ বছর পর আর প্রচলিত ফসল ফলবে না কেন? কেন তখন আমাকে বিশেষ ধরণের ইপিল ইপিল টাইপের বৃক্ষ রোপন করতে হবে?আমার পাট পাতা,ধানের গোঁড়া,পাটের গোঁড়া পঁচে যে সয়ংক্রিয় সার হয় কেন আমাকে সেই বিনে পয়সায় পাওয়া সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হবে, হচ্ছে?

ডিজিজ ও ইন্সেক্ট রেজিস্ট্যাস্স নিয়ে ভয়াবহ রকম স্ব-বিরোধীতা আছে।হাই ব্রিডের ওই ক্ষতিটা ইন্সেক্ট এর মাধ্যমে মানব দেহেও ক্ষতি করে। এ বিষয়ে পরের লেখায় আলোচনা করব আশা রাখি। ধন্যবাদ।

৬৩. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৪১
বাইত যামু বলেছেন: বেশ কয়েক মাস আগে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আয়োজিত একটি সেমিনারে গিয়েছিলাম। "হাইব্রীড অভিশাপ নাকি অর্শিবাদ" শীর্ষক। দেশের অসংখ্য বুদ্ধিজীবি,কৃষি বিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ ছিল উপস্থিত ঐ সেমিনারে। পাশাপাশি বীজ রাজাকারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। জনাব ......নামক আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক কোন একটি বিশেষ পদের অবস্থানকারী ব্যক্তির ব্যক্তব শুনে আমি অবাক হচ্ছিলাম। আওয়ামী লীগ কিভাবে এই রকম এক হাইব্রিড বীজ মৌলবাদকে এই রকম একটা দায়িত্বশীল পোষ্ট দিয়ে রেখেছে।

শুনুন হাইব্রীড মৌলবাদের কথা
উনি জাপানের ছিলেন আর কোথায় কোথায় যেন, তারপর উনার বউ ছিলেন এই সব গল্পের পর শুরু হল আসল গল্প। হাইব্রীডের উকালতি কিন্তু কোন যুক্তি সই আলোচনা না। হাইব্রীড আর কীটনাশক সম্পর্কে উনি বললেন যে কৃষিতে জাপানের কীট নাশক ব্যবহারে পরিমাণ আমাদের ১৮১গুণ অথবা ৮১ গুন বেশি (দুঃখিত ১৮১/৮১ তা নিদিষ্ট ভাবে বলতে পারছিনা, তবে এই দুইটার একটা হবে )। তারপরও জাপানের গড় আয়ু আমাদের থেকে। ফলে কীটনাশক ব্যবহারে তেমন ক্ষতি হয় তা তিনি মানতে নারাজ।
জাপানের কৃষি আর বাংলাদেশের কৃষি মধ্যে যে পার্থক্য বুঝে না তার সঙ্গে কৃষি নিয়ে র্তক মানায় না।

তার কথা শুনে একজন বিজ্ঞানী শুরু করলেন তার বক্তব্য। এদেশের কৃষকরা মূখ, অশিক্ষিত, এই রকম নানা বিশেষনের মাধ্যমে।

ছাগুর বাচ্চাদের কথা শুনে আমার মত অনেকেই অবাক " কোন কৃষকে তুই ছাগুর বাচ্চা মূর্খ অশিক্ষিত বলিস, আরে ছাগুর বাচ্চা তুই তো ঐ কৃষকের উৎপন্ন খাদ্য খেয়েই আজ হাইব্রীড রাজাকার হয়েছিস। হাইব্রীড রাজাকারদের পাশাপাশি পদার্থ, রসায়নবিদ এবং গাইনী বিশেষজ্ঞরাও তাদের জ্ঞানের আলো আর বীজ রাজাকারী দেখালেন কৃষকদের অশিক্ষিত, মূর্খ প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার করে। যেকোন দিন মাঠে যায়নি তিনিও বিশেষ জ্ঞানী হয়ে উঠলেন প্রেসক্লাবের চার দেওয়ালের মধ্যে।

তাদের কথা ছিল শেষ পযায়ে তাই কেউ তাদের কথার উত্তর দিতে পারেনি। কিন্তু শুরুতে আমাদের কৃষি-জীব বৈচিত্রের স্বাধীনতা রক্ষাকারী কৃষিবিদ, পরিবেশবিদ, অর্থনীতিবিদ, কৃষিবিজ্ঞানীরা যেসব যুক্তি র্তক উপস্থান করেছিলেন তার কোন উত্তরই দিতে পারেনি। সেই ছাগু ভাড়াটে হাইব্রীড রাজাকারগুলো.........

সর্বশেষে ঐ সেমিনারেই শুনলাম বিশিষ্ট জননেতা উনি একটি বিশেষ হাইব্রীড কোম্পানীর .............. মালিক। কিভাবে একটি বিশেষ দলের একটি বিশেষ অংশের দায়িত্ব পালন করছেন এই হাইব্রীড রাজাকার তা লক্ষ্য করলে বুঝা যাবে কতটা সুপরিকল্পিত ভাবে এগিয়ে আসছে হাইব্রীড হানাদার গুলো দেশের কৃষি স্বাধীনতাকে গ্রাস করতে। আর আওয়ামী লীগের মত একটি দলের কৃষি বিষয়ক পদে তাদের অবস্থান বলে দেয় কৃষিতে হাইব্রীড রাজাকারদের সুদৃঢ় অবস্থান..............
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২৮

লেখক বলেছেন:

বেনিয়ারা মুনাফায় নামার সময় তো অসাবধানে নামে না।আটঘাট বেধেই নামে। তারা সমাজের প্রায় সকল স্তর থেকেই তোশামোদকারী পারচেজ করেছে। তার ভেতর রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী থাকবেন এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

ধন্যবাদ আপনাকে দীর্ঘ মন্তব্য করার জন্য।দুঃখিত উত্তর দিতে দেরি হয়ে গেল।

৬৪. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৪২
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: মঞ্জুর ভাই...
কিছুই বলার নাই.... দেশ চলছে উল্টো পথে...

পুরো বিষয়টা চমৎকার ভাবে তুলে ধরার জন্য অনেক অনেক ধন্যবা আপনাকে।
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩০

লেখক বলেছেন:

আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ প্রত্যু ।

৬৫. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:০২
রাহুল বলেছেন: অনেক কিছু যানা ছিলোনা ।আপনার লেখা পড়ে যানলাম।ধন্যবাদ আপনাকে।
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৬৬. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৩১
রাহিদুল সামান্না রকি বলেছেন: ভাল একটা শব্দ যোগ হলো হাইব্রীড রাজাকার.....
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩৪

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ নতুন শব্দ !

৬৭. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৮
দিনমজুর বলেছেন: চমৎকার এবং গুরুত্বপূর্ণ লেখার জন্য ধন্যবাদ। এমন পোস্ট স্টিকি করার জন্য কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ।

কিউবার কৃষি নিয়ে একটা লেখা আজকে দিবো ভাবছি........
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৩০

লেখক বলেছেন: আপনার আগের লেখাগুলো কম্পাইল করে দেবেন। আমার মনে হয় তাতে একটা সিরিজ তৈরি হবে।আপনার লেখা আমি পড়েছি।চমৎকার।

ধন্যবাদ।

৬৮. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:০৫
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন: প্রথেম মনজুরুল হক ও কর্তৃপক্ষেক ধন্যবাদ।

আশা করি এধরণের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রাণবন্ত ও দায়িত্বশীল আলাচোনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে সা.ইন বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। এরইমধ্যে অংশগ্রহনকারি ব্লগারকুল বেশ সরব ও বস্তুনিষ্ঠ যুক্তিগাহ্য আলোচনার অবতারণা করেছেন। সবাই আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি ব্যবস্থা নিয়ে যথেষ্ট কনর্সান।

শুরুতেই একটা কথা বলে নেয়া দরকার যে গ্রীণ রেভুল্যুশন, হাইব্রিড এই জিনিশগুলা একদম নিরামিশ সায়েন্স না; এর রাজনীতিও আছে। এটা যেন আমরা একদম ভুলে না যাই। কেউ যদি মনে করেন সবুজ বিপ্লব প্রসারের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রিলিফের মাল হিসাবে আমাদের একসময় বিনা পয়সায় সার কিটনাশক সহ কৃষি উপকরণ দিয়েছে এবং এটা নিছকই তৃতীয় বিশ্বের ভূখা-নাঙ্গা কালা-বাদামী আদমিদের বাচানোর জন্য তাহলে তিনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন।

শুধু লাল ঝান্ডার উন্খান ঠেকানোই নয়, সেটা তো তৎক্ষণিক জুরুরত ছিলই, সমগ্র কৃষিব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম এবং তাকে বাজারের অধীনস্থ করার বিষয়টাই ছিল প্রধান। একারণে অনেককেই গ্রীণ রেভুল্যুশনের কারসাজিকে 'জিন' ক্যু বলে, অর্থাৎ কৃষির প্রধান উপকরণ বীজকে কৃষকের হাহ থেকে ল্যবরেটরীতে নিয়ে আসা। আর এই ল্যাব যে সে ল্যাব না খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বেইজএ নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রথমে ছিল ফিলিপাইন-এ আর এখন ফোর্ট ও নক্স এর মতো সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনায়। তবুও অনেকের হুশ নাই। দুনিয়াতে আগামীদিনের যুদ্ধ, অবশ্য অলরেডি শুরু হয়ে গেছে, বাঁধবে মূলত প্রাণসম্পদকে নিয়ে। বায়োলজিক্যাল রিসোর্সের উপর দখলদারি ও নিয়ন্ত্রণ কায়েমই হবে এর ভারকেন্দ্র। ফলে এটাকে যদি আমরা নিজেদের আস্তিত্ব ও বেঁচে থাকার শর্তের নিরাপত্তার ইস্যু আকারে এখনো বুঝতে না পারি তাহলে আমাদের আল্লাও বাচাইতে পারবো না; ধ্বংস অনিবার্য।

মুসতাইন জহির একটা সর্তকতার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কিন্তু জনাব কেমিকেল আলী সেটাই সত্য প্রমাণ করলেন। ' বিশাল এই জনগোষ্ঠির খাদ্য চাহিদা'র দোহাই (যদিও এটা অচল যুক্তি) দিয়ে হাইব্রিডের পক্ষে এমনই ওকালতি করলেন যে তা না করলে আমরা 'নিজের পায়ে কুড়াল' মারাবো ! তিনি নিজে কোন চিন্তা যে করেন না সেটা বেশ পরিষ্কার, কিন্তু অন্যরা বিকল্প চিন্তা করছে এতেই তাদের রক্তাত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তাহলে এও এক যুদ্ধের আহ্বান, হয়তোবা।

কেমিকেল আলীর কেমিকেল আইডিয়া বেশ করকরে, তিনি বলছেন '
হাইব্রিড বীজে অল্প সময়ে অধিক ফসল দেয়, পরিবর্তে আপনাকে সার, কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। আপনাকে কেউ নিদিষ্ট করে দেয়নি আপনি কি ধরনের সার ব্যবহার করবেন।'' --এই মূর্খতা নিয়ে বেশি কথা বলার দরকার নাই, তিনি যেকোন বহুজাতিক বীজ বিক্রেতা বা সরকারি কৃষি অফিসে গেলেই তা জানতে পারবেন। তারা কতটুকু কিভাবে কি পরিমাণে দিতে হবে প্রতিবছর কতটুকু বাড়াতে হবে সবিস্তারে তার পরামর্শ দিয়ে থাকে। সার কোম্পানীর কথা আপাতত নাই বা তুললাম।

আচ্ছা জনাব কেমিকেল, আপনি যে বলছেন ''নিম্নমানের বীজের জন্য হাইব্রিড বীজকে দায়ী করা শুধুমাত্র ফরহাদ মাজাহারের মত চন্ডিদাসেরই সাজে।'' তাহলে আপনিই বলেন কাকে দায়ী করবো আর আপনি নিজে কার(কোন চন্ডালের) দাস?

নিম্নমানের হাইব্রিড জোর করে কৃষকের ঘাড়ে চাপিয়ে( যেমন ব্রাক ও অন্যান্য মাইক্রো ক্রেডিটের মাধ্যমে করা হয়) যারা আমাদের কৃষিকে ধ্বংস করছে, কৃষকে করছে সর্বসান্ত তাদের সাফাই গাইবো? ফরহাদ মজহার যেসব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে বীজ কোম্পানী ও হাইব্রিডকে দায়ী করেছেন তা কি তথ্যপূর্ণ নয়? যদি না হয় আপনি সে চ্যালেঞ্জ দিন তাকে বা তার নয়াকৃষি আন্দোলনকে। আমরা যারা সাধারণ নাগরিক খালি চোখেই তো দেখতে পাচ্ছি। একবার কষ্ট করে সিডর আক্রান্ত এলাকায় হেটে আসে না। যদি সৎ হন, জাতীয় স্বর্থ রক্ষায় সাহসী হন আপনার সাথে যে কোন তথ্য ভিত্তিক বাহাসে রাজি। কিন্তু কোন কর্পোরেট প্রপাগান্ডা মগজে পুসে রাখলে তো চলবে না। কৃষি বুঝতে হলে তো মাটিতে নামতে হবে, কৃষকের কাছে যেতে হবে। কৃষির পরীক্ষা কর্পোরেট ল্যাবে নয় কৃষকের জমিতেই করে দেখাতে হবে। উৎপাদন আর ফলনশীলতা বীজের মধ্যে থাকে এটাই এখন তৃতীয় শ্রেণীর বাখোয়াজিতে পর্যবসিত হয়েছে।

কেমিকেল, যদি ট্রু science নিয়ে আলাপ আগাইতে চান আমি প্রস্তুত। আসেন দেশের স্বার্থে আন্তরিকভাবে সেটা করি।


১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩৫

লেখক বলেছেন: ভাই ঘোর-কলিযুগ।আপনার তথ্যবহুল মন্তব্য নিয়ে অনেকক্ষণ ভাবলাম।পরে যা পেলাম তা এরকমঃ......... ঘন্টা দুয়েক পেজগুলোর উপর চোখ বুলিয়ে মাথা ভোঁ ভোঁ করছে !হ্যাঁ হাইব্রিড ব্যবহারে জমির উর্বরতা কমে যায়। কি পরিমানে কমে,কত দিনের ব্যবহারের পর কমতে থাকে, তার প্রতিকার কী এসব নিয়ে এই পরিসরে আলোচনা যথাযথ হবে না। আলাদা পোস্ট দেওয়া দরকার।ইউএস এর "পাইয়োনীয়র সীডস" সারা বিশ্বে কি পরিমানে ল্যান্ড ড্যামেজ করেছে তার খতিয়ান ভয়াবহ ! আশা করছি খুব শিগগির এ বিষয়ে আলাদা পোস্ট দিতে পারব।

চেষ্টা করব কাজটা দুতিন দিনের মধ্যেই শেষ করতে।সাথে থাকবেন।

ধন্যবাদ রইল।

৬৯. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:০৭
রাগিব বলেছেন: সবই এদের ব্যবসা। কৃষি খাত পুরোটাই গুটি কয়েক মেগা কর্পোরেশনের হাতে জিম্মি - এরাই চায় জিএম হাইব্রিড ধান ধরাতে।

বুদ্ধিজীবীদের উপরে আমার আস্থা নেই একদমই। কর্পোরেট সার্থ বা রাজনৈতিক দলীয় সার্থে তাদের "বিবৃতি" এতো দেখেছি যে আর অবাক হইনা তাদের মিথ্যাচার দেখে।
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪৪

লেখক বলেছেন:

আমাদের মহামহিম সরকার(তদারকি/রাজনৈতিক) যখন মাথা নত করে 'সোফা','হানা' র মত জাতীয় স্বার্বর্ভৌমত্ব বিসর্জন দেয়া চুক্তি করতে পারে,তখন এই বীজ/কেমিক্যালস/জিএম প্রযুক্তি সব কিছুরই অবাধ চারণ ভূমি বানিয়ে দিতে পারে বাংলাদেশ কে। দিয়েছেও।

ধন্যবাদ আপনাকে।

৭০. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:২৫
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: খুবই গুরুত্বপূর্ণ লেখা।তবে শুধু বীজ নয়, কীটনাশক, সার সহ আরো অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের কৃষির ইতোমধ্যে বাণিজিক্যিকরনের বারো আনা হয়ে গেছে।

আপনি যদি উত্তরবংগে যান বিশেষত লালমনিরহাট, রংপুর প্রভৃতি এলাকায় অসংখ্যা কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এইসব কোম্পানীর পণ্যদি ফেরি করছে।

হায়, মেধার কি নিদারুণ অপচয়!

