আমার প্রিয় পোস্ট

যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরানী প্রকাশ্য পথে হত্যার প্রতিশোধ চায়না আমি তাদের ঘৃণা করি

ইসলামী বিপ্লবের নামে জঙ্গি কালসাপদের ফণা এখনো উদ্ধত

০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:০৫

শেয়ারঃ
0 0 0



২০০৪ সালের ১ এপ্রিল। হঠাৎ করে হাতে বল্লম-হাসুয়া, রামদা, লাঠিসোটা আর আগ্নেয়াস্ত্র, কোমরে ও মাথায় সবুজ ফিতা বেঁধে একদল জঙ্গি সন্ত্রাসীর আবির্ভাব ঘটে রাজশাহীর বাগমারায়। পলাশী গ্রামে কৃষি ক্ষেতে কাজ করছিলেন দরিদ্র কৃষক ও আওয়ামী লীগ কর্মী ওয়াসিম ওরফে ওসমান বাবু (২৭)। বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা ওসমানকে কুপিয়ে আহত করার পর জবাই করে হত্যা করে। তখন বেলা ১১টা। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর জঙ্গিরা আনন্দ-উল্লাস করতে করতে বাগমারা থানার দিকে চলে যায়। এদিন থেকেই বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে শুরু হয় কথিত সর্বহারা নিধন অভিযান। এরপর বাংলা ভাই বাহিনীর সর্বহারা বিরোধী সশস্ত্র অভিযান রাজশাহী জেলাধীন বাগমারা, পুঠিয়া, নাটোরের নলডাঙ্গা, নাটোর সদর, নওগাঁর আত্রাই, রানীনগর উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে ত্রাসের রাজত্ব।

সেই শুরু। এর পর দিনের পর দিন ওই অঞ্চলে চলেছে ত্রাসের রাজত্ব। সেই রাজত্বের সৈন্যদের দেখে যে কারো মনে হতে পারে এটা বুঝি বাংলাদেশ নয়। হয় আফগানিস্তান অথবা যুদ্ধবিক্ষুব্ধ ইরাক, কিংবা পাকিস্তানের সীমান্ত প্রদেশ। যে কোন বিরুদ্ধবাদী অথবা এমনি এমনিই যে কারো ওপর সন্দেহ হলে তাকে ‘সর্বহারা’ নাম দিয়ে দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে ধরে এনে নিজেরা তাৎক্ষণিক বিচার করে প্রকাশ্যে হত্যা করে তার লাশ হয় গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হতো অথবা মাঠে ঘাটে ফেলে রাখা হতো। সাধারণ মানুষ দেখতো তাদের কোন এক আত্মিয় মরে পড়ে আছে!

যথারীতি পুলিশ আসত। পুলিশ তাদের চিরচেনা গৎবাঁধা কাজগুলো করে যেত। একটা নামকাওয়াস্তে ফাইল খোলা হতো, এবং একসময় সেই ফাইল বন্ধও হয়ে যেত! তার পর পদ্মার জল গড়িয়ে অনেক দূর চলে যেত। এই রেগুলেশন ওয়ার্কের কোন ব্যতিক্রম হতো না। মিডিয়া তাদের নিজস্ব প্রতিনিধি পাঠিয়ে খবর সংগ্রহ করে কাগজে ছাপত। আর তৎকালিন জোট সরকারের প্রধান কাজ ছিল বাংলা ভাইয়ের অস্তিত্ব অস্বীকার করা। গাছের ডালে পা ওপরে মাথা নিচে ঝুলতে থাকা লাশগুলো বেশ ‘সন্মানজনকভাবে’ সমাধিত হতো।

যারা সে সময়ে এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করতেন তাদের নানাভাবে ধিক্কার দেওয়া হতো। দাড়ি আর গোঁপের ফাঁকে নিজামী স্মিত হেসে চোঙার সামনে ঘোষণা দিত-‘বাংলা ভাই বলে কেউ নেই, সবই মিডিয়ার সৃষ্টি’! নিজামীর সেই মিথ্যাচারকে আরো মজবুত করে স্টাবলিষ্ট করার কাজে নিয়োজিত থাকত বিএনপির বাঘা বাঘা সব মন্ত্রী নেতা-নেত্রীরা। কেউ কেউ এমনও বলতো যে, বাংলা ভাই তো ভাল কাজ করছে! আমরা বুঝতে পারতাম একটা সমাজের কোন স্তর পর্যন্ত পঁচে গেলে সেই সমাজের তথাকথিত কর্ণধাররা এই রকম মৃত্যুতামাশা করতে পারে!

আমরা একনজরে দেখে নেই সেই ঠান্ডা মাথার রাষ্ট্রীয় হত্যাযজ্ঞের শিকার মানুষগুলো কারা? প্রায় এক বছরের অভিযানে ওই বাহিনীর সন্ত্রাসীরা উল্টো করে ঝুলিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালিয়ে ৩২ জন মানুষকে হত্যা করে। নির্যাতনের মাধ্যমে ২ শতাধিক লোককে পঙ্গু করে দেয়। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কমপক্ষে তিন হাজার মানুষ। জনপ্রতিনিধিসহ বহু মানুষ হন ঘরবাড়ি ছাড়া। বাংলাবাহিনী ধরে নিয়ে যাওয়ার পর
ধর্মীয় সংখ্যালঘু তরুণ সুফল ও সুশান্ত,সাজুরিয়া গ্রামের আবু তালেব ও বারুইহাটি গ্রামের শহিদুল ইসলামসহ নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১২ জন লোক। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে এরা নিখোঁজ রয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, নিখোঁজ সকলকেই হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনাসমূহের সঠিক ও কার্যকর তদন্ত হয়নি। হয়নি কোনো বিচার। উল্টো নিহতের পরিবার ও নির্যাতিতরা নানান হয়রানি আর বিড়ম্বনার মুখে পড়েছেন।

