অনুসন্ধান:
cannot see bangla? সাধারণ প্রশ্ন উত্তর বাংলা লেখা শিখুন আপনার সমস্যা জানান ব্লগ ব্যাবহারের শর্তাবলী transparency report
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারিদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয়,যারা মানুষ ।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

জনপ্রিয় মন্তব্যসমূহ

আমার প্রিয় পোস্ট

যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরানী প্রকাশ্য পথে হত্যার প্রতিশোধ চায়না আমি তাদের ঘৃণা করি

এই সব 'আন্দোলনউৎসবের'চোরাগলিতে আমাদের হারানো ভবিষ্যৎ

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২৪ |

শেয়ারঃ
0 0



# মানব সভ্যতার ইতিহাস শ্রেণীসংগ্রামের ইতিহাস........কার্ল মার্কস।
# সর্বহারা যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ই একমাত্র যুদ্ধ থামাতে পারে...ভ.ই. লেনিন।
# যুদ্ধ হচ্ছে রক্তপাতময় রাজনীতি.................................মাও সে তুং।
# হয় তুমি শত্রুকে হত্যা করবে নইলে শত্রু ই তোমাকে হত্যা করবে..চারু মজুমদার।
# প্রতিটা কুর্দির রক্ত একদিন মরুভূমিতে রক্তের প্লাবন বইয়ে দেবে........ইবরাহিম কুরুপাক্কায়া।
# তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব...নেতাজী সুভাষ বোস।
# ওই লাল দালানটি নয়,ওর ভেতরে বসা হায়য়ানকে পুড়িয়ে দাও.....সরোজ দত্ত।

এই প্রেক্ষাপটে আমাদের অবস্থান কোথায়?সাতচল্লিশ,বায়ান্ন,একাত্তর এর অগ্নিঝরা সেই সময়গুলো পার করে একবিংশ শতাব্দীর গোঁড়ায় এসে আমাদের অবস্থান কি?
একটা হাত গুলি লেগে উড়ে গেছে,মাথার হলেমেটটা উড়ে গেছে,তখনো ওই বাকি হাতে স্টেনগান চালিয়ে যুদ্ধ জয় করেছে আমাদের চাষার ছেলেরা! সারা রাত পাকিস্তানী কুত্তাদের ক্যাম্পে লাইন দেওয়া শুয়োরদের একটার পর একটাকে তীব্র অপার্থীব কষ্টে সহ্য করেও মুক্তিযোদ্ধাদের লুকিয়ে থাকা ঠিকানা বলেনি আমার মা,আমার বোন! বৃদ্ধ অসহায় পিতা তার একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেটিকে ঠেলে দিয়েছেন যুদ্ধের ময়দানে! যুদ্ধে বাবা হারা অনাথ শিশুটি পথেঘাটে লাথি গুতো খেয়ে বড় হতে হতে আর বাড়েনি! শিক্ষিত পেশাদার পাকিস্তানী হায়নাদের গুহায় প্রাণ হাতে করে নির্ভিক ঢুকে গেছে গ্রাম্য গোবেচারা ছেলেটি! নববিবাহিত স্ত্রীর বাহুডোর খুলে সমরে যেতে মন টলেনি যে তরুনের, নিজের দুইটা পা গোলার আঘাতে উড়ে যাওয়ার পরও যে যোদ্ধা ডাক্তারকে পাশের আহতকে দেখিয়ে দেয় সেই বীরের উত্তরসূরীদের আজ কি নিদারুণ অসহায়ত্ব! কি ভয়ানক পরাজয়! কি নির্বীয্য আত্মসমর্পন!