১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫০

লেখক বলেছেন: বাণিজ্যিকিকরণের ভাল দিকও হতে পারে,তবে সেটা আমাদের মত দেশে নয়। এটা হতে পারে বাণিজ্যিকভাবে যারা চাষবাস করে তাদের জন্য।

বাংলাদেশে চাষবাস এখন পর্যন্ত পেটের দায়ে। যদিও অনেক জায়গায় বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে,কিন্তু সেটা খুবই ছোট স্কেলে। এখানে উন্মূক্ত বাজার ব্যবস্থা চালু করা মানে প্রান্তিক কৃষককে সর্বশান্ত করে ফেলা।

আমি কুড়িগ্রাম অঞ্চলে সরজমিনে ঘুরে দেখেছি। ধন্যবাদ আপনাকে।

৭১. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৫০
রবিউলকরিম বলেছেন: আমি একজন নব্য কৃষক। বাবার মৃত্যুর পর এ দায়িত্ব স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজের কাঁধে নেই। গত বছর যখন চাষ করতে যাই তখন আমাকে বলা হলো যে হাইব্রিড ধান লাগাতে। আমি কিছু জমিতে হাইব্রিড ও কিছু জমিতে দেশী বীজ বুনলাম। হাইব্রিডে ফলন আসলো কিছু জমিতে বেশি, কিছু জমিতে কম- সার, কীটনাশক সব প্রয়োগের পর। কিন্তু আশ্চর্যজনক যে দেশী বীজের ফলন কম হলেও একইরকম হলো সব জমিতে এবং তুলনামূলকভাবে কম সার, কীটনাশক প্রয়োগ করার পর।
পরে লাভালাভ হিসেব করে যেটা আমার মনে হলো তাতে হাইব্রীড চাষ করে বিঘাপ্রতি হাজার ২০০০-২৫০০ টাকা লাভ হলেও দেশী বীজ ব্যবহার করা উত্তম। তাতে ফলন নিয়ে কোনো আশঙকা থাকে না।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১১

লেখক বলেছেন: এই সিধা সরল কথাটাই আমাদের বোধে আনা দরকার।ঝুড়ির একটা দুটো আম নষ্ট হোক...ঝুড়ি ধরে যেন নষ্ট না হয় ।

ধন্যবাদ আপনাকে।

৭২. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৫৩
শামস শামীম বলেছেন: তথ্য সমৃদ্ধ ও যৌক্তিক লেখার জন্য ধন্যবাদ।
হাইব্রীড নিয়ে মনিষী কৃষিবীদ ফরহাদ মজহারের প্রতিটি অক্ষর সত্য বলে মানি। ফরহাদ মজহারের অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক লেখা গুলোও ভালো। যদিও নিন্দুকেরা তাকে জামাতি বলে গালি দেয়। তার বক্তব্যে কোনো ভন্ডামী না থাকায় এবং খোলামেলা কথা বলায় তাকে শ্রদ্ধা করি। ফরহাদ মজহার একজন খাটি দেশপ্রেমিক। যিনি সমস্যার গোড়ায় দাড়িয়ে কথা বলেন।
১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:০৬

লেখক বলেছেন:

আপনার 'ধন্যবাদের' জন্য ধন্যবাদ।বাকি টুকু অপ্রাসঙ্গিক। তাকে তো অনেকেই চেনেন, না ? কেমন লিফলেট লিফলেট হয়ে গেল না ?

৭৩. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৫৮
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: চমৎকার পোস্ট! ... এরকম আলোচনা পোস্ট আরো আসতে থাকুক ... আসলে আমার মনে হয় প্রায়ই আসে, কিন্তু সামহোয়ারে পোস্ট আসার ফ্রিকোয়েন্সীটা এত বেশী যে প্রায়ই ভালো ভালো অনেক পোস্ট দ্রুত প্রথম পৃষ্ঠার আড়ালে চলে যায়

অনেকদিন ধরেই ব্যাপারটা নিয়ে জানার আগ্রহ ছিলো, তাই লেখককে তো ধন্যবাদ জানাচ্ছিই, সাথে কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ এটিকে স্টিকি করার জন্য

২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:০৭

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ আপনাকে।

৭৪. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:১৬
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: পুরো পোস্ট আর আলোচনাগুলো পড়ে কিছু প্রশ্ন জাগলো। তার আগে নিজে যা বুঝেছি সেটা একটু সামারাইজ করি।

বাংলাদেশের সাপেক্ষে হাইব্রিড বীজ ব্যবহারের মূল সমস্যা দুটো:

১. নিচুজাতের হাইব্রিড বীজ বিক্রি হয়, সেটা কিনে কৃষক ঠকেন যেটা সম্ভবতঃ এবছর ব্যপকভাবে হয়েছে। এই সমস্যাটা লোকাল সমস্যা, মানে বাংলাদেশ না হয়ে "ভালো আইনের শাসন/ দায়িত্বশীল নাগরিক ওয়ালা দেশ"- এ এই ঝামেলা এমন ব্যপকভাবে হবেনা

২. হাইব্রিড বীজ ব্যবহারে জমির উর্বরতা কমে যায়। এটা গ্লোবাল সমস্যা।



এখন আমাদের আগে দেখতে হবে আমরা ফোকাস করবো কোন জায়গাটায়।

১ম সমস্যাটার ক্ষেত্রে আমাদের হাইব্রিড বীজ ইটসেল্ফ বা এর পেটেন্টধারী কর্পোরেটদের সমালোচনা করার প্রত্যক্ষ কারণ নেই। যেজন্য নেই, সেই কারণটা খুব সহজ --
৪৫ লক্ষ হেক্টরের চাষীদের মতো বিশাল স্কেলের একটা জনগোষ্ঠীকে যদি একটা সরকার হাইব্রিড বীজ ব্যবহারে বাধ্য করতে পারে, তবে তার চেয়ে অনেক ছোট স্কেলের জনগোষ্ঠী (বীজ ব্যবসায়ী)কে ঠগবাজি বন্ধে বাধ্য করার ক্ষমতাও সরকারের থাকার কথা।
সেটা যদি সরকার না করে, তাহলে সেটা পুরোপুরিই সরকারের সমস্যা। হাইব্রিড বীজ বন্ধ করলেও, কৃষকেরা তাদের কৃষিকাজে অন্য যে কম্পোনেন্টগুলো ব্যবহার করবেন (কীটনাশক, সার, পানি), সেগুলোতেও একই ধরনের চালবাজি এরা চালিয়েই যাবে -- কারণ, সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেনা! কৃষকও ঠকেই যাবে।

কাজেই এবছর যে সমস্যাটা হয়েছে সেটার সমাধান হাইব্রিড বীজ বন্ধ করা -- এটা মানা যাচ্ছেনা। এবছর হাইব্রিড বীজকে একটা লার্জ স্কেলে প্রমোট করতে যাওয়াতেই একে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীরা চালবাজি খেলেছে; আগামী বছর যদি অন্য কিছুকে প্রমোট করতে যাওয়া হয় তাহলে সেটাকে নিয়েও এরা চালবাজি খেলবে।

কেন বলছি, ধরুন, বাংলাদেশের কৃষি অধিদপ্তর একটা খুব উঁচুমানের সার আবিস্কার করে ফেলল, যেটা দিয়ে দেশী বীজ ব্যবহার করেই হাইব্রিড বীজের সমপরিমাণ ধান উৎপাদন করা যায়। এখন সরকার যদি পলিসি নেয় যে আগামী বছর ৫০ লক্ষ হেক্টর জমিতে এই সার ব্যবহার করাবে, দেখবেন এই সার নিয়েও দুই নাম্বারী ব্যবসা শুরু হয়ে যাবে। মাঝখানে ক্ষতি হবে কৃষকের, লাভ হবে ধুরন্ধর ব্যবসায়ীদের।

কাজেই এটার সমাধান অন্য জায়গায় বলেই আমি মনে করি।


পরের মন্তব্যে ২ নং সমস্যাটা নিয়ে লিখছি
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৭

লেখক বলেছেন: আপনি ২ নং নিয়ে লিখতে লিখতে এটার বিষয়ে আলোচনা করি..পরে খেই হারিয়ে যাবে !

"কাজেই এবছর যে সমস্যাটা হয়েছে সেটার সমাধান হাইব্রিড বীজ বন্ধ করা -- এটা মানা যাচ্ছেনা। এবছর হাইব্রিড বীজকে একটা লার্জ স্কেলে প্রমোট করতে যাওয়াতেই একে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীরা চালবাজি খেলেছে; আগামী বছর যদি অন্য কিছুকে প্রমোট করতে যাওয়া হয় তাহলে সেটাকে নিয়েও এরা চালবাজি খেলবে।"

আপনার এই বক্তব্যের মধ্যেই সমাধান আছে। আর সেই সমাধানটা একমাত্র করতে পারে একটি জনগণের সরকার (বর্তমান প্যাটার্নের তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকার নয়)

হাইব্রিড বন্ধ করা ছাড়া আসলে দীর্ঘমেয়াদি কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেই। একটা উপমা দিচ্ছিঃ ওই যে ৪৫ লাখ হেক্টর জমির কথা বলা হলো তাতে একই ধরণের হাইব্রিড ব্যবহৃত হয়েছে। যখন ডিজাস্টার এসেছে তখন একই ভাবে সবার উপর এসেছে। ধরুন একটি এলাকায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে প্রচলিত স্ব উদ্যোগী চাষাবাদ হচ্ছে.. সেখানে ডিজাস্টার আসলে একটি দুটি খন্ড জমি আসতে পারে। তাতে সমগ্র বা লট ক্ষতিগ্রস্থ হয় না।

হাইব্রিড অধিক ফলনের যে টুকু দিল সেটুকু পেতে গেলে তাদের বাই প্রডাক্ট বা আনুষাঙ্গিক সহ পণ্য নিতেই হবে।সেই আনুষাঙ্গিক এতো কস্টলি যে তা ছোট ব্যবসায়ী বা কৃষকের পক্ষে মেটানো সম্ভব নয়।

এই বীজ ব্যবসা যে গণমূখি হবে, তারও সুযোগ নেউ আমলাতান্ত্রিক ভন্ডামির কারণে। কীটনাশক,বীজ,অন্যান্য মেডিসিন আমদানি/বিক্রয় করতে গেলে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের যতগুলো সার্টিফিকেট নিতে হয় সেটা দেশের বড় রেঞ্জের কয়েকজনের পক্ষেই শুধু মাত্র সম্ভব। অর্থাৎ সেখানেও মনোপলির ভয়টা রয়েই যাচ্ছে।

৭৫. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩২
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ২য় যে সমস্যাটা, হাইব্রিড বীজ ব্যবহারে জমির উর্বরতা কমে যায় -- এটা মারাত্নক সমস্যা।

কিন্তু এক্ষেত্রেও যে প্রশ্নগুলো থেকে যায় (যেগুলোর কোন উত্তরই আমি জানিনা), সেগুলো হলো,
ঠিক কি হারে এই উর্বরতা কমে?
এটা নিয়ে কি স্পেসিফিক কোন স্টাডি রিপোর্ট আছে কিনা?
জমির উর্বরতা যাতে না কমে সেরকম গবেষণা কি হচ্ছে কিনা?

আরেকটা যে জায়গায় আমার মনোযোগ পড়ছে, সেটা হলো, হাইব্রিড বীজের সাথে ইরির পার্থক্য কোন কোন জায়গায়?

কারণ, আমি যতটুকু জানি ইরি আর হাইব্রিড ধানের ফলনক্ষমতায় খুব একটা বেশী হেরফের হয়না। ১০% এর মতো। (এটার অথেনটিসিটির গ্যারান্টি অবশ্য দিতে পারবনা)।
ইরি কি জমির উর্বরতা কমায়? সেটাকে রিকভার করার উপায় আছে? ইরি'র বীজও কি কিনতে হয়?


ফরহাদ মজহারের নয়া কৃষি আন্দোলনের ব্যাপারে যেটা বলতে পারি, তা হলো, বিষয়টা এখনও ছোট স্কেলে থাকায় তাদের যা উৎপাদন সেটা বিক্রী করতে এখনও তাদের মধ্যবিত্তকে হিসেবে ধরতে হয়না। কারণ, আমি জানি কি রকম চড়া দামে উনারা এসব অরগানিক খাদ্য বিক্রী করেন। এটা তো লার্জ স্কেলে সম্ভব না, কারণ লার্জ স্কেলে যেতে গেলেই দাম কমাতে হবে (নাইলে মানুষ না খেয়ে মরবে), আর দাম কমালে কৃষকের আয় কমে যবে, কারণ তার উৎপাদন কম।

ফরহাদ সাহেব নয়া কৃষি আন্দোলন করে ঠিক কোথায় এটাকে নিয়ে যেতে চাইছেন বুঝছিনা; আমার কাছে কিছুটা জনসচেতনতার তৈরীর আড়ালে নিজেদের প্রোডাক্টের ফ্রি এ্যাডভার্টাইজমেন্ট করছেন -- এমনও মনে হয়েছে। কারণ, সারা বাংলাদেশ যদি উনার নয়া কৃষি আন্দোলনে যোগ দেয় -- তাহলে আগামী বছর দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত।

১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৩

লেখক বলেছেন: অফিসে বসে টুকটাক কমেন্টের উত্তর দিচ্ছিলাম। এই পিসিতে কিছু নেই। আপনার ২ নং বিষয়টা ভাবনা এবং ব্যাখ্যার দাবি রাখে। বায়োটেক নিয়ে তেমন জানিনা। কিছু লিঙ্ক আছে। বাসায় ফিরে আলোচনার চেষ্টা করব। আপনার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

৭৬. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৪০
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: আপনার সাজেশন যদি হয়ে থাকে হাইব্রিড বীজের বিক্রী/মার্কেটাইজেশন কঠোর রেগুলেশনের আওতায় আনা হোক , তবে একমত। কিন্তু এখানে আমাদের কপালপোড়া বাঙালীদের জন্য যে প্যারাডক্সটা থেকে যায় সেটা হলো এই কঠোর রেগুলেশনের প্রয়োগ হচ্ছে কিনা সেটা কোন কঠোর রেগুলেশন দিয়ে বিচার করবো? :)

তবে আপনার সাজেশন যদি হয়, হাইব্রিড বীজের ব্যবহারই নিষিদ্ধ করা হোক, তাহলে কিছু প্রশ্ন থেকে যায়
১. সনাতন দেশী পদ্ধতির পুনরায় চালু করার ফলে খাদ্যঘাটতি চরম আকার ধারন করবে বলে মনে করেন কিনা? আরো স্পেসিফিকালি বললে, কত পার্সেন্ট খাদ্য ঘাটতি দেখা দেবে?

২. এই হাইপোথেটিকালি উদ্ভুত খাদ্যঘাটতি মেটাতে আপনার সাজেশন কি?

