আমার প্রিয় পোস্ট
- ফিরে দেখা ২০১১ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- আসুন আরব বর্বরদের ঘৃণ্য থাবা হতে বাকীদের মাথা বাঁচাতে তিনটি দাবীতে সোচ্চার হই - ও.জামান
- বিডিং রাউন্ড ২০১১: গ্যাস লুটের নতুন ধান্দা - দিনমজুর
- কনোকোফিলিপস এর সাথে পিএসসি চুক্তি: প্রথম আলোয় ম.তামিমের সহজ পাঠের প্রতিক্রিয়া - দিনমজুর
- কনোকোফিলিপস এর সাথে চুক্তি নিয়ে ডেইলিস্টারের মিথ্যাচারের জবাবে - দিনমজুর
- কনোকোফিলিপস এর কাছ থেকে কত টাকা খেয়ে প্রথম আলো এইরকম মিথ্যা রিপোর্ট করেছে? - দিনমজুর
- দুর্ঘটনার রাজা কনোকোফিলিপস ও বঙ্গোপসাগরের আসন্ন বিপদ: যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিপি-ব্লোআউটের আলোকে - দিনমজুর
- কনোকো-ফিলিপস এর হাতে তুলে দেয়া হলো সাগরের গ্যাস ব্লক ১০ ও ১১ - দিনমজুর
- টেলিকম বহুজাতিকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রথম আলোর অস্থিরতা - দিনমজুর
- নাস্তিক নির্ধর্মী কাফেরগন - হুশিয়ার সাবধান! - দাঁড়িপাল্লা
- অবিশ্বাসী কেউ ইসলামের সমালোচনা করলে মুসলমান ভাই-ব্রেদেরণদের উত্তেজিত হওয়ার কোন যৌক্তিক কারণ নাই। - হোরাস্
- বিমান বন্দরের নামে আড়িয়াল বিলে রাষ্ট্রীয় ভূমি আগ্রাসন! - দিনমজুর
- ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবি হত্যার ইতিবৃত্ত - পিডিএফ সংস্করণ - নাঈম
- ·٠•●♥ •●♥ •♫♫♫♫♫ কালেকশনে রাখুন উপমহাদেশের সেরা কিছু ইনস্ট্রুমেন্টাল এ্যালবাম - আমার আপলোড করা ♫♫♫·٠ -•●♥ ♫♫♫·٠ - কবির চৌধুরী
- হামীম গার্মেন্টস এ আগুন: গার্মেন্টস না লাশের কারখানা? - দিনমজুর
- হে রক্তমাংসহীন মেহনত! আল্লার দোহাই, পুড়ে পুড়ে কয়লা হও!! আমাদের অনেক উন্নয়ন দরকার - একজন নাগরিক
- দোহারের গান এবং আমাদের ধনী পিতার ফকির সন্তানদের গল্প - অনার্য তাপস
- কোরান কি অলৌকিক গ্রন্থ? - ১ - সজীব আকিব
- সংশোধিত ড্যাপ আবশ্যক - সচল জাহিদ
- কর্ণেল তাহের আজো প্রাসঙ্গিক ১: কর্ণেল তাহেরের পিপলস আর্মি - দিনমজুর
- রূপগঞ্জে সামরিক ভুমি আগ্রাসন:“দিনরাত লেফ-রাইট করলে ক’মণ শস্য ফলে এক গন্ডা জমিতে?” - দিনমজুর
- মানালি থেকে লাদাখের পথে: (তৃতীয় পর্ব- দ্বিতীয় ভাগ) - আহাদিল
- নূন্যতম মজুরী নিয়ে সমঝোতার সাজানো নাটক - দিনমজুর
- জিয়া কর্তৃক তাহের হত্যাকান্ড নিয়া পি মুন্সী’র ‘অবজেবক্টিভ’ ত্যানা প্যাচাপ্যাচি প্রসঙ্গে একখান রি-অ্যাকশান পোষ্ট! - মাদারি
- পার্বত্য চট্টগ্রাম: কান্না যেমন করে রক্তের রূপ পরিগ্রহ করে - নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-২
- ভাষার জন্য একটি প্রান্তিক জাতিসত্তার সুদীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস: বাংলাদেশে কি সকল জাতির সকল ভাষা সমান স্বীকৃতি ও মর্যাদা পাবে ? - কুঙ্গ থাঙ
- সংখ্যাগুরু -vs- সংখ্যালঘুঃ স্বাধীন বাঙালি যখন শাসক...সংখ্যালঘু পাহাড়ি/উপজাতি/আদিবাসীরা যখন শোষিত...আর দেশের ভূখণ্ড হাতছাড়া হওয়ার চিন্তায় উন্মাদপ্রায় আমরা ! - আইরিন সুলতানা
- পাহাড়ে সমতলীর বসবাসের অধিকার ও CHT কমিশনের মতলব - পি মুন্সী
- পাহাড়ের কান্না যে আগুন জ্বালিয়েছিলেন শেখ মুজিব, তাতে ঘি ঢেলেছেন জিয়া, ফু দিচ্ছেন খালেদা, ষড়যন্ত্রে পাকা খেলোয়ার আছে একটি বাহিনী, আছে বাঙালি নামে একদল পরগাছা সেটেলার শিখন্ডি। শেখ হাসিনা কি তা নিভাতে পারবেন? আমার দুটো প্রস্তাব - মধুখোর
- বাঘাইছড়ি হত্যাযজ্ঞ: পাহাড়ি-বাঙালি দ্বন্দ্ব নাকি শাসক শ্রেণীর ঔপনিবেশিক আধিপত্য? - দিনমজুর
- কয়েকটি মজার ছবি ও একটি কৌতুক (১৮+) - কুঙ্গ থাঙ
- একটু আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আমার ধারনাটুকু বদলে দিলেন আমার বাবা - শ।মসীর
- ৩০ মিনিটের ভাষা আন্দোলন এবং গ্রামীণ ফোনের ”কাছে থাকা”! - দিনমজুর
- একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হলোঃ “আ লিটল ফাইটার স্লিপিং উইথ আর্মস্”... - মুনশিয়ানা
- দেশে 'সন্ত্রাস' বিরোধী অভিযান ও চলমান 'ক্রসফায়ার' প্রসঙ্গ- (চতুর্থ অংশ) - মাহাদি হাসান
- থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার ফ্যান্টাসি - প্রতিবাদী কন্ঠস্বর
- রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস: দ্রুত সকল বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ করুন। - প্রতিবাদী কন্ঠস্বর
- বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধপরাধীদের বিচার না হওয়ার অন্যতম কারণ: ওয়াহাবী কানেকশন। - ইমন জুবায়ের
- একাত্তরে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ - একরামুল হক শামীম
- বাংলা ব্লগ দিবস নিয়ে ২ পয়সার ভাবনা - বিডি আইডল
- বাংলা ব্লগ দিবসের গরম গরম ছবি... (লাইভ স্ট্রীম থেকে নেওয়া) !!! - এস.কে.ফয়সাল আলম
- ফিরে দেখা ২০০৯ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগের উল্লেখযোগ্য ঘটনাসমূহ - ফিউশন ফাইভ
- পার্বত্য জনগনঃ উদ্বাস্তু হতে হতে ক্রমশঃ আলাদা হয়ে যাওয়া... জেগে ওঠা বিচ্ছিন্নতার বোধ... - মুনশিয়ানা
- বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ - গ্লোবাল অর্থনীতি (৮) - পি মুন্সী
- পাশ্চাত্য সংগীত যারা ভালবাসেন তাদের জন্য অসাধারণ কিছু গানের লিস্ট (না শুনলে মিস করবেন) - নগর সংগীত
- আইন ভেংঙ্গে শৃঙ্খলা রক্ষার বিপজ্জনক রাজনীতি - প্রতিবাদী কন্ঠস্বর
- নির্যাতন-৬ বেআইনী টিএফআই সেল, জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন - সায়েমুজজ্জামান
- এক্সপি জেনুইন করার একটি সহজ উপায়। - অমিত০৯৭
- আসুন, গড়ে তুলি জ্ঞানের ভাণ্ডার - রাগিব
- ত্রিশ লক্ষ শহীদ : মিথ নাকি বাস্তবতা ? - লাইটহাউজ
- বেড়িবাঁধ দখল করে তৈরী হচ্ছে ৯টি শিপইয়ার্ড - আিক
- আগুনের রেস (উৎসর্গ: মনজুরুল হক) - প্রশ্নোত্তর
- রাষ্ট্রের হাতে যদি নাগরিক নিরাপত্তা না পায় তবে সেই রাষ্ট্র ব্যর্থ - প্রশ্নোত্তর
- সাগর বক্ষে গ্যাস ব্লক ইজারার উদ্দেশ্য গ্যাস সংকট মোকাবেল না রফতানি? - ভিন্ন চিন্তা
- কমপিউটারের কিছু শর্টকাট/ কীবোর্ড কমান্ড টিপস - জোবাইর
- বাংলাদেশে তেল/গ্যাস অনুসন্দ্ধানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং গ্যাস সংকটের প্রেক্ষিত। - মনোয়ার আহমদ
- গ্যাস ব্লক ইজারা: এবার সাগর লুটের লাগলো ধুম - দিনমজুর
- যানজটে জীবনজট-২: সম্ভাব্য সমাধান - ফারহান দাউদ
- পূনশ্চঃ ইসলামী ব্যাংক : তত্ত্ব ও প্রয়োগের অসঙ্গতি ও কিছু কথা - (শেষ পর্ব) - পড়ুয়া_পড়ুয়া
- ফ্রি হোস্টিং এবং ডোমেইনসহ মাত্র এক ঘণ্টায় তৈরি করুন নিজের একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ সাইট - পান্থ বিহোস
- সিরাজ শিকদার : ভুল বিপ্লবের বাঁশীওয়ালা! ১ - অমি রহমান পিয়াল
- টিপাইমূখ বাধ সংকলিত লিংক সমূহ - কিরিটি রায়
- সেলিব্রিটি সিনড্রোম - ফারহান দাউদ
- রাষ্ট্র ভাবনা: একাত্তরে চীন কেন আমাদের সমর্থন করতে পারে নাই (দ্বিতীয় ও শেষ অংশ) - পি মুন্সী
- রাষ্ট্র ভাবনা: একাত্তরে চীন কেন আমাদের সমর্থন করতে পারে নাই - পি মুন্সী
- সর্বগ্রাসী অপ-‘বাদ’ বনাম একজন আরজ আলী মাতুব্বর এবং... [যুক্তিবোধ ও চিন্তা-চেতনায় সহনশীল পাঠকদের জন্য এই পোস্ট সংরক্ষিত] - রণদীপম বসু
- সেনাবাহিনীর আকাম কুকাম সমগ্র পর্ব ২ - লাশ
- সেনাবাহিনীর আকাম কুকাম সমগ্র পর্ব ১ - লাশ
- সামহোয়ারইনের মডারেশন নীতিমালা: একটি ভিন্ন পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
- মধ্যযুগীয় মোল্লাবাদ বনাম সুফীবাদ - লাশ
- তিয়ান'আনমেন রক্তক্ষয়ের ২০ বছর : কি ঘটেছিল তখন ? - মেহরাব শাহরিয়ার
- আমার প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীতের অ আ ক খ - অপ্সরা
- প্রভাকরণের মৃত্যু ও তামিল ইলম - ফিরে দেখা ইতিহাস - দিগন্ত
- আসবেন আরজ আলী? - তনুজা
- আইনস্তাইন বললেই হল! সমাজতন্ত্রের মরা ভূত আর জাগবে না (উৎসর্গ ব্লগার ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান) - ভালো-মানুষ
- ডিম্বের সন্ধানে - নাস্তিকের ধর্মকথা
- কল্পনা চাকমা এখন কোথায়? - বিপ্লব রহমান
- ঈমান জোরদার করার জন্য বিভিন্ন ব্লগ হইতে সংগৃহিত ক্লাসিক লেখা - দ্বিতীয়নাম
- পিলখানা গণহত্যা: গুজবের ময়না তদন্ত - ঘনাদা
- প্রধানমন্ত্রী যেসব কথার জবাব দিতে পারেন নি..... - নাস্তিকের ধর্মকথা
- একটি বিদ্রোহ পরবর্তী বিশ্লেষন শ্রেণী সংঘাতই কি বিডিআর বিদ্রোহের মূল কারন? - জামাল ভাস্কর
- বিডিআর নৈরাজ্য: লাশের মাপকাঠিতে বিদ্রোহের পরিসীমা - দিনমজুর
- লাশ উৎসব - ঊশৃংখল ঝড়কন্যা
- একটা পুরানো দালান : ইষ্ট পাকিস্তান : আমাদের আর্মির জবাবদিহিতা - শূন্য আরণ্যক
- বিডিআরের জওয়ানদের যৌক্তিক দাবী: ঘটনা,শংকা এবং ভবিষ্যৎ - ফারহান দাউদ
- আর্মির সত্যভাষণে বিডিআর ভিলেন??!! - নিকো৮১২৩
- সবুজ সততা দেখানো শুরু হয়ে গেছে , আসল সত্য কি ? - রাগ ইমন