আমেরিকান ইয়াঙ্কিরা অন্য জাতিকে কি দিয়েছে জানি না। তবে আমাদের দিয়েছে 'গে আর লেসবিয়ান' হওয়ার দাওয়াই। আর শিখিয়েছে কিভাবে প্যান্টি-বিকিনি,শর্টপ্যন্ট পরে,নাভীতে রিং লাগিয়ে বড়গলা গেঞ্জি পরে ঢোল ডগর,গিটার,স্যাক্সোফোন নিয়ে বিশ্বায়নের প্রতিবাদের নামে 'মুভমেন্ট ফেষ্টিভ্যাল' করতে হয়।

যে ক্ষুদীরাম মাত্র ষোল বছর বয়সে ফাঁসীর মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্বধীনতার জন্য হাসতে হাসতে প্রাণ দেয়,যে ইলা মিত্র যৌনাঙ্গে গরম ডিমের অসহ্য জ্বালা সহ্য করেও বিচ্যুত হয়না,সেই আত্মত্যাগী বীরের বংশধররা এখন আন্দেলনউৎসব পালন করে! পেট্রোডলার আর ভিক্ষের টাকার প্যারাসাইট জেনারেশন শহীদ দিবসকে এখন 'ভাষাউৎসব' করে ফেলেছে! গার্মেন্ট শ্রমিকের পেটে পেটে নাজায়েজ সন্তান পয়দাকারী এক্সিকিউটিভ জেনারেশন এখন বেনিয়া কালচারের বেশ্যাবাড়িতে আমার মা-বোনকে বেশ্যা বানিয়েছে! নিজেরা বেশ্যার দালালহয়েছে! এইসব হারামির বাচ্চারা স্বাধীনতার এজমালি ফসল ঘরে তুলেছে,তাদের সাথে ওরাও সেই একাত্তরের বেজন্মা পাকিস্তানী বীজের আওলাদরা স্বাধীনতা ইনক্যাশ করেছে! ঘোৎ ঘোৎ করা শুয়োরের বাচ্চারা আমাদের সকল পবিত্রতায় পেচ্ছাপ করে দিয়েছে। আর ?

আমাদের নির্বীয্য ধামাধরা দালাল লেসবিয়ান আর গে-রা,কর্পোরেট দোকানে শরীর-আত্মা বিক্রি করা দু’পয়সার পণ্যেরা,বেজন্মা বুদ্ধিব্যাপারীরা,মৌশুমী আন্দোলনপিয়াসীরা,পেশাদার দেশপ্রেমিকরা পর্বে পর্বে মেকি কান্নার ভড়ং করছেন, গলার রগ ফুলিয়ে চিৎকার করছেন,বহুজাতিক ভাড়ার টাকায় বেনিয়া স্পন্সরে মাখো মাখো বাণী দিচ্ছেন,চ্যানেলে বসে কোলাবরেটর দের ধরে ধরে স্মৃতি ফেনানো আবেগ ছড়াচ্ছেন।

তার পরের প্রজন্ম কানে দুল,ভ্রুতে রিং,নাভিতে রিং লো-কাট জিন্স,সর্ট টি-সার্ট আর বাহুতে উল্কি এঁকে আবাহনী সঙ্গীতের মত আন্দোলনউৎসব করছেন! ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে,উদীচীর সমাবেশে বোমা মেরে মানুষ হত্যা হচ্ছে, রমনায় রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়া হচ্ছে তার প্রতিবাদে এরা গীর্জায় বসে হাইম গাইছেন,মসজিদে বসে ফরিয়াদ করছেন,মন্দিরে শনি কাটানোর পূজো দিচ্ছেন! নির্লজ্জ বেহায়ার মত সারা গায়ে রং মেখে সঙ সেজে রাস্তায় ম্যুরাল হচ্ছেন, মুখে কালো কাপড় বেঁধে ছেনালি ভড়ং করছেন,আর চ্যানেলগুলোর বেটাকম-হ্যান্ডিক্যাম তা ধারণ করে আরো নির্লজ্জ টেলিকাস্ট করছেন! হাহ্ !

অথচ মাত্র এক যুগ আগে আমাদের প্রজন্ম সেলিম-দেলোয়ারের হত্যার প্রতিশোধে রাজপথ কাঁপিয়েছে। আমাদের সবচে’নিরীহ ছেলেটিও পুলিশ ভ্যানে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিঘাত করেছে। সেসময় যারা ফুল আর ন্যাকা ন্যাকা সঙ্গিতে কেত্তণ গাইত আজো তারা কেত্তণ গায়। কর্পোরেট দালালী করে। এ্যাম্ব্যাসীর দালালী করে। হুইস্কির কক খুলে শহীদ দিবস সেলিব্রেট করে! কার্টুন একে মোলবিদের পা ধরে ক্ষমা চায়! সৌদি বাবারা দেখলে ভিক্ষে বন্ধ করে দেবে বলে লালনের ভাস্কর্য ভেঙ্গে যায়। পূর্বাণী হোটেলে বিদেশীদের দেখানোর জন্য সারসভাস্কর্য ভেঙ্গে যায়।শিশুপার্কের সামনের দূরন্ত সেই কবেই ভেঙ্গে যায়। নারায়নগঞ্জে ভাস্কর্য ভাঙ্গার জন্য আলটিমেটাম দেওয়া হয়!