৩. ইরির নতুন একটা প্রজাতি আসছে খুব শীগগিরই (সুপার রাইস নাম মনে হয়), যেটা প্রায় হাইব্রিড বীজের মতোই ফলনক্ষম। যদি হাইব্রিড বীজ বাদ দিলে ভয়াবহ খাদ্যঘাটতি দেখা দেয় তাহলে ইরির সেই বীজটা আসা পর্যন্ত আমরা হাইব্রিড এ্যালাউ করতে পারি কিনা। (অবশ্য যদি ইরিতেও হাইব্রিডের মতোই জমির ফলনক্ষমতা নষ্ট হয় তাহলে ভিন্ন কথা)
৭৭. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৫২
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: "হাইব্রিড বন্ধ করা ছাড়া আসলে দীর্ঘমেয়াদি কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেই। একটা উপমা দিচ্ছিঃ ওই যে ৪৫ লাখ হেক্টর জমির কথা বলা হলো তাতে একই ধরণের হাইব্রিড ব্যবহৃত হয়েছে। যখন ডিজাস্টার এসেছে তখন একই ভাবে সবার উপর এসেছে। "

বুঝলামনা। সারা বাংলাদেশে সবাই নিন্মমানের বীজ ব্যবহার করেছে? আপনার পোস্ট থেকে আমার ধারনা হয়েছিলো যে কর্পোরেটরা ভালমানের বীজই দেয়, কিন্তু ওদের সাথে ব্যবসায় পেরে না উঠে ছোট ব্যবসায়ীরা নিন্মমানের বীজ বেচে ঠকায় -- ঘটনা কি ভিন্ন?


"এই বীজ ব্যবসা যে গণমূখি হবে, তারও সুযোগ নেউ আমলাতান্ত্রিক ভন্ডামির কারণে। কীটনাশক,বীজ,অন্যান্য মেডিসিন আমদানি/বিক্রয় করতে গেলে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের যতগুলো সার্টিফিকেট নিতে হয় সেটা দেশের বড় রেঞ্জের কয়েকজনের পক্ষেই শুধু মাত্র সম্ভব। অর্থাৎ সেখানেও মনোপলির ভয়টা রয়েই যাচ্ছে।"

আমি এই কথাটাই বলতে চাচ্ছি ... আজ বীজ নিয়ে হয়েছে, কাল যে কীটনাশক নিয়ে বড় ধরনের জোচ্চুরী হবেনা তার তো গ্যারান্টি নেই ... তখন কি কীটনাশক ব্যবহারও বন্ধ করতে হবে? ... বা সার নিয়েও যদি একই ধরনের কেলেঙ্কারী হয়?
সমস্যাটা কি বীজ/কীটনাশক/সার -- এসবে? নাকি ব্যবসায়ীদের এ্যাটিচিউডে?
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৫১

লেখক বলেছেন: বায়োটেক আর বীজ নিয়ে লেখাটা এই পোস্ট এর পর দিতে হবে। বিষয়গুলো নিয়ে আরো আলোচনা হওয়া দরকার। আশা করি সেই আলোচনায় থাকবেন।

৭৮. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৭
হামীম বলেছেন: সব বহুজাতীক কোম্পানীগুলো নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের ও করার আছে অনেক কিছু। প্রাচীন বীজ সংস্কৃতি রক্ষায় সরকারের পাশাপাশী সর্বস্তরের কৃষকদের সচেতনতার লক্ষে ব্যাপক গনজাগরনের সৃষ্টি করতে হবে। এই ব্যাপারে বেশী দেরী করা চলবে না। তার সাথে সাথে দেশীয় বীজ সংরক্ষনের ব্যাবস্থা স্থানীয় কৃষি অফিস ও কৃষক সংগঠনের মাধ্যমে করতে হবে।সব চেয়ে বড় যে জিনিস তা হলো আমাদের দেশে কৃষক সংগঠন নাই বললে চলে। প্রতিটি উপজেলায় সরকারে সহযোগীতায় কৃষক সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। পৃথিবীর অনেক দেশেই কৃষকরা তাদের অধিকার আদায়ে সচেতন।সরকারের কাছ থেকেও আমরা সুষ্পষ্ট নীতিমালা চাই।
১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:০৯

লেখক বলেছেন:

হ্যাঁ আমরাও সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট নীতিমালা চাই।ধন্যবাদ।

৭৯. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১০
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: আপাতত প্রিয় পোস্টে থাকলো।

নয়া কৃষি নিয়ে বেশ খানিকটা লেখালেখি আমার কাছে আছে। দুয়ে মিলিয়ে পড়তে হবে। বিকল্প না থাকলে তো হাইব্রীডের বিরুদ্ধে কথা বলে লাভ নেই।
১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১১

লেখক বলেছেন:
আমাদের অনেক কিছুরই তো বিকল্প নাই , তাই বলে কি প্রতিবাদটাও করব না ?

৮০. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৩০
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: "বাসায় ফিরে আলোচনার চেষ্টা করব। আপনার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।"

অপেক্ষায় থাকব... নতুন পোস্টও দিতে পারেন

আবারও ধন্যবাদ জানাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তুলে ধরার জন্য
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৫৪

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ নতুন পোস্টই দিতে হবে। এই থ্রেডটা অনেক বড় হয়ে গেছে।

৮১. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৩
সাদা কাগজ বলেছেন:
আমাদের এই বিশাল জনগোষ্ঠির খাদ্যচাহিদা মেটানোর অল্টারনেটিভ আর কি উপায় আছে ?
১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৯

লেখক বলেছেন:

এই আর্থসামাজিক কাঠামোতে কোন অল্টারনেটিভই সিকিউড নয়।আমাদের কে বুঝতে হবে জমি থেকে যা পাওয়া যায় তার চেয়ে বেশি জোর করে আদায় করা মানে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ ঘোষণা ! এর ফলাফল মারাত্মক।প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের একের পর এক ঘটনা সেই যুদ্ধের পরাজয়ের চিহ্ণ।

৮২. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:০০
আজহার ফরহাদ বলেছেন: ভাল পোস্ট। এই হাইব্রিড বীজের বিরোধিতা করতে গিয়ে একসময় মুখে ফেনা তুলে ফেলতাম। তো অনেকেই বলতো বাপু তুমি তো চাষা নও এত বেশি বুঝে কী লাভ?

লাভ যে কার তার মর্তবা বুঝবে কে?
১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:২৪

লেখক বলেছেন:

"লাভ যে কার তার মর্তবা বুঝবে কে?"
ভাল বলেছেন। এই নেপত্থের মুনাফাখোরদের নখরের নিচে এখন বাংলাদেশ।বলা বন্ধ করলে চলবে ? আসুন-বলা শুরু করি আবার....

৮৩. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:২১
তপন বাগচী বলেছেন: 'মিগ ২৯ আমদানি করার পর তার পার্টসও তাদের কাছ থেকে তাদের ধরে দেয়া দামে নিতে হবে।সেটা কমন মার্কেটে পাওয়া যাবে না! '

কিন্তু ভাই, বাংলাদেশ তো এখন মিগ২৯ মানে হাইব্রিড প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে ফেলেছে। তাই ঢালাওভাবে সকল হাইব্রিড বীজকে বন্ধ্যা বলার সুযোগ নেই। ব্রিহাইব্রিড ধানের বীজের ফলন ওইসকল ধানের চেয়ে একটি কম, কিন্তু তা থেকে বীজ রেখে পরের বছর ফলানো যায়, এবং ফলনে হেরফের হয় না। আমি এই কথাটিই বলতে চাইছি।
আপনার সঙ্গে তো দ্বিমত নেই, কিছু সংযোজন করছি মাত্র।
হাইব্রিডের ক্ষতির কথা মেনেও কেন হাইব্রিড আসছে, সেই বিষয়টিও ভাবা দরকার। খাদক বাড়ছে, জমি কমছে, তাই ফলন বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। এখন তবু বীজ আমদানি করতে হচ্ছে। পরে তো গোটা খাদ্যকণাই আমদানি করতে হবে। এবিষয়ে সচেতন থাকা খুবই জরুরি।
৮৪. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৭
তয়ন নাজির বলেছেন: আমি "তপন বাগচী " এর সাথে একমত।
ডিম আমদানি ভাল মুরগি আমদানির থেকে।
১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:২৯

লেখক বলেছেন:

.....তা সে ডিম যতই 'বার্ডফ্লু' ভাইরাস বহন করুক না কেন..........

৮৫. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৭
আমিই রূপক বলেছেন: বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে জনগণের খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য অধিক পরিমাণ ধান উৎপাদন করা বিশেষ প্রয়োজন। সেই হিসেবে হাইব্রীড ধান যদি সঠিক নিয়মে চাষ করা হয় তবে আমরা অবশ্যই উপকৃত হব। বিদেশি কোম্পানির আগ্রাসন বন্ধ করতে হলে আমাদের নিজেদেরই উদ্যোগ নিতে হবে। তবে আমরা যদি উচ্চফলনশীল জাতগুলোও সঠিক নিয়মে চাষ করি তাহলে হাইব্রীড ধানের প্রয়োজন নাও হতে পারে।
১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৩১

লেখক বলেছেন:

"আমরা যদি উচ্চফলনশীল জাতগুলোও সঠিক নিয়মে চাষ করি তাহলে হাইব্রীড ধানের প্রয়োজন নাও হতে পারে। "

হ্যাঁ, এটাই কাজের কথা। একমত।

৮৬. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৩
অন্তরাল বলেছেন: এক সময় কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. সাত্তার মন্ডল হাইব্রীডের বিরোধীতা করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি কিভাবে যেন এটার সমার্থক হয়ে পড়েন।
রাজনৈতিক কারণেই এটার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৫

লেখক বলেছেন:

আমাদের অনেক প্রতিরোধ-প্রতিবাদ 'রাজনৈতিক' কারণে বেপথে মুখ থুবড়ে পড়ে শেষ পর্যন্ত । ধন্যবাদ।

৮৮. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:১১
তপন বাগচী বলেছেন: কৃষিবিজ্ঞানীরা কেন হাইব্রিডের বিরোথধতা করেন না? অন্তরাল বলেছেন ড. সাত্তার মণ্ডলের কথা। কিন্তু ভেতরের ব্যাপারটা হলো আমাদানি করা হাইব্রিডের বিরুদ্ধে শুভবৃদ্ধিসম্পন্ন সকলেই আছেন। কিন্তু দেশি হাইব্রিড-এর বিরুদ্ধে কোনো বিজ্ঞানীই যাবেন না। কারণ এটি বিজ্ঞানীদের দ্বারা উদ্ভাবিত, কৃষকের মাঠে পরীক্ষিত এবং বীজ প্রত্যয়নী এেজন্সির দ্বারা প্রত্যায়িত।
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১৮

লেখক বলেছেন: আপনার এই মন্তব্যটির সাথে নিচের বক্তব্য মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করছি। এই আলোচনায় আপনার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহন আলোচনাকে গতি দিয়েছে। কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছে কোথাও একটা একাডেমিক প্রপাগান্ডার মত বিষয়এসে যাচ্ছে।

ধন্যবাদ।

১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৯০. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:২৬
মনজুরুল হক বলেছেন:


@জ্বিনের বাদশা।আপনার ২ য় ভাগের মোটামুটি উত্তর পাওয়া গেছে।ঘন্টা দুয়েক পেজগুলোর উপর চোখ বুলিয়ে মাথা ভোঁ ভোঁ করছে !হ্যাঁ হাইব্রিড ব্যবহারে জমির উর্বরতা কমে যায়। কি পরিমানে কমে,কত দিনের ব্যবহারের পর কমতে থাকে, তার প্রতিকার কী এসব নিয়ে এই পরিসরে আলোচনা যথাযথ হবে না। আলাদা পোস্ট দেওয়া দরকার।ইউএস এর "পাইয়োনীয়র সীডস" সারা বিশ্বে কি পরিমানে ল্যান্ড ড্যামেজ করেছে তার খতিয়ান ভয়াবহ ! আশা করছি খুব শিগগির এ বিষয়ে আলাদা পোস্ট দিতে পারব।

আর একটু বাদে এসে বাকি সুহৃদদের মন্তব্যের প্রতিউত্তর দেয়ার চেষ্টা করব।
ধন্যবাদ।
৯১. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫১
খাখা বলেছেন: 'শামস শামীম বলেছেন: তথ্য সমৃদ্ধ ও যৌক্তিক লেখার জন্য ধন্যবাদ।
হাইব্রীড নিয়ে মনিষী কৃষিবীদ ফরহাদ মজহারের প্রতিটি অক্ষর সত্য বলে মানি। ফরহাদ মজহারের অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক লেখা গুলোও ভালো। যদিও নিন্দুকেরা তাকে জামাতি বলে গালি দেয়। তার বক্তব্যে কোনো ভন্ডামী না থাকায় এবং খোলামেলা কথা বলায় তাকে শ্রদ্ধা করি। ফরহাদ মজহার একজন খাটি দেশপ্রেমিক। যিনি সমস্যার গোড়ায় দাড়িয়ে কথা বলেন।'

১. বলেন কী, ফরহাদ মজহার মনীষী? কী মনীষা তাঁর মধ্যে দেখলেন আপনি? তিনি মনীষী হলে তো বাংলাদেশে হাজার হাজার মনীষী আছে। হায় বাংলাদেশ! এত মনীষী নিয়েও তুমি অফলা থেকে গেলে?

২. নিন্দুকেরা তাকে জামাতি বলে গালি দেয়?
কিন্তু জামাতিরা যে তাঁকে কোলে তুলে নাচে। তাহলে জামাতিরা কি ভালো (অনিন্দুক)? আপনি কি জামাতিদের পক্ষের লোক?

৩. তিনি সমস্যার গোড়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলেন? তাহলে সাঁইজীর দৈন্যগান নিয়ে লেখা ফরহাদ মজহার, লালনের অনুকরণে মাথায় ঝুঁটিবাঁধা মজহার, কৃষকের অনুকরণে গামছাকাঁধের মজহার কেন রা-টি করলেন না যখন লালনের ভাস্কর্য ভাঙা হলো। তাঁর খোলামেলঅ কথার ভাণ্ড কেন ফুরিয়ে গেল? নাকি তলে তলে সমর্থন করেছেন বলে উপরেউপরে প্রতিবাদ করছেন না ভণ্ডামি ধরা পড়ে যাবে বলে?

শামস শামীম উত্তরগুলো না জানলে অন্য কারো কাছ থেকেও যদি জানতে পারতাম জীবন ধন্য হতো।।।
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:০৫

লেখক বলেছেন: একটা পাঞ্জাবীর কাপড়ের দাম ১২০ টাকা+মজুরী ৩৭ টাকা+অন্যান্য ২০ টাকা =১৭৭/- এই পাঞ্জাবীটা এই পরিমানে মজুরী দিয়ে মজহার সাহেবের ঘরে যায়। সেটা ওখানে কালচারাল রং মেখে,আভিজাত্যের মুকুট চড়িয়ে, বনেদিয়ানার খ্যামটা দিয়ে ৭০০ থেকে ১০০০ টাকায় শ্রাদ্ধ হয় !

ইনি মণীষী হবেন না তো কে হবেন?

