আমার প্রিয় পোস্ট

যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরানী প্রকাশ্য পথে হত্যার প্রতিশোধ চায়না আমি তাদের ঘৃণা করি

এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি < ৬ > বাস্তবের শক্ত জমিনে প্রথম পদক্ষেপ

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০৭

শেয়ারঃ
0 0 0



বাবার ঘাড়ে মাথা রেখে সত্যি সত্যিই আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, অথবা ঘুমের ঘোরে ছিলাম। বাবা আমাকে ঘরে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেওয়ার সময় ঘোর কাটলে আমি উঠে বসে এত দিনকার সব কথা একসাথে বলার চেষ্টা করলাম, বাবা আমাকে থামিয়ে দিলেন, বললেন-পরে শুনব, তুমি ঘুমাও। কত উদ্বিগ্ন রাতের ঘুম যেন একসাথে ভর করে এলো, আমি পরম নিঃশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়লাম। অনেক বেলায় আমাকে বাবা ডেকে তুললেন। কলের পানিতে গোসল করলাম। মনে পড়ল প্রায় সাত-আট দিন গোসল করা হয়নি! তার কয়েক ঘন্টা পর বাবাকে নিয়ে সেই বুড়ো দাদুর দোকানে গেলাম। দাদুকে কিছুই বলতে হলো না, তিনি আমার সাথে বাবাকে দেখেই বুঝতে পারলেন। আমাদের বসতে দিয়ে যে কথাটি বললেন সে সময় আমি তার কোনও মানে বুঝতে পারিনি। মনে আছে তিনি বলেছিলেন-‘আপনার ছুয়ালের মায়ের দুধি জোর আছে, আমাগের ধর্মের হলি বলতাম অর্জুণ হও রে বাছা’! পরে দাদুর সাথে মোটামুটি এমন কথা হলো, আমরা মুর্শীদাবাদ থেকে এখানে চলে আসব। দাদুর দোকানের পেছনে একটা গোডাউন মত আছে আপাতত সেখানেই উঠব। তারপর দেখা যাবে। সেখান থেকে বিদায় নিয়ে ওই দিনই সন্ধ্যে নাগাদ আমি আর বাবা ফিরে চললাম মুর্শীদাবাদ। এবার পথ আমার চেনা। আমি এখন বাবার গাইড! এক একটা অন্যরকম জায়গা আসে আর আমি বাবাকে তার বর্ণনা দেই। লাইন নদীর(অথবা খাড়ি) পারে এসে আমি বাবাকে বললাম-‘এই নদী দিয়েই নবাব সিরাজউদ্দৌলা পালাতে গিয়ে ধরা পড়েছিল, এই সেই আম বাগান, এই সেই পলাশী.... বাবা যেন চেনেই না এমন করে শুনছিলেন।

পর দিন দুপুরের আগেই বাবাকে নিয়ে যখন আমি সুন্দরপুরের বাড়িতে পৌঁছুলাম তখন আমার একধরণের গর্ব হচ্ছিল যা আমি প্রকাশ করতে পারছিলাম না, পরে মায়ের কাছে শুনেছি, আমি নাকি বলেছিলাম-‘এই যে বাবা, আমি বাবাকে খুঁজে নিয়ে আসলাম’! সেই দিনটা আমাদের অসম্ভব আনন্দে কাটল, কিন্তু রাতে যখন শুনলাম আমাকে অচেনা জায়গায় পাঠিয়ে সেই যে মা খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করেছে তাকে নাকি কেউই খাওয়াতে পারছিলনা! শেষে বড় দুই বোন কান্নাকাটি করে মা’কে খাইয়েছিল। বাবাও একবার মা’কে এ নিয়ে বললেন-‘তুমি পারলে কি ভাবে, ও যদি হারিয়ে যেত তাহলে কি হতো? আমিও নেই আর ছেলেও নেই, তখন কি হতো’? মা খুব শক্ত মানুষ জানতাম। মার নাকি বিশ্বাস ছিল আমি বাবাকে খুঁজে না পেলে ঠিকই বাড়ি ফিরে আসতে পারব। সেই রাতেই আমাদের সামান্য কিছু মালপত্র গোছানো হয়ে গেল। পরদিন সকালেই আমরা আবার ফিরে চললাম বেতাই। খুব অদ্ভুত একটা ব্যাপার দেখলাম! ওই বাড়ি থেকে বিদায় নেবার সময়ও মা কাঁদছেন, কিন্তু আমার মোটেই কান্না আসেনি। আমি আসার সময় কেবল ওই বাড়ির আমার বয়সী ছেলেটাকে ( আমিনুল) বুলবুল ভাই আর খোকনকে বলে বিদায় নিলাম। এবার দিন পার হয়ে একটু রাত হতেই আমরা বেতাই এসে নামলাম। কথামত দাদুর দোকানের পেছনের সেই গুদাম ঘরে আমাদের থাকার ব্যবস্থা হলো। বাবা আমাদের ঘরে তুলে দিয়েই ক্যাম্পে চলে গেলেন। রাতে আর আসলেন না। সেই রাতের খাবারটা দাদুর বাড়ি থেকেই আসল। দাদু বলে গেলেন-‘তুমাগে এই খাবার খাতি অসুবিদে হলি কাইল থে নিজিরা রান্না করি নিবা’। আসলে আমাদের কোন অসুবিধাই হয়নি। এই সময় আরও একটা অদ্ভুত ব্যাপার ঘটল! আমি বাবাকে সাথে নিয়ে সুন্দরপুরে ফেরার পর মা আমাকে ধরে কাঁদেননি, সারাটা পথে কোথাও কাঁদেন নি, কিন্তু এখানে এসে তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষণ কাঁদলেন আর বিড় বিড় করে বললেন-আর কখনো আমাকে একা ছেড়ে দেবেন না!

