আমার প্রিয় পোস্ট

যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরানী প্রকাশ্য পথে হত্যার প্রতিশোধ চায়না আমি তাদের ঘৃণা করি

এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি < ৭ > সম্মূখ যুদ্ধের প্রথম অভিজ্ঞতা

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৭

শেয়ারঃ
0 1 0

সেই যে ভর সন্ধ্যায় এসএলআর ঝুলিয়ে বেরিয়ে গেলাম সেদিনকার সন্ধ্যের সাথে অন্য সন্ধ্যাগুলোর কোন মিল নেই। আমাদের টিম লিডার সারাটা পথ অনর্গল কথা বলে চলেছেন......আমাদের মূল টার্গেট বুড়িপোতা আউটপোস্ট পার হয়ে ভৈরব নদীর পাড়ে পজিশন নেওয়া। তার পর মাঝ রাতে নদী পার হয়ে ওপারে পাক সেনাদের ছাউনিতে অতর্কীতে আঘাত করা। কেউ ভুলেও হাতিয়ার ফেলে যাবে না, কেউ ভুলেও একা হয়ে যাবেনা, কেউ কারো নাম ধরে ডাকেবে না, আমরা যদি এ্যাকশনে ব্যর্থ হই তাহলেও যেন নিজ নিজ হাতিয়ার রক্ষা করি। মনে রাখবে এক একজন যোদ্ধার সমান মূল্য এক একটা হাতিয়ার..... আমরা যারা পেছনে হাঁটছি তারা কেউ কোন মন্তব্য না করে সব শুনে যাচ্ছি। প্রায় বুড়িপোতা আউট পোস্টের কাছাকাছি যেয়ে হঠাৎ তিনি আমাকে কাছে ডেকে বললেন-‘ভয় পাচ্ছিস’? আমি ফিস ফিস করে বললাম-‘নাহ্ মোটেই না’। সাব্বাস বলে আমার পিঠ চাপড়ে দিলেন, তার পর কি মনে করে আরও কাছে ডেকে বললেন- ‘সব সময় আমার কাছাকাছি থাকবি’। আমি মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিলাম। একেবারে যখন বুড়িপোতা পোস্টের কাছে চলে গেছি সেই সময় মাটির ঢিবির পাশ থেকে একজন বেরিয়ে চাপা গলায় কমান্ড করল-‘হুকুমদার’? টিম লিডার সাথে সাথে বললেন-‘ফ্রেন্ডস’। আর কোন কথা নেই। আমরা সেই লোকটির কাছে যেয়ে সবাই বসে পড়লাম। ওরা ওখানে চার জন ছিল আউট পোস্ট ডিউটিতে। সেই প্রথম জানলাম, ওরা রেগুলার ফাইটার, আর আমরা যারা গেলাম তারা গেরিলা ইউনিট। ওখানে চুপচাপ আমাদের সময় কেটে যাচ্ছে.....।

অলস সময় কাটছে, কেউ কিছুই করছে না! আমি যুদ্ধ কখন হবে সেই অপেক্ষায়! এতক্ষণ তো কেবল আসলামই, কিন্তু যুদ্ধ কই? ঝাঁ ঝাঁ রাতে কোথাও কোন শব্দ নেই, তার পরও কেমন যেন এক ধরণের শব্দ আছে যেটা আমি প্রকাশ করতে পারছিলাম না কিন্তু মনে হচ্ছিল একসাথে যেন অনেক মানুষ কথা বলছে....কেমন যেন ঝাঁ ঝাঁ ঝিম ঝিম শব্দ। আর মাঝে মাঝেই অচেনা কোন পাখি হঠাৎ হঠাৎই ডেকে উঠছে! আরও কিছুক্ষণ পরে চিনতে পারলাম একসাথে শত শত ঝিঁঝিঁপোকা ডাকছে। কোন ঘটনা ছাড়া চুপ করে থেকে আমার ভাল লাগছিল না। আমি লিডারের কাছে বসে ফিস ফিস করে জিজ্ঞেস করলাম-‘চাচু হুকুমদার মানে কি’? তিনি আমার হাতটা চেপে ধরে বললেন- ‘ওটা আসলে হবে ‘হু কাম দেয়ার’? এর মানে ওখানে কে? এর উত্তরে আমরা বললাম-‘ফ্রেন্ডস’। মানে আমরা বন্ধু বা নিজের লোক। আমি সাথে সাথে ফ্রেন্ডস না বললে ও কিন্তু গুলি করে দিত! আমি আতংকে একবার সেই হুকুমদার বলা লোকটিকে আবার লিডারকে দেখছিলাম..... কানের মধ্যে বেজে চলেছে..... আমি ফ্রেন্ডস না বললে ও কিন্তু গুলি করে দিত......