অপ্রাসঙ্গিক ভাবে শামস শামীম তার গুরুকে কেন এই এরিনায় উপস্থাপন করলেন বোঝা গেল না। আপনার সাথে একমত ।

৯২. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩৪
মনির হাসান বলেছেন: @ খাখা ... অপ্রাসঙ্গিক এবং পোস্টের বাইরের চুল্‌কা-চুল্‌কি আপাতত না করি ভাইডী ... প্লিজ ।

@ মনজুর ভাই .... কাহিনি'তো আর'ও ভয়ংকর । আমি ঠিকঠাক জানিনা ।
আমাদের নাকি ৮ হাজার জাতের দেশি ধান বীজ ছিল ... সবগুলই দেশের কোন না কোন জায়গায় চাষ হত ... এদেশের ঋতু, মাটি, স্বাদ , কৃষকের প্রয়োজন এসব কিছু অনুযায়ী । এবং সবগুলো'ই সফল ভাবে চাষ হতো, এমন না যে অগা মগা জাতের ধান ।
সে সংখ্যা এখন নাকি ৮/৯ টায় এসে দাড়িয়েছে ?

তারথে, আর'ও ভয়ংকর কাহিনি হচ্ছে, "বাংলার মাটির" ওই সব বীজ গুলার পেটেন্ট নাকি পশ্চিমারা নিয়া নিছে ।

এই ব্যাপারে আপনার জানা থাক'লে এই পোস্টে কিংবা নতুন আরেকটা পোস্টে বিস্তারিত জানাবেন, দাবী রইলো ।
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১৩

লেখক বলেছেন: আপনার আশঙ্কা ঠিক। এ বিষয়ে আলাদা পোস্ট দিতে হবে ভাবছি। আশা করছি ২/৩ দিনের মধ্যেই পারব।বায়োটেক নিয়ে আজ যে তথ্য পেলাম তাতে মাথা ঘুরে যাবার যোগাড় ! এই সব কম্পাইল করে দেব। ধন্যবাদ।

৯৩. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩৭
ম্যাকলাভিং বলেছেন: মাইনাস দিলাম

১৪ কুটি লুক খাওয়াইবো কেমনে,

আর আপনে বরবাদ মাঝারের লুক বাই ডিফলট মাইনাস
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫২

লেখক বলেছেন: মাইনাসে সমস্যা নাই,কিন্তু আমি বরবাদ মাঝারের লুক কে কইল? এই তথ্যডা ঠিক না।

৯৪. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫৮
মুসতাইন জহির বলেছেন: মনির হাসান আপনার স্পিরিটের সাথে একমত। আমাদের সমাজের একটা বিশেষ গোষ্ঠীর সমস্যা হোল কোন চিন্তা বা কাজের প্রতি ক্রিটিকাল না হয়ে ব্যক্তির প্রতি ক্রোধ ও আক্রোশ প্রকাশ করা।
অন্যমনস্ক শরৎ-এর পএকটা পোস্ট ছিল, খাখা'র মতো (Click This Link)প্রায় একই প্রশ্ন নিয়া, সেখানে একটা কমেন্ট দিছিলাম। সেটা তুইলা দিলাম। এই পোস্টে এ নিয়া আর কথা বলতে চাইনা।

''গত বেশ কিছুদিন ধইরা মুর্তি, ভাস্কর্য... এইসব নিয়া তুলকালাম চলতাছে। কিছু পত্রিকায় দেখি, কিছু ফোনালাপে শুনি। পয়লা কার্তিকে সাঁইজির ধামে রওয়ানা হইবার পর থিকা যে কয়জনের লগে ব্যক্তিগত আলাপা হইছিলো, মূলত যারা বল্গের এই বিষয়ের পোস্টাপোস্টির খবরবার্তা জানাইছিলেন, তাগোরে আমার ফাপড়ের কথা জানাই। জিগাই, আচ্ছা এর মধ্যে লালন ঢুকলো কেমনে? সাঁইজির ভাস্কর্য কোথ্থেইকা, কেমনে? কেউই পরিষ্কার কইরা কিছু কইতে পারলো না। আমি কই হায় খোদা! বেসিক ফ্যাক্টস তো জানতে অইবো আগে। ঢাকায় ফিরা কিছু কথা পোস্টাইমু ভাবি।

এর মধ্যে প্রবীণ রাজনীতিক বদরুদ্দিন উমরের এই নিয়া দৈনিক আমার দেশ-র কলাম পইরা বুঝলাম আমাদের 'প্রগতিশীলতার চর্চা' যথারিতী কান নিয়েছে চিলে।

উমর সাহেবের কথা পাড়লাম দুই কারণে, প্রথমত গত বছর উনি স্বশরীরে ছেউড়িয়া গিয়েছেন তা আমি নিজেই দেখিছি। এ থেকে আমার মনে ধারণা হয় যে সাঁইজির বিষয়-আশয়ে তিনি আন্তরিকভাবে আগ্রহী, নিজেই খোজ-খবর করছেন। কিন্তু লেখাখানা পইরা দেখলাম খোজ-খবর তো দূরের কথা সাধারণ সতর্কতাটাও নাই। বিষয়টার লগে লালনের ভাবগত অবস্থান বা কে কি কইলো তার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণটাও গরহাজির। মুখস্ত কিছু কথা চালায়া দিলেন।

তারপর থিকা আমি 'বাউল-ভাস্কর্য' ও সাঁইজির ভাব এবং বিগ্রহ নিয়া পোস্টানোর চাইতে মধ্যবিত্তের উসখুশ মায় বামপন্থীদের বিপ্লবীপনা উপভোগ করাতেই ব্যস্ত থাকি, ব্লগ ও ব্লগের বাইরে।

তো, শরৎ সাহেবের পোস্টটা পইরা দুই নম্বর কারণটা ঘটে। বলা ভাল মিলায়া নিতে সুবিদা হইলো। কেন উমর সাহের যথারিতী প্রগতিশীলতা এখনো পাছা কামড়ায়া আছে অথবা অন্যথা হইলে আওয়ামী কায়দায় ধরধর রাজাকার, মৌলবাদি.... বইলা ফ্যাসিস্ট প্রলয় নৃত্য শুরু হইবে। উদাহরণ...
''এই জিনিস ব্লগেও দেখলম। মূর্তি প্রসঙ্গ প্রথম থেকেই খুবই রাজনৈতিক। এইটারে জামাত রাজনীতি বিচ্ছিন্ন করে দেখার স্বেচ্ছা/অনিচ্ছাকৃত ভুল যে করবেন তিনি জামাত রাজনীতিরেই পোক্ত করবেন বলে মনে করি।''

অর্থাৎ ১. এইটারে জামাতি ইস্যু বানাইতেই হইবো ২. না বানাইলে সেইটা ইচ্ছায় বা আনিচ্ছায় যাই হোক অনিবার্যভাবে ভুল ৩. এবং জামাতরে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ ( বাধ্যবাধকতা) থেকে নিস্তার পাওয়ার কোন রাস্তা থাকবে না, মানে হইলো বুশের মতো সন্ত্রাসী ঘোষণা, হয় আমগো পক্ষে নয় ওগো পক্ষে।''
১৭ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৫৪

লেখক বলেছেন: আপনার এই প্রশ্নাবলি উত্তরের জন্য আরো একটা পোস্ট লিখতে হবে ! আপনার মত এমন 'মধুর" অভিজ্ঞতা আমারও হয়েছে একাধিকবার। কি আর করা ! এটাই আমাদের দেশ !

একটা কথা আমি মানিঃ-------------

ছুটছাঁট একটু-আধটু ভাল কথা,ভাল কাজ আমরা অনেকেই করতে পারি,কিন্তু যেটা দরকার অর্থাৎ লাগাতার ভাল এবং সত্য-ন্যায়ের পক্ষে থাকা খুব সহজ নয় !!

৯৫. ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৯
আমনুল ইসলাম সুজন বলেছেন: অনেক ভাল একটি লেখা। আমাদের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের ঘুম কবে ভাংবে? আমরা সেই অপেক্ষায় থাকবো নাকি তাদের ঘুম ভাঙাবো!
এদের ঘুম ভাঙ্গার দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে। দেশের স্বার্থে, কৃষকের স্বার্থে, আমাদের অস্তিত্বের স্বার্থে হাইব্রিড বীজ বন্ধে কার্যকর পদেক্ষপ নিতে আর দেরী করা উচিত হবে না।
১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৫০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার সচেতনতার জন্য। আমাদের ভবিষ্যৎ আমাদেরকেই
বিনির্মাণ করতে হবে।

৯৬. ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৪৫
খাখা বলেছেন: 'অপ্রাসঙ্গিক ভাবে শামস শামীম তার গুরুকে কেন এই এরিনায়
উপস্থাপন করলেন বোঝা গেল না। আপনার সাথে একমত ।'

কিন্তু আপনার সাথে ভিন্নমত। অপ্রাসঙ্গিকভাবে মজহার এলো বলেই না আমনার মতামত জানতে পারলাম। এই ব্লগে মজহারের ভাড়া করা ব্লগার আছে বলে শুনেছি। মজহার তো লিখে কোনো টাকা নেয় না। ওই টাকা তারা পত্রিকা তেকে ওঠাইয়া লয়। কেউ কেউ নিয়মিত তার বাসায় কিংবা আড্ডায় যায়। সেখান তেকে মাসোহারা আনে। আর না বুঝেও অনেকে তাদের প্রচারের ভুলে গিয়ে মজহারকে গুরু মানে। তারা তো আর জানে না যে, 'কুসুমিত ইস্পাতে'র কবি হুমায়ুন কবিরকে (আদিত্য কবির বাবা) কে বাসা থেকে ডেকে নেয়ার আধাঘন্টা পরে খুন হয়ে যায়। আর ওই যেকে নেয়া বন্ধুকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি ১২ বছর। বারো বছর পরে তিনি দেশে এসে কেরামতি দেখানো শুরু করলেন।
শামস শামীমের মতো অনেক নিষ্পাপ মুখ বিভ্রান্ত হয়েছেন। পরে ফিরে এসেছেন।
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:০৪

লেখক বলেছেন: আপনার সাথে দ্বিমত করিনি। বলতে চেয়েছি এই থ্রেডে ওই আলোচনাটা অপ্রয়োজনীয়।যাহোক ফরহাদ মজহার নিজেকে সম্ভবত বিতর্কীত দেখতে পছন্দ করেন।তাকে যারা রিপ্রেজেন্ট করেন তারাও।এই ভিষয় নিয়ে আমার একাধিক লেখা আছে সংবাদ পত্রে। ব্লগের ছোট স্পেসে সেটা তুলতে চাইছি না।

আদিত্য কবির এবং রেবু আপা আমার পরিচিত। পারিবারিক বন্ধু/আত্মিয়।বিষয়টা আমি জানি।এত দিন পরে রেবু আপা ওসব তুলতে চান না বলে জানি।

আপনার তথ্য আর মতামতের জন্য ধন্যবাদ।

৯৭. ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:১৮
খাখা বলেছেন: আদিত্য কবির এবং রেবু আপা আমার পরিচিত। নন। কিন্তু এ বিষয়টি আমি জেনেছি আহমদ ছফার কাছ থেকে। ছফার মৃততু্র পরে অসীম সাহার এক লেখায় এবিষয়ে ই্গিত আছে। আপনিও জানেন বলে এখন সত্য মনে হচ্ছে। তবে বিষয়গুলো আলোতে আসা উচিত। মুখোশগুলো খোলা উচিত। জামাতিরা যা ক্ষতি করছে, তা চেয়ে বেশি ক্ষতি করছে প্রগতির মুখোশধারীরা। আপনাকে ধন্যবাদ। কিন্তু আপনার ওই লেখাগুলো যে পড়তে ইচ্ছে করছে। বই বের করছেন না কেন> আপনি তো খ্যাতিমান লেখক। প্রকাশকও আছে ঘরের মধ্যে। প্রথম আওেলঅতে কিছুক্ষণ আগে আপনার লেখা পড়লাম। ভালো লেখা।
৯৮. ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৩১
শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন: আমার মনে হয় একটি বিষয় সম্পর্কে ধারনা না থাকলে সেটি নিয়ে বিতর্কিত মতামত দেয়া উচিৎ নয়।

যতদুর বুঝতে পারছি আপনি ধান, বীজ, এইচ ওয়াই ভি ইত্যাদি বিষয়ে খুব ভালো জানেন না।

এইচ ওয়াই ভি ( high yielding variety=HYV) এবং হাইব্রিড এক কথা নয়। এইচ ওয়াই ভি জাত গুলো পরবর্তীতে বীজ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আর হাইব্রিড ধানের বীজ তৈরীর জন্য একটি আলাদা পদ্ধতি অনুসরন করতে হয় যেটি একটু টেকনিক্যাল কাজেই সাধারনভাবে জমিতে উৎপাদিত ফসলটি কৃষক বীজ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে না। তবে পদ্ধতিটি শিখে নিলে এটি যে কেউ করতে পারে।

যেকোন জাতের ধান পর পর কয়েক বছর কৃষকের নিজের বীজ থেকে চাষ করার এক পর্যয়ে বীজ গুলোর purity কমে যায়, উচ্চফলন দেয়ার ক্ষমতা ও হ্রাস পায়, সেজন্য কৃষককে পরামর্শ দেয়া হয় চার-পাঁচ বছর পরপর বি এ ডি সি থেকে উৎপাদিত ট্রুথফুল লেভেল সীড কিনে চাষ করার জন্য। ফলন বাড়ানোর জন্য তাই আমাদের দেশে বীজ উৎপাদনের প্রাইভেট সেক্টর গড়ে তোলা উচিৎ, এবং উঠছেও কারন বি এ ডি সি আমাদের বীজের চাহিদা মাত্র ৫% মেটাতে পারে। এসব বীজ সেক্টর গুলো হাইব্রিড বীজও তৈরী করবে।

জো আসা নিয়ে যে কথাটি বলেছেন, সেটি ও ঠিক নয়। ধানের বীজতলা করার অনেক ধরনের পদ্ধতি আছে। কাদামাটিতে বীজতলা তৈরী করে অন্কুরিত বীজ বীজতলায় ফেলা হয়, পরবর্তীতে তা মূল মাঠে লাগানো হয়। কাজেই এখানে কৃষককে রাতের বৃষ্টির পর বীজ নিয়ে জমিতে দৌড়াবার কোন ব্যপার নেই। বোরো মৌসুমের এইচ ওয়াই ভি অথবা হাইব্রিড সবই সেচ নির্ভর কাজেই বৃষ্টির ব্যপারটি ই এখানে আসে না।

আবার ও বলছি যে কোন প্রযুক্তি কৃষকের জন্য লাভজনক না হলে তা টিকে থাকবে না। কাজেই অকারনে বিভ্রান্তি মূলক তথ্য দেবেন না।
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:০১

লেখক বলেছেন: বেশ। এইচ ওয়াই ভি থেকে পরবর্তিতে বীজ পাওয়া যায়...এরকম একটা রেফারেন্স দিতে পারেন ?আমি একটু নিশ্চিত হই ! ব্রি'র এবং বিএডিসির কিছু পেপারস এ পাওয়া যায়। মাঠে না । আমি মাঠে কাজ করার অভিজ্ঞতা যৎসামান্য যা আছে,তা থেকেই বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করছি।

যে কোন ধানের বীজ পর পর কয়েক বছর ব্যবহারের পর যা হয় বললেন সেটা ঠিক আছে। হ্যাঁ ওরকমই হয়।এ থেকে বাঁচার জন্য প্রাইভেট সেক্টরের যে কথা বললেন সে বিষয়ে অল্প বিস্তর তিক্ত অভিজ্ঞতা বোধকরি অনেকেরই আছে।

জো' প্রসঙ্গে আপনি যেটা বললেন সেটা রোপা ধানের ক্ষেত্রে ঠিক। রোপা ছাড়া ছিটানো চাষের কথা যদি শুনে থাকেন তাহলে আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

ইপিল ইপিল, ইউক্যালিপটাস কার জন্য লাভ জনক? কি করে টিকে আছে? আর্সনিক বিষ বহনকারী আমেরিকান ইলেক্ট্রিক পোল কার জন্য লাভ জনক? আসছে কার স্বার্থে?

