আমার প্রিয় পোস্ট

যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরানী প্রকাশ্য পথে হত্যার প্রতিশোধ চায়না আমি তাদের ঘৃণা করি

এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি > ২ > আমরা ছুটে চলেছি অচেনা গন্তব্যে....

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩১

শেয়ারঃ
0 0 0



কবে থেকে স্কুল বন্ধ হয়ে গেল জানিনা, তবে স্কুলে যেতে হচ্ছেনা সেইটাই আমাদের মহানন্দ। শুধুই স্কুল নয়, আমাদের আরও অনেক কিছু বন্ধ হয়ে গেল। এই সময়ে অর্থাৎ বসন্তে রেল স্টেশনে দূর দূরান্তের গ্রাম থেকে গরুর গাড়িতে আখ আসত। সেই আখ মেশিনের পাল্লায় মেপে ওয়াগনে উঠে দর্শনা চিনিকলে যেত। আমাদের প্রথম টার্গেট ছিল গরুর গাড়ি! গাড়োয়ানের পেছনে বিশাল আখের বোঝা, তাই পেছনে কি হচ্ছে সে দেখতে পেতনা। আমরা টাইট করে বাঁধা আঁটি থেকে টেনে টেনে আখ বের করতাম। কখনো গরুর গাড়ির ‘অপারেশন’ ফেল মারলে চড়াও হতাম ওয়াগনে। এই কাজে আমি ছিলাম আনাড়ি। একটু বয়সে বড় গাট্টাগোট্টারা ওয়াগনে উঠে ‘মাল’ নামাত। আমরা ছোটরা দৌড়ে দৌড়ে কুড়োতাম। তারপর সেই আখ চেরানো শেষ হলে বাড়ি ফিরে ভাত খাওয়ার সময় টের পেতাম আসল জ্বলুনি! কখন যে আখের খোসায় লাগাম চিরে গেছে খেয়াল হতো না। সেবার এই অতিসাহসী অভিযানও বন্ধ হয়ে গেল! যার যার ঘরে লাটাই ঘুড্ডি ছিল তাতেও আর নতুন মাঞ্জা পড়ল না। ‘মুনা’ নামের বিখ্যাত মাঞ্জাঅলা নিকম্মা বসে থাকত দোকান খুলে।

আমি তখন ভি.জে(ভিক্টোরিয়া জুবলী) স্কুলের ছাত্র। আমাদের স্কুলটা ছিল একেবারে নদীর ধারে।স্কুল থেকেই একটা ঢাল বেয়ে নদীতে নামা যেত। বাড়ি থেকে মাইল খানেক আর স্কুলের সাথেই হওয়ার পরও আমি নদীতে নামতাম না। সাঁতার জানাই ছিল, তবুও নামা বারণ, কারণ বছর দুয়েক আগে আমার খেলার সাথী ‘আপেল’ ওই নদীতে শ্যাওলা পেঁচিয়ে আর উঠতে পারেনি! সেবারও আমরা সবাই একসাথে নাইতে নেমেছিলাম। ওকে উঠতে না দেখে আমরা বাড়িতে খবর দেওয়ার পর বিকেলের দিকে তাকে মৃত অবস্থায় তোলা হয়েছিল! আপেলের মৃত্যু আমাকে প্রথম বার গোরস্থানে নিয়েছিল। লাশ, কবর, মাটিচাপা এই বিষয়টি আমার স্মৃতিতে যোগ হলো সেবার। সেই থেকে আর নদীতে নামিনি। এই ভি.জে. স্কুলের পাশেই ছিল সরকারী হাসপাতাল (পুরোনো হাসপাতাল)। হাসপাতালের আর একটু দূরে নদীর ধারে খ্রীষ্টানদের চার্চের মত দেখতে ধূসর সাদা একটা মস্ত বাড়ি ছিল। আমরা বলতাম ‘লন্ডনের বাড়ি’। এই বাড়িটি ছিল‘হ্যাবা ডাক্তারের’(ডাক্তার আসহাবুল হক্ আওয়ামী লীগের নেতা, তবে পদবী জানতাম না)। ইপিআর ক্যাম্পের বোমা-আগুনের পর এই বাড়িটি আমাদের সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল। প্রথম দিন বাবার হাত ধরে গেছিলাম। ওই বাড়িতে সারাদিন বিভিন্ন ধরণের মানুষ আসত। বুলবুল ভাই বলেছিলেন- ওরা পার্টির লোক। তখন আমার কাছে পার্টি বলতে একটিই, আওয়ামী লীগ। আমরা বলতাম ‘আম্লিগ’। শহরের কোথায় পার্টি অফিস তা জানতাম না, তবে হ্যাবা ডাক্তারের বাড়িতেই যে সব কিছু হচ্ছে সেটা বুঝতে পারতাম। মাঝে মাঝে দেখতাম অনেক ধরণের গাড়িও আসত।

শহরের অন্য কোথাও তেমন কোন আয়োজন দেখতাম না। যেহেতু স্কুল নেই তাই সারাদিন টো টো করে ঘুরে বেড়ানোর মওকা! তবে বড়বাজার আর রেলওয়ে বাজারের কাছে যাওয়া বারণ ছিল। বাবা এবং বড়দের কাছে শুনেছিলাম ওই দুটি এলাকায় বিহারীদের বসবাস। রেলওয়ে বাজারের পেছনে একটা বিরাট দীঘি ছিল । দীঘির পাড়েই ছিল তাড়ি ভাট্টি, শুনতাম ভাট্টি চালায় বিহারীরা। সেই দীঘির পানি দিয়ে পাম্পহাউস চলত। একটানা ফটফট ঘ্যাস ঘ্যাস শব্দ করে পাম্প চলত। সেই পাম্পহাউস থেকে নাকি কারেন্ট হতো, আর সেই কারেন্ট দিয়ে স্টেশনে লাইট জ্বলত। আমাদের পাড়ায় কারো বাড়িতেই কারেন্ট ছিলনা। শুধু সন্ধ্যার পর বড় রাস্তায় দু’একটা বাতি জ্বলত। তাও সব রাস্তায় না, হাসপাতাল রোডে, কোর্ট এলাকায় সায়েবদের বাড়িতে আর ‘রূপছায়া’ সিনেমা হলের কাছে।

একদিন আমি আর খোকন কাউকে না জানিয়ে চলে গেলাম সেই দীঘির পেছনে। আমরা আগেও দেখেছি, তাড়ি খাওয়া মানুষগুলো চেচামেচি করত। কিন্তু এদিন দেখলাম অন্য ঘটনা! মুন্তাজ মেছুয়া(মাছ বিক্রেতা) ভরপেট তাড়ি খেয়ে বকতে লেগেছে, তাকে ঘিরে আরও কয়েকজন সমানে বকে যাচ্ছে.....‘সুমুন্দির ছেইলেদের ইবার দেইকে ছাড়ব, এই সুমুন্দিদের জন্যি রেলে চাকরি পাইনিকো, ইবার কচুকাটা কইরব’। কাকে বলা হচ্ছে, কে সুমুন্দির ছেলে সেটা বুঝতে না পেরে আর একটু কাছে যেতেই মুন্তাজ মেছুয়া আমাকে চিনতে পেরে কাছে ডাকল- ‘খুকা এইকেনে কি কচ্চ? বাড়ি যাউ, এইকেনে ঝামিলে হতি পারে’। আমরা তাড়াতাড়ি কেটে পড়লাম। সন্ধ্যার দিকে জানা গেল মুন্তাজ কে বিহারীরা কেটে ফেলেছে! এই ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন পাড়ায় বাঙালি-বিহারী কেমন যেন সুনশান! কেউ কারো সাথে মেশে না। ইকরাম নামে আমাদের এক বিহারী সাথী ছিল, ও যে বিহারী সেটা আগে বুঝতাম না, কিন্তু এইসময় সেও আর আমাদের সাথে খেলতে আসত না।