এই ফাঁকে আমাদের মধ্যে একজন ওয়াটার বটল বের করে সবাইকে পানি খেতে দিল। আমি ঢক ঢক করে পানি গিললাম। অনেকক্ষণ ধরে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছিল, কিন্তু কে কি মনে করবে ভেবে পানি চাইনি। তারপর আবার সেই অপেক্ষা! আমি এসএলআর টা ঘাড়ের সাথে খাড়া করে দুই হাঁটুর উপর হাত রেখে বসে আছি। দেখলাম বাকি সাবাইও সেই ভাবে বসে আছে। আরও অনেকক্ষণ পর সেই মুহুর্ত আসল! লিডার উঠে দাঁড়ালেন। আমরাও বিনা বাক্য ব্যয়ে উঠে দাঁড়ালাম। লিডার সেই পোস্টের লোকটির সাথে শেষ বার কথা বলছেন, আমরা একটু দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। কিছুক্ষণ পর শুনলাম- ‌"গেলাম, খোদা হাফেজ"। আমরা হাঁটা শুরু করলাম। সবার আগে টিম লিডার, পেছনে এক লাইনে আমরা বাকি আট জন। লিডারের হাতে একটা চিকন লাঠি, সেটা দিয়ে তিনি অন্ধরা যে ভাবে হাঁটে সেভাবে হাঁটছেন। আমি আটজনের মাঝ খানে। সামনের কাকাকে জিজ্ঞেস করলাম চাচু কি করছেন? তিনি জানালেন-একটা মাইনের সাথে আর একটা মাইন চিকন তার দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। লাঠি দিয়ে সেই তার আছে কি না তাই দেখা হচ্ছে। লিডার স্টপ বললে সাথে সাথে কিন্তু দাঁড়িয়ে যাবে। আমি মাথা নাড়লাম। না, কোন মাইন পড়ল না পথে। আমরা নিরাপদেই নদীর ধারে চলে গেলাম। নদীর এপারে কিছু নেই, ফাঁকা মত মাঠ আর ক্ষেত। ওপারে উঁচু পাড়ের উপর টিম টিম করে দু’একটা বাতি জ্বলছে। কিছুক্ষণ বসে থেকে একসময় লিডার বললেন-‘হিরো চাচ্চু সাঁতার জানো তো’? আমি জানি বলার সাথে সাথেই একে একে সবাই নদীতে নেমে গেলাম। সাঁতরাতে হলোনা, সবারই বুক পর্যন্ত পানি। আর আমি প্রায় তলিয়ে গেলাম! আমার একেবারে নাক পর্যন্ত পানি উঠে এলো। এই সময় পেছনের একজন আমার কোমরের কাছে হাত দিয়ে টেনে একটু উঁচু করে পার করলেন। কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে গায়ের পানি ঝেড়ে উঁচু পাড় বেয়ে আস্তে আস্তে আমরা এগুতে থাকলাম। আমার এসএলআরটা ছিল যে আমাকে পার করল তার কাছে, তিনি সেটা আবার ফেরত দিলেন। তার ঘাড়ে একটা ব্যাগভর্তি গ্রেনেড। লিডারের হাতে স্টেনগান। বাকি সবার হাতে এসএলআর।

আমি অজানা আতংকে প্রায় সিঁটকে আছি। যত হাঁটছি ততই ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছি, এক লহমায় বাবা.,মা আর বোনদের মুখগুলো ভেসে উঠছে.....তার পরও মনে মনে মুখস্থ করে চলেছি.....ডান ঘাড়ে বাঁট, বাম হাত ট্রিগার হ্যামারের সামনে কাঠের নিচে, চোখ মাছিতে, আঙ্গুল ট্রিগারে, গুলি, এগেইন কাক.....বিপদ এলে ‘মাথা বাঁচিয়ে’, শুধু কনুই আর পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে ভর.......বার বার আউড়ে চলেছি। বুকটা এত জোরে ঢিপ ঢিপ করছে যে মনে হলো একটু পানি খেতে পারতাম যদি.....ততক্ষণে আমরা ঢাল বেয়ে উপরে উঠে গেছি। কি একটা গাছের আড়ালে সবাই পজিশন নিয়ে বসে আছি.....নদীর ওপারে থাকতে যে টিমটিমে আলো দেখেছিলাম সেটা এই পোস্টের। মাটি উঁচু করে পাহাড়ের মত বানানো, তার মধ্যে দুই জায়গায় বড় করে ফুটো করা , সেখান দিয়ে মোটা কিসের যেন নল আবছা দেখা যাচ্ছে। শোনা যায়না এমন ফিস ফিস করে লিডার বললেন – আগে কেউ গুলি ছুড়বে না, আমি স্টার্ট বলার সাথে সাথে গুলি ছুঁড়বে, তার পর আমার সাথে চারজন পুব দিকে, আর বাকি পাঁজন পশ্চিমে ক্রল করে যাবে, ঠিক আছে? সাবাই মাথা ঝাঁকাল। আরও বেশ কিছুক্ষণপর হঠাৎ চার-পাঁচ জন পাক সেনা সেই পোস্ট থেকে বেরিয়ে এলো, কথা বলতে বলতে একটা টিন শেডের দিকে হেঁটে যাচ্ছে! আমি চোখের সামনে পাক সেনা দেখে আর চোখের পলক ফেলতে পারছিনা, সারা শরীর থর থর করে কাঁপছে.... যে পাঁচ জনকে লিডার পশ্চিমে যেতে বলেছিল তাদের একজন হঠাৎ গুলি করে বসল! সাথে সাথে লিডার চাপা চিৎকার করে উঠলেন-হোয়াট ননসেন্স, এটা কি করলে? সাথে সাথে আমরা সবাই গুলি করতে থাকলাম, কিন্তু সামনে কিচ্ছু নেই, পাক সেনারা নিরাপদেই টিনশেডে ঢুকে গেছে, লিডার আবার বলে উঠলেন –"আর ভাগ হওয়ার দরকার নেই , ব্যাক, কুইক..... " লিডারের কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে ঠা ঠা করে গুলি ছুটে এলো..... আমরা ক্রলিং করে পেছনে যাচ্ছি... আমি যে তাড়াহুড়ায় গুলি করতে পারিনি এটা ভেবে নিজের উপরই রাগ হলো। অনবরত ওদের দিক থেকে গুলি আসছে.....এতক্ষণ আমরা ওদের দিকে মুখ করেই পিছিয়ে যাচ্ছিলাম, এবার লিডার উঠে দাঁড়িয়ে ধমক লাগালেন-"বি কুইক ভাগো সবাই, কুত্তার বাচ্চারা মেশিনগান চালাচ্ছে, হিরো ভাগো......" আর কিছু মাথায় ঢুকলনা, শুধু মনে হলো যে কোন সময় গায়ে গুলি লাগবে, আর আমি মরে যাব!