কৃষক যদি তার লাভালাভির ব্যাপারটা নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারত বা ক্ষমতা রাখত তাহলে কি কৃষি নিয়ে কর্পোরেট বাণিয্যঅলারা ছড়ি ঘোরাতে পারত?

আপনার কাছে 'অকারণ বিভ্রান্তি ' মনে হতে পারে।সেটা খন্ডন করার সাধ্য আমার নেই।

৯৯. ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:০৭
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ওকে বস্ :) ... "পাইয়োনীয়র সীডস" এর উপর পোস্টের অপেক্ষায় থাকলাম ... এগুলো প্রকাশ হওয়া দরকার ... ফাও এর পেজে দেখলাম, হাইব্রিড বীজের গুনগান গেয়ে উড়ায়ে ফেলছে
২৩ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:২৭

লেখক বলেছেন:

গুছিয়ে উঠতে পারছি না। দেরি হয়ে যাচ্ছে,বুঝতে পারছি..দেখি চলতি সপ্তায়-ই দিতে পারি কি না।

১০০. ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৩
সত্যান্বেষী বলেছেন: পুজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় 'বড় পুজি ছোট পুজিকে গ্রাস করবে' এটাই স্বাভাবিক। তার ওপর আবার নূন্যতম দেশপ্রেম বিবর্জিত, 'নিজের-পকেট-ভারি-কর' সরকার সমূহ। তো এই দেশে বড় পুজির গ্রাস তো আমার আপনার সবাইকে হতেই হবে। কৃষককে তো বটেই। এর জন্য যা প্রয়োজন তা হলো আন্দোলন। সেই আন্দোলন কিভাবে হবে সেটা আলাদা ব্যপার। কিন্তু আন্দোলনের বিকল্প নেই সর্বনাশা হাইব্রিড ধানের মতো এমন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে।

দেশপ্রেমমাখা প্রতিবেদনটির জন্য লেখকের জন্য রইল ভালবাসা।
১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:২৯

লেখক বলেছেন: এখন 'দেশপ্রেম' দেখাতে গিয়ে ফ্যাসাদে আছি ! আমার সাবজেক্টের বাইরেও কমেন্টের উত্তর দিতে হচ্ছে !!

একটা বিষয় কাউকেই ঠিক ভাবে বোঝাতে পারছি না যে, একটি দ্বন্দ্বের গ্রহনীয় দিক আর প্রধান দিক ধরার ব্যাপারটা এক নয়। প্রধান দিকেরও যে আবার প্রধান আছে সেটাতো আরো অস্পষ্ট ! শুধু ভাল-মন্দ নিয়ে আলোচনাটা এগোচ্ছে ।

দ্বন্দ্বের ডোমিনেটিং টাই ধরানো যাচ্ছে না। বিপদ !

১০১. ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৫
শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন: আপনার মাঠে কাজের অভিজ্ঞতায় আপনি কোথায় পেলেন HYV থেকে যে ফলন আসে তা বীজ হয় না আমি যার পর নাই হতবাক, আপনার বোঝা উচিৎ মাঠে কাজ করার বা এ সম্পর্কে সম্মক ধারনা না নিয়ে আমি কথাটি বলিনি। সারা বাংলাদেশে যে সব ধান চাষ হয় লোকাল ধান ছাড়া সবই তো HYV, কৃষক কি এসব বীজ ফি বছর কিনে ব্যবহার করেন? এটা ব্রি এবং বিএডিসি র পেপারস এ যদি পাওয়া যায় তাহলে সেটা আপনার মানতে অসুবিধা কোথায়?

আমি জানি বোনা ধানে ছিটিয়ে বীজ বুনতে হয়, তা বাংলাদেশে কতটুকু এলাকা এখন বোনা ধান চাষ হয়? direct seeding নিয়ে গবেষকদের বছর বছর গবেষনায় পাওয়া উপকার থাকা সত্ত্বেও এটিকে মাঠ পর্যায়ে প্রসার ঘটানো যায়নি কারন কৃষক এটিকে গ্রহন করেনি, এর নানাবিধ জটিলতার কারনে। কাজেই কৃষক নিজের লাভক্ষতি বোঝেনা এটা ঠিক না।


যেমন @রবিউলকরিম এর মন্তব্যটি লক্ষ্য করুন, উনি হাইব্রিড এবং এইচ ওয়াই ভি দুটি একই মৌসুমে চাষ করে এ সিদ্ধান্তে এনেছেন যে তার দেশী উচ্চফলনশীল ধান চাষ করাই ভাল; এভাবেই প্রত্যেকে তার করণীয় ঠিক করে নেবেন।

আমেদের কৃষকরা শুধু বীজ ব্যবসায়ীদের কাছে না, জিম্মি হয়ে আছে সারের ডিলার, ভেজাল কীটনাশক এর ডিলারদের কাছে। কাজেই এটা একটা পলিসি এবং ম্যানেজমেন্ট ইস্যু একটা প্রযুক্তির সমস্যা নয়।
১০২. ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:২৫
মনজুরুল হক বলেছেন:

পোস্টের আলোচনায় সুহৃদ পাঠক/লেখক/ব্লগার/বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলি উঠে এসেছে তা মোটামুটি এ রকমঃ-

১।দেশের চাষযোগ্য জমির পরিমান দিন দিন কমে যাচ্ছে,পক্ষান্তরে খাদ্য চাহিদা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে খাদ্য সমস্যা সমাধানের উপায় কি?

২। হাইব্রিড বীজ বন্ধ্যা তবে বাংলাদেশে পরীক্ষিত/পরিমার্জিত এইচ এই ভি পুনঃবীজ উৎপাদনে সক্ষম।সেক্ষেত্রে এই বীজ ব্যাপক ভাবে আমদানিকৃত হাইব্রিডের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে কি না?

৩। আমদানি/বিতরণ ব্যবস্থা/ সংরক্ষণ/মান নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি কাজগুলি বা দায়িত্বগুলি যদি সরকার পালন করে সেক্ষেত্রে বহুজাতিক কোম্পানীর একচেটিয়া মুনাফাজনিত শোষণ থেকে মুক্ত হতে পারি কি না?

৪। হাইব্রিড সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলে এই বিশাল জনগোষ্ঠির খাদ্য চাহিদা মিটবে কি ভাবে?

বিকল্প উপাদন ব্যবস্থা কি ?
আরো কিছু বিষয় উঠে এসেছে। তবে এই চারটি বিষয়ই প্রাধান্যপ্রাপ্ত বিষয় বলে আমার মনে হয়েছে। তাই এই ক'টি বিষয়ের সারসংকলন টানার চেষ্টা করছি।
------------------------------------------------------------------------------

এক। সরকারের বা সমবায়ের নিয়ন্ত্রণে থাকা বড় দাগের জমিতে বানিজ্যিক ভাবে দেশী/বিদেশী হাইব্রিড ব্যবহার করা যেতে পারে। যেটা টেকনিক্যাল কোন কারণে মার খেলে যেন প্রান্তিক কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। ২ থেকে ৫ বিঘা জমির মালিক যদি ব্লকে পড়ে তার জমিতে হাইব্রিড চাষে বাধ্য হয়,তাহলে ক্ষতিগ্রস্থ হলে ব্লকমালিক দায় গ্রহণ করে না। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এই ছোট চাষিদের ব্লক বা সমবায়ের আওতার বাইরে রাখতে হবে। অবশ্যি গোটা দেশ সমবায় বা সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার মত কমিউনের আওতায় এলে তো সমস্যা থাকেই না। সেটা যেহেতু হবে না,সুতরাং আলোচনা করে লাভ নেই।

দুই। না। দেশী এইচ আই ভি কর্পোরেট নিয়ন্ত্রিত আমদাণির বিকল্প হয়ে দাঁড়াতে পারে না, পারছে না।বিশ্ব ব্যাংক,এডিবি,আইএমএফ এর ঋণ নিয়ে সেই ঋণের শর্তভঙ্গ করার ক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। তারা ঋণ দেওয়ার সময়েই ব্যবহারের এজেন্ডা নির্দেশ করে দেয়। এটা আবার ভিন্ন প্রসঙ্গ।টানলে দশ পাতায়ও শেষ হবে না।ব্রি,বিএডিসি,কৃষি অধিদপ্তর কৃষি গবেষণা সবই ওই তিনটি মানি সাপ্লাই মেশিনের প্যাকেজ ডিলে চলে। এক একটা বিশেষ গবেষণার জন্য বিশেস একটা ফান্ড আসে । সেই ফান্ডের টাকা ইচ্ছা করলেই সিডর আক্রান্তের হাতেও দেওয়া ক্ষমতা নেই এই সব চার্টাড প্রজেক্টের।সুতরাং বিকল্প হওয়ার সাহস,ক্ষমতা,সদিচ্ছা কোনটাই নেই আমাদের এই প্রতিষ্ঠান গুলোর।

তিন। আমাদের দেশের অভিজ্ঞতা হচ্ছে সরকারি ম্যাকানিজম কখনোই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নয়, পেশাদার নয়,সৎ নয়,এ্যাক্টিভ নয় ! এটা যে কোন সেক্টরের বেলাতেই প্রযোজ্য। আর প্রাইভেট সেক্টর ? বিএনপি'র শেষ পাঁচ বছর এবং বর্তমান ত্বত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্টুপিড উপদেষ্টা গীতিআরা মিলে ৪০ থেকে ৫০ টা পাটকল সহ অন্যান্য কারখানা উৎপাদন বৃদ্ধির নামে প্রাইভেট সেক্টরে নামমাত্র দামে(কমিশন খেয়ে)ছেড়ে দিয়েছে। তার আগেও আওয়ামী লীগ আমলেও কাজী জাফরুল্লাহ অনেক কারখানা প্রাইভেট সেক্টরে বিক্রি করে দিয়েছিল। কেউ কি একটা তথ্য দিতে পারবেন যে তার একটি মিল লাভজনক হয়েছে ?হ্যাঁ লাভ করেছে ফড়িয়া পুঁজির নব্য ক্রেতা। সে লোহালক্কড়গুলো বেচে অন্য কিছু গড়ে তুলেছে অথবা 'রুগ্ন শিল্প' ট্যাগ লাগিয়ে সরকারের কাছ থেকে বসে বসে ইনসেন্টিভ নিয়েছে। এক সময় ওখানে গরু চরিয়েছে! এখানে কার উপর আশা রাখব আমরা ?

চার। হাইব্রিড ব্যবহার করলেই খাদ্য সমস্যা মিটে গেছে বা যাবে এমন কোন গ্যারান্টি কিন্তু কেউ দিতে পারেনি, পারছে না।হাইব্রিড উন্নত সার,ভালবীজ,নিয়মিত সেচ কীটনাশক ইত্যাদি 'যথাযথ' হওয়ার পরও আমরা দেখছি ২০ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য আমদানি করতে হচ্ছে।অথচ রবিশস্য বাদ দিয়ে ব্যাপক ভাবে ধান চাষ করার পর ধানের সয়ংসম্পূর্ণতা আসার কথা ! ধান কে জায়গা ছেড়ে দিয়ে পিয়াজ,রসুন,আদা,ছোলা,মুশুরি,অন্যান্য ডালবীজ,সর্ষে,তিল সহ অন্যান্য রবি শস্য চাষাবাদ বন্ধ করে ধানের চাষ করেও চাহিদা মিটছে না।এর জন্য জমি বা প্রকৃতি যতটা দায়ি, তার চেয়ে অনেক বেশি দায়ি সরকারের সদিচ্ছা,অনিয়ম,লুটতরাজ,অপচয়,এবং একটা বিশেষ শ্রেণীর একচেটিয়া মুনাফার আকাঙ্খা। বিশ্বে খুব কম দেশই আছে যারা খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণ। খাদ্য এমনিতেই আমদানি করতে হচ্ছে ,হবেও। হাইব্রিড দিলেই বাংলাদেশ ধানে সয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যাবে না। তা যখন হবে না তাহলে সেই সন্দেজনক,ক্ষতিকর ,বন্ধ্যা বীজ কেন আমাদের প্রায় বিনা ব্যয়ের প্রচলিত চাষাবাদকে ধ্বংস করবে? আর কেনই বা আমরা এটা হতে দেব ?

এই আলোচনায় অংশ নেওয়া সকল সুধী,সুহৃদদের অভিনন্দন,শুভেচ্ছা। আপনাদের মূল্যবান আলোচনায় এই লেখাটি ঋগ্ধ হয়েছে।
১০৩. ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:১৫
তপন বাগচী বলেছেন: মঞ্জুরুল ভাই, এই মুভমেন্টটা চালু রাখার জন্য ধন্যবাদ।
আপনার বক্তব্য:
২। হাইব্রিড বীজ বন্ধ্যা তবে বাংলাদেশে পরীক্ষিত/পরিমার্জিত এইচ এই ভি পুনঃবীজ উৎপাদনে সক্ষম।সেক্ষেত্রে এই বীজ ব্যাপক ভাবে আমদানিকৃত হাইব্রিডের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে কি না?
এক্ষেত্রে আমার বক্তব্য:
সকল হাইব্রিড বীজ বন্ধ্যা নয়। আমদানিকৃত হাইব্রিড বীজ বন্ধ্যা। কারণ তারা বীজ পুনরুৎপাদনের প্রযুক্তি দেয় নি। কিন্তু ব্রি'র বিজ্ঞানীরা চীনে গিয়ে ওদের শায়েদ্রি ভ্যারাইটরি উপর গবেষণা করে বীজ উৎপাদন প্রযুক্তি করে সব মিলিয়ে ৮ বছর গবেষণা করে বাংরাদেশে চাষ-উপযোগী এবং বীজ সংরক্ষণের সুবিধাসহ ২টি হাইব্রিড ধান উদ্ভাবন করে। যা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির (যে কোনো বীজের জন্য প্রত্যয়নের ক্ষমতাধারী সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসসিএ, গাজীপুরে প্রতিষ্ঠিত) অনুমোদন নিয়ে কৃষকদের জন্য উন্মুক্ত করেছে। ব্রি হাইব্রিড ধান বীজ রাখার উপযোগী না হলে এসসিএ তার অনুমোদন দেয় না। এইগুলোর ফলন এইচওয়াইভি বা উফশীর চেয়ে বেশি। তবে তা আমদানিকৃত হাইব্রিডের চেয়ে সামান্য কম। তবু বীজ রাখার সুযোগ এবং কম দামে বীজ পাওয়ার সুযোগের জন্য এই দুটি ধানের ব্যাপক চাষ বিদেশি হাইব্রিডের আমদানি বন্ধ করতে পারে।
ব্রি'র বিজ্ঞানী ড. ফরহাদ জামিল ১৯৯২ সালেই মঙ্গা নিরসেনর জন্য ব্রিধান-৩৩ চাষের সুপারিশ করেছিলেন। কারণ এটি ২০দিন আগে ফলে। আর মঙ্গার স্তিতিকাল ৩০ দিন। এতে ১০ দিন মাত্র মঙ্গা থাকার আশঙ্কা। তবে ১০দিন আগে চাষ করতে পারলে ওই ফাঁকটুকুও পূরণ করা সম্ভব বলে তিনি রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু বীজ কোম্পানিগুলো এবং দারিদ্র্য ব্যাবসায়ীরা এই ধান চাষে উৎসাহ দেখায়নি। সরকারকেও তারা ভুল বুঝিয়েছে। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমালে রংপুরে কর্মরত ধানবিজ্ঞানী ড. আবদুল মজিদ গত বছর (২০০৭) এই ধানের কেরামতি দেখিয়ে কয়েকটি উপজেলায় মঙ্গা তাড়িয়েছেন। তারপর এই সরকার উত্তরবঙ্গে ওই জাতের ধান চাষের মাধ্যমে এবার মঙ্গা অনেকখানিই নিবারণ করেছেন।
আমি বলতে চাইছি ব্রির অর্থাৎ দেশীয় প্রযুক্তিই আমাদের সমস্যা মেটাতে পারে।
১৯৭২ সালে যে পরিমাণ চাল আমদানি করতে হত, ২০০৮ সালেও সেই একই পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়েছে। দ্বিগুণ মানুষের জন্য অর্ধেক জমিতে চারগুণ ফলন কে করল? নিশ্চয়ই ব্রি'র ভ্যারাইটি। হিসেবটা খুব বেশি জটিল নয়।
১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ তপন বাগচী।
সমস্যাটা হলো কি ভাই,আমি সহজ সরল ভাবে কতগুলো বিষয়ের কিছুতেই সমাধান পাই না।
১। যে যুক্তরাষ্ট্র,ইউরোপিয়ান কম্যুনিটি কম্পিটিশন বিজনেসে আমাদের একটাকা ছাড় দেয় না,তারাই আবার যখন এদেশের দারিদ্র দূরিকরণে এনজিও দের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার ফান্ড রিলিজ করে তখন বিস্মিত হই ! অংক মেলে না।

২।দেশের প্রধান প্রধান সমস্যা নিয়ে যখন আমরা হাবুডুবু খাই,টাকার অভাবে সকল শিক্ষাকে অবৈতনিক করতে পারি না,থানায় থানায় ফ্রি চিকিৎসার হাসপাতাল করতে পারি না, তখন আমাদের স্যানিটেশন সমস্যা,পানির লবনাক্ততা সমস্যা,সমুদ্রপৃষ্ঠ'র উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত সমস্যার জন্য কাড়ি কাড়ি টাকা চলে আসে !!