নিহতদের তালিকা
টিএফটির রিপোর্টে বাংলা ভাই বাহিনীর নির্যাতনে নিহত ৩২ জনের মধ্যে পরিচয় মিলেছে যাদের তারা হলেন ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল
ওয়াসিম ওরফে ওসমান বাবুকে, ১১ এপ্রিল (১১ এপ্রিল নির্যাতনের পর ১৭ এপ্রিল নিহত) বাংলা বাগমারার কনোপাড়ার গোলাম
রব্বানী মুকুলকে ওপরে লটকিয়ে, ২০ এপ্রিল দূর্গাপুরের আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আজাহার আলীকে, ২২ এপ্রিল
নওগাঁর রানীনগরের বেলঘরিয়ার মোশাররফ হোসেন, নাটোরের পীরগাছার সাইফুর, ২৩ জুলাই নওগাঁ জেলার আত্রাইয়ের কাশিয়াবাড়ির দীপংকরকে একইভাবে, ২৭ এপ্রিল নওগাঁর আত্রাই কাশিয়াবাড়ির দীপংকর রায় ও ইউপি দফাদার, এপ্রিল মাসেই দূর্গাপুরের আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আজাহার আলীকে নির্যাতন করলে তিনি অসুস্থ হয়ে গত বছরে মৃত্যুবরণ করেন, ১ মে আত্রাইয়ের ভোঁপাড়ার অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য শেখ ফরিদ, অজ্ঞাত ৩ ব্যক্তি, রাজশাহীর বাগমারার নীমপাড়ার রাবেয়ার ১৩ মে ধর্ষণের কারণে ১৪ মে আত্মহনন, ১৫ মে বহুল আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা ও সর্বহারার নেতা নওগাঁর রানীনগরের সফিকপুরের আবদুল কাইয়ুম বাদশাকে হত্যার পর লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা, ২৪ জুন রানীনগরের সিম্বা গ্রামের আওয়ামী লীগ ও সর্বহারা নেতা খেজুর আলীকে টুকরো টুকরো করে কেটে, রানীগরের বড়গাছার আফজালকে, ৩০ জুন গাছে ঝুলিয়ে বর্বর নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয় বাগমারার মাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ইয়াসিন আলী, ২৫ জুন নাটোরের বাসুদেবপুরে অজ্ঞাতনামা ৩ ব্যক্তিকে হত্যা, ১৪ নভেম্বর রানীনগরের ভেটি ক্যাম্পে ছাত্রলীগ নেতা জিয়াউল হক জিয়া, ২৭ নভেম্বর বাগমারার তাহেরপুরের বিষ্ণুপুরে বাসদ (মাহবুব) নেতা আলী আকবরকে, ২০০৫ সালের ২২ জানুয়ারি বাগমারার শ্রীপুরে আওয়ামী লীগ নেতা মাহাবুরকে হত্যা ও আওয়ামী লীগ নেতা জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন মৃধাকে হত্যা প্রচেষ্টা চালানো হয়। এছাড়া বাংলা ভাইয়ের নির্যাতনের শিকার হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া বৃদ্ধ রহিমা বেওয়া কিছুদিন আগে মারা গেছেন(ভোরের কাগজ, ৪ এপ্রিল,২০০৯)।

বাংলা ভাইকে প্রকাশ্যে মদদ দিত সেই সময়ে রাজশাহীর এসপি মাসুদ মিয়া। এই মাসুদ মিয়াকে মিডিয়া অনেকভাবে প্রশ্ন করার পরও সে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার যেমন করত না, তেমনি অস্বীকারও করত না। এই অস্বীকার না করার পেছনে তার যে ঔদ্ধত্ব সেটা ওপর মহলে জানাজানির পরও তার টিকিটি কেউ ছুঁতে পারেনি। তাকে কেউ জবাবদিহি করাতে পারেনি। তারই আষ্কারায় রাজশাহী শহরে দিনেদুপুরে মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মটরসাইকেল বহর নিয়ে বাংলা ভাইয়ের ক্যাডাররা মিছিল করেছে। উল্লাস করেছে! ভয়ে শহরের কেউ টু শব্দটি করতে পারেনি। প্রশাসনের এমন নির্লজ্জ আচরণে সে সময় সারা দেশ স্তম্ভিত হলেও জোট সরকারের মহামহিমদের তাতে কিছুই যায় আসেনি। তারা শেরেবাংলানগরের জল ঘেরা ইমারতের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে বসরাই গোলাপে নাক ডুবিয়ে একপাশে হেলে বাদশাহী ঢঙে বলে গেছেন-‘দেয়ার ইজ নো বাংলা ভাই, টেক ইট ইজি!’

অনেক পরে যখন নিজেদের পোষা কালসাপ তাদেরই ছোবল মারতে চেয়েছে তাদের দেওয়া স্বাধীনতাকে যথেচ্ছা ব্যবহার করে মাথায় উঠে পেচ্ছাপ করে দিতে চেয়েছে, এবং ইয়াংকি গডফাদাররা যখন তাদের কায়েমী স্বার্থ হাসিলের মাহেন্দ্রক্ষণ সমাগত মনে করেছে, আর নেপথ্যে নির্দেশ দিয়েছে, শুধু মাত্র তখনই সরকার বাংলা ভাই ফাইলটা ক্লোজ করে দিতে চেয়েছে। এবং তার পরের ইতিহাস আমরা জানি। টোটাল গেমটা খেলা শেষে কে কয় গোল খাবে, কাদের জার্সি খুলে নেওয়া হবে সব খোপেখাপে বসে যাওয়ার পর তড়িঘড়ি বাংলা ভাই এর গ্রেফতার, তার ভাবগুরু শায়েখ আব্দুর রহমান গ্রেফতার এবং রাষ্ট্রের কিছু অতি ব্যবহার্য্য নিয়ম কানুন দ্বারা তাদের নিকেষ করার ঘটনাও আমাদের জানা আছে। যেটি জানা নেই তা হলো এখন তাদের কি অবস্থা?

বাংলা ভাইকে যারা মদদ দিত তারা কারা?
রাজশাহীর বহুল আলোচিত তৎকালীন এসপি মাসুদ মিয়া (জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে চাকরিচ্যুত), রাজশাহীর পুঠিয়া-দূর্গাপুর থেকে নির্বাচিত বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাদিম মোস্তফা, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী বর্তমানে এলডিপি নেতা আলমগীর কবির, সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী রহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাবেক ডাক ও টেলিযোগোযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের সরাসরি মদদ ও সহযোগিতা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলা ভাই ও জঙ্গি তৎপরতার নেপথ্যে জামাত-শিবিরের হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া জামাতের আমির সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আলী আহসান মুজাহিদের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ রয়েছে। এদের অনেকেই এখনো বহাল তবিয়তে সুখে শান্তিতে দিন গুজরান করে চলেছেন। শুধু মাত্র এসপি মাসুদ মিয়া ছাড়া আর কারোরই তেমন কোন শাস্তি হয়নি।

এখন মহাজোট সরকারের আমল। এই মহাজোট সরকার সেই সময় বাংলা ভাইকে বিএনপি-জামাতের সৃষ্ট বলেছে। বলেছে সরকার বাংলা ভাইকে দিয়ে আদপে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মিদের হত্যা করে রাস্তা পরিষ্কার করতে চায়। আমরা আরো শুনেছিলাম সেই সময় মহাজোটের অনক শরিকদলও ক্ষমতায় গেলে বাংলা ভাই সহ অপরাপর ইসলামী জঙ্গি নির্মূলে বদ্ধপরিকর ছিলেন। তাহলে আমরা ধরে নেব এখন যেহেতু মহাজোট সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতায় বসেছেন সেহেতু বাংলা ভাই বা এই শ্রেণীর ইসলামী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা কি তাই?