ঢাল বেয়ে দৌড়ে নামতে গিয়ে পড়ে গেলাম! তারপর গড়িয়ে গড়িয়েই পড়লাম নদীতে! মনে হচ্ছে আমি একা বাকি সবাই কই! হঠাৎ দেখি আর সবাই ডুব দিয়ে পার হচ্ছে, আমিও ডুব দিলাম! একবার মনে হলো ডুব দিয়েই বসে থাকি, উঠলে যদি গায়ে গুলি লাগে! এপারে এসে সবাই খিঁচে দৌড়। তখন আর মাইনের ভয় করছে না! হাঁপাতে হাঁপাতে থামলাম সেই আমাদের আউট পোস্টে। যে লোকটি লিডারের হুকুমের আগেই গুলি করেছিল তাকে সামনে এনে বসানো হলো। সে মাথা নিচু করে বসে আছে। আমি বাদে সবাই তাকে বকাবকি করতে লাগল। কিন্তু লিডার বকলেন না, তার কাছে এসে প্রচন্ড জোরে একটা চড় মারলেন। এবার আমি ভয় পেয়ে গেলাম, ভাবলাম আমাকেও মারবে, কারণ আমি এসএলআর টা নদীতে ফেলে এসেছি! আমার পালা তখনো আসেনি। যাকে মারা হয়েছে সে কাঁদতে কাঁদতে যা বলল, তা শুনে লিডার তাকে জড়িয়ে ধরে থাকল অনেকক্ষণ। পঁচিশ-ত্রিশ বছর বয়স হবে লোকাটার। মেহেরপুরের আমঝুঁপির পাশেই ওদের বাড়ি। ওদের বাড়িতে মাঝে মাঝে মুক্তিযোদ্ধারা এসে থাকত বলে এক রাতে স্থানীয় রাজাকাররা মিলিটারী ডেকে আনে। তারা ওর বাবা-মা দুজনকেই সাথে সাথে মেরে ফেলেছিল। ও ছিল অন্য ঘরে, সেই ঘরের বেড়া ভেঙ্গে পালাতে পেরেছিল! আজ চোখের সামনে খান সেনা দেখে সে ঠিক থাকতে পারেনি! আবার অনেকক্ষণ কেউ কোন কথা বলল না। তখন প্রায় ভোর হয়ে এসেছে। একটু পরেই পোস্টে আর একটা টিম আসবে, আর এই পোস্টের চার জন ক্যাম্পে ফিরে যাবে। এই সময় লিডার আমার দিকে চেয়েই হুংকার দিলেন- হিরো, বন্দুক কই? আমি মাথা নিচু করে আছি, উত্তর দিচ্ছিনা। তিনি আবার ধমকে উঠলেন-কি বলছি, শোননি? বন্দুক কই? পানিতে ডুবে গেছে......"শালার এই জন্য আনাড়ি লোক জন নিয়ে নামতে নেই’ ফোঁস করে উঠলেন লিডার। আমি অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিরবে কাঁদছিলাম, একবার কান্নাটা জোরে হতেই তিনি দেখে ফেললেন। তার পর কাছে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন –‘কিছু মনে করিস না বাপ, ব্যর্থ অপারেশনে মেজাজা এমনিতেই খারাপ, তার উপর একটা হাতিয়ারও হারালাম, যাহোক তোকে যে হারাইনি সেটাই ভাগ্য, ইয়াসিন ভাই না বললে আমি তো তোকে টিমেই নিতাম না"! তিনি আমার চোখের পানি মুছে দিলেন। সেই ফাঁকে আমি আস্তে আস্তে তাকে জিজ্ঞেস করলাম-‘চাচ্চু আমাকে কি আর আনবেন না’? তিনি কোন উত্তর দিলেন না, শুধু বললেন চল আগে ক্যাম্পে ফিরি, পরে দেখা যাবে।