এরও দিন কয়েক পরে আমরা তিন-চার জনে তাস (সিগারেটের খালি প্যাকেট যা আমাদের কাছে মহার্ঘ্য বস্তু) কুড়োতে হ্যাবা ডাক্তারের বাড়ির পেছনে গিয়েছি, কারণ ওখানে অনেক মানুষ আসত।, তাই অনেক তাসও পাওয়া যেত। তাস কুড়িয়ে আমরা ফিরে আসব এমন সময় হ্যাবা ডাক্তার আমাদের ডাক দিলেন। আমরা ভয়ে ভয়ে তার কাছে গেলাম। ভয়ের কারণ হচ্ছে তাকে আমাদের মনে হতো বিরাট মানুষ। যাহোক আমরা কাছে গিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছি। এরপর তিনি একে একে আমাদের বাসা, নাম, বাবার নাম জিজ্ঞেস করলেন। আমার পালা এলে আমি বাবার নাম ইনামুল হক বলেই সাথে সাথে বললাম- ‘আমার চাচার নাম মুজিবর রহমান’। কেন বললাম জানিনা, তবে মনে হলো চাচাকে উনি চিনবেন, এবং আমাকে পিঠ থাবড়ে দেবেন (এই পিঠ থাবড়ে দেওয়ার ব্যাপারটি কি ভাবে যেন আমার ভেতর ক্রিয়া করত। পারিবারিক টানাপোড়েন আর বাধ্যবাধকতায় আমাকে মাত্র ৮ বছর বয়সে চুয়াডাঙ্গা-খুলনা, খুলনা-যশোর ট্রেনে একা যাতায়াত করতে হয়েছিল। একা একা টিকিট কেটে, কখনো বিনা টিকিটে ট্রেনে যশোর যেয়ে দাদার(বড় চাচাতো ভাই, ব্যাংকে চাকরি করতেন) কাছ থেকে বেতনের টাকা এনে চাচীকে দিতে হতো। আবার বাবার কাছ থেকে টাকা এনে মা’কে । এভাবে যাতায়াতের কারণে আত্মিয়দের মুখে শুনতাম-‘এত্তটুকুন ছেলে এতবড় কাজ করে! ও বুবু তুমার ছেলে তো লায়েক হয়ে গিয়েছে’! লায়েক মানে বুঝতাম না তবে সেটা যে প্রশংসা তা বুঝে নিজেকে বয়সের তুলনায় বড় ভাবা শুরু করেছিলাম)। হ্যাবা ডাক্তার সত্যি সত্যিই পিঠ থাবড়ে দিলেন! তারপর আমরা যে বিরাট কিছু সেটা বোঝানোর জন্যই যেন বললেন- ‘ স্কুল তো বন্ধ, সারাদিন কি কর?’ আমরা কিছুই করিনা জেনে বললেন- ‘এক কাজ করো তোমরা, সবাই মিলে আমার বাড়ির বাইরে ঘোরাঘুরি করবে, দেখবে কোন সন্দেহজনক কেউ আসে কিনা, পারবে না?’ সাথে সাথে বলে দিলাম-‘পারব’, কিন্তু সন্দেজনক মানে কি জিজ্ঞেস করতেই তিনি হেসে উঠলেন। এবার বুঝিয়ে দিলেন। আমরা ‘ঠিক বুঝেছি’ ভাব নিয়ে ফিরে এলাম।

পরদিন থেকে আমাদের অলিখিত ডিউটি হলো ‘সন্দেহজনক লোক’ খুঁজে বের করা। প্রথম দিনই আমরা দৌড়ে গিয়ে তাকে জানালাম-‘একজনকে পেয়েছি কাকা’। এই খবরটা দেওয়ার সময় আমাদের সেকি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা! কাকা লোক পাঠিয়ে ব্যাটাকে ধরে নিয়ে গেল। পরে জানা গেল সে পরিচিত এক পাগল! প্রথম দিনে অভিযানে ‘ব্যর্থ’ হওয়ায় আমরা মুশড়ে পড়লাম। এর পর কাকা যে দায়িত্ব দিলেন সেটা পেয়ে আমরা আবারও উৎফুল্ল। মল্লিক পাড়া আর জোয়ার্দার পাড়ায় যেয়ে খবর আনতে হবে। ওই দুই পাড়া ছিল ‘মুল্লা’দের পাড়া। ওরা যে মুসলিম লীগের লোক সেটা পরে বুঝেছি। সেই পাড়ায় গিয়ে আমরা উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি করতাম, কিন্তু সত্যিকারের কোন খবর আনতে পারতাম না। শুধু এসে বলতাম-‘কাকা ওরা বসে বসে মিটিং করে’।

এপ্রিলের এই দিনগুলি খুব দ্রুতই যেন পার হয়ে যাচ্ছিল। একদিন শুনলাম আমাদের শহরে মিলিটারি আসছে! সারারাত সব পাড়ায় পাড়ায় সাজ সাজ রব পড়ে গেল! বড়রা রাতভর পাহারা দিল, কিন্তু মিলিটারি এলো না। ঢাকায় ২৫ তারিখে কি ঘটেছে সেটা আমরা প্রথম জানলাম গুড়ের ব্যাপারী সোবহানের কাছে। তার বাড়ি ছিল শহর থেকে চার-পাঁচ মাইল দূরে সাতগাড়িতে। সে নাকি ঢাকায় গুড়ের চালান নিয়ে যেয়ে আর ফিরতে পারেনি। তারপর তার কাছেই আমরা গোল হয়ে বসে গল্প শুনলাম! সে তার দেখা ঢাকার বর্ণনা দিল। বাবারা বা বড়রা হয়ত অন্য কোনভাবে জেনেছিল, কিন্তু আমরা সোবহান ব্যাপারীর কাছে ঢাকার কাহিনী জানার পর তাকে বীর পুরুষ মনে হতে লাগল। আরও যখন শুনলাম সে ঢাকা থেকে হেঁটেই বাড়ি ফিরেছে, তখন তাকে বিরাট মহাপুরুষ মনে হলো। আর এক বুড়ি ছিল খয়েরের মা। সে পার্ব্বতীপুর থেকে রেল লাইনের উপর দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরেছে! তার কাছে গল্প শুনলাম পার্ব্বতীপুরে কি ভাবে বিহারীরা বাঙালিদের কেটে প্লাটফর্মে বিছিয়ে রেখেছিল। বুড়ির কথায় মনে হলো ওখানে একটাও আর বাঙালি নেই, সব সাফ!