- মুক্ত/ নাস্তিক/ সংশয়ী/ ধর্মদ্রোহী'দের যুদ্ধটা ... আসলে কাদের বিরুদ্ধে, কিসের বিরুদ্ধে ? - মনির হাসান
- ভাগীরথীকে নিয়ে লিখা আমার ছোটগল্প - মেঘ
- ইজরায়েল কিভাবে গাজায় মহাবিপর্যয় তৈরি করেছে(শেষ পর্ব) - আহসান হাবিব শিমুল
- ... তাহলে ইসলামের "প্রানীর ছবি আকা হারাম"-নির্দেশটি কতটা যৌক্তিক ? - মনির হাসান
- নারীর বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতন: বাংলাদেশের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পুনপৌনিক ঘটনার নিষিদ্ধ আলোচনা- দ্বিতীয় কিস্তি - মুনীর উদ্দীন শামীম
- কমরেড হায়দার আকবার খান রনোর খোলা চিঠি (শেষাংশ) - দিনমজুর
- কমরেড হায়দার আকবার খান রনোর খোলা চিঠি - দিনমজুর
- নবীনদের জন্য - নাদান
- যৌবনযাত্রা, যৌনতা এবং বর্তমান ব্লগ-বিতর্কঃ পুনর্মূল্যায়ন - নাস্তিকের ধর্মকথা
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী এবং একজন স্বঘোষিত পর্নোষ্টার - জাতেমাতাল
- জনস্বার্থের পোস্ট: ব্লগে আপনার নিজের সেরা লেখা কোনটি? (সবার অংশগ্রহন বাধ্যতামূলক)
- জ্বিনের বাদশা
- প্রসঙ্গ ৭ ই নভেম্বর: জিয়া ভার্সাস কর্ণেল তাহের --- যে বিষয়গুলোতে যুক্তি খুঁজে পাইনা - জ্বিনের বাদশা
- একজন ব্লগারের নিষ্ঠা ও আমাদের নির্লিপ্ততার আক্কেল সেলামি - রাগ ইমন
- ২০০৮ : আপনার চোখে ব্লগের বর্ষসেরা লেখা কোনটি? (আপডেট-১২ : একটি বিশেষ ঘোষণা) - ব্রিগেড সিক্সটিন
- আরব-ভূমিতে গ্রীক দর্শনের পঠন-পাঠন, আরবের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ইসলামের উদ্ভব ও কোরআনঃ ইতিহাসের পাঠ থেকে একটি বিশ্লেষণ - নাস্তিকের ধর্মকথা
- ঈশ্বর ও বিজ্ঞান- "আছে" ও "নাই" প্রমাণের কথিত দ্বন্দ্ব (শেষ পর্ব) - নাস্তিকের ধর্মকথা
- আস্তিক-নাস্তিক সমাচার - চার্বাক দর্শন। (শেষ কিস্তি) - নাস্তিকের ধর্মকথা
- নেপালে মাওবাদীদের নির্বাচনী বিজয়, বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মিথ এবং কিছু জরুরী ভাবনা - দিনমজুর
- আমাদের কৃষি, আমাদের প্রাণ - দিনমজুর
- আমাদের কৃষি, আমাদের প্রাণ -২ - দিনমজুর
- হায়রে কৃষি!!!!!!!!!! সাম্প্রতিক খাদ্য সংকট ও একটি বিশ্লেষণ - দিনমজুর
- প্রাইভেটাইজেশন - দিনমজুর
- কিউবার কৃষি অর্থনীতি/ রেবেকা ক্লসন -১ - দিনমজুর
- কিউবার কৃষি অর্থনীতি/ রেবেকা ক্লসন -২ - দিনমজুর
- সাম্প্রতিক খাদ্য সংকট ও আমাদের কৃষি - দিনমজুর
- মুক্তমনার অভিজিৎ ও বিপ্লব পাল- বিজ্ঞান, বিবর্তনবাদ, ল্যামার্ক, লাইসেঙ্কো, নভেম্বর বিপ্লব, সমাজতন্ত্র, কেরোনস্কি, প্রতি বিপ্লব, পুঁজিতন্ত্র, ঠিকাদারতন্ত্র.... ইত্যাদি - দিনমজুর
- জিএম শস্যের ভালো মন্দ - দিনমজুর
- কিভাবে অভ্র ব্যবহার করে বাংলা লিখতে হয় (বিস্তারিত) - মৃত হাসানের প্রেতাত্মা
- পলিটিক্যাল ইসলাম কয় কারে? - সাধক শঙ্কু
- "হযরত মোহাম্মদ (সঃ) কি মৃগীরোগী ছিলেন" এর মূল লেখার জবাব - জামালiiuc
- ব্লগার বন্ধুদের জন্মদিনঃ ডাটা ব্যাংক - মিলটন
- "নবীজী মুহম্মদ সা. এর বিয়েসমূহ এবং কিছু প্রশ্ন" শীর্ষক পোস্টের তথ্যসূত্র ও টীকাঃ - নাস্তিকের ধর্মকথা
- কোরআনের চ্যালেঞ্জঃ যেখানে সব্বাই ফেল মারছে!!!- ১ - নাস্তিকের ধর্মকথা
- আজ সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুদিন.....আজ আমার কষ্টের দিন..... - মনজুরুল হক
- সারা দেশে জামাতের শিক্ষা বাণিজ্য নেটওয়ার্ক এবং দেশদ্রোহীতার একটি সাম্প্রতিক দলীল - আদৃতা আবৃত্তি
- আ লিটল ফাইটার স্লিপিং উইথ আর্মস - একরামুল হক শামীম
- অভিজিৎ এর "মার্ক্সবাদ কি বিজ্ঞান" শীর্ষক প্রবন্ধের প্রতিক্রিয়ায়- ২ - দিনমজুর
- কার্ল মার্কস ও তথাকথিত প্রকৃতি বিজ্ঞান (Natural Science) - পি মুন্সী
- ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মের একমেবাদ্্বিতীয়ম ঈশ্বর চেতনা - শোহেইল মতাহির চৌধুরী
- সকল জামাত বিরোধী, রাজাকার বিরোধী পোস্টের সংকলন। - হ্যারি সেলডন
- টেকি পোস্ট ঃ কমেন্টে ফটো দিবেন কিভাবে ?? - শয়তান
- এন্টি গল্প > শেষরাতের একফালি চাঁদ > - মনজুরুল হক
এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি < শেষ পর্ব > চিৎকার করে বলতে পারছিনা যে আমি আমার শৈশব হারিয়ে ফেলেছি.....
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:০২
জিপটা যখন ক্যাম্পে এসে থামল তখন প্রায় ভোর হয়ে এসেছে। কুয়াশা ঠেলে একটা গোল থালার মত নরোম লাল সূর্য পুব দিকের আকাশ বেয়ে উঠে আসছে। আবছা লাল আলোয় পুব দিকের আকাশ লালচে হয়ে উঠেছে। শীতে ঠক ঠক করতে করতে জিপ থেকে নামলাম। ক্যাম্পটা মনে হচ্ছে বিরান মরুভূমি! একটা তাবুতে বিনিদ্র জেগে আছে বাবুর্চিরা। আর কেউ নেই! আমার সেই বেড়ালটাও লাপাত্তা। শীতে ক্লন্তিতে শরীর আর টেনে নিতে পারছিলাম না। একবার মনে হলো বাড়ি যাই, আবার মনে হলো এখানেই বাবুর্চিদের তাবুতে ঘুমিয়ে পড়ি। শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফেরাই ঠিক করলাম। বাড়ির পথ ধরে হাঁটার সময় কেন যেন নিজেকে খুব নিঃসঙ্গ লাগছিল। ক্যাম্পে কেউ নেই সে জন্যই কি? কি জানি, হবে হয়ত! বাড়ির উঠোনে গিয়ে মা’কে ডাকতে যাব, দেখি মা ছোট্ট বারান্দাটায় বসে আছেন! মা কি তাহলে ঘুমান নি? আমি বারান্দায় উঠতেই মা আমার চেহারা দেখেই কাঁদতে লাগলেন! মা ঠিক বুঝেছেন যে আমি ফ্রন্টে গেছিলাম। আমি কোন কথা না বলে মা’কে পাশ কাটিয়ে ঘরে চলে গেলাম। মা’ও এলেন পেছন পেছন। আমি কিছুই বলছি না দেখে মা আমাকে ধরে একটা ঝাঁকি দিয়ে বাবার খবর জানতে চাইলেন। আমি খুব স্বাভাবিক ভাবেই বাবার মেহেরপুরে চলে যাওয়ার কথা বললাম। মা তবুও নিশ্চিন্ত হতে পারছিলেন না। আমি জোর দিয়ে মা’কে নিশ্চিত করলাম-বাবা বেঁচে আছে, তবে আমাদের অনেক লোক মারা গেছে.....হড়বড় করে আরো কি কি যেন বলতে যাচ্ছিলাম, মা থামিয়ে দিলেন। যে কথাটি শোনার জন্য মা জেগে বসে ছিলেন সেটা শুনেছেন তিনি। মা আমাকে একটা বাটিতে মুড়ি দিতে চাইলেও আমি না খেয়ে সোজা কম্বলের তলায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম। বোনরা সারি বেঁধে শুয়ে আছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমে ঢলে পড়লাম।
আবার ঘুম ভাঙ্গল গুলির শব্দে! হুড়মুড় করে উঠে বসলাম। কাঁচা ঘুম ভাঙ্গায় চোখ জ্বলছিল। অবাক হয়ে আমরা গুলির শব্দ শুনছি! এখানে গুলি? এখন? কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। মা উঠোনে নেমে গেলেন। গুলি হচ্ছে আর সেই সাথে যে যেমন পারে টিন, কাসার থালা, টিনের চাল পেটাচ্ছে.....কয়েকটা ছেলে দৌড়াতে দৌড়াতে বলে যাচ্ছে......জয় বাংলা স্বাধীন হয়ে গেছে! কম্বলের তলা থেকে উঠেই দৌড় দিলাম ক্যাম্পের দিকে......ক্যাম্পে এসে হাপরের মত হাঁপাচ্ছি.......ক্যাম্পে ঢোকার আগেই দেখি ক্যাম্পের যেখানে বাবুর্চিদের হান্ডিখানা ছিল সেখানে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাক করে চার-পাঁচ জনে সমানে গুলি ছুঁড়ছে! তাদের ঘিরে ধরেছে পাড়ার ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা, তারাও লাফাচ্ছে। আমি এখন কি করব ঠিক করতে পারছিনা! এখন আমার কি করা উচিৎ তাও বুঝতে পারছিনা! নিজের কাছে যেন লজ্জা লাগছে! ইচ্ছে হলো আমিও গুলি ছুঁড়ে আনন্দ করি, কিন্তু কিসের যেন জড়তায় তাও পালাম না। এই সময়ের অনুভূতি আমি বর্ণনা করতে পারছিনা! আমার আবার খুব শীত লাগছে.....এখন কয়টা বাজে জানিনা। সূর্য অনেকটা উঠে এসেছে। আবার দৌড়ে বাড়ি ফিরলাম। মা আর বোনেরা উঠোনে দাঁড়িয়ে আছে! তাদের ঘিরে পাড়ার ছোট-বড় অনেক মানুষ অনর্গল কথা বলে যাচ্ছে......তাদের কয়েকজন আমাকে দেখে টেনে কাছে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। কত জনে কত কথা বলছে তার কিছুই আমার মাথায় ঢুকছেনা। আমার মনে হয় একটু লজ্জা লজ্জা করছে! ততক্ষণে সারা পাড়াময় এক অন্য রকম আনন্দ! মনে হচ্ছে আজ এই পাড়ায় ঈদ বা দুর্গাপুজো। আরো কয়েক ঘন্টা পরে দেখলাম এই পাড়ার অনেকেই জয়বাংলা যাচ্ছে । নাস্তা খাওয়ার পর আমি জামা-কাপড় বদলে আবার তৈরি হয়ে নিলাম।
ক্যাম্পে গিয়ে দেখলাম আমাদের সেই হুড খোলা জিপ আর ট্রাক্টর অনাবরত ক্যাম্প আর মেহেরপুর যাওয়া আসা করছে। ক্যাম্পের যা যা পড়ে ছিল সব গুছিয়ে সেই ট্রাক্টরের ট্রলিতে তুলে চলে যাচ্ছে। আর জিপে নেওয়া হচ্ছে অন্যান্য ছোট ছোট মালপত্র। ড্রাইভার আর ঘুমোতে পারেনি। একটু সকাল হলেই মেহেরপুর থেকে ম্যাসেজ এসেছিল-মেহেরপুর মুক্ত হয়ে গেছে! সেই থেকে সে জিপ নিয়ে যাওয়া-আসা করছে। সেই ভোরের চেয়েও ক্যাম্পটাকে আরো খারাপ দেখাচ্ছে। মনে হচ্ছে একটু আগেই এখানে জমজমাট যে হাট বসেছিল এখন আর তা নেই! কোন কথাবার্তা বলছিনা কারো সাথে! কেমন যেন যন্ত্রের মত একবার জিপে উঠে বসলাম। এবার জিপ যেতে সমস্যা হচ্ছে। রাস্তায় অগনিত মানুষ। সবাই ওই দিকে হাঁটছে। কেউ কেউ এরই মধ্যে তাদের ছেলে-মেয়ে নিয়ে ‘বাড়ি ফিরছে’। কারো কারো সাথে তাদের পোষা ছাগল, হাঁস মুরগী......ওরা বাড়ি ফিরছে! তা ফিরুক, কিন্তু আমার কেন খুব ভাল লাগছে না? কেন আমি আর সবার মত আনন্দে লাফ দিয়ে উঠছি না? আমি কোন ভাবেই এই প্রশ্নের জবাব পেলাম না। হঠাৎ এক অদ্ভুত খেয়াল হলো! আমি পরিষ্কার ভাষায় ড্রাইভারের কাছে একটা বিড়ি চাইলাম। সে তো চোখ আকাশে তুলে ফেলল! বলো কি? তুমি বিড়ি খাবা? কেন? আমি নিঃশ্চুপ। আবার সে বিস্ময় নিয়ে তাকাল। আমি সোজা সামনের দিকে তাকিয়ে আছি। কি মনে করে পকেট থেকে একটা বিড়ি বের করে আমার হাতে দিয়েও আমার দিকে তাকাচ্ছে আর ধীরে ধীরে গাড়ি চালাচ্ছে।