বাংলা ভাই এবং শায়খ আব্দুর রহমান গ্রেফতার এবং বিচারে মৃত্যুদন্ড হবার পর পরও কি তাদের সেই আন্দোলন থেমে গেছে? এখনো কি আর কাউকে হত্যা করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে না? হচ্ছে। এই সব কিছুই আগের চেয়ে সামান্য একটু লগুলয়ে ঘটে চলেছে। আর তা করছে জেএমবি-ও অন্য এক ফ্রন্ট হিযবুত তাহরীর।এই যে হিযবুত এরাও চূড়ান্ত বিচারে জামাতেরই আর একটি ফ্রন্ট। এদের ইন্ট্রোগেশন করলে বেরিয়ে আসছে জামাত সংশ্লিষ্টতা। বাংলা ভাই ওরফে সিদ্দিকুর রহমান যেমন এককালে জামাতের সদস্য ছিল, তেমনি বর্তমানের হিযবুতের নেতারাও এককালে জামাত-শিবিরের কর্মি বা সমর্থক বা সাথী ছিল।

বরিশালের একটি কওমি মাদ্রাসায় বিপুল পরিমানে বিধ্বংসী অস্ত্রশস্ত্র আর গোলাবারুদ পাওয়ার পর সরকার সকল কওমী মাদ্রাসাকে নজরদারিতে এনেছে। এই কওমী মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষা নিতে যাওয়া দরিদ্র সাধারণ মানুষের সন্তানেরা কেবল যে মাদ্রাসায় নিরীহ গোছের কিতাবটিতাব পড়ে তা নয়, এদেরকে রিক্রুটমেন্টের প্রধান এলিমেন্টস হিসেবে যারা রিক্রুট করে তারা কিন্তু এই সব নজরদারিতে আসেনি। যে গরিব পিতার আরো গরিব ছেলেটি সমাজের অপরাপর ছেলেদের তুলনায় দ্বীনদরিদ্র দশায় জীবন পার করে তাদের একটা উন্নত জীবন দেওয়া বা সমাজে শক্ত শেকড় গজিয়ে দাঁড়ানোর প্রলোভন দেওয়া খুবই সহজ।এই ছেলেগুলো যখন বুঝতে পারে তার শিক্ষা দিয়ে সে এই দেশের কোথাও বড় বা ভাল কিছুর ভেতর যেতে পারবে না, তখন তার মনের হাহাকারকে পুঁজি বানানো আরো সহজ হয়ে ওঠে। সে তার পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগপ্রাপ্ত ছেলেদের তুলনায় নিজেকে বঞ্চিত ভাবার সাথে সাথে তার ভেতরেও একধরণের ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে।

যারা এই ক্ষোভটাকে সুকৌশলে ব্যবহার করে তাদের ইসলামের নামে জঙ্গি বানাতে থাকে তাদের চিহ্ণিত করার উপায় কি? তাদেরকে নিবৃত্ত না করা গেলে শুধুমাত্র একটি দুটি মাদ্রাসা সীল করে কিংবা কয়েকটি মাদ্রাসা নজরদারি করে যে কোন লাভ হবে না সেটা সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের মাথায় থাকা দরকার। তা না হলে একদল বাংলা ভাইকে নির্মূল করার পর পরই রাবণের মাথা গজানোর মত আর একদল বাংলা ভাই বা আব্দুর রহমান পয়দা হতেই থাকবে। সরকারের এটা খুব গভীর ভাবে ভাবা দরকার যে আফগানিস্তানের সাময়ীক পতনের পর এই অঞ্চলে বাংলাদেশই তালেবান-হিযবুত-হরকতের অভয়াশ্রম। আর সেই অভয়াশ্রমকে আরো মজবুত করে এদেশের সাধারণ মানুষের স্বতসিদ্ধ সহজীয়া ধর্মচিন্তা, যা তাদের জীবন প্রবাহের সাথে ওতোপ্রতভাবে জড়িত। আন্তর্জাতিক জঙ্গি র‌্যাকেটের যে কোন একটা শাখা কেটে দেওয়াই নিরাপদ বাতাবরণ নয়। এটা মনে করার কোন কারণ নেই যে যেহেতু বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় নেই সুতরাং আর কোন দল বা গোষ্ঠি সরকারী মদদে তান্ডব চালাতে পারবে না! এই আত্মপ্রসাদে না ভুগে একেবারে নাড়ি ধরে টান দিতে যত দেরী হবে ততই রাবণের মাথা গজাতে থাকবে। অতএব সাধু সাবধান।


 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): জঙ্গি ;
প্রকাশ করা হয়েছে: প্রবন্ধ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১০ রাত ২:৫০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:৪২

লেখক বলেছেন:
ভাল আছ বিমা? মনডা কিরম?

২. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:১৫
মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেছেন: আমি একটা জিনিস মেলাতে পারিনা তা হল জামাত-বিএনপি কেন জঙ্গিদের টার্গেটে পড়ে না ? তাদের টার্গেট কেন আওয়ামীলীগসহ বামদলগুলো ? তাহলে কি বলা যায়,বিএনপির একাংশ এবং জামাত এদের পিছনে ???
০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:৫১

লেখক বলেছেন: রুবেল এই নূরানী ফুডুডা দেখো......

০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:৫৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দস্যু বনহুর।

৪. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:২২
ধীবর বলেছেন: শিরোনামের সাথে সহমত। দ্বিমত করছি কয়েকটি বিষয়ে, তার একটা হলো, সর্বহারাদের সন্ত্রাস নিয়ে আপনার মনোভাব দেখে। বাংলা ভাইয়ের হাতে নিহত মানুষগুলির কেউ যে সর্বহারাদের সাথে জড়িত ছিল না, একথা জোর দিয়ে কেউ দাবি করছে না। ইসলামের নামে জঙ্গি তৎপরতার সাথে সাথে সর্বহারাদের সন্ত্রাস নিয়েও বক্তিব্য দিলে লেখাটা পরিপুর্ণতা পেত বলেই বিশ্বাস করি।

অফ টপিকঃ ওই অঞ্চলের মানুষেরা বিলক্ষণ জানেন যে, রাজনৈতিকভাবে সর্বহারাদের মদদ দিতেন, ওয়ার্কাস পার্টির নেতা ফজলে হোসেন বাদশা। এই সর্বহারাদেরই গুলিতে এরশাদের সময় আহত হয়েছিলেন মেনন। এখন ওয়ার্কাস পার্টি বর্তমান সরকারের জোটে আছে। সেই সুযোগে যেন গ্রামিণ সমাজ আবারো সর্বহারারা সন্ত্রাসে মেতে না উঠে, সেটা এই সরকারকেই দেখতে হবে।
০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:৪৪

লেখক বলেছেন:
আপনার কাছে বাংলা ভাইয়ের কাউন্টার কিলিংয়ের তথ্য আছে মনে হয় ! ঝেড়ে দিন

৫. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:২৪
আবদুর রহমান (রোমাস) বলেছেন: পোষ্টে ++++

;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;

@মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেছেন: আমি একটা জিনিস মেলাতে পারিনা তা হল জামাত-বিএনপি কেন জঙ্গিদের টার্গেটে পড়ে না ? তাদের টার্গেট কেন আওয়ামীলীগসহ বামদলগুলো ? তাহলে কি বলা যায়,বিএনপির একাংশ এবং জামাত এদের পিছনে ???