এপ্রিলের ১০ অথবা ১১ তারিখে আরও একবার যশোর থেকে প্লেন এসে চক্কর দিয়ে চলে গেল। সেদিন কোন বোমা পড়েনি। এর পর পরই বাবা বললেন-আমাদের বাসা চেঞ্জ করতে হবে। পরদিন রিকশা-ঠেলাগাড়ি করে দিনে দিনে আমাদের বাসা চেঞ্জ করা হলো। আমার চেনা পাড়া থেকে মাইল খানেক দূরে শহরের বাইরে যে নতুন সরকারী হাসপাতাল হয়েছে সেখানেই একটি ঘরে আমাদের ঠাঁই হলো,বাবা বলেছিলেন হাসপাতালে বোমা মারবে না। পাশের ঘরে উঠলেন রেজাউল মামারা। এই রেজাউল মামার আদি বাড়ি ইন্ডিয়ায়, এটা জানতাম, তবে কোথায় তা জানার দরকার হয়নি কখনো। বাসা বদলের পর মামা বলে রাখলেন – পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আমরা মুর্শীদাবাদ চলে যাব। তখনই জানলাম মামাদের বাড়ির আসল ঠিকানা। এই নতুন ঠিকানায় এসে আমার আর বাসার বাইরে যাওয়া হলো না খুব একটা। বাসায় আমার তিন বোনকে নিয়েই সময় কেটে যেতে লাগল। আমার পরের বোনটির বয়স ছিল ৮, তার ছোটির ৬ এবং সবার ছোটটির ৩/৪ বছর। মা অধিকাংশ সময় গ্যাস্ট্রিকের ব্যথায় অসুস্থ্য থাকতেন বলে এই বোনদের জামা কাপড় পরানো থেকে চুলও বেঁধে দিতে হতো আমাকে।

এরও তিন-চার দিন পরে বাবা চাচা আর মামা আলোচনা করে ঠিক করলেন আমরা ইন্ডিয়া চলে যাব, কারণ যে কোন দিন যশোর থেকে মিলিটারী আসবে। আমরা শুনছিলাম ইপিআর ক্যাম্পে অনেক পাঞ্জাবী মেরে ফেলার প্রতিশোধ নেবে তারা। একদিন রাতে বাবা,চাচা আর মামার আলোচনা শুনছিলাম। চাচা আমাকে সরে যেতে বললে বাবা বলেন- না থাকুক, ওদেরও সব কিছু জানা দরকার আছে। আমি অনুমতি পেয়ে হা করে তাদের কথা গিলছিলাম। সেই আলোচনার পয়েন্ট বাই পয়েন্ট মনে নেই, তবে মূল কথা ছিল তারা নিজেদের অসহায় ভাবছিলেন। ওদের কে যেন বলেছিলেন- সারা শহরে কোন প্রস্তুতি নেই, কেউ কিছুই করছে না, সবাই হাত গুটিয়ে বসে আছে, ঢাকার সাথেও কোন যোগাযোগ হচ্ছেনা, শহরে একটা বড় কোন মিছিলও নেই......তখনই মনে পড়ল ইপিআর ক্যাম্পের আগুনের পর শহরে কোন মিছিল হয়নি, আমরা লিফলেট নেওয়ার জন্য মিছিলের পেছন পেছন ছুটিনি!

আরও কয়েকদিন পরে আবারও হ্যাবা ডাক্তারের বাড়ির কাছে গেছি (বাবা-চাচারা রোজই যেতেন), হঠাৎ দেখলাম ইপিআর এর একটা জিপ দাঁড়ানো। এই প্রথম ইপিআরদের জিপ ওই বাড়ির সামনে দেখলাম। আগে আসলেও আমরা দেখিনি। আমরা ভেতরে চলে গেলাম, কেননা এই বাড়িতে তখন আমাদের অবাধ যাতায়াত। বাড়ির ভেতর দিকের বারান্দায় কয়েকটা চেয়ারে বসে অনেকেই কথা বলছে। তার মধ্যে কেবল হ্যাবা ডাক্তারকেই চিনতাম, আর চিনতাম বুলবুল ভাইয়ের ফ্রেন্ড আইনুল ভাইকে। আইনুল ভাই কলেজে পড়ত। হাতে ব্যাজ বেঁধে মিছিল করত। খাকি পোশাক পরা আর একজন লোককে দেখে আমরা প্রথমে মিলিটারী মনে করেছিলাম। বেঁটে খাট মত দেখতে, কিন্তু কেমন রাগি রাগি চেহারা। উনি চলে যাবার পর জানলাম উনি মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (অথবা মেজর ওসমান গনি)। পর দিন আমি একা আবার ডাক্তার কাকার বাড়ি গেলাম। আর এই দিন আমি প্রথম কোন বড় অফিসারের সাথে হ্যান্ডশেক করার সুযোগ পেলাম। ভয়ে আমার গায়ে কাটা দিচ্ছিল, আবার এক ধরণের অহংকারও হচ্ছিল-আমি কত বড় মানুষের সাথে হাত মেলাচ্ছি ভেবে। কাকা পরিচয় দিয়ে বললেন- ওরা আমার ক্ষুদে গোয়েন্দা! বলেই হো হো করে হেসে উঠলেন। আমার বুকের ভেতর তখন ঢিপ ঢিপ করছে!

তার পরদিনই এপ্রিলের কত তারিখ মনে নেই দুপুরের দিকে বাবা বললেন-কাল-পরশুই পালাতে হবে, পার্টি অফিসে খবর পেলাম বিশাল বাহিনী যশোর থেকে মার্চ করবে! যদিও ইপিআর ক্যাম্পের পূর্বপাশে চুয়াডাঙ্গা-যশোর রোডে নূর নগরের কাছে ব্যারিকেড দেওয়া হলো, ইপিআররা বালির বস্তা দিয়ে তার উপর বন্দুক তাক করে বসে পড়ল। শহরের সব বড় বড় মোড়ে ইপিআর আর সাধারণ মানুষ মিলে বালির বস্তা দিয়ে বাঙ্কার বানাল। কিন্তু বাবা বললেন- এসবে কিছুই আটকাবে না। আর্মিরা ট্যাঙ্ক নিয়ে আসছে, আর ইপিআরের কাছে এল এম জি! শহরে কোন পুলিশ দেখতাম না, কোথায় যেন চলে গেছে সব পুলিশ! শুধু কোর্ট পাড়ায় এসডিও বা জজদের বাড়ির সামনে কয়েকজন পুলিশ দেখতাম। আমি যখন জানলাম আমরা ইন্ডিয়া চলে যাব তখন কেন যেন মনে হলো আর যদি না ফিরি! যদি মরে যাই! তাই সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। তখনো আমি সিটে উঠে চালাতে পারিনা। কখনো তিন রডের ভেতর পা দিয়ে আবার কখনো রডে বসে হাফ-প্যাডেলে সাইকেল চালাতাম। সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সারা শহরে যত বন্ধু বান্ধব আছে সবার বাড়ি গিয়ে বলে এলাম- ‘আমরা ইন্ডিয়া যাচ্ছি’!