আর আমাদের নালায়েক হিজড়া মিউ মিউ করা অক্ষম কবিরা লেখেনঃ ‘পরাজিত শকুনরা স্বধীনতার পতাকা খাঁমচে ধরেছে’!! হায় অক্ষম না-পুরুষ না-নারী বৃহন্নলা! আরে শালা পতাকা খামচে ধরেছে তো কি হয়েছে? পতাকা তো জড় বস্তু। আমার সাড়ে চার কোটি মানুষ যে এখনো তিন বেলা ভাত পায় না! আমার আড়াই লাখ গার্মেন্ট নারী যে প্রতি দিন ধর্ষিতা হয় ! আমার তিন কোটি ক্ষেতমজুর যে বছরের ছ’মাস কাজ পায়না!এই ঢাকাতে আমার কুড়ি লাখ মানুষ যে শেয়াল কুকুরের মত মাথাগুঁজে থাকে! আমার সেই আহত,পরাজিত মুক্তিযোদ্ধারা য়ে এখনো কুমির ছানার মত বার বার প্রদর্শীত হয়! আমার বিপ্লবের আগুনে পোড়া ভাইরা যে পথেঘাটে বেঘরে গুলি খেয়ে মরে! জোব্বা আচকান ধারীরা যে আমার সাথীদের সন্ত্রাসী অপবাদে দিনে দুপুরে হত্যা করে,লাশগুলো যে ভাঙ্গাচোরা পড়ে থাকে.....তার কি বিচার চেয়েছেন হে কবিরা? পতাকা খাঁমচানো কি এসবের চেয়েও ভয়ংকর? বেশতো কেন উঠে এলেন না হে কবি-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী বিবেকবান সম্প্রদায়? কেন দুইচারটা জোব্বা ধরে শুইয়ে দিলেন না? কেন ভাস্কর্য ভাঙ্গার প্রতিবাদে তাদের মাথা ভেঙ্গে দিলেন না?

আমরা জানি কারা আমাদের শান্তিবাদী হিজড়া বানিয়েছে। আমরা জানি কারা সহিংস আক্রমনের বিরুদ্ধে অহিংস চৈতন্যদেবের পদাবলী কেত্তন গাইতে শিখিয়েছে। জানি । জানি। জানি।আমার একদিন ঠিকই প্রতিশোধ নেব। আমার মৃত্যুর আগমুহূর্তে হলেও নেব। এই সব শুয়োরের বাচ্চাদের ঠিক সেই ভাবেই প্রতিদান দেব যে ভাবে তারা এখন দিচ্ছে। আমি জানি সব কিছু শেষ হওয়ার পর আবার শূণ্য থেকেই শুরু করতে হয়। আমি তা-ই করব। কনভয় যাত্রা শুরু করবে একজনে। অ্য ওয়ান ম্যান আর্মি যাত্রা শুরু করেছে। সংখ্যা বাড়বে। বাড়বেই। সাথীরা চোখ মেলো,সাথীরা উঠে দাঁড়াও।সাথীরা মিছিলে সামিল হও। পেছনে গুমগুম গভীর শব্দ কি শুনতে পাচ্ছ? শুনতে পাচ্ছ না পায়ের তলায় মাটির কেঁপে ওঠার শব্দ? কান পাত, কান পাত, কান পাত, শব্দ তোমার খুব কাছে চলে এসছে.......

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): আন্দোলন ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধসমসাময়ীক রাজনীতি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:০১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 


২২টি মন্তব্য

 

সকল পোস্ট     উপরে যান

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফমর্। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

 

© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি | বিজ্ঞাপন