বিড়ি জ্বেলে দু’একটা টান দিতেই খুক করে কেশে উঠলাম, কিন্তু ফেলে না দিয়ে আবার টানতে থাকলাম। তেতো স্বাদ, তবুও কেমন যেন ভাল লাগছিল। খালের উপরকার কার্লভাট পার হওয়ার পর বাংলাদেশ সীমানায় ঢুকে গত রাতের সেই ভয়াবহ গোলাগুলির দৃশ্য মনে করতে লাগলাম। হঠাৎ করেই সকাল থেকে যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছিলাম না সেটা আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল! আমার আসলে খুব অভিমান হচ্ছিল! এতটা মাস ধরে আমি যে কষ্ট করলাম, গোলাগুলির মধ্যে মৃত্যুকে পরোয়া না করে ছুঁটে গেলাম, রাতের পর রাত জেগে জেগে বাঙ্কার পাহারা দিলাম, চোখের সামনে চেনা মানুষদের ছিন্নভিন্ন দেহ দেখে আঁতকে উঠলাম, সারা দিন-রাত না খেয়ে বড়দের সাথে সমান তালে সব কিছু করলাম.....আর আজ আমার মেহেরপুর, আমার দেশ মুক্ত হলো, কিন্তু আমি নেই! কেউ আমাকে নিল না! আমি যে ‘একটা কিছু’ সেটা কেউ এখন জানতে পারছে না! এই সব ভাবনা আসায় অভিমানে আমার কান্না পেল, কিন্তু রাগে কাঁদতেও পারছিনা। বিড়িটা শেষ করে আবার সামনে তাকিয়ে আছি। এবার ড্রাইভার যেন আমার মনের কথা ধরতে পেরে বা হাত দিয়ে পিঠে আস্তে করে থাবা দিয়ে বলল- ‘কাকু তুমি আসলে বড় হয়ে গেছ’। এই কথা শুনে এবার আর কান্না থামাতে পারলাম না! শব্দ হচ্ছেনা, শুধু চোখ দিয়ে পানি গড়াচ্ছে।
একসময় মেহেরপুরের নদীর পাড়ে এসে জিপ দাঁড়াল। ওপারে মেহেরপুর থানা বিল্ডিং দেখা যাচ্ছে। আমাদের জিপ যেখানে দাঁড়াল তার পাশেই তিন-চারটে টাটা ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। সকালেই নদীর এই জায়গাটায় বালির বস্তা ফেলে পানি কমিয়ে আনা হয়েছে। তার উপর দিয়ে ট্রাক আর ট্রাক্টর পার হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু জিপ পার হতে পারবে না। জিপের পেছন থেকে তাবু টাবু আর কি কি নিয়ে কয়েকজন নেমে নদী পার হয়ে গেল। আমি নেমে সোজা হাঁটা ধরলাম। প্রায় কোমর পর্যন্ত পানি পেরিয়ে ওপারে পৌঁছুলাম। থানায় একটা অস্থায়ী ক্যাম্প করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে পরিচিত কাউকে পেলাম না। আমার পরিচিতরা মনে হয় ইপিআর ক্যাম্পে আছে। হাঁটতে হাঁটতে সেখানেও গেলাম, কিন্তু সবাইকে পেলাম না। বাবাও নেই। জানা গেল আজ সকালেই ট্রাক, ট্রাক্টর জিপ নিয়ে আমাদের বাহিনী চুয়াডাঙ্গার দিকে মেইন রোড ধরে এগুচ্ছে। ইপিআর ক্যাম্প আর থানায় কিছু যোদ্ধা রয়ে গেছে। ইপিআর ক্যাম্পে যাদেরকে চিনলাম তারাও মহা ব্যস্ত! আমার দিকে তাকানোর তাদের কোন সময়ই নেই। আমি এখন কি করব? আগে আমি জানতাম আমাকে বেঁচে থাকতে হবে। এখন আমি কি করব তা কেউ বলছেনা। নিজের মনেই আবার বেরিয়ে এলাম। এপথ ওপথ ধরে উদ্দেশ্যহীন ভাবে হাঁটছি। চোখের সামনে যা যা দেখছি তার কিছু কিছু দৃশ্য আগেও দেখেছি, তাই তেমন বিকার হচ্ছে না।
প্রতি চার-পাঁচটা বাড়ির একটি নেই! পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও এখনো আগুন জ্বলছে। বড় বড় গাছগুলো ভেঙ্গেচুরে দুমড়ে মুচড়ে আছে। পথের পাশে সারি সারি লাশ। কোথাও একটা পাক সেনার লাশ দেখলে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। সেই লাশের উপরেই লাথি দিচ্ছে। আমার চেয়েও কমবয়সের কিছু কিছু বাচ্চা বাবা-মা বলে ডাকছে আর কাঁদতে কাঁদতে দৌড়াচ্ছে। কোন বাবা তার ছেলের নাম ধরে ডাকছে। এক বুড়ি একটা লাশের পাশে বসে সুর করে কাঁদছে। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে উত্তর দিয়ে আবার কাঁদছে। একটা ছোট গলি থেকে বড় রাস্তায় বেরুতেই অনেক লোকের দৌড়াদৌড়ি দেখে সরে দাঁড়ালাম। জটলার মধ্যে এক লোককে রাইফেলের বাঁট দিয়ে লাথি মেরে শেষ করে দেওয়া হলো। সবাই চিৎকার করছে! কারো কথা বোঝা যাচ্ছেনা। যেটুকু বুঝতে পালাম এক বিহারীকে বলা হচ্ছে-‘খানকি মাগীর ছেইলে মেলা রুয়াব দেখিয়েছ, ইবার কন যাবা’? মুহূর্তেই ‘খানকি মাগীর ছেলে’ নিহত হলো। প্রায় দুই ঘন্টা ধরে হাঁটছি আর মৃত মানুষ দেখছি। এক সময় পেটের ভেতর কেমন যেন মুচড়িয়ে উঠল। মনে হলো বমি হবে। কত লাশ? কত মানুষ মারা গেছে? কেউ জানেনা। একটা চৌরাস্তার মোড়ে ভারতীয় আর্মির ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। পথচারীরা সবাই তাদের সাথে হাত মেলাচ্ছে। তারাও সবাইকে ‘জয় বাংলা’ বলে হাত ঝাঁকিয়ে দিচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা, সাধারণ মানুষ যাদের অনেকের হাতে রাইফেল, বন্দুক তারা আকাশের দিকে গুলি ছুঁড়ছে, খুশিতে হাসছে, দৌড়াচ্ছে, আনন্দ করছে। চিনিনা জানিনা এমন অনেকে আমার সাথেও হাত মেলাচ্ছে।
তার পরও আমি একাকী হাঁটছি। এই হাঁটার যেন শেষ নেই। পরিচিত সেই স্কুল, সেই বাসস্ট্যান্ড, সেই বাজার সব তেমনিই আছে। সেই মোড়ে আজ আর কুলফিঅলা বসে নেই। এ এক অদ্ভুত দৃশ্য। অনেকে প্রাণ খুলে হাসছে, কোলাকুলি করছে যাকে পাচ্ছে তাকে। আবার অনেকে সুর করে কাঁদছে, মাটিতে গড়াগড়ি যাচ্ছে, কোন দিকে দৌড়ে যাচ্ছে। কোথাও জটলা হলেই বোঝা যাচ্ছে সেখানে কোন লাশ পড়ে আছে। মিষ্টির দোকানগুলো যাকে পাচ্ছে তাকে মিষ্টি দিচ্ছে। সবচেয়ে যেটা বেশী হচ্ছে তা আকাশের দিকে ফাঁকা গুলি। যার হাতে রাইফেল-বন্দুক আছে সেই গুলি করছে। কিছুক্ষণ পর পরই এক একটা জিপ সাঁই করে কোথায় যেন ছুঁটে যাচ্ছে। সবাই যেন ভীষণ ব্যস্ত। কেউ কাউকে ধরে দু’মিনিট কথা বলার সময় পাচ্ছেনা। অনেকক্ষণ পরে আমার মনে হলো আজ কত তারিখ? কাউকে ডেকে জিজ্ঞেস করব? একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, বলল-জানিনা। আরো কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলাম। কেউ বলে আজ ৬ তারিখ, কেউ বলে ৭ তারিখ। শেষবার যখন এই শহরে এসেছিলাম তখন এত মানুষ দেখিনি। দিনে বা রাতে কখনোই এত মানুষ দেখিনি। দেখেছিলাম সেই প্রথম রাতে যেদিন চুয়াডাঙ্গা থেকে এখানে এসেছিলাম। কিন্তু আজ কোথা থেকে এত মানুষ এলো? এই মানুষদের কোন দোষ নেই, তার পরও আমার মনে হলো এতদিন এরা কোথায় ছিল? সবাই কি যুদ্ধ করেছে? সবাই কি মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করেছে? সবাই কি পাক সেনাদের সাহায্য করেছিল? সবাই কি দেশের মধ্যে থেকেও যুদ্ধ করেছে? এই অগনিত মানুষের ভিড়ে আমাকে কেন যেন খুব অপরিচিত মনে হলো। এই মানুষদের একদলকে আমার খুব আপন মনে হলো। আবার অন্য একদলকে অচেনা লাগল।
আরো অনেকক্ষণ পর আমিও আনন্দ করার জন্য একটা রাইফেল বা এসএলআর নিতে চাইলাম। নেই। আমার কাছে আজ এসএলআর নেই। ক্যাম্পে যেয়ে নিয়ে আসব? কেন যেন মনে হলো আমার হাতে রাইফেল দেখলে কেউ কেড়ে নেবে! কেন মনে হলো জানিনা। তবে বাড়ি বাড়ি মালপত্র লুট হতে দেখছিলাম। যে যা পারে নিয়ে দৌড় দিচ্ছে। আমি এক বাড়ির সামনে একটা ব্যাডমিনটন র্যাকেট পেলাম। সেটা নিয়ে হাঁটতে থাকলাম। একসময় মনে হলো এ দিয়ে কি হবে? আবার ছুঁড়ে ফেলে দিলাম। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে এলো। আমাকে কেউ খেতে ডাকল না। আমার খুব ক্ষিদে পাচ্ছিল। মনে হলো আমি ইচ্ছে করলেই খেতে পারি। কোন দোকানে গেলেই তারা দেবে। পয়সা লাগবে না। কিন্তু ইচ্ছে হলো না। দুপুরের পর ইপিআর ক্যাম্পে গিয়ে দেখলাম প্রায় সবাই চলে গেছে। কয়েকজন আছে পাহারা দেওয়ার জন্য। তাদের একজনকে চিনলাম। সেই কাকা আমাকে এভাবে একা একা না ঘুরে বাড়ি ফিরে যেতে বললেন। আমারও মনে হলো বাড়ি যেতে হবে। আবার ফেরা পথে নদী পার হলাম। জিপ নেই। এতটা পথ কি ভাবে যাব? কিছুক্ষণ বসে থেকে তারপর হাঁটা দিলাম। হেঁটেই যাওয়া লাগবে। আরো কিছুক্ষণ হাঁটার পর দেখলাম আর্মির ট্রাক আসছে। ভাঙ্গাচোরা মাটির রাস্তায় ট্রাক খুব ধীরে ধীরে চলছে.....‘মুঝে লালবাজার যানা হ্যায়’ বলতেই ড্রাইভার ট্রাক স্লো করল। উঠে বসলাম।