পরদিন হুট করেই আমাদের নতুন বাসার সামনে একটা ট্রাকটর এসে দাঁড়াল। শুরু হয়ে গেল চার-পাঁচটি পরিবারের বাঁধাছাদা। মামা আগেই মামী বুলবুল ভাই, খোকন, খুশি, তুহিনদের ওপারে পাঠিয়ে দিয়েছেন। মামার বাসায় একটি মেয়ে থাকত ১৬/১৭ বছর বয়সের, মামার মুর্শীদাবাদের আত্মিয়, সে আমাদের সাথে। মামা যাবেন না! হাসপাতালের ডাক্তার কম্পাউন্ডার কেউ যেতে পারবেন না। সারা দুপুর ধরে গোছগাছ চলল। আমি বোনদের আর আমার জামা কাপড় বাক্সে ঢোকালাম। ঘুড়ি লাটাই , লাটিম আর মার্বেল গুলো গুছিয়ে বাক্সে ঢোকানোর সময় বাবার ধমক খেয়ে ফেলে দিলাম, কিন্তু বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে কয়েকটা মার্বেল পকেটে নিলাম। মা তার এটা ওটা গোছগাছ করে সেলাই মেশিনটাও বেঁধে রাখলেন। হঠাৎ মা দেখলেন আমার পায়ে দেওয়ার স্পঞ্জ স্যান্ডেল নেই। জুতো বাক্সে নেওয়া হয়েছে কিনা তাও মনে নেই। কোন কিছু না ভেবে মা আমাকে টাকা দিয়ে বললেন- স্যান্ডেল কিনে আন। ওই তাড়াহুড়ায়ও আমি স্যান্ডেল কিনতে বড় বাজার চলে গেলাম, স্যান্ডেল কিনে কেবলই দোকান থেকে বের হয়ে বাসার দিকে হাটা দিয়েছি হঠাৎ কান ফাটানো আওয়াজ করে বড়বাজারের চৌরাস্তার উপর বোমা ফাটল! কে যেন আমাকে টান দিয়ে মাটিতে শুইয়ে দিল! আমার চোখেমুখে তখন ধুলোবালি একাকার! আমার মনে হলো আমি মনে হয় মরে গেছি! দিগ্বিদিগ জ্ঞানশূণ্য হয়ে মানুষ দৌড়ে পালাচ্ছে, বোমায় কতজন মারা গেছে কেউ বলতে পারছে না, আহতরা কোঁকাচ্ছে, হুড়মুড় করে রিকসাগুলো এদিক-ওদিক পালাচ্ছে, কিছুক্ষণ পর চৌরাস্তাটা যেন খেলার মাঠ হয়ে গেল! একটাও মানুষ নেই ! আমি পড়িমরি করে উঠেই বাসামুখো ছুট লাগালাম। কোথাও না থেমে এক দৌড়ে বাসায় ফেরার পর দেখলাম মা কাঁদছেন, আর বাবা মা’কে বকাবকি করছেন কেন আমাকে এই সময়ে বাজারে পাঠানো হলো বলে।

ট্রাক্টরের দুইটি ট্রলিতে সবাই উঠে বসে আছে, কেবল আমার জন্য অপেক্ষা। আমাকে কে যেন ট্রলিতে তুলে দিল। বাবা কয়েকজনের সাথে কথা বলছেন উত্তেজিত হয়ে। হাসপাতালের এক লোক খবর দিল বড়বাজারে বোমা(মর্টার শেল) মেরেছে পাক আর্মি। ওরা নূর নগর পর্যন্ত এসে গেছে! ইপিআর ক্যাম্প থেকে নূর নগর মাত্র দুই মাইল! সাথে সাথে আমাদের ট্রাক্টর রওনা দিল। নতুন হাসপাতাল থেকে কলেজ পার হয়ে কোর্ট বিল্ডিং পাশে ফেলে হেলেদুলে এগুতে থাকল ট্রাক্টর। মেইন রোডে উঠে যখন ডাক্তার কাকার বাড়ির পাশে এলাম বাবা লাফ দিয়ে নেমে গেলেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে বললেন-‘কেউ নেই’! আরও এগিয়ে সেই বড়বাজারের চৌরাস্তায় এসে বা দিকে মোড় নিল ট্রাক্টর। সামনে নদী। ব্রীজের উপর ওঠার পর শেষবারের মত পেছন ফিরে তাকালাম, ধুধু ফাঁকা চৌরাস্তা..... ব্রীজের ঢাল বেয়ে নেমে গেল দুই ট্রলি নিয়ে ট্রাক্টরটা.....পশ্চিমে তখন সূর্যটা ডুবছে, চারপাশ আঁধার হয়ে আসছে.....জনমানবহীন পথে ঘটাং ঘটাং করে আমরা ছুটে চলেছি অচেনা গন্তব্যে.......

চলবে.................

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): অচেনা গন্তব্যএকাত্তরযুদ্ধস্মৃতিএক কিশোরের বেঁচে থাকার লড়াই। ;এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতিকিশোর মুক্তিযোদ্ধামুক্তিযুদ্ধবাঙ্গালীবাংলাদেশীবাংলাদেশ১৯৭১৭১'৭১মনজুরুল হকস্মৃতিকথাগেরিলাপাকিস্তানপূর্ব বাংলাবিহারী197171'71bangladeshfreedom fighterliberation warbangladeshibanglaeast pakistanwest pakistan.... ; ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধস্মৃতিকথা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ রাত ৩:৫৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫২
আমি রোদের ছেলে বলেছেন:
৪র্থ প্যারার ৯ম লাইনে
থেকে বিভিন্ন পাড়ায় বাঙালি-বিহারী কেম যেন সুনশান!

৭ম প্যারার ১ম লাইনে
এপ্রিলের এই দিগুলি খুব দ্রুতই যেন পার হয়ে যাচ্ছিল।

শেষ প্যারার আগের প্যারায়
দিগি¦দিগ জ্ঞানশূণ্য হয়ে মানুষ দৌড়ে


============

পড়ছি আর শিহরন অনুভব করছি। বোমার বিস্পোরনের পর মাটিতে শুয়ে পড়ার দৃশ্য চোখে লেগে গেছে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক মুভি দেখলেও এরকম হয়। বর্ষাকালে যখন আমাদের গ্রামের রাস্তায় পানি উঠতো... তখন রাতে পানির বেয়ে হাঁটার সময় শব্দ শুনে একাত্তরের দৃশ্য কল্পনা করতাম। রাতের পানির শব্দ আমাকে একাত্তর চিনিয়ে যেতো। অনেকদিনপর আজ আবার একাত্তরকে খুব কাছ থেকে চিনলাম।



স্যালুট!!

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৬

লেখক বলেছেন:
ঠিক করে দিয়েছি। সন্ধ্যে ৭ টা পর্যন্ত অফিসে থেকে বাসায় ফিরেই মুনশিয়ানার স্টিকি পোস্ট! সেখানে গোটা চারেক কমেন্ট করে খেয়েদেয়ে লিখতে বসলাম। নিজে প্রুফ দেখার পরও ভুল থেকে গেছিল। থ্যাঙ্কস ভাইয়া।

লেখার প্রতিটি মুহূর্তে বার বার ফিরে যাচ্ছিলাম সেই সব দিনগুলোতে! মিশ্র অনুভূতি!!

২. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৪
দাম বলেছেন: দাম বলেছেন: প্রিয়তে।+
আপনার লেখার স্টাইলটা খুব সুন্দর, বুদ হয়ে পড়তেছিলাম।
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৮

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ আপনাকে। প্রিয়তে নেওয়ার মত লেখা কি এটা? হতে পারে আপনার ভাল লেগেছে। সেজন্য আরও একবার অভিনন্দন।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১১

লেখক বলেছেন:
আপনাকে দেখে ভাল লাগছে।
আশা করি আগামী পর্বগুলোতেও পাশে থাকবেন।

৪. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৬
হোরাস্‌ বলেছেন: এককথায় অসাধারন আপনার স্মৃতিচারণ। পড়তে পড়তে প্রতিটা দৃশ্য কল্পনা করে যাচ্ছিলাম। পুরোটা একসাথে পড়তে পারলে আরও ভাল লাগত।

স্যালুট।
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৮

লেখক বলেছেন:
পুরোটা একসাথে দিতে পারলে আমারও ভাল লাগত, কিন্তু ব্লগোস্ফিয়ারে অত বড় লেখা তো দেওয়া যাবেনা ভাই! স্ক্রিনে স্ক্রল করে করে পড়া আসলেই বিরক্তিকর!

আপনার স্যালুট যথাযথ স্থানে তুলে রাখলাম হোরাস্
ভাল থাকুন।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৬

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ লুৎফুল কাদের। আপনি কথামত এসেছেন, সে জন্য অভিনন্দন।

৬. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩২
শয়তান বলেছেন: এই পর্বটা বেশী জীবন্ত এবং মানবিক লাগল ।
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪৩

লেখক বলেছেন:
প্রতিটি পর্বেই কিছু না কিছু ভিন্নতা থাকবে। কোনটা মনে হবে মানবিক, কোনটা কেবলই বর্ণনামূলক আবার কোনটা মনে হবে অতিকথন!

সে যাক। একটা অদ্ভুত ব্যাপার খেয়াল করলাম! প্রথম পর্বে যাদের নাম বোল্ড করে দেওয়া তাদের কেউই এই পোস্টে প্রবেশ করেননি!!!!!

৭. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০১
শয়তান বলেছেন: ব্যপার্স না ।

অধিকাংশরাই ইদানিং অফলাইনে পড়তে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন :) । ব্লগ রাজনীতিকরা তো আরেক কাঠি সরেষ :D


প্রাসঙ্গীক একটা কথা বলে রাখি, বাকি পর্বগুলাতেও যদি এমনধারা মানবিকতা রাখতে পারেন তবে সম্পুর্ন লেখাটাকে বই আকারে রূপ দেবার অনুরোধ/উপরোধ থাকলো ।


০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৫

লেখক বলেছেন: "বাকি পর্বগুলাতেও যদি এমনধারা মানবিকতা রাখতে পারেন তবে সম্পুর্ন লেখাটাকে বই আকারে রূপ দেবার অনুরোধ/উপরোধ থাকলো ।"
এখানে "মানবিকতা" বলতে ঠিক কি বোঝাচ্ছেন একটু পরিষ্কার করবেন। আমি নিশ্চিত নই, আমি যেটা বুঝছি আর আপনি যেটা বলছেন তা এক হচ্ছে কি-না!

গত পোস্টে মোস্তাফিজ রিপনও এই কথাটি(বড় কলেবরে/বড় পরিসরে) বলেছিলেন।

৮. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১১
শয়তান বলেছেন: ইদানিংকালের মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য নাটক নভেল প্রভৃতিধারায় একটা প্রচ্ছন্ন গৎবাঁধা ভাব এসে গেছে । অনেকটা এমন যেন ফার্মের ডিম অথবা মুরগি খাচ্ছি কিন্তু তেমন স্বাধ নেই নেই ভাব ।

এই সিরিজটায় ঐ স্বাধহীন ভাবটা অনুপস্থিত রয়েছে ।
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২০

লেখক বলেছেন:
হুম। বুঝলাম। সম্ভবত ৫ম পর্বটায় চমকে উঠবেন! ওই পর্বের কিছু কথা বছর তিনেক আগে কাগছে ছাপা হয়েছিল। সেই পর্বটাই এই লেখার সেতুবন্ধ হয়ে উঠতে পারে.....

৯. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৫
শয়তান বলেছেন: প্রসিদ্ধ কারো গোপন তথ্য?
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩৫

লেখক বলেছেন:
নাহ্ , বুক চেরা হাহাকারের কথা.... এখন আর বলা যাবেনা। শনিবারেই দিতে পারব।

১০. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৬
এমিল বলেছেন: এক নিঃশ্বাসে পড়লাম...
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৫১

লেখক বলেছেন:
থ্যাঙ্কস এমিল। চেষ্টা করছি রোজই একটি করে পর্ব দেওয়ার। ৫/৬ পর্বের ভেতরেই যুদ্ধের বর্ণনা চলে আসবে।

১১. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৫৩
রোহান বলেছেন: + + +

প্রতিটা দৃশ্য যেনো চোখের সামনে ভাসছে... পরের পর্বগুলোর অপেক্ষায়..
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৫৩

লেখক বলেছেন:
হুট করে একটু বসার সময় পেলাম। এখন আর থাকতে পারছিনা। রাতে সবার মন্তব্য নিয়ে কথা বলা যাবে। আপাতত বিদায়।

ধন্যবাদ রোহান।

১২. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:২৭
রাজর্ষী বলেছেন: ধন্যবাদ ভালো লাগলো
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২৭

লেখক বলেছেন:
অভিনন্দন রাজর্ষী।

১৩. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৮
নাজমুল আহমেদ বলেছেন: পড়ার সময় রূপকথার মত লাগতেছিল....... আপনার জায়গায় নিজেকে কল্পনা করতেছিলাম। দারুন লাগতেছিল........ চলুক.......
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২৯

লেখক বলেছেন:
সাথে থাকুন। নিরাশ করব না। ঠিকই এক রূপকথার কাহিনীর চেয়েও উথাল-পাথালের কাহিনী শোনাব....

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩০

লেখক বলেছেন:
সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা।

১৫. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:১০
যীশূ বলেছেন: দারুন! আপনার অভিজ্ঞতায় মুক্তিযুদ্ধকে দেখছি। আপনার লেখায় বর্ননাও দারুন।
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩২

লেখক বলেছেন:
কি বলতে পারি! শুধুই কৃতজ্ঞতা।

১৬. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৫৬
আমি রোদের ছেলে বলেছেন:
মনজু ভাই,
আপনার সে সময়ের কোন ফটো থাকলে মেইল দিয়েন। যে ক'টা থাকে

দেখি লেখাগুলো দিয়ে কিছু করতে পারি কিনা।
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৪

লেখক বলেছেন:
ফটো? ফটো তো নেই! যা আছে তা প্রিন্টেড। স্ক্যান করে দিতে হবে, দেখি কাল-পরশু
দিতে পারি কি-না।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৫

লেখক বলেছেন:
পড়তে থাকো...........