পর দিন কি কারণে যেন আমাদের কোন রান্নাবান্নার আয়োজন হলো না। বাবা সকালেই আমাদের বলে বর্ডারে চলে গেলেন টিম নিয়ে, বলে গেলেন ফিরতে দেরি হতে পারে। দুপুর গড়িয়ে গেলেও খাবারের ব্যবস্থা হলোনা। দাদুকেও বলা হয়নি খাবার দিতে। শেষে মা আমাকে লঙ্গরখানায় পাঠালেন। আমি একটা বড় সসপ্যান নিয়ে লঙ্গরখানায় লাইনে দাঁড়ালাম। লম্বা লাইন। একসময় আমার পালা এলো। বড় হাতা ভরে নরম খিঁচুড়ি দেওয়া হলো। একদিকে রান্না হচ্ছে আর একদিকে বিলি করা হচ্ছে। গরম খিঁচুড়ি ভরা সসপ্যান মাথায় নিতেই মাথা যেন পুড়ে গেল! তাড়াতাড়ি গায়ের গেঞ্জি খুলে সেটা মাথায় দিয়ে তারপর সাসপ্যান মাথায় করে ঘরে ফিরলাম। তখন প্রায় বিকেল। সকাল থেকে বোনরা কিছুই না খেতে পেয়ে আকুল হয়ে ছিল। সেই প্রথম আমরা শরণার্থীদের মত লঙ্গরখানার খাবার খেলাম। মা মনে করেছিলেন বাবা কিছু ব্যবস্থা করে যাবেন, কিন্তু বাবা হঠাৎ করেই বর্ডারে চলে গেলেন। আমাদের ওই ঘরের পাশে একটা বেডফোর্ড ট্রাক পড়ে ছিল। চুয়াডাঙ্গা লেখা। কার তা জানিনা। সেটাই আমার বোনদের খেলার জায়গা হয়ে উঠল। পাশেই ছিল বড় একটা পুকুর। মোটকথা কোন কিছুতেই আমাদের সমস্যা হচ্ছিলনা।

তিন-চার দিন পরে বাবা ফিরে বললেন আমরা লালবাজার চলে যাব। সেখানে একটা জায়গা দেখা হয়েছে যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প হবে। ক্যাম্পের পাশেই যে গ্রাম সেখানে এক বাড়িতে আমাদের থাকার ব্যবস্থা হবে। এই গ্রামের পাশ দিয়েই আমরা রিকসা করে প্রথম বার বেতাই বাজারে গিয়েছিলাম। দুই তিনদিন পর আমরা মালপত্র গুছিয়ে চলে গেলাম সেই গ্রামে। যে ঘরটায় থাকার ব্যবস্থা হয়েছে সেটা আগে ছিল গোয়াল ঘর। তার উপর নতুন মাটি ফেলে ঘরটাকে মোটামুটি থাকার মত করা হলো। এই বাড়ির মালিকও গোপালগঞ্জ থেকে আসা। তার বড় ছেলের নাম জগা। জগার বাবার নাম পুরোটা জানতাম না, আমরা জানতাম রায় বুড়ো। এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষই পূর্ববাংলা থেকে আসা রিফিউজি। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ বা ফরিদপুর থেকে আসা। সে কারণে তাদের সাথে মিশতে আমাদের কোন অসুবিধা হয়নি। সমস্যায় পড়লাম প্রথম দিনেই মা’র জন্য গোসলের পানি আনতে গিয়ে। সেই একই ব্যাপার! আমি পানি নিয়ে আসার পর যে কলের পাড়ে আসে সে-ই কলটা ধুয়ে নেয়(যদিও এই ব্যবস্থা কিছুদিন পরেই উঠে গেছিল, একসময় আর তারা একাজ করছিল না) রায় বুড়োর দেওয়া দুটো বালতি ভরে পানি আনতে গিয়ে আমি যখন পারছিলাম না তখন বাধ্য হয়েই একটা বাঁশ দিয়ে বাঁক( গ্রামে যেভাবে বাঁশের বাঁকে দুপাশে ঝুলিয়ে ফেরি করে সেভাবে) দুপাশে বালতি ঝুলিয়ে পানি আনতাম। এই সমস্ত কাজগুলো করার সময় আমি মাঝে মাঝে বিদ্রোহী হয়ে উঠতাম! আর কত করব? কাজ করতে করতে আমার দম ফেলার সময় হতো না! কি করব? উপায়ও নেই। বোনরা সবাই ছোট, মা তো কলের পাড়ে গিয়ে গোসল করতে পারেনা!