তারপর সেই ক্যাম্প। ফাঁকা। কেউ নেই। ফাঁকা মাঠ। কেন যেন বুকের মধ্যে হাহাকার করে উঠল। বাড়ি। মা আমার মনমরা ভাব দেখে কোন খারাপ খবর ভেবে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন। জানালাম-‘না খারাপ খবর না’। মেহেরপুরের মুক্ত হওয়ার খবর, বাবাদের চুয়াডাঙ্গার দিকে মার্চ করার খবর সব মা’কে বলে তারপর আমার কি করতে হবে সেটা মনে করতে পারছিলাম না। বোনরা ঘিরে ধরে কিভাবে কি হলো সব জানতে চাইছে। আমার একসময় আর বলতে ইচ্ছে করছিল না। সন্ধ্যে। রাত। আমি এখন কি করব? জানিনা। আবার সকাল। সন্ধ্যে। আবার রাত। কোন কিছু ছাড়াই আরো একটি দিন পার হয়ে গেল। আমাদের বাড়ির সামনের পথ দিয়ে দলে দলে লোকজন যারা গ্রামের এখানে ওখানে ছিল তারা বাড়ি ফিরছে। জয় বাংলার লোকজন বাড়ি ফিরছে। আমরাও বাড়ি ফিরব। ‘আমরাও বাড়ি ফিরব’ কথাটা মনে আসতেই কেমন যেন লাগল! মা’কে ডেকে কেমন বোকার মত প্রশ্ন করলাম-‘আম্মা আমরা কি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাব’? মা অবাক হয়ে দেখলেন আমাকে! ‘আশ্চর্য! আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে, আমরা আমাদের বাড়ি যাব না? এ কেমন কথা’? আমি এর উত্তরে কিছুই বলতে পারলাম না, কিন্তু আবার বললাম-‘এই বাড়ি, এই পাড়া, এই গ্রাম সব ছেড়ে যাব’? এবার মনে হয় মা বুঝতে পারলেন। ‘জানি কষ্ট হবে, মায়া লাগবে, এতদিন এখানে থাকতে থাকতে মায়ায় পড়ে গেছি, কিন্তু এ তো আমাদের দেশ না, আমার আমাদের দেশে যাব বাবা’! আমারও মনে হলো ঠিক তো, আমরা তো এখানে রিফিউজি। রায় বুড়োরা অনেক আগের রিফিউজি। আমরা এখনকার রিফিউজি। আমরা আমাদের বাড়ি ফিরব। আমার দেশ। আমার বাড়ি।
আমাকে আর মা’কে অবাক করে তিন বোনই বলে উঠল-‘না আম্মা আমরা এই বাড়িতেই থাকব’! কি ভেবে মা কাঁদতে লাগলেন। আমার নিজ হাতে বানানো ঘর। এই ঘরের প্রত্যেকটি বেড়ায় আমি গুণের তার দিয়ে বেঁধেছিলাম! ঝুঁড়ি ভরে মাটি এনে ঘরের মেঝেতে দিয়ে ইঁট দিয়ে থপ থপ করে সমান করেছিলাম। বারান্দার কোণায় মা খুব সুন্দর করে একটা চুলো বানিয়েছিলেন। মর্টারের খোলের দুই মাথায় দড়ি বেঁধে বেড়ার সাথে ঝুলিয়ে তার মাঝখানে কেটে বোনদের চুড়ি, ফিতা, চিরুনী রাখার ব্যবস্থা করেছিলাম। একটা শক্ত লোহার গুলির বাক্সো ভরে আমার এটা ওটা কত কি রেখেছিলাম। আর একটা বাক্সোর উপর মায়ের সেলাই মেশিন রাখার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। যেখানে দাঁড়িয়ে সেই প্রথম বার বাবার চলে যাওয়া দেখে হাউমাউ করে কেঁদেছিলাম সেই জায়গাটা প্রায় প্রতিদিনই আমার কাছে এক দেখার মত জায়গা হয়ে উঠেছিল। জগন্নাথের মা তার বাড়িতে কিছু ভাল-মন্দ রান্না হলেই বাটি পাঠিয়ে দিত। অশ্ব-বিশ্বর মা গাছের কুলটা, ক্ষেতের মুলোটা তুলে দিত। মালতির মা এসে মায়ের পাশে বসে রাজ্যের গল্প করত। সেই কলতলা, যেখান থেকে রোজ মায়ের জন্য গোসলের পানি আনতাম। বেতাই বাজারেরর সেই একপায়ে মল বাঁধা গায়ক-গোলেমালে গোলেমালে গাইত। সসপ্যানে করে আমি গরম খিঁচুড়ি মাথায় করে আনছি, আর বোনরা খিদেয় সেই গোডাউনের ঘরের দরোজায় দাঁড়িয়ে আছে, সারাদিন তাদের পেটে কিছু পড়েনি! সেই বটতলা, কালী মন্দির। বৈরাগী মেয়েটি বলে চলেছে- ‘কি গো গুসাই হাটতি পারবা তো’? সেই বুড়োর লাশের সাথে বলো হরি হরি বোল! জমিদারের পুকুরের সিঁড়িতে বসে থাকা। দূরের কোন গাছ থেকে শুকনো ডাল আনলে তারপর রান্না হবে বলে মায়ের বসে থাকা, সেই অচেনা কুহক পাখি শিকার, পুঁটি মাছ ধরা দেখতে দেখতে বাঙ্কারের খাবার নিতে দেরী হয়ে যাওয়া! নিজের কাছে বসিয়ে জগন্নাথের সেই সাহস দেওয়া অদ্ভুত সব কথা, সেই হঠাৎ লিফলেট, তেলেঙ্গানার শিক্ষা আঁকড়ে ধরার কথা......শিকারপুর, ময়ূরাক্ষী, সুন্দরপুর, পলাশী, বহরমপুর, কান্দি, কৃষ্ণনগর, ট্রাকে মাইলের পর মাইল বাবাকে খোঁজা, তরিতরকারি না থাকলে ক্যাম্প থেকে দৌড়ে গিয়ে সসপ্যান ভরে তরকারি আনা! ঘন বৃষ্টির দিনে চাল দিয়ে পানি পড়ছে কিনা দেখার জন্য রায় বুড়োর ছুঁটে আসা- সব, সব কিছু একসাথে জড়াজড়ি করে মনে পড়ে যাচ্ছে, এবং একসময় আমার এই জগতটাকেই আমার জীবনের সবচেয়ে আপন মনে হচ্ছে। আমি মনে মনেই বলে চলেছি, না আমি এসব ছেড়ে যাবনা।
কিন্তু যে মায়ার টানে আমি এখানে থাকতে চাইছি তার চেয়েও অনেক বড় মায়ার টানে মা বাড়ি ফিরতে চাইছেন। এরই মধ্যে মা একে একে সবাইকে জানিয়েও দিচ্ছেন যে আমরা কিছুদিনের মধ্যেই চলে যাব। সেই ‘কিছুদিন’ কবে আসবে সেই অপেক্ষায় দিনগুণছে মা। আমি আর বোনরা দিন গুণছি যেন আরো পরে সেই যাবার দিন আসে। কেন যে আমি এই বিদেশকে দেশ বানিয়ে ফেললাম তা বলতে পারব না। আমি বুঝতে পারছিলাম না। এক একবার চুয়াডাঙ্গার সেই ছোটবেলার মধুর দিনগুলির কথা মনে হলে বাড়ি ফেরার ইচ্ছেটা জোরালো হয়। আবার এই আট-নয় মাসের এখানকার স্মৃতি টেনে ধরে।
ডিসেম্বরের নয় বা দশ তারিখে বাবা ফিরে এলেন। এর মধ্যে আমরা খবর পেয়েছিলাম চুয়াডাঙ্গাও মুক্ত হয়েছে। চুয়াডাঙ্গাতেও মেহেরপুরের মত আনন্দ উল্লাস হচ্ছে। বাবা আসলেন একটা ট্রাক্টর নিয়ে সন্ধ্যের সময়। ট্রাক্টরটা আমাদের সেই ক্যাম্পের সামনে মাঠে থাকল। বাবাকে ফিরে পেয়ে আমরা আনন্দ করলাম ঠিকই, কিন্তু ট্রাক্টর দেখে বুঝে গেলাম এটাতে করেই আমরা ফিরে যাব, ঠিক যেভাবে এসেছিলাম। বাবা একটু সময় নিয়ে তাদের চুয়াডাঙ্গা মুক্ত করার বিবরণ দিচ্ছিলেনঃ চুয়াডাঙ্গা ব্রীজের এপারে বাবাদের প্রায় একদিন পাক সেনারা ঠেকিয়ে রেখেছিল। এখানেও শেষ পর্যন্ত ভারতীয় আর্মির ট্রাক থেকে কামান দেগে বাবাদের সাহায্য করা হয়েছিল। ব্রীজের গোঁড়ায় ছাড়া মেহেরপুর থেকে চুয়াডাঙ্গা পর্যন্ত আর কোথাও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধে পড়তে হয়নি। সেই রাতে মেহেরপুরে যেমন ভয়াবহ যুদ্ধ হয়েছিল ঠিক সেই রকম চুয়াডাঙ্গায় হয়নি। এখানে তিন দিক থেকে আক্রমন করে আমাদের বাহিনী চুয়াডাঙ্গা মুক্ত করে নিয়েছিল। চুয়াডাঙ্গায় মুক্ত হবার পরে মেহেরপুরের মত অত লাশও রাস্তায় রাস্তায় পড়ে ছিলনা। তবে মুক্ত হবার আগের দিন থেকেই চোরাগুপ্ত আক্রমনে অনেক বাঙালি-বিহারী মারা গেছে। লুটপাট হয়েছে নির্বিচারে।
বাবা সারা পাড়ায় এবাড়ি ওবাড়ি গিয়ে সবার সাথে কোলাকুলি করে বিদায় নিলেন। অনেকে বাড়ি এসে চোখের জল ফেলে গেল। রাতেই আমাদের সামান্য মালপত্র গোছগাছ করে নেওয়া হলো। খুব সকালে ট্রাক্টরটা আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তায় এসে দাঁড়াল। পেছনের ট্রলিতে সব তোলা শেষ হলে উঠোনে দাঁড়িয়ে একে একে সবাই এসে মা’কে আমাকে, বোনদেরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল। মনে হলো যেন আমরা আমাদের দেশ ছেড়ে দূরে কোথাও রিফিউজি হয়ে চলে যাচ্ছি! সারা পাড়ার মানুষরা চোখের জলে আমাদের বিদায় দিল। শাড়ির আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে মা ট্রলিতে উঠে বসলেন। বাবা বোনদেরর তুলে দিলেন। আমাকে মা ডাকছেন। আমি শেষ বারের মত আমার বানানো ঘরটার দিকে চেয়ে আছি! বুকের পাজরের কাছে কি যেন খচ খচ করে বিঁধছে! অশ্ব-বিশ্ব, মন্মোথ, জগন্নাথ আর আমার সাথের সেই ছেলেদেরে বিদায় দিয়ে ট্রলিতে উঠে বসলাম। একেবারে শেষ বেলা জগন্নাথ ট্রলির ডালা ধরে বলল-‘যেখানেই থাক নিজের লড়াইটা লড়ে যাবে, তোমার তো হারাবার কিছু নেই’! ঝাঁকি খেতে খেতে ট্রাক্টর এগিয়ে চলছে। আমরা সবাই ট্রলিতে বসে পেছনে তাকিয়ে আছি। পেছনে পড়ে রইল সেই অতি আপনার গ্রাম, লালবাজার, ক্যাম্প, সেই খাল, ল্যান্ডমার্ক.....একসময় সেই সবই নেই হয়ে গেল। কয়েকদিন আগেও যে ভয়ংকর রাতে এখানে যুদ্ধ হয়েছে, আমি গুলি ছুঁড়েছি, লাশ দেখে বাবা কি-না নিশ্চিত হতে গেছি, সেই সব জায়গাগুলোও পার হয়ে এলাম। নদী পেরিয়ে মেহেরপুরের মেইন রোডে উঠে আমরা আর পেছনে তাকাচ্ছিলাম না।
সেই যে পথে পালিয়েছিলাম সেই পথ ধরে সেই একই ভাবে ট্রাক্টর ছুঁটে চলেছে। চড়া রোদ উঠেছে। পথে বোনরা আর কাঁদেনি, কিন্তু আমি আর মা অনেকক্ষণ ধরে কেঁদেছি। চুয়াডাঙ্গা শহরে ঢোকার মুখেই মাথাভাঙ্গা ব্রীজটা মাঝখান থেকে ভাঙ্গা। পাক সেনারা যাবার আগে ভেঙ্গে দিয়েছে। উঁচু রাস্তা থেকে ঢাল বেয়ে ট্রাক্টরটা নিচে নেমে গেল। ভারতীয় আর্মি ড্রাম আর কি কি দিয়ে যেন অস্থায়ী ব্রীজ বানিয়েছে। সেখান দিয়ে পার হতেই বড় বাজার। সেই চৌরাস্তা। চৌরাস্তায় আসতেই শত শত মানুষ দেখছি। গিজ গিজ করছে গোটা চৌরাস্তা। আমাদের পাড়ায় যেতে হলে এখান থেকে ডান দিকে যেতে হবে, কিন্তু ডানে না গিয়ে ট্রাক্টর বায়ে মোড় নিল। তারপর একটুখানি গিয়েই ট্রাক্টর থেমে গেল একটা পুরোনো বাড়ির সামনে। আমরা নামলাম। এই বাড়িটিই আমাদের এখনকার ঠিকানা। নদীর পাড় দিয়ে যে রাস্তাটা পশ্চিমে চলে গেছে সেই রাস্তার উপরেই বাড়িটি। রাস্তার একপাশে বড়বাজার, অন্যপাশে এক লাইনে বাড়ি ঘর, তার পরই নদী। এই পাড়ায় আগে বিহারী আর মাড়োয়ারীরা বেশি থাকত। রাস্তার দুই পাশে গুড়, পান, ভুষিমাল এইসবের আড়ৎ। নদীর ধার ঘেসে হাট বসে।