৩।আমরা যখন আমাদের জন্য ওদের বাজার উন্মূক্ত করে দিতে বলি,যখন কেমিক্যালস এর বদলে কেমিক্যালস প্লান্ট বসানোর কথা বলি,যখন ওজন স্তর ফুটো করার জন্য তাদের দায়ি করে ক্ষতিপুরণের কথা বলি,তখন কোন সাড়া পাই না।

কিন্তু কি অদ্ভুত ব্যাপার ! আমরা না চাইতেই আমাদের হাই পাওয়ার কীটনাশক দেওয়া হয়, না চাইতেই আমাদের উন্নত মানের ভুট্টাবীজ দেওয়া হয়,আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিনা মূল্যে গণ আন্দোলন দমনের কৌশল হাতে-কলমে শিখিয়ে দেওয়া হয়,ফিলিপাইনের ব্যর্থ জেনেটিক এক্সপেরিমেন্ট গছিয়ে দেওয়া হয় তখন সত্যিই বিস্মিত হই !!

আরো বিস্মিত হই যখন দেখি (আপনার দেওয়া তথ্য মতে)

"আমি বলতে চাইছি ব্রির অর্থাৎ দেশীয় প্রযুক্তিই আমাদের সমস্যা মেটাতে পারে। ১৯৭২ সালে যে পরিমাণ চাল আমদানি করতে হত, ২০০৮ সালেও সেই একই পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়েছে। দ্বিগুণ মানুষের জন্য অর্ধেক জমিতে চারগুণ ফলন কে করল? নিশ্চয়ই ব্রি'র ভ্যারাইটি। "..............তার পরও কেন আমাদের কে বিশেষ ফান্ডের টাকায় বিশেষ বার্টার বা এসইএম ব্যবস্থায় হাজার হাজার টন হাইব্রিড বীজ আমদানি করতে হয় ! সেই বীজ ডিলারদের উপর কোন মনিটরিং থাকে না,ক্ষতিপুরণের বাধ্যবাধকতা থাকে না,ক্ষতিগ্রস্থ কৃষককে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকে না !!

আমরা মোটামুটি আশ্বস্থ হলাম যে আমাদের উফশি বা ব্রি ভ্যারাইটি দিয়েই আমাদের চাহিদা বা খাদ্য ঘাটতি মেটানো সম্ভব, তাহলে আমাকে একটু বোঝান ভাই ...কে কেন আমাদেরকে অনিশ্চিত আমদানিতে বাধ্য করছে ?কে কেন আমাদেরকে সর্বনাশা জেনেটিক এক্সপেরিমেন্টের গিনিপিগ বানাতে চাইছে ?

আশা করি এই থ্রেডে আপনার সুচিন্তিত মতামত পাব,এবং আলোচনাটা সমৃদ্ধ হবে। ধন্যবাদ আপনাকে।

১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৪৬

লেখক বলেছেন: "দুষ্ট বালিকা" বড়দের পোস্টে কি কারণে ? এসেছেন যখন অভিনন্দন থাকল।

১০৬. ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৮
ইয়াহইয়া ফজল বলেছেন: সচেতনতামূলক গুরুত্বপূর্ণ পোস্টের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৪৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১০৭. ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৬
রশীদ বলেছেন: শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন: 'একটা পলিসি এবং ম্যানেজমেন্ট ইস্যু একটা প্রযুক্তির সমস্যা নয়।'


সহমত

লেখক দেশের একটি সমস্যা তুলে ধরেছেন এ জন্য তাকে ধন্যবাদ। যারা পোষ্টে কমেন্ট করছেন, তাদেরকে ও আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ। তবে একটি বিষয় লেখক সহ অনেকেই গুলিয়ে ফেলেছেন সেটি হল হাইব্রীড এবং HYV। আমরা সচরাচর যে ধান গুলো দেখছি বা বেশীর ভাগ কৃষকরা চাষ করছেন সেগুলো HYV। বাংলাদেশের জন্য হাইব্রীড ধান কতটা উপযোগী সেটা কৃষকদের অভিজ্ঞতাই বলে দেবে। দেশে বীজের রাজনীতি খুবই সুস্পষ্ট। কৃষকদের সর্বনাশ করে ছাড়ছে। তাই বলে হাইব্রীড প্রযুক্তি নিয়ে নাক সিটকানোর ও অবকাশ নাই। হতে পারে এটি আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় এখন ও উপযোগী নয়। আমরা প্রতিদিন যে সব্জী খাচ্ছি তার অনেক গুলোএ কিন্তু হাইব্রীড। BRRI উদ্ভাবিত HYV ধান গুলো আসার আগে দেশে LV (local variety) চাষ হত যেগুলোর ফলন খুব কম ছিলো। তার পরেও কৃষকরা HYV ধান চষে আগ্রহী ছিলনা। অনেক প্রচারণার পরে তারা এগুলো গ্রহন করেছে। নতুন যে কোনো প্রযুক্তিতে কিছু মানুষ ছাড়া সবার ই অনেক কারনে অনাগ্রহ থাকে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সবাইকে গ্রহণ করতে হয়। একটা সময় আসবে যখন বাংলদেশে প্রয়োজন মেটাতে হাইব্রীড ধান চাষ করতেই হবে। অবশ্য তার আগে সিস্টম গড়ে তুলতে হবে।

ধন্যবাদ সবাইকে।
১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৫৮

লেখক বলেছেন: "অবশ্য তার আগে সিস্টম গড়ে তুলতে হবে।" এই যে সিস্টেমের কথা বললেন,সেটা নেই বলেই এবার ক্ষতি হওয়ায় পত্র-পত্রিকায় খবর এসেছে।
এই লেখার আপত্তিটা প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নয়,যে প্রযুক্তি একচেটিয়া মুনাফার কারণে প্রান্তিক কৃষকদের ক্ষতি করছে সেই বহুজাতিক এবং চাপিয়ে দেওয়া প্রযুক্তিজাত স্বপ্নে র বিরুদ্ধে।

ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

১০৮. ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:২৬
েপচাইললা বলেছেন: ধন্যবাদ।
অসাধারণ একটা বিষয়ের অবতারণা করেছেন। এসব নিয়ে ব্লগে ভাবাভাবি হয় দেখতে ভাল লাগছে।

হাইব্রিডের পক্ষে যারা লেখালেখি করেন এবং এর সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে তাদের অনেককেই আমি ব্যাক্তিগতভাবে জানি। এদের বক্তুতার মূল কারণটিও মুনাফা। আমি তাদের সাথে আনঅফিসিয়াল কথাবার্তায় তাদের কয়েকটি বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলাম হাইব্রিড নিয়ে। সদুত্তর পাইনি, বরং গোঁয়ারের মত আচরণ দেখেছি। তাদের একটাই যুক্তি খাবার লাগবে। বেশি ধান উৎপাদন করতে হবে। সুতরাং কোন বিকল্প নেই।

আমি তাদেরকে বোঝানোর চেষষ্টা করেছিলাম যে আমাদের দেশেই এমন অনেক এমন জাত আছে যেগুলোর ফলন ৭-৮ টন/হেক্টর হওয়া সম্ভব। চাষ পদ্ধতির উন্নয়ন এনে কৃষকদের উপযুক্ত শিক্ষা দিলেই এগুলোর উৎপাদন সম্ভব। অথচ বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত এর থেকে বেশি ফলন হাইব্রিড থেকেও সম্ভব হয়নি। হাইব্রিডে হয়ত আমাদের আসতে হবে কিন্তু এই প্রযুক্তি যতদিন নিজেরা সৃষ্টি করতে না পারছি ততদিন এ চেষ্টা করা মানে আমাদের কৃষিব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ পরাধীন করে ফেলা। কৃষকদের শোষণের নতুন একটি ক্ষেত্র সৃষ্টি করা। কিন্তু আমাদের সেই বুদ্ধিজীবিরা যাদেতর লিংকেজগুলো মুনাফাকেন্দ্রিক এবং কোম্পানীনির্ভর তারা চাইছেন হাইব্রিড আসুক যাতে সেখান থেকে তারা এর সুবিধা নিতে পারেন।

আমাদের বয়স (এবং ভয়েসও) কম বলে এই কথাগুলো নীতি-নির্ধারকদের কাছে পৌছায় না। অবশ্য পৌছিয়ে লাভও নেই। কারণ তাদের অনেকেরই এই বিষয়গুলো বোঝার সাধ্য নেই তারা পরের কানে শোনেন। এখন যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এর দায় আর কারও নয় সরকারের, নীতি নির্ধারকদের। যাদের লাভের বিষয় আছে তারা গলা ফাটাবেই কিন্তু এতবড় একটা কৃষি বিভাগ এতদিন ধরে কি করল? তাদের মাথায় এই চিন্তাগুলো কেন খেলেনা । আবার যা হয়েছে তারপরও কৃষি বিভাগের নজরদারি কোথায়? তাদের আসল কাজটি কি? কৃষক তাদের কাছে থেকে কোন সেবাই তো পায় না। তাই বলে দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এই বড় বিষয়গুলোর নজরদারি কার দায়িত্বে? তারা এখন কোথায়?
১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:০০

লেখক বলেছেন:

আপনিকি এই বিষয়ে আমাকে আরো কিছু তথ্য দিতে পারেন? আমার পরবর্তি লেখায় সেই তথ্যগুলি কাজে আসত। আপনাদের সকলের পর্যবেক্ষণ বেশ জরুরি পরের পোস্টের জন্য। মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।

১০৯. ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩৩
েপচাইললা বলেছেন: কোন এক ভাইয়ের মন্তব্যে দেখলাম হাইব্রিড জমির উর্বরতাশক্তি কমায়। এটি সর্ত, কারণ হাইব্রিডের আবাদে এত বেশি পরিমান রাসায়নিক সার দরকার যে, জমির প্রাণশক্তি শেষ হয়ে যায়। আবার আমাদের কৃষি পরিবেশ-প্রতিবেশও আসলে হাইব্রিডের উপযুক্ত নয়। কারণ নির্দিষ্ট তাপমাত্রার (২৪-২৫ডিগ্রী সে.) বেশি হলেই হাইব্রিডের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রেই গাছগুলো মরে যায়।

আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উল্লেখ করেছেন অনেকেই। সেগুলোও ভেবে দেখার মত। সবাইকে ধন্যবাদ। পোস্টটিকে আরও স্টিকি কার দরকার।
১১০. ১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩১
গুপী গায়েন বলেছেন: ধন্যবাদ। দারুন একটা টপিকে আলোচনার জন্য। অনেক মন্তব্য প্রতি মন্তব্য পড়লাম। বেশ ভাল লাগল।

লেখাটা পড়ে প্রথমে মনে হল ভয়াবহ এক অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে যাচ্ছি আমরা। পরে অনেকেই যুক্তি খন্ডন করে বোঝালেন ঘাবড়াবা কিছু নেই। যেমন, শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন।

@ তপন বাগচী ১৯৭২ সালে যে পরিমাণ চাল আমদানি করতে হত, ২০০৮ সালেও সেই একই পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়েছে। দ্বিগুণ মানুষের জন্য অর্ধেক জমিতে চারগুণ ফলন কে করল? নিশ্চয়ই ব্রি'র ভ্যারাইটি। হিসেবটা খুব বেশি জটিল নয়।
ধন্যবাদ তথ্যের জন্য।

@ েপচাইললা "আমাদের দেশেই এমন অনেক এমন জাত আছে যেগুলোর ফলন ৭-৮ টন/হেক্টর হওয়া সম্ভব। চাষ পদ্ধতির উন্নয়ন এনে কৃষকদের উপযুক্ত শিক্ষা দিলেই এগুলোর উৎপাদন সম্ভব।"

এরকম দু'য়েকটা জাতের নাম বললে ভাল হত প্লিজ।
----------------------------------------------------------------------------
আমার বক্তব্য নিম্নরূপঃ

অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষ বাড়াতে পারলে, কেমিক্যাল সার, পেস্টিসাইড ব্যাবহার সীমিত করতে পারলে জমির উর্বরতা হ্রাস পাবেনা।

বিদেশী এনজিও বা বেনিয়া প্রতিষ্ঠানের সবাইকে ঢালাও ভাবে দোষারোপ করাও ঠিক না। এদের সবাই হাইব্রীড বীজ, বা সার বা কীটনাশকের ওকালতি করেন না।

আমার দেখা দিনাজপুরে এনজিও কেয়ার এর GOINTERFISH বা "সমন্বিত মৎস ও ধান প্রকল্পে" ধান চাষের যে পদ্ধতি শেখানো হয়েছে তার লক্ষ্যই ছিল কেমিক্যাল সার, পেস্টিসাইড এর ব্যাবহার সীমিত করন। এমন ভাবে জমিতে ধান চারা বুনতে শেখানো হয়েছিল যাতে মাঠে অবস্থিত পানিতে ছাড়া মাছ তার ফাঁকে ফাঁকে স্বচ্ছন্দে বেড়িয়ে বেড়াতে পারে। এতে জমিতে পোকা মাকড় কমে (মাছে খেয়ে ফেলে বলে) এবং মাছ কাদার ভেতর নড়াচড়া করার কারনে কাদা থেকে বিষাক্ত গ্যাস বের হয়ে যায় সাথে জমি নিড়ানির কাজটাও হয়। সাথে মাছের নির্গত বর্জ্যও সারের কাজ করে।

দুঃখের বিষয় বাস্তবে মাঠে খুব কম চাষীই মনে হয় এর প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। আমাদের সব থেকে বড় দোষ আমরা স্বল্প আয়েশে অধিক ফল পেতে চাই। আর সেখানেই বহুজাতিক বেনিয়াদের সুযোগ অবারিত। দোষ তাদের শুধুনা, আমাদেরও, তাদের সুযোগ করে আমরাই দেই।
১১১. ১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৮
সমকালের গান বলেছেন: গুরুত্বপূর্ন পোষ্ট। ধন্যবাদ।
১১২. ১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৬
সত্যদা বলেছেন: হাইব্রীড বীজ(বন্ধ্যা ধান)কে না বলুন
২৭ শে নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৫০

কলিমদ্দিন একজন কৃষক। চাষবাস করিয়াই তাহার জীবন চলে। পিতৃপুরুষের জমি আর চাষবাস পদ্ধিততে মোটামুটি টেনে টুনে চলে যাচ্ছিল।
তো হল কি....আসলো কর্পোরেট জামানা ....
সে কি আর অতশত বুঝে? টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখে.... এইবার ধান তুইলা বিয়া করবো..... মহাজনের চোখের সামনে দিয়া ৭০০ টাকার মাছ নিয়া যায়... আহা কি শান্তি!!