দিন দুই পরে কি মনে করে বাবা আমাকে বেতাই সেই লঙ্গরখনার কাছের স্কুলে নিয়ে দিয়ে আসল। আমি নাকি লেখা পড়া সব ভুলে যাচ্ছি! আমি মুখ বুজে মাত্র দুই দিন স্কুলে থাকলাম। তিন দিনের দিন আর গেলাম না। পর দিন কাউকে কিছু না বলে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে গিয়ে হাজির হলাম। বাবার নাম বলায় প্রায় সকলেই আমাকে চিনতে পারল। সেকেন্দার নামে একজন ইপিআর এর হাবিলদার ছিল, তিনি কোয়ার্টার মাস্টারের কাজ করতেন। তাকে এবং ক্যাম্পের ডাক্তার ইয়াসিন কাকাকে বলে আমি সারাদিন ক্যাম্পে থাকার ব্যবস্থা করে ফেললাম। ওরা দুজন বাবার সাথে কথাবার্তা বলে আমার নাম লিখে নিল। এপ্রিলের শেষ দিক হবে হয়ত। কত তারিখ জানিনা। আমি মুক্তিযোদ্ধা টিমের সদস্য হলাম। বাবা সন্ধ্যার দিকে আমাকে নিয়ে কমান্ডিং অফিসার (এই লোকটির নাম কিছুতেই মনে করতে পারিনা। তিনি ছিলেন ক্যাপ্টেন। একটু তোতলাতেন। অনেক লম্বা মত, মুখটাও লম্বা, ফর্সা। অন্য তাবু থেকে একটু দূরে একটা আলাদা তাবু ছিল তার যতদূর মনে করতে পারি মাজহার হতে পারে তার নাম) এর কাছে নিয়ে গেলেন। তিনি তেমন কোন কিছু বললেন না আমাকে। শুধু বাবাকে বললেন-‘ক্যাম্পেই থাকুক, তাতে অন্তত আপনাদের নজরে থাকতে পারবে’।

প্রথম সপ্তাহেই আমার দায়িত্ব হলো একটা স্লিপ নিয়ে তেহট্ট থানা শহর থেকে রেশন আনা। যথা সময়ে আমি ট্রাক্টরে চেপে চলে গেলাম তেহট্ট। সেখানে একটা অফিসে যারা মুক্তিযোদ্ধাদের রেশন বরাদ্দ করে সেখানে স্লিপ দেখিয়ে ট্রলি ভরে চাল, ডাল, আটা, দুধ,বরফের মাছ, আরও কি কি যেন নিয়ে এলাম। সেকেন্দার কাকা কাজটা ভাল ভাবে করতে পারায় আমাকে তিন কৌটো কনডেন্সড মিল্ক দিলেন। এভাবে প্রতি সাত দিন পর পর আমাকে রেশন আনতে হতো। একবার রেশন আনার সময় আমার পিঠেপিঠি বয়সের বোনটিকে সাথে নিলাম। ফেরার সময় একটা কার্লভার্টের কাছে যেখানে ট্রাক্টরকে একটু থামতে হয় সেখানে হাত ধরে বোনকে নামিয়ে দিয়ে একটা ব্যাগ নামিয়ে দিলাম। সেই ব্যাগে আলাদা করে চাল,ডাল,আটা,দুধ এইসব ছিল। এই কাজটা একারনে করলাম, কারণ বাড়িতে চাল,ডাল ছিলনা। বাবা টিম নিয়ে গেছেন মোনাখালি। মা’র কাছেও টাকা নেই। গহনা বেঁচতে হবে তারপর টাকা আসবে। এই কথা ক্যাম্পে বলার পরও তারা কোন ব্যস্থা করেনি। তাই আমি একটা ব্যাগ নামিয়ে দিয়েছিলাম। যদিও পরে একথা সেকেন্দার কাকাকে বলার পর তিনি বলে দিলেন-‘আর কখনো এটা করবেনা। চাল,ডাল শেষ হয়ে গেলে আমাকে বলবে আমি ব্যবস্থা করব’। আমি মাথা নেড়ে মেনে নিলাম।

পরের সপ্তাহ থেকে আমি ইচ্ছা করেই মেডিকেল টেন্টে কাজ নিলাম। সারা দিন কোন কাজ নেই। চুপচাপ বসে থাকা, হঠাৎ কয়েক মাইল দূরে গোলাগুলির আওয়াজ পেলেই ইয়াসিন কাকা বলে উঠতেন- ‘কমান্ডো রেডি ফর এ্যাকশন’। আমি সাথে সাথে দাঁড়িয়ে যেতাম। কোন কোন দিন এমন হতো যে কেউ আহত হয়ে আসত না। আবার কোন কোন দিন চার-পাঁচ জন আহত হয়ে আসত! ইয়াসিন কাকা চরকির মত দৌড়াদৌড়ি করতেন। আমি গজ, ব্যান্ডেজ, কাঁচি, ডেটল এইসব নিয়ে তার পাশে পাশে থাকতাম। ভয়ে আমার দম বন্ধ হয়ে আসত! কোন কোন দিন খুব বেশি আহত কেউ এলে আমাকে কাকা সরিয়ে দিতেন। প্রথম যেদিন একটা লাশ এলো আমি সেদিন সরিয়ে দিলেও সরে গেলাম না। দড়িয়াপুর এ্যাকশনে গিয়ে মাইনে পা দিয়ে মারা গেছিল সেই মুক্তিযোদ্ধা। একটা পা সম্পূর্ণ ছিলনা! আর একটা পায়ের অর্ধেক নেই! ছিবড়ে হয়ে যাওয়া মাংশ দেখে সেদিন ভাত খেতে পারলাম না! এর পর কাকা আমাকে আর ডাকতেন না। এরও কয়েক দিন পরে একটা ছোট্ট ছেলে দেখলাম ইয়াসিন কাকার তাবুতে বসে আছে। আট-নয় বছর বয়স হবে। একটা হাতের কব্জি উড়ে গেছে! এটাও মাইন বার্স্ট হয়ে! ছেলেটার বাবা-মা মারা গেছে। সে একা একা ক্ষেতের পাশে হাঁটতে গিয়ে গোল কৌটার মুখের মত দেখতে জিনিসটা ধরতে গিয়ে হাত উড়ে গেছে! ওর সেই হাতটা ব্যান্ডেজ বাঁধা। অন্য হাতে বসে বসে জিলাপী খাচ্ছে! অনেক দিন ছেলেটা আমাদের সাথে ছিল। তারপর তার চাচা খুঁজে খুঁজে এসে তাকে নিয়ে যায়। ওই সময় বাগওয়ান, মোনাখালি,বুড়িপোতা জুড়ে সীমান্ত দিয়ে লাইন করে মাইন পুতে রেখেছিল পাক সেনারা।