বন্দুক হারানোর ‘অপরাধে’ আমাকে আর অপারেশন টিমে দেওয়া হলো না। তিন-চার দিন পরে আবার আমার দায়িত্ব পড়ল মেডিকেল টেন্টে। এই কাজটা আমার কাছে খুই বিরক্তিকর মনে হতো। তারপরও করতে থাকলাম। এই সময়ে একটা মজার ঘটনা ঘটল। একটা অপারেশন টিম এক রাতে একজন রাজাকার ধরে আনল। বিশাল লম্বা! সব কয়জন মুক্তিযোদ্ধার চেয়েও লম্বা, তেমনি মোটা। দেখলে মনে হয় পাঞ্জাবী। পর দিন সকালে তাকে সবাই মিলে এমন মার মারা হলো যে তার পরনে লুঙ্গিও ফালি ফালি হয়ে ছিঁড়ে গেল। বেহুশ হয়ে পড়ে থাকল সারা দিন। দুপরের দিকে ইয়াসিন কাকার কাছে দেওয়া হলো। জানা গেল সে নাকি মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি চিনিয়ে দিত। ইয়াসিন কাকা তাকে ব্যান্ডেজ বেঁধে দিচ্ছেন আর অনর্গল গালাগালি করছেন.... একসময় কাকা বললেন-ভাতিজা লাত্থি লাগাও কুত্তার বাচ্চারে। আমি পারলাম না। কাকা আবার ধমকে উঠলেন-কই লাগাও? তুবুও পারলাম না। শেষে তিনি আমাকেই গালি দিলেন। আমি একবার ঠিক করলাম লাথি দেব, কিন্তু লোকটা এমন ভাবে আমার দিকে তাকাল যে আমায় মায়া লাগল। আমি পারলাম না। এই লোকটি পরে আমাদের ক্যাম্পেই কাজকর্ম করে থেকে গেলো। কাঠ চেরাই থেকে শুরু করে সব ভারি ভারি কাজ করত সে। আরও পরে এই লোকটি আমাদের ঘরের চাল, বেড়া ঠিক করে দিয়েছিল।

দিন কয়েক পরে আমার পীড়াপীড়িতে আবার আমাকে ফ্রন্টে পাঠানো হলো। তবে এবার আর গেরিলা টিমে নয়, আউট পোস্টের যোদ্ধাদের জন্য খাবার আর গোলাবারুদ পৌঁছানোর কাজ। আমাদের রাতের খাবারের টাইম ছিল ঠিক সন্ধ্যে লাগার সাথে সাথে। আমি খেয়েই মাথায় দুইটা ডেকচি নিয়ে রওনা হতাম। একটায় থাকত খাবার আর অন্যটায় গুলি এবং গ্রেনেড। প্রথম কয়েকদিন নিয়ম করে গেলাম, আবার বেশি রাত হবার আগেই ফিরে আসলাম। একদিন যথারিতি খাবার পৌঁছে দিয়ে ফিরছি। বড় মাটির রাস্তার পাশে একটা ঝোঁপে কি যেন নড়ে উঠল! আমি ভয় পেলেও দাঁড়িয়ে থাকলাম কি তা দেখার জন্য। একটু পরে দেখি একটা বালি হাঁস! আমি কোন কিছু না ভেবেই হাঁসটা ধরার জন্য এগিয়ে গেলাম। হাঁসটাও একটু উড়ে আবার একটা ঝোঁপে বসে পড়ে, আমিও তাকে ধরার জন্য এগুতে থাকি..... একসময় মনে হলো ধরা যাবেনা। তাই ফিরে যাব। কত দূরে চলে এসেছিলাম মনে নেই, কিন্তু যখন বড় রাস্তায় উঠব বলে এগুচ্ছি, তখন বড় রাস্তা আর পাইনা! অনেকক্ষণ পর পেলাম সেই মাটির বড় রাস্তা। নিঃশ্চিন্তে হাঁটা শুরু করলাম। কিন্তু আমি টেরই পেলাম না যে আমি অন্য রাস্তা ধরে এগুচ্ছি! অনেকক্ষণ পরেও যখন ক্যাম্প পেলাম না তখন বুঝলাম আমি হারিয়ে গেছি! বুক ফেটে কান্না এলো। নিজেকে নিজেই সাহস দিচ্ছি.....আমি না বাবাকে খোঁজার জন্য কত শত মাইল একা একা ঘুরেছি? আমি না একাই বাবাকে খুঁজে বের করেছি? কিন্তু কোন কিছুতেই ভয় কমছে না, কান্নাও থামছে না। মনে পড়ল খুব ছোট বেলায় গ্রামের বাড়িতে গিয়ে শুনেছিলাম রাতে বিলের মধ্যে একা একা গেলে কানাভুলোয় ধরে, মনে হয় যেন বাড়ি যাচ্ছি, আসলে বাড়ি না, অন্য জায়গায় নিয়ে মাটিতে মাথা পুতে মেরে ফেলে! সেই কথা মনে পড়ায় আরো ভয় পেলাম। কিছু মনে নেই কোনদিকে হাঁটছি জানিনা, কিন্তু হেঁটেই চলেছি......কতক্ষণ পর একটা লোক পেলাম। লুঙ্গি পরা খালি গা! মনে হলো এটাই মনে হয় কানাভুলো! লোকটা আমাকে ডাকছে আর আমি দৌড়াচ্ছি...... এক সময় লোকটা আমাকে ধরে ফেলল। আমি থর থর করে কাঁপছি। সব শুনে তিনি আরও প্রায় দুই ঘন্টা পরে আমাকে ক্যাম্পে পৌঁছে দিলেন।