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

এটাইতো,,,,,,,,,সব, বিএনপির একাংশ ও জামাতইতো জঙ্গিদের মদদ দাতা!!
০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:৫৫

লেখক বলেছেন: আরো আছে রোমাস....

৬. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:২৬
মনজুরুল হক বলেছেন:

পোস্টে প্লাস কোন সিগনিফিকেন্ট নোটিস নয়। আপসাদের মতামত জানান, কীভাবে এই আপাতঃ হিডেন জঙ্গি সার্চ চালাতে পারে সরকার।

24X7 চ্যানেল যে ব্রেকিং নিউজ দিয়েছে তার সারকথা আমরা বুঝছি তো? আজ জানানো হচ্ছে বাংলাদেশ জঙ্গিদের ট্রান্জিট পয়েন্ট হয়ে উঠছে.......
৭. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:৪৩
পুতুল বলেছেন: "যে গরিব পিতার আরো গরিব ছেলেটি সমাজের অপরাপর ছেলেদের তুলনায় দ্বীনদরিদ্র দশায় জীবন পার করে তাদের একটা উন্নত জীবন দেওয়া বা সমাজে শক্ত শেকড় গজিয়ে দাঁড়নোর প্রলোভন দেওয়া খুবই সহজ।এই ছেলেগুলো যখন বুঝতে পারে তার শিক্ষা দিয়ে সে এই দেশের কোথাও বড় বা ভাল কিছুর ভেতর যেতে পারবে না, তখন তার মনের হাহাকারকে পুঁজি বানানো আরো সহজ হয়ে ওঠে। সে তার পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগপ্রাপ্ত ছেলেদের তুলনায় নিজেকে বঞ্চিত ভাবার সাথে সাথে তার ভেতরেও একধরণের ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে।"

আপনার রোগ নির্নয় ১০০ ভাগ সঠিক। এদের জন্য এতিম খানা বা মাদ্রাসার বিকল্প তৈরী করা হবে মহৈষধ। একটা সমাজের সব রকমের সুযোগ কেবল গুটি কয়েক মানুষ ভোগ করতে গেলে এমন বঞ্চিত জঙ্গী কারখানা তৈরী করা বেশ সহজ।
মোট কথা শোষণ বঞ্চনার বিরোদ্ধে মতবাদ তৈরী করা খুব সহজ। আর আমাদের এক পেশে (রাজ)নীতি তাতে সহায় হয়। কেবল কঠোর আইন বা আরো কঠোর প্রয়োগ দিয়েও তা ঠেকানো কঠিন। যে ছেলে চারিদিকে তাকিয়ে কোন আশার আলো দেখে না, তাকে যে আদর করে পাশে বসাবে সে তার কাছেই যাবে।
তার অন্ততঃ একটা চয়েস থাকুক। মাদ্রাসা বা এতিম খানায় না গিয়ে স্কুলোও যেতে পারে। এমন একটা ব্যাবস্থা রাখলে দেখবেন ধর্মীয় মৌলবাদ আপনা থেকেই কমে যাবে।
লেখাটি ভাল লেগেছে।

০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৩:০৬

লেখক বলেছেন:
এ প্রসঙ্গে সবচেয়ে আগে দরকার শিক্ষাবৈষম্য কমিয়ে আনা। চরম বৈষম্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থাই এক পক্ষকে এর এক পক্ষের শত্রু অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষার কারিকুলাম যদি বাংলা-ইংরেজি শিক্ষার কাছাকাছি আনা যায়, তাহলে মাদ্রাসায় এইধরণের হতাশা গ্রাস করতে পারবে না। তেমনি ক্যাডেটদের শিক্ষা ব্যবস্থার সাথেও বাংলা-ইংরেজি শিক্ষার ফারাকটা কমিয়ে আনতে হবে।

আপনার জ্ঞানগর্ভ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে পুতুল।

৮. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:৫৯
আরিফুর রহমান বলেছেন: প্রিয়তে নিলাম।

সতর্কতা কি আদৌ আছে আমাদের এসবের নিবারনে!
০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:১২

লেখক বলেছেন:

টোনাটুনির সেই গল্পটা মনে আছে তো ? টোনাটুনি ছানাদের নিয়ে বাসায় ঝিমোচ্ছিল, হঠাৎ আকাশ কাঁপিয়ে বাজ পড়লে টোনা চিৎ হয়ে পা উপরের দিকে তুলে ধরল! ছানারা জানতে চাইল ঘটনা কি? টোনা বলল.....‍" আকাশ ভেঙ্গে পড়লে পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেব...."!!

৯. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:২৯
মনির হাসান বলেছেন:
... নাড়ি ধরে টান দিতে গেলে ধারাবাহিক ভাবে যে কাজ গুলো করতে হবেঃ

১. ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র করা
২. ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি বন্ধ করা
৩. সংবিধান বিরোধী যত আদর্শ, সংগঠন, রাজনৈতিক দল আছে সব গুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষনা
৪. এরপর একে একে সব গুলো জঙ্গী সংগঠন গুলোর মূলোৎপাটন
৫. সাধারন, নিম্নবিত্ত শিশুসদস্যের পুনর্বাসন
৬. বছর দশেকের জন্য হলেও বিত্তহীন পর্যায়ে শিক্ষার খরচ শুণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনা
৭. মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যাবস্থা'কে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রন এবং আধুনিকায়ন

এটা নিয়ে আসলে আমাদের আন্দোলনে নামতে হবে ... ভেড়ুয়া সুশীল সমাজ এই বিষয়ে বেশ নির্বিকার বা সমস্যার প্রকটতার ব্যাপারে অবগত নয় ।
আর মোটামুটি এই আপাত অনুকুল সময়ে যদি আমরা চাহিদাগুলো তুলে ধরতে না পারি ... আবার আরো ১০ বছর পার হয়ে যাবে ...
শূয়োড়ের পাল এই সময়ে কোন অবস্থানে যাবে ভাবতে পারিনা ।
১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৩৯

লেখক বলেছেন:
কে করবে এসব? সাকিন নিয়া দেখেন এইগুলি করার জন্য কারো হাতেই সময় নেই!
দেখতে দেখতে কি ভাবে যেন পাঁচটি বছর পার হয়ে যাবে...ইতিহাসের নিয়মেই ইতিহাস সময়কে পার করে নেবে আর এক সময়ের থেকে.....