আমার দিনগুলি এভাবেই কেটে যাচ্ছিল। কোথা থেকে একটা সাদা বেড়াল পেয়েছিলাম আমি। সেটা সব সময় আমার সঙ্গে থাকত। খালি হওয়া দুধের কৌটা কেটে তাকে দুধ খেতে দিতাম। প্রায় সময়ই কোলে করে বেড়াতাম। সকাল সাত-আটটা থেকে আমার ডিউটি শুরু হতো। দুপুরে একবার বাড়ি ফিরে গোসল করে মায়ের পানি তুলে দিয়ে আবার ক্যাম্পে চলে আসতাম। একদিন সকালে ক্যাম্পে যেয়ে দেখি লাইন দেওয়া তাবুর সামনে যে ফাঁকামত যায়গা ছিল সেখানে গ্রাউন্ডসিট বিছিয়ে ফায়ারিং ট্রেনিং হচ্ছে। প্রত্যেকটা গ্রাউন্ডসিটে একজন করে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। তাদের সামনে এসএলআর শোয়ানো। কারো বা সামনে রাইফেল। আর একটু দূরে ফাঁকা একটা সিটে একটা এলএমজি দুই ঠ্যাংয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি তাড়াতাড়ি সেকেন্দার কাকা আর ইয়াসিন কাকাকে বললাম-‘আমি গুলি করব’। দুজনেই চোখ বড় বড় করে আমাকে দেখল। কিছু না বলায় আবারও বললাম-‘কাকা আমি গুলি করব’। সেকেন্দার কাকার বাড়ি ছিল চিটাগাং তার ভাষা তেমন বুঝতাম না, তিনি রেগে গিয়ে আমাকে তার ভায়ায় কি যেন একটা গালি দিলে আমার জিদ চেপে গেল। আমি সোজা একটা ফাঁকা গ্রাউন্ডসিটে শুয়ে পড়লাম। কাকা বোধহয় আমাকে শাস্তি দেওয়ার জন্যই এসএলআর সরিয়ে গজ গজ করতে করতে একটা রাইফেল এনে দিলেন। শুধু ‘ফুয়া’ ‘ফুয়া’ শব্দটাই বুঝতে পারলাম। একজন এসে আমার পাশে বসে আমাকে ম্যাগজিন লোড করা, কাক করা, মাছিতে (মাজল) চোখ রাখা দেখিয়ে দিল। আমি আর দেরি না করে ম্যাগজিন লোড করে মাছিতে চোখ রেখে সামনের ঢিবিতে দাঁড় করানো চাটাইয়ের মানুষের গায়ে গুলি করে বসলাম! মাথাটা বন করে ঘুরে উঠল! আমি ছিটকে কয়েক হাত পেছনে চলে গেলাম! কোনও মতে উঠে দাঁড়ালাম, কিন্তু ডান হাতটা আর তুলতে পারলাম না! ইয়াসিন কাকা দৌড়ে এসে সবাইকে গালাগালি করতে লাগলেন। আমাকে ধরে তার তাবুতে নিয়ে বসিয়ে কালোমত কি যেন তুলোয় মাখিয়ে গলার কাছে হাড়ের উপর চেপে ধরে রাখলেন। ছয়-সাত দিন আমি ডান হাতে আর কোন কিছুই করতে পারলাম না। মায়ের পানি আনাও বন্ধ ।