এর দিন সাতেক পরে আমার নতুন দায়িত্ব হলো আর্মার টেন্ট পাহারা দেওয়া। একটা বড় তাবুর ভেতর থরে থরে সাজানো গোলাবারুদ, বন্দুক, গ্রেনেড, এসএলআর, এলএমজি, রকেট লান্সার আর টু-ইঞ্চ মর্টার। এই তাবুতে রাতে থাকেন সেকেন্দার কাকা। আমার দায়িত্ব হলো সারা দিন সেই তাবুর সামনে সেন্ট্রি দেওয়া। একদিন এখান থেকেই আমি উঠে গেলাম খবরের কাগজের পাতায়............

চলবে..........

প্রথম পর্ব । দ্বিতীয় পর্ব । তৃতীয় পর্ব । চুতুর্থ পর্ব । পঞ্চম পর্ব । ষষ্ঠ পর্ব ।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতিকিশোর মুক্তিযোদ্ধামুক্তিযুদ্ধবাঙ্গালীবাংলাদেশীবাংলাদেশ১৯৭১৭১'৭১মনজুরুল হকস্মৃতিকথাগেরিলাপাকিস্তানপূর্ব বাংলাবিহারী197171'71bangladeshfreedom fighterliberation warbangladeshibanglaeast pakistanwest pakistan.... ; ; ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধস্মৃতিকথা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:০৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৩

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ। মনসুর।

২. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২২
হোরাস্‌ বলেছেন: ১১ বছর বয়সে যু্দ্ধের অভিজ্ঞতা, ভাবতেই গা শিহরণ দিয়ে উঠতেছে। কানাভুলোর ঘটনাটা পড়ে অবশ্য বেশ মজা পাইলাম। যদিও আপনার জন্যে সেটা কোনভাবেই মজার ছিলো না।
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৯

লেখক বলেছেন:
ছোটবেলাকার গেঁড়ে বসা কুসংস্কারের ক্ষমতা দেখুন! গোলাগুলির মধ্য ভয় পেলেও আতংক হচ্ছেনা, অথচ কানাভুলোয় ধরবে সেই ভয়ে কেঁদে আকুল, আতংকে মরার দশা!

৩. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২২
এন্তার এত্তেলা বলেছেন: ভাল লাগলো... মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনতে বরাবরই ভাল লাগে।

আমার বাবাও ভৈরবের কোন একটা ফ্রন্টে ছিলেন। রেডিও অপারেটর হিসেবে। তাঁরও তখন এরকমই বয়স ছিল।
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০২

লেখক বলেছেন:
ভাল লাগার কিছু নেই ভাই।

আপনি বরং আপনার বাবার কাছ থেকে শুনে লিখুন। আমাদের এই প্রজন্ম আর পরের প্রজন্ম জানুক তারা যে সৌধের উপর দাঁড়িয়ে আছে তার প্রতিটি ইঁটের খাঁজে খাঁজে কত মানুষের রক্ত-ঘাম আর প্রাণ সমাধিত হয়েছিল...............

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৮

লেখক বলেছেন:
নিয়মিত এই সিরিজটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

৫. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৬
শ।মসীর বলেছেন: এতক্ষন মনে হয় আপনার জায়গায় আমি ছিলা...........পুরো দৃশ্যটাই ভাসতে ছিল চোখেই।

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৩

লেখক বলেছেন:
আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ শামসীর। প্রথম পর্ব থেকেই আপনি নিবিঢ় ভাবে উপলব্ধির জায়গা থেকে এই পোস্টের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছেন। উৎসাহ দিয়ে চলেছেন....

৬. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৭
সারওয়ার ইবনে কায়সার বলেছেন: পরের পর্বের অধীর অপেক্ষায়
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৫

লেখক বলেছেন:
কোনও রকম অনিচ্ছাকৃত ব্রেক না হলে ডিসেম্বরেই সিরিজটা পূর্ণতা পাবে। ততদিন সাথে থাকবেন আশা করি।

৭. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩০
সানুনয় বলেছেন: এক নিশ্বাসে সবটুকু পড়লাম। বাকিগুলো তারাতারি চাই।
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৯

লেখক বলেছেন:
নিশ্চই পাবেন।

৮. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৭
ফিউশন ফাইভ বলেছেন: রুদ্ধশ্বাস বিবরণ। এটা বই হিসেবে বের হলে সবচেয়ে ভালো হয়। যদি সেটা না হয়, তাহলে এটা আমি ই-বুক হিসেবে বের করবো। আগাম বলে রাখলাম।
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৯

লেখক বলেছেন:
বই আকারে বের করার আশা আছে। হয়ত কেউ উপযাচক হয়ে এগিয়েও আসতে পারেন। সেক্ষেত্রে বই হলেও হতে পারে। আর তা না হলে অবশ্যই ই-বুক করতে পারেন। তবে আপনার এক গুণমুগ্ধ ব্লগারও বলে রেখেছে। আরও পরে এ নিয়ে মেইলে কথা বলব।