১০. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:৩৬
মনজুরুল হক বলেছেন:

১। ধীবর কি ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান এর নিক?

২। পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির নেতা কর্মিদের করা অত্যাচার না তাদেরকে পুলিশের এ্যারেষ্ট করার এবং হত্যা করার খতিয়ান, কোনটা দিলেন @ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান ? গুলিয়ে গেল না ?
১১. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:৩৭
মনির হাসান বলেছেন: মনজু ভাই আরমান আর ভ্রু'র কমেন্ট দুইটা কপি করে ডিলিট করেন। পরে পেস্ট করে দিয়েন ।

পোস্টের আগামাথা খুইজা পাইতে খবর হয়া যাইতেছে ... ব্যাক্কলামীর একটা সীমা আছে ।
১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৪:১৪

লেখক বলেছেন: অনেক আগেই ডিলিট করেছি।

১২. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:৪৩
মনির হাসান বলেছেন: ভ্রু'র সমস্যা কি ? আফগানিস্তান প্রেইজ় কইরা পোস্ট মারসে ? আজকে দেখলাম বিপ্লব ক্লান্তির পোস্টে শরিয়া আইনের গুনগান করতেছে ... এখন আবার দেখি আসল লাইনে না যায়া সর্বহারার পিছে লাগছে ...

নয়া রিক্রুট নাকি ?
১৩. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৩:৩৯
অরণ্যদেব বলেছেন: @মনির হাসান। ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞানের সমস্যা হইল ধান বানতে শিবের গীত গায়।
০৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:২৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১৫. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৩:৫৩
নাজনীন খলিল বলেছেন: এটা মনে করার কোন কারণ নেই যে যেহেতু বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় নেই সুতরাং আর কোন দল বা গোষ্ঠি সরকারী মদদে তান্ডব চালাতে পারবে না! এই আত্মপ্রসাদে না ভুগে একেবারে নাড়ি ধরে টান দিতে যত দেরী হবে ততই রাবণের মাথা গজাতে থাকবে। অতএব সাধু সাবধান।

একমত । তবে আপাতত আর কোন মন্তব্য করবোনা।

ভাল থাকুন।
০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৪:৫১

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ আপা। একমত বলেছেন সেটাই যথেষ্ট। আমরা তো আসলেই একটা ভীতিকর অবস্থার ভেতর দিন কাটাচ্ছি....

১৬. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৫:৪১
সমাজ্ঞী বলেছেন: মন্জুরুল হক,
আপনি কোথায় দাড়িয়ে কথা বলছেন এটা অস্পষ্ট। একটা কোন নীতির জায়গায় যে নয় এটা স্পষ্ট।
আপনার অভিযোগ হলো, বিএনপি আমলে বাংলাভাই জোট সরকারের প্রচ্ছন্ন সমর্থন নিয়ে সর্বহারা, আওয়ামী লীগ বা বাসদের কর্মী-সমর্থক হত্যা করেছে।
তাই,
আপনি বর্তমান সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছেন "আত্মপ্রসাদে না ভুগে একেবারে নাড়ি ধরে টান দিতে" একই কাজে "জঙ্গী"দের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে। মানে হলো, আওয়ামী লীগ বা মহাজোট সরকার কাউকে "জঙ্গী" মনে করে নিজেই "জঙ্গী" হোক সেটার পক্ষে আপনি দাড়াতে বলছেন। জেএমবি বা বাংলাভাই "জঙ্গী"র জায়গায় আওয়ামী "জঙ্গী"র প্রতিস্হাপন চাচ্ছেন। তাতে আগামী দিনে আবার আওয়ামী "জঙ্গী"র বিরুদ্ধে আপনি কলম ধরবেন কীনা আমি জানি না।

তাহলে আপনার নীতির জায়গাটা কোথায়? ভেবে দেখবেন।

একটা অবস্হান হতে পারে রাষ্ট্রের সমস্ত ধরণের বিচার-বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিরোধীতা - এই নীতির উপর দাড়ানো। কিন্তু আপনি সেখানে দাড়িয়ে নাই।
সাধারণভাবে, সর্বহারা রাজনীতির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির রাজনীতির অভিযোগ হলো ওরা টেরর, সন্ত্রাসী বা চরমপন্থী। শেখের আমলের সিরাজ শিকদার হত্যা নিশ্চয় আপনার মনে আছে। ওর সাথে একালের 'অপারেশন ক্লিনহার্ট, ক্রশফায়ারের গল্পের কী কোন তফাৎ দেখেন?

আবার, একেবারে রাজনীতির সশস্ত্র লাইনের দিক থেকে যদি দেখেন - যে রাজনীতির প্রতি আপনার একটা পক্ষপাতিত্ত্ব ছিল বলে জানতাম, এখনকার কথা জানি না - সর্বহারাদের উপস্হিত রাষ্ট্রকে সশস্ত্র প্রতিরোধ উৎখাতের লাইন, ক্ষমতা দখলের রাজনীতি যদি আপনার সহানুভুতি পেতে পারে তবে ঠিক একই পথ অবলম্বনের জন্য ইসলামী রাজনীতিগুলোকে "জঙ্গী" বলে বিরোধীতা করবেন কী করে? এদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ বা আমেরিকান "ওয়ার অন টেরর"কে ন্যয্যতা দিবেন? লেলিয়ে দিতে আহবান জানানোর পক্ষে আপনি নিজের অবস্হানকে রেশন্যাল করবেন কী করে? আপনি তো জানেন, রাষ্ট্র, ক্ষমতা ও বল প্রয়োগের সম্পর্ক।
ইসলামী রাজনীতিগুলোকে পথ তৎপরতা, বা আগানোর পদ্ধতি, যেটাকে আমরা রাজনৈতিক লাইন বলে চিনি, সেদিক থেকে সর্বহারা রাজনীতির জায়গায় দাড়িয়ে বিরোধীতা করার সুযোগ আপনার নাই। রাজনীতির দিক থেকে হয়তো আছে। ইসলামী হওয়ার কারণে ওদের পথের নাম আপনিও "জঙ্গী" বলবেন? আর সর্বহারার রাজনীতির বেলায় ওরা আপনার সহানুভুতি পাবে - এটা গোলমেলে, স্ববিরোধীতাই শুধু না, সর্বহারার রাজনীতির প্রতি আপনার মোহ বা আগ্রহ একনিষ্ঠ নয়, আবেগী হয়তো - তাই প্রমাণ করবে। একে ইসলামী রাজনীতির বয়ানে বললে, সর্বহারার রাজনীতির প্রতি আপনার ইমান দূর্বল।
সর্বহারা রাজনীতির জায়গায় দাড়িয়ে ইসলামী রাজনীতির পথ তৎপরতা, বা আগানোর পদ্ধতিকে বাকা চোখে দেখা, আওয়ামী লীগ বা আমেরিকান "ওয়ার অন টেরর"কে লেলিয়ে দিতে আহবান জানানোর কোন সুযোগ নাই। ইসলামী রাজনীতির বিরোধীতা আপনি করতে পারেন, পথের নয়।

০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:৪৭

লেখক বলেছেন:
বেশ ভাল মন্তব্য করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে। আমি প্রতিউত্তর এভাবে দিতে পারি...