আরও দিন দশেক পরে আবার ট্রেনিংয়ের মাঠে গিয়ে ইয়াসিন কাকাকে বলে এলএমজি তে অনুমতি নিলাম। এবার সেই সেকেন্দার কাকা এসে খুব ভাল ভাবে আমাকে পাশে বসে সেখালেন। ডান ঘাড়ে ব্যাথা ছিল বলে বাম ঘাড়ে বাঁট ঠেকিয়ে যথন ট্রিগারে আঙ্গুল চাপলাম মুহূর্তে একগাদা গুলি বেরিয়ে গেল! আবার, আবার, কয়েকবার গুলি করতে পারার পর আমার মনে হলো সেকেন্দার কাকা আমাকে ইচ্ছে করেই ওই খারাপ রাইফেলটা দিয়েছিল। এদিনই প্রথম আমার মনে হলো আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। বাড়ি ফিরে সারাটা সন্ধ্যা মা বোন আর পাড়া-পড়শিদের কাছে আমার গুলি করতে পারার কৃতিত্ব বর্ণনা চলল। সবকিছু জেনে বাবা সেকেন্দার আর ইয়াসিন দুজনকেই কি কি যেন বললেন। তারাও বাবার সাথে এই নিয়ে তর্ক করলেন। তারপর বাবা নাকি বলেছিলেন-‘তোমরা যা ভাল মনে কর, আমার একটাই তো ছেলে, মরে গেলে যাবে’!

এরও কয়েক দিন পরে এক সন্ধায় ফ্রন্টে যাওয়া টিমের সাথে আমাকে যাবার অনুমতি দেওয়া হলো। নয় জনের এক টিমের সাথে আমার প্রথম ফ্রন্টে যাত্রা। মা বোনরা কেউ জানল না, জানলেন শুধু বাবা। ভর সন্ধ্যায় এসএলআর ঝুলিয়ে বেরিয়ে গেলাম ! সেই অনুভূতির সাথে কোন কিছুর তুলনা হয়না। কেমন যেন শিহরণ আর ভয়, আবার শিহরণ................

চলবে.................

প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পর্ব
তৃতীয় পর্ব
চতুর্থ পর্ব
পঞ্চম পর্ব

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতিকিশোর মুক্তিযোদ্ধামুক্তিযুদ্ধবাঙ্গালীবাংলাদেশীবাংলাদেশ১৯৭১৭১'৭১মনজুরুল হকস্মৃতিকথাগেরিলাপাকিস্তানপূর্ব বাংলাবিহারী197171'71bangladeshfreedom fighterliberation warbangladeshibanglaeast pakistanwest pakistan.... ; ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধস্মৃতিকথা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:০২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৭
সারওয়ার ইবনে কায়সার বলেছেন: সঠিক কোন ইমো খুজে পেলাম না ......তাই অনুভূতিটা প্রকাশ করতে পারলাম না..:(
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৬

লেখক বলেছেন:
ইমোর দরকার নেই। শুধুই পড়ে গেছেন জেনেই আমার সার্থকতা।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৮

লেখক বলেছেন:
আপনি প্রথম থেকেই আছেন। এ এক বড় পাওয়া।

৩. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৭
চতুষ্কোণ বলেছেন: শিহরণ নিয়ে পরের পর্বের অপেক্ষায়............।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৩

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ চতুষ্কোণ। । ভাল থাকুন। সাথে থাকুন।

৪. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩২
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: দুইয়ের পরে মাঝখনের পর্বগুলো বাদ পড়ে গিয়েছে। ওগুলো পড়ে তারপরে এটা পড়ব।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৮

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ তায়েফ আহমাদ।

৫. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৩
সপ্ন পুরন বলেছেন: মনে হলো আমি নিজেই ঐ যায়গাতে ছিলাম।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৩

লেখক বলেছেন:
ছিলেনই তো! আপনার পূর্বসূরীর কেউ না কেউ তো ছিলই। এখনো আছে...............

৬. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪৪
ফিউশন ফাইভ বলেছেন: তিন পর্ব একসঙ্গে পড়লাম। এতোদিন এই পর্বগুলো ইচ্ছে করেই পড়িনি একসঙ্গে পড়বো বলে। খুব, খুবই ভালো হচ্ছে লেখা।

" আমি দেওয়ালের দিকে মুখ করে শুয়ে ছিলাম। কে যেন আমাকে টান দিয়ে ঘুরিয়ে দিল! আমার পাশে দাঁড়ানো লোকটি একটু ঝুঁকে আছেন। আমার মুখটা দেখেই তিনি চিৎকার করে উঠলেন! আমি ধড়ফড় করে উঠে বসলাম! বাবা! আমার বাবা! আমার বাবা!

আপ্লুত হলাম!
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৪

লেখক বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ ফিউশন ফাইভ।

"স্লিপিং উইথ আর্মস" আসবে সম্ভবত ৭ ম পর্বে।

৭. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫২
হোরাস্‌ বলেছেন: মুগ্ধতা নিয়ে সবগুলো পর্ব পড়ে যাচ্ছি।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৫

লেখক বলেছেন:
আবারো কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

৮. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫২
আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেছেন: চমৎকার লেখনীর তলে হারিয়ে গেলাম+
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৮

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ। আপনার জন্য শুভ কামনা।

৯. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৩
শ।মসীর বলেছেন: তারপর বাবা নাকি বলেছিলেন-‘তোমরা যা ভাল মনে কর, আমার একটাই তো ছেলে, মরে গেলে যাবে’!-- সালাম আপনার বাবাকে......যাদের এই আত্মত্যাগের মানষিকতার কারনেই আজকের বাংলাদেশ, আমি স্বাধীন দেশের নাগরিক।

একজন সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধার সাথে পরিচিত হতে পেরে গর্ববোধ করছি।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৭