১৮. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:০০
মুনশিয়ানা বলেছেন: ক্লাসিক এক কাহিনী হয়ে উঠতে যাচ্ছে আপনার এই পোষ্ট, মনজু ভাই।

শয়তানের কথার সুত্র ধরে বলতে চাই- এটা অবশ্যই বই আকারে প্রকাশ দেখতে চাই। এ রকম ঝরঝরে বর্ণনার লেখা পড়তে পারা হবে এক দারুন অভিজ্ঞতা।
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৮

লেখক বলেছেন:
বই অনেক পরের ভাবনা। আপাতত লেখাটা বিরামহীনভাবে শেষ করতে চাইছি, যদি তা পারি তাতেই আমি ভারমুক্ত! প্রকাশের অভাবে স্মৃতিরা ভিড় করে ক্ষতবিক্ষত করছিল..........

অভিনন্দন মুনশিয়ানা।

১৯. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০০
শ।মসীর বলেছেন: ঘুরে আসলাম সেই দিন গুলোতে......................বাকী পথটুকুর অপেক্ষায় থাকলাম।
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৯

লেখক বলেছেন:
মনে করে এই পর্বেও এসেছেন সেটাই অনেক বড় পাওনা।
শুভেচ্ছা রইল।

২০. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৪৬
লাইলী আরজুমান খানম লায়লা বলেছেন: ব্লগে এত লেখা থাকে যে সবটাতো আর পড়া হয় না। তাছাড়া সময়ও একটা ব্যাপার।
এখন ভাবছি এই লেখাটা না পড়লে অনেক অনেক মিস্ করতাম।
প্রিয়তে রাখলাম
ভাল থাকবেন
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪৯

লেখক বলেছেন:
ঋণী করে দিলেন!
আশা করি কষ্ট করে পরের পর্বগুলোও পড়বেন।
আপনিও ভাল থাকবেন।

২১. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫২
দেশী পোলা বলেছেন: এক টানে তাড়াহুড়ো করে পড়লাম, পরের পর্বের অপেক্ষায়
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫০

লেখক বলেছেন:
টানা লিখে যাচ্ছি। আমি জানি একবার থামলে আর সময়মত লিখতে পারব না, তাই যতই কষ্ট হোক লিখে যাচ্ছি.....

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫২

লেখক বলেছেন:
একঝলক দেখেই বুঝতে পারলাম এই পর্বটি ব্যতিক্রমী হতে যাচ্ছে। একটু পরে সময় নিয়ে পড়ব।

ধন্যবাদ।

২৩. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫১
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: পড়ে যাচ্ছি।
থামবন না, দয়া করে।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৪

লেখক বলেছেন:
নাহ্ থামার সুযোগ নেই। ৩য় পর্ব ইতিমধ্যেই পোস্ট করেছি।
আপনার নিয়মিত সহচর্য পেরণা যোগাচ্ছে।

২৪. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১৮
চতুষ্কোণ বলেছেন: মনে হলো সেই দিনগুলোতে চলে গেছি। চমৎকার বর্ণনা। খুউব ভালো লাগল।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৪

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ চতুষ্কোণ।

২৫. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৩
পরশমনি বলেছেন: সেই দিনগুলো অনুভব করা যাচ্ছে। ভয়াবহ সাবলীল স্মৃতিচারণ।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৩

লেখক বলেছেন:
আপনার কথাগুলো অন্যরকম ভাল লাগল।
আশা করি প্রতিটি পর্বেই থাকবেন।

২৬. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৫
শয়তান বলেছেন: যাক । মুনশিয়ানারে ধন্যবাদ ।আমার পাশে সাপোর্টার হিসাবে আসার জন্য । অবশ্য সামনে আরো অনেকেই আসবো আশা রাখি :)
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১২

লেখক বলেছেন:
মুনশিয়ানার মুন্সীয়ানা যথেষ্ট পরিপক্ক এখন।

অট. গত বছর ১০ হাজার গেছে বইয়ের পেছনে। লজ্জায় কোন স্টলে বেঁচতে দিইনি, বাসায় প্রায় শ'খানেক বই অলস বসে আছে! এবার আরও গরিব হয়ে গেছি, টাকা কোথায় পাব?

২৭. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৩
শয়তান বলেছেন: সিরিজটা পুর্নাঙ্গতা পাক । তখন মন হয় না প্রকাশকের আকাল হবে ।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৪

লেখক বলেছেন:
আপনার মুখে ফুলচন্দন পড়ুক!

২৮. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:০৩
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
এযেন আপনার লেখা নয়.....এর মধ্যে যেনো আমিও আছি।
অসাধারন.......।
ছবির মত সব দেখতে পেলাম।
বাজারের সেই আগুন......।মানুষের ছুটোছুটি।
আপনার মায়ের অস্হির অপেক্ষা........সাইকেল চালিয়ে আপনার ছুটোছুটি।

লিখতে বসে আপনার মনের যে অনুভব।
লিখবার পর মুক্তির যে আনন্দ.........।
সব দেখতে পাচ্ছি।
স্যালুট আপনাকে।
লেখা চলুক................
সামনের পর্বে কি যে অপেক্ষা করছে....কে জানে।
তবু শেষটা তো জানি.........আমাদেরবিজয় হয়েছিলো......।অনেক অনেক ত্যাগের বিনিময়ে.......।
তাই মনটা শক্ত করেই পড়ছি।
ভালো থাকবেন।
বিজয়ের মাসে।
বিজয়ের আনন্দে।

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪০

লেখক বলেছেন:
তিনটি পর্বের প্রত্যেকটি লেখার শেষ দিকে এসে যে অনুভূতি হয়েছিল, ঠিক তেমনই অনুভূতি হলো সাজি আপনার মন্তব্য পড়ে! বার বার ভুল বাটনে চাপ পড়ে যাচ্ছিল! রিডিংগ্লাস খুলে আবার পরে নিতে হচ্ছিল!

এখন আপনাকে লিখতে গিয়েও পারছি না!! কষ্ট হচ্ছে।

২৯. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৮
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
যত কষ্ট ।
যত বেদনা...........সব জানবার অপেক্ষায় আছি।
যেই পথ একদিন একা পারি দিয়েছিলেন।
সেই যুদ্ধ আমাদের সবারই ছিলো......

মন খারাপ করবেন না।
প্রার্থনা করি স্মৃতিরা আছড়ে পড়ুক সজীব হয়ে আপনার লেখনীতে।
আপনার লেখার সেই সজীবতার কথা সবাই জানুক।
ভালো থাকবেন।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:২২

লেখক বলেছেন:
নাহ্ আর মন খারাপ করব না। এই যে কথাগুলো বলতে পারছি, আপনারা আছেন বলেই তো! আর কোথায় গিয়ে কাকে ধরে বলতাম! একবার যখন শুরু করতে পেরেছি তখন নিশ্চই আগল ভেঙ্গে স্মৃতিরা বেরিয়ে আসবে...........................................

আপনিও ভাল থাকবেন। সকাল হয়ে গেল! আজ আর ঘুমানো গেল না!!

৩০. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:০১
রাগ ইমন বলেছেন: যশোর , চুয়াডাঙ্গা ! আপনি আব্বুকে চেনেন না কেন?
ওহ, আপনার আব্বু চিনতে পারেন হয়ত ।

ধ্যাত! আপনাদের যোগাযোগটা করিয়ে দেওয়াটা দরকার ছিলো সবচেয়ে আগে । প্রচন্ড বিরক্ত লাগছে এখন ।

লেখাটা উপভোগ করছি ভীষন । আব্বুর কাছে বসে যুদ্ধের গল্প শোনার রোমাঞ্চ পরতে পরতে !