"আপনি বর্তমান সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছেন "আত্মপ্রসাদে না ভুগে একেবারে নাড়ি ধরে টান দিতে" একই কাজে "জঙ্গী"দের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে। মানে হলো, আওয়ামী লীগ বা মহাজোট সরকার কাউকে "জঙ্গী" মনে করে নিজেই "জঙ্গী" হোক সেটার পক্ষে আপনি দাড়াতে বলছেন। জেএমবি বা বাংলাভাই "জঙ্গী"র জায়গায় আওয়ামী "জঙ্গী"র প্রতিস্হাপন চাচ্ছেন। তাতে আগামী দিনে আবার আওয়ামী "জঙ্গী"র বিরুদ্ধে আপনি কলম ধরবেন কীনা আমি জানি না।"

আমার এই চাওয়াটা সকল সরকারকে প্রায় এক কাতারে ধরে চাওয়া। কি ভাবে? বিএনপি যে কাজটা করেছে, সেই কাজটা মহাজোট সরকার করবে না তার কোন গ্যারান্টি নাই। যেহেতু চূড়ান্ত বিচারে সকল শাসক শ্রেণীই সর্বহারা তথা খেটে খাওয়া মানুষদের বিপক্ষে তাই মহাজোট নে পূর্বসূরির পদাঙ্ক অনুসরণ না করে সেই চেষ্টা, সরকারকে "জঙ্গি" রূপে আবির্ভূত হওয়ার প্ররোচনা নয়।

"একটা অবস্হান হতে পারে রাষ্ট্রের সমস্ত ধরণের বিচার-বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিরোধীতা - এই নীতির উপর দাড়ানো। কিন্তু আপনি সেখানে দাড়িয়ে নাই।"

না, এটা ঠিক ভললেন না। মহাজোট সরকার গঠনের পর পরই ঠিক এই বিষয়ে আমার লেখাটা সম্ভবত দেখেননি। আমার ব্লগেই আছে। এখন লিংক দিতে পারছি না।

"ইসলামী রাজনীতিগুলোকে "জঙ্গী" বলে বিরোধীতা করবেন কী করে? এদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ বা আমেরিকান "ওয়ার অন টেরর"কে ন্যয্যতা দিবেন? লেলিয়ে দিতে আহবান জানানোর পক্ষে আপনি নিজের অবস্হানকে রেশন্যাল করবেন কী করে? আপনি তো জানেন, রাষ্ট্র, ক্ষমতা ও বল প্রয়োগের সম্পর্ক।"

না, এইখানটিতে একটু গন্ডোগোল হচ্ছে আপনার। ইসলামি জঙ্গিদের সাথে সর্বহারার বিরোধের জায়গাটা খুব পরিষ্কার। জঙ্গিরা সর্বহারা, খেটে খাওয়া গরিব মানুষ বা নিম্ন মধ্যবিত্তের রাজনীতি করছে না, তাদের প্রতিনিধিত্বও করছে না। যদি করত তাহলে তাদের জঙ্গিত্ব নিয়ে এত কথা উঠত না। তারা কোন শ্রেণী নয়, একটি ইজমের প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে যে ইজমের প্রধান কাজ শ্রেণি বিভেদকে অস্বীকার করতে শেখানো, শ্রেণার দ্বন্দ্বকে অস্বীকার করতে বাধ্য করণ, আর সে কারণে বাই ডিফল্ট তারা শাসক শ্রেণীর প্রচ্ছন্ন সহায়তা পেয়েছে এবং পাচ্ছে।

ইসলামি রাজনীতি বা ধর্মীয় রাজনীতি নিশ্চিতভাবেই গরিব, খেটে খাওয়া, সর্বহারার মুক্তির অন্যতম বাধাদানকারী। প্রধান অন্তরায়, সুতরাং সেই আঙ্গিকেই তারা পরিত্যাজ্য। আর এটাই তাদেরকে বিরোধীতার কারণ। আর এই বিষয়টি যে আপনি বোঝেননি তা মানতে পারলাম না।

০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:৪৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৮. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৪৩
ডিজিটালভূত বলেছেন: এগুলো পুরান গল্প। গাজাখোরী মনে হয়। নতুন কিছু থাকলে কইতে পারেন।
০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:৪৫

লেখক বলেছেন:

হম। নওগাঁয় ভাল গাঁজা পাওয়া যায় শুনেছিলাম...

১৯. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:০৩
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:

আমি জানিনা এখানে কমেন্ট করলেই হয়ত কিছু লোক শালা ইন্ডিয়ান বলে গালাগালি শুরু করে দেবে। কিন্তু এই জঙ্গীবাদ কীভাবে এই উপমহাদেশ পুরোটাকেই উপদ্রুত করে দিচ্ছে। বাংলাদেশের মত ছোট একটা দেশ ভুল পরিচিতি পাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষকে অন্যরা দেখছেন সন্দেহের চোখে। ভুল পরিচিতি এমনই যে মুক্তিযুদ্ধের মত একটা আন্দোলন পর্যন্ত চাপা পড়ে যাচ্ছে।
এবং আরেকটা জিনিসও দেখার মত, অনেকেই জঙ্গীবাদকে হয়ত সমর্থন দেন না কিন্তু তাদের মধ্যে একটা বড় অংশ বামপন্থায় কীসের ভুত দেখতে পান?