লেখক বলেছেন:
আমার জীবনের সব'চে বড় গর্বের জায়গাটি ওই বাবা! যার কথা মনে এলে আমার চারপাশের সবকিছু অর্থহীন হয়ে ওঠে।

১০. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৯
ফারহান দাউদ বলেছেন: বই হবার দাবী রাখে, অন্তত মাস মিডিয়াতে আসার দাবী রাখে অবশ্যই।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৯

লেখক বলেছেন:
গত ডিসেম্বরে শামীমের উদ্যোগে ওদের রেডিওতে একটা স্বাক্ষাৎকার দিয়েছিলাম।
এবার লিখে শেষ করি আগে, তার পর বই ভাবনা, সেটা আরও পরের ভাবনা।

ধন্যবাদ ফারহান।

১১. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২১
কায়েস_ বলেছেন: ফারহান দাউদ বলেছেন: বই হবার দাবী রাখে, অন্তত মাস মিডিয়াতে আসার দাবী রাখে অবশ্যই।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২০

লেখক বলেছেন:
সেটা আরও একটু পরে ভাবব বলে স্থির করেছি।
ধন্যবাদ কায়েস_ ।

১২. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৩
শ।মসীর বলেছেন: চ্যানেল আইতে অনারারী লেঃ ফারুক সেই সব দিনের কিছু তুলে ধরলেন এখন , যারা সব দিয়ে গেলেন তাদের কথা বলে তিনি কাঁদলেন--আর আমরা এই দেশটাকে কই নিয়ে যাচ্ছি।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৯

লেখক বলেছেন:
মাঝে মাঝে সবকিছু ছেড়েছুড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে ইচ্ছে করে! আবার মাটির টানে গেঁথে যাই এই মাটিতেই। পেতেই হবে এমন তো কিছু নয়! নাহয় সেই অকুতভয় সূর্য সেনারা শুধু দিয়েই পরিতৃপ্ত হলো..............

১৩. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪১
আমি রোদের ছেলে বলেছেন:
আমার একটুও ভয় হচ্ছে না।... আমি পারবো।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫১

লেখক বলেছেন:
ভয়কে জয় করতে পেরেছিল বলেই না ওরা মরতে পেরেছিল!

"আমি পারব" মানে কি জানো তো? "আমি মরতেও পারব"!!

গ্রেট! কমরেড!!

১৪. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪১
জাতেমাতাল বলেছেন: অদ্ভুত ডিটেল আপনার বর্ণনায়... চোখের সামনে ফটোগ্রাফের মতো ফুটে উঠছে একেকটা দৃশ্যকল্প। খুব কাছ থেকে আমরাও দেখছি-- ১১ বছরের দুঃসাহসিক এক কিশোরকে।

শ্রদ্ধায় মাথা নুইয়ে আসছে...
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৫

লেখক বলেছেন:
গত ২০০৫ এ একবার উদ্যোগ নিয়েছিলাম, কিন্তু খবরের কাগজে সপ্তাহে একটি করে দিতে হবে ভেবে লিখিনি ধারাবাহিকতা থাকবে না বলে। এবার ব্লগে সেই কাজটা করতে পারছি। আর আপনাদের সহচর্য পেয়ে রোজই নতুন করে প্রেরণা পাচ্ছি।

আমার অভিবাদন নিন।

১৫. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৫
মুনশিয়ানা বলেছেন: ‘এই যে বাবা, আমি বাবাকে খুঁজে নিয়ে আসলাম’! ‘এই যে বাবা, আমি বাবাকে খুঁজে নিয়ে আসলাম’! ‘এই যে বাবা, আমি বাবাকে খুঁজে নিয়ে আসলাম’!

কানের মধ্যে যেন শুনতে পাচ্ছি আপনার কথার প্রতিধ্বনি... বুঝতে পারছি অনেক অনেক দিন বাজবে এই আওয়াজ-- এই গর্বিত উচ্চারণ।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০০

লেখক বলেছেন:
আজ রাতে মা'কে ব্লগটা পড়াচ্ছিলাম। এই পর্বে এসে মা'র চোখ দিয়ে টপ টপ করে জল গড়িয়ে পড়ল। ডাইনিংয়ে বড় করে বাবার বাঁধানো ছবিটা নামিয়ে মা অনেকক্ষণ ধরে মুছলেন........

১৬. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৩
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

"সম্মুখ যুদ্ধের রক্তাত জমিনে প্রথম শিহরীত পদক্ষেপ"--এইটুকুই শুধু বলতে ইচ্ছে করছে ।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৫

লেখক বলেছেন:
সে এক চরম শিহরিত অজানায় পা বাড়ানো! বুকের ভেতর দুম দুম করে যেন ড্রামের বাড়ি পড়ছে...আবার পরক্ষণেই মনে হচ্ছে কিছুই না, যেন গ্রামের নদীতে সাঁতরে নাইতে যাচ্ছি!

"সম্মুখ যুদ্ধের রক্তাত জমিনে প্রথম শিহরীত পদক্ষেপ"

আপনার এই লাইনটি অসাধারণ!