( কবে পরিচয় করিয়ে দেব বলে বিপদে ফেলবেন না প্লিজ। আমিই জানাব। খুব তাড়াতাড়ি নয়)
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৩

লেখক বলেছেন:
"আপনার আব্বু চিনতে পারেন হয়ত । "

নাহ্ আর সে সুযোগ নেই! বাবা এসবের অনেক উর্ধে চলে গেছেন
২৬ সেপ্টম্বর, ২০০৭

সম্ভবত আপনার আব্বুকে দেখলে চিনতে পারব। অপেক্ষা থাকল।

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৪

লেখক বলেছেন:
সাথে থাকুন রিপন। কৃতজ্ঞ।

৩২. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৯
নির্ঝরিনী বলেছেন: একটানে পড়ে ফেললাম...

এত প্রানবন্ত আপনার উপস্থাপনা, সব ঘটনাই যেনো চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি...

প্রিয়তে রেখে দিলাম...

+++++++++
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৫

লেখক বলেছেন:
আমি কৃতজ্ঞ নির্ঝরিনী।

৩৩. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০০
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: পড়েই যাচ্ছি, বলার অনেক কিছু থাকলেও ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৭

লেখক বলেছেন:
অপেক্ষা সৌরভ। শুধুই অপেক্ষা।

৩৪. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০০
রাগ ইমন বলেছেন: আমার আব্বুও বয়সের কাছে ন্যুজ হয়ে পড়ছেন ধীরে ধীরে । সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকি। এই দেশটার জন্য এই মানুষটার অনেক কিছু বলার ছিলো, জানানোর ছিলো ।

আপনার আব্বুর জন্য দোয়া রইলো ।

আপনার ই মেইল এড্রেসটা দেবেন একটু? আমাকে মেইল করুন ,

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৬

লেখক বলেছেন:
আপনার আব্বু লিখতে না চাইলে আপনি তার কাছে শুনে শ্রুতি লিখুন। সেটাও অনেক বড় পাওয়া হবে।


আমার মেইল আইডিঃ monjuraul এ্যাট gmail .com

এ্যাড করে নিলাম।

৩৫. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:৩৪
তামিম ইরফান বলেছেন: এক নিঃশ্বাসে পড়লাম।

একটা প্রশ্ন ছিলো মনজু ভাই।২টা পর্বতেই প্লেন টহল দেওয়ার কথা আসছে।এই প্লেনগুলি কি পাকিস্তানী প্লেন ছিলো?
০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৪

লেখক বলেছেন:

এই প্লেন আসত যশোর এয়ার বেজ থেকে। চুয়াডাঙ্গাকে সে সময় ধরে নেওয়া হতো মুক্তিযুদ্ধের ঘাটি এলাকা। এখান থেকেই সংগঠিত হওয়ার পর মেহেরপুরের সেই আমবাগানে অস্থায়ী সরকার শপথ নিয়েছিল।

এই বিষয়গুলো আরও পরে আসবে।

৩৬. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:২৯
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
পড়ে যাচ্ছি ।

আপনার এ লেখা অবশ্যই মলাটবদ্ধ হওয়া উচিত ।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০১

লেখক বলেছেন:
আপাতত লেখাটা শেষ করি শিপন। মলাটের কথা পরে ভাবা যাবে।
সাথে থাকুন কেবল।

৩৭. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৪৩
সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: প্রতিটি লাইন পড়ছি আর আমিও আপনার সেই সময়ের সহযাত্রি হয়ে ছুটে চলছি মুক্তির আসায়।

পরের পর্বে যাচ্ছি।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫১

লেখক বলেছেন:
মোরা যাত্রী একই তরণীর.............

৩৮. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২৯
মেহবুবা বলেছেন: দুটো পর্ব পড়লাম ।
বিস্তারিত লিখেছেন , পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল সেসব জায়গায় ছিলাম উপস্থিত ।
আপনার লেখার জন্য আল্লারাখার কথা জানা হল । তাকে আল্লাহ বেহেসত নসীব করুক ।
আপনার আম্মার জন্য শ্রদ্ধা , তাঁর সাহায্য পাচ্ছেন আপনি ।

অ;ট; খুলনার একটা বাসায় শুনেছিলাম বসবার ঘরে একটা শার্ট আছে একজন শহীদের । দেখা হয়নি । ( খুলনার মেয়র ছিলেন এনায়েত , তার শ্বশুর ছিলেন সে শহীদ ) ।
১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২২

লেখক বলেছেন:
ওই শহীদের সার্টের মত অনেক কিছুই অনেকের বাড়িতে সজত্নে রাখা আছে। স্মৃতিকাতর সেই সব স্মৃতি কেবলই কষ্ট বাড়ায়। আমার বোনের কাছে আমাদের সেই সসপ্যানটি রাখা আছে, যাতে করে আমি মাথায় করে প্রথম লঙ্গরখানা থেকে ভাত এনেছিলাম!(এটা পরের দিকের পর্বে আছে)

খুলনা মুক্তিযুদ্ধের এক ডার্কহর্স! দেশ স্বাধীনের অনেক পরে বীরত্বের জন্য ক্যাপ্টেন খেতাব পাওয়া ফহম কে রাজাকাররা বাহাত্তর সালে লঞ্চ থেকে নামিয়ে দিনেদুপুরে খুন করে! এটা অসম্ভব ব্যাপার! অথচ তা-ই ঘটেছিল খুলনায়।

শুভেচ্ছা মেহবুবা।

৩৯. ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩৩
অপ্‌সরা বলেছেন: কি সব ভয়াবহ দিন কাটিয়েছিলে ভাইয়া।

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২১

লেখক বলেছেন:
অসামান্য অভিজ্ঞতা অর্জনের কাল.....