শুভেচ্ছা রইল।

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১৫

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ লুৎফুল কাদের।

১০. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫৮
মোঃমোজাম হক বলেছেন: তখনতো শীতকাল ছিল ,ঠান্ডা লাগেনি? আপনার ও আপনার বাবার ছবি দিলে ভাল হতো।
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:২২

লেখক বলেছেন:
শেষ দিকের কোন একটি পর্বে ছবি দিতে চেষ্টা করব।

১১. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৫৯
রাজর্ষী বলেছেন: বর্ননা পড়ে যেমন ভালো লাগছে তেমনি দুঃখও হচ্ছে যে আমি এমন একটা সময়ে জন্মেছিলাম না। :(
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫১

লেখক বলেছেন:
এটা আপনি ঠিকই বলেছেন। আমরা এমন এক সময়ে জন্মেছিলাম যেটাকে বলা যেতে পারে যুগসন্ধীক্ষণ। সে সময়ে পরাধীন দেশের কিশোর-তরুনরা স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখত, যে স্বপ্নগুলো এখন টার্মিনেট হয়ে প্রভাব-প্রতিপত্তিতে পরিগনিত। ব্যক্তি ঊন্মেষে রূপান্তরিত!

১২. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:২১
ম্যাকানিক বলেছেন: ধন্যবাদ মঞ্জু ভাই
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫২

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ ম্যাকানিক।

১৩. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:১১
রাজর্ষী বলেছেন: আপনার এই আত্নকাহিনী নিয়ে খুবই ভালো একটা মুভি বানানো যেতে পারে।
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৪

লেখক বলেছেন:
অত দূর ভাবি না। যদি প্রিন্ট আকারে প্রকাশ করতে পারি সেটাই অনেক।

১৪. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৫
ফিরোজ-২ বলেছেন: ভাল লাগলো... মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনতে বরাবরই ভাল লাগে।
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। শুনে ভাল লাগল।

১৫. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:২৮
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
আপনার বর্ণনা পড়ে .........আমার ছোটমামার মুখে শোনা মুক্তিযুদ্ধের একটা গল্প মনে পড়লো।মামার বয়স তখন ১৬ ছিলো।একটা মিশনে গিয়ে মামা দুইদিন দুইরাত পানিতে ডুবে ছিলেন।গলাটা শ্যাওলায় ভাসিয়ে।
কি অবাক যে হয়েছিলাম.........
আপনার গল্প শুনতে শুনতে কেমন ঘোর লেগে যাচ্ছে।
আপনার বোন গুলো কি আপনার লেখা পড়ছে ?

অনেক শুভকামনা।
আপনার মংগল হোক।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৯

লেখক বলেছেন:
আমার এক মামাও দুই রাত কচুরিপানার উপরে নাক ভাসিয়ে পানিতে ডুবে ছিলেন, তবে তিনি সেটা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের তাড়া খেয়ে, কারণ তিনি ছিলেন পিস কমিটির চেয়ারম্যান! রাজাকারের লিডার! আবার তারই ছোট ভাই ছিল মুক্তিযোদ্ধা।

সব বোন না কেবল বড় বোনটি পড়ছে। আর মা নিয়মিতই পড়ছেন। সব চেয়ে ভাল ব্যাপার আমার ছোট মেয়ে (শ্রুতি) নিজেই পেজ ওপেন করে পড়ছে।

১৬. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:১৭
এন্তার এত্তেলা বলেছেন: লেখক বলেছেন:
ভাল লাগার কিছু নেই ভাই।

কি যে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা গুলো শুনলে নিজের মাঝে অন্যরকম এক রোমাঞ্চকর অনুভুতি লাগে। অনেক গর্ববোধ হয়। দুঃখ হয় নিজে যেতে পারিনি বলে।
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০০

লেখক বলেছেন:
"মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা গুলো শুনলে নিজের মাঝে অন্যরকম এক রোমাঞ্চকর অনুভুতি লাগে। অনেক গর্ববোধ হয়। দুঃখ হয় নিজে যেতে পারিনি বলে।"

সহমর্মী হলাম ভাই।

১৭. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৩
মাহবুব সুমন বলেছেন: হাতিয়ার হাড়ানোর অপরাধেতো আপনার কোর্ট মার্শলা হওয়া উচিৎ ছিলো !
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৮

লেখক বলেছেন:
মনে হয় ছোট বলেই মাফ পেয়েছিলাম !

১৮. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৪৬
নাজমুল আহমেদ বলেছেন: স্বার্থক জন্ম আপনার.....
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩০

লেখক বলেছেন:
আমি এভাবে ভাবিনা। ভাবি দেশের বাইরে গেছিলাম বলেই এত রাজ্যের অভিজ্ঞতা। দেশে বসে থাকলে কি-ই বা জানা হতো? হয়ত গ্রামের বাড়িতে বসে গোল্লাছুট খেলে বেড়াতাম!