১৭. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১২
দেশী পোলা বলেছেন: এক নিঃশ্বাসে সবগুলো পর্ব পড়ে যাচ্ছি!
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৭

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ দেশী।

১৮. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:১০
শয়তান বলেছেন: স্বার্থক কিশোর জীবন আপনার
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৭

লেখক বলেছেন:
নিশ্চই। আমি গর্বিত।

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৮

লেখক বলেছেন:
সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সালাম।

২০. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:২৮
ম্যাকানিক বলেছেন:
-‘তোমরা যা ভাল মনে কর, আমার একটাই তো ছেলে, মরে গেলে যাবে’!
দেশের প্রতি কতটুকু ভালোবাসা থাকলে এমন কথা বলা যায় শ্রদ্ধা রইলো আপনার পুরো পরিবারের প্রতি।

মাঝে মাঝে সবকিছু ছেড়েছুড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে ইচ্ছে করে! আবার মাটির টানে গেঁথে যাই এই মাটিতেই। পেতেই হবে এমন তো কিছু নয়! নাহয় সেই অকুতভয় সূর্য সেনারা শুধু দিয়েই পরিতৃপ্ত হলো..............
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪০

লেখক বলেছেন:
আপনি একমত তো?
আসলে মানুষ স্বভাবতই দিয়ে সুখ পায়।

২১. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:২০
মাহবুব সুমন বলেছেন: খুব সম্ভবত সেই ক্যাপ্টেনের নাম এর.আর. আজম চৌধুরি। উনি অনেক বছর প্রমোশন না পেয়ে শেষ মেশ কর্নেল হিসেবে বিডিআর থেকে অবসর নেন।
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৫

লেখক বলেছেন:
হতে পারে। আমি শুধু না, বাবাও মনে করতে পারেননি। অবশ্য আমি যখন লিখব লিখব ভেবে বাবাকে জিজ্ঞেস করেছি বাবা তখন মারাত্মক ডায়বেটিস আর হৃদরোগে প্রায় মৃত!

ওই সময়ের আর একটা ছেলে রফিক যাকে আমি অষ্টাশিতে মাগুরায় পেয়েছিলাম, সেও সবার নাম ধাম মনে করতে পারেনি।

তবে "মন্মোথ" নামের একজকে আমি শিলিগুড়িতে পেয়েছিলাম ২০০৬ এ, সে ওই গ্রামে থাকত। এর প্রসঙ্গ আরও পরে আসবে।

২২. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:২৮
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
কেমন করে এতদিন এত কথা না লিখে চুপ বসেছিলেন?
আমাদের ভাগ্য খুব ভালো এত সুন্দর এক ইতিহাস লেখার সাথে সাথে পড়তে পারছি।
একদিন এই ইতিহাস সবাই জানবে এমন প্রত্যাশা।

লেখার বর্ণনা পড়ে সব দেখতে পাচ্ছি...........
আপনি ১১ বছরের সেই বয়সটাতে আপনি বাস করছেন এখন ।অদ্ভুত এই ব্যাপারটা।
ভালো থাকবেন।
এই ডিসেম্বরেরই মুক্তিপাক ৩৮ বছর বুকে জমে থাকা সব কথাগুলো।
স্যালুট আপনাকে।
এবং শুভেচ্ছা।
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:১৩

লেখক বলেছেন:
আমি নিজেও গর্বিত যে আপনাদের মত পাঠকের সামনে আমার জমে থাকা কষ্ট-সুখ-আনন্দ প্রকাশ করতে পারছি। কত বার ভেবেছি লিখতে থাকি, তার পর বই বের করি, কিন্তু ওই পর্যন্তই। আর হয়ে ওঠেনি। যেমন গত বছরের আগে কম করে হলেও কুড়িটা বই করা যায় এমন লেখা প্রবন্ধ আকারে জমে ছিল, কিন্তু বই করার আগ্রহ থাকলেও উদ্যোগ ছিলনা। কি ভাবে যেন গত বার এক ব্লগ বন্ধুর পীড়াপীড়িতে বইটা বের হলো!

আর এবারও ব্লগের কয়েক জনের কারণে এই লেখা অবমুক্ত হতে চলেছে।

নিয়মিত সহচর্য দেওয়ার জন্য সাজিকে আন্তরিক অভিবাদন।

২৩. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:২৪
পরশমনি বলেছেন: অসাধারন, সাথে আছি...
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৬

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ পরশমনি।

২৪. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৫
রোহান বলেছেন: পরের পর্বের কথা ভাবতেই শিহরিত হচ্ছি... অসাধারণ....
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৭

লেখক বলেছেন:
প্রতিদিনই একটি করে দিতে চাইছি, কষ্ট হচ্ছে, তবুও ১৬ ডিসেম্বরের ভেতরেই দেখি শেষ করা যায় কি-না।

২৫. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:১৫
নাজমুল আহমেদ বলেছেন: শ্রদ্ধায় মাথা নুইয়ে আসছে কমরেড....
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৯

লেখক বলেছেন:
আর মাথা নুয়ে থাকে আত্মত্যাগী সেই অগনিত যোদ্ধাদের স্মৃতিতে....

২৬. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২৬
কৌশিক বলেছেন: এ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যত রচনাবলী আমি পড়েছি তারমধ্যে এই ব্লগটি নিঃসন্দেহে সর্বশ্রেষ্ঠ। পেছনের পাঁচটি পর্ব পড়ার জন্য মুখিয়ে আছি।
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫০

লেখক বলেছেন:
আমি তো অবাকই হচ্ছিলাম! কৌশিক গেল কোথায়!!