মালপত্তর সব নামানো হলে আমি চলে গেলাম আমাদের আগের পাড়ায়। পরিচিত সব খেলার সাথীকেই পেলাম। শুধু খোকনরা এখনো আসেনি। তারা মুর্শীদাবাদেই আছে। রেজাউল মামা বেঁচে আছেন। একা থাকেন তার বাড়িতে। তখন ছিলেন হাসপাতালে। খুব আশ্চর্য হয়ে দেখলাম আমার পাড়ার সেই চেনা খেলার সাথীদের কেন যেন বেশ অচেনা আর অপরিচিত মনে হচ্ছে। দুএকটা কথা বলছি, তবে কেমন যেন জড়তা! তারাও কেউ আর আগের মত মিশতে পারছে না, নাকি আমিই পারছিনা! হেঁটে হেঁটে সেই নতুন হাসপাতালের ঘরটায় গেলাম। খা খা করছে। দেওয়ালে এখনো রক্তের দাগ লেগে আছে। আমাদের ঘরটা ফাঁকা। কিচ্ছু নেই। পরিচিত যাকেই পাই সে এক একটা কবরের খবর দেয়। আর যেন কোন কথা নেই! কে কি করেছে সেই বর্ণনা দেয় কেউ কেউ। কেউ কেউ বলে ‘তুই গুলি করতি শিকিছিস, আমি শিকিচি’! আমি কোন কথা বলিনা। কেমন যেন ক্লান্তি লাগে। কি কি করেছি, কি কি ঘটেছে তার কতটুকু বলব? কথা তো শেষ হবে না। একসময় আবার সেই নতুন বাসায় ফিরে আসি। আমার এখন কোন কাজ নেই। রাস্তায় নেমে দু’একজন পরিচিত কাউকে পেলে কথা বলি, আর তা না হলে সারা দিন চুপচাপ থাকি। বোনরা কয়েকদিনেই আশপাশের বাড়িতে পরিচিত হয়ে যায়। মদন মিয়া নামের এক বিরাট বড় লোক এসে মা’কে তার মেয়ে বলেন। মা সেই বাড়ি গিয়ে যুদ্ধের কথা বলেন। বাবা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প, অস্ত্র গোলাবারুদ, কমিটি আরো কি কি নিয়ে মহা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আমি কখনো সাইকেল নিয়ে চিরচেনা শহরটা ঘুরে বেড়াই, দু’একজন বন্ধু পেলে একটা দুটো কথা বলি, কিন্তু তারা অসংখ্য কথা বলে! আমার বিরক্ত লাগে। আমাদের এই বাসা থেকে আগের পাড়ার লিচু বাগান অকে দূর, তবুও সেখানে যাই, তাদের সাথে খেলতে চাই, কিন্তু একটু পরেই মনে হয় এ আমি কি করছি! ভাল লাগছে না কেন? ফার্মের সেই টোম্যাটো খাওয়ার কথা মনে করি, কিন্তু কেউ যায়না।
ডিসেম্বরের ১৭ বা ১৮ তারিখ বাবার সাথে রেল স্টেশনে গেলাম ট্রেনের খোঁজ খবর নিতে। ট্রেন আর নিয়মিত চলে না। স্টেশনেই খবর পেলাম একটা ট্রেন আসছে, সেই ট্রেনে পাক সেনারা আছে। আমরা অপেক্ষা করছি। একসময় ট্রেনটা এসে থামল। গোটা ট্রেন ভর্তি বন্দি পাক সেনা। খুলনা-যশোর থেকে আসছে। জানালা দিয়ে বন্দি পাক সেনারা তাকিয়ে আছে। হঠাৎ বাবা এবং কয়েকজন উর্দুতে কি কি বলে যেন ওদের গালি দিল, তার পর বাবা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠল জয় বাংলা বলে, সাথে সাথে প্লাফর্মের সব মানুষ চিৎকার করে উঠল জয় বাংলা! তার পরপরই যে যেমন পারে জানালা দিয়ে ঢিল ছুঁড়তে লাগল। একসময় ট্রেনটা ছেড়ে চলে গেল ঈশ্বরদির দিকে। বাবা অনেক মানুষের মধ্যে দাঁড়িয়ে তার যুদ্ধের কথা বলছেন। আমি কি করব ভেবে না পেয়ে বুক স্টলে কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। স্টলের মালিককে পাক সেনারা মেরে ফেলেছে। এখন তার ছেলে বসে। আমি অনেকক্ষণ দেখে দেখে কয়েকটা বই পছন্দ করলাম। সব মিলিয়ে মেন হয় চার-পাঁচ টাকা দাম হলো। টাকা নেই শুনে ছেলেটা বইগুলো দিয়ে বলল দাম লাগবে না নিয়ে যা, তুই কি এই বই পড়তে পারবি? আমি কিছু না বলেই বই নিয়ে ফিরে এলাম।
আমি কি ভাবে যেন বুঝে নিতে পারি-আমার কি যেন হারিয়ে গেছে! আমি যেন কোন ভাবেও এদের সাথে মিশতে পারছিনা। এই কথাটিও আমি কাউকে বলতে পারছিনা। কাকে বলব? বুঝিয়ে তো বলতে পারছি না! আমি আর পথের ধারে ধুলোয় বসে মার্বেল খেলতে পারছিনা! সহিদুলরা লাটিম খেলছে দেখেও তাদের সাথে খেলতে পারছিনা। এমদাদুল কাকা খুঁজে খুঁজে এসে আমাদের দেখে গেছেন। পুরোনো সবাইকেই পেয়েছি, আমার দেশ স্বাধীন হয়েছে, ঢাকা মুক্ত হয়েছে কি-না তা নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই! আমি আমরা সব ফিরে পেয়েছি.....কিন্তু আমার বুক ফেটে কান্নার সাথে কথাটা বেরিয়ে আসতে পারছে না, কাউকে চিৎকার করে বলতে পারছিনা যে আমি আমার শৈশব হারিয়ে ফেলেছি.....আমি তো আগে এমন ছিলাম না! একা একা ভেতরে ভেতরে হাউমাউ করে কাঁদি, কেউ শুনতে পায়না! কেউ না। শহরের অনেক মানুষকে আমার দালাল মনে হয়! মনে হয় এরা দুই পক্ষের মাঝখানে নিরাপদে দাঁড়িয়ে ছিল। যারা জিতবে সেই পক্ষে তাল দেবে। এই লোকদের আমি চিনতে পারিনা, কিন্তু যাকেই দেখি তাকেই আমার সন্দেহ হয়। একটা অদ্ভুত কথা মনে হয়, এরা বাঁচল কি ভাবে? এরা কি পাক সেনাদের বিপক্ষে ছিল না? তাহলে এদের মেরে ফেলেনি কেন? আমার মনে হলো আমি পাগল হয়ে যাব! এক একবার মনে হয় একদিকে হেঁটে চলে যাই! একদিন বাবা বললেন পরিস্থিতি একটু শান্ত হলে তুই খুলনা গিয়ে সবার সাথে দেখা করে আসিস। মনে হলো তাও ভাল। এখানে আমি মানিয়ে নিতে পারছিলাম না।
দিনের পর দিন চলে যায়, আমি কারো সাথে ভাল ভাবে মিশতে পারছিলাম না! ছোটদের সাথে খেলতে পারছিলাম না! মাঝে মাঝে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে গেলেও কেউ আর আগের মত আদর করে কাক্কু, হিরো, ভাতিজা বলছিল না! পুরোনো খেলার সাথীরা আমাকে ‘দেমাগি’ বলে এড়িয়ে যাচ্ছিল! সারা বাড়িতে, সারা শহরে আমি যেন নতুন এসে পড়েছি! রাতে একা একা বুকের ভেতর গুমরে ওঠে! কেন ওঠে তা বুঝিনা কাউকে বুঝিয়েও বলতে পারিনা, আর সে কারণে বুক ফেটে কান্না আসে। একা একা কাঁদতে থাকি। রাতে প্রায়ই যুদ্ধের সেই ভয়াবহ রাতের স্বপ্ন দেখি, গুলির শব্দে চমকে উঠে ঘুম ভেঙ্গে যায়! দেখি আমি বিছনায় একা শুয়ে আছি, কোথাও গুলি হচ্ছেনা! এই অদ্ভুত সময়ে আমার একমাত্র সাথী হয়ে ওঠে বই। পড়ি আর জগন্নাথের সেই কথাটা মনে পড়ে -‘যেখানেই থাক নিজের লড়াইটা লড়ে যাবে, তোমার তো হারাবার কিছু নেই’! সেই লড়াই আজও জারি আছে........
চলবে না।
পর্ব-১ পর্ব-২ পর্ব-৩ পর্ব-৪ পর্ব-৫ পর্ব-৬ পর্ব-৭ পর্ব-৮ পর্ব-৯ পর্ব-১০ পর্ব-১১ পর্ব-১২ পর্ব-১৩ পর্ব-১৪ পর্ব-১৫ পর্ব-১৬ পর্ব-১৭ পর্ব-১৮ পর্ব-১৯ পর্ব-২০ পর্ব-২১
ব্লগের অনেক সুহৃদের অনুরোধে পুরোনো প্রায় নষ্ট হয়ে যাওয়া কিছু ছবি দেওয়া হলো প্রতিশ্রুতি মত।
![]()
যশোর এয়ার বেজ এ চাচার কাছে বেড়াতে গিয়েঃ ১৯৬৪
![]()
বাবার সাথে ঈদের দিনেঃ ১৯৬৫
![]()
১৯৭৩ সালের মাঝামাঝি। তিন বোনের পর জন্ম নেওয়া ছোট ভাই। পেছনে চাচাতো ভাই।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি, কিশোর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ, বাঙ্গালী, বাংলাদেশী, বাংলাদেশ, ১৯৭১, ৭১, '৭১, মনজুরুল হক, স্মৃতিকথা, গেরিলা, পাকিস্তান, পূর্ব বাংলা, বিহারী, 1971, 71, '71, bangladesh, freedom fighter, liberation war, bangladeshi, bangla, east pakistan, west pakistan, .... ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ; ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ, স্মৃতিকথা বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:২১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন:
এই সিরিজ চলছে সেই ডিসেম্বরের দ্বিতীয় দিন থেকে। সেই থেকে আজ শেষ পর্ব পর্যন্ত আপনাদের সবার ভালবাসা প্রেরণা আর শ্রদ্ধা যে ভাবে এই পোস্টকে ঘিরে রেখেছে তা আমার বাকি জীবনে প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ভাল থাকুন রাজর্ষী।
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ।
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
শেষের চলবেনা টুকু কেমন কষ্ট দিলো......।
জানি শেষ হবে......।আপনার এই ফিরে দেখার শেষ কোথাও তো হতেই হবে।
তবু শেষ পর্বে এসে শৈশব হারানো কিশোরের আর্তি ভীষন কষ্ট দিলো।
কিছুতেই এগুতে পারছিলাম না।
দু'চোখ ঝাপসা হচ্ছিল বারবার।
ছবিগুলো খুব ভালো লাগলো।
যে কিশোরের স্মৃতিতে ফিরলাম এতদিন.....তার কৈশোর এর ছবি দেখে সত্যি খুব ভালো লাগলো।
আপনি কিন্তু খুব বেশী বড় হননি মনজুরুল ভাই।
অনেক ভালো থাকবেন.....কাছের মানুষদের নিয়ে।
শুভেচ্ছা নিরন্তর।
লেখক বলেছেন:
কাল ভোর পাঁচটার দিকে একবার শুরু হওয়ায় লেখায় বিরতি আনতে হয়েছিল!
আজ আবার আপনার মন্তব্য পড়ে ভাসলাম!
ঝাপসা হয়ে ওঠা চোখে কিছুতেই লিখতে পারছিনা!
এই সব ভালবাসা হৃদয়ের গভীরে তোলা রইল!
জং ধরা টিনের বাক্সোয় তোলা রইল!
নেপথলিন দেওয়া পুরোনো কাপড়ের ভাঁজে তোলা রইল!
আজ আমার প্রাণ ভরে আর একবার পেছনে ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে.......
কাকু বড় হয়ে গেছে কেউ জানে না।কাকুর কষ্ট কেউ বুঝে না।
একা হয়ে যাবার একটা সময় বোধহয় সবার জীবনেই আসে, আগে আর পরে। আপনার কষ্টে খুবই কষ্ট পাইলাম, এক্কেবারে মোচড় দেয়া। ছুয়ে দিয়েছেন। ব্যাথার সংখ্যা বাড়ল একটা।
বর্ণনা ভাল হয়েছে, সত্যি খুব ভাল হয়েছে।
এই কষ্টের মধ্যে আবার আপনার বিড়ি খাওয়ার কাহিনী শুনে হেসে দিয়েছি। একটা মিশানো অনুভব।
সিনেমা বা নাটক দেখার সময় সামনের পর্দায় ছবি থাকে।
গল্প পড়ার সময়ও একটা ছবি এঁকে নিয়ে গল্প বুঝার চেষ্টা করি।
আপনার লেখাটা পড়ার পর যখন খেয়াল হয়েছে এটা তো সত্যি, কল্পনার কোন গল্প বা স্ক্রিপ্ট নয়, একটা বিশাল অস্বস্তি কাজ করছে ভিতরে তখন থেকে।
আমাদের মনজু ভাল থাকুক।
লেখক বলেছেন:
ভাল লাগা বোঝাতে কখনোই উচ্ছ্বসিত হতে পারতাম না, এখনো পারিনা।
খুব ছোটবেলায় অপছন্দ বোঝাতে যুৎসই শব্দ ব্যবহার করতে পারতাম না,
এখনো পারিনা।
দ্রোহ বোঝাতে "ভয়ানক কঠোর" গুরুজনদের কিছুতেই মানাতে পারতাম না।
আর তা না পেয়ে বাড়ি থেকে পালাতাম!