অবশেষে সেও হাইব্রীডের পাল্লায়...

লিখেছিলাম মনের তাগিদেই..... তবে আপনার পোষ্ট সত্য্ই অনেক কিছু জানার শেখার.....

আসুন আমরা সচেতন হই।

হাইব্রিড বীজ বন্ধ্যা বীজ কে না বলি......

++
১১৩. ১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫৬
সৌরভ তৌহিদ বলেছেন: ধান হাইব্রীড হোক বা হাই ইল্ডীং(HYV),তা জ়েনেটিকালী মডিফাইড বা জ়েনেটিকাল ইউনিফরমিটি।হাইব্রীড ধানের বীজ মাঠ থেকে সংগ্রহ করা যায়না বলেই জানি,আর হাই ইল্ডীং(HYV)ধানের বীজ সংগ্রহ করলেও তার ফলন কমে যায়।কারন,ক্রস পলিনেশনের ফল হিসেবে ঘটা জ়েনেটিকাল আনইউনিফরমিটি।
১১৪. ১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২৪
মনজুরুল হক বলেছেন: @সৌরভ তৌহিদ। আশা করব আপনার এই মন্তব্যের জবাবে বন্ধু 'শ্রাবনসন্ধ্যা' কিছু বলবেন।

আমি কৃষি বিজ্ঞানী তো নই-ই, আমার সাবজেক্টও এগরিকালচার নয়। লেখক হিসেবে যতটুকু দরকার ততটুকুই পড়ে পড়ে অর্জন করতে হয়েছে।আর একসময় গ্রামে কৃষকদের সঙ্গে কাজ করার সূত্রে কিছু জেনেছি। আপনি,শ্রাবনসন্ধ্যা ,তপন বাকচী,জ্বীনের বাদশা,পেচাইললা,গুপি গায়েন এদের কাছে আরো মতামত আশা করছি। এখনই বায়ো টেকের পুরো ব্যাপারটা আনছি না। বীজের মাটি ক্ষতি করার বিষয় এবং বায়োটেক এর বিষয় নিয়ে আলাদা পোস্ট দিতে হবে।

ধন্যবাদ সৌরভ তৌহিদ।
১১৫. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:২০
রিফাত হাসান বলেছেন: মনজুরুল হককে এই জরুরী বিষয়টিতে আলোচনা তোলার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমি আগ্রহ সহকারে মন্তব্য এবং পোষ্টটি পড়ছি।
১১৬. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ ভোর ৬:৪৬
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন: শামস সুমন বললেন, "ফরহাদ মজহারের প্রতিটি অক্ষর সত্য বলে মানি"। এটা একটা চামচামি বক্তব্য। যেখানে একটা সিরিয়াস বিষয় নিয়ে নৈব্যক্তিক আলোচনা হচ্ছে সেখানে আপনি একটা ব্যক্তির মহিমা কীর্তন শুরু করলেন, আপনি ঐ ব্যক্তি প্রেমে কিভাবে হাবুডুব তা আমাদের জানাতে বসলেন। আপনার কী দেখে মনে হল এই পোষ্টে চামচামির প্রেমকাহিনী নিয়ে আলোচনা চলছে।
একদিকে এসব চামচা অন্যদিকে ধুরন্ধর বীজ ব্যবসায়ীর হাত থেকে বেঁচে একটা সুস্হ আলোচনার কথা খেয়াল করে সম্ভবত লেখক মন্জুরুল যদিও আগেই বলে নিয়েছিল, "ফরহাদ মজহার কে অনেকেই পছন্দ করেন না। আবার অনেকেই পছন্দ করেন। তিনি তার ‘নয়া কৃষি আন্দোলনের’ অভিজ্ঞতা বা নিজস্ব গবেষণা থেকে এই হাইব্রীড বীজ কি ভাবে বাংলার কৃষদের সর্বনাশ করছে,এবং ভবিষ্যতেও করবে,তা নিয়ে অনেক লেখা-লেখি করেছেন"। মনে হচ্ছে এসব কথা কাজে আসছে না। লেখকও যথেষ্ট সতর্কতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

একজন বলল, নিক "খাখা" কে অসীম সাহার সাথে বাজে অবস্হায় দেখেছি। জবাবে লেখক বলল, "বিষয়টা আমি জানি।এত দিন পরে অসীম সাহা ওসব তুলতে চান না বলে জানি"।

এভাবে অপ্রাসঙ্গিক ও কানকথা চলতে থাকলে, এই সুন্দর আলোচনার বারোটা বাজতে আর দেরি নাই। হাইব্রিড রাজাকারদের স্যাবোটাজ সফল হতেও বিশেষ বাকি নাই। লেখক মন্জুরুল, এব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন বলে মনে হচ্ছে না। আলোচনাকে বিষয়বস্তুতে বেধে রাখতে তার করণীয় সব করতে মনোযোগ আকর্ষণ করছি।
১৭ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৩৭

লেখক বলেছেন: "সুন্দর আলোচনার " বারটা অলরেডি বেজে গেছে ! যা করা উচিৎ ছিল তা আমি করতে পারিনি ! স্রেফ ডিলিট করা উচিৎ ছিল। যাহোক এর পরের কিস্তিতে বিষয়টা মাথায় থাকবে আশা করি।"কামারের" হাতে কিতাব না দেওয়ার চেষ্টা করব।

আপনিও আশা করি পরের পোস্টে সাথে থাকবেন। ধন্যবাদ।

১১৭. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:২৯
যীশূ বলেছেন: জেগে যে ঘুমিয়ে থাকে তাকে জাগানো আসলে কঠিন।
১১৮. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৫২
শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন: বীজের yield potential এর ব্যপারটি এর আগেও বলেছি, কয়েক বছর পরপর ব্যবহারে পর ঐ জাতের yield potential হ্রাস পায়, তাই নতুন ট্রুথফুল লেভেল বীজ যেটা বিএডিসি তৈরী করে সেটা ব্যবহার করতে পরামর্শ দেয়া হয়। প্রথম বছর থেকেই এটা হয় না, আর বীজ রাখার জন্য কিছু আলাদা সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়, আলাদা পরিচর্যাও করতে হয়, সবচাইতে ভাল শস্যটি, যেটি রোগমুক্ত, সঠিক রঙ সম্মৃদ্ধ সেটিকে বীজ হিসেবে রাখতে হয়--কারন সুস্থ মা মানে সুস্থ শিশু।

জমির উর্বরতা হ্রাস নিয়ে কিছু বলি---

বেশী ফলন মানেই জমি থেকে বেশী পরিমান পুষ্টি গাছ গ্রহন করবে এবং জমির neutrient level কমে যাবে, সেটা হাইব্রিড হোক আর না হোক। বেশী ফলন চাইবো আবার জমির গুনাগুন আগের মত থাকবে সেটি করার কোন উপায় নেই। সে জন্যই হাইব্রিড ধানে সারের recomanded dose বেশী। তবে এর প্রতিকার করতে হবে, এবং এর উপায়ও আছে। মাটির neutrient level কে আগের অবস্থায় নিতে গেলে সেই উপাদান গুলো যোগ করতে হবে। রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সার, সবুজ সার প্রয়োগ; পরপর একই জমিতে একই ফসল না লাগানো বা দুটি ধানের পর একটি ডাল জাতীয় ফসল লাগানো অর্থাৎ শস্য বিন্যাস করতে হবে।

আমাদের স্থানীয় জাতগুলো চাষ করা হয় কোন রকম পরিচর্যা এবং সার প্রয়োগ ছাড়া, সার ব্যবস্থাপনা করে এগুলোর ফলন বাড়ানো যায় আমরা দেখেছি।

বেশী ফলনের জন্য আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ধানের ক্ষেত্রে, যে জাতের জীবনকাল বেশী তার ফলন বেশী; কাজেই বেশী সময় যে মাঠে থাকলো সে বেশী পরিমান খাবার খাবে এবং আনুষাঙ্গিক সবকিছু ভোগ করবে সেটা মাথায় রাখতে হবে।

ব্রিধান ২৯ এযাবৎকালে উদ্ভাবিত সর্বোচ্চ ফলনশীল ধান( ৮-১০ টন/হেক্টর), দেশী হাইব্রিড গুলো এখন পর্যন্ত একে টপকাতে পারেনি। এর জীবনকাল ব্রি ধান২৮(৭-৮ টন /হেক্টর) এর চেয়ে একমাস বেশী।
তবে এটি কি সারাদেশে চাষ করা যাবে? যাবে না, যেখানে ফ্লাশ ফ্লাড হয়(সিলেট, সুনামগন্জ এলাকা), যেখানে সেচের পানির ঘাটতি আছে (লবনাক্ত এলাকা) সেখানে কম জীবনকালের জাত লাগাতে হবে।

আমাদের সারাবছরের মোট প্রোডাকশন নিয়ে ভাবতে হবে, খন্ড খন্ড করে একটি মৌসুম বা একটি ফসল নিয়ে নয়।আমাদের প্রযুক্তিগুলো নির্দিষ্ট ইকোসিস্টেমের জন্য তৈরী করা হয়েছে, সেটি মেনে চলতে হবে। যেমন দেশী হাইব্রিড তৈরি হয়েছে বরিশাল এলাকার জন্য অন্য এলাকায় এটি আশানুরূপ ফলন দেবে না বরং বিপত্তি ঘটাতে পারে।
১১৯. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:০২
তপন বাগচী বলেছেন: "আমি বলতে চাইছি ব্রির অর্থাৎ দেশীয় প্রযুক্তিই আমাদের সমস্যা মেটাতে পারে। ১৯৭২ সালে যে পরিমাণ চাল আমদানি করতে হত, ২০০৮ সালেও সেই একই পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়েছে। দ্বিগুণ মানুষের জন্য অর্ধেক জমিতে চারগুণ ফলন কে করল? নিশ্চয়ই ব্রি'র ভ্যারাইটি। "..............

মঞ্জুরুল ভাই, যেদিন শেখ হাসিনা যমুনা সেতু উদ্বোধন করতে যান, সেদিন সাংবাদিক আতাউস সামাদ সাপ্তাহিক যায়যায়দিনে তাঁর নির্ধারিত রচনায় ব্রি সম্পর্কে লিখেছেন। ওই লেখার মর্মার্থ হচ্ছে, যমুনা সেতু বা বঙ্গবন্ধু সেতু নিয়ে আমরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছি কিন্তু ধান গবেষণা যে আমাদের বাড়তি লোকের খাবার যোগাচ্ছে, তার খবর আমরা রাখি না। তাই তিনি শেখ হাসিনাকে আহ্বান জানিয়েছিলেন ফেরার পথে যেন ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ঘুরে দেখে আসেন তাদের কর্মকাণ্ড।
এই লেখা পড়ে আমি ব্রি সম্পর্কে উৎসাহিত হই। ১৯৭৭ ও ১৯৭৮ সালে স্বাধীনতা পদক এবং ১৯৮৪ সালে রাষ্ট্রপতি পদকও পেয়েছে গবেষণার জন্য। এই স্বীকৃতির কথাও আমরা হয়তো জানি না। ব্রি এযাবৎ ৫০টি আধুনিক ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ৪৮টি ইনব্রিড এবং ২টি হাইব্রিড। এর সকল জাতেরই বীজ রাখা যায় এবং পরবর্তী বছরেও সেই বীজে ফলন হয়। এটি তো প্রমাণিত সত্য। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এরা বিজ্ঞাপন দিয়ে বাজার নিতে পারে না। আর ব্রির দায়িত্ব কেবল ধানপ্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সরকারের কাছে হস্তান্তর। কিন্তু কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই প্রযুক্তিকে মাঠে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব বহন করে। কিন্তু সংকট সেখানেই। কারণ সরকারি কৃষি কর্মকর্তার এবং ব্লক সুপারভাইজাররা সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করনে না বলেই আমাদের ধারণা।
আর বেনিয়াদের ঠেকাবে কে? তাঁর টাকা দিয়ে অনুমতি দেয়, টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করে।
১২১. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৩৭
ফাহমিদুল হক বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট।
প্রিয়তে রইলো।
ব্রিকে নিয়ে তপন বাগচীর মন্তব্যগুলোও জরুরি।
১২২. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৪৫
দিনমজুর বলেছেন:
কিউবার কৃষি অর্থনীতি/ রেবেকা ক্লসন
এক ( Click This Link)
দুই ( Click This Link)
১৭ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৪২

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ আপনাকে। লেখা দুটো খুবই দরকারী।লিঙ্ক গুলোও। ফেভারিটে রাখলাম।কম্পাইলে কাজে লাগবে।আমার মনে হয় গ্রহণ/বর্জন ব্যাপারটাকে আমলে না নিয়ে এই লেখা গুলো ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হওয়া দরকার। শুভেচ্ছা আপনাকে।

১২৩. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:০৮
ফারহান দাউদ বলেছেন: বেশ তাড়াহুড়ার মাঝে পুরোটা পড়ার চেষ্টা করলাম। এই বিষয়ে আরো লেখা আশা করছি। তবে আমি একটা পয়েন্ট মিস করে গেছি কিনা জানি না,অথবা লেখাতে নেই কিনা,হাইব্রিড বীজ থেকে ধান চাষ করার জন্য যে অস্বাভাবিক পরিমাণ পানি লাগে তাতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশংকাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে।
১২৪. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৫৩
শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন: @ ফারহান

"হাইব্রিড বীজ থেকে ধান চাষ করার জন্য যে অস্বাভাবিক পরিমাণ পানি লাগে" ---এ কথাটি ঠিক নয়।

যে ধানটি বেশী সময় মাঠে থাকবে অর্থাৎ যার জীবনকাল বেশী তার জন্য বেশী পানি লাগবে। ধান এর water requirement= evapotranspiration + field loss( seepage &percolation)+ crop water demand (physiological)

কাজেই জাত ভেদে crop water demand একই অন্য parameter গুলো growth duration এর উপর নির্ভর করে। আর স্থানীয় জাতের growth duration যে কোন উফশী জাতের চেয়ে বেশী।
১২৫. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৮
মুহাম্মদ জ িহরুল কাইয়ুম ভূঁইয়া বলেছেন: +++
ধন্যবাদ লেখক। গণসচেতনতা ও একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ক পোষ্ট।
২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:২৩

লেখক বলেছেন:
এত পরে এসে এই পোস্ট পড়ার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।

১২৬. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৯
জে.বি বলেছেন: বাংলাদেশে হাইব্রীড বীজের ডিলার কে?

আমি শুনেছি শাইখ সিরাজ।সত্যি কিনা?
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১১

লেখক বলেছেন: না। তিনি নন। সবচেয়ে বড় ডিলার ব্র্যাক।

১২৭. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:৩৬
হুমায়রা হারুন বলেছেন: খুব তথ্যবহুল পোস্ট। অসংখ্য ধন্যবাদ।
০২ রা এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:৫১

লেখক বলেছেন:
এতদিন বাদে আপনি খুঁজে বের করলেন যখন, তখন এ বিষয়ে দ্বিতীয় পর্বটা লেখার কথা মনে পড়ে গেল। ধন্যবাদ আপনাকে।

১২৮. ১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:৪৭
পুতুল বলেছেন: সর্বাঙ্গে ব্যথা ঔষদ দেব কোথা!