সর্বহারাদের অধিকার দেয়া যাবেনা? আজ শুধু অর্থনৈতিক ভাবেই বোধহয় সর্বহারারা শুধু সর্বহারা নয়, সংস্কৃতি,বোধ, নিজের পরিচয় হারিয়ে সাধারন মাত্রই সর্বহারা হয়ে উঠেছি।
০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:৫৫

লেখক বলেছেন:

ষাঁটের মহাবিতর্কের পরের বিশ্ব ছিল "কমিউনিস্ট ভূত"কে ডিভাইড এন্ড রুলস পলিসিতে পর্যুদস্ত করার মিশন। নব্বইয়ের দশকের তথাকথিত "সেটব্যাক" এর পরের বিশ্ব হচ্ছে এলিট ক্লাসের বাড়বাড়ন্ত জজবায় টোটাল ক্লিনজিং অব প্রলেতারিয়েত। এখন আর এনজিও টেনজিও দিয়ে কৌশল নয়, সরাসরি ফ্রন্ট ওয়ার। নন কনভেনশনাল ওয়ার। আর এই ওয়ারের ভিকটিম হলো সর্বহারা থেকে শুরু করে "গোইং টু বি সর্বহারা" ক্লাস অব্দি।

সারভাইভের উপায় একটিই- ফাইট ফর সারভাইভ। প্রটেক্ট ওউন ক্লাস। ক্লাস ইজ ডিভাইন হিমসেল্ফ.....

২০. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:২৪
নুসরাত জাহান যুথি বলেছেন: প্লাস। তখনকার মন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলা ভাই মিডিয়ার সৃষ্টি। মিডিয়ার কল্পকাহিনি। সত্যি সেলুকাস। সেই কল্পকাহিনি শেষ পর্যন্ত ধরাও পড়ল। বিএনপি এখন জামায়াত-জঙ্গীদের মত পরগাছাদের শেলটার দিচ্ছে শুধুমাত্র আওয়ামি লিগের বিরোধিতা করবার জন্য। সেটা তার জন্যও একদিন বুমেরাং হয়ে যাবে। ভাবতে অবাক লাগে, একাত্তরের কুখ্যাত রাজাকার ও যুদ্ধপরাধী সাকাচৌ দলটির বড় নীতিনির্ধারনী নেতা। বিএনপিতে কি নেতার অভাব পড়ল?
০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:৫৬

লেখক বলেছেন:
আপনার মন্তব্যের জবাবে বিশেষ কিছু বলা গেল না, কারণ লেখাটার ট্রেইন্ড ঠিক এটা নয়। তবে আপনার বিশ্লেষণ ভাল। ধন্যবাদ আপনাকে।

২১. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১১
ক-খ-গ বলেছেন: কি আর বলবো, যত দ্রুত সম্ভব এদের নির্মূল করতে হবে.......
০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:৪৮

লেখক বলেছেন:
যত দ্রুত সম্ভব এদের নির্মূল করতে হবে.......

২২. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:১২
পুতুল বলেছেন: "কিন্তু তার পরও পণ্য উৎপাদনকারীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বিকাশের ফলে বৈরী বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। অসম প্রতিযোগিতা হচ্ছে। মানুষ মাঝে-মধ্যেই সব ছেড়ে ছুড়ে অরণ্যচারি হতে চাইছে। ক্ষণে ক্ষণেই বলে উঠছে 'দাও ফিরে সেই অরণ্য'। সায়েন্স ফিকশন তার তুকতাক মন্ত্রতন্ত্রে আবিষ্ট হয়ে নিভৃতচারি হতে চাইছে। মানুষকে এখান থেকে ফেরানোর জন্য পণ্য প্রবাহ আর অভাব বোধের অসীম আকাক্সক্ষা ফেরানোর জন্য ধরে ধরে শক্ দেওয়া হচ্ছে। সিনেমার মাধ্যমে শক্ দেওয়া হচ্ছে। বীভৎস ছবি ছেপে শক্ দেওয়া হচ্ছে। অরবিটাল ভেরিয়েশনে সৃষ্টি করে হরর মুভি, হরর উপন্যাস, স্যাডিস্ট গল্প, রেপিস্ট সিনড্রোম গিলিয়ে শক্ দেওয়া হচ্ছে। ট্রাডিশনাল শিল্পকর্ম এখন শক্, শকুমেন্টারি। তিনটি 'এস' দিয়ে তাদের বিবস করে দেওয়া হচ্ছে। এস ফর সেক্স, এস ফর স্যাডিজম এবং এস ফর শক্। এর ফলে মানুষের চিরাচরিত ভাবাবেগ, বিচারবুদ্ধি, বিবেক, দর্শন সব শকোথেরাপিতে স্যাডিজমে রূপান্তরিত হচ্ছে। এর নির্বিকার প্রদর্শনে দেখা যাচ্ছে ছাত্র পেটাচ্ছে শিক্ষককে। মাওলানা ধর্ষণ করছে বালককে। পুলিশ সমবেত ধর্ষণ করছে শিক্ষিকাকে। সংবাদপত্রে নগ্নছবির প্রতিযোগিতা। সম্পাদক বিকোচ্ছে কর্পোরেশনে। সাংবাদিক জিন আর ভোদকায় বিবস হচ্ছে, বার্তা সম্পাদক 'লিডের' জন্য মৃতের সংখ্যাধিক্য চাইছে। বিচারক পয়সা নিয়ে খুনিকে ছেড়ে দিচ্ছে, নির্দোষকে ফাঁসি দিচ্ছে। সারা দিন অনৈতিকতার সাগরে ডুবে রাতে ধর্মবাণী ফেরি করছে। ইহজাগতিক পাপের পঙ্কিলে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়ে পরলৌকিকতার তাবিজ-কোবজ জড়ো করে সন্ত সেজে স্বর্গের গৌরব গাইছে। সারাক্ষণ নিজ নিজ শ্রেণীর সোপান পেরিয়ে ঊর্ধ্ব শ্রেণীর মোহময় স্পর্শ পাওয়ার জন্য ঘরের স্ত্রীকেও ভেট দিচ্ছে। অধ্যাপক বিদ্যা নিয়ে হাট বসাচ্ছে। বেসরকারি মোকাম, ঝকঝকে হাট। ওখানে বিদ্যা বিক্রি হচ্ছে- মিনি-ম্যাক্সি-মেগা সাইজের বিদ্যা। চাই চাই খাই খাই এই জীবনেরও একটা তাল লয় আছে। আজকের বেসুরো বেতাল জীবন যত আপাতবিসদৃশ উৎকট হোক না কেন, তারও একটা অন্তরমিল আছে। এবং সেটা খুঁজে বার করার দায়িত্ব বুদ্ধিমান মানুষের অর্থাৎ 'বুদ্ধিজীবীদের', যারা এখনো বিপণনের জন্য বাজারে উঠেননি, তাদের"
ভাই এইটুকু উল্লেখ করে আপনার বইটার কথা লিখতে চাই (সচলায়তনে)। প্রকাশনা সংস্থার ঠিকানা বা প্রাপ্তিস্থান এবং মূল্য সম্ভব হলে এই মন্ত্যব্যের জবাব আকারে জানাবেন।
অন্তর্জালে বইটি পাওয়া না গেলে পড়তে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে!
মনির ভাইয়ের কল্যানে যতটুকু পড়লাম তাতেই অভিভূত। আপনাকে ...নাহ্ কিছু বলবো না। তবে কামনা করি কলমটা যেন চালু থাকে।
০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:৪২