কত বার যে বাড়ি থেকে পালিয়েছি তার সংখ্যা মনে নেই!
ওই সময়ের একাকিত্ব যখন কাউকেই বোঝাতে পারছিলাম না তখন বোধ হয় পারিপার্শিকতাই আমায় উদ্ধার করে! আমাকে লজিংয়ের ছলে মামা বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই হঠাৎ "বড় হয়ে ওঠা" ছেলেটিকে বিদেয় করে বাবা মনে হয় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন! আর সেটা বুঝতে পেরে আমিও বাবা-মামাকে করুনা করতে শুরু করেছিলাম।
আমার একাকিত্ব নিয়ে কাউকে কষ্ট দিইনি, নিজে পুড়েছি। আজও পুড়ি..............নিরন্তর ভাল থাকার চেষ্টা........
পন্ডিত বলেছেন:
চমৎকার চলমান এই আত্মকথাগুলো পড়বার জন্য গত একটা মাস চুপিচুপি ঢুকতাম এই ব্লগে ।নিঃরবে পড়ে বিদায় নিতাম । পরদিন আবারও একই অভিনয় । কিছু বলতে পারতাম না । কি এক আবেগে কন্ঠের সাথে সাথে হাতের আংগুলগুলোও স্থবির হয়ে পরতো । আজকে অনেক সাহস যোগার করে দু কলম অভিব্যক্তি লেখার দুঃসাহস দেখালাম । স্যালুট আপনাকে ।
লেখক বলেছেন:
চুপি চুপি এসেই তো ভালবাসার বন্ধনে অটুট বেঁধে ফেললেন!
আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
কৃতজ্ঞতা জানবেন পুরো সিরিজটার জন্য। এই পোস্টে পূর্বের লেখাগুলোর লিঙক দিয়ে দিলে ভালো হতো। সঙগ্রহে রাখা যাবে, হাতের কাছে-ও থাকল।
লেখক বলেছেন:
পুরো সিরিজের লিঙ্ক দিয়েছি আশরাফ।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন:
মুক্তিযুদ্ধকে নতুন করে অনুভব করলাম। অসংখ্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন:
সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ হাসান শহীদ ফেরদৌস।
অলস ছেলে বলেছেন:
জীবনে এমন মুহুর্ত সবার আসে না
লেখক বলেছেন:
একেবারে ২২ তম পর্বে এসে পেলাম আপনাকে....
মুক্তিযুদ্ধকে নতুন করে অনুভব করলাম। অসংখ্য ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ এমন একটি অবিস্মরনীয় সিরিজ উপহার দেবার জন্য। ছবিগুলোর জন্য +।
সামহয়ার ইনের সকল ব্লগারদের পক্ষ থেকে আপনাকে গার্ড অব অনার।
ভালো থাকুন....................।
শুভ কামোনা রইল...................।
লেখক বলেছেন:
প্রতিদিনই আপনি সাথে ছিলেন।
আজ সেই মিলনমেলা ভাঙ্গল!!!
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:
অসাধারণ!!! ______________________________________
জননীর নাভিমূল ছিঁড়ে উল্ঙ্গ শিশুর মত
বেরিয়ে এসেছো পথে, স্বাধীনতা, তুমি দীর্ঘজীবী হও।
তোমার পরমায়ু বৃদ্ধি পাক আমার অস্তিত্বে, স্বপ্নে,
প্রাত্যহিক বাহুর পেশীতে, জীবনের রাজপথে,
মিছিলে মিছিলে; তুমি বেঁচে থাকো, তুমি দীর্ঘজীবী হও।
তোমার হা-করা মুখে প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে
সূর্যাস্ত অবধি হরতাল ছিল একদিন,
ছিল ধর্মঘট, ছিলো কারখানার ধুলো।
তুমি বেঁচেছিলে মানুষের কলকোলাহলে,
জননীর নাভিমূলে ক্ষতচিহ্ন রেখে
যে তুমি উল্ঙ্গ শিশু রাজপথে বেরিয়ে এসেছো,
সে-ই তুমি আর কতদিন 'স্বাধীনতা, স্বাধীনতা' বলে
ঘুরবে উলঙ্গ হয়ে পথে পথে সম্রাটের মতো?
জননীর নাভিমূল থেকে ক্ষতচিহ্ন মুছে দিয়ে
উদ্ধত হাতের মুঠোয় নেচে ওঠা, বেঁচে থাকা
হে আমার দূঃখ, স্বাধীনতা, তুমিও পোশাক পরো;
ক্ষান্ত করো উলঙ্গ ভ্রমণ, নয়তো আমারো শরীরি থেকে
ছিঁড়ে ফেলো স্বাধীনতা নামের পতাকা।
বলো উলঙ্গতা স্বাধীনতা নয়,
বলো দূঃখ কোনো স্বাধীনতা নয়,
বলো ক্ষুধা কোন স্বাধীনতা নয়,
বলো ঘৃণা কোন স্বাধীনতা নয়।
জননীর নাভিমূল ছিন্ন-করা রক্তজ কিশোর তুমি
স্বাধীনতা, তুমি দীর্ঘজীবী হও। তুমি বেঁচে থাকো
আমার অস্তিত্বে, স্বপ্নে, প্রেমে, বল পেন্সিলের
যথেচ্ছ অক্ষরে,
শব্দে,
যৌবনে,
কবিতায়।
(স্বাধীনতা, উলঙ্গ কিশোর: নির্মলেন্দু গুণ)
লেখক বলেছেন:
আপনার মাধ্যমে গুণদা'কে প্রনাম।
"মানুষ" এর পর তেমন করে পড়া হয়নি।
খুব স্বার্থপরের মত আপনার কাছে আবারো কৃতজ্ঞ।
বেশ সেলফিশের মত আপনার প্রশংসা পেয়ে প্রীত।
বৃত্তবন্দী বলেছেন:
আজকের পুরো লেখাটা জুড়ে কেমন যেনো একটা হারাবার কষ্ট, একটা হাহাকার...
লেখক বলেছেন:
এ এক অন্যরকম জটিল কষ্ট!
ব্যাখ্যার অতীত অন্তর্জালা! ঘুণ পোকার মত ভেতরে ভেতরে নিঃশেষ করে দেওয়া!!!
শয়তান বলেছেন:
শেষ হৈয়াও হৈলো না শেষ ।
লেখক বলেছেন:
শুরুই হয়েছিল শেষ হবে বলে।
শেষও হয়েছে আর এক অধ্যায় শুরু হবে বলে।
যীশূ বলেছেন:
প্রথমে একটা বিশাল ধন্যবাদ এত দারুন একটা লেখার জন্য।আর কৃতজ্ঞতা জানাই মহান মুক্তিযুদ্ধে আপনার অংশগ্রহনের জন্য।
আচ্ছা, এই জায়গাগুলোতে কি আর কখনো গিয়েছিলেন? পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিলো আপনার সাথে এই ক্যাম্প, যুদ্ধের জায়গাগুলো একবার ঘুরে দেখতে পারলে খুব ভালো লাগতো। যাবেন নাকি একবার?
লেখক বলেছেন:
না যীশূ আর যাওয়া হয়নি! কয়েক বার কোলকাতা/ শিলিগুড়ি গিয়েও মনে হয়েছে-ঘুরে আসি, কিন্তু হয়নি।
তবে এবার ভাবছি যাব। আমি আসলে এতবেশী কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকি যে কোথাও যাওয়ার জন্য সব দিনক্ষণ ঠিকঠাক করেও যেতে পারিনা!
ঠিক করেছি বইটা বের হওয়ার পর মার্চের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করব। জানিনা পারব কি-না, তবে এবারকার ইচ্ছেটা তাজা রাখতে চাই।
ত্রিশোনকু বলেছেন:
মুক্তি যুদ্ধের উপর পড়া যে লেখাগুলো আমর মনে গভীর দাগ কেটেছে সেগুলো হ'ল:১। একাত্তরের দিলগুলি: জাহানারা ইমাম।
২। আমার বাবা তাজুদ্দিন: সিমিন হোসেন রিমি।
৩। জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা, বিজয়ী হ'লে ফিরবো নইলে ফিরবোই না:
কামরুল ইসলাম।
৪। Witness to Surrender: Siddique Salik.
৫মটি যোগ হ'ল আজ। আপনার এই উপাখ্যান: এক কিশোরের চোখে মুক্তিযুদ্ধের অমলিন স্মৃতি।
আমার ভালবাসা ও শ্রদ্ধাপূর্ণ অভিবাদন গ্রহন করুন মন্জুর।
লেখক বলেছেন:
আমি আপ্লুত হলাম।
আমি অবিভূত হলাম।
আমি কৃতজ্ঞ হলাম।
আমি আমার সকল স্মৃতির সূতোয় সকলকে এক একটি গিঁটে সযতনে বাঁধলাম!
আমি দীর্ঘদিনের শুকনো চোখে জলের ফল্গুধারা প্লাবিত হতে দিলাম!
আমি কাঁদলাম।
লেখক বলেছেন:
আমার এই ছবিগুলো দেখে আমারই হাসি পায়......
দীপান্বিতা বলেছেন:
এই পর্বটা পড়তে পড়তে আপনার সেই কষ্টটাও যেন সঞ্চারিত হচ্ছিল...শেষের ছবিগুলো মন ভাল করে দিল... লেখক বলেছেন:
ওই কষ্টের যে কোন শেষ নেই!
এমনই এক কষ্ট যা কাউকে প্রভাবিতও করেনা!
শুধুই একাকী দাহ্য হতে থাকে অনির্বাণ!
একটা মাস পথ পরিক্রমায় সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ দীপান্বিতা।
দীপান্বিতা বলেছেন:
আমার কিন্তু এখনও আপনার মুখে আরো গল্প শুনতে ইচ্ছে করছে! দেশতো স্বাধীন করলেন......তারপর! তারপর বাংলাদেশ যে ধিরে ধিরে গড়ে উঠলো তার গল্পও চাই!......সময় করে বলবেন! লেখক বলেছেন:
কোন একদিন দেখবেন আর এক নতুন অধ্যায় নিয়ে হাজির হয়েছি!
যা কিছু পারি তা এই লেখালিখি, এ নিয়েই কেটে যাবে বাকি জীবনটা....
আসছে মার্চে ওই অঞ্চলগুলো দেখতে যাব ভাবছি.....
মনজুরুল হক বলেছেন:
গত ডিসেম্বরের ২ তারিখে প্রথম পর্ব দিয়ে শুরু হয়ে আজ শেষ পর্ব পর্যন্ত এই সিরিজটিতে ব্লগের অনেকই এসেছেন। কেউ কেউ নিয়মিত আসতে পারেন নি, আবার কেউ কেউ নিয়মিত এই সিরিজটির সাথে থেকে লেখককে ক্রমাগত প্রেরণা আর উৎসাহ দিয়ে গেছেন। আপনাদের এই উৎসাহ, প্রেরণা, ভাল লাগা, ভালবাসা আর লেখাটির প্রতিটি পরতে পরতে ছায়ার মত লেগে থাকার ফলেই সিরিজটির সফল পরিসমাপ্তি ঘটতে পেরেছে।
একাত্তরের সেই কিশোর, তার মা-বোন আর বর্তমানের পরিনত আমি আপনাদের সকলের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমার সাথে সাথে আপনারা সেই প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ঘুরেছেন, ক্লান্ত হয়েছেন, কখনো নিজের স্মৃতিতে ডুবে গেছেন, কখনো বা আমার সাথে সমব্যথী হয়ে চোখের জল ফেলেছেন! আপনাদের-আমার এই চোখের জল যদি একজনও অবহেলিত জীবনীশক্তিহীন সুধাহীন মুক্তিযোদ্ধাকে সিক্ত করে তাহলে মনে করব এই লেখাটি সার্থক হলো।
কাল ভোর পাঁচটার দিকে একবার শুরু হওয়ায় লেখায় বিরতি আনতে হয়েছিল!
আজ আবার ভাসলাম! ঝাপসা হয়ে ওঠা চোখে কিছুতেই লিখতে পারছিনা!
এই সব ভালবাসা হৃদয়ের গভীরে তোলা রইল!
জং ধরা টিনের বাক্সে তোলা রইল!
নেপথলিন দেওয়া পুরোনো কাপড়ের ভাঁজে তোলা রইল!
আকাশ অম্বর বলেছেন:
আমি চুপচাপ আপনার পিছে পিছে হাঁটছিলাম এই সিরিজটি শুরু হওয়ার পর মনজুরুল ভাই। এ এক অবিশ্বাস্য ভ্রমণ।
শুধু কৃতজ্ঞতা জানাই।
অনেক ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন:
অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা আকাশ অম্বর।
এই ভ্রমণে আপনাদের মত সহযাত্রী পেয়েছিলাম বলেই কণ্টকাকীর্ণ পথ কুসুমোত্তীর্ণ হয়ে উঠেছিল।
সামনের দিনগুলিতে আবার ভ্রমণে বেরুব.......সাথে থাকবেন আশা করি।
ফিউশন ফাইভ বলেছেন:
কী করলেন আপনি! এতো তাড়াতাড়ি শেষ করে দিলেন যে? শেষ তিনটা পর্বই অথচ এখনো পড়া হয়নি। মনে হচ্ছিল, মাত্রই তো শুরু হল স্মৃতিচারণ! বই আকারে কি বের হবে?