সিমেন্সের ঘুষ কেলাং্কারীর কারনে আমরা জানি যে কোন যোগাযেগ সংস্থপন কারী ব্যক্তি, খালেদা জিয়ার ছেলে কোকোর হাতে ঘুষের টাকা ধরিয়ে দেন। বলাই বাহুল্য তারা বাংলাদেশী লোক ছিলেন। এবং কোকোর কল্যানে সিমেন্স বাংলাদেশে কোন একটা প্রজেক্ট পায়।

দেশে গিয়ে দেখলাম টিভিতে ধানের বিজ্ঞাপন। বিষয়টা আমার কাছে নতুন ছিল, তাই একটু অবাক হলাম। কিন্তু মশার কামড়ে খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম। আর তাই আমার মনে হল; আমাদের দেশে পাঠাকে যেভাবে খাশী করা হয় (প্রজননের অজোগ্য) সে করম একটা মশা পয়দা করলে কেমন হয়! আমার সামান্য মলিকুলার বাওলজি জ্ঞান তার পক্ষে যথেষ্ট নয়, কিন্তু বাকিটা পুরণ করতে পারে এমন লোক হাতের নাগালে পাব।
মশা সমস্যার সমাধান নিয়ে জার্মনে ফিরে পত্রিকার পাতা উল্টে দেখি, কোন বৃটিশ কোম্পানী এই গবেষনা নিয়ে এখন মাঠ পর্যায়ে মালোএশিয়ার কোন গ্রামে আছে।
কিন্তু খাশী করা মশার কথা শুনে গোষ্ষা করে গ্রামের লোক বিজ্ঞানীদের বিতারিত কেরেছে।
বলাই বাহূল্য এই মাট পর্যায়ে বা একেবারে প্রকৃতিতে গবেষণাগারের মশা ছেড়ে দেয়ার কোন ছাড়পত্র পশ্চিমের কোন দেশ থেকে তারা পায় নি। তাই মালোএশিয়া। তবে তারা ঢাকায় যোগাযোগ করলে সফল হত। কারণ ঢাকার মানুষের প্রাণ মশার উৎপাতে উষ্ঠাগত।

প্রসংগক্রমে এখানে বলে রাখি; পাঠা-র বিচি কেঁটে খাশী করা হয়। আর মশা বা তার চেয়ে ক্ষুদ্র প্রাণীর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঘটে বায়ো টেকনোলজিতে। এ ভাবেই উদ্ভীদের ক্ষেত্রেও এবং হাইব্রীডও এর রকম বিচি হীন পাঠা বা খাশী।

এই সব ক্ষেত্রে কোন একটা জীন-কে বিশেষ কাজের জন্য খোজা হয়। হাইব্রীড মানে ফলন বারে এমন কোন জীন, উদ্ভিদের মূল জিনের সাথে জুড়ে দেয়া হয়। জদি অতিরিক্ত কাজের জন্য মানুষ তার যৌনাং্গকে তৃতীয় একটা হাতে রুপান্তরিত করে তাহলে প্রজনন কী ভাবে করবে।

আর হাইব্রীড বীজের ক্ষেত্র উৎপাদকদের কাছে সেটা আরো বড়ো আর্শীবাদ। প্রতি বছর চাষীর কাছে তারা নতুন বীজ বিত্রি করতে পারবে।

অথচ ইউরুপে কঠোর নিরাপত্তায় এসব গবেষনা হয়। এত্তো বীজ এখানে কোন অবস্থাতেই বিত্রি করা সম্ভব নয়। এখানে লোকেরা আরগানিক ফুড আহার করে। এসব আরগানিক ফুদে পোকা-মাকড়ের আক্রমন থেকে রক্ষার জন্য কীট নাশক ব্যাবহার নিশিদ্ধ।

এর কারনও যথেষ্ট। ধরি চাষীর হাইব্রীড ধান থেকে এক মুঠো ধান কোন কারণে যে কোন জমিতে ছিটিয়ে পড়ল। ধান পচে গলে গেল। এখন রইল শুধু সেই খাশী করা জিন। সেটা অন্য কোন প্রাণী বা উদ্ভিদে প্রবেশ করতে পারে। এবার ভেবে দেখুন ফলাফলটা কী হতে পারে। এই সব কারণ বিবেচণা করে যারা হাইব্রীড বীজ আমাদের কাছে বিক্রি করে, তারা আর্গানিক ফুড খায়।

বায়ার কম্পোনীর সব রকমের কৃষি কাজে ব্যাবহার যোগ্য রাসায়নিক ইউরুপে নিশিদ্ধ। এত টাকা খরচ করে উৎপাদিত পণ্য এখন বিক্রি করবে কোথায়?
তারা খুজবে আমাদের মত অরক্ষিত রাজ্যের কোকোর মত রাজ কুমার। এভাবেই হাইব্রীড ধানের বিজ্ঞাপণ চলে আমাদের টিভিতে।

আর আমাদের সর্বনাশ ডেকে আনা কিছু লোক, যারা হাইব্রীডের দালালি করে। স্কিন ক্যান্সারের কারণে এখানে সোলারিয়াম উঠে যাচ্ছে। ঢাকায় এই বিজ্ঞাপনটাও দেখেছিলাম। এখানো লোকে কলো হতে চায়, আমাদের দেশেও কি তাই? কিন্তু সোলারিয়ম দিয়ে শুধু কালোই হওয়া যায়। জেমন হাইব্রীড দিয়ে আমাদের সব প্রকৃতিক (উদ্ভিদ-প্রণী) সম্পদকে খাশী করা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
দাঁত থাকতে দাঁতের মর্জাদা বাঙ্গালী....

১২ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:৩৪

লেখক বলেছেন:

পুতুল সমায়াভাবে আপনার লেখার বিস্তারিত প্রতিউত্তরে গেলাম না, শুধু এটুকু বলে রাখি- আপনার এই লেখাটুকু আমার পোস্টকে সমৃদ্ধ করেছে।

এবার আমি নিশ্চিত করেই মনস্থির করছি-লেখাটার দ্বিতীয় পর্ব খুব শিগগিরই লিখতে পারব। আশা রাখি সে সময় আপনার এমন ঝাঁঝালো মন্তব্যে আমার পোস্ট সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।

শুভকামনা পুতুল

অ.ট. সচলে একবার খুলনার "আঠারো বাকিয়া নদী" নিয়ে একটা পোস্ট দেখেছিলাম, সেটি কি আপনার ছিল?

১২৯. ১২ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:৩১
পুতুল বলেছেন: না মঞ্জু ভাই, সেটা আমার ছিল না!
১২ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৩:২২

লেখক বলেছেন:
আচ্ছা।তাহলে অন্য কেউ। মনে করতে পারছি না।
পোস্টটার কথা এখনো মনে আছে। সেই নদীটা আমার অনেক স্মৃতিবহুল......

১৩০. ২০ শে এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৫:৪১
শয়তান বলেছেন:

হাইব্রিডের পর এবার সুপার হাইব্রিড আর অ্যারোমেটিকস

সুপার হাইব্রিড আর অ্যারোমেটিকস রাইসের পরীক্ষামূলক আবাদ চলছে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট আর টাঙ্গাইলের মধুপুরে। সরাসরি বিএডিসি ও কৃষকদের তত্ত্বাবধানে চলছে এসব ধানের চাষ। দেশীয় সুগন্ধি ধানের গড় উৎপাদন যেখানে মাত্র চার টন, সেখানে হাইব্রিড এসব জাতের উৎপাদন হবে ১০ টনের ওপরে। আর এ বীজের ব্যবসা নিয়ে মাঠে নামছে পারটেক্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পারটেক্স অ্যাগ্রো। বাণ্যিজিকভাবে বীজ বাজারজাতকরণের জন্য পারটেক্স অ্যাগ্রো আগামী বছর বীজ প্রত্যায়ন এজেন্সির কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠাবে। দুই বছর ট্রায়াল শেষে প্রচলিত ধানের চেয়ে ২৫ ভাগ বেশি ফলন হলে জাতীয় বীজ বোর্ড কৃষকদের মাঝে এ বীজ সরবরাহের অনুমতি দেবে। ইতিমধ্যে এ বোর্ড প্রায় ৫০টি হাইব্রিড বীজের অনুমোদন দিয়েছে। তবে এর আগে এসিআই ভারত থেকে হাইব্রিড আলোক ধানের বীজ আমদানি করলেও তা দেশের পরিবেশে ভালো ফলন হয়নি। এর চাষ করে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষের বেশিরভাগ ভাতকে প্রধান খাদ্য বিবেচনা করে। এ সংখ্যা আবার এশিয়াতে সর্বাধিক। প্রচলিত চাষ প্রদ্ধতিতে বিশ্বজুড়ে এতো মানুষের ভাতের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। তাই কৃষি গবেষকরা সনাতন চাষ প্রদ্ধতিতে এনেছেন আধুনিকতা। উদ্ভাবন করেছেন উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান। সেই সঙ্গে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে সুগন্ধি চালের ওপর। আমাদের দেশে প্রচলিত সুগন্ধি চালগুলো হচ্ছে কালিজিরা, চিনিগুঁড়া, বাদশাভোগ, দুলাভোগ, কাটারীভোগ, রাঁধুনীপাগল, জটাবাশফুল, কুলশীমালা, বিআর-৫, বিআর-৩৪, বিআর-৩৭ ও বিআর-৩৮। এসব দেশীয় জাতের গড় উৎপাদন চার থেকে পাঁচ টনের মতো। অথচ ভারতের জেকে এগ্রি জেনেটিকসের জেকেআরএইচ-১২২০ জাতের গড় উৎপাদন হবে প্রায় ১০ টন। ফলে এ ধরনের ধানের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ রয়েছে। ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কন্ট্রোল অ্যাক্ট ১৯৫০-এর ৩(১) ধারায় গত বছর প্রায় ৫০ কোটি টাকার সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয়। অথচ এ সময়ে বাংলাদেশে প্রায় ৬০ কোটি ডলারের চাল আমদানি করে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রাণ গ্রুপ বছরে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন চাল রপ্তানি করে। অ্যারোমেটিক চাল মূলত আমেরিকা, বৃটেন, মিডলইস্ট ও সাউথইস্ট এশিয়ার দেশগুলোতে রপ্তানি হয়ে থাকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের বর্তমানে উৎপাদন ধরে রাখতে পারলে খুব একটা খাদ্য সঙ্কট দেখা দেবে না। এ রকম পরিস্থিতিতে সুগন্ধি ধানের আবাদ বাড়িয়ে দিয়ে তা রপ্তানি করা যেতে পারে। এদিকে চীনের বসিমা হাইব্রিড সেন্টার থেকে সংগ্রহ করা বিএসএল-০৯০৯ জাতের ধানটি সুপার হাইব্রিড ধানে রূপ নিচ্ছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। এ ধানটি মধুপুর বিএনডিসির ট্রেনিং ইন্সটিটিউটে চাষ করা হয়েছে। এ ধান সম্পর্কে মধুপুর বীজ উৎপাদন খামারের উপপরিচালক শহীদুল ইসলাম এ জাত সম্পর্কে বলেন, অন্যান্য হাইব্রিডের চেয়ে অন্তত ১০ দিন আগে এ ধানটি পেকে যাচ্ছে। এবং ফলন ১০ টনের বেশি হবে। এ ধানের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সহিষ্ণু এ জাত দেশের হাওর অঞ্চলে চাষ করে কৃষকরা বেশ লাভবান হতে পারবেন। এর আগে সুপার হাইব্রিড বীজ ২০০৬ সালে বিএডিসি দেশে আমদানি করলেও তার প্রসার খুব একটা বাড়েনি। তবে চলতি বছর কয়েকটি এলাকায় এ জাতের আবাদ হয়েছে। পারটেক্স অ্যাগ্রো চীন থেকে সাতটি লাইন আমদানি করলেও দেশের কৃষি পরিবেশে বিএসএল-০৯০৯ জাতটিই সবচেয়ে ভালো ফলন দিয়েছে। পারটেক্স অ্যাগ্রোর নির্বাহী পরিচালক ও বিএডিসির সাবেক চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান বলেন, অ্যারোমেটিকস রাইস বেশ জনপ্রিয় হবে। কারণ এর আগে এ ধরনের হাইব্রিডের কোনো জাত বাংলাদেশে আসেনি। এছাড়া এ জাত প্রতিবেশী দেশ ভারতের হওয়ায় সেখানকার কৃষির প্রতিবেশের সঙ্গে আমাদেরও আবহাওয়ার বেশ মিল রয়েছে। ফলে এটি পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম এবং সার ও কীটনাশক ব্যবহার কম করলেই হবে। তিনি আরো জানান, অন্যান্য হাইব্রিড ১৪০ থেকে ১৫০ দিন সময় লাগলেও এ ধান ১২৫ দিনের ঘরে উঠবে। এরপর কৃষকরা আগাম আমন করতে পারবে, আলু বা গম করতে পারবে। তাছাড়া বোরো পাকার শেষদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থাকে বেশি। তাই ১০ থেকে ১৫ দিন আগে ফসল ওঠাতে পারলে ঝুঁকি অনেক কমে যাবে। এ বিষয়ে হালুয়াঘাটের আমতৈল ইউনিয়নের গাতী গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, এ বছর তিনি অ্যারোমেটিকস রাইস আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, অন্য ধানের বাজার দর কম থাকলেও এ সুগন্ধি ধানের বাজার চড়া থাকবে। তাছাড়া এ ধান চাষে তার ব্যয় অনেক কম হয়েছে। সরকার দেশের মোট বীজের চাহিদার মাত্র ১৭ ভাগ সরবরাহ করে থাকে। বাকি বীজ বেসরকারি ও কৃষক পর্যায় থেকে সরবরাহ করা হয়। তবে বিএডিসি ২০১০ সালে সাড়ে ১৯ হাজার টন এবং ২০২০ সালের মধ্যে ৩০ হাজার টন বীজ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আর এটা সম্ভব হলেও বিএডিসি চাহিদা ৩০ ভাগের বেশি সরবরাহ করতে পারবে না।
১৩১. ২১ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:১৩
মনজুরুল হক বলেছেন:

আপনার এই লেখাটা দিয়েই হাইব্রীডের দ্বিতীয় পর্ব দেবার আশা করছি। অনেক উপকার করলেন দাদা।

এটা বোধহয় আপনার হাতে দেখা সবচে' বড় কমেন্ট! ধন্যবাদ দাদা। আমি তো ভুলেই গেছিলাম!!
১৩২. ১৫ ই জুন, ২০১০ সকাল ১০:০২
দ্বিজু বলেছেন: (মন্তব্য অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে বলে আলাদা পোস্ট দিতে হলো- ক্ষমা করবেন)

Click This Link
১৩৩. ১৫ ই জুন, ২০১০ রাত ১০:৪২
পথিক!!!!!!! বলেছেন: বিষয়টা নিয়ে একটু একটু ভাবছি
০২ রা আগস্ট, ২০১০ রাত ২:০২

লেখক বলেছেন: সম্ভবত এখন আর ভাবনার অবস্থানে নেই বিষয়টা। সামনে যে দিনগুলি আসছে তাতে করে আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে এর শিকার হতে যাচ্ছি।

আমি ব্লগে একেবারেই অনিয়মিত হয়ে গেছি। এই লেখাটার দ্বিতীয় পর্ব লেখা ভীষণ জরুরি হয়ে উঠেছে। আশা করি কিছুদিনের মধ্যেই লেখাটা শেষ করতে পারব।

ভাল থাকবেন পথিক।

 

মোট সময় লেগেছে ১.৩১০৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারিদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয়,যারা মানুষ ।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