১৯. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৭
সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: এই মাটিতে হেঁটে গেছে একাত্তরের দামাল ছেলে
নীল আকাশে মিশে গেছে হাসিটাকে পিছন ফেলে
সেই হাসিটা, ছড়িয়ে আছে আমার সারা বাংলাদেশে-----
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩২

লেখক বলেছেন:
আমি কবিতা পারিনা।
আপনার এই লাইনটি যদি কবিতা হয় তাহলে অসামান্য। আর সেটা যদি আপনার হয় তাহলে আপনি স্বভাব কবি........

২০. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪২
জাতেমাতাল বলেছেন: স্বাধীনতার অকুতোভয় যোদ্ধাকে সশ্রদ্ধ অভিবাদন...

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৩

লেখক বলেছেন:
অবনত মস্তকে কৃতজ্ঞতা স্বীকার হে বন্ধু!

২১. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৫০
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: সাহসী কিশোর।

'দুঃসাহসে কিনে ফেলি, না হলে কিছুই সম্ভব হতোনা জীবনে...'
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৮

লেখক বলেছেন:
একটাই জীবন, হেঁটেছি একাকী
অচেনা পথ চিনে সে পথে হেঁটে
পৌঁছেছি আর এক অচেনা বন্দরে।

এখন নোঙ্গর ফেলে বসে আছি
মাস্তুল খাড়া নেই, হাল বৈঠা ভঙ্গুর।

২২. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৯
নাজনীন১ বলেছেন: আমি তো পড়তে গিয়ে ভাবছিলাম লিডার আপনাকে ধরে একটা মাইর লাগাবে! :)
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৯

লেখক বলেছেন:
বয়সই মাইর থেকে বাঁচিয়েছিল!

২৩. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:০২
চতুষ্কোণ বলেছেন: কী সব দিন ছিল সেগুলো তাইনা!! মাঝে মাঝে খুব আফসোস হয়........
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০৫

লেখক বলেছেন:
হাতে মোবাইল, কানে এয়ার ফোন, তাতে হিন্দি মিউজিক, পেন ড্রাইভে বায়ো ডাটা!

এর সাথে আমাদের প্রজন্মের তুলনা করে গর্ব বোধ করি। আমরা বদলে দেওয়ার ব্রত নিয়ে বিশ্বকে জানতে চাইতাম। "বদলে দাও" শ্লোগান মুখস্ত করতাম না।

অভিনন্দন।

২৪. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৩
সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: না ভাই, এটা কবিতা নয় এটা একটা গানের লাইন। গানটি লিখেছেন আমার হাসবেন্ড। ওর গান বেশির ভাগই দেশাত্ববোধক। ওর গান গুলি আমার ভালো লাগে। হয়ত একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসাবে আমার এত ভাল লাগে। ও নিজে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তাই দেশটাকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করে।

অনেক কথা বললাম। ধন্যবাদ ।
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০৭

লেখক বলেছেন:
আপনার স্বামীকে অভিবাদন। তার হাত থেকে এমন শত শত গান বেরিয়ে আসুক। সেই দিনগুলিতে রেডিওতে আমরা এই সব গান শুনেই উদ্বুদ্ধ হতাম। গায়ে কাটা দিয়ে উঠত!

২৫. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৯
যীশূ বলেছেন: দারুন, পড়ছি।
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০৮

লেখক বলেছেন:
সাথে সাথে থাকবার জন্য অভিবাদন যীশু।

২৬. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৩
ত্রিশোনকু বলেছেন: অপূর্ব। কালাভুলো পড়তে মজা লাগছিল।
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০৯

লেখক বলেছেন:
দেখুন তো কারবার! শেষে কিনা কানাভুলোয় ধরে নিয়ে যাবে!!

২৭. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৬
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: মানুষের বিপরীতধর্মী চরিত্রের সন্ধান পেলাম

- যে বাচ্চাটি দেশের জন্য ১১ বছর বয়সে এসএলআর নিয়ে যুদ্ধ করতে পারে, মাইলের পর মাইল বাবাকে খোঁজার জন্য হাঁটতে পারে, সেই একই বাচ্চা "কানাভুলো"'র ভয়ও পেতে পারে।

++
১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৯

লেখক বলেছেন:
কিশোর মনের সহজাত প্রবৃত্তি আর হঠাৎ পরিনত হয়ে ওঠা একসাথে চলতে চলতে মাঝে মাঝেই সাংঘর্ষিক হয়ে উঠত।

২৮. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৮
শয়তান বলেছেন: ‘হুকুমদার’ এর ব্যাখ্যাটায় মজা পেলাম :)



এবং ভুতের ভয়টাকেও ;)
১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:১০

লেখক বলেছেন:
বাংলায় কমান্ড চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত আর্মি-বিডিআরদের মধ্যে "হুকুমদার" চালু ছিল!


আর ওটা ভূতের ভয় নয়। পিশাচ যারা কাঁচা মাছ নিয়ে কেউ রাতে হাঁটলে তার পিছু নেয়! তার পর সুযোগ পেলেই কদার মধ্যে পুতে ফেলে! তার আগে ভুল পথে হাঁটতে বাধ্য করে। আক্রান্ত মনে করে ঠিক পথেই বাড়ি ফিরছি!!!