লেখক বলেছেন:
তাড়াতাড়ি কোথায়? এক মাস ধরে চলছে.... আর কত?
হ্যাঁ বই বের হচ্ছে.....
ধন্যবাদ আপনাকে।
শয়তান বলেছেন:
সেইটাই । যুদ্ধের শেষ নাই......।
লেখক বলেছেন:
যুদ্ধের কোন শেষ হয়না........।
কালপুরুষ বলেছেন:
যুদ্ধ কখনো শেষ হয়না- পট পাল্টায়, ক্ষেত্র পাল্টায়। বেঁচে থাকার যুদ্ধ, মানুষের মতো বেঁচে থাকার যুদ্ধ, নিজের অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ, চলতেই থাকবে। শুভ কামনা রইলো।
লেখক বলেছেন:
নিরন্তর যুদ্ধের ভেতর বসবাস আমাদের।
ক্ষণিকের মুক্তি তো কাম্য নয়, চাই সার্বিক জনমুক্তি। সে জন্য যদি আরও একটি যুদ্ধে
ঝাঁপ দিতে হয় তো সেটাই কাম্য হোক।
ভাল থাকুন দাদা।
শেষ যুদ্ধটার দৃশ্যপটই আপনাকে এক টানে বড় করে তুললো। আর, মানুষ মাত্রই একা! তার অনুভূতির জগতে সে সম্পূর্ণ একা! এ শুধু কেবল আপনার ক্ষেত্রে নয়।
আচ্ছা, শহরের রাস্তায় রাস্তায় এতো লাশ কেন পড়েছিল? রাতের কামানের গোলার বা রাইফেল-মর্টারের আক্রমণের কারণে নাকি চোরাগুপ্তা হামলার কারণে? মৃত মানুষগুলোর আঘাতের ধরণ কেমন ছিল?
আর, মেহেরপুর মুক্ত হওয়াতেই সে এলাকার মানুষ সব দেশে ফিরতে শুরু করেছিল? আপনাদের আশঙ্কা হয়নি যে আবার যদি নতুন করে আক্রমণ হয়? নাকি আপনারা অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেছিলেন যে আর আক্রমণ হবে না? দেশ শত্রুমুক্ত হয়ে যাবে। তখনই কি ঢাকা মুক্ত হয়ে যাবে এ ধরণের কোন আলোচনা শুনেছিলেন? তখনও কি আপনারা নিজেদের পূর্ব পাকিস্তানি ভাবতেন নাকি মুক্ত দেশের নাগরিক ভাবতেন, কি অনুভূতি হতো? যদিও আপনি তখন অনেক ছোট ছিলেন, আপনার মা হয়তো সে ব্যাপারগুলো আরো ভাল বলতে পারবেন। আমি মূলত মেহেরপুর মুক্ত হবার পর থেকে ১৬ই ডিসেম্বরের ঠিক আগের দিনগুলোর ব্যাপারে জানতে চাচ্ছি।
আপনার ভিতরে যে কষ্টগুলো আছে, সেগুলোর অনেকটাই তো প্রকাশ করে দিলেন। এখন কি নিজেকে একটু হাল্কা লাগছে? যদিও কিছু কিছু অনুভূতি চিরস্থায়ী হয়।
এই শেষ পর্বে এসে আপনাকে সশ্রদ্ধ সালাম, একজন কিশোর মুক্তিযোদ্ধাকে স্যালুট!
ভাল থাকুন সবসময়।
লেখক বলেছেন:
কামানের গোলা আর রাইফেল-বন্দুকের গুলিতে। কাদের গুলিতে কে মরছে সেটা কেউই জানতে পারছিল না। পাক সেনারা মেহেরপুর ছাড়ার আগে সামনে যাকে দেখেছে তাকেই গুলি করেছে।
আঘাতের ধরণ দেখার সময় ছিল না কারোই।
মেহেরপুর মুক্ত হওয়ায় মেহেরপুরের মানুষরাই ফিরতে শুরু করেছিল। তারপর দিনই চুয়াডাঙ্গা মুক্ত হয়। ঢাকা মুক্ত হবে কবে তা নিয়ে আমাদের তেমন চিন্তা ছিলনা। ৭ থেকে ১৬ ডিসেম্বর আমরা এক একটি অঞ্চলের মুক্ত হওয়ার খবর পেতাম।
নিজেদের পূর্ব পাকিস্তানী ভাবতাম না। বাংলাদেশ নামটিও ঠিক হয়নি তখনো। আমরা আন্দাজ করতাম নামটা হয়ত হবে- "জয়বাংলা"। ভারতের সাধারণ মানুষ আমাদের জয়বাংলার মানুষ বলত।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
ভাল থাকুন।
লেখক বলেছেন:
ঠিক।
আমি বিজয় দেখেছি।
আমি গর্বিত যে আমি বিজয়ের পথ পরিক্রম করেছি।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
আপনি আপনার শৈশব হারিয়েছেন এবং আপনারা যাঁরা যুদ্ধে সন্তান হারিয়েছেন পিতাকে হারিয়েছেন, বিধবা মায়ের রক্তশূণ্য মুখ দেখেছেন কিম্বা দেখেছেন ধর্ষীতা বোনের ক্ষত- বিক্ষত লাশ, আপনাদের জন্য আমাদের করুণা বর্ষণ কিম্বা উহ্ ! আহ্ ! শব্দের অপচয়ের বদলে আমাদের প্রতি বিন্দু রক্ত দিয়েও শোধ হয়না ঋণ !
শ্রদ্ধা ।
(এই মুহূর্তে এই শব্দগুলোই এলো...)
লেখক বলেছেন:
আমি ওই ঋণ এর বিষয় নিয়ে মোটেই ভাবিনা।
কিছু একটা করে ফেলা হয়েছে তাও মনে করিনা।
খুব সাদাসিধে কথাঃ
আমাকে / আমাদেরকে করতে হতো!
কাউকে না কাউকে করতে হতোই!
সেই করার জন্য তার বা তাদের কোন পারিশ্রমিকের কোন প্রয়োজন নেই।
মাটির ঋণ শোধ হয়না। শোধ করা যায় না।
লেখক বলেছেন:
খুব সম্ভবত আসছে.....
মুনশিয়ানা বলেছেন:
পড়লাম... পুরোটা আর এক বার। প্রতিটা পর্ব আলাদা আলাদা ভাবে।কিছু বলতে ইচ্ছে করছে না। চুপচাপ থাকতে ইচ্ছা করছে।
ভাল থাইকেন মনজু ভাই...
লেখক বলেছেন:
মাঝে মাঝে চুপচাপ থাকাটাই ভয়ানক বাগ্মিতা হয়ে ওঠে!
আপনার এই চুপচাপ থাকার ভেতর কি পরিমানে সঞ্চিত বারুদ উদ্গিরণ করে চলেছে তার কিছুটা আঁচ পেয়েছি।
নিরন্তর ভাল থাকুন।
দেশী পোলা বলেছেন:
সিরিজ শেষ করায় অভিনন্দন, আশা করি এটাকে পাবলিশ করবেন
লেখক বলেছেন:
হ্যাঁ, পাবলিশ হচ্ছে।
তবে আপনি যে সেই প্রথম পর্বে দেখা দিলেন, তারপর এই এতদিন পরে ?
দাঁড়ান আবার RAB নিয়ে লেখা দিচ্ছি........
লেখক বলেছেন:
আমারও খুব খারাপ লাগছিল। এই একটি মাস ধরে কি এক মায়ার বন্ধনে সবাইকে নিয়ে জড়াজড়ি করে কেটে যাচ্ছিল.......
আজ মনে হচ্ছে ভেঙ্গে যাওয়া হাটের এখানে ওখানে দু'একটা শাল পাতা পড়ে আছে, কোথাও গুড়ের হাড়ি চাটছে রুগ্ন কুকুরগুলো, কয়েকটা কাক সাহস করে এগিয়ে এসে আবার লাফ দিয়ে সরে যাচ্ছে....আর মাত্র কয়েকজনের বাঁধাছাদা শেষ হলেই বিরান হাটে আর কেউ থাকবে না!
হঠাৎ খুব নিঃসঙ্গ লাগছে.....।
আপনার কল্যাণ হোক সহেলী।
হয়ত পরে আবার কোন এক মিলন মেলায় আমরা একসাথে হবো।
একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেব।
এভাবেই জীবন পেরিয়ে যাবে কুড়ি কুড়ি বছরের পর!!!
যীশূ বলেছেন:
যদি যান তবে দয়া করে আমাকে একটু জানাবেন। যদি আমাকে সফরসঙ্গী বানাতে আপনার আপত্তি না থাকে আর আমিও যদি তখন সময় সুযোগ বের করতে পারি তো আপনার সাথে যাওয়ার ইচ্ছা রইলো।
লেখক বলেছেন:
সময় বের করতে পারলে অবশ্যই যাব। আর আপনাকে সঙ্গী হিসেবে পেলে খুব ভাল লাগবে। আপত্তির তো প্রশ্নই ওঠে না!
আশা করছি মার্চ মাসের দিকে সময় করতে হবে। তার আগে পাসপোর্ট নবায়নের কাজটাও শেষ করতে হবে।
আপনার এই উদ্যোগকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্বাগত জানাচ্ছি যীশূ।
আমি এবং আঁধার বলেছেন:
শুধুই ভালোলাগা, আবেগে কাঁপা, শ্রদ্ধায় নত হওয়া। আর কিছুই বলার নাই।
লেখক বলেছেন:
আমারও বোধহয় বলার মত অবশিষ্ট কিছু নাই!
ভাল থাকবেন
আমি এবং আঁধার।
মনজুরুল হক বলেছেন:
ফেরারী পাখি,
একে একে প্রায় পুরো সিরিজটিই প্রিয়'তে নিয়ে রেখেছেন! বারে বারে এসে দেখেও যাচ্ছেন! আমি জানি অসম্ভব কোন কষ্টে কিংবা অপার কোন আনন্দে কিছুই বলতে পারছেন না!
আমার লেখক স্বত্তার অকৃত্তিম এক বন্ধু যদি নির্বাক থাকেন তাহলে লেখক যে ভাঙ্গা হাটেও কিসের এক আশায় অপেক্ষমান থাকে! পিদিমের সলতে পুড়ে পুড়ে ছাই হলেও বসে থাকে! অদ্ভুত আঁধার এক সাথী করে আসুন নতুন প্রদীপ জ্বালি.....
ফেরারী পাখি।
অনন্ত দিগন্ত বলেছেন:
আপনার এই সিরিজের সবগুলো পর্ব পড়েছি, সময়ের সংকীর্নতার কারনে ব্লগে নিয়মিত না আসলেও দিনে একটিবার হলেও আপনার ব্লগে এসে ঘুরে যেতাম চুপি চুপি ... কিন্তু আপনার মত একজন মুক্তিযোদ্ধার এমন স্মৃতিচারনের পোষ্টগুলিতে কখনো মন্তব্য করার সাহস সণ্চার করতে পারিনি, কারন আপনারা দেশের জন্য যা করেছেন / করছেন তার এক ফোঁটা পরিমানও আমি করিনি / করছি না সেই দুঃখে, কষ্টে, লজ্জায় কখনো আপনার এই সিরিজে কিছু বলতে পারিনি ... আজকে শেষ পর্ব পড়তে এসে নিজের চোখকে যেমন বেধে রাখতে পারিনি তেমনি পারিনি নিজের অক্ষম এই হাতে দুটো লাইন লেখার ইচ্ছেকে দমিয়ে রাখতে ... আপনারাই দেশের গর্ব, আমাদের অহংকার ... আশাকরি ছোট এই ভাইটির কাছ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা, অসীম কৃতজ্ঞতা আর শুভকামনা গ্রহন করবেন ... অনেক অনেক ভাল থাকুন, সবসময়।লেখক বলেছেন:
"... আজকে শেষ পর্ব পড়তে এসে নিজের চোখকে যেমন বেধে রাখতে পারিনি তেমনি পারিনি নিজের অক্ষম এই হাতে দুটো লাইন লেখার ইচ্ছেকে দমিয়ে রাখতে ... আপনারাই দেশের গর্ব, আমাদের অহংকার ... আশাকরি ছোট এই ভাইটির কাছ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা, অসীম কৃতজ্ঞতা আর শুভকামনা গ্রহন করবেন ... অনেক অনেক ভাল থাকুন, সবসময়।"
এভাবে বলে নাকি? পাগল! এতে লজ্জার কি আছে? তুমি যদি নিজেকে আমার ছোট ভাই ভেবেই থাক, তাহলে বড় ভাইয়ের কাছে লজ্জা করতে আছে নাকি?
বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ এই অর্জন কেবল মাত্র তোমাদের জন্যই অর্জিত হয়েছিল, তোমাদের আগে-পরের প্রজন্মের জন্যই।
তোমার এই অবিভাদন মাথায় তুলে রাখলাম ।
ভাল থেকো।
েতজপাতা বলেছেন:
ভাইয়া, আলিফার ব্যাপারে কিছু একটা কী এখন করা যায়। লিঙ্কটা হলঃClick This Link
রাজাকারদের নিয়ে আমি একটা লেখা লিখেছি। আপনার মন্তব্য পেলে ভাল লাগত। আমার ধারনা ভুল থাকলে ধরিয়ে দিবেন, প্লিজ। লিঙ্কঃ
Click This Link
লেখক বলেছেন:
পরে দেখছি................