৪০. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:০১
পি মুন্সী বলেছেন: মনজু, আপনার লেখাটা এই প্রথম দেখলাম। কপালই খারাপ বলতে হবে। অনেক আগেই শিরোনামে দেখেছিলাম আপনার এই সিরিজের। কিন্তু খুলে পড়িনি একটাও; মানে শিরোনামেই ব্লকড হয়ে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম কোন এক অজানা কিশোরের যুদ্ধে বীরত্ত্বগাথা কোন কাহিনী হবে, জীবন বাজি রেখে কী করেছিল সেইসব। বিজয়ের মৌসুমে আপনার তাঁকে পরিচয় করে দেবার প্রয়াস হবে হয়ত। আপনি যে আমাকে এত বড় ভুল প্রমাণ করে বসে আছেন আমি টেরও পাইনি।
যখন থেকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পড়বার জানবার আগ্রহ জন্মেছিল সেই ১৯৭৬ থেকে নব্বইয়ের দশক অবধি এজাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক বা গল্প-উপন্যাসে কোন লেখাই বাদ দেইনি। এরপর মনে হয় মনের দিক থেকে একটু পরিপক্ক হয়েছিলাম, পড়ার বিষয়েরও লিষ্ট বড় হচ্ছিল; এদিকে আজকাল বয়সের ইঙ্গিতও পেতে শুরু করেছি। পড়া বা লেখা যা করার বেছে বেছে না করলে বাকি জীবনে অদক্ষ টাইম মেনেজমেন্টের জন্য নিজেকেই দুষব, আপসোস আরও বাড়বে বৈ কমবে না; এটা করার কোন মানে হবে না বুঝি; তাই বাছাবাছি। সেই বাছাবাছির চক্করে পড়ে আমাকে প্রতারিত করেছিল আপনার শিরোনাম; এই কিশোর আপনি নিজেই এটা বুঝিনি।
এই কিশোর আপনি নিজেই বলে নয়, বড় হয়ে পিছন ফিরে এক কিশোরের কালের দৃষ্টিতে দেখা মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা দেখা, নিখুত বর্ণনা, লেখা সম্ভবত এটা প্রথম। আপনার এই লেখার বিশেষ তাৎপর্য এখানেই। এরকম আগে কখনও দেখিনি। কোন স্ক্রিপ্টের দৃশ্যকল্প তৈরির সময় ঘটনাকালকে মুর্ত করে তোলার কথা খেয়াল রেখে তার ভিতর মালমশলা রেখে তা রচনা করতে হয়, আপনার তৈরি দৃশ্যকল্প স্বতঃস্ফুর্ত ও জীবন্ত - নিজগুণে একালে লেখার সময়ও তা আপনাতেই জীবন্ত। বর্ণনা শুনে মনে হচ্ছে আমি আপনার চেয়ে একটু বড়ই হব। কিন্তু তাসত্ত্বেও বারবার মনে হচ্ছে ওটা আপনি না আমি, সব মিলে যাচ্ছে, আমার কথাই আপনি লিখে চলেছেন।

এককথায় বললে এটা আপনার এক সাংঘাতিক রচনা, অপূর্ব।
এর লেখক মনজুকে আমি চিনতাম না। না চেনা হলে এ জীবনের নানান অর্জন-ব্যর্থতার সাথে আরও কিছু যোগ হত। আগে কোথাও বলেছিলাম কী না মনে নাই, তবু আবার বলি। মনজু সফল হবে তার মানবিক ক্ষমতাগুণে; বড় ভুল করা থেকে বেঁচে যাবে - অভিজ্ঞতা প্রতি সৎ আর প্রাকটিক্যাল হবার কারণে। মানুষের জীবন-অভিজ্ঞতা বহু ঘটনায় ঠাসা থাকে, এর সবগুলোই তাৎপর্যপূর্ণ বিশেষ হয় না। এর কিছু অভিজ্ঞতা থাকে যা কয়েক প্রজন্মকে শিক্ষার উপাদান হিসাবে সঞ্চয়ে থেকে যায়, জীবনের বড় ভুলগুলো করা থেকে তাঁদের বাঁচিয়ে দেবার ক্ষমতা রাখে। আপনি সেই উপাদান সংগ্রাহকদের একজন। আপনাকে কৃতজ্ঞতার সালাম জানাই। ভাল থাকবেন।
১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২৬

লেখক বলেছেন:
"মনজু সফল হবে তার মানবিক ক্ষমতাগুণে; বড় ভুল করা থেকে বেঁচে যাবে - অভিজ্ঞতা প্রতি সৎ আর প্রাকটিক্যাল হবার কারণে। মানুষের জীবন-অভিজ্ঞতা বহু ঘটনায় ঠাসা থাকে, এর সবগুলোই তাৎপর্যপূর্ণ বিশেষ হয় না। এর কিছু অভিজ্ঞতা থাকে যা কয়েক প্রজন্মকে শিক্ষার উপাদান হিসাবে সঞ্চয়ে থেকে যায়, জীবনের বড় ভুলগুলো করা থেকে তাঁদের বাঁচিয়ে দেবার ক্ষমতা রাখে। আপনি সেই উপাদান সংগ্রাহকদের একজন।"
-----------------------
এটা আপনি আমার "জাহাজভাঙ্গার ভাগাড়ে মানুষ আর প্রকৃতির নিদারুন বিপর্যয়" পোস্টে বলেছিলেন মনে আছে।

আপনার এতবড় কমপ্লিমেন্টস পেয়ে আবেগাক্রান্ত হই। এই সিরিজেরই ১০ম পর্বে এক ছেলের বিবরণ আছে - জগন্নাথ। আমার প্রথম শিক্ষাগুরু। আজো সে আমার নমস্য। তার দেখানো পথের সন্ধান করে চলেছি নিরন্তর.......

৪১. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:০২
নিবিড় অভ্র বলেছেন: এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম পুরোটা.....
১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪১

লেখক বলেছেন:
অশেষ ধন্যবাদ নিবিড় অভ্র।

৪২. ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:২৯
ত্রেয়া বলেছেন: প্রতিটা মূহুর্তই যেন দৃশ্য হয়ে চোখে ধরা দিচ্ছিলো পড়ার সময়,,এত প্রাণবন্ত আপনার লেখা।
মনে হচ্ছে আপনার চোখে একাত্তরের দিনগুলো দেখছি।

শুধু ট্রাক্টরের ঐ যায়গাটাতে একটু থমকাতে হয়েছে আমাকে।
ট্রাক্টর তো ক্ষেতে ব্যাবহার করার এক রকম মেশিন তাই না,, মানে ওটার ট্রলি করে আপনার সবাই কিভাবে গিয়েছেন সেটা বুঝিনি।
আপনি যে ট্রাক্টর বুঝিয়েছেন সেটা কি অন্য কোন গাড়ি?

বিব্রতকর প্রশ্নের জন্যে সত্যিই দুঃখিত :|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:০৩

লেখক বলেছেন:
এই ট্রাক্টরগুলো দিয়েও চাষ করা হয়, তবে এগুলো বড়। ম্যাসি ফার্গুসন নামের এই ট্রাক্টরগুলোর পেছনের চাকা অনেক বড়। এর সাথে অনেকগুলো ট্রলি লাগিয়ে রাস্তায় মালামাল আনা-নেওয়া করত। সচারচর আমরা যেগুলো দেখি সেগুলো ছোট। একজনে বসে চালায়।

বিব্রত হওয়ার কি আছে! আপনি তো ঠিকই বলেছেন। সাধারণত ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষই করা হয়।

৪৩. ০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৩
মেহবুবা বলেছেন: নদীটার নাম ( যে নদীটা ভিকটোরিয়া জুবিলী স্কুলের কাছে ) কি ?
আপনার স্থায়ী ঠিকানা তাহলে খুলনা নয় , কোথায় ?
০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০৪

লেখক বলেছেন:
নদীটার নাম মাথাভাঙ্গা।

এই তো ঝামেলায় ফেলে দিলেন মেহবুবা!

আমার জন্ম খুলনায়, কিন্তু ছয় মাস বয়স থেকেই চুয়াডাঙ্গায় বেড়ে ওঠা। যুদ্ধের পর পরই দর্শনা। তারপর পায়ের তলে সর্ষে নিয়ে এক জেলা থেকে আর এক জেলায়....
এরই ভেতর মাঝে মাঝে কয়েক মাসের জন্য খুলনার গ্রামের বাড়ি....সে আর এক কাহিনী।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৩৬৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারিদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয়,যারা মানুষ ।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