খুশি হলাম বস।

২৭. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৫
দীপঙ্কর বলেছেন: মন্তব্য করা বাহুল্য মাত্র।
_______________________________________

গুগুলটকের চ্যাট উইন্ডোতে আমার ম্যাসেজটা দেইখেন।

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫১

লেখক বলেছেন:
ম্যাসেজ দেখলাম, কিন্তু তুমি তো লগঅফ করে চলে গেলে!!

২৮. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫১
সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: আপনি যুদ্ধে চলে গেলেন???


আমি মুগ্ধের মত একের পর এক পর্ব পরে গেলাম। একটানে। সেই একটায় বসেছি আর এখন প্রায় চারটা। কত বাস্তব এই লেখা। না লেখার আলোচনা বা সমালোচণা করার ধৃষ্টতা আমি দেখাব না। আমি শুধু আমার অনুভবের কথাই বলছি। আরও কিছু বলতে চাই কিন্তু ভাষা পাচ্ছি না।
ধন্যবাদ।
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:১৬

লেখক বলেছেন:
আপনি এখন পর্যন্ত যতটুকু বলেছেন সেটাই এই লেখকের অনুপ্রেরণার জায়গাটা প্রসস্থ করে চলেছে.......

এ আমার সৌভাগ্য যে একজন পাঠককে কয়েক ঘন্টা নিবিষ্ট করতে পেরেছি!

২৯. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৯
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: রূপকথার মতো শোনায়... সত্যিকারের রূপকথা।
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৮

লেখক বলেছেন:
উজান বেয়ে চলা এক ঝন্ঞাবিক্ষুব্ধ সময়ের যাত্রীর কথা.......

৩০. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১১
মনজুরুল হক বলেছেন:
উপরের ১৩ জনের মন্তব্যের উত্তর না দিয়েই যেতে হচ্ছে.......পর্ব-৭ লেখা চলছে...........মার্জনা।
৩১. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৪৭
রাজর্ষী বলেছেন: খুবই ভালো লাগলো। আপনার প্রতি শ্রদ্ধা।
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:১৬

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ রাজর্ষী। কৃতজ্ঞ হলাম।

৩২. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৪৮
রাজর্ষী বলেছেন: স্লিপিং উইথ আর্মসের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:১৭

লেখক বলেছেন:
আজই পারব হয়ত।

৩৩. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩০
মাহবুব সুমন বলেছেন: ফর্সা করে লম্বাটে মুখের ক্যাপ্টেন আজম চৌধুরি। উনার তোতলামীর সমস্যা আছে।
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:১৮

লেখক বলেছেন:
আপনার আর্কাইভ থেকে তথ্যটা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ মাহবুব সুমন।

৩৪. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৪৪
যীশূ বলেছেন: আপনি আপনার জীবন নিয়ে গর্ব করতে পারেন!!!!!!! হিংসে হয়!!!!!!!
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫৯

লেখক বলেছেন:
ওইটুকুই তো আমার সম্বল।
সারা জীবনের চাওয়া-পাওয়ার অংক ওখানেই মিলে গেছে।

৩৫. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৭
ত্রিশোনকু বলেছেন: অসাধারন ঘটনা আর ব্ণনা।
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০০

লেখক বলেছেন:
গত বছর বোধহয় আপনাকে একদিন বলতে চেয়েছিলাম।
যা বলতে চেয়েছিলাম তা-ই আজ লিখে জানাচ্ছি।

শুভকামনা।

৩৬. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৭
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: প্রতিটি পর্বই অফলাইনের পড়ছি। লিখতে থাকুন, এগুলো সব অমূল্য দলিল
১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৮

লেখক বলেছেন:
নিয়মিত পড়ার জন্য ধন্যবাদ সৌরভ।

৩৭. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৫
অপ্‌সরা বলেছেন: তুমি এত ছোটবেলাতেই দেশকে ভালো বেসে রাইফেলের ট্রিগার টেপা শিখে ফেললে!!!!
১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৮

লেখক বলেছেন:
আরো যে কত কি করতে হয়েছিল তার ঠিক ঠিকানা ছিল না।

৩৮. ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:৩২
ত্রেয়া বলেছেন: সত্যিই অসাধারণ!!!
২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩২

লেখক বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ ত্রেয়া।

৩৯. ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৮
মেহবুবা বলেছেন:
এসব পড়ে মনে হয়-----------
স্বাধীনতা আমাদের অর্জন ।
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার ।
আপনার জন্য সে যুদ্ধ ছিল জীবনে বেঁচে থাকবার , হেরে যাওয়াকে পৃষ্ঠপ্রদশনের প্রচেষ্টা ।

-‘এই যে বাবা, আমি বাবাকে খুঁজে নিয়ে আসলাম’! এই জায়গাটায় কেন জানি খুশীতে হেসে দিলাম , এক কিশোরের সাফল্যে ।
৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৬

লেখক বলেছেন:
জীবন বাজি রাখা চির ভাস্বর সাফল্য।
আসলেই, বেঁচে থাকা এক অসাধারণ সাফল্যমন্ডিত কাজ।
এমনি এমনি কখনো বাঁচা যায় না।
লড়াই করেই আমাদের মত মানুষদের বাঁচতে হয়।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০২৪১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারিদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয়,যারা মানুষ ।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