যীশূ বলেছেন:
হুমমম, আমাকেও পাসপোর্টটা বানাতে হবে তাড়াতাড়ি।
লেখক বলেছেন:
তাড়াতাড়ি বানাতে দিন...
নির্ঝরিনী বলেছেন:
এমন একটা সিরিজ উপহার দেবার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা....ছবিগুলো দেখে খুবই ভালো লাগলো...
"এই সব ভালবাসা হৃদয়ের গভীরে তোলা রইল! জং ধরা টিনের বাক্সে তোলা রইল! নেপথলিন দেওয়া পুরোনো কাপড়ের ভাঁজে তোলা রইল!"
এই কথাটুকু চোখে জল নিয়ে এল...
কত লেখারইতো পাঠক, তবে পাঠক হিসেবে এমন উচ্চ আসীনতো কখনো পাওয়া হয়নি, এটাও আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া...
আপনার মা, বোন আপনি সবাই ভালো থাকুন....
লেখক বলেছেন:
এটা আপনার বদান্যতা নির্ঝরিনী। আমার পাঠক হিসেবে গত একটি মাস ধরে আপনারা যা দিয়েছেন তার মূল্য নিরূপন করা আমার সাধ্যের বাইরে।
আপনাদের সম্মিলিত ভালবাসা, শ্রদ্ধা, মমতা প্রতিনিয়ত আমাকে এই লেখা টেনে নিতে প্রেরণা যুগিয়েছে।
আপনিও সবাইকে নিয়ে ভাল থাকুন নিরাপদে থাকুন।
নাজমুল আহমেদ বলেছেন:
হ্যাটস্ অফ ইউ মঞ্জু ভাই.......
পুরাটা সিরিজে আপনার বর্ণনায় নিজের চোখে দেখেছি মুক্তিযুদ্ধকে। প্রতিটি পর্বে মনে হয়েছে যেন, আমরা গোল বসে আছি আর আপনি আমাদের মাঝখানে বসে বর্ণনা দিয়ে যাচ্ছেন আপনার চোখে দেখা মুক্তিযুদ্ধকে। এ যেন রূপকথার কাহিনী। আমার কাছে মনে হচ্চে আমার ব্লগ জীবন স্বার্থক। আপনার প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা এই রকম একটা সুযোগ আমাদেরকে করে দেওয়ার জন্য।
ক্ষমা করে দিয়েন এই প্রজন্মকে যারা আপনাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এই মাতৃভূমিকে দিতে পারেনি আপনাদের স্বপ্নের পরিপূর্ন রূপ।
লেখক বলেছেন:
আমার তো কারো প্রতিই কোন অভিযোগ নাই নাজমুল! আমার তো আর কিছুই পাওয়ার নেই, চাওয়ার নেই। যা পেয়েছি তা-ই আমার জীবনে অমূল্য রত্ন। সেই স্মৃতিই আমার হিরা-পান্না, মণি-মুক্তা!
শুধু একটাই খেদ থেকে গেছে।
আমার মানুষ সেই একাত্তরেও মুক্ত হয়নি, আজও হয়নি।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
আমার প্রিয় পোস্টের তালিকা সমৃদ্ধ করলাম ।
পুরোটা সিরিজ বুকে ধরে রাখার জন্য ।
লেখক বলেছেন:
আপনাদের সবাইকে নিয়ে গোটা মাসটা যেভাবে কথা বলে গেলাম,
কথা শুনলাম, শোনালাম তা এই ব্লগে এক অনন্য নিদর্শন হয়ে থাকবে।
আপনাদের সবাইকে স্যালুট।
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
কেমন আছেন মনজুরুল ভাই?
লেখাটা শেষ করে কি একটু স্বস্তি লাগছে?
মনটা ভালো নেই। আমার বড় বোনে তার ৩৮ বছরের সংগীটাকে হারিয়ে ফেলেছে ৪তারিখ সকালে......।
খুব মন খারাপ ।
দুর থেকে শোনা এক একটা আপনজন হারানোর খবর ।
অসহায় লাগে খুব।
আপনার বইটার অপেক্ষায় থাকলাম।
শুভকামনা রইলো।
ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন:
লেখাটা শেষ করে নিশ্চই স্বস্তি লাগছে। তার চেয়ে বেশী হচ্ছে হাহাকার! এই একটা মাস সারারাত সারাদিন সেই শৈশবের স্মৃতিময় দিনগুলিতে ঘুরে এক অনাবিল ভাললাগার জগত গড়ে উঠেছিল! এখন মনে হচ্ছে বট তলার মেলাটা ভেঙ্গে গেছে!
খুব ছোটবেলা বাড়ির পাশের নদীতে জোয়ার-ভাটার খেলা দেখতাম। দুপুরের পর জোয়ার আসত। ফুলে ফেঁপে উঠত পানি। টৈ-টম্বুর হয়ে উঠত দুই তীর। তারপর সন্ধ্যের পরই ভাটার টান..................।
এখন আমাদের ভাটার টান সাজি!
আজ এ নদীর পানি কমে যাবে
কাল ও নদীর পানি টেনে যাবে!
শংকরের সেই "যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ" এর বিয়োগের মত! এখন কেবলই বিয়োগের কাল!!!
আপনার বোনের জন্য সমবেদনা রইল।
আশায় বুক বেঁধে রাখি।
এই সমাজ যদি ভুলেও যায় কি কথা ছিল তখন মাটি ও মানুষের সাথে ?
আপনারা আপনাদের কর্তব্য করেছেন ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য। ওরা যাতে ওদের কর্তব্য পালন করে সেই শিক্ষাই তারা পাবে যদি আমরা তুলে ধরি তাদের সামনে-- আমরা এভাবে তোমাদের এখানে এনেছি তবেই তারা সত্য ও সুন্দরের পথ খুঁজে নেবে।
অবশেষে -- আপনি বীর-- আপনারা বীর আপনারা মৃত্যুঞ্জয়ী।
লেখক বলেছেন:
আমারও আর কোন কিছু বলবার নেই সামছা আকিদা জাহান। যা বলার ছিল তা গত বাইশটি পর্বে বলে ফেলেছি। এখন আর আমি কোন মূল্যায়নও করিনা। কি হবে করে?
ইতিহাসের ঘুর্ণিপাকে আমাদের যার যার অবস্থান আপনাতেই নির্ণয় হয়ে আছে। আমরা সেই অবস্থানে কেউ পরিতৃপ্ত আবার কেউ বা অতৃপ্ত।
আমি নিজেকে এই দুইয়ের কোন একটিতে ফেলে সকল প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি জং ধরা টিনের বাক্সে ভরে বসে আছি.........................।
লেখক বলেছেন:
চলছে। আমার প্রকাশকের বাবা হাসপাতালে। তিনি ব্যস্ত, তবে বলেছেন-কাজ চলছে...
এখনো আশাবাদী।
জোবাইর বলেছেন:
ব্যস্ততার কারণে মাঝখানে বিরতির পর শেষের পর্বগুলো একসাথে পড়লাম। ৩৮ বছরের পুরানো ঘটনাগুলো খুবই চমৎকার বর্ণনা করেছেন, পড়ে মনে হয়নি তা ৩৮ দিনেরও পুরানো। অখ্যাত ও সাধারণ যেসব মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন, যাদের লাশটুকু পর্যন্ত সৎকার করা সম্ভব হয়নি, সেইসব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ইতিহাসে লেখা হয়নি। তাঁদের সেই মহান ত্যগের কথা নতুন প্রজন্ম জানবে আপনাদের স্মৃতিচারণ থেকেই। অনেক সময় ও শ্রম দিয়ে লেখা সুন্দর ও ঐতিহাসিক সিরিজটার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থাকুন। শুভেচ্ছা।
লেখক বলেছেন:
গত একটা মাস যেন ঘোরের মধ্যে ছিলাম! প্রতিদিন ঠিক সময় করে টানা লিখে যেতে পেরেছি! একটি বারও ক্লান্তি আসেনি। কারণ আমি জানতে পারছি, আমি এই ইতিহাস আমার পরের প্রজন্মকে জানাচ্ছি। এটা এক দিকে আমার কর্তব্য অন্য দিকে আমায় দায়ও বটে।
শেষ পর্যন্ত যদি বইটা বের হয় তাহলে মনে হয় একটা ভাল কাজ হবে। স্থায়ী ভাবে এই ইতিহাস থাকবার মত একটা জায়গা পাবে।
আপনিও ভাল থাকুন।
নিরাপত্তায় থাকুন।
লেখক বলেছেন:
নিশ্চিত করে বলতে পারছিনা। "ঐতিহ্য প্রকাশনী"র স্বত্তাধিকারীর বাবা হাসপাতালে। বলেছেন কাজ চলছে.........শেষ পর্যন্ত কবে নাগাদ বেরুবে জানিনা। তবে আশা করা যায় বেরুবে।
অনেক দিন পর না.ধ. শুভকামনা।
মুসতাইন জহির বলেছেন:
পোস্টে সবকটা পর্ব ফলো করতে পারি নাই। বইটা পড়ার অপেক্ষায় আছি। কারা বের করছে?
লেখক বলেছেন:
"ঐতিহ্য প্রকাশনী", যদিও এর বেশী আমি কিছুই জানিনা।
প্রতিবাদী কন্ঠস্বর বলেছেন:
প্রিয়তে।আগেই দেখেছি। কিন্তু ধারাবাহিক হওয়াতে একসাথে পড়ব ভেবেছিলাম।
আজ সকালে অল্প পড়েছি। তারপর কাজ ছিল। রাত ১০ টা থেকে এখন পড়ে শেষ করলাম।(সেইভ এজ করা ছিল)।
কিছুই বলার নেই......
আপনার জীবন সংগ্রাম সবার সাথে শেয়ার করার জন্য কৃতজ্ঞ রইলাম....
আর শুধু শেষ কথাটা কানে বাজছে –
‘যেখানেই থাক নিজের লড়াইটা লড়ে যাবে, তোমার তো হারাবার কিছু নেই’!
স্যালুট রইল।
লেখক বলেছেন:
আমার মনে হয় ওই নয় মাসে যা কিছু শিখেছিরাম, যা কিছু অভিজ্ঞতায় ধারণ করেছিলাম তার সারমর্ম হচ্ছে ওই লাইনটি- যেখানেই থাক নিজের লড়াইটা লড়ে যাবে, তোমার তো হারাবার কিছু নেই
য়িমতিআজ বলেছেন:
চমৎকার লেখা স্যার। আপনার পুরো ব্লগ পড়ব ঠিক করেছি।আমার বিশ্বাস...আপনারা ছিলেন বলে আমরা আছি।
আমাদের জন্য দোয়া করবেন স্যার।
স্যার একটা প্রশ্ন করি?
ট্রাক্টর আজো কেন ঝাঁকি খেতে খেতে এগিয়ে চলছে? পথ কি কখনো মসৃণ হবেনা?
আমি অন্য অনেকের চেয়ে ভাল আছি। অন্য অনেকের জন্য কষ্ট হয় স্যার।
আপনারা আপনাদের কাজ সঠিক ভাবে করেছেন... আপনাদের সব শত্রু মরে গেছে... তাদের পচে যাওয়া দেহ এখন রোগ ছড়াচ্ছে... আমরা জীবানুমুক্ত করতে শিখছি।
আপনাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ, আমরা ঋণী। আপনারা চিরদিন বেঁচে থাকবেন।
লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা জানবেন য়িমতিআজ।
"আমরা ছিলাম বলেই আপনারা আছেন" কথাটা একটু বাড়িয়ে বলা। মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণ দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। অগুনতি মানুষের রক্তের বেদিতে দাঁড়িয়ে আজ আমরা একটি 'স্বাধীন' দেশের নাগরিক। আমি তাদের সহচর্যের এক সাহায্যকারী মাত্র। তবে ঠিক কি কারণে ট্রাক্টর আজো ঝাঁকি খেতে খেতে চলে সেটি আপনি যেমন অনুভব করেন, আমিও করি। অন্তরের অন্তস্থলে অনুভব করি। কিন্তু অনেক অজনা 'কেন'র মত এই 'কেন'র উত্তরও আমার জানা নেই।
আমরা যে স্বপ্ন দেখেছিলাম তা দিনের পর দিন ফিকে হতে হতে ক্রমশ: ধূসর হয়ে গেছে। ঘোলাটে চোখে ধূসর পর্দা ভেদ করে আমরা আর দূরের কিছু দেখতে পাইনা। আপনারা যারা এ প্রজন্মের তরুণ তারা হয়ত আরো দূরদৃষ্টির অধিকারী। হয়ত আপনারা আরো গভীর অনুধাবনের ক্ষমতা রাখেন। আপনারাই ঠিক করে নেবেন, কেমন 'আগামী' আপনাদের পছন্দ।
আবারো আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা।
ভালো থাকবেন।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...




















সামহয়ার ইনের সকল ব্লগারদের পক্ষ থেকে আপনাকে গার্ড অব অনার।