২৯. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:১৮
শয়তান বলেছেন: খিকজ ।

আপনার বর্নিত পিশাচ এর মতই দুটো রিয়েল কেস ডিটেইল স্টাডি করে সল্ভ করেছিলাম একসময় । অন্য কোথাও এনিয়ে পরে আলাপ করবো :)
১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:২৮

লেখক বলেছেন:
হুম। অপেক্ষায় থাকলাম।

অন্য বিষয়ের পোস্টে এ নিয়ে আলাপ হবে....

৩০. ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩০
আমি রোদের ছেলে বলেছেন:
ফ্রেন্ডস না বললে ওরা গুলি করতো...... কানে বাজছে... এখনও বাজছে... বাজবে...




*** ফিফা কি বলতে চায়!!! হেরে মাইনাস।
১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৫

লেখক বলেছেন:

হ্যাঁ, এখনই পড়লাম পোস্টটা।

৩১. ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৪
আমি রোদের ছেলে বলেছেন:
না... আমিতো তার ই-বুক বানানোর ইচ্ছার কথা বললাম :)
১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৬

লেখক বলেছেন:
উত্তর দেখ নাই? তোমার কথা তো বলে দিয়েছি!

৩২. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৪
অপ্‌সরা বলেছেন: মেহেরপুরের আমঝুঁপির পাশেই ওদের বাড়ি। ওদের বাড়িতে মাঝে মাঝে মুক্তিযোদ্ধারা এসে থাকত বলে এক রাতে স্থানীয় রাজাকাররা মিলিটারী ডেকে আনে। তারা ওর বাবা-মা দুজনকেই সাথে সাথে মেরে ফেলেছিল। ও ছিল অন্য ঘরে, সেই ঘরের বেড়া ভেঙ্গে পালাতে পেরেছিল! আজ চোখের সামনে খান সেনা দেখে সে ঠিক থাকতে পারেনি!


কত কষ্ট পেয়েছে সবাই। কত কষ্ট চোখের সামনে দেখেছো।
১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৯

লেখক বলেছেন:

লাখ কোটি মানুষের কোটি কোটি কষ্ট! একসাথে করলে মনে হয় সারা পৃথিবীর সব কষ্টেরা এখানেই ভীড় করেছিল।

৩৩. ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:২৫
শিপন আবদুর রাজ্জাক বলেছেন:
মনজু ভাই, শুধুমাত্র আপনার এই ধারাবাহিক এ ধারাবাহিক মন্তব্য দিয়ে যাবার জন্য আরাশির ব্লগ জন্মের আজন্ম নিকটাকে কবর খুড়ে তুলতে হলো ! আপনি বিশ্বাস না করলেও এটা সত্য । ওই নিকটি ব্যান আছে ।

যাই হোক, এই দামী লেখার ই-বুকের বিষয়টি আপনি আপাতত মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিলে ভালো হবে । এটা বুক হবে, ই-বুক না ! বাংলাদেশের ব্যবসাবুদ্ধিসম্পন্ন প্রকাশরা এই বই-এর গুরুত্ব ধরতে পারবে না, তা আমার বিশ্বাস হয়না ।

২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৯

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ শিপন। ই-বুক না, বই করার জন্য এক বন্ধু এগয়ি এসেছেন। তার কাছে আমার অসীম কৃতজ্ঞতা। আশা করছি এই ফেব্রুয়ারী বই মেলাতেই বইটা আলোর মুখ দেখবে।

আপনার নিক সংক্রান্ত খবরটায় কষ্ট পেলাম! অনেক কিছুতে অনেকের গর্ব হতে পারে, হয়ও, কিন্তু শুধুমাত্র এই ধারাবাহিকের জন্য একটি অনেক পুরোনো নিক পুনরুজ্জীবীত হলো! এই কৃতজ্ঞতা মনে হয় কোন প্রকাশেই প্রকাশ্য হবেনা!

ভাল থাকুন শিপন।

৩৪. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:২৮
শিপন আবদুর রাজ্জাক বলেছেন:
শুনে খুব ভালো লাগছে, মনজু ভাই । এই ভালো লাগার দৈর্ঘ -প্রস্থ ঠিক সেই অর্থে আপনাকে বুঝানো যাবেনা । নিজের একটা অসাধারণ বই বের হলে কেমন লাগে ? ঠিক সেইভাবে অনুভব করতে না পারলেও হৃদয়পূর্ণ হলো ভালো লাগায় ।

আ লিটল ফাইটার মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে, বইটা তুঙ্গস্পর্শী পাঠকপ্রিয়তা পাবে, এই ভবিষ্যত বাণীটা আমি সাহস করে করেই ফেলতে চাই ।

অল দ্য বেস্ট ।
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩০

লেখক বলেছেন:
আর কিছু না, শুধু বইটা বের হোক......

ভাল থাকুন শিপন।

৩৫. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৪৮
মেহবুবা বলেছেন: পরেরটাতে আছে নিশ্চয় খবরের কাগজের পাতায় কি দেখলেন ?
আপনার তখন বয়স ১১+ , যুদ্ধ করেছেন ?
০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২০

লেখক বলেছেন:
যুদ্ধের সাহায্যকারী মাত্র।

 

মোট সময় লেগেছে ১.১১৪৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারিদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয়,যারা মানুষ ।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