লেখক বলেছেন:

পুতুল, আপনার মন্তব্যের শেষ থেকেই আমি শুরু করি-

আমার এখন শুধুই ছেলেমানুষের মত কান্না পায়! এই বইটার সব লেখাই কাগজে কলম দিয়ে লেখা। আমি ওতেই স্বাচ্ছন্দ ছিলাম। কাগজওলারা আর ব্লগ আমাকে কী-বোর্ডে খুটুর খুটুর করায় নিয়োজিত করেছে। আমি আর ওই ধরণের লেখা পারিনা! কি-বোর্ডে আমার খেই হারিয়ে যায়। আমার লেখা আমি পড়ে বিরক্ত হই, কিন্তু একবার যখন মেইলে লেখা পেতে শুরু করেছে, ওরা আর কাগজের লেখা চাইছে না! আমি আমার মৃত্যুঘন্টা শুনছি ঢং ঢং করে.......

বইটা বের করেছে "পাঠসূত্র" ১৫২/২-কে, গ্রীণরোড, পান্থপথ, ঢাকা। দাম ১৪০/-টাকা। না ভাই অন্তর্জালে পাওয়া যাবে না। আমাকে মেইলে আপনার ঠিকানা দিলে আমি পোস্ট/কুরিয়ার করে দিতে পারি।

মেইল আইডিঃ monjuraul এ্যাট yahoo.com

ভাবছি বিদ্রোহ করব....আবার কলমে লিখব। না পুতুল, কলম থামবে না। থামলে আমি মরে যাব যে......

২৫ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৩৮

লেখক বলেছেন: অজস্র ধন্যবাদ আপনাকে।

২৪. ০৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:০৬
মেঘ বলেছেন: শুনেন বস- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গীবাদ, বিডিআর সন্ত্রাস - এই ৩টার কিছুই আওয়ামী লীগ করতে পারবে না। বিভিন্ন দিক থেকে বিভিন্ন চাপ আছে, আছে কৌশলগত সীমাবদ্ধতা। এত ফাল না পেড়ে একটা কাজ করতে পারতো লীগ তা হলো কিছু বাঘা বাঘা হারামজাতকে গোপনে গুম খুন করা। তো লীগ তো আবার মানব দরদী, ঐক্যমত ইত্যাদির ধ্বজা উড়ায়- তাই তারা চিল্লাবে, কাজের কাজ হবে ঘোড়ার ডিম, ক্ষমতার দায়িত্ব থেকে যাবে একরাশ অপমাণ নিয়ে; আপনার আমার মতো মানুষরা হয় মরব অপঘাতে জামাতীদের হাতে অথবা বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইব (এটাও এখন আর পাব না)। আমি কোন আশা দেখি না। :( আপনার মনে হয় এসব লোকজন আল্লাহ খোদা যারা ইসলাম (নুনু কাটা আর গরু খাওয়া মুসলমান) এর নামে এসব করছে আল্লাহ খোদা মানে? আল্লাহকে ভয় পেলে ভালোবাসলে আরেকজন মানুষকে (জামাত শিবির রাজাকার বাদ যাবে এ হিসাব থেকে) কেউ বোমা দিয়ে মারার ভাবনা মাথায় আনে?
০৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৫৮

লেখক বলেছেন:
মেঘ। আপনার প্রথম প্যারার সাথে হুবহু একমত। তবে আমি আমাদের সেই ট্রাডিশনটাকেই সবচে' বেশী ঘৃণা করি, যে ট্রাডিশন আমাদের আত্মবিস্মৃত জাতি হিসেবে কপালে লান্নত এঁকে দিয়েছে!

আমাদের আসলেই হিজরত করারও যায়গা নেই! ইঁদুরকলে পড়ার দশা হয়েছে। তার পরও আমরা টানেলের শেষে যে ক্ষীণ আলোর রেখা দেখি তাতেই ভরসা রাখতে চাই।

সেক্স স্যাডিজম আর সেডিটিভ(ঘুম পাড়ানি গল্প) ছাড়া এলেমদার বুজর্গ মানুষের আর কোন স্ট্যাটাস আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না।

আপনার ঋজু থাকার ভঙ্গিটিকে নতশিরে প্রণাম করি। অটুট থাকুক গলিত লাভার উদ্গিরণ । পাশে পাবেন সময়-অসময়ে।

২৫. ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:৫৪
পুতুল বলেছেন: "আমার এখন শুধুই ছেলেমানুষের মত কান্না পায়! এই বইটার সব লেখাই কাগজে কলম দিয়ে লেখা। আমি ওতেই স্বাচ্ছন্দ ছিলাম। কাগজওলারা আর ব্লগ আমাকে কী-বোর্ডে খুটুর খুটুর করায় নিয়োজিত করেছে। আমি আর ওই ধরণের লেখা পারিনা! কি-বোর্ডে আমার খেই হারিয়ে যায়। আমার লেখা আমি পড়ে বিরক্ত হই, কিন্তু একবার যখন মেইলে লেখা পেতে শুরু করেছে, ওরা আর কাগজের লেখা চাইছে না! আমি আমার মৃত্যুঘন্টা শুনছি ঢং ঢং করে......."

গুন্টার গ্রাস একটা লেখা চার বার লিখেন। কাহজে কলম দিয়ে। তার পর তার সেক্রেটালিরা সেটা কম্পুতে টাইপ করে। কাগজ কলম ছাড়া লেখা হয় নাকী!
ব্লগের বাইরে (উপন্যাস) লিখি আগে, কাগজে তার পর, টাইপ।
আপনার উদৃত লেখার মত লেখা একটানে লিখতে হয়। অবশ্যই কাগজে। তার পর টাইপ করা যায়। সময় একটু বেশী লাগে, কিন্তু তবুও আমি কাগজে লেখাই সমর্থন করি।

ইমেইল এড দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। মেইল করব অবশ্যই। সেখানে আমার ঠিকানা থাকবে।

ধন্যবাদ মঞ্জু (এভাবে ডাকবো?) ভাই!
০৮ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৩:০০

লেখক বলেছেন:
নিশ্চই।

একটা পাথর যেন নেমে গেল! আমার এই কাগজ-কলম প্রিতির কথা শুনে অনেকে "সেকেলে" বলে ঠোঁট বাঁকাতো। আমি জানতাম কাগজে আমি গড় গড় করে ট্রেনের গতিতে লিখে যাই....লেখারা সার বেঁধে লাইন ধরে ধরে আসে।

ধন্যবাদ পুতুল। মেইলের অপেক্ষায় থাকলাম।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৬৪৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারিদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয়,যারা মানুষ ।